চবিতে বহিরাগত যান নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করল চাকসু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সনাক্তে সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধন কার্যক্রমের আওতায় আনার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: কামরুল হোসাইন এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় ক্যাম্পাসে চলাচলকারী প্রায় ২০০ সিএনজি ও ৩০০ রিকশাকে নিবন্ধন কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে।চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: কামরুল হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে যানবাহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত করতে আমরা সকল সিএনজি ও রিকশা নিবন্ধনের এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। এর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের সকল সিএনজি, রিকশা খুব সহজে সনাক্ত করা যাবে। চাকসু শুরু থেকেই এই কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। আমরা চাকসু সহ সচেতন সকল ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছি। গত কয়েকদিন দফায় দফায় রিকশা ও সিএনজি সমিতির সাথে আলোচনার পর আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনকৃত সকল গাড়িকে নির্দিষ্ট নাম্বার সম্বলিত স্টিকার ও ভেস্ট প্রদান করা হবে। নির্দিষ্ট ড্রেসকোড ও স্টিকার ব্যতিত কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে চলাচল করতে পারবে না।

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি ক্যাম্পাসে স্কুলবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র, ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্ঠা

গতকাল (১৩ অক্টোবর) দুপুর ৩টা থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি ক্যাম্পাসের ভেতরে স্কুলবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার শায়ন।একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শায়ন একটি স্কুলবাসের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল। বাসটি হঠাৎ রিভার্স করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।কিছুক্ষণ আগে শায়নের বাবাকে ফোন করলে তিনি জানান, সন্তানের লাশ দাফনের জন্য পাবনা নিয়ে যাচ্ছেন। শোক সামলে তিনি বলেন, বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে স্কুল থেকে ফোন করে তাঁকে যেতে বলা হয়। প্রায় ৪টা ৩০ মিনিটে পৌঁছালে তাঁকে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তখনও পর্যন্ত শিশুটির লাশ ওই বাসের নিচেই পড়ে ছিল।হাতে আসা বিভিন্ন ছবি যাচাই করে দেখা গেছে, কাগজের কার্টন জাতীয় কিছু দিয়ে লাশ ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো—স্কুলের ভেতর একটা শিশু দূর্ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার পর কেন কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে শিশুটিকে হাসপাতালে নেয়নি? কেন তাঁর লাশ বাসের নিচে পড়ে থাকলো?শায়নের বাবা আরও জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ছেলের লাশ তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ময়নাতদন্তের প্রসঙ্গ তুললে তিনি রাজি হননি। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক এই পিতা কোনো মামলাও করেননি; ময়নাতদন্ত করবেন না—এই মুচলেকা দিয়ে সন্তানের লাশ নিয়ে যান।যে অভিভাবক সকালে জলজ্যান্ত সন্তানকে স্কুলে পাঠালেন, সেই স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরেই বাসের চাকায় তার মৃত্যু—তারপর হাসপাতালের বদলে মৃতদেহ পড়ে থাকল বাসের নিচে, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে সেই লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হলো। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের নয়।কয়েকটি দৈনিকের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: “স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে যায় শায়ন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।” এটা কি খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা? ঘটনাস্থল স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরে, যেখানে চলন্ত বাসে কোনো শিশুর ওঠার সুযোগই নেই। আর যদি পড়েও যায়, তাহলে বাসের গতি কত ছিল?এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। সামরিক বাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বলে তদন্ত ও মামলা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি পরামর্শ—বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখুন। বাসচালক কিংবা অন্য কারও অবহেলা থাকলে তাদের শনাক্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন।তথ্য- জুলকারনাইন সায়ে

