ইরানে আজই সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পরিচালনা করতে পারে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন। পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা এ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এবং অভিযানটি আজই কার্যকর হওয়া সম্ভব। তবে তিনি সরাসরি নিশ্চিত না করে কৌশলী উত্তর দিয়েছেন, কারণ সামরিক পদক্ষেপের কথা আগেই ফাঁস করতে তিনি আগ্রহী নন। ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগোচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি হামলা করব কিনা, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’।মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্পের দাবি, অতীতে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারেনি। তাই পরিস্থিতিটি এমন পর্যায়ে নিতে চান, যেখানে ফলাফলটি সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যেন পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই তিনি নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে।অভিযানের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, তেহরান যদি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, তাকে হয়তো বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে, অথবা ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে। তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তবে যে পথই বেছে নেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এর আগে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সংকটের কোনো স্থায়ী সুরাহা এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি।

গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরিতে সহায়তা করেছে: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে গণমাধ্যমই মূলত ফ্যাসিস্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছে এবং এখন থেকে গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। শনিবার নিজ জেলা মৌলভীবাজারে সাংগঠনিক সফরে এসে সার্কিট হাউজের মুন হলে আয়োজিত এক বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জেলা শহরে এটিই ছিল তার প্রথম সফর, যা কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। জামায়াতের আমিরের সফর ঘিরে স্থানীয় নেতা কর্মীর মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের আলোকে প্রতি দুই বছর পর পর জেলা আমীর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।এর আগে সকাল আটটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম, জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।এরপর রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অংশ হিসেবে সকাল নয়টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছালে সেখানে তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে পুলিশের একটি চৌকস দল।সার্কিট হাউসে জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমানসহ স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া, ছাত্রশিবিরের মৌলভী বাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ প্রমুখ।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও স্থানীয় রুকনদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নেন। জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য মৌলভীবাজার জেলা আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দুপুর দুইটা থেকে রুকন সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সম্মেলনে প্রায় ছয়শ রুকন ভোটার অংশ নেবেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন জামায়াত আমির। নির্বাচন পরিচালনা করবেন সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শেষে মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৬০৩টি ওয়ার্ডের প্রতিনিধির পাশাপাশি, সকল রুকন ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীগণ দায়িত্বশীল ওয়ার্ড সম্মেলনে ডেলিগেট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে ৬০০ রুকন অংশগ্রহণ করবেন।এছাড়াও জোহরের নামাজের পর জেলা সার্কিট হাউজে ১১ দলীয় জোটের মৌলভীবাজার জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দুপুরের খাবারে অংশ নেবেন ডা. শফিকুর রহমান। রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ করে বিকেল চারটায় তিনি সিলেট বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই সফরের মাধ্যমে সাংগঠনিক জনশক্তির মধ্যে উদ্দীপনা বাড়বে এবং তৃণমূল সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। জোহরের নামাজ কোর্ট মসজিদে আদায় করবেন।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইসরাইল, সতর্কবার্তা নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে ইসরাইলকে এখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির মতো বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরির জন্য উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এই বক্তব্য ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা বললে নেতানিয়াহু তাতে সম্মতি জানান। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা দাবি করছেন, সরকারের নীতির কারণেই ইসরাইল নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন চালু রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও করতে হবে। সেগুলো এড়িয়ে চলতে সক্ষম এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে।নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাব নিয়ে দেশটির জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। চ্যানেল টুয়েলভের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই ধারণার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ব্লকচেইন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, বরং এই ধরনের আলোচনার প্রচেষ্টা ইসরাইলি অর্থনীতির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। এছাড়া অনেক ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে লেনদেনের গতিবিধি শনাক্তযোগ্য হওয়ায় তা পুরোপুরি ঝুঁকিহীন নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বৃটেনসহ ১২টি পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এখন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সরকার অনুমোদিত ব্যাপক বসতি নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু বসতি এলাকা নয়, বরং ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দলের নেতারা একে সরকারের ব্যর্থ কূটনৈতিক নীতির ফল হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৃটেনের নেতৃত্বে নেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টি নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সহায়তা অনির্দিষ্টকাল ধরে পাওয়া যাবে না। আমেরিকান রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই বিশাল অংকের সহায়তা পাওয়া যে কঠিন হবে, তা মেনে নেয়ার জন্য তিনি ইসরাইলিদের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার সমালোচকদের দাবি, নেতানিয়াহুর নিজস্ব বিতর্কিত নীতিই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেছে এবং জনসমর্থন কমিয়ে দিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকারের পর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বেয়াখাদ’ দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নেতানিয়াহু নিজের মুখেই স্বীকার করছেন যে, তার ক্ষমতায় থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অর্থনীতির বিপর্যয় ডেকে আনা। ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ নেতা ইয়াইর গোলানও সুর মিলিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য তার বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকারই প্রমাণ, যা ইসরাইলের জন্য অশনিসংকেত।

চবিতে বহিরাগত যান নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করল চাকসু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সনাক্তে সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধন কার্যক্রমের আওতায় আনার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: কামরুল হোসাইন এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় ক্যাম্পাসে চলাচলকারী প্রায় ২০০ সিএনজি ও ৩০০ রিকশাকে নিবন্ধন কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে।চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: কামরুল হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে যানবাহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত করতে আমরা সকল সিএনজি ও রিকশা নিবন্ধনের এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। এর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের সকল সিএনজি, রিকশা খুব সহজে সনাক্ত করা যাবে। চাকসু শুরু থেকেই এই কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। আমরা চাকসু সহ সচেতন সকল ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছি। গত কয়েকদিন দফায় দফায় রিকশা ও সিএনজি সমিতির সাথে আলোচনার পর আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনকৃত সকল গাড়িকে নির্দিষ্ট নাম্বার সম্বলিত স্টিকার ও ভেস্ট প্রদান করা হবে। নির্দিষ্ট ড্রেসকোড ও স্টিকার ব্যতিত কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে চলাচল করতে পারবে না।

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি ক্যাম্পাসে স্কুলবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র, ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্ঠা

গতকাল (১৩ অক্টোবর) দুপুর ৩টা থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি ক্যাম্পাসের ভেতরে স্কুলবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার শায়ন।একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শায়ন একটি স্কুলবাসের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল। বাসটি হঠাৎ রিভার্স করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।কিছুক্ষণ আগে শায়নের বাবাকে ফোন করলে তিনি জানান, সন্তানের লাশ দাফনের জন্য পাবনা নিয়ে যাচ্ছেন। শোক সামলে তিনি বলেন, বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে স্কুল থেকে ফোন করে তাঁকে যেতে বলা হয়। প্রায় ৪টা ৩০ মিনিটে পৌঁছালে তাঁকে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তখনও পর্যন্ত শিশুটির লাশ ওই বাসের নিচেই পড়ে ছিল।হাতে আসা বিভিন্ন ছবি যাচাই করে দেখা গেছে, কাগজের কার্টন জাতীয় কিছু দিয়ে লাশ ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো—স্কুলের ভেতর একটা শিশু দূর্ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার পর কেন কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে শিশুটিকে হাসপাতালে নেয়নি? কেন তাঁর লাশ বাসের নিচে পড়ে থাকলো?শায়নের বাবা আরও জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ছেলের লাশ তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ময়নাতদন্তের প্রসঙ্গ তুললে তিনি রাজি হননি। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক এই পিতা কোনো মামলাও করেননি; ময়নাতদন্ত করবেন না—এই মুচলেকা দিয়ে সন্তানের লাশ নিয়ে যান।যে অভিভাবক সকালে জলজ্যান্ত সন্তানকে স্কুলে পাঠালেন, সেই স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরেই বাসের চাকায় তার মৃত্যু—তারপর হাসপাতালের বদলে মৃতদেহ পড়ে থাকল বাসের নিচে, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে সেই লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হলো। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের নয়।কয়েকটি দৈনিকের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: “স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে যায় শায়ন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।” এটা কি খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা? ঘটনাস্থল স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরে, যেখানে চলন্ত বাসে কোনো শিশুর ওঠার সুযোগই নেই। আর যদি পড়েও যায়, তাহলে বাসের গতি কত ছিল?এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। সামরিক বাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বলে তদন্ত ও মামলা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি পরামর্শ—বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখুন। বাসচালক কিংবা অন্য কারও অবহেলা থাকলে তাদের শনাক্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন।তথ্য- জুলকারনাইন সায়ে

