লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে লিলো না এনসিপি, পরে গাড়িবহরে যোগ দিয়েছেন দলের চার নেতা।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগ অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। আজ সোমবার সকাল আটটায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে আটটার দিকে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে লংমার্চের গাড়িবহর। এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, উদ্বোধনী সমাবেশে না থাকলেও পরে গাড়িবহরে যোগ দিয়েছেন দলটির চার নেতা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবারের লংমার্চে অংশ নিচ্ছেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েকজন নেতাকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা হলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ।এরই মধ্যে শরীয়তপুরের নাওডোবায় আরিফুল ইসলাম আদীব বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এনসিপির নেতারা।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের লংমার্চে এনসিপির অংশগ্রহণ হবে ‘প্রতীকী’। আগের দুটি লংমার্চে দলের আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নিলেও এবার কয়েকজন নেতাকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়েছে।এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দল হিসেবে এনসিপি এবারের লংমার্চে অংশ নিচ্ছে। সেখানে দলের কয়েকজন প্রতিনিধি থাকছেন। তবে উদ্বোধনী সমাবেশে দলের কেউ অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির কোনো নেতা না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ লংমার্চে থাকবেন। তিনি বাগেরহাট থেকে যোগ দেবেন।তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির এক যুগ্ম আহ্বায়ক প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ গাড়িবহরেই আছেন। যদিও এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা১১-দলীয় ঐক্যের খুলনামুখী লংমার্চের গাড়িবহর গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যাবে। এ সিদ্ধান্তের পর গাড়িবহরের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।গত বছরের জুলাইয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এ হামলার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দায়ী করা হয়েছিল। ওই ঘটনার ১৫ মাস পর এবার গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যাচ্ছে বিরোধীদলীয় ঐক্যের লংমার্চ। এ কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখেনি ১১-দলীয় ঐক্য।১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা অবশ্য গোপালগঞ্জে হামলার আশঙ্কা নাকচ করেছেন। এ বিষয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, এসব তথ্য অসত্য ও গুজব। গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সেখানে হামলার কোনো আশঙ্কা নেই।এনসিপির স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখার চেষ্টাআজকের লংমার্চে এনসিপির অংশগ্রহণ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল।এনসিপি-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও পৃথক দল হিসেবে নিজেদের ‘স্বতন্ত্র পরিচয়’ ধরে রাখতে চায় এনসিপি। এর অংশ হিসেবে ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চের এক দিন আগে গতকাল শুক্রবার ঢাকার শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে দলটি।লংমার্চের কর্মসূচিআজ সকালে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।সমাবেশে জামায়াতের আমির বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে। সেই বিপ্লবের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর সকাল সাড়ে আটটার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু পার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে যাবে এই বহর। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এ যাত্রাপথে ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হবে। পথে একাধিক পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মাঝামাঝি নাওডোবা দিয়ে খুলনা বিভাগের দিকে যাবে গাড়িবহর। পথে নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা করার কথা আছে। এরপর কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে হবে সমাপনী সমাবেশ।গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এই লংমার্চ করছে ১১-দলীয় ঐক্য। তাদের অন্য দাবির মধ্যে আছে-জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করা।এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছিল ১১-দলীয় ঐক্য। খুলনা বিভাগের পর আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, পিছিয়ে বরিশাল বোর্ড

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরপর বিভিন্ন ওয়েবসাইট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খুদে বার্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল জানতে পারেন।দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যেখানে পাসের হার ৬১.৮০ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৪.৮৪ শতাংশ। এছাড়া নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক গড় পাসের হার ৫১.৬২ শতাংশ।এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। সব মিলিয়ে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ এবং মোট পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থী।সারাদেশের ২ হাজার ৭৬০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২ জুলাই এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে নেওয়া হয়। সেই বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

ইরান যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ছ মাসের মধ্যে শীর্ষে

মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়ে গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন তেলের বাজারের দিকে।বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ দশমিক ৬ ৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। লেনদেনের একপর্যায়ে এই ক্রুড অয়েলের দর ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার পর্যবেক্ষণকারী অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছেছে। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।চলতি অক্টোবর মাসজুড়েই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত ছিল। পুরো মাসের হিসাবে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুডের মোট দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়সীমার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।অন্যান্য ভৌগোলিক উত্তেজনার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনায় তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বিশাল আকারের সুপারট্যাংকার ঘিরে চারটি পৃথক ঘটনা ঘটে। আইআরজিসির ভাষ্যমতে, ইরানি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিষিদ্ধ সমুদ্রসীমায় চলাচলের কারণে দুটি সুপারট্যাংকার সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করব: আইজিপি আলী হোসেন ফকির

রাজধানীর চকবাজারের ওয়াটার ওয়ার্কার্স রোডের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আইন ও সংবিধান মেনে প্রয়োজনে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। আইজিপি বলেন, ‘আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, তবে আমরা সেইটা করব।’রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘কে আসবে বা আপা কবে আসবে, সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেখার বিষয় নয়।’ পুলিশের কার্যক্রমের সমালোচনা নিয়ে আইজিপি মন্তব্য করেন, লাঠিপেটা করলে পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠে, আবার নীরবে থাকলেও তাদের দুর্বল বলা হয়। তাই কাজ করার জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।আলী হোসেন ফকির জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনার সুখে, শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের কোনো বিকল্প নেই। পুলিশকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করবেন না, নিজেরাও ব্ল্যাকমেইল হবেন না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সব দল-মতের নির্বাচনী এজেন্ডায় শান্তি থাকলেও পরে ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে সমাজব্যবস্থায় সংঘাত দেখা দেয়। দেশ রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছেন ট্রাম্প: বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওবামার মতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো এমন একটি যুদ্ধ শুরু করা, যার কোনো প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের দাবি দেশের ভেতর থেকে কেউ কখনো জানায়নি।ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সংঘাতের আঁচ ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে লেগেছে। যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়া তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই নৌপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলোও নির্বাচনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।ওবামার এসব মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘চরম অযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ওবামা ইরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন, যা দেশটির জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ সহজ করে দিয়েছিল। ট্রাম্প তার শাসনামল থেকেই এই চুক্তিটির কঠোর বিরোধিতা করে আসছেন।উল্লেখ্য যে, ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরান ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বর্তমানে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওবামা ও ট্রাম্পের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান ইস্যু এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাবকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

 ইরান যুদ্ধ

ট্রাম্পের: পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা হবে কি না, তা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের অবশিষ্ট অংশও পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইরান যুদ্ধকে ঘিরে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন বসার আগে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা স্বাধীনতা ভোগ করবে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে, তবে বিশ্লেষকদের একাংশ আশঙ্কা করছেন যে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ট্রাম্প হয়তো অভিযান জোরদার করার চেষ্টা করবেন।ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির একজন অতিথি ধারণা করছেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের এই দুই মাস সময়কালকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প বড় ধরনের কোনো হামলা চালাতে পারেন। যদিও বিশ্লেষকদের অন্য একটি অংশ মনে করছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলেই যে যুদ্ধ থেমে যাবে, তার কোনো নিশ্চিত গ্যারান্টি নেই। এদিকে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে এক ধরনের অস্পষ্টতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে তিনি অভিযান বাড়ানোর কথা বলছেন, অন্যদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি জানিয়েছেন যে আপাতত বড় কোনো হামলার পরিকল্পনা নেই। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।পলিটিকোর সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি জানান, সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর এই যুদ্ধের একটি প্রভাব পড়েছে। তবে ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে তিনি যুদ্ধের চেয়ে জ্বালানি তেলের দামকে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের মূল কারণ মূলত পেট্রলের উচ্চমূল্য।

নির্বাচনে ট্রাম্প ধাক্কা খাওয়ায় উচ্ছ্বসিত ইরানিরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়কে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে মার্কিন ভোটাররা ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। তবে নতুন করে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তেহরান।ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে আমেরিকানরা যুদ্ধকে ‘না’ বলেছে। ইরান এই বার্তাকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানে আবার হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটন যেন জনমতকে উপেক্ষা না করে।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, দেশটির শত্রুতা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামান্যতম নতি স্বীকারের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের আধিপত্যের অবসানকে এখনো দূরের বিষয় মনে করলেও ইরানের কাছে তা আসন্ন।মঙ্গলবারের নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও তাদের জয় ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনা এবং ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে ইরান।নির্বাচনের পর যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা বাড়িয়েছেন। মঙ্গলবার ট্রাম্প সামরিক অভিযান আবার শুরু করার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। অন্যদিকে, যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলে আরও বড় ধরনের পাল্টা হামলার পরিকল্পনা করেছে ইরান।নির্বাচনের আগে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করছে তেহরান।ট্রাম্প অবশ্য নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কথা স্বীকার করলেও ফক্স নিউজকে বলেছেন, ভোটাররা ইরান নিয়ে তার পদক্ষেপের গুরুত্বও বুঝেছেন। এদিকে মোজতবা খামেনির বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে তেহরান নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে প্রস্তুত নয়।সূত্র 

ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছেন ট্রাম্প: বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওবামার মতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো এমন একটি যুদ্ধ শুরু করা, যার কোনো প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের দাবি দেশের ভেতর থেকে কেউ কখনো জানায়নি।ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সংঘাতের আঁচ ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে লেগেছে। যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়া তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই নৌপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলোও নির্বাচনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।ওবামার এসব মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘চরম অযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ওবামা ইরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন, যা দেশটির জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ সহজ করে দিয়েছিল। ট্রাম্প তার শাসনামল থেকেই এই চুক্তিটির কঠোর বিরোধিতা করে আসছেন।উল্লেখ্য যে, ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরান ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বর্তমানে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওবামা ও ট্রাম্পের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান ইস্যু এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাবকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

ইরানে অবস্থানরত রাশিয়ার কূটনীতিক এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের কর্মী বা বিশেষজ্ঞদের ইরান ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।এর আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেশ কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সংবাদ অ্যাগ্রিগেটর দাবি করেছে ইরান থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই দাবিগুলোতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব জল্পনাকে পুরোপুরি বানোয়াট হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এমন গুঞ্জন ছড়ায়। স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি গত জুলাই মাসে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রেও এই কেন্দ্রের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিহ্ন দৃশ্যমান হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করল।