৪০০ নারী শিক্ষার্থী পেল চবি ছাত্রীসংস্থার নবীনবরণ সংবর্ধনা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ৪ শতাধিক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে নবীন বরণ সংবর্ধনার আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামি ছাত্রীসংস্থা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনার আয়োজন করে সংগঠনটি। এ সময় উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, কলমদানি, বুকমার্ক, হাইলাইটার, বইসহ বিভিন্ন উপহার ও স্মারক গিফট করে।চবি ছাত্রীসংস্থার প্রচার সম্পাদিকা তাওফিকা রহমান ও মাহারিয়া বুশরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন রাবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান, চবির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় সংগঠনের নেত্রী ডা. রিফাহ রায়হানা।আয়োজকেরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আবাসন, পড়াশোনা কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যায় কোনো ছাত্রী যেন নিজেকে একা মনে না করেন, সে লক্ষ্যে আমরা তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করতে চাই। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করা আমাদের অঙ্গীকার। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ আয়োজন নবীন ছাত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।এর আগে পবিত্র কুরআন পাঠের মধ্যদিয়ে সূচনা হওয়া অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ইসলামি ছাত্রীসংস্থার চবি শাখার সেক্রেটারি ও বর্তমান চাকসুর নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা। অনুষ্ঠানের মাঝে সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশনা উপস্থাপন করে ‘পারাবার শিশুশিল্পী গোষ্ঠী’।অতিথিরা তাদের বক্তব্যে নবীন ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সঠিক অ্যাকাডেমিক দিক নির্দেশনা অনুসরণ, লক্ষ্যনিষ্ঠ অধ্যবসায় ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, নৈতিক মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্ব ডাক দিবসে চবিতে উদ্‌যাপিত হলো ‘চিঠি উৎসব’

বিশ্ব ডাক দিবস ও ডাক সেবা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আয়োজিত হয়েছে চিঠি উৎসব ও স্ট্যাম্প বিক্রয় কার্যক্রম কর্মসূচি।সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকঘর চত্বরে এ অনুষ্ঠান উদ্‌যাপিত হয়। এ সময় অনুষ্ঠান উদ্‌বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের (পূর্বাঞ্চল সার্কেল) পোস্টমাস্টার জেনারেল শেখ সাইফুল আলম।বিভাগীয় পোস্টমাস্টার সাইফুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. কামরুল হোসেন ও ডাক বিভাগ পূর্বাঞ্চল সার্কেলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকঘরের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছোটোবেলায় চিঠি লেখা, পত্রমিতালি করা এবং ডাকটিকিট সংগ্রহের প্রতিও আমার বিশেষ আগ্রহ ছিল। প্রযুক্তির বিকাশে চিঠির জায়গা এখন অনেকটাই ই-মেইল ও খুদে বার্তা দখল করেছে। তবে চিঠির মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশের যে গভীরতা, আন্তরিকতা ও আবেগ ছিল, তা সহজে অন্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায় না।’ চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডাক বিভাগের গুরুত্ব এখনো অপরিসীম। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি সরকারি ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন দাপ্তরিক চিঠিপত্র, নথি ও পারসেল আদান-প্রদানে ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই সময়ের পরিবর্তনে ডাক বিভাগের গুরুত্ব কমে যায়নি; বরং নতুন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর সেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।’দিনব্যাপী আয়োজিত চিঠি উৎসবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাব-পোস্টমাস্টার মো. নুর উদ্দিন, আমন্ত্রিত অতিথি, ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চবি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর দাবি জমিয়তের

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জোরালো দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া কার্যকর করা, দেশে বিদ্যমান সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। এছাড়াও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি তোলা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও পরবর্তী সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এসব দাবি জানান।সমাবেশে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী ভারতের উদ্দেশে বলেন, ফ্যাসিস্ট ও খুনি হিসেবে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে আসছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এসব অপতৎপরতা বন্ধ করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে যে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দ্রুত কার্যকর করার ওপর তিনি জোর দেন।দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহা উদ্দীন যাকারিয়া অভিযোগ করেন যে, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জনগণের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা না করে জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সমাবেশে জমিয়ত নেতারা বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান। তাঁরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন যে, খতিব মুফতি আবদুল মালেকের কোনো ক্ষতি হলে দেশের তৌহিদি জনতা তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং ঘরে বসে থাকবে না।ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। তিনি দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মুফতি নূর মোহাম্মদ কাসেমী ও দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বিন ইয়ামিন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন ও মাওলানা রাশেদ ইলিয়াস, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম এবং মাওলানা তাজুল ইসলাম আশরাফীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।সূত্র: প্রথম আলো