 ইরান যুদ্ধ

ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছেন ট্রাম্প: বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওবামার মতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো এমন একটি যুদ্ধ শুরু করা, যার কোনো প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের দাবি দেশের ভেতর থেকে কেউ কখনো জানায়নি।ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সংঘাতের আঁচ ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে লেগেছে। যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়া তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই নৌপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলোও নির্বাচনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।ওবামার এসব মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘চরম অযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ওবামা ইরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন, যা দেশটির জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ সহজ করে দিয়েছিল। ট্রাম্প তার শাসনামল থেকেই এই চুক্তিটির কঠোর বিরোধিতা করে আসছেন।উল্লেখ্য যে, ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরান ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বর্তমানে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওবামা ও ট্রাম্পের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান ইস্যু এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাবকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

ইরানে অবস্থানরত রাশিয়ার কূটনীতিক এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের কর্মী বা বিশেষজ্ঞদের ইরান ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।এর আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেশ কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সংবাদ অ্যাগ্রিগেটর দাবি করেছে ইরান থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই দাবিগুলোতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব জল্পনাকে পুরোপুরি বানোয়াট হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এমন গুঞ্জন ছড়ায়। স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি গত জুলাই মাসে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রেও এই কেন্দ্রের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিহ্ন দৃশ্যমান হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করল।

ইরানে আজই সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পরিচালনা করতে পারে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন। পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা এ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এবং অভিযানটি আজই কার্যকর হওয়া সম্ভব। তবে তিনি সরাসরি নিশ্চিত না করে কৌশলী উত্তর দিয়েছেন, কারণ সামরিক পদক্ষেপের কথা আগেই ফাঁস করতে তিনি আগ্রহী নন। ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগোচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি হামলা করব কিনা, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’।মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্পের দাবি, অতীতে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারেনি। তাই পরিস্থিতিটি এমন পর্যায়ে নিতে চান, যেখানে ফলাফলটি সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যেন পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই তিনি নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে।অভিযানের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, তেহরান যদি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, তাকে হয়তো বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে, অথবা ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে। তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তবে যে পথই বেছে নেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এর আগে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সংকটের কোনো স্থায়ী সুরাহা এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার পরিকল্পনা ইরানের

ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ফের যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোতে হামলার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে তেহরান। কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল পুনরায় ইরানে আক্রমণ চালায়, তবে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সংযোগগুলোই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। এমন হামলার উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটানো এবং মেরামতের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা।ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের ওপর আক্রমণ হলে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা বা 'রেড লাইন' থাকবে না। ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে এক কর্মকর্তা বলেন, আগুন নিয়ে খেলা করা উচিত নয়। ইরানের কাছে সমুদ্রতলের ক্যাবলগুলোর নাগাল পাওয়ার এবং সেগুলো সহজে ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক ঘাঁটিসহ স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোও তাদের হামলার আওতায় থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রতলের ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রবাহিত ব্যান্ডউইথের পরিমাণ এক শতাংশের চেয়েও কম। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বৈশ্বিক প্রভাব সীমিত থাকলেও একাধিক ক্যাবল কাটা পড়লে ইন্টারনেটের গতি ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে, যা আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ক্লাউড সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত রাখতে এবং উপসাগরীয় দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ নিয়ে সংশয় তৈরি করতেই ইরান এ ধরনের কৌশলগত হুমকির আশ্রয় নিচ্ছে।এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি হাব গড়ে তুলতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। এ ধরনের অবকাঠামো রক্ষার জন্য বর্তমানে স্থলভিত্তিক বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির কাজও চলমান। মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রতল ও স্থলভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামোয় ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, যা এই অঞ্চলের ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

রাজনীতি

খাগড়াছড়িতে রামগড় ইউনিয়ন নির্বাচনের হাওয়া: প্রার্থিতা নিয়ে ধোঁয়াশা কাঁটছেনা

আর মাত্র কয়েক মাস পরেই খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ১নং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে। তফসিল ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রামগড়ের চা-দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার সর্বত্রই এখন একটাই আলোচনা— কে হচ্ছেন আগামী চেয়ারম্যান?তবে নির্বাচনী আমেজ শুরু হলেও প্রার্থিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও সংশয়। বিশেষ করে বিএনপি'র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রামগড়ে একাধিক প্রার্থীর নাম ভেসে বেড়ানোয় সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন।আলোচনায় চার প্রার্থীস্থানীয় ও দলীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামগড় ১নং ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি থেকে অন্তত চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।১. নুর হোসেন নুরু: রামগড় উপজেলার পরিচিত মুখ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা রাজনীতিতে সক্রিয় এবং তৃণমূলের সাথে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে।২. নুরুল আমিন:রামগড় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা নেতা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।৩. আলাউদ্দিন: জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সদস্য। জেলা পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন বলে শোনা যাচ্ছে।৪. ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি: ১নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির নুরু হুদা আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তার নিজস্ব প্রিয়তা ও রয়েছে বলে জানা যায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা জানান, প্রার্থী বেশি হওয়ায় এখনো দলের হাইকমান্ড থেকে কাউকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। ফলে প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশয়, আস্থা ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ওপরএদিকে একাধিক প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপে সাধারণ জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিভক্তির কারণে শেষ মুহূর্তে দলের ভোটব্যাংকে কোনো প্রভাব পড়বে কি না।তবে এ সংশয়ের মধ্যেও রামগড়ের সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা একটাই— জেলা বিএনপির সভাপতি, তিন পার্বত্য জেলার অভিভাবক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়া।স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমন একজন প্রার্থীকে বেছে নেবেন যিনি সৎ, যোগ্য, জনবান্ধব এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করেছেন।রামগড় বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, "আমরা মার্কা দেখে ভোট দিই না, আমরা ব্যক্তি দেখে ভোট দিই। ওয়াদুদ ভাই যাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেবেন, আমরা তার পক্ষেই রায় দেব।"অপর একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, "রামগড়ে উন্নয়ন করতে হলে এমন একজন চেয়ারম্যান দরকার যিনি ওয়াদুদ ভাইয়ের হাতকে শক্তিশালী করবেন। আমরা আশাবাদী, তিনি জনগণের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।"বিরুদ্ধি জামাত,এনসিপি, দলের প্রার্থিতার বিষয়ে জানা যায়নি।সব মিলিয়ে রামগড় ১নং ইউনিয়ন নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের কাণ্ডারি হয়ে কে আসছেন এবং জনগণের এই আস্থার প্রতিদান তিনি কিভাবে দেন।

দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো চুক্তি নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফর অত্যন্ত কার্যকর এবং ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েই এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও তা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবেশ, কৃষি, টেকসই অর্থনীতি, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরে ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। এই বিনিয়োগ ও অন্যান্য সহযোগিতার ক্ষেত্র পর্যালোচনায় জাপান খুব শিগগিরই বাংলাদেশে একটি অর্থনৈতিক মিশন পাঠাবে।জাপানের সঙ্গে 'বিগ-বি' উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার সময় তৃতীয় কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যদি অন্য কোনো রাষ্ট্রকে নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের উপস্থিতিতেই বাংলাদেশ সেই বিষয়ে কথা বলবে। সবশেষে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দেশের মাটি ও মানুষের স্বার্থকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করে বিএনপি সরকার অন্য কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করবে না।