রাজনীতি

দিল্লিতে পলাতকদের আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণহত্যায় জড়িত থাকার পরও যারা কোনো ধরনের অনুশোচনা প্রকাশ করেনি এবং জনঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে বর্তমানে দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের আর কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলাম বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলাম বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা আদর্শগত ভিন্নতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক। তবে দেশের মানুষকে হত্যা করা, পরিকল্পিত গণহত্যা ও বছরের পর বছর আলেম-ওলামাদের রক্ত ঝরানোর মতো অপরাধ ক্ষমাযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের এ দেশের মানুষ রাজনীতিতে আর জায়গা দেবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।বাংলাদেশের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর সময় লেগেছিল। আর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জনগণ ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী একটি শাসনব্যবস্থার অধীনে নিপীড়িত হয়েছে। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে আলেম-ওলামারা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। শাপলা চত্বরের সেই ট্র্যাজেডির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো অনেক শহীদ ও তাদের কবরের প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৭ বছর সময় লেগেছে। শাপলা চত্বরে কত মানুষ শহীদ হয়েছেন, এখনো তাদের সবার নাম ও কবরের ঠিকানা আমরা জানি না। রাব্বুল আলামিন আমার হায়াত রেখেছেন।জাতিসংঘের তথ্য উদ্ধৃত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিগত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে গত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যাদের একজন ছিলেন তিনি নিজেও। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও সেই সময় প্রায় ৭ হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া লাখ লাখ মানুষ হামলা ও মিথ্যা মামলার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যার শিকার ও নির্যাতিত হয়েছেন।ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকে বাদ দেওয়া মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের নীতি পুনরায় সংবিধানে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন এবং ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারী রাজনীতির পরিবর্তে সত্যিকারের ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন জরুরি। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা যে সমস্ত জাতীয় মূলনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস বাদ দিয়েছিলেন, সেটা আমরা পুনঃস্থাপন করব।জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জানিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েই এই সনদ কার্যকর করা হবে। আন্দোলনের নামে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা সরকার স্বাগত জানায়, কিন্তু দেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হওয়া কাম্য নয়।মাহফিলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সরওয়ার আলমগীর এবং হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতে যারা গুম, খুন ও গণহত্যার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং এখনো অনুশোচনা করেনি, তাদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। শুক্রবার মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে পরিচিত এই দলটি গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে জাতিকে বিপর্যস্ত করে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। শাপলা চত্বরের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির আর কোনোভাবেই এদেশে ফিরে আসার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমন চাই। শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের হত্যা করা হয়েছে, মসজিদ রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাহলে সেই ক্ষেত্র আজকে কারা তৈরি করে দিচ্ছে।দেশের বর্তমান মুক্তি ও স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ২৩ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে, আর আলেম-ওলামাবিরোধী ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পেতে সময় লেগেছে ১৬ থেকে ১৭ বছর। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অনেক আলেম-ওলামা প্রাণ দিয়েছেন, যাদের অনেকের পরিচয় ও কবরের ঠিকানাও অজানা রয়ে গেছে। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় সাত হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে নিজেও এই নির্যাতনের ভুক্তভোগী ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে।দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সাম্প্রতিককালে গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, তা মূলত একটি বিশেষ মহলের উস্কানি। জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একদল শক্তি ইসলামের কথা বলে রাজনীতি করলেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বা দলীয় দলিলে শরিয়াভিত্তিক শাসন বা ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার কোনো সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নেই। এমনকি তাদের দলীয় মনোগ্রাম থেকেও ‘আকিমুদ্দীন’ বাদ দেয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, তারা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু তাদের দলিলে কী আছে, সেটি বলে না। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য ও দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের যে রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার দল সেই পথেই চলছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে এই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। সেই সঙ্গে সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধের সংযোজন এবং মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিসমিল্লাহ পুনঃস্থাপনের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।সম্মেলনে উপস্থিত থাকা আন্দোলনকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পরিবর্তে গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকারের লক্ষ্য একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।মহাসম্মেলনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ইসরাইলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে গাদি আইজেনকটকে ৬৭ এমপির সমর্থন

ইসরাইলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটের নাম প্রস্তাব করে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের ১২০ সদস্যের মধ্যে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা। গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে এ সমর্থন নিশ্চিত করা হয়। এই সংখ্যা গরিষ্ঠতা আইজেনকটের জন্য নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। টাইমস অব ইসরাইলের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হারজগের সঙ্গে আলোচনার পর দেখা যায়, বিরোধী দলগুলোর জোট আইজেনকটের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। বিপরীতে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পেয়েছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট হারজগ সরকার গঠনের চূড়ান্ত ম্যান্ডেট দেওয়ার আগে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আগামী রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করবেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনা শেষে এ তথ্য জানা গেছে। এই ছয়টি দলই আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করেছে।আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত সরকার গঠনের দায়িত্ব হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছে। দলটির দাবি, ২০১৫ সালের পর থেকে কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর পক্ষে এটিই সবচেয়ে বড় সমর্থনের রেকর্ড। তাদের মতে, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৬৭ জনের সমর্থন পাওয়া জনমতের বড় প্রতিফলন। যদিও এই সমর্থন সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট, তবুও আইজেনকটের যাত্রাপথ পুরোপুরি মসৃণ নয়। নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবিরটিতে ৪৮ সদস্যের চারটি ইহুদি দল এবং ১৯ সদস্যের দুটি আরব দলের জোট রয়েছে। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ইহুদি-নেতৃত্বাধীন তিনটি দল এখনো আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরণের জোট সরকার গঠনে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যদিও গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছিল, তবুও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) নামক সাত আসনের দলটি তাকে সমর্থন দেয়নি। এটি আইজেনকটের জন্য পরবর্তীতে সমর্থন পাওয়ার একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।ইসরাইলের চ্যানেল ১২ নিউজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইজেনকটের সরকার গঠন প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। ইসরাইল বেইতেনু পার্টির প্রধান আভিগদর লিবারম্যান বর্তমানে হারেদি দলগুলোর সঙ্গে সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তার দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছেন। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, লিবারম্যান ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির পক্ষে থাকলেও আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করার চেয়ে হারেদি দলগুলোর সঙ্গে জোট করাকে তিনি কৌশলগতভাবে শ্রেয় মনে করছেন। এমন জোট হলে আইজেনকট ও লিবারম্যানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগাভাগির সমঝোতা এবং হারেদিদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।এদিকে নতুন সরকার গঠনের পাশাপাশি পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচন নিয়েও বড় ধরণের রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন পার্লামেন্ট সদস্যদের শপথের পরই নতুন স্পিকার নির্বাচনের কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার আরব দল রা’আম ঘোষণা করেছে যে, তারা ইয়াশার, জয়েন্ট আরব লিস্ট, ইসরাইল বেইতেনু এবং দ্য ডেমোক্র্যাটসের সঙ্গে মিলে নতুন স্পিকার নির্বাচনে আগাম ভোটের দাবি তুলেছে। বর্তমান স্পিকার আমির ওহানা জানিয়েছেন, অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেন, তবেই এ বিষয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। লিকুদ পার্টির বর্তমান স্পিকারকে অপসারণের মাধ্যমে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিরোধী দলগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে, কারণ আইন প্রণয়ন ও আলোচ্যসূচি নির্ধারণে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমাল কেন্দ্রীয় সরকার

পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন এক সিদ্ধান্তে পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম সমন্বয় করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৯.৪১ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৫.৫৬ রুপি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটি (ওগরা) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে প্রতি লিটার পেট্রোল ৩৫২.৫৯ রুপিতে এবং প্রতি লিটার হাই-স্পিড ডিজেল ৩৮২.২৫ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সাথে দ্রুত সামঞ্জস্য রাখতে ওগরা এখন তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন জ্বালানির দাম প্রকাশ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার কারণে পাকিস্তান সরকার এখন দৈনিক ভিত্তিতে জ্বালানির দাম পর্যালোচনার একটি নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর সরকার সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দাম পর্যালোচনার ব্যবস্থা করেছিল। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রেক্ষিতে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। এছাড়া গত জুন মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

রাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে।তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান।সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি।সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং।ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে।বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সুত্র: কালের কণ্ঠরাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে। তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি। সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’ তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং। ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’ তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’ খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুত্র: কালের কণ্ঠ

যশোরের ঝিকরগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২২০২৬ উদ্বোধন।

যশোরের ঝিকরগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২২০২৬ উদ্বোধন।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ কর্মসূচি। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরের ঝিকরগাছায় এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ঝিকরগাছা বিএম হাইস্কুল মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি। তাঁরই ধারাবাহিকতায় ঝিকরগাছায় স্থানীয় পর্যায়ে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন ক্রীড়াবিষয়ক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসক এম সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসন-৩১৪-এর সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি।এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শপথ বৈরাগী, পৌর বিএনপির সভাপতি রুহুল আমিন সুজন, সাধারণ সম্পাদক রাশিদুল মমিন সুজন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশফাকুজ্জামান খান রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুন্নবী মুরাদ, দপ্তর সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সোহাগ এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শাহাজাহান আলী।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, থানা পুলিশের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষক, ক্রীড়া শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, সুধীজন এবং ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে নিবন্ধিত খুদে অ্যাথলেটদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো মাঠজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২) কর্মসূচির মূল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।বক্তারা বলেন, খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল আসক্তি থেকে শিশু-কিশোরদের মাঠমুখী করতে এবং একটি সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা অনেক প্রতিভাবান শিশু-কিশোর পর্যাপ্ত সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করতে পারে না। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকেই এসব লুকিয়ে থাকা প্রতিভা অন্বেষণ করে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি শিশু-কিশোরদের মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি মনোযোগী করে তুলবে এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলবে। খেলাধুলাকে কেবল অবসরের বিনোদন না ভেবে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরির ওপরও তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।সবশেষে বর্ণাঢ্য আয়োজন, আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রদর্শনী ও ইভেন্টের মধ্য দিয়ে ঝিকরগাছায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

