চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিসিএসের প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার গাইডলাইনের উদ্দেশ্যে ‘ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার’ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে চাকসু এবং ক্যারিয়ার এইড কোচিংয়ের যৌথ উদ্যোগে এই ক্যারিয়ার গাইডলাইনমূলক প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চাকসুর নির্বাচিত সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদার সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবির ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বরকত উল্লাহ, রাবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য ও অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ৩৮তম বিসিএস ক্যাডার (শিক্ষা) তাহের শওকত, ৪৩তম বিসিএস (অডিট এন্ড একাউন্টস) রোরহান উদ্দীন, জিএস সাইদ বিন হাবিব, চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, চাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মেহেদী হাসান সোহান, নির্বাহী সম্পাদক আদনান শরীফ, সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাসহ অন্যান্যরা।অধ্যাপক ড. কাজী বরকত আলী বলেন, বিসিএস পরীক্ষা একটা যুদ্ধ। বিসিএস পরীক্ষাটা হয় মূলত বাদ দেওয়ার জন্য, কাউকে নেওয়ার জন্য নয়। যদি চাকরি পেতে চাও, তোমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিটা সাবজেক্ট ও টপিক সিলেকশন করে বুঝে বুঝে এখনই ভবিষ্যতের পথরেখা তৈরি করে নাও। সর্বোপরি বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, বিসিএস ক্যাডার হওয়ার বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন ক্যাডার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ হলো, আগামী দিনে রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পাওয়া। কিন্তু সেই দায়িত্বের জায়গায় বসে যদি আমরা আমানতের খেয়ানত করি, নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করি কিংবা রাষ্ট্রকে জিম্মি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করি, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের যাদের যে অধিকার, আমরা যদি সেই অধিকার তাদের বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের দায়িত্ব পালনের সার্থকতা কোথায়? সাধারণ রিকশাচালক, দিনমজুর ও শ্রমিকসহ দেশের সাধারণ মানুষ তাদের উপার্জনের অর্থ থেকে কর দেন। সেই করের টাকায় আমাদের পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পেছনে রাষ্ট্র বিনিয়োগ করে। তাই ক্যাডার হওয়ার পর তাদের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই বিনিয়োগের প্রকৃত মূল্য তখনই দেওয়া সম্ভব, যখন আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রের মানুষের সেবা করব এবং নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় একটি অদ্ভুত ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো প্রশাসনিক কাজ করতে পারবেন। এই ধারণাটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব কী? খুব সাধারণভাবে বললে, teaching, research এবং academic service। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। শিক্ষককে শিক্ষক থাকতে দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষককে প্রশাসক বানিয়ে আমরা হয়তো একজন মাঝারি মানের administrator পাচ্ছি, কিন্তু একই সঙ্গে একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষককে হারাচ্ছি। —অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইনএকজন শিক্ষককে একই সঙ্গে প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন কমিটির সভাপতি, ক্রয় কমিটির সদস্য কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে ধীরে ধীরে শিক্ষকতার মূল কাজই অনেক সময় গৌণ হয়ে পড়ে।সম্প্রতি এক সহকর্মী আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরদের দায়িত্ব নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন শিক্ষক আর আগের মতো শিক্ষক ও গবেষক থাকতে পারেন না। তাঁর ক্লাসরুম teaching ক্ষতিগ্রস্ত হয়, গবেষণার সময় কমে যায় এবং সবচেয়ে বড় কথা, ছাত্র-শিক্ষকের স্বাভাবিক সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়।আমার মনে হয়, বিষয়টি শুধু প্রভোস্ট বা হাউজ টিউটরের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।একজন শিক্ষক যখন আবাসিক হলের প্রভোস্ট হন, তখন তাঁর কাজ শুধু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁকে হলের আবাসন, খাবার, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, কর্মচারী, অবকাঠামো, বিভিন্ন অভিযোগ, নানা ধরনের দাবি-দাওয়া এবং কখনো কখনো রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হয়। এসব কাজের অধিকাংশের সঙ্গে তাঁর শিক্ষকতা বা গবেষণার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।আরেকটি জটিলতা তৈরি হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ক্ষেত্রে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষক, পরামর্শদাতা ও কখনো mentor। কিন্তু হল প্রশাসনে সেই একই শিক্ষক হয়ে যান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। কোনো শিক্ষার্থী সিট পেল না, খাবার নিয়ে অভিযোগ করল, কোনো নিয়ম ভাঙল কিংবা কোনো সুবিধা চাইল, তখন শিক্ষককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ফলে একাডেমিক সম্পর্কের জায়গায় প্রশাসনিক সম্পর্ক চলে আসে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।• একজন ভালো শিক্ষক কি অবশ্যই একজন ভালো প্রশাসক?উত্তরটি সম্ভবত না। Teaching এবং administration দুটি ভিন্ন ধরনের competency। একজন অসাধারণ গবেষক বা শিক্ষক হয়তো অত্যন্ত দক্ষ administrator নাও হতে পারেন। আবার একজন পেশাদার administrator হয়তো গবেষণা করতে পারবেন না, কিন্তু একটি বড় আবাসিক হল দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির একটি বড় কারণ এই সকল প্রশাসনিক পদের সুযোগ সুবিধা ভোগ করা । এসকল পদে যদি শিক্ষকদের নিয়োগের কোনো সুযোগ না থাকে তাহলে শিক্ষকরা আর কোনো দল বা গ্রুপের লেজুড়বৃত্তি করবেনা । অনেকেই সাহস করে হক কথাটা বলতে পারবে। —অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইন।বিশ্বের অনেক আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে academic leadership এবং professional administration-এর মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নেতৃত্বে শিক্ষক ও গবেষকরাই থাকেন। Vice-Chancellor, Pro-Vice-Chancellor, Dean, Department Chair কিংবা Head-এর মতো পদগুলো একাডেমিক নেতৃত্বের অংশ। কিন্তু human resources, transport, finance, procurement, accommodation, facilities management, student services, security ইত্যাদি দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের জন্য থাকে পেশাদার প্রশাসক। আমাদেরও ধীরে ধীরে এ ধরনের কাঠামোর দিকে যাওয়া দরকার।বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নীতি নির্ধারণ, curriculum development, research management, academic quality assurance কিংবা শিক্ষার্থীদের academic mentoring-এর মতো কাজে শিক্ষকদের নেতৃত্ব অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু একজন শিক্ষককে কেন প্রতিদিনের হল প্রশাসন, খাবারের মান, কর্মচারী ব্যবস্থাপনা, সিট বরাদ্দ কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক অভিযোগ সামলাতে হবে?এ ধরনের কাজের জন্য professional university administrator থাকা অনেক বেশি যৌক্তিক।এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থও সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে একজন শিক্ষক তাঁর মূল কাজের জন্য সময় পাবেন। একজন শিক্ষক যদি প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে সপ্তাহের একটি বড় অংশ ব্যয় করেন, তাহলে সেই সময়টি আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের teaching এবং research থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত productivity কমার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক academic productivity-ও কমে।শুধু শিক্ষককে সরিয়ে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশাসনিক কাঠামোকে পেশাদার করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী trained residential administrators, student affairs professionals, facility managers এবং অন্যান্য দক্ষ প্রশাসনিক জনবল নিয়োগ করতে হবে। তাদের দায়িত্ব, জবাবদিহি ও কর্তৃত্বও স্পষ্ট করতে হবে।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বকে অনেক সময় মর্যাদার বিষয় হিসেবেও দেখা হয়। কে প্রভোস্ট হলেন, কে প্রক্টর হলেন, কে কোনো কমিটির সভাপতি হলেন, এগুলো যেন অনেক সময় এক ধরনের পদমর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির একটি বড় কারণ এই সকল প্রশাসনিক পদের সুযোগ সুবিধা ভোগ করা । এসকল পদে যদি শিক্ষকদের নিয়োগের কোনো সুযোগ না থাকে তাহলে শিক্ষকরা আর কোনো দল বা গ্রুপের লেজুড়বৃত্তি করবেনা । অনেকেই সাহস করে হক কথাটা বলতে পারবে।শিক্ষককে শিক্ষক থাকতে দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষককে প্রশাসক বানিয়ে আমরা হয়তো একজন মাঝারি মানের administrator পাচ্ছি, কিন্তু একই সঙ্গে একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষককে হারাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সে প্রশ্নটি এখন আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা দরকার।লেখক: অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইন, আধুনিক ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘South Asian Excellent Award-2026’ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মোরশেদুল আলম।বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর হোটেল থামেল পার্কের অডিটোরিয়ামে South Asian Social Cultural Forum এবং Dynamic Destination Nepal-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।জানা যায়, সার্কভুক্ত ৮টি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রফেসর ড. মো. মোরশেদুল আলমকে এই পুরস্কার পান।এদিকে, চলতি বছর তিনি ‘শেরে-বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ এবং ‘ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্মৃতি অ্যাওয়ার্ড’, নেলসন ম্যান্ডেলা পিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে প্রফেসর ড. মো. মোরশেদুল আলম বলেন, “শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা পাওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দ ও গর্বের বিষয়। একজন শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে আমি সবসময় চেষ্টা করি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও লেখালেখির মাধ্যমে শিক্ষার্থী, সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করতে। এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।” তিনি আরও বলেন, “আমার গবেষণা, প্রকাশনা ও লেখালেখির পথচলায় সহকর্মী, শিক্ষার্থী, পরিবার এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা রয়েছে। তাই এই অর্জনকে আমি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখি না; এটি আমার বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার জন্যও আনন্দের বিষয়। ভবিষ্যতে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার চেষ্টা থাকবে।"উল্লেখ্য, ড. মোরশেদুল আলম বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি একজন খ্যাতিমান লেখক, গবেষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে দেশব্যাপী সুপরিচিত। গবেষণা ক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে ৫০টিরও বেশি গবেষণাপ্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পত্রিকায় তার প্রায় ৪০০টি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তার রচিত ৫টি গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে নোটিশ প্রত্যাহার করাসহ ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব ফিরে পাচ্ছেন হেলাল উদ্দিন। তবে আরো সতর্ক ও মনোযোগী হয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার পরিবেশনে গুরুত্বারোপ করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চবি প্রশাসন থেকে।রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে চবি উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসু নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে। জানা যায়, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় ‘শিক্ষার্থীদের আপত্তি সত্ত্বেও চবিতে ক্যান্টিন পরিচালককে সরিয়ে দিচ্ছে হল প্রশাসন’ শিরোনামে পাবলিকভয়েস২৪.কম সংবাদ প্রকাশ করে তার ওয়েবসাইটে। এরপরই শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজ রবিবার জরুরি আলোচনা সভা আহ্বান করেন। আলোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চবি শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হেলাল উদ্দিনকে ক্যান্টিন পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়। চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনায় এ.এফ রহমান ও আলাওল হল ক্যান্টিন মালিককে পুনরায় সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
বাবুই পাখিকে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।কবি রজনীকান্ত সেনের এই অমর পঙক্তি এখনো তৃতীয় শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ে জীবন্ত, কিন্তু বাস্তবে বাবুই পাখি ও তার শিল্পিত বাসা আজ প্রায় দুর্লভ। শুধু বইয়ের পাতা থেকেই এখনকার শিক্ষার্থীরা জানছে এই বুননশিল্পী পাখির কথা—গ্রামবাংলার আকাশে-গাছে বাবুইয়ের সেই চেনা ওড়াউড়ি আর চোখে পড়ে না।খড়ের চিকন ডালপালা বুনে শৈল্পিক ছন্দে ঝুলন্ত বাসা তৈরি করা এই পাখিটি একসময় তাল, নারকেল ও সুপারি গাছের ডালে দলবেঁধে বসবাস করত। তাদের কিচিরমিচিরে মুখর থাকত গ্রামীণ জনপদ। কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা ও নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে প্রকৃতির এই নিপুণ স্থপতি আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। ধুনট উপজেলায় একসময় তিন প্রজাতির বাবুই দেখা যেত—এর মধ্যে বাংলা ও দাগি বাবুই এখন প্রায় বিলুপ্ত, টিকে আছে শুধু কিছু দেশি বাবুই।গ্রামাঞ্চলে একসময় প্রচলিত ছিল—"বাবুই পাখির বাসা, দেখে মনে জাগে আশা।" নিছক দৃষ্টিনন্দনই নয়, এই বাসার নির্মাণশৈলী রীতিমতো প্রকৌশলবিদ্যাকেও হার মানায়। দলবদ্ধভাবে বসবাসপ্রিয় এই পাখি ঝড়-বাতাসেও যেন বাসা হেলে না পড়ে, সেজন্য অত্যন্ত মজবুত ও সুনিপুণভাবে তা ঝুলিয়ে রাখে। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ বাবুই নিপুণভাবে বাসা তৈরি করে স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করে; বাসা অর্ধেক শেষ হলে সঙ্গিনী খোঁজে, আর স্ত্রী পাখি পছন্দ করলে উভয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় বাসা পায় পূর্ণাঙ্গ রূপ।একসময় পুরো ধুনট জুরে সারি সারি উঁচু তালগাছের পাতায় পাতায় দেখা যেত বাবুইয়ের এই দৃষ্টিনন্দন বাসা—দেখে মনে হতো তালগাছের কানে যেন দোল পরানো। কালের বিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ে সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আজ প্রায় স্মৃতি; পাখি আর তার আবাসস্থল তালগাছ—দুটোই একসঙ্গে বিলুপ্তির মুখে।