কলকাতায় গ্যাস ১ হাজার টাকা হলে বাংলাদেশে ২৫০০ কেন: আখতার হোসেন

কলকাতায় ১ হাজার টাকায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হলে বাংলাদেশে প্রতি সিলিন্ডারে কেন আড়াই হাজার টাকা খরচ করতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি সরকারের জ্বালানি নীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। কলকাতায় ১ হাজার টাকায় গ্যাস পাওয়া গেলে বাংলাদেশের জনগণকে কেন ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হবে—এমন প্রশ্ন তুলে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজার কিংবা চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব কি কেবল বাংলাদেশেই পড়ছে? কলকাতা যদি ১ হাজার টাকায় গ্যাস দিতে পারে, তবে বাংলাদেশের মানুষের কাঁধে কেন অস্বাভাবিক মূল্য চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তার স্পষ্ট জবাব সরকারকে দিতে হবে। তিনি বর্তমান সরকারকে দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকট সমাধানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।নির্বাচনের ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে এনসিপি নেতা বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নানা আশ্বাসের কথা বললেও বাস্তবে কিছুই বদলায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অভাব এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এসব সংকট সমাধানের পরিবর্তে নিজেদের ফ্যাসিবাদী সংবিধান টিকিয়ে রাখার মিশনে ব্যস্ত রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৯ মাস পার হয়ে গেলেও দেশে কোনো কিছুরই উন্নতি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক হয়নি, গণতন্ত্র ফেরেনি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়নি।’।সমাবেশ থেকে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। আখতার হোসেন আরও বলেন, গত নয় মাসে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ক্ষমতাসীন দলের ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তিনি অবিলম্বে একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকঙ্ক্ষা অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জোর দাবি জানান। গত নয় মাসে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলটির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক

সৌদির তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে ড্রোন হামলা: মদিনায় ধ্বংসাত্মক তৎপরতা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার আবহে সৌদি আরবের আকাশসীমায় ধারাবাহিকভাবে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে। দেশটির তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলের আকাশে একটি ড্রোন শনাক্ত করে তা ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একইসাথে জোটটি জানায়, সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা আরও একটি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই সংঘাত নতুন মাত্রা যোগ করেছে।সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি, যেখানে অধিকাংশ তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ও এই অঞ্চলে অবস্থিত। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে অঞ্চলটিতে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি চলতি অক্টোবরের শুরুতে আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে চালানো এক ভয়াবহ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়। তবে হুথিরা শুক্রবারের ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।অন্যদিকে, শুক্রবার সৌদি জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন পবিত্র নগরী মদিনার আকাশে শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।তবে হুথি বিদ্রোহীরা এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে। ইসলামের অন্যতম পবিত্র এই নগরীতে প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ সমবেত হন। এই ধারাবাহিক ড্রোন হামলার ফলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌদি জোট মূলত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে, আর ইয়েমেনের বড় একটি অংশ বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

রাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে।তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান।সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি।সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং।ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে।বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সুত্র: কালের কণ্ঠরাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে। তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি। সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’ তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং। ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’ তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’ খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুত্র: কালের কণ্ঠ

আরচারিতে তিন স্বর্ণপদক জয়: এশিয়ায় সেরার আসনে বাংলাদেশ

আরচারিতে তিন স্বর্ণপদক জয়: এশিয়ায় সেরার আসনে বাংলাদেশ

ইরাকের সুলায়মানিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিং আরচারি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্যায়ে দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ১৭টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে মোট ১২ জন আরচার নিয়ে অংশ নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্য প্রদর্শন করে বাংলাদেশ তিনটি স্বর্ণ, তিনটি রৌপ্য ও চারটি ব্রোঞ্জ পদক জিতে তালিকার শীর্ষে থেকে আসর শেষ করেছে। কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ দল এই সাফল্য অর্জন করে।টুর্নামেন্টের রিকার্ভ পুরুষ দলগত ইভেন্টে আব্দুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফি, মো. সাগর ইসলাম ও আব্দুর রহমান আলিফের সমন্বয়ে গঠিত দল স্বর্ণ জিতেছে। ফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত কাজাখস্তানকে ৬-২ সেটে হারিয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন তারা। প্রথম সেটে ৫০-৫৩ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ সেটে যথাক্রমে ৫৫-৫৪, ৫৫-৫২ এবং ৫২-৫১ পয়েন্ট পেয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ২১২ ও কাজাখস্তান ২১০ পয়েন্ট অর্জন করে। এর আগে প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে ওঠা বাংলাদেশ শেষ চারে উজবেকিস্তানকে ৬-০ সেটে হারিয়েছিল। অন্যদিকে, কম্পাউন্ড নারী এককের ফাইনালে বাংলাদেশের বন্যা আক্তার ১৪৫-১৪৩ পয়েন্টে কাজাখস্তানের মিলানা বুরলেভাকে হারিয়ে তৃতীয় স্বর্ণটি নিশ্চিত করেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষ এন্ডে পূর্ণ ১০ পয়েন্টের শট নিয়ে ব্যবধান গড়ে দেন তিনি। দু’জনেই ২৮ পয়েন্ট তুলে টাই করেন। তৃতীয় ও চতুর্থ এন্ডে দু’জনেই ২৯ পয়েন্ট তুলে টাই করেন। পঞ্চম এন্ডে তিন শটেই পূর্ণ ১০ পয়েন্ট করে তোলেন বন্যা।তবে রিকার্ভ নারী এককের ফাইনালে ১৫ বছর বয়সী সায়মা সালাউদ্দিন ৬-৪ সেটে মবিনা ফালাহর কাছে হেরে রৌপ্য পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। দলীয় ইভেন্টগুলোতে মিশ্র ফলাফল ছিল বাংলাদেশের। রিকার্ভ নারী দলগত ইভেন্টে উজবেকিস্তানকে ৬-০ সেটে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জয় করে বাংলাদেশ। তবে রিকার্ভ মিক্স দলগত ইভেন্টে ৫-৩ সেটে পরাজিত হয়ে ব্রোঞ্জ পদক হাতছাড়া হয়। একক ইভেন্টের লড়াইয়ে আজারবাইজানের মামাদালি আলিয়েভকে ৭-৩ সেটে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন আব্দুর রহমান আলিফ। প্রতিযোগিতায় কাজাখস্তান রৌপ্য জয় করলেও ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে স্বাগতিক ইরাক।