 ইরান যুদ্ধ

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

ইরানে অবস্থানরত রাশিয়ার কূটনীতিক এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের কর্মী বা বিশেষজ্ঞদের ইরান ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।এর আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেশ কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সংবাদ অ্যাগ্রিগেটর দাবি করেছে ইরান থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই দাবিগুলোতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব জল্পনাকে পুরোপুরি বানোয়াট হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এমন গুঞ্জন ছড়ায়। স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি গত জুলাই মাসে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রেও এই কেন্দ্রের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিহ্ন দৃশ্যমান হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করল।

ইরানে আজই সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পরিচালনা করতে পারে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন। পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা এ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এবং অভিযানটি আজই কার্যকর হওয়া সম্ভব। তবে তিনি সরাসরি নিশ্চিত না করে কৌশলী উত্তর দিয়েছেন, কারণ সামরিক পদক্ষেপের কথা আগেই ফাঁস করতে তিনি আগ্রহী নন। ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগোচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি হামলা করব কিনা, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’।মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্পের দাবি, অতীতে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারেনি। তাই পরিস্থিতিটি এমন পর্যায়ে নিতে চান, যেখানে ফলাফলটি সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যেন পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই তিনি নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে।অভিযানের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, তেহরান যদি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, তাকে হয়তো বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে, অথবা ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে। তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তবে যে পথই বেছে নেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এর আগে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সংকটের কোনো স্থায়ী সুরাহা এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার পরিকল্পনা ইরানের

ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ফের যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোতে হামলার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে তেহরান। কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল পুনরায় ইরানে আক্রমণ চালায়, তবে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সংযোগগুলোই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। এমন হামলার উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটানো এবং মেরামতের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা।ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের ওপর আক্রমণ হলে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা বা 'রেড লাইন' থাকবে না। ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে এক কর্মকর্তা বলেন, আগুন নিয়ে খেলা করা উচিত নয়। ইরানের কাছে সমুদ্রতলের ক্যাবলগুলোর নাগাল পাওয়ার এবং সেগুলো সহজে ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক ঘাঁটিসহ স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোও তাদের হামলার আওতায় থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রতলের ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রবাহিত ব্যান্ডউইথের পরিমাণ এক শতাংশের চেয়েও কম। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বৈশ্বিক প্রভাব সীমিত থাকলেও একাধিক ক্যাবল কাটা পড়লে ইন্টারনেটের গতি ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে, যা আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ক্লাউড সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত রাখতে এবং উপসাগরীয় দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ নিয়ে সংশয় তৈরি করতেই ইরান এ ধরনের কৌশলগত হুমকির আশ্রয় নিচ্ছে।এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি হাব গড়ে তুলতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। এ ধরনের অবকাঠামো রক্ষার জন্য বর্তমানে স্থলভিত্তিক বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির কাজও চলমান। মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রতল ও স্থলভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামোয় ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, যা এই অঞ্চলের ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

ইরান সফর শেষে কিউবায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরই কিউবার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ফ্লোরিডার এক সমাবেশে ট্রাম্প জানান, ইরান সফর থেকে ফেরার পথে তারা কিউবার উপকূলে যাত্রাবিরতি করবেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি সেখানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কথা উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবার বিষয়ে আমরা যা করতে যাচ্ছি, তা হলো ইরান থেকে ফেরার পথে আমাদের সুন্দর জাহাজগুলো কিউবার পাশ দিয়ে যাবে।ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকার যুদ্ধজাহাজগুলো কিউবার উপকূল থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে অবস্থান নেবে। তিনি জানান, পরিস্থিতির এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষ সমঝোতার জন্য সাড়া দেবে এবং এরপরই চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবায় পাঠানো হবে। সেগুলোর একটি উপকূল থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে থামবে।সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরান থেকে ফেরার সময় মার্কিন নৌবহর কিউবার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজ উপকূলের খুব কাছে থামানো হবে। মূলত কিউবার ওপর চাপ প্রয়োগ করে আলোচনার পথ তৈরি করাই এই কৌশলের উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনীতি

এনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: গুরুত্বপূর্ণ তিন নেতার পদাবনতি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। দলটি তাদের ২১৭ সদস্যের পূর্বের কমিটি কমিয়ে ১৯৬ সদস্যে নামিয়ে এনেছে। এই পুনর্গঠনের ফলে কমিটির আগের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন নিজ পদে বহাল থাকলেও, দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ যেমন—মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদগুলো পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এসব পদের পরিবর্তে এখন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নতুন কিছু সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।নতুন এই কমিটিতে বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার পদাবনতি ঘটেছে। এনসিপির প্রথম সারির নেত্রী সামান্তা শারমিন, যিনি আগে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে নতুন কমিটিতে শুধুমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে। এছাড়া তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পরিষদ’ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, আগে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা আরিফুল ইসলাম আদীবকেও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে আরিফুল ইসলাম আদীবের ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিষদের পদটি অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। এছাড়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব থেকে নাহিদা সারোয়ার নিভাকেও যুগ্ম সদস্য সচিব পদে অবনমন করা হয়েছে। কিন্তু এই পদ বিলুপ্ত করায় তাদের একোমোডেশনের স্বার্থে অন্যদের পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। সামান্তা শারমিন আরও লেখেন, সর্বজ্ঞানী ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বিভিন্নভাবে বান্দাকে পাপমুক্ত করেন অথবা পরীক্ষা করেন। পোস্টের শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও হেদায়েত প্রার্থনা করে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘আল্লাহ আমাদের মাফ করেন, হেদায়েত দান করেন।দলের পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও, ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে যে নেতাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পারফরমেন্স এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ই এর মূল কারণ। গুরুত্বপূর্ণ পদ বিলুপ্ত হওয়ার ফলে প্রভাবশালী নেতাদের জায়গা করে দিতেই এই সমন্বয় আনা হয়েছে। এ নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সামান্তা শারমিনের সক্রিয়তা কমে যাওয়ার নেপথ্যে পারিবারিক কারণ রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, তার স্বামী গুরুতর অসুস্থ এবং তিনি তার চিকিৎসা নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি সে সময় আবেগঘন পোস্টে লেখেন যে, একজন কর্মঠ ও উদ্যমী মানুষকে গত তিন মাস ধরে এভাবে নিস্প্রভ হয়ে যেতে দেখা তার জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। পরিবারকে সময় দেওয়ার কারণে সামান্তা এখন দলের সাংগঠনিক কাজে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। আমি আমার পারিবারিক জীবন সম্পূর্ণ আলোচ্যসূচির বাইরে রাখার পক্ষে, সেজন্যই আগের পোস্টে বলিনি। স্বামীর অসুস্থতার কারণে মানসিক কষ্টের কথাও তুলে ধরেন সামান্তা।এদিকে আরিফুল ইসলাম আদীব এনসিপির রাজনীতিতে কিছুটা ব্যাকফুটে আছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। গত নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি ঢাকা উত্তরে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবেও আলোচিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি এনসিপি সেই আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেখানে আসিফ মাহমুদকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম আদীবের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি এক সহকর্মীর অসুস্থ বাবাকে দেখতে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। উত্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আসিফ মাহমুদ।পুরো প্রক্রিয়াটিতে পদোন্নতি ও পদাবনতির পাশাপাশি আগের কমিটির অনেক নেতার স্থান নতুন কমিটিতে হয়নি। দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় এই পরিবর্তন আসন্ন দিনগুলোতে এনসিপির রাজনৈতিক কৌশলে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জাপান সফরে থাকছেন না রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী থাকছেন না। তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এমন পরিবর্তনের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, এটি মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করব। তাকে ঢাকায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।শনিবার রাজধানীর সিরডাপে আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে দেশের ৩৩টি নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব করা কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রদূতকে কখন কোথায় বদলি বা তলব করা হবে, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। কখন কোন অ্যাম্বাসেডরকে কখন ডেকে পাঠাবে সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’।প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, পোশাক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সমঝোতা চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে এই সফরের মাধ্যমে জাপানি বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নতুন জাপানি বিনিয়োগ তৈরিতে একটা