অনলাইন জরিপ
৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। বিধিমালা অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে দেশের যেকোনো একটি বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে।তিনি আরও জানান, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (Economic Life) হবে সর্বোচ্চ ১২ বছর। সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন হলো:১। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।২। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।৩। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।৪। খুলনা সিটি করপোরেশন।৫। রাজশাহী সিটি করপোরেশন।৬। বরিশাল সিটি করপোরেশন।৭। সিলেট সিটি করপোরেশন।৮। রংপুর সিটি করপোরেশন।৯। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।১০। গাজীপুর সিটি করপোরেশন।১১। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন।১২। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।১৩। বগুড়া সিটি করপোরেশন।বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশা নিয়ে মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান রিকশাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে না। বৈধ ও অবৈধভাবে চলাচলরত যানবাহনগুলো আপাতত চলাচল করতে পারবে। তবে বিধিমালা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন থেকেই ব্যাটারি চার্জ করতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ই-রিকশার ব্যাটারি ভাঙা বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা যাবে না।নিবন্ধন ও নবায়ন ফি সম্পর্কে তিনি জানান, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।ই-রিকশার চলাচল আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে জোনভিত্তিক চলাচল ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং প্রতিটি জোনের জন্য পৃথক রং নির্ধারণের বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ অংশ নিয়েছেন।শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।সভায় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনসহ সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ অপরাধ দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি- সবকিছু সামলাতে হচ্ছে একই বাহিনীকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর ও আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির চাপ। জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা নিয়েও চাপে আছে মাঠপুলিশ। এর বাইরে রয়েছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে মাঠপুলিশের ওপর দায়বদ্ধতার চাপ আরও বেড়েছে। কোনো এলাকায় মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি এবং তদারকি কর্মকর্তাকে দায় নিতে হবে- এমন বার্তাও পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এখনও তোলপাড় চলছে পুলিশে। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ সভায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয় ডিসি ওসিদের। কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকামিছিল বের হলে ওই এলাকার ডিসি-ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাবধান করা হয়। পরবর্তীকালে গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ব্যর্থতা দায় হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছে ঢাকার ৫০ থানার ওসি ও জোনাল ডিসি-এডিসি, এসিরা। ডিএমপির একাধিক থানার ওসি এই চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।শুধু ঢাকা মহানগরই নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে সারাদেশেই মাঠ পুলিশ চাপের মুখে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে সব রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা আমাদের সময়কে বলেন, যেকোনো ধরনের চাপ নিয়ে কাজ করতে পুলিশ অভ্যস্ত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব চাপ সামলে পুলিশ কতটা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে, সেদিকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের প্রতিটি ধাপে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। বড় কোনো ঘটনা ঘটার পরই প্রায়ই গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এনেছে।আশরাফুল হুদা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশের ভেতরে দীর্ঘ ১৭ বছরে তৈরি হওয়া ‘জঞ্জাল’ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরীহ কর্মকর্তা বা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ বাহিনীর সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পড়তে পারে।জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির যে সংযোগ রয়েছে, তা মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাদের মনোবলও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে- এমনটা বলার সুযোগ নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পুলিশকেই পালন করতে হবে। তবে অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ সরাসরি পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিলে তাদের মনোবল আরও দুর্বল এবং বাহিনীর মধ্যে নতুন করে মেরুকরণ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে মাঠ পুলিশ। নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেনি। কমানো যায়নি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলির ঘটনা বেড়েছে। খুনোখুনি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি ও একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্রের। অর্থাৎ লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্র উদ্ধারে চাপে রয়েছে মাঠপুলিশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এসব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে খোদ পুলিশে। কারণ লুণ্ঠিত অস্ত্র স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে বিশেষ অভিযানও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তিন ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মাঠপুলিশের জন্য আলাদা চাপ তৈরি করছে। কারণ শুধু আসামি গ্রেপ্তার করাই নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিরাপদে থানায় নেওয়া, অভিযান পরিচালনা এবং অভিযানের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পুলিশকেই পালন করতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৩১৭টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এর আগের ৬ মাসে এ ধরনের ২৭৫টি ঘটনা ঘটে।পুলিশের ওপর চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। বদলি, পদোন্নতি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে পুুলিশের একটি বড় অংশের মধ্যেই হতাশা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত দুই বছরে ইতোমধ্যে ১৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আরও পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেক কর্মকর্তা এখনও অবসর আতঙ্কে রয়েছেন। এতে মানসিক চাপে তারা স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও চাপে রয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এই মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও তাগিদ রয়েছে তাদের ওপর। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেও মাঠ পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে  ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

 ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল। প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো  বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর।  আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন। চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে  ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়। সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী  ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের 'নজরানা' বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। M

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, স্বাগত বক্তব্য, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। আলোচনায় সত্যবাদিতা ও আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, শিক্ষকের মর্যাদা, প্রতিবেশীর অধিকার, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী জীবনাচরণ উপস্থাপনা ও সিরাতভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা উচিত। শুধু মিলাদুন্নবী পালন নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অনুসরণের বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। সবশেষে এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত মৌলভী শিক্ষক উমর ফারুক দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক সভানুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে কথা না বলে কোরআন, হাদিস ও নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, "আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব, যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং তারা বুঝতে পারে কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা বা আলোচনা করা যাবে না।"মাহফিলে সব রাজনৈতিক মতের মানুষ উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নাম ধরে সমালোচনা করলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে ইতিহাস, নীতি ও নৈতিকতার আলোকে পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সৎলোকের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।এছাড়া দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব বজায় থাকা প্রয়োজন।সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।নবঘোষিত কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।

সব বিভাগের খবর

মহানগর পরিক্রমা
পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমাল কেন্দ্রীয় সরকার

পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমাল কেন্দ্রীয় সরকার

পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন এক সিদ্ধান্তে পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম সমন্বয় করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৯.৪১ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৫.৫৬ রুপি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটি (ওগরা) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে প্রতি লিটার পেট্রোল ৩৫২.৫৯ রুপিতে এবং প্রতি লিটার হাই-স্পিড ডিজেল ৩৮২.২৫ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সাথে দ্রুত সামঞ্জস্য রাখতে ওগরা এখন তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন জ্বালানির দাম প্রকাশ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার কারণে পাকিস্তান সরকার এখন দৈনিক ভিত্তিতে জ্বালানির দাম পর্যালোচনার একটি নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর সরকার সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দাম পর্যালোচনার ব্যবস্থা করেছিল। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রেক্ষিতে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। এছাড়া গত জুন মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দিল্লিতে পলাতকদের আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দিল্লিতে পলাতকদের আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণহত্যায় জড়িত থাকার পরও যারা কোনো ধরনের অনুশোচনা প্রকাশ করেনি এবং জনঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে বর্তমানে দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের আর কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলাম বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলাম বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা আদর্শগত ভিন্নতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক। তবে দেশের মানুষকে হত্যা করা, পরিকল্পিত গণহত্যা ও বছরের পর বছর আলেম-ওলামাদের রক্ত ঝরানোর মতো অপরাধ ক্ষমাযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের এ দেশের মানুষ রাজনীতিতে আর জায়গা দেবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।বাংলাদেশের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর সময় লেগেছিল। আর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জনগণ ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী একটি শাসনব্যবস্থার অধীনে নিপীড়িত হয়েছে। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে আলেম-ওলামারা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। শাপলা চত্বরের সেই ট্র্যাজেডির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো অনেক শহীদ ও তাদের কবরের প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৭ বছর সময় লেগেছে। শাপলা চত্বরে কত মানুষ শহীদ হয়েছেন, এখনো তাদের সবার নাম ও কবরের ঠিকানা আমরা জানি না। রাব্বুল আলামিন আমার হায়াত রেখেছেন।জাতিসংঘের তথ্য উদ্ধৃত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিগত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে গত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যাদের একজন ছিলেন তিনি নিজেও। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও সেই সময় প্রায় ৭ হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া লাখ লাখ মানুষ হামলা ও মিথ্যা মামলার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যার শিকার ও নির্যাতিত হয়েছেন।ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকে বাদ দেওয়া মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের নীতি পুনরায় সংবিধানে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন এবং ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারী রাজনীতির পরিবর্তে সত্যিকারের ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন জরুরি। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা যে সমস্ত জাতীয় মূলনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস বাদ দিয়েছিলেন, সেটা আমরা পুনঃস্থাপন করব।জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জানিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েই এই সনদ কার্যকর করা হবে। আন্দোলনের নামে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা সরকার স্বাগত জানায়, কিন্তু দেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হওয়া কাম্য নয়।মাহফিলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সরওয়ার আলমগীর এবং হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতে যারা গুম, খুন ও গণহত্যার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং এখনো অনুশোচনা করেনি, তাদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। শুক্রবার মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে পরিচিত এই দলটি গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে জাতিকে বিপর্যস্ত করে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। শাপলা চত্বরের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির আর কোনোভাবেই এদেশে ফিরে আসার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমন চাই। শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের হত্যা করা হয়েছে, মসজিদ রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাহলে সেই ক্ষেত্র আজকে কারা তৈরি করে দিচ্ছে।দেশের বর্তমান মুক্তি ও স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ২৩ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে, আর আলেম-ওলামাবিরোধী ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পেতে সময় লেগেছে ১৬ থেকে ১৭ বছর। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অনেক আলেম-ওলামা প্রাণ দিয়েছেন, যাদের অনেকের পরিচয় ও কবরের ঠিকানাও অজানা রয়ে গেছে। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় সাত হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে নিজেও এই নির্যাতনের ভুক্তভোগী ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে।দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সাম্প্রতিককালে গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, তা মূলত একটি বিশেষ মহলের উস্কানি। জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একদল শক্তি ইসলামের কথা বলে রাজনীতি করলেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বা দলীয় দলিলে শরিয়াভিত্তিক শাসন বা ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার কোনো সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নেই। এমনকি তাদের দলীয় মনোগ্রাম থেকেও ‘আকিমুদ্দীন’ বাদ দেয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, তারা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু তাদের দলিলে কী আছে, সেটি বলে না। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য ও দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের যে রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার দল সেই পথেই চলছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে এই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। সেই সঙ্গে সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধের সংযোজন এবং মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিসমিল্লাহ পুনঃস্থাপনের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।সম্মেলনে উপস্থিত থাকা আন্দোলনকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পরিবর্তে গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকারের লক্ষ্য একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।মহাসম্মেলনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