অনলাইন জরিপ
৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ অংশ নিয়েছেন।শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।সভায় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনসহ সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ অপরাধ দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি- সবকিছু সামলাতে হচ্ছে একই বাহিনীকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর ও আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির চাপ। জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা নিয়েও চাপে আছে মাঠপুলিশ। এর বাইরে রয়েছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে মাঠপুলিশের ওপর দায়বদ্ধতার চাপ আরও বেড়েছে। কোনো এলাকায় মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি এবং তদারকি কর্মকর্তাকে দায় নিতে হবে- এমন বার্তাও পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এখনও তোলপাড় চলছে পুলিশে। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ সভায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয় ডিসি ওসিদের। কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকামিছিল বের হলে ওই এলাকার ডিসি-ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাবধান করা হয়। পরবর্তীকালে গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ব্যর্থতা দায় হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছে ঢাকার ৫০ থানার ওসি ও জোনাল ডিসি-এডিসি, এসিরা। ডিএমপির একাধিক থানার ওসি এই চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।শুধু ঢাকা মহানগরই নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে সারাদেশেই মাঠ পুলিশ চাপের মুখে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে সব রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা আমাদের সময়কে বলেন, যেকোনো ধরনের চাপ নিয়ে কাজ করতে পুলিশ অভ্যস্ত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব চাপ সামলে পুলিশ কতটা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে, সেদিকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের প্রতিটি ধাপে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। বড় কোনো ঘটনা ঘটার পরই প্রায়ই গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এনেছে।আশরাফুল হুদা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশের ভেতরে দীর্ঘ ১৭ বছরে তৈরি হওয়া ‘জঞ্জাল’ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরীহ কর্মকর্তা বা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ বাহিনীর সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পড়তে পারে।জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির যে সংযোগ রয়েছে, তা মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাদের মনোবলও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে- এমনটা বলার সুযোগ নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পুলিশকেই পালন করতে হবে। তবে অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ সরাসরি পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিলে তাদের মনোবল আরও দুর্বল এবং বাহিনীর মধ্যে নতুন করে মেরুকরণ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে মাঠ পুলিশ। নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেনি। কমানো যায়নি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলির ঘটনা বেড়েছে। খুনোখুনি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি ও একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্রের। অর্থাৎ লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্র উদ্ধারে চাপে রয়েছে মাঠপুলিশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এসব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে খোদ পুলিশে। কারণ লুণ্ঠিত অস্ত্র স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে বিশেষ অভিযানও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তিন ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মাঠপুলিশের জন্য আলাদা চাপ তৈরি করছে। কারণ শুধু আসামি গ্রেপ্তার করাই নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিরাপদে থানায় নেওয়া, অভিযান পরিচালনা এবং অভিযানের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পুলিশকেই পালন করতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৩১৭টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এর আগের ৬ মাসে এ ধরনের ২৭৫টি ঘটনা ঘটে।পুলিশের ওপর চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। বদলি, পদোন্নতি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে পুুলিশের একটি বড় অংশের মধ্যেই হতাশা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত দুই বছরে ইতোমধ্যে ১৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আরও পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেক কর্মকর্তা এখনও অবসর আতঙ্কে রয়েছেন। এতে মানসিক চাপে তারা স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও চাপে রয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এই মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও তাগিদ রয়েছে তাদের ওপর। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেও মাঠ পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণে ঈশ্বরগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণে ঈশ্বরগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা

শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে—ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের পাশে উন্নয়ন সহায়তাসমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও সহজ করতে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় সাইকেল ও শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।কর্মসূচির আওতায় একজনকে সাইকেল এবং চারজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়। এই সহায়তা শুধু একটি সাইকেল কিংবা আর্থিক অনুদান নয়—এটি শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়, স্বপ্ন পূরণের সাহস এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।দূরত্ব, আর্থিক সংকট কিংবা নানা সীমাবদ্ধতা যেন শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি সাইকেল যেমন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতকে সহজ করবে, তেমনি শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি তাদের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।সহায়তার হাত যখন শিক্ষার পথে, তখন সম্ভাবনার পথও হয় আরও প্রশস্ত।আজকের এই ছোট্ট সহায়তাই হয়তো আগামী দিনের একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের বড় শক্তি হয়ে উঠবে।লক্ষ্য একটাই—শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া, বৈষম্য পেছনে ফেলা এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে  ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

 ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল। প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো  বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর।  আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন। চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে  ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়। সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী  ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের 'নজরানা' বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। M

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, স্বাগত বক্তব্য, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। আলোচনায় সত্যবাদিতা ও আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, শিক্ষকের মর্যাদা, প্রতিবেশীর অধিকার, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী জীবনাচরণ উপস্থাপনা ও সিরাতভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা উচিত। শুধু মিলাদুন্নবী পালন নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অনুসরণের বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। সবশেষে এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত মৌলভী শিক্ষক উমর ফারুক দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক সভানুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে কথা না বলে কোরআন, হাদিস ও নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, "আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব, যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং তারা বুঝতে পারে কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা বা আলোচনা করা যাবে না।"মাহফিলে সব রাজনৈতিক মতের মানুষ উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নাম ধরে সমালোচনা করলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে ইতিহাস, নীতি ও নৈতিকতার আলোকে পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সৎলোকের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।এছাড়া দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব বজায় থাকা প্রয়োজন।সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।নবঘোষিত কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।

সব বিভাগের খবর

মহানগর পরিক্রমা
নবীনগরে এইচএসসি পরীক্ষায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

নবীনগরে এইচএসসি পরীক্ষায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১,৯৯৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৭০ জন। ফলাফলের সামগ্রিক চিত্রে আশঙ্কার পাশাপাশি উদ্বেগ তৈরি করেছে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। জিনোদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন এবং বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও অকৃতকার্য হয়েছে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, উপজেলার ১১টি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ১,৭৮১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১০টি জিপিএ-৫ সহ উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৫৮ জন, যেখানে পাসের হার ৩৬.৯৪ শতাংশ। সাধারণ কলেজগুলোর মধ্যে বিটঘর দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য বিদ্যাপীঠ ভালো ফলাফল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১২১ জন অংশগ্রহণ করে তিনটি জিপিএ-৫ সহ ৬৭ জন পাস করেছে, যার পাসের হার ৫৫.৩৭ শতাংশ। এছাড়া নবীনগর সরকারি কলেজে ৪২.৮৬ শতাংশ এবং নবীনগর মহিলা ডিগ্রি কলেজে ৩০.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় উপজেলার ৫টি মাদ্রাসা থেকে ১৭৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ৪টি জিপিএ-৫ সহ পাস করেছেন ৭৬ জন, যার হার ৪২.৯৩ শতাংশ। মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে নারায়ণপুর ডিএস কামিল মাদ্রাসা। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ পাসের হার ৫৪.৭২ শতাংশ।কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) ধারায় দুটি কলেজ থেকে মোট ৪১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে তিনটি জিপিএ-৫ সহ ৩৬ জন পাস করেছে, যা এ বিভাগের মোট পাসের হার ৮৭.৮০ শতাংশ। এর মধ্যে আলিম উদ্দিন জোবেদা কলেজ থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দুটি জিপিএ-৫ সহ ১১ জনই পাস করেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাসের হার শতভাগ অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে আলিম উদ্দিন জোবেদা কলেজ থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২টি এ প্লাসসহ ১১ জনই পাস করেছেন, ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাসের হার শতভাগ (১০০%)।

যশোর বোর্ডে এইচএসসি ফলাফলে পাশের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে

যশোর বোর্ডে এইচএসসি ফলাফলে পাশের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা দুটিই লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। এ বছর এই বোর্ডে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা বিগত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ কম। পাশের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও একই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। চলতি বছর মোট ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ২ হাজার ৭৬৭ জন কম। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন।ফলাফল এবং শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের বক্তব্যপাশের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সূচক কমে গেলেও শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘ফল বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করতে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও নিখুঁত ও কঠোর হওয়ার কারণে প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। শিক্ষকরা খাতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করেছেন বলেই এমন বস্তুনিষ্ঠ ফল পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন জানান, শিক্ষা বোর্ড ফলাফলের পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান অর্জনকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়। যারা নিয়ম মেনে পড়াশোনায় মনোযোগ দেবে, তারাই যথোপযুক্ত ফল পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা কোয়ালিটি চাই, কোয়ান্টিটি নয়।পরীক্ষার পরিসংখ্যান ও বিষয়ভিত্তিক ফলাফলযশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুসারে, এ বছর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষার্থী ২৪০টি সেন্টারে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। অসাধুপায় অবলম্বনের কারণে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বহিষ্কৃত হয় ৪৩ জন পরীক্ষার্থী। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইংরেজিতে পাসের মান বেশ উদ্বেগজনক, মাত্র ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) পাশের হার ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ, উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, রসায়নে ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং হিসাববিজ্ঞানে ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে বহিষ্কার হয় ৪৩ জন।বোর্ড সচিব উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ইংরেজি বিষয়ে অর্জিত ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচে নেমে যাওয়ার প্রভাব সার্বিক পাশের হারে পড়েছে। পাশাপাশি আইসিটিতেও ব্যাপকসংখ্যক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে ব্যর্থ হয়েছে। ইংরেজি বিষয়ের এমন নিম্নমুখী সূচক উত্তরণে আন্তঃবোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাঠদানে শিক্ষকদের বাড়তি দৃষ্টি এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বোর্ড হাতে নিচ্ছে।জেলাভিত্তিক পাশের হারের চিত্রচলতি বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যশোর বোর্ডের আওতাধীন ১০টি জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে যশোর জেলা। এই জেলায় পাশের হার ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে খুলনা জেলা, যেখানে পাশের হার ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ৪৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, কুষ্টিয়ায় ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, সাতক্ষীরায় ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ঝিনাইদহে ৪১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মেহেরপুরে ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, বাগেরহাটে ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, মাগুরায় ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং সর্বশেষ স্থানে থাকা নড়াইল জেলায় পাসের হার ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।শতভাগ এবং শূন্য পাশ করা প্রতিষ্ঠানের তালিকাশিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত মাত্র ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করা এই তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (পরীক্ষার্থী ৪৩ জন), খুলনার খালিশপুর নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ৬১ জন) এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ২৩ জন)। উল্লেখ্য, বিগত বছরে শতভাগ পাশ করা কলেজের সংখ্যা ছিল ৫টি, যা এবার কমে ৩টিতে নেমে এসেছে। যেমন গতবারের সংখ্যা ছিল ২০, এবার ১৬।অন্যদিকে, কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি অর্থাৎ শূন্য পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার ১৬টি। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ২০টি। বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিপূর্বে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করায় শূন্য পাশের সংখ্যা কিছুটা হলেও কমেছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি, তাদের স্বীকৃতির বিষয়টি পুনর্নোটিফিকেশন বা নবায়নের ক্ষেত্রে কড়া শর্ত দেওয়া হবে।শূন্য পাশ করা ১৬টি প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তালিকাকুষ্টিয়া জেলার দুটি প্রতিষ্ঠান—মিরপুর উপজেলার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজ (পরীক্ষার্থী ৮ জন) ও কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ (পরীক্ষার্থী ১ জন)।মাগুরা জেলার দুটি প্রতিষ্ঠান—বুজরুক শ্রীকুন্ডি কলেজ (পরীক্ষার্থী ১৫ জন) ও মহম্মদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ২ জন)।সাতক্ষীরা জেলার দুটি প্রতিষ্ঠান—ইসলামিয়া মহিলা কলেজ (পরীক্ষার্থী ৩ জন) ও একে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ (পরীক্ষার্থী ৪৯ জন)।এ ছাড়া মেহেরপুরের মরকা জাগরণ কলেজ (১), ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ (১৯), যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সবুজপল্লী কলেজ (৭)।এবং নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট (৪৩)।খুলনা জেলার মোট ৬টি প্রতিষ্ঠান—ডুমুরিয়ার মডেল মহিলা কলেজ (৩ জন), খুলনা সদরের ইন্ডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ (১১ জন), কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির (৩ জন)।খুলনা জেলার বাকি ৩টি প্রতিষ্ঠান—কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৭ জন), রূপসা উপজেলার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল (১ জন) এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২ জন)।

বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে জয়ের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে জয়ের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনে বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। এর আগে প্রথমবার ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকলেও পরে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে মাঠের খেলা সাময়িক স্থগিত হয়। বর্তমানে মাঠ শুকানো ও পিচ প্রস্তুতের কাজ করছেন গ্রাউন্ডস্টাফরা, আকাশ এখন পরিষ্কার। প্রথমবার মাত্র ২০ মিনিটের মতো বন্ধ থাকার পর খেলা আবার শুরু হয়। ফলে বিপদ মাথায় নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা।জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ক্যারিবীয় দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্রেন্ডন কিং বাংলাদেশ বোলারদের চাপে ফেলে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করছেন। দিনশেষে তারা কোনো উইকেট না হারিয়েই সংগ্রহ করেছেন ৬৪ রান। ম্যাচ জিততে সফরকারীদের প্রয়োজন আর মাত্র ১০৬ রান। বর্তমানে কিং ২৯ এবং ক্যাম্পবেল ২৭ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। ঢাকা টেস্টে এখনও জয়ের জন্য ১০৬ রান দরকার ওয়েস্ট ইন্ডিজের।ম্যাচের আগের চিত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে গিয়েছিল ২৪৫ রানে। এরপর বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানে অলআউট হলে সফরকারীরা জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য পায়। এখন বৃষ্টির পরবর্তী পরিস্থিতিতে খেলা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় দুদল।

ইরানে হামলা চালালে মার্কিন পরিণতি ভয়ানক হবে: সিনেটর মারফি

ইরানে হামলা চালালে মার্কিন পরিণতি ভয়ানক হবে: সিনেটর মারফি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক সংঘাত শুরুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি।ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর ওই পরিকল্পনাকে অত্যন্ত ভয়ংকর বলে উল্লেখ করেছেন সিনেটর মারফি। তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তেহরানে পুনরায় হামলা চালানো হলে তার পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক এবং ভয়ানক হতে পারে।তার মতে, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আইনের শাসনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যে দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার রয়েছে, তাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সাইবার হামলার আশঙ্কায় জনতা ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ

সাইবার হামলার আশঙ্কায় জনতা ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ

সাইবার হামলার আশঙ্কায় জনতা ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নেয়া এই পদক্ষেপের ফলে গ্রাহকরা বর্তমানে ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করতে পারছেন না। এর ফলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রদত্ত ব্যাংকিং সেবাগুলো এখন বন্ধ রয়েছে এবং কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে একটি নোটিশ দেখতে পাওয়া যায়। এতে জানানো হয় যে, অ্যাপ্লিকেশনটি বর্তমানে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের অধীনে রয়েছে এবং শীঘ্রই তা সচল হবে। জনতা ব্যাংক পিএলসি এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে নির্ধারিত এই নোটিশের পরও একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যাংকটির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়েছিল বাংলাদেশের যোগাযোগ স্যাটেলাইট বিএস-১। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সতর্কবার্তায় জানানো হয়, একটি পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুত বিএস-১–এর দিকে এগিয়ে আসছে।ঝুঁকি এড়াতে পরবর্তী চার দিন গাজীপুরের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) প্রকৌশলীরা। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট বিএস-১–এর কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তন করে ধ্বংসাবশেষটি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে স্যাটেলাইটটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বুধবার সকালে ঢাকার বাংলামোটরে সংস্থাটির  বলেন, ওই কয়েক দিন তাঁদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের ছিল। সময় ছিল কম, আবার বিএস-১–কে সরানোর সুযোগও ছিল সীমিত। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষতি ছাড়াই স্যাটেলাইটটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।মহাকাশে কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন সংঘর্ষে স্যাটেলাইটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমনকি পুরো স্যাটেলাইট ধ্বংসও হতে পারে। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অকেজো কসমস-২২৫১ ও যুক্তরাষ্ট্রের সচল ইরিডিয়াম-৩৩ স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়েছিল।ছুটে আসছিল ইনস্যাট-১এ–এর ধ্বংসাবশেষপৃথিবীর কক্ষপথে এখন হাজার হাজার সচল ও অকেজো বস্তু ঘুরছে। পুরোনো স্যাটেলাইট, রকেটের অংশ কিংবা মহাকাশযানের বিচ্ছিন্ন টুকরোগুলোকে সাধারণভাবে স্পেস ডেব্রিস বা মহাকাশের বর্জ্য বলা হয়। সচল স্যাটেলাইটের জন্য এসব বর্জ্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন সংস্থা। কোনো বস্তু ও স্যাটেলাইটের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।৯ আগস্ট পাওয়া সতর্কবার্তা থেকে বিএসসিএল জানতে পারে, বিএস-১–এর কাছাকাছি চলে আসতে থাকা বস্তুটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ।ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, ইনস্যাট-১এ ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। উৎক্ষেপণের কয়েক মাস পরই এতে সমস্যা দেখা দেয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এত বছর পরও এর কোনো অংশ পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে গিয়ে অন্য স্যাটেলাইটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।আগেও ঝুঁকিতে পড়েছিল বিএস-১বিএস-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় ২০১৮ সালের ১২ মে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের সময় এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নাম পরিবর্তন করে বিএস-১ রাখা হয়।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব যোগাযোগ ও সম্প্রচার সক্ষমতা তৈরি করে। উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়।তবে মহাকাশে বিএস-১–এর সামনে ঝুঁকি তৈরির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও স্যাটেলাইটটিকে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল।২০২১ সালে ঝুঁকির উৎস ছিল রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ। আর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইট বিএস-১–এর খুব কাছ দিয়ে চলে যায়।চার দিন ধরে চলেছে হিসাব-নিকাশফ্রান্সের থালেস অ্যালেনিয়া স্পেস ২০১৮ সালে বিএস-১ তৈরি করে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করত প্রতিষ্ঠানটি।বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২১ সাল থেকে বিএস-১ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বিএসসিএল। গাজীপুরের জয়দেবপুরে থাকা গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এখন স্যাটেলাইটটির নিয়ন্ত্রণের প্রধান কেন্দ্র।বিএসসিএলের হিসাবে, সেখানে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলী কাজ করেন। স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রকৌশলীরা পালা করে দায়িত্ব পালন করেন।৯ আগস্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কর্মীদের সতর্ক করা হয় এবং ছুটি বাতিল করা হয় বলে জানান এমডি ইমাদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টাও পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। মহাকাশের বস্তুটির অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে স্পেস ট্র্যাকার থেকেও নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল।তখন মূল প্রশ্ন ছিল, বিএস-১–এর কক্ষপথ পরিবর্তন করা হবে কি না। পরিবর্তন করলে কোন দিকে এবং কতটা সরানো নিরাপদ হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হচ্ছিল। কারণ স্যাটেলাইটকে এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য কক্ষপথে নেওয়ার পর নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়।ইমাদুর রহমান বলেন, সব তথ্য বিশ্লেষণের পর ১৩ আগস্ট বিএস-১–কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ধ্বংসাবশেষটি নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়া পর্যন্ত স্যাটেলাইটটিকে ওই অবস্থানে রাখা হয়। ঝুঁকি কেটে গেলে আবার বিএস-১–কে আগের কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষটি শেষ পর্যন্ত বিএস-১–এর প্রায় ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল।মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান ইমাদুর রহমান। তাঁর মতে, বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।মহাকাশ পরিচালনায় দক্ষতার পরীক্ষাবাংলাদেশের স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ২০টি বিদেশে ইজারা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিএস-১–এর সেবা ব্যবহার করে।মহাকাশে কোনো স্যাটেলাইটকে সম্ভাব্য সংঘর্ষ থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজটি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এর সঙ্গে কক্ষপথের হিসাব, সংঘর্ষের সম্ভাবনা, স্যাটেলাইটের জ্বালানি এবং নতুন কক্ষপথের ঝুঁকি—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপদ কক্ষপথ পরিবর্তনের হিসাব করতে হয়। তাঁর মতে, বিএস-১–এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা অল্প সময়ের মধ্যে ঝুঁকি বিশ্লেষণ, যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমানও বিষয়টিকে প্রকৌশলীদের সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো দক্ষতার বিষয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা এতে সফল হলে তা প্রশংসনীয়।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

সরকারি অর্থে নির্মাণ, উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় ধস, এরপর টানা ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার একটি ব্রিজের গল্প যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রই তুলে ধরে। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানিতে ধসে পড়ার পর দীর্ঘ এক যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও চরম ভোগান্তির শিকার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের মাঝখানে একপাশ দেবে গিয়ে কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা ব্রিজটির অবশিষ্টাংশ। দুই পাশের সংযোগ সড়ক বহু আগেই বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে। ফলে সেতু থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ অচল। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৪ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতারহাট সড়কের সাঁকোর পাড় এলাকায় খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুর একপাশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।এর ফলে লেনোরপাড়া, কুরারপাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতিপাড়া, বটতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বর্ষায় নৌকায় খাল পার হতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আলামীর হোসেন বলেন, “ব্রিজ ভাঙার পর চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার গেছি। ১২ বছরেও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।ডাঃ রতন বলেন, “এটাই ছিল উপজেলা শহরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। এখন আমরা যেন নিজ এলাকাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি।”শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, “বর্ষায় নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। আবার শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।”নুর নাহার বেগম বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খবর নেয় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। আমরা শুধু একটি নতুন ব্রিজ চাই।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙা ব্রিজের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও টেকেনি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ৩০ ফুট ব্রিজের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, “নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাত্র এক বছরেই ধসে পড়া ২৭ লাখ টাকার ব্রিজের নির্মাণমান ও তদারকির দায় কার? কেন ১২ বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ? আর কতদিন আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবে ২০ হাজার মানুষ?—এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত।

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

ভ্রমন তরী মস্তল সম্প্রতি কুড়িগ্রম জেলার চিলমরীতে ব্রহ্মপুত্র নদে এ এলাকার বিস্তির্ন চরাঞ্চলের মানুষের বসতি, জীবন যাত্রার মান, নতুন অভিজ্ঞতা ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে অনেক দূর থেকে এসেছে। দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, এ প্রতিপাদ্য যেন স্বচোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। সাধারনত পাহাড় দেখতে এ অঞ্চলের মানুষকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। কিন্তু  কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত  ১৭টি নদ-নদীর প্রবাহ, সংযোগ স্থান, দুধ কুমোর,ফুল কুমোর,সঙ্কোশ, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম,তিস্তা, ধরলা হলহলিয়া ও বিশেষ করে সাহেবের আলগা- বেগম গঞ্জের নুনখাওয়ায় সোজা পূর্ব থেকে ভারতের পাহাড়ের তলদেশ থেকে কিভাবে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা স্ব-চোখেই অবলোকন করা যায়। আর একটু দূর হতে হলেও আপনি যদি এ স্থানটিতে দাড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে তাকান দেখবেন কি এক অপূর্ব দৃশ্য!  চোখের সমনেই আসামের বিশাল নয়নাভিরাম সু-উচ্চ পাহাড়!!  তাৎক্ষনিক ভাবে ভুলেই যাবেন যে আপনি কোথায় আছেন। এ সব ছাড়াও চরাঞ্চলের গরু,মহিষের সারি, বির্স্তিন চর জুড়ে বাদম কলাই,ভূট্টা কতকি ফসল ও চর বসতিদের ঘরবসতি। সে দেখার সুযোগ গুলো এলাকার কিছু অর্বাচিনদের না ধারনায় বিরুপ হয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। তারপরও তারা একটু দূরে চলে গেলেও উত্তরবঙ্গের বিশাল সবনতন ধর্মাবলম্বিদের স্নান উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর অষ্টমীর মেলা উপলক্ষে মাস্তুল হাউসবোট নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ।  এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাসতল কতৃপক্ষের অষ্টমীর স্নান ও মেলা উদযাপন ভ্রমনের সুযোগ এনেছেন। তারা জানান, একদিকে ২০০ বছরের পুরনো মেলার লোকজ আমেজ, আর অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মাস্তুলের রাজকীয় আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আপনার এই ভ্রমণ হবে আজীবনের স্মৃতি!মাস্তলের এই ট্রিপে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের আহব্বান, চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী  অষ্টমীর মেলার বর্ণিল আয়োজন দেখার সুযোগ, ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ: গাইবান্ধার কামারজানি বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চরাঞ্চল ঘুরে দেখা, অভিজাত আবাসন: মাস্তুলের প্রিমিয়াম কেবিনে নদের বুকেই রাত কাটানোর রোমাঞ্চ। খাবার: ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার টাটকা আইড়, বাঘাইড় কিংবা বোয়াল মাছের জিভে জল আনা মেনু। শান্তি ও নির্জনতা: শহুরে কোলাহল ছেড়ে চরের বালুকাবেলায় সূর্যাস্ত দেখার প্রশান্তি। চিলমারীর অষ্টমীর মেলা (যা চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নান উৎসব)। তাদের এই যাত্রা শুরু হবে,  কামারজানী বন্দর হতে  ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অষ্টমীর মেলা ভ্রমণ।