পাখি ও পরিবেশপ্রেমী রাজফুল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালক সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম নাবিল বলেন,বাবুই পাখি বিলুপ্তির অন্যতম কারণ আমরা জীববৈচিত্র্য নিয়ে হৃদয় থেকে ভাবি না, গবেষণাও করি না, ফলে নির্বিচারে তাল-খেজুর-নারিকেল গাছ নিধন করছি, যা এই পাখির নিরাপদ আবাসস্থল। শাস্তির চেয়ে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সরকারের অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ—যেমন ব্যক্তিমালিকানাধীন বৃক্ষ সংরক্ষণে ভাতা চালু করা। বেশি বৃক্ষরোপণ, সংরক্ষণ ও অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার রোধ করেই বাবুই পাখির জন্য নিরাপদ জগৎ গড়া সম্ভব।পরিবেশ সংরক্ষণ ও খেজুর বীজ রোপণ নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী আখিনুর জামান বকুল বলেন, বাবুই পাখি সাপ ও ঝড়ের তীব্রতা থেকে বাঁচতে শাখা-প্রশাখাবিহীন উঁচু তাল, নারিকেল ও খেজুর গাছে বাসা বাঁধে। কিন্তু দ্রুত ফলাফল প্রত্যাশা করার মানসিকতার কারণে এসব দেশীয় গাছ রোপণের আগ্রহ আমরা হারিয়ে ফেলেছি, কারণ এগুলো রোপণের অন্তত ১৫ বছর পর ফল দেয়—এই ধৈর্য ধরার মতো মানুষ এখন কম। কোনো এলাকায় বাবুই পাখির বাসা থাকার মানে সেখানকার পরিবেশ এখনো সুস্থ ও বাসযোগ্য; এদের হারিয়ে যাওয়া মানে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। তবে আশার কথা, বিগত কয়েক বছর ধরে দেশজুড়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে রাস্তার পাশে, নদীর তীরে ও পতিত জমিতে তাল-খেজুর বীজ রোপণের সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে।আধুনিক কৃষিকাজে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমিতে থাকা পোকামাকড় ও ঘাসফড়িং মারা যাচ্ছে, যা বাবুই পাখির প্রধান খাদ্য। এতে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে এই পাখির প্রজনন প্রক্রিয়া ও টিকে থাকা—দুটোই পড়েছে হুমকির মুখে।পরিবেশবাদীদের মতে, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এখনই সচেতন না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো বইয়ের পাতা বা ছবি ছাড়া জীবন্ত বাবুই পাখি দেখতেই পাবে না। গ্রামীণ ঐতিহ্য ও প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তাল ও উপযোগী গাছ রোপণ এবং পাখি শিকার বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ।এ বিষয়ে উপজেলায় বাবুই পাখির সংখ্যা ও আবাসস্থল সংকট নিয়ে পর্যবেক্ষণ এবং এই পাখি ও তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা: রেহানা খাতুন বলেন, এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অফিসের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে বাবুই পাখি বিলুপ্তির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপযুক্ত পরিবেশের অভাব এবং তাদের বসবাসের স্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণেই বাবুই পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বন উজাড় রোধে উদ্যোগী হলেই বাবুই পাখি রক্ষা করা সম্ভব।
শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে—ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের পাশে উন্নয়ন সহায়তাসমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও সহজ করতে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় সাইকেল ও শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।কর্মসূচির আওতায় একজনকে সাইকেল এবং চারজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়। এই সহায়তা শুধু একটি সাইকেল কিংবা আর্থিক অনুদান নয়—এটি শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়, স্বপ্ন পূরণের সাহস এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।দূরত্ব, আর্থিক সংকট কিংবা নানা সীমাবদ্ধতা যেন শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি সাইকেল যেমন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতকে সহজ করবে, তেমনি শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি তাদের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।সহায়তার হাত যখন শিক্ষার পথে, তখন সম্ভাবনার পথও হয় আরও প্রশস্ত।আজকের এই ছোট্ট সহায়তাই হয়তো আগামী দিনের একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের বড় শক্তি হয়ে উঠবে।লক্ষ্য একটাই—শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া, বৈষম্য পেছনে ফেলা এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
স্টেশন আছে, অবকাঠামো আছে—নেই শুধু যাত্রীসেবা।একসময় টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকত দীর্ঘ সারি। প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতেন নানা বয়সী মানুষ। কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম ছিল রেলপথ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে।ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশন দুটি করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যায়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন রুটে রেল যোগাযোগ চালু হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ দুটি স্টেশনে আগের মতো যাত্রীসেবা আর ফিরে আসেনি। ফলে স্টেশন দুটি এখন অনেকটা নামেই রয়েছে, বাস্তবে কার্যক্রম প্রায় অচল।স্টেশন আছে, প্ল্যাটফর্ম আছে, স্টেশন ভবন ও রেললাইনের অবকাঠামোও রয়েছে। নেই শুধু ট্রেন থামার সেই পরিচিত শব্দ, যাত্রীদের কোলাহল, টিকিট বিক্রির ব্যস্ততা আর রেলকেন্দ্রিক প্রাণচাঞ্চল্য।এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। রেলসেবা না থাকায় যাত্রীদের বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে সড়কপথে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য এ বাড়তি ব্যয় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াতেও বাড়ছে সময় ও খরচ।শুধু যাত্রী নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও। এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল তুলনামূলক কম খরচে রেলপথে পরিবহনের সুযোগ থাকলেও স্টেশন বন্ধ থাকায় সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং পণ্যের বাজারমূল্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।অন্যদিকে দীর্ঘদিন ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশনগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও প্ল্যাটফর্মে জমছে ময়লা-আবর্জনা, কোথাও আবার গরু-ছাগল বাঁধার দৃশ্য দেখা যায়। পরিত্যক্ত অবস্থার সুযোগ নিয়ে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও পরিত্যক্ত স্টেশন এলাকায় নানা ধরনের মানুষের আনাগোনা ও আড্ডা বসে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‘একসময় ঈশ্বরগঞ্জ রেলস্টেশনে সবসময় মানুষের ভিড় লেগে থাকত। স্টেশন ছিল জমজমাট। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, ততই স্টেশনটির অবস্থা খারাপ হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়া এখানে লাগেনি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখভালের অভাবে মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে।’ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশন শুধু দুটি স্থাপনা নয়; এগুলো এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। তাই এগুলো বন্ধ পড়ে থাকা মানে শুধু দুটি স্টেশনে ট্রেন না থামা নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি।স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশনে পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা পুনরায় চালু করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে নিয়মিত ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্টেশন দুটির অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।