শূন্য থেকে সমৃদ্ধির শিখরে সিঙ্গাপুরের রূপান্তর ও লি কুয়ান ইউর রাষ্ট্রদর্শন

শূন্য থেকে সমৃদ্ধির শিখরে সিঙ্গাপুরের রূপান্তর ও লি কুয়ান ইউর রাষ্ট্রদর্শন

একটি রাষ্ট্র কীভাবে কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকা সত্ত্বেও শূন্য থেকে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাতে পারে, সিঙ্গাপুরের ইতিহাস এই প্রশ্নগুলোর একটি বাস্তব উত্তর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয় উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপদেশ সিঙ্গাপুর। আয়তন, জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদের বিচারে দেশটি অনেক রাষ্ট্রের তুলনায় ক্ষুদ্র। অথচ স্বাধীনতার সময় দেশটি ছিল বেকারত্ব, দারিদ্র্য, দুর্বল অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় আক্রান্ত। প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার না থাকার পরও, স্বাধীনতার সময়কার ভয়াবহ আবাসনসংকট, জাতিগত উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সংকট পেরিয়ে দলটি আজ বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব বিস্ময় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা নিয়েও একসময় ঘোর সংশয় প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে সিঙ্গাপুর পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতি, বিশ্ব বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র এবং দক্ষ শাসনের অনন্য দৃষ্টান্তে। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কাছে অবস্থিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল। বিনিয়োগকারীর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দক্ষ শ্রমিক, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, দ্রুত প্রশাসনিক সেবা, চুক্তির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু নগদ অর্থ নয়, উপহার, চাকরি, চুক্তি, সুবিধা কিংবা অন্য কোনো প্রতিদানও দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে উচ্চ বেতনই দুর্নীতির সমাধান নয়।বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের বিশ্বব্যাপী তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৯৮ হাজার ৮১৪ মার্কিন ডলার এবং দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন পৌঁছেছে প্রায় ৬০৪ বিলিয়ন ডলারে। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মূল কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন দেশটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ। তবে সিঙ্গাপুরের এই অভাবনীয় উত্থানকে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির একক ক্যারিশমা দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তার পাশাপাশি ছিলেন দক্ষ অর্থনীতিবিদ, প্রশাসক, পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে নিবেদিত একঝাঁক নেতৃত্ব। লি কুয়ান ইউর দুটি সুপরিচিত গ্রন্থ ‘দ্য সিঙ্গাপুর স্টোরি: মেমোয়ার্স অব লি কুয়ান ইউ’ এবং ‘ফ্রম থার্ড ওয়ার্ল্ড টু ফার্স্ট: দ্য সিঙ্গাপুর স্টোরি ১৯৬৫–২০০০’ বিশ্লেষণ করলে এই ঐতিহাসিক রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সুতরাং সিঙ্গাপুরের পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নযাত্রা বুঝতে দুটি বইকেই পাশাপাশি পড়া প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের মানবসম্পদ সূচক প্লাসে সিঙ্গাপুরের অবস্থান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে।গ্রন্থ সংস্কার ও লি কুয়ান ইউর আত্মজীবনীমূলক ইতিহাসলি কুয়ান ইউর বিখ্যাত স্মৃতিকথা ‘দ্য সিঙ্গাপুর স্টোরি: মেমোয়ার্স অব লি কুয়ান ইউ’ গ্রন্থটি ১৯৯৮ সালে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। প্রায় ৬৮০ পৃষ্ঠার এই বিস্তৃত প্রথম খণ্ডে তার শৈশবকাল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কঠিন দিনগুলো, জাপানি সেনাদের দখলদারত্ব, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বাস্তবতা, আইন পেশার অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্থান-পতন, পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতা লাভ, মালয়েশিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়া এবং চূড়ান্তভাবে ১৯৬৫ সালে সিঙ্গাপুরের স্বাধীনতা লাভের আগের ঘটনাবলি গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।গ্রন্থভিত্তিক আলোচনার ক্ষেত্রে একটি বিষয় অনুধাবন করা জরুরি। ‘দ্য সিঙ্গাপুর স্টোরি’ মূলত স্বাধীনতার পূর্ববর্তী জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংগ্রামের ইতিহাস। অন্যদিকে, স্বাধীনতার পর ১৯৬৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোগত রূপান্তরের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সমৃদ্ধ রয়েছে তার রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনী ‘ফ্রম থার্ড ওয়ার্ল্ড টু ফার্স্ট: দ্য সিঙ্গাপুর স্টোরি ১৯৬৫–২০০০’ গ্রন্থে। লি কুয়ান ইউর এই লেখালিখির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি রাষ্ট্র গঠনকে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শুষ্ক পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা না করে আইন শৃঙ্খলা, আবাসন, শিক্ষা, জাতিগত সম্প্রীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সমন্বিত প্রয়াস হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে যেহেতু এটি একজন রাষ্ট্রনায়কের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে লিখিত স্মৃতিকথা, এতে স্বাভাবিকভাবেই নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে আত্মপক্ষসমর্থন এবং প্রতিপক্ষের সমালোচনার প্রবণতা রয়েছে। তাই ইতিহাসবিদদের মতে, এই বইটিকে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস হিসেবে বিবেচনা করলেও এর তথ্যাবলি স্বাধীন বিচার-বিশ্লেষণ ও অন্যান্য নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে পড়া আবশ্যক। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির একটি বড় অংশ ঝুঁকির মুখে পড়ে। বাংলাদেশের জন্য এখানকার শিক্ষা অত্যন্ত সরাসরি।স্বাধীনতা যখন অস্তিত্বের চরম সংকটসিঙ্গাপুরের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হলো ৯ আগস্ট ১৯৬৫। এই দিনে চরম রাজনৈতিক দ্বিমত ও উত্তেজনার মুখে মালয়েশিয়ার ফেডারেশন থেকে সিঙ্গাপুর সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর আগে ১৯৬৩ সালে সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়ার সঙ্গেই যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজনৈতিক ক্ষমতার বণ্টন, জাতিগত প্রতিনিধিত্ব এবং অর্থনৈতিক নীতির মতো মৌলিক বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়। লি কুয়ান ইউ একটি নির্দিষ্ট জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তে মালয়, চীনা, ভারতীয়সহ সব জাতির সম-অধিকারভিত্তিক বহুজাতিক রাষ্ট্রের পক্ষে অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।১৯৬৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সময় লি কুয়ান ইউ আবেগাপ্লুত ও বাষ্পরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি জানতেন, কোনো বিস্তৃত ভূখণ্ড বা সম্পদ ছাড়া কেবল একটি দ্বীপ নিয়ে রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখা কতটা দুরূহ। সিঙ্গাপুরের নিজস্ব কোনো খাদ্য ও পানির পর্যাপ্ত উৎস ছিল না, শিল্পকারখানাও ছিল সীমিত। এর পাশাপাশি বেকারত্ব, অনুন্নত আবাসন এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছিল। তদুপরি, ১৯৬৮ সালে ব্রিটিশ সরকার সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত তাদের সমস্ত সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নেওয়ার ও সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দিলে তা দেশটির অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের ওপর আরেকটি মারাত্মক আঘাত হয়ে আসে। ব্রিটিশদের এই উপস্থিতি সিঙ্গাপুরের তৎকালীন অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের প্রধান স্তম্ভগুলোর একটি ছিল। তবে এই চরম বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েই সিঙ্গাপুরের নেতৃত্ব দ্রুত বিকল্প অর্থনৈতিক পথ তৈরিতে মননিবেশ করে।ভৌগোলিক অবস্থানকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরসিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক বাধা ছিল তার প্রাকৃতিক সম্পদের শূন্যতা। তবে তাদের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক ছিল মালাক্কা প্রণালীর কৌশলগত আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক অবস্থান। লি কুয়ান ইউ ও তার সহকর্মীরা এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে বৈশ্বিক বন্দর ও বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এই মহাযজ্ঞে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সিঙ্গাপুরের তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. গোহ কেং সুই। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের সার্বিক শিল্পায়ন কৌশল নির্ধারিত হয়েছিল।এই রূপ পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে ১৯৬১ সালে গঠন করা হয়েছিল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (ইডিবি)। সংস্থাটির মূল কাজ ছিল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাজের মধ্য সমন্বিত পরিবেশ তৈরি করা। শুরুতেই শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠায় জোর দেওয়া হয়েছিল, কারণ তখন তাৎক্ষণিকভাবে বেকারত্ব দূর করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে পোশাক শিল্প ও সাধারণ পণ্যের কারখানা দ্রুত গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর কম মূল্যের উৎপাদনী শিল্প থেকে সরে এসে উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স, পেট্রোকেমিক্যাল, ওষুধশিল্প এবং বিশ্বমানের আর্থিক সেবার দিকে যাত্রা সম্প্রসারিত করে। বিশ্বব্যাংকের ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৬৫ থেকে ১৯৭০ সালের মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। এই গতিশীল নীতি ও তার বাস্তবায়ন বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছরের মধ্যে সংস্থাটি ২১ হাজারের বেশি আবাসন ইউনিট নির্মাণ করে। এর দায়িত্ব ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা, শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিবেশ তৈরি করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার আধুনিক জ্ঞান দেশে নিয়ে আসা। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের প্রায় ৮০ শতাংশ বাসিন্দা এইচডিবির নির্মিত আবাসনে বসবাস করেন। উদ্দেশ্য ছিল মেধাবীদের প্রশাসনে আকৃষ্ট করা এবং অবৈধ আয়ের প্রলোভন কমানো।দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও আইন প্রয়োগসিঙ্গাপুরের অভাবনীয় অগ্রগতির অপর একটি মূল ভিত্তি হলো দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর রাষ্ট্রীয় অবস্থান। সিঙ্গাপুরি নেতৃত্ব স্পষ্ট বুঝেছিল যে, দুর্নীতিগ্রস্ত একটি সমাজ বা প্রশাসনে কখনোই স্থায়িত্ব ও বহুজাতিক বিনিয়োগ বজায় রাখা সম্ভব নয়। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতির প্রতিরোধ সংক্রান্ত ‘করপ্ট প্র্যাকটিসেস ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ (সিপিআইবি)-কে লি কুয়ান ইউ সরকার পুনর্গঠন করে সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা প্রদান করে। এই ব্যবস্থার আওতায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের অপরাধমূলক ঘুষ ও স্বজনপ্রীতিকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়।শুধু কঠোর আইন কার্যকর করেই শান্ত থাকা হয়নি; দক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের প্রশাসনে ধরে রাখার জন্য সরকারি বেতন কাঠামো অত্যন্ত আকর্ষণীয় করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারাবাহিক কঠোর প্রয়োগ প্রমাণ করে যে, কেবল মৌখিক বক্তব্যে দুর্নীতি দূর হয় না, তার জন্য দরকার প্রশাসনিক স্বাধীন তদন্ত সংস্থা, স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সর্বোচ্চ জবাবদিহিতা।জাতীয় আবাসন বিপ্লব ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাস্বাধীনতার সময় সিংহভাগ মানুষের জন্য মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলায় ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (এইচডিবি)। সংস্থাটির মূল লক্ষ্য ছিল কম খরচে পরিকল্পিত আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা, যেন প্রতিটি নাগরিকের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে সেন্ট্রাল প্রভিডেন্ট ফান্ডের (সিপিএফ) অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দিলে সাধারণ কর্মজীবীরা নিজেদের জমানো টাকা দিয়েই সরকারি ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ লাভ করেন।কেবল বাসস্থান নিশ্চিত করাই নয়, জাতিগত বিরোধ ও সংঘর্ষ এড়াতেও আবাসন নীতি সংস্কার করা হয়েছিল। ১৯৬৪ সালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার ১৯৮৯ সালে চালু করে ‘ইথনিক ইন্টিগ্রেশন পলিসি’। এই নীতির মাধ্যমে সরকারি প্রতিটি আবাসন ব্লকে নির্দিষ্ট অনুপাতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর (চীনা, মালয়, ভারতীয়) বসবাসের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়। ফলে বিচ্ছিন্ন কোনো জাতিগত এলাকা বা বস্তি গড়ে উঠতে পারেনি এবং সব নাগরিকের সমন্বয়ে একটি সংহত বহুজাতিক সমাজ ও জাতীয় পরিচয় গড়ে ওঠে, যা ১৯৬৫ সালের স্বাধীনতার মূল জাতীয় প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। ১৯৬৪ সালে চালু হয় হোম ওনারশিপ ফর দ্য পিপল কর্মসূচি। ২০১৫ সালে চালু হওয়া স্কিলসফিউচার কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকদের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হয়।আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সুশাসন এবং নাগরিক স্বাধীনতার বিতর্ককঠোর সুশাসন, দক্ষ লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিক নীতির ফলে সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশ্বসেরা স্থান দখল করে নেয়। বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচকে (এলপিআই) সিঙ্গাপুর বিশ্বজুড়ে প্রথম স্থান অর্জনে সক্ষম হয়। যা দেশটির আধুনিক যোগাযোগ, বিশ্বমানের বন্দর ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আমদানির সহজিকরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।তবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য পেলেও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে সিঙ্গাপুরকে। ফ্রিডম হাউসের ২০২৬ সালের ‘ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ১০০-এর মধ্যে ৪৮ নম্বর দিয়ে সিঙ্গাপুরকে ‘পার্টলি ফ্রি’ বা আংশিক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের বার্ষিক নথিতেও সে দেশে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর আইনি বাধানিষেধ ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে নানা গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয়। এই সকল তথ্য ও বাস্তবতা নির্দেশ করে যে, একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ ও সুশাসিত রাষ্ট্রের ভেতরেও নাগরিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য বজায় রাখার বিতর্ক ইতিহাসজুড়ে বিদ্যমান। তদন্তকারী সংস্থার স্বাধীনতা, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, সম্পদের হিসাব, আদালতের কার্যকারিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হয় না।সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক শিক্ষাএকটি চরম অনিশ্চয়তা ও প্রাকৃতিক সম্পদহীনতা থেকে বিশ্বের শীর্ষে পৌঁছানোর এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমা কেবল ইতিহাস নয়, বরং উদীয়মান অর্থনৈতিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী পাঠাগার। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করাই যথেষ্ট নয়, বরং অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা তৈরি করা আবশ্যক। সিঙ্গাপুর প্রমাণ করেছে যে সঠিক কৌশলগত পরিকল্পনা এবং কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেকোনো ভৌগোলিক কিংবা প্রাকৃতিক শূন্যতাকে মহামূল্যবান অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরিত করা সম্ভব।প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব সত্ত্বে দক্ষ ভৌগোলিক অবস্থান ও বন্দর নীতির সফল ব্যবহার।ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বোড (ইডিবি) গঠনের মাধ্যমে সমন্বিত শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা।দুর্নীতি প্রতিরোধে স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা সিপিআইবি-র ক্ষমতা বিধান ও আইনি কাঠামো শক্ত রাখা।এইচডিবি-র সুপরিকল্পিত নগর আবাসন এবং জাতিগত ভারসাম্য বজায় রাখতে আবাসন নীতির সংস্কার।দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিশ্বস্ত ভাবমূর্তি রূপদান।

মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কোণঠাসা হতে পারে ইসরাইল

মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কোণঠাসা হতে পারে ইসরাইল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ওয়াশিংটনে ইসরাইলের অবস্থান আরো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল আসার পর দেখা যায়, কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এই ফলের পর রিপাবলিকান শিবিরে পরাজয়ের কারণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করছেন খোদ নিজ দলের নেতারা। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা ও দক্ষিণ লেবাননে দখলদারত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেক ভোটার। প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।রিপাবলিকান শিবিরে ক্ষোভ ও জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যরিপাবলিকানদের একাংশের প্রবল ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পেছনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের সরাসরি প্রভাব ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু প্রশাসন ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছিল বলে তারা বিশ্বাস করেন। ওই সময় ইসরাইলি সরকার কোনো শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই দাবি করেছিল যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক মাত্রায় জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মার্কিন রাজস্ব থেকে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ব্যয় হয়েছে, যা দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয়কে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে কী জানত এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পরও কেন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন তারা। তারা উগ্রপন্থি মন্ত্রীদের বক্তব্য, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং এমন একটি সরকারের বিরোধিতা করছেন, যেটি তারা বুঝতে পারছেন না।মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পরাজয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট।’ ভ্যান্স জানান, এক পেশাদার জরিপকারী নির্বাচনে দল পরিবর্তন করে অন্য দলকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কী পরিবর্তন আনলে তারা আবার রিপাবলিকানদের সমর্থন করবেন। জবাবে ভোটাররা স্পষ্ট জানান যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এমন নীতির অবসান দাবি করেন। অথচ সাধারণ ভোটারদের এসব দাবি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তিনি বিদেশের যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা কমানোর কথা বলেছিলেন। অথচ সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।জনমত জরিপ ও বিশ্লেষকদের মতামতঅ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) চালানো এক জনমত জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জন ভোটারের প্রায় ৬ জন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি মারাত্মক ভুল ছিল। জরিপের ফলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় অত্যধিক বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে এই অন্তহীন যুদ্ধের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। ফলে তার ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে। তবে তাদের পদক্ষেপ নেওয়ারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের গবেষক অ্যান্ড্রু পেইন এ বিষয়ে আলজাজিরাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটাররা হয়তো সামরিক যুদ্ধের প্রযুক্তিগত বা কৌশলগত খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে খুব গভীরে গিয়ে ভাবেননি, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র খুব সহজভাবেই অনুধাবন করেছেন। এতে করে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়।মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের ঐতিহাসিক জয়ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সরকারের অন্ধ সমর্থন নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের চরম প্রভাব দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে। সেখানে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম সদস্য হতে যাচ্ছেন। নির্বাচনের ময়দানে রিপাবলিকানদের জোরালো প্রচার এবং ইসরাইলপন্থি অত্যন্ত প্রভাবশালী লবিগোষ্ঠী ‘আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির’ (এআইপ্যাক) কোটি কোটি ডলার ব্যয় সত্ত্বেও আল-সাইয়েদকে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু দুই নির্বাচনেই জয়ী হয়েছেন আল-সাইয়েদ।নির্বাচনী বিজয়ের পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আবদুল আল-সাইয়েদ তাঁর নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের অর্থ কোনো ধরনের বর্ণবাদী ব্যবস্থা, মানবতাবিরোধী গণহত্যা কিংবা অন্যায্য যুদ্ধে ব্যবহৃত হোক।’ তাঁর এই বক্তব্যে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অসংসংজ্ঞায়িত সামরিক সহায়তার বিরুদ্ধে গণদাবির বিষয়টি উঠে আসে।লবিগোষ্ঠীর কৌশল পরিবর্তন ও ইসরাইলি রাজনীতিবিশ্লেষক ড্যানিয়েল লেভি মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদের বিশাল একটি অংশ বিশ্বাস করে যে কেবল ইসরাইলের নিজস্ব স্বার্থ ও ইচ্ছাতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। লেভি আরও উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের একটি বড় অংশের মধ্যে এই বিষয়ে মার্কিন নীতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনে ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন পরবর্তীতে ইসরাইলের প্রতি মার্কিন জনগণের কমতে থাকা সমর্থনের দায় দেশটির সার্বিক রাষ্ট্রীয় নীতির ওপর না দিয়ে নেতানিয়াহু কিংবা ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মতরিচের মতো উগ্র ডানপন্থি নেতাদের ওপর চাপানোর কৌশল নিতে পারে লবিগোষ্ঠীগুলো। তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করবে যে সমস্যাটি ইসরাইল রাষ্ট্রের নয়, বরং দেশটির চরমপন্থি সরকারের।ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রায় একই ধরনের রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরেছেন। লাপিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলবিরোধী বলে যাদেরকে বর্তমান গণমাধ্যমে চিত্রিত করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই প্রকৃতপক্ষে ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরোধী নন। লাপিদ স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে রিপাবলিকান পার্টিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে ঐতিহাসিক ভুল করেছেন, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। একই ধরনের আরেকটি উদ্যোগে ১ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা বিক্রির বিরোধিতা করেন ৩৬ জন। বর্তমান প্রশাসন এমনভাবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করছে।এআইপ্যাকের প্রচারণা ও বাস্তব ব্যয়ের চিত্রনির্বাচনের পর এআইপ্যাক দাবি করেছে যে, তাদের আর্থিক ও নীতিগত সমর্থন পাওয়া ২৩৪ জনের বেশি প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তারা এক সামাজিক বার্তা পোস্টে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও হাকিম জেফরিসকে বিজয়ের জন্য প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের উভয় রাজনৈতিক দলের মধ্যেই নিজেদের অখণ্ড প্রভাব বজায় রয়েছে বলে দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করে লবিগোষ্ঠীটি।তবে স্বাধীন গবেষণাপত্র ‘রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের’ প্রকাশিত এক বিশদ প্রতিবেদনে এআইপ্যাকের নির্বাচনি ব্যয়ের সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, তাদের তহবিল ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ (ইউডিপি) ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো ছিল এআইপ্যাকের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজনৈতিক ব্যর্থতার একটি। ইসরাইলের প্রতি মার্কিন নীতির পরিবর্তন দেখতে চাওয়া নতুন ডেমোক্র্যাট নেতাদের কাছে আল-সাইয়েদের এই জয় এক অভূতপূর্ব নজির ও নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। গবেষণাপত্র রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইপ্যাকের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট (ইউডিপি) এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রাজনৈতিক কমিটি বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৮ কোটি ৪১ লাখ ডলার ব্যয় করে। এর মধ্যে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়েছে এমন প্রার্থীদের পক্ষে, যারা শেষ পর্যন্ত হেরে গেছেন। তুলনায়, ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ইউডিপির ব্যয়ের যথাক্রমে ৬৯ ও ৮৭ শতাংশ গেছে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের জয় পাওয়া নির্বাচনি লড়াইয়ে। রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক ও সাধারণ নির্বাচন মিলিয়ে আল-সাইয়েদকে পরাজিত করতে ইউডিপি ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার ব্যয় করেছে।সামরিক সহায়তা হ্রাস ও কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ পদক্ষপনির্বাচন চলার সময়ই ইসরাইলকে ঢালাও সামরিক সহায়তা দেওয়ার মারাত্মক রাজনৈতিক ক্ষতি আঁচ করতে পেরেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটের দিন এক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, চলতি বছরের পর ইসরাইলকে আর অসীম সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। বর্তমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছর ইসরাইলকে ৩৮০ কোটি ডলারের অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে নির্ধারিত এই সহায়তার অর্থ বা পরিমাণ কমানোর জোরালো সুযোগ এখনো মার্কিন কংগ্রেসের হাতে রয়ে গেছে।কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন থেকে ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর পূর্বশর্ত আরোপ করা হতে পারে। এমনকি মানবতাবিরোধী কাজে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট মারাত্মক অস্ত্র বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য কংগ্রেসে সরাসরি ভোটের আয়োজনও হতে পারে। অতীতে ২০২৪ সালের শুরুতে মানবধিকার লংঘনের বিষয়ে ডেমোক্র্যাট সেনেটররা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে রিপোর্ট পেশ করতে বাধ্য করেছিলেন এবং এপ্রিলে সাঁজোয়া বুলডোজার বিক্রির বিরুদ্ধে ৪০ জন সেনেটর শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে প্রতিবেদন দিতে বাধ্য করার একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ১১ জন সিনেটর। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেন ২৭ জন সিনেটর। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কও দেশটিকে চাপ সামলে উঠতে সহায়তা করতে পারে।যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে ফক্স নিউজকে বলেছেন যে, ডেমোক্র্যাটদের আনা যেকোনো ‘উন্মাদ’ বা কঠোর বিল ভেটো ক্ষমতা দিয়ে আটকে দেবেন। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের যৌথ নিয়ন্ত্রণে মার্কিন নির্বাহী বিভাগের একক সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের অর্জন ও রাশিয়ার মাশুল: কৌশলগত হিসাব

ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের অর্জন ও রাশিয়ার মাশুল: কৌশলগত হিসাব

ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একই সঙ্গে অর্জন ও মাশুলের এক জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর সময় মস্কোর প্রত্যাশা ছিল দ্রুত সামরিক সাফল্য লাভ করা, কিয়েভের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব বিস্তার করা এবং ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বাইরে রাখা। তবে ২০২৬ সালের নভেম্বরের সূচনায় পৌঁছে দেখা যাচ্ছে, এই দীর্ঘায়িত সংঘাত সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ময়দানে এক অত্যন্ত বিপরীতমুখী বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। পুতিন হয়তো কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন, তবে তার বিনিময়ে রাশিয়াকে দিতে হচ্ছে বিশাল মাশুল। ২০২৬ সালের নভেম্বরের শুরুতে যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতিও মস্কোর জন্য একমুখী সাফল্যের ছবি দিচ্ছে না। তবে সামরিক নিয়ন্ত্রণকে স্থায়ী রাজনৈতিক বা আইনগত মালিকানা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। অর্থাৎ ভৌগোলিক সুবিধা অর্জিত হলেও সেই সুবিধা নিরাপদ রাখা ক্রমেই ব্যয়বহুল হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রুশ সামরিক বাহিনীকে ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধকৌশলের ক্ষেত্রে নতুন অভিজ্ঞতাও দিয়েছে।ভূখণ্ডগত দখল ও কৌশলগত স্থলপথ সংযোগযুদ্ধের সবচেয়ে দৃশ্যমান অর্জন হলো ইউক্রেনের নির্দিষ্ট কিছু ভূখণ্ডের ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। সেন্টারে ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে দখলে নেওয়া ক্রিমিয়া ও দনবাসের পুরনো ভূখণ্ডও অন্তর্ভূক্ত। পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর নতুন করে দখল করা ভূখণ্ডের পরিমাণ ইউক্রেনের মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ। দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজিয়া ও খেরসন অঞ্চলের এই নিয়ন্ত্রণ রাশিয়াকে আজভ সাগরের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিয়েছে। এসব ভূখণ্ডকে রাশিয়া নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৃহত্তর অংশ এই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি।২০১৪ সাল থেকেই ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ২০২২ সালের সামরিক অভিযানের ফলে মস্কো দনবাস ও দক্ষিণ ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে ক্রিমিয়ায় সরাসরি স্থলপথের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। ক্রিমিয়া হচ্ছে রুশ কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের প্রধান ঘাঁটি এবং দক্ষিণ ফ্রন্টে রসদ সরবরাহের মূল কেন্দ্র। স্থলপথ সংযোগটি মস্কোর জন্য এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ করেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের আগেই দখলে থাকা ক্রিমিয়া ও দনবাসের অংশও রয়েছে।সামরিক শিল্প উৎপাদন ও নিষেধাজ্ঞা সামাল দেওয়াএই যুদ্ধ রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্পকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। অস্ত্র কারখানাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে এবং ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও গোলাবারুদ উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) ২০২৬ সালের মার্চের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে রাশিয়ার সামরিক খাতে সরকারি বরাদ্দ ১৬ ট্রিলিয়ন রুবলে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৭.৫ শতাংশ। তবে এই সামরিক কেন্দ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি সামগ্রিক বেসামরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নির্দেশক নয়; বরং এটি সাধারণ ভোক্তা বাজার ও শ্রম খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি পুরো ভেঙে পড়েনি। মূল ইউরোপীয় জ্বালানি বাজার হারালেও এশিয়ার বিকল্প বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস রপ্তানি অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের সঙ্গে বর্ধিত বাণিজ্য এবং বিকল্প ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়া ইউরোপের বাজার থেকে ছিটকে পড়ার ধাক্কা সামলে নিয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে মস্কোর টিকে থাকার সক্ষমতাকে তুলে ধরে।অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষমতা সংহতকরণপুতিন ইউক্রেন যুদ্ধকে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জাতীয়তাবাদী বয়ান হিসেবে সফলভাবে উপস্থাপন করেছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম, স্বাধীন মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিরোধী মত দমনের কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ক্ষেত্র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিকে পুতিন তার নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পেরেছেন, যদিও এটি জনগণের সর্বজনীন সমর্থনের প্রকৃত নির্দেশক নয়।বিপুল সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও সেনা সংকটএতসব অর্জনের বিপরীতে রাশিয়াকে যে মাশুল দিতে হচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সামরিক ক্ষয়ক্ষতিতে। সিএসআইএসের ১ জুলাই ২০২৬ সালের গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে নিহত, আহত ও নিখোঁজ মিলিয়ে রুশ বাহিনীর মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ থেকে ৫ লাখের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সম্মুখযুদ্ধে রাশিয়ার দৈনিক ও মাসিক সেনা ক্ষয়ক্ষতির হার নতুন সদস্য নিয়োগের হারকে ছাড়িয়ে গেছে, যা রুশ সামরিক বাহিনীর জন্য একটি গুরুতর সংকটের পূর্বাভাস। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ হতে পারে বলে গবেষণাটিতে অনুমান করা হয়েছে।ন্যাটোর পূর্বমুখী বিস্তার ও সীমান্ত জটিলতাপুতিনের যুদ্ধ শুরুর মূল উদ্দেশ্যগুলোর একটি ছিল রাশিয়ার সীমান্তে ন্যাটোর বিস্তার রোধ করা। তবে এই যুদ্ধ ন্যাটোর জোটকে দুর্বল করার পরিবর্তে উল্টো আরও শক্তিশালী করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বহু বছরের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি ত্যাগ করে ২০২৩ সালের এপ্রিলে ফিনল্যান্ড এবং ২০২৪ সালের মার্চে সুইডেন ন্যাটোর পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ গ্রহণ করে। কার্নেগি এনডাওমেন্টের ২০২৬ সালের মার্চের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তির ফলে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর প্রত্যক্ষ সীমান্ত দ্বিগুণ প্রসারিত হয়েছে, যা মস্কোর উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত কৌশলকে অতিরিক্ত সামরিক ঝুঁকিতে ফেলেছে।ইউরোপের জ্বালানি বাজার হারানো ও চীনের ওপর নির্ভরতাযুদ্ধের পূর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছিল রাশিয়ার গ্যাস ও তেলের প্রধান লাভজনক বাজার। যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলো রুশ শক্তির ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে বিকল্প তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকে পড়ে। জার্মান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা ইউরোপ-রাশিয়া অর্থনৈতিক কাঠামো এই যুদ্ধের কারণে স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, যা রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব আয়ে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে বিকল্প বাজারের ওপর নির্ভরতা এবং প্রযুক্তি আমদানির সীমাবদ্ধতা দীর্ঘমেয়াদে নতুন দুর্বলতা তৈরি করছে।ইউরোপীয় বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে চীনের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়লেও শক্তি ও মর্যাদার ভারসাম্যে রাশিয়া এখন জুনিয়র পার্টনারে পরিণত হয়েছে। জার্মান পরিষদের বিশ্লেষণে মন্তব্য করা হয়েছে, রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বাধ্যবাধকতার কারণে বেইজিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মধ্য এশিয়া ও ককেশাস অঞ্চলে মস্কোর চিরাচরিত প্রভাবকেও সংকুচিত করে আনছে।আন্তর্জাতিক প্রভাব হ্রাস ও সাম্প্রতিক সামরিক যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্ররাশিয়ার কৌশলগত সম্পদ ইউক্রেনে আটকে থাকায় অন্যান্য অঞ্চলে মস্কোর ভূরাজনৈতিক প্রভাব কমছে। ২০২৪ সালে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থানকে দুর্বল করেছে। একইভাবে দক্ষিণ ককেশাসে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার দ্বন্দ্বে রাশিয়া ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় সাবেক সোভিয়েত অঞ্চলগুলোতে তাদের আধিপত্যে ফাটল ধরেছে।এদিকে ২০২৬ সালের নভেম্বরের শুরুতে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় রাশিয়ার জন্য নিট ভূখণ্ডগত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) ১ নভেম্বর ২০২৬ সালের মূল্যায়নে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে রুশ বাহিনী প্রায় ১৩৯.৮৫ বর্গকিলোমিটার নতুন এলাকা দখলে নিলেও পাল্টা ইউক্রেনীয় অভিযানে ১৬৭.১৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারিয়েছে। অর্থাৎ মাসটিতে রাশিয়ার নিট ভূখণ্ডগত ক্ষতি হয়েছে ২৭.২৯ বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে সিএসআইএসের তথ্যমতে, কৌশলগত ফ্রন্টগুলোতে রুশ সেনাদের দৈনিক অগ্রগতির গড় এখন মাত্র ৫০ থেকে ৯০ মিটার। এই ধীর গতি ও সামরিক ক্ষয় প্রমাণ করে যে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া এখন এক জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

সরকারি অর্থে নির্মাণ, উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় ধস, এরপর টানা ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার একটি ব্রিজের গল্প যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রই তুলে ধরে। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানিতে ধসে পড়ার পর দীর্ঘ এক যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও চরম ভোগান্তির শিকার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের মাঝখানে একপাশ দেবে গিয়ে কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা ব্রিজটির অবশিষ্টাংশ। দুই পাশের সংযোগ সড়ক বহু আগেই বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে। ফলে সেতু থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ অচল। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৪ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতারহাট সড়কের সাঁকোর পাড় এলাকায় খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুর একপাশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।এর ফলে লেনোরপাড়া, কুরারপাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতিপাড়া, বটতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বর্ষায় নৌকায় খাল পার হতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আলামীর হোসেন বলেন, “ব্রিজ ভাঙার পর চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার গেছি। ১২ বছরেও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।ডাঃ রতন বলেন, “এটাই ছিল উপজেলা শহরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। এখন আমরা যেন নিজ এলাকাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি।”শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, “বর্ষায় নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। আবার শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।”নুর নাহার বেগম বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খবর নেয় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। আমরা শুধু একটি নতুন ব্রিজ চাই।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙা ব্রিজের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও টেকেনি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ৩০ ফুট ব্রিজের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, “নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাত্র এক বছরেই ধসে পড়া ২৭ লাখ টাকার ব্রিজের নির্মাণমান ও তদারকির দায় কার? কেন ১২ বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ? আর কতদিন আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবে ২০ হাজার মানুষ?—এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত।

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

ভ্রমন তরী মস্তল সম্প্রতি কুড়িগ্রম জেলার চিলমরীতে ব্রহ্মপুত্র নদে এ এলাকার বিস্তির্ন চরাঞ্চলের মানুষের বসতি, জীবন যাত্রার মান, নতুন অভিজ্ঞতা ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে অনেক দূর থেকে এসেছে। দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, এ প্রতিপাদ্য যেন স্বচোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। সাধারনত পাহাড় দেখতে এ অঞ্চলের মানুষকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। কিন্তু  কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত  ১৭টি নদ-নদীর প্রবাহ, সংযোগ স্থান, দুধ কুমোর,ফুল কুমোর,সঙ্কোশ, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম,তিস্তা, ধরলা হলহলিয়া ও বিশেষ করে সাহেবের আলগা- বেগম গঞ্জের নুনখাওয়ায় সোজা পূর্ব থেকে ভারতের পাহাড়ের তলদেশ থেকে কিভাবে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা স্ব-চোখেই অবলোকন করা যায়। আর একটু দূর হতে হলেও আপনি যদি এ স্থানটিতে দাড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে তাকান দেখবেন কি এক অপূর্ব দৃশ্য!  চোখের সমনেই আসামের বিশাল নয়নাভিরাম সু-উচ্চ পাহাড়!!  তাৎক্ষনিক ভাবে ভুলেই যাবেন যে আপনি কোথায় আছেন। এ সব ছাড়াও চরাঞ্চলের গরু,মহিষের সারি, বির্স্তিন চর জুড়ে বাদম কলাই,ভূট্টা কতকি ফসল ও চর বসতিদের ঘরবসতি। সে দেখার সুযোগ গুলো এলাকার কিছু অর্বাচিনদের না ধারনায় বিরুপ হয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। তারপরও তারা একটু দূরে চলে গেলেও উত্তরবঙ্গের বিশাল সবনতন ধর্মাবলম্বিদের স্নান উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর অষ্টমীর মেলা উপলক্ষে মাস্তুল হাউসবোট নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ।  এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাসতল কতৃপক্ষের অষ্টমীর স্নান ও মেলা উদযাপন ভ্রমনের সুযোগ এনেছেন। তারা জানান, একদিকে ২০০ বছরের পুরনো মেলার লোকজ আমেজ, আর অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মাস্তুলের রাজকীয় আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আপনার এই ভ্রমণ হবে আজীবনের স্মৃতি!মাস্তলের এই ট্রিপে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের আহব্বান, চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী  অষ্টমীর মেলার বর্ণিল আয়োজন দেখার সুযোগ, ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ: গাইবান্ধার কামারজানি বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চরাঞ্চল ঘুরে দেখা, অভিজাত আবাসন: মাস্তুলের প্রিমিয়াম কেবিনে নদের বুকেই রাত কাটানোর রোমাঞ্চ। খাবার: ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার টাটকা আইড়, বাঘাইড় কিংবা বোয়াল মাছের জিভে জল আনা মেনু। শান্তি ও নির্জনতা: শহুরে কোলাহল ছেড়ে চরের বালুকাবেলায় সূর্যাস্ত দেখার প্রশান্তি। চিলমারীর অষ্টমীর মেলা (যা চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নান উৎসব)। তাদের এই যাত্রা শুরু হবে,  কামারজানী বন্দর হতে  ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অষ্টমীর মেলা ভ্রমণ।

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোণা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) উৎসবমুখর পরিবেশে সংবর্ধনা ওগ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহানা আফরোজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী সাত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় হাসেম বৃত্তি।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বাবুল আহম্মদ। সহকারী শিক্ষক ফারুক আহম্মেদ রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।অনুষ্ঠানে সংবর্ধনার জবাবে জাহানা আফরোজ বলেন, একসময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে বিদ্যালয়টিকে নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও জাতীয়করণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের কাছেও সুপারিশ করবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।জাহানা আফরোজ নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর সহধর্মিণী। অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া সাত শিক্ষার্থীর হাতে হাসেম বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিত শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা ও নাট্যাংশের অভিনয় উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দর্শকদের মুগ্ধ করে। আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিশ্ব কন্যা দিবস পালন এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।সকাল ১১টায় ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “প্রতিটি কন্যাই একেকটি আলোর প্রদীপ।” তিনি কন্যাশিশুর অধিকার, মর্যাদা ও সম্ভাবনা বিকাশের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।পরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল-ইসলাম চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান।এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, প্রান্তিক ও প্রকৃত উপকারভোগী পরিবারের সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।দুটি সভায় উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও বিএনপি নেতা মজনু রহমান খন্দকার। মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি চারণ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা প্রমূখ।এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান,শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী,সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ,গণ-মাধ্যমকর্মী-গণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।স্ট্যাটাসে মাজেদ বাবু দাবি করেন, সার ডিলার লাইসেন্সকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লেখেন, “ঈশ্বরগঞ্জে এক টাকার অনৈতিক সুবিধা আমি নিই না, কোনো দিন নেবও না।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরিষা ইউনিয়নে ডিওর আওতার বাইরে সার ডিলার লাইসেন্স দেওয়া হলে এবং অন্যদের পাশ কাটিয়ে কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স পেলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।লাইসেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে কারা, কোথা থেকে এবং কত শতাংশ হারে টাকা নেন, তা তিনি জানেন বলেও স্ট্যাটাসে দাবি করেন। তবে এত দিন তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি বলে উল্লেখ করেন।স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এর অফিসিয়াল উত্তর না পাব, ঈশ্বরগঞ্জে কেউ কোনো মনোনীত লোক সার ডিলার লাইসেন্স পাবেন না।”তিনি আরও লেখেন, “আমাদের লোকেরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সার ডিলার লাইসেন্স দেবেন—তা হবে না। আমরা নিজেদের টাকায় থানায় গাড়ি কিনে দেব, আর আপনারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবেন—তা হবে না।”প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ সদস্য লেখেন, “কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার।”সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।সূত্র: সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাস লিঙ্ক-https://www.facebook.com/share/p/1DuzKZdqex/

‎জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে দিনাজপুরে যুব সংলাপ অনুষ্ঠিত ‎

‎জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে দিনাজপুরে যুব সংলাপ অনুষ্ঠিত ‎

সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক জেন্ডার ধারণা, বৈষম্যমূলক সামাজিক রীতি এবং নারী-পুরুষের অসম সামাজিক ভূমিকা পরিবর্তনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে দিনাজপুরে যুব সংলাপ ও অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‎ ‎বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর দিনাজপুর কার্যালয়ে মুক্ত চিন্তা যুব সেবা সংঘের উদ্যোগে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ‘সমতায় তারুণ্য: Youth for Equality’ প্রকল্পের আওতায় সংলাপটি আয়োজন করা হয়। জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। ‎ ‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর দিনাজপুরের উপ-পরিচালক মোঃ মোর্শেদ আলী খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম, ডেমোক্রেসি ওয়াচের প্রতিনিধি রাখি গোপাল দেবনাথ, স্নিগ্ধা ইয়ুথ উইমেন সোসাইটির পরিচালক মোছাঃ মাহাবুবা আক্তার, নক্ষত্র যুব কল্যাণ সংস্থার সভাপতি কনিকা আক্তার পারুল, মুক্ত চিন্তা নারী উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী লাবনী দেবনাথ এবং সমাজকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুকিদ হায়দার। ‎ ‎অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুক্ত চিন্তা যুব সেবা সংঘের সভাপতি জিলহজ্জ সরকার। সংলাপের ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনিকা শাহনাজ।

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

‘ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে'; সম্পাদক মোস্তফা মামুনদৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় গত ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড.সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারীএকান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারী কলেজ ও দিনাজপুর সরকারী কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি।বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অফ কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষাখাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।বর্অমানে অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন যা দেখে কিছু মানুষ তার এই কাজে ইর্ষা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে হেও পতিপন্ন করার জন্য নানা রকম প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।

ধুনটে নির্বাচনী হামলার মামলায় ধুনটে আ.লীগ নেতা কারাগারে

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে করা মামলায় সোহেল রানা (৪৭) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলার শিমুলকান্দি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোহেল রানা উপজেলার রামভল্বপুর খাদুলী গ্রামের মৃত নবীর উদ্দিন তালুকদার ভুলুর ছেলে। মামলার তদন্তে তাঁর নাম আসায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে ধুনট সদরের কলাপট্টি এলাকায় গণসংযোগে যান। এ সময় তাঁর গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হামলায় অগ্নিসংযোগেরও অভিযোগ রয়েছে। এতে বিএনপির অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।এ ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ধুনট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিস্তারিত

আবর্জনার জায়গায় ফুটবে ফুল, ধুনটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

হাসপাতালের সামনে দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা, গোবর ও আগাছায় ভরা স্থানটি এবার রূপ নিতে যাচ্ছে ফুলের বাগানে। নোংরা পরিবেশের পরিবর্তে সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন ধুনট টিম।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের প্রাচীরসংলগ্ন রাস্তার পাশের স্থানটিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন সংগঠনটির ১৫ থেকে ১৮ জন স্বেচ্ছাসেবী। হাসপাতালের মূল ফটক থেকে পশ্চিম পাশের দেয়ালের শেষ পর্যন্ত জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, গোবর ও আগাছা অপসারণ করেন তাঁরা।পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে জায়গাটিতে ফুলের বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ যাতে সেখানে ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য পরিষ্কার করা স্থানটি নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।বিডি ক্লিন ধুনট টিমের উপজেলা সমন্বয়ক তাফসির রহমান ও উপ-সমন্বয়ক রাসেল মাহমুদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন এবং ধুনট পৌরসভার প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম টুকু।কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরে সংগঠনটির সদস্য তাশরীফ বলেন, প্রতিদিন শত শত রোগী ও তাঁদের স্বজন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটিতে ময়লা জমে ছিল। আমরা জায়গাটি পরিষ্কার করে সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে ফুলের বাগান হলে হাসপাতালে আসা মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন।এ উদ্যোগের প্রশংসা করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর থাকলে রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা মানসিকভাবেও স্বস্তি পান। বিডি ক্লিনের তরুণেরা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এখানে ফুলের বাগান হলে পুরো এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে। এমন উদ্যোগে আমরা সব সময় পাশে আছি।

বিস্তারিত

স্বাভাবিক হচ্ছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের কয়েক দিনের টানা আন্দোলনের পর অবশেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে এবং কর্মস্থলে যোগ দিতে শুরু করেছেন শ্রমিকরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন পোশাকশ্রমিকরা। বর্তমানে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কারখানার সামনে আসার আগেই আন্দোলন দেখে আমরা চলে যেতাম।এর আগে টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভ ও অবরোধের কারণে মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এ সময় বেশ কিছু স্থানে যানবাহন ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতি শান্ত থাকায় কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের উপস্থিতিও বেড়েছে। কিছু কারখানা এখনো বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও মহাসড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়েছে বিজিবির ২৫ প্লাটুন সদস্য। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও শিল্পাঞ্চলের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক টহল অব্যাহত রয়েছে।গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। কাজে যোগ দিতে পেরে শ্রমিকরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন; অনেকে জানিয়েছেন যে আগের দিনগুলোতে আন্দোলনের কারণে কারখানায় প্রবেশ করতে পারেননি, তবে এখন কোনো বাধা না থাকায় তারা কাজ শুরু করেছেন।

বিস্তারিত

একাত্তরের ৪ নভেম্বর: গণহত্যা দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি কেউ, অযত্নে ধুনটের গণকবর

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার ধুনটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ২৮ নিরীহ বাঙালি। তাঁদের স্মৃতি ধরে রেখেছে পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামের দুটি গণকবর। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের ভাগ্যে জোটেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। পরিচয়হীন ২১ শহীদের পরিচয় উদ্ধারে নেই উদ্যোগ, সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে গণকবর দুটি পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। এমনকি হত্যাযজ্ঞের দিনটিতেও শহীদদের স্মরণে নেওয়া হয়নি কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ধুনট থানা ভবন থেকে প্রায় ২০০ গজ পূর্বে পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামে পাশাপাশি অবস্থিত গণকবর দুটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কিংবা গণকবরের খোঁজখবর নিতে সেখানে কাউকে দেখা যায়নি।এক রাতেই নিভে যায় ২৮ প্রাণ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় রাজাকারদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে নিরীহ বাঙালিদের আটক করে ধুনট শহরে নিয়ে আসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। পরে তাঁদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। একপর্যায়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় ২৮ জনকে।হত্যাযজ্ঞ শেষে শহীদদের মরদেহ ধুনট থানা ভবনের প্রায় ২০০ গজ পূর্বে পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামে পাশাপাশি দুটি গণকবরে দাফন করা হয়।গণকবরের স্মৃতিফলকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, শহীদদের মধ্যে পরিচয় জানা গেছে সাতজনের। তাঁরা হলেন কান্তনগর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান, ভরনশাহী গ্রামের জহির উদ্দীন, মাঝবাড়ী গ্রামের ফরহাদ হোসেন, জিল্লুর রহমান ও পর্বত আলী, শিয়ালী গ্রামের নুরুল ইসলাম এবং চান্দারপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ। বাকি ২১ জনের নাম-পরিচয় আজও অজানা।পরিচয় শনাক্ত ও সংরক্ষণে নেই উদ্যোগ।স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পার হলেও পরিচয়হীন ২১ শহীদের পরিচয় শনাক্তে সরকারি কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একইভাবে গণকবর দুটি সংরক্ষণ, সংস্কার কিংবা সেখানে যথাযথ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেরও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।শহীদ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে তাঁরা শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কিংবা সরকারি সহায়তা পাননি। দেশের স্বাধীনতার জন্য স্বজনদের আত্মত্যাগের পরও তাঁদের পরিবারগুলো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। তাঁরা গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা, শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং স্বজনহারা পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।গণহত্যা দিবসেও প্রশাসনের কর্মসূচি নেই।বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ধুনট উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ফেরদৌস আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাক সেনাদের গুলিতে নিহতদের পরিবারগুলোকে সহায়তা এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাবি জানানো হলেও কোনো সুফল মেলেনি। অথচ আজকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ গণহত্যা দিবসেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। এমনকি কেউ গণকবরটি দেখতেও আসেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’তিনি আরও বলেন, অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহাসিক গণকবর দুটি দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।প্রশাসন বলছে, জানালে পাশে থাকবে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ আমার সঙ্গে দেখা করেছেন, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁরা আমাকে কিছু জানাননি। বিগত বছরগুলোতে এ দিবস উপলক্ষে কোনো আয়োজন হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও আমি অবগত নই। তাঁরা আয়োজন করতে চাইলে আমরা অবশ্যই সঙ্গে থাকব।’স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ধুনটের ২৮ শহীদের স্মৃতিবিজড়িত গণকবরের এমন অবহেলা স্থানীয় ইতিহাস সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরছে। শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গণকবর সংরক্ষণ, পরিচয়হীন শহীদদের পরিচয় অনুসন্ধান এবং তাঁদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি এখন সময়ের।

বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ এএম
সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ এএম
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ এএম
ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

২৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

বিশ্বসেরা ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেলেন চবির ৭ শিক্ষক

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
বিশ্বসেরা ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেলেন চবির ৭ শিক্ষক

পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমাল কেন্দ্রীয় সরকার

৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমাল কেন্দ্রীয় সরকার

দিল্লিতে পলাতকদের আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
দিল্লিতে পলাতকদের আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধুনটে নির্বাচনী হামলার মামলায় ধুনটে আ.লীগ নেতা কারাগারে

৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
ধুনটে নির্বাচনী হামলার মামলায় ধুনটে আ.লীগ নেতা কারাগারে

শূন্য থেকে সমৃদ্ধির শিখরে সিঙ্গাপুরের রূপান্তর ও লি কুয়ান ইউর রাষ্ট্রদর্শন

৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
শূন্য থেকে সমৃদ্ধির শিখরে সিঙ্গাপুরের রূপান্তর ও লি কুয়ান ইউর রাষ্ট্রদর্শন

আবর্জনার জায়গায় ফুটবে ফুল, ধুনটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
আবর্জনার জায়গায় ফুটবে ফুল, ধুনটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কারাগারের নিরাপত্তা বাড়াতে ৭ দফা নির্দেশনা: কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে অধিদপ্তর

৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
কারাগারের নিরাপত্তা বাড়াতে ৭ দফা নির্দেশনা: কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে অধিদপ্তর

অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা শিক্ষার্থীদের, আল্টিমেটাম ৭২ ঘণ্টার

৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা শিক্ষার্থীদের, আল্টিমেটাম ৭২ ঘণ্টার

সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী তিনটি জাহাজ: ভ্রমণে ফিরছে প্রাণের স্পন্দন

৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী তিনটি জাহাজ: ভ্রমণে ফিরছে প্রাণের স্পন্দন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ

৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ
PublicVoice representative application
হিরোগিরি

হিরোগিরি

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ এএম

সিনেমা হলের ভেতর চলছে তুমুল অ্যাকশন দৃশ্য। এক যুবক মনোযোগ দিয়ে সিনেমা দেখছে, কিন্তু তার পাশের সিটে বসা এক বৃদ্ধের কারণে সে বেশ অস্বস্তিতে আছে। বৃদ্ধের হাতে একটি ছোট পেপসির বোতল, আর তিনি ঠিক পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর বোতলে একটা জোরালো চুমুক দিচ্ছেন। শব্দটা যুবকের সিনেমার উপভোগে বারবার বাধা সৃষ্টি করছিল। অনেকক্ষণ সহ্য করার পর যুবকের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে বিরক্ত হয়ে বৃদ্ধের হাত থেকে বোতলটা ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে বলল, "চাচা, সিনেমার চেয়ে আপনার পেপসি খাওয়া নিয়ে আমি বেশি ডিস্টার্ব হচ্ছি। এটুকু পানীয় খেতে এত নাটক করতে হয়? এই দেখুন, কীভাবে একবারে শেষ করতে হয়!"এই বলে যুবক বোতলটি মুখে দিয়ে এক ঢোকে সবটুকু পানীয় গিলে ফেলল। তারপর বোতলটা বৃদ্ধের হাতে ফেরত দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসল।বৃদ্ধ বোতলটা হাতে নিয়ে অবাক চোখে যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন, "বাবা, আমার পেপসিটা তো তুমি খেলে না, কারণ ওটা তো পেপসিই ছিল না। আসলে আমার পানের অভ্যেস তো, তাই পানের পিকগুলো ওই বোতলে ফেলছিলাম!"