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোণা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) উৎসবমুখর পরিবেশে সংবর্ধনা ওগ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহানা আফরোজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী সাত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় হাসেম বৃত্তি।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বাবুল আহম্মদ। সহকারী শিক্ষক ফারুক আহম্মেদ রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।অনুষ্ঠানে সংবর্ধনার জবাবে জাহানা আফরোজ বলেন, একসময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে বিদ্যালয়টিকে নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও জাতীয়করণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের কাছেও সুপারিশ করবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।জাহানা আফরোজ নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর সহধর্মিণী। অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া সাত শিক্ষার্থীর হাতে হাসেম বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিত শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা ও নাট্যাংশের অভিনয় উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দর্শকদের মুগ্ধ করে। আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিশ্ব কন্যা দিবস পালন এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।সকাল ১১টায় ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “প্রতিটি কন্যাই একেকটি আলোর প্রদীপ।” তিনি কন্যাশিশুর অধিকার, মর্যাদা ও সম্ভাবনা বিকাশের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।পরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল-ইসলাম চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান।এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, প্রান্তিক ও প্রকৃত উপকারভোগী পরিবারের সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।দুটি সভায় উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও বিএনপি নেতা মজনু রহমান খন্দকার। মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি চারণ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা প্রমূখ।এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান,শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী,সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ,গণ-মাধ্যমকর্মী-গণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।স্ট্যাটাসে মাজেদ বাবু দাবি করেন, সার ডিলার লাইসেন্সকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লেখেন, “ঈশ্বরগঞ্জে এক টাকার অনৈতিক সুবিধা আমি নিই না, কোনো দিন নেবও না।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরিষা ইউনিয়নে ডিওর আওতার বাইরে সার ডিলার লাইসেন্স দেওয়া হলে এবং অন্যদের পাশ কাটিয়ে কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স পেলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।লাইসেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে কারা, কোথা থেকে এবং কত শতাংশ হারে টাকা নেন, তা তিনি জানেন বলেও স্ট্যাটাসে দাবি করেন। তবে এত দিন তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি বলে উল্লেখ করেন।স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এর অফিসিয়াল উত্তর না পাব, ঈশ্বরগঞ্জে কেউ কোনো মনোনীত লোক সার ডিলার লাইসেন্স পাবেন না।”তিনি আরও লেখেন, “আমাদের লোকেরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সার ডিলার লাইসেন্স দেবেন—তা হবে না। আমরা নিজেদের টাকায় থানায় গাড়ি কিনে দেব, আর আপনারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবেন—তা হবে না।”প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ সদস্য লেখেন, “কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার।”সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।সূত্র: সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাস লিঙ্ক-https://www.facebook.com/share/p/1DuzKZdqex/

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

‘ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে'; সম্পাদক মোস্তফা মামুনদৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় গত ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড.সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারীএকান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারী কলেজ ও দিনাজপুর সরকারী কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি।বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অফ কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষাখাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।বর্অমানে অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন যা দেখে কিছু মানুষ তার এই কাজে ইর্ষা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে হেও পতিপন্ন করার জন্য নানা রকম প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।নির্বাচনে সভাপতি পদে মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহসভাপতি পদে আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিলন), কোষাধ্যক্ষ পদে এটিএম জোবায়েদ উর রহমান (জবা) এবং দপ্তর সম্পাদক পদে আব্দুল জলিল সরকার নির্বাচিত হয়েছেন। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ওয়াহেদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে মহসীন আলী, নুর আলম সিদ্দিক, সাজেদুর রহমান নওশাদ এবং মো. হেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুদ্দোহা দুলু। নির্বাচন পরিচালনায় একজন প্রিজাইডিং অফিসার, একজন পোলিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পার্বতীপুর মডেল থানা ও পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩০ মে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

যশোর বোর্ডে এইচএসসি ফলাফলে পাশের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা দুটিই লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। এ বছর এই বোর্ডে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা বিগত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ কম। পাশের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও একই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। চলতি বছর মোট ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ২ হাজার ৭৬৭ জন কম। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন।ফলাফল এবং শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের বক্তব্যপাশের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সূচক কমে গেলেও শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘ফল বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করতে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও নিখুঁত ও কঠোর হওয়ার কারণে প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। শিক্ষকরা খাতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করেছেন বলেই এমন বস্তুনিষ্ঠ ফল পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন জানান, শিক্ষা বোর্ড ফলাফলের পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান অর্জনকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়। যারা নিয়ম মেনে পড়াশোনায় মনোযোগ দেবে, তারাই যথোপযুক্ত ফল পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা কোয়ালিটি চাই, কোয়ান্টিটি নয়।পরীক্ষার পরিসংখ্যান ও বিষয়ভিত্তিক ফলাফলযশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুসারে, এ বছর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষার্থী ২৪০টি সেন্টারে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। অসাধুপায় অবলম্বনের কারণে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বহিষ্কৃত হয় ৪৩ জন পরীক্ষার্থী। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইংরেজিতে পাসের মান বেশ উদ্বেগজনক, মাত্র ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) পাশের হার ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ, উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, রসায়নে ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং হিসাববিজ্ঞানে ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে বহিষ্কার হয় ৪৩ জন।বোর্ড সচিব উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ইংরেজি বিষয়ে অর্জিত ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচে নেমে যাওয়ার প্রভাব সার্বিক পাশের হারে পড়েছে। পাশাপাশি আইসিটিতেও ব্যাপকসংখ্যক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে ব্যর্থ হয়েছে। ইংরেজি বিষয়ের এমন নিম্নমুখী সূচক উত্তরণে আন্তঃবোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাঠদানে শিক্ষকদের বাড়তি দৃষ্টি এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বোর্ড হাতে নিচ্ছে।জেলাভিত্তিক পাশের হারের চিত্রচলতি বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যশোর বোর্ডের আওতাধীন ১০টি জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে যশোর জেলা। এই জেলায় পাশের হার ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে খুলনা জেলা, যেখানে পাশের হার ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ৪৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, কুষ্টিয়ায় ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, সাতক্ষীরায় ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ঝিনাইদহে ৪১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মেহেরপুরে ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, বাগেরহাটে ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, মাগুরায় ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং সর্বশেষ স্থানে থাকা নড়াইল জেলায় পাসের হার ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।শতভাগ এবং শূন্য পাশ করা প্রতিষ্ঠানের তালিকাশিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত মাত্র ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করা এই তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (পরীক্ষার্থী ৪৩ জন), খুলনার খালিশপুর নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ৬১ জন) এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ২৩ জন)। উল্লেখ্য, বিগত বছরে শতভাগ পাশ করা কলেজের সংখ্যা ছিল ৫টি, যা এবার কমে ৩টিতে নেমে এসেছে। যেমন গতবারের সংখ্যা ছিল ২০, এবার ১৬।অন্যদিকে, কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি অর্থাৎ শূন্য পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার ১৬টি। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ২০টি। বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিপূর্বে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করায় শূন্য পাশের সংখ্যা কিছুটা হলেও কমেছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি, তাদের স্বীকৃতির বিষয়টি পুনর্নোটিফিকেশন বা নবায়নের ক্ষেত্রে কড়া শর্ত দেওয়া হবে।শূন্য পাশ করা ১৬টি প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তালিকাকুষ্টিয়া জেলার দুটি প্রতিষ্ঠান—মিরপুর উপজেলার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজ (পরীক্ষার্থী ৮ জন) ও কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ (পরীক্ষার্থী ১ জন)।মাগুরা জেলার দুটি প্রতিষ্ঠান—বুজরুক শ্রীকুন্ডি কলেজ (পরীক্ষার্থী ১৫ জন) ও মহম্মদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ২ জন)।সাতক্ষীরা জেলার দুটি প্রতিষ্ঠান—ইসলামিয়া মহিলা কলেজ (পরীক্ষার্থী ৩ জন) ও একে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ (পরীক্ষার্থী ৪৯ জন)।এ ছাড়া মেহেরপুরের মরকা জাগরণ কলেজ (১), ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ (১৯), যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সবুজপল্লী কলেজ (৭)।এবং নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট (৪৩)।খুলনা জেলার মোট ৬টি প্রতিষ্ঠান—ডুমুরিয়ার মডেল মহিলা কলেজ (৩ জন), খুলনা সদরের ইন্ডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ (১১ জন), কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির (৩ জন)।খুলনা জেলার বাকি ৩টি প্রতিষ্ঠান—কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৭ জন), রূপসা উপজেলার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল (১ জন) এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২ জন)।