রেলপথ মানুষের জন্য—আর রেলস্টেশনও মানুষের সেবার জন্য। তাই দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশনকে আবারও মানুষের কোলাহলে মুখর করে তোলা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং এই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে দ্রুত স্টেশন দুটি চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। খাগড়াছড়ির রামগড়ে বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।রোববার (২ আগস্ট) সকালে রামগড় উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মানবিক এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে কাজুকো ভূঁইয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, মাল্টিসার্ভ ইন্টারন্যাশনাল (এমএসআই) এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার উদ্যোগে এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপির সার্বিক সহযোগিতায় এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া (মিঠু), পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত উল্ল্যাহসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।এসময় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে। দলীয় কর্মসূচির বাইরেও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।বিতরণকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, স্বাগত বক্তব্য, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। আলোচনায় সত্যবাদিতা ও আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, শিক্ষকের মর্যাদা, প্রতিবেশীর অধিকার, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী জীবনাচরণ উপস্থাপনা ও সিরাতভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা উচিত। শুধু মিলাদুন্নবী পালন নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অনুসরণের বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। সবশেষে এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত মৌলভী শিক্ষক উমর ফারুক দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক সভানুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে কথা না বলে কোরআন, হাদিস ও নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, "আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব, যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং তারা বুঝতে পারে কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা বা আলোচনা করা যাবে না।"মাহফিলে সব রাজনৈতিক মতের মানুষ উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নাম ধরে সমালোচনা করলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে ইতিহাস, নীতি ও নৈতিকতার আলোকে পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সৎলোকের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।এছাড়া দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব বজায় থাকা প্রয়োজন।সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।নবঘোষিত কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।
মহেশখালী অনলাইন প্রেসক্লাব-কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের যৌথ উদ্যােগে কক্সবাজার- ২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) সংসদীয় আসন থেকে ৩য় বারের মতো নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এর সংবর্ধনা সভা ইফতার ও দোয়া মাহফিলের বলেছেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা আর জাতি গড়ার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষকরা। তেমনিভাবে জাতির বিবেক হচ্ছেন সাংবাদিকরা। বর্তমান সরকার জনগণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নিতে জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর বর্তায়। তাই প্যারাবন যারা নিধন করে সরকারের সম্পদ নস্ট করে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলা হবে।পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরাম ও মহেশখালী অনলাইন প্রেস ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ২৯ রমজান উপজেলার পৌরসভা সাহাব উদ্দিন টার্ফ এন্ড রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, প্রধান আলোচক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, পরিকল্পনা মন্ত্রাণালয়ের উপ- সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মহেশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দু সোলতান।চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রধান তুলনাকারক চট্টগ্রাম মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক জাহেদুল হক নাহিদ। এতে কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও মহেশখালী অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি হোবাইব সজীবের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ইফতার মাহফিলের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি স.ম ইকবাল বাহার চৌধুরী। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, শহীদ তানভীর ছিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মাতাব্বর।এতে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদুল আলম দেওয়ান, সাবেক সভাপতি মাহবুব রোকন, সাবেক সভাপতি আবুল বশর পারভেজ, সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ, কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের সহ-সভাপতি সাহাব উদ্দিন, কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের দপ্তর সম্পাদক আলো উদ্দিন আলো, অর্থ সম্পাদক কপিল বিন আমির, মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মৌলভী ইউনুচ, সহ-সভাপতি এস এম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম হাসান, মহেশখালী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রমজান আলী, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বশির উল্লাহ, কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের সদস্য মিজবাহ উদ্দীন আরজু ও শেখ আব্দুল্লাহ প্রমূখ।অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ফারুক ইকবাল এনামুল হক, সাহাব উদ্দিন শিকদার, হামিদ হোসাইন,ওয়াজেদ মনি, শাহারিয়ার কবির, আবু বক্কর ছিদ্দিক, মহিউদ্দিন, শাহফুদ্দিন সিকদার,সুমন চন্দ্র, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ শাহারিয়া, সুমন দাশ, মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন নিশান, কফিল বিন আমির।কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন নুরী পিয়ারু, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তারেকুর রহমান জুয়েল। ইফতার ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মহেশখালী অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক রকিয়ত উল্লাহ। ###
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন তহবিল’। বন্যাকবলিত ১০টি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে এই নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।জার্মানিভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘TOM TAILORS’-এর আর্থিক সহায়তায় এ অর্থ সংগ্রহের সমন্বয়ে ছিলেন চবির দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আসিফ হোসেন।অর্থ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন তহবিলের সদস্য শাহাদাত হোসেন, সাব্বির হাসান সাকিন এবং বাঁশখালী স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ রায়হান চৌধুরী ও বাঁশখালী স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি হাফেজ মোঃ বোরহান উদ্দীন।আয়োজকরা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমন্বিত এ প্রয়াস দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ইতিবাচক মানবিক দৃষ্টান্ত বলে জানান তাঁরা।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভেজালবিরোধী অননুমোদিত ও মানহীন খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে চিংড়িতে জেলি পাওয়ায় দুই মাছ বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে একটি বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পৃথক দুই অভিযুক্তদের মোট ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম।অভিযানকালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মৌলভীবাজারের ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরির মাধ্যমে নতুন বাজারের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করা হয়। এ সময় বিক্রির জন্য রাখা চিংড়িতে জেলির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় দুই মাছ বিক্রেতাকে পৃথক দুটি মামলায় ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।পরে সিন্দুরখান রোডে অবস্থিত ভিআইপি বেকারিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে নন-ফুডগ্রেড কালার ব্যবহার, উৎপাদিত কিছু পণ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ লেবেল না থাকা, নকল ‘হরলিক্স’ বিস্কুট উৎপাদন, খাদ্য পন্যের উৎপাদনের তারিখ না থাকা এবং অপরিষ্কার ট্রেতে খাদ্যপণ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়।এছাড়া বেকারিটির ৩৭টি পণ্যের মধ্যে ৩৪টি পণ্যের বিএসটিআই এর অনুমোদন না থাকার বিষয়টি অভিযানে ধরা পড়ে। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয় এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।অভিযানে মোট তিনটি মামলায় তিনজন অভিযুক্তদের কাছ থেকে সর্বমোট ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, মৌলভীবাজারের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. শাকিব হোসাইন ও থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।জনস্বার্থে ভেজালবিরোধী, অননুমোদিত ও মানহীন খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবাসহ মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের চড়ুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে কুড়িগ্রাম ডিবি পুলিশের একটি দল। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম চিলমারী উপজেলার কুটিরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।কুড়িগ্রাম জেলা ডিবির অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলায় মাদক নির্মূলে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চিলমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চিলমারী থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।ডয়েচে ভেলে একাডেমি (DWA) এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপ।শুক্রবার (১৯ জুন) বরিশালের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে শুরু হওয়া এই বুটক্যাম্পটি আজ ২১ জুন ২০২৬ বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।বুটক্যাম্পে পাঁচটি ক্লাবের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ক্লাবগুলো হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেরিয়ার ক্লাব, অর্গানাইজেশন অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্স এন্ড হায়ার এডুকেশন সোসাইটি এবং বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর যৌথ অর্থায়নে এই বুটক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। অনলাইনে যুক্ত থেকে কর্মসূচিটি তত্ত্বাবধান করেন ডয়েচে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক নাইমুর রহমান এবং মাঠপর্যায়ে এটি পরিচালনা করেন পাঁচজন ফেলো।কর্মসূচিতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ। এসময় তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ কোনো সংবাদ পেলেই সত্য-মিথ্যা বা অপপ্রচার যাচাই না করেই তা ভাইরাল করে দেয়। যেকোনো ঘটনা বা দুর্যোগের সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং নৈতিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসময় তিনি বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণ করা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রত্যাশা রেখে আরো বলেন; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞ্যান লাভের মাধ্যমে তোমরা তার প্রতিনিধি হবে এটাই হলো সকলের প্রত্যাশা।এছাড়াও অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশারাফুল হক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান মো: ফরহাদ উদ্দীন।এছাড়াও আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, কমিউনিকেশন এন্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট অফিসার সাইফুর রহমান, রিসার্স এন্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিষ্ট সাজ্জাদুল করিম, অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার।উল্লেখ্য, "Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0" প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
ব্যবসায়িক জটিলতা কমাতে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এখন মুহূর্তেই সামলাতে পারবেন গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে বিক্রয় ব্যবস্থাপনার কাজ।ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিধি ও সেবা সহজ করতে এবার বিশ্বব্যাপী হোয়াটসঅ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ‘মেটা বিজনেস এজেন্ট’ চালু করেছে মেটা। এতদিন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই প্ল্যাটফর্মটি এখন ব্যবসায়িক অটোমেশনের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। মেটার এই নতুন প্রযুক্তি কেবল গ্রাহকদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই নয়, বরং পণ্যের সুপারিশ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং এবং সম্ভাব্য ক্রেতা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।মেটা জানিয়েছে, কোনো জটিল বিষয়ে যদি এআই এজেন্টের পক্ষে উত্তর দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কথোপকথন মানব কর্মীর কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকবে, যা গ্রাহকসেবাকে আরও নিখুঁত করবে। ভারত ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোতে প্রায় দুই বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সফলতার পরই তা বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করা হলো। শুধু হোয়াটসঅ্যাপেই নয়, খুব শিগগিরই ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজ (ডিএম) সেবাতেও এই এআই বট ব্যবহারের সুযোগ পাবে ব্যবসায়ীরা।ভবিষ্যতে এই এজেন্টের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। বাজার গবেষণা পরিচালনা, পণ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা, ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের মতো জটিল কাজগুলোও এই এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টম এআই এজেন্ট তৈরির প্ল্যাটফর্মও প্রস্তুত করছে মেটা, যা Shopify, Zendesk এবং Shopee-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা যাবে।মেটার এই নতুন পদক্ষেপকে ব্যবসায়িক কৌশলের এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। এতদিন ক্লিক-টু-হোয়াটসঅ্যাপ বিজ্ঞাপন থেকে আয় করলেও, এখন এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার সেবায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল অটোমেশন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য টোকেন-ভিত্তিক অর্থের বিনিময়ে এই সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। সব মিলিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপ এখন কেবল চ্যাটিং অ্যাপ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকটাই এগিয়ে গেল।মেটা বিজনেস এজেন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ এআই, ডিজিটাল বিজনেস, গ্রাহকসেবা অটোমেশন, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রযুক্তি, মেটা এআই সেবা, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস আপডেট।