বিস্তারিত

দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার ৩১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও দোয়া অনুষ্ঠান।

 যশোরের অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক লোকসমাজের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও একত্রিশ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে হোটেল ওরিয়নে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে ভালোবাসায় সিক্ত করেন শুভানুধ্যায়ীরা।আসরের নামাজের পর লোকসমাজ সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগম স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রছুল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন এবং লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসমাজের নির্বাহী সম্পাদক ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু।অনুষ্ঠানের শুরুতে লোকসমাজের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্পাদক নার্গিস বেগমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।মিডিয়া আউটলেট সুবর্ণভূমির পক্ষ থেকে প্রকাশক এজাজ উদ্দিন টিপু, প্রধান সম্পাদক আহসান কবীর এবং বার্তা প্রধান সরোয়ার হোসেন ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলামের নেতৃত্বে এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদের নেতৃত্বে পৃথকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রফিকুল হাসান, সিভিল সার্জন মাসুদ রানা, যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর সুমন, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন সাফায়াত, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান।M

বিস্তারিত

পাবনায় বজ্রপাতে ৬ কিশোর-তরুণের মৃত্যু

পাবনা সদর উপজেলার গোবিন্দপুরে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার সোনাপাতি বিলে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে তারা একটি পলিথিনের তৈরি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ওই ছয় কিশোর ও তরুণের মৃত্যু হয়। যারা নিহত হয়েছেন, তারা সবাই কিশোর ও তরুণ।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু জানিয়েছেন, এ সময় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিস্তারিত

ধুনটে ভাড়া বাসায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, টয়লেটে লুকিয়ে ছিলেন স্বামী

বগুড়ার ধুনটে পরকীয়া প্রেমের সন্দেহকে কেন্দ্র করে মুন্নি খাতুন (৩৪) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নুর সালামকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মুন্নি খাতুন শেরপুর উপজেলার মধ্যভাগ গ্রামের মুনজিল শেখের মেয়ে। তিনি ধুনট উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের এশার আলীর ছেলে নুর সালামের স্ত্রী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে নুর সালামের সঙ্গে মুন্নি খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে সাগর ও সূর্য নামে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুন্নির বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় মাতবরদের উদ্যোগে সালিসি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।প্রায় তিন বছর আগে তাঁরা মথুরাপুর গ্রামের পাশের মধুপুর এলাকায় আবু সাইদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তবে স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত—এমন সন্দেহ থেকে নুর সালাম প্রায়ই তাঁর সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করতেন বলে স্থানীয়রা জানান।ঘটনার আগের রাতেও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরদিন সকালে আবারও স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি করে নুর সালাম নিজ বাড়ি মথুরাপুরে চলে যান। পরে দুপুরে মুন্নি খাতুন বাড়ির সামনে চুলায় রান্না করছিলেন। এ সময় নুর সালাম ফিরে এসে তাঁকে ঘরের ভেতরে ডেকে নেন। সেখানে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।হত্যার পর বাড়ির প্রধান ফটক ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে নুর সালাম ঘরের মধ্যে আত্মগোপন করেন। বিষয়টি প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বারান্দার টিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে। পরে মুন্নি খাতুনের গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় পাশের টয়লেট থেকে অভিযুক্ত নুর সালামকে আটক করা হয়।

বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ এএম
সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ এএম
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ এএম
ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

২৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

ধুনটে চেকপোস্ট বসাতে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর গ্রেপ্তার ২

২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
ধুনটে চেকপোস্ট বসাতে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর গ্রেপ্তার ২

নবীনগরে এইচএসসি পরীক্ষায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
নবীনগরে এইচএসসি পরীক্ষায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

যশোর বোর্ডে এইচএসসি ফলাফলে পাশের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
যশোর বোর্ডে এইচএসসি ফলাফলে পাশের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে

বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে জয়ের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে জয়ের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মার্তিনেজ: সেই ফাইনালের পর এবার স্পেনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
মার্তিনেজ: সেই ফাইনালের পর এবার স্পেনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ

এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, পিছিয়ে বরিশাল বোর্ড

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, পিছিয়ে বরিশাল বোর্ড

সৌদির তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে ড্রোন হামলা: মদিনায় ধ্বংসাত্মক তৎপরতা

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
সৌদির তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে ড্রোন হামলা: মদিনায় ধ্বংসাত্মক তৎপরতা

এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু রোববার, যেভাবে করবেন আবেদন

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭ এএম
এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু রোববার, যেভাবে করবেন আবেদন

ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ এএম
ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

জার্মানিতেও ছড়াচ্ছে জেন-জি বিক্ষোভের ঢেউ, সতর্ক রয়েছে প্রশাসন

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ এএম
জার্মানিতেও ছড়াচ্ছে জেন-জি বিক্ষোভের ঢেউ, সতর্ক রয়েছে প্রশাসন

পেছাল এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
পেছাল এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ
PublicVoice representative application
হিরোগিরি

হিরোগিরি

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ এএম

সিনেমা হলের ভেতর চলছে তুমুল অ্যাকশন দৃশ্য। এক যুবক মনোযোগ দিয়ে সিনেমা দেখছে, কিন্তু তার পাশের সিটে বসা এক বৃদ্ধের কারণে সে বেশ অস্বস্তিতে আছে। বৃদ্ধের হাতে একটি ছোট পেপসির বোতল, আর তিনি ঠিক পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর বোতলে একটা জোরালো চুমুক দিচ্ছেন। শব্দটা যুবকের সিনেমার উপভোগে বারবার বাধা সৃষ্টি করছিল। অনেকক্ষণ সহ্য করার পর যুবকের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে বিরক্ত হয়ে বৃদ্ধের হাত থেকে বোতলটা ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে বলল, "চাচা, সিনেমার চেয়ে আপনার পেপসি খাওয়া নিয়ে আমি বেশি ডিস্টার্ব হচ্ছি। এটুকু পানীয় খেতে এত নাটক করতে হয়? এই দেখুন, কীভাবে একবারে শেষ করতে হয়!"এই বলে যুবক বোতলটি মুখে দিয়ে এক ঢোকে সবটুকু পানীয় গিলে ফেলল। তারপর বোতলটা বৃদ্ধের হাতে ফেরত দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসল।বৃদ্ধ বোতলটা হাতে নিয়ে অবাক চোখে যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন, "বাবা, আমার পেপসিটা তো তুমি খেলে না, কারণ ওটা তো পেপসিই ছিল না। আসলে আমার পানের অভ্যেস তো, তাই পানের পিকগুলো ওই বোতলে ফেলছিলাম!"