সরকারি অর্থে নির্মাণ, উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় ধস, এরপর টানা ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার একটি ব্রিজের গল্প যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রই তুলে ধরে। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানিতে ধসে পড়ার পর দীর্ঘ এক যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও চরম ভোগান্তির শিকার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের মাঝখানে একপাশ দেবে গিয়ে কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা ব্রিজটির অবশিষ্টাংশ। দুই পাশের সংযোগ সড়ক বহু আগেই বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে। ফলে সেতু থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ অচল। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৪ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতারহাট সড়কের সাঁকোর পাড় এলাকায় খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুর একপাশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।এর ফলে লেনোরপাড়া, কুরারপাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতিপাড়া, বটতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বর্ষায় নৌকায় খাল পার হতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আলামীর হোসেন বলেন, “ব্রিজ ভাঙার পর চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার গেছি। ১২ বছরেও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।ডাঃ রতন বলেন, “এটাই ছিল উপজেলা শহরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। এখন আমরা যেন নিজ এলাকাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি।”শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, “বর্ষায় নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। আবার শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।”নুর নাহার বেগম বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খবর নেয় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। আমরা শুধু একটি নতুন ব্রিজ চাই।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙা ব্রিজের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও টেকেনি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ৩০ ফুট ব্রিজের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, “নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাত্র এক বছরেই ধসে পড়া ২৭ লাখ টাকার ব্রিজের নির্মাণমান ও তদারকির দায় কার? কেন ১২ বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ? আর কতদিন আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবে ২০ হাজার মানুষ?—এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
ভ্রমন তরী মস্তল সম্প্রতি কুড়িগ্রম জেলার চিলমরীতে ব্রহ্মপুত্র নদে এ এলাকার বিস্তির্ন চরাঞ্চলের মানুষের বসতি, জীবন যাত্রার মান, নতুন অভিজ্ঞতা ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে অনেক দূর থেকে এসেছে। দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, এ প্রতিপাদ্য যেন স্বচোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। সাধারনত পাহাড় দেখতে এ অঞ্চলের মানুষকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। কিন্তু কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ১৭টি নদ-নদীর প্রবাহ, সংযোগ স্থান, দুধ কুমোর,ফুল কুমোর,সঙ্কোশ, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম,তিস্তা, ধরলা হলহলিয়া ও বিশেষ করে সাহেবের আলগা- বেগম গঞ্জের নুনখাওয়ায় সোজা পূর্ব থেকে ভারতের পাহাড়ের তলদেশ থেকে কিভাবে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা স্ব-চোখেই অবলোকন করা যায়। আর একটু দূর হতে হলেও আপনি যদি এ স্থানটিতে দাড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে তাকান দেখবেন কি এক অপূর্ব দৃশ্য! চোখের সমনেই আসামের বিশাল নয়নাভিরাম সু-উচ্চ পাহাড়!! তাৎক্ষনিক ভাবে ভুলেই যাবেন যে আপনি কোথায় আছেন। এ সব ছাড়াও চরাঞ্চলের গরু,মহিষের সারি, বির্স্তিন চর জুড়ে বাদম কলাই,ভূট্টা কতকি ফসল ও চর বসতিদের ঘরবসতি। সে দেখার সুযোগ গুলো এলাকার কিছু অর্বাচিনদের না ধারনায় বিরুপ হয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। তারপরও তারা একটু দূরে চলে গেলেও উত্তরবঙ্গের বিশাল সবনতন ধর্মাবলম্বিদের স্নান উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর অষ্টমীর মেলা উপলক্ষে মাস্তুল হাউসবোট নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ। এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাসতল কতৃপক্ষের অষ্টমীর স্নান ও মেলা উদযাপন ভ্রমনের সুযোগ এনেছেন। তারা জানান, একদিকে ২০০ বছরের পুরনো মেলার লোকজ আমেজ, আর অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মাস্তুলের রাজকীয় আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আপনার এই ভ্রমণ হবে আজীবনের স্মৃতি!মাস্তলের এই ট্রিপে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের আহব্বান, চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর মেলার বর্ণিল আয়োজন দেখার সুযোগ, ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ: গাইবান্ধার কামারজানি বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চরাঞ্চল ঘুরে দেখা, অভিজাত আবাসন: মাস্তুলের প্রিমিয়াম কেবিনে নদের বুকেই রাত কাটানোর রোমাঞ্চ। খাবার: ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার টাটকা আইড়, বাঘাইড় কিংবা বোয়াল মাছের জিভে জল আনা মেনু। শান্তি ও নির্জনতা: শহুরে কোলাহল ছেড়ে চরের বালুকাবেলায় সূর্যাস্ত দেখার প্রশান্তি। চিলমারীর অষ্টমীর মেলা (যা চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নান উৎসব)। তাদের এই যাত্রা শুরু হবে, কামারজানী বন্দর হতে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অষ্টমীর মেলা ভ্রমণ।
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকারের ভালো-মন্দ কাজের গঠনমূলক সমালোচনা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ‘গ্রাম বাংলার কল্যাণে নিবেদিত সাংবাদিকতা’ প্রতিপাদ্যে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।এর আগে কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ হলরুম অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর উদ্যোগে পরিচালিত ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং এসএসসি/দাখিল পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু এবং নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাই সেলিমের সঞ্চালনায় সভায় স্থানীয় সাংবাদিক, বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।সভায় গ্রামবাংলার মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নচিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা, পেশাগত দায়িত্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনা হয়। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকার সংবাদমাধ্যমের কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন।তিনি বলেন, “আমি সংবাদমাধ্যমের ওপর কখনো হস্তক্ষেপ করি নাই।” সরকারের ভালো-মন্দ কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের কাজে স্বচ্ছতা ও সহযোগিতা আরও বাড়বে।তবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বিদ্বেষপ্রসূত, অর্ধসত্য কিংবা মনগড়া তথ্য পরিহারের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হতে পারেন; কিন্তু সংবাদ প্রকাশের সময় সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামবাংলার মানুষের কথা, সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিষয়গুলোও সাংবাদিকদের গুরুত্বের সঙ্গে গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।সভায় স্থানীয় সাংবাদিকরা কেন্দুয়া অঞ্চলের সাংবাদিকতার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মতবিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকতা আরও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে কেন্দুয়া পৌরসভার ১০ নম্বর মোড়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন আহমেদ খোকন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম।এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপণের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ৩৬০ শিক্ষার্থীর মাঝে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।রোববার (৩০ আগস্ট) উপজেলার ৩ নম্বর সরিষা ইউনিয়ন কৃষক দল ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে সরিষা ইউনিয়নে CODEC-EMDC প্রকল্পের আওতাধীন ১২টি শিখনকেন্দ্রের ৩৬০ শিক্ষার্থীর মধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হয়।৩ নম্বর সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন কেন্দ্রে আয়োজিত চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি।৩ নম্বর সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়ক ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লুৎফর রহমান খান মিল্কান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান বিপুল, উপজেলা যুবদলের নেতা ফয়সাল আহমেদ, ৩ নম্বর সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামাল হোসেন ভূঁইয়া রুমেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক সোহাগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানান CODEC-EMDC প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এ কে এম হুমায়ুন কবীর। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সমন্বয়কারী মো. আজিজুল হক।পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি মো. আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি। স্বাগত বক্তব্য দেন এমদাদুল্লাহ খান জামান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. লুৎফর রহমান খান মিল্কান বলেন, ‘দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর নির্দেশনায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষক দল সকলের সহযোগিতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।’অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা ১২টি শিখনকেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন। চারা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।অনুষ্ঠানে CODEC-EMDC প্রকল্পের ১২টি শিখনকেন্দ্রের শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিনিধি, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মো. লোকমান হোসেনসহ প্রায় ৬০০ জন উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, কৃষক দলের উদ্যোগে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
‘ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে'; সম্পাদক মোস্তফা মামুনদৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।
শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় গত ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড.সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারীএকান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারী কলেজ ও দিনাজপুর সরকারী কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি।বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অফ কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষাখাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।বর্অমানে অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন যা দেখে কিছু মানুষ তার এই কাজে ইর্ষা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে হেও পতিপন্ন করার জন্য নানা রকম প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।নির্বাচনে সভাপতি পদে মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহসভাপতি পদে আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিলন), কোষাধ্যক্ষ পদে এটিএম জোবায়েদ উর রহমান (জবা) এবং দপ্তর সম্পাদক পদে আব্দুল জলিল সরকার নির্বাচিত হয়েছেন। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ওয়াহেদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে মহসীন আলী, নুর আলম সিদ্দিক, সাজেদুর রহমান নওশাদ এবং মো. হেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুদ্দোহা দুলু। নির্বাচন পরিচালনায় একজন প্রিজাইডিং অফিসার, একজন পোলিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পার্বতীপুর মডেল থানা ও পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩০ মে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক ও এক নার্সকে ঘিরে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ আগস্ট সন্ধ্যায়। হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নার্স তাসমিয়া সুলতানার সাবেক স্বামী সাজ্জাদ হোসেন শাহিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা শাহিনকে আটক করেন। পরে তিনি চিকিৎসক সুমনুল হকের সঙ্গে তার সাবেক স্ত্রীর কথিত সম্পর্কের কারণে সংসার ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ করেন। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কাদির অভিযুক্ত চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।সাজ্জাদ হোসেন শাহিনের দাবি, ২০১৪ সালে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী পশ্চিমপাড়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে তাসমিয়া সুলতানাকে তিনি বিয়ে করেন। ২০১৬ সালে তাসমিয়া ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স হিসেবে যোগ দেন। পারিবারিকভাবে স্ত্রীকে গ্রহণ না করায় তিনি ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে প্রায় ১৮ লাখ টাকা দিয়ে চার শতক জমি কিনে স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করেন এবং সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। তাদের সাত বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে।শাহিনের অভিযোগ, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাসমিয়া তাকে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এর পেছনে হাসপাতালের চিকিৎসক সুমনুল হকের সঙ্গে তার কথিত সম্পর্ক ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নার্স তাসমিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, চিকিৎসক সুমনুল হকের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। একজন রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকদিন চিকিৎসকটির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তার সাবেক স্বামী তাকে সন্দেহ করতেন এবং নির্যাতন করতেন। এ কারণেই তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তাসমিয়া।স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সকে ঘিরে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।আগের কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগ।চিকিৎসক সুমনুল হকের বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থল নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক চেয়ারম্যান টি এম আতিকুর রহমানের দাবি, কয়েক বছর আগে কাজিপুরে কর্মরত থাকার সময় সুমনুল হকের বিরুদ্ধে এক নার্স ও এক আয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে জনরোষের মুখেও পড়তে হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে তাকে কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছিল বলে জানান আতিকুর রহমান।এ ছাড়া কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেন উদ্দিনের দাবি, সেখানে কর্মরত অবস্থায় সুমনুল হকের বিরুদ্ধে এক নার্সের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল। একই কর্মস্থলের আরও কয়েকজন নার্সকে ঘিরেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বলে তিনি দাবি করেন। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সুমনুল হককে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয় বলে জানান তিনি।সুমনুল হকের সাবেক স্ত্রী ডা. মোমেনা পারভীন পারুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সরাসরি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে খুদে বার্তার মাধ্যমে তিনি সুমনুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে প্রতিবেদককে জানানো হয়েছে।এদিকে কাজিপুর প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক আব্দুল মজিদের অভিযোগ, সুমনুল হকের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলেও কেবল বদলির মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তিনি এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।চিকিৎসকের দাবি, অভিযোগ ‘পরিকল্পিত’।অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক সুমনুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ তুলেছে বলে দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কাদির বলেন, চিকিৎসক সুমনুল হক ও নার্স তাসমিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বগুড়ার সিভিল সার্জনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের পেশাগত আচরণ ও কর্মপরিবেশের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি উঠেছে।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউটনগর গ্রামে বাঙালি নদীর তীব্র ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালাসহ মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পদ। ভাঙন আরও তীব্র হলে বেশ কয়েকটি পরিবার বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে হেউটনগর গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঙালি নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর পাড় ধসে পড়ছে। নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি ও কৃষিজমি রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। ভাঙনের কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোজাফফর আলী প্রাং বলেন, বাঙালি নদীর ভাঙনে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তির অনেকটাই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতীরে বসবাস করায় সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। গ্রামের অনেক মানুষের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।স্থানীয় শিক্ষক ও একই গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগেও নদীর ভাঙনে আমাদের পুরোনো বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। পরে নতুন করে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বাড়িটিও রক্ষা পাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। দ্রুত নদীর পাড় সংস্কার ও ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে আমাদেরও ঘরবাড়ি হারাতে হবে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি নদীর তীরে ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই নদীর পাড় ভেঙে নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হেউটনগরসহ আশপাশের এলাকায় বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারেন।কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন শিপন বলেন, বাঙালি নদীর তীরের ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়টি সংসদ সদস্যকে অবগত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, হেউটনগর গ্রামের বাঙালি নদীর তীরের ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ভাঙনের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে এবং বসতভিটা হারিয়ে বহু পরিবার পথে বসার আশঙ্কা রয়েছে।
বগুড়ার ধুনটে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মারধর, ধারালো হাসুয়া দিয়ে মাথায় আঘাত, পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বামী মো. খোকন তালুকদার।অভিযোগকারী খোকন তালুকদার উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের মাধবডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি বাড়িতে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একই গ্রামের মো. আবদুল খালেক (৫০), তাঁর ছেলে মো. সবুজ (৩০) ও স্ত্রী মোছা. আমেনা খাতুন (৪৫) তাঁর বসতবাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা তাঁর স্ত্রী মোছা. আন্না খাতুনকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।অভিযোগে বলা হয়, গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা আন্না খাতুনকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে মোছা. আমেনা খাতুনের নির্দেশে তাঁর ছেলে মো. সবুজ হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দিয়ে আন্না খাতুনের মাথার মাঝখানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া মো. আবদুল খালেক ওই গৃহবধূর পরনের জামাকাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলেন এবং শ্লীলতাহানি করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয় আতুল আলী, মোছা. জয়নব খাতুন, মো. রাসেলসহ কয়েকজন প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা খোকন তালুকদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগকারীর দাবি।পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে স্ত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন খোকন তালুকদার। এরপর আহত আন্না খাতুনকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খোকন তালুকদার।ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রাজ্জাক শেখ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
বগুড়ার ধুনটে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম রানা (৪৭)কে দ্বিতীয় দফায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার গোসাইবাড়ী সাতমাথা মোড়ের পাকা সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।আমিনুল ইসলাম রানা উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের মো. ইসমাইল হোসেনের ছেলে। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ধুনট থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্ত হন তিনি।মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আমিনুল ইসলাম রানা আসামি। এছাড়া ২০২২ সালের ৩০ মে শহরের হোটেল আরাফাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে হামলা, মারধর ও ব্যানারে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়।সবশেষ ২০২৩ সালের ৭ জুন সন্ধ্যায় ধুনট পৌর এলাকার বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কর্মীসভা চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ, নেতাকর্মীদের মারধর এবং কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও আমিনুল ইসলাম রানা আসামি।দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব মামলার ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রথমবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। এবার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তাকে দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে আমিনুল ইসলাম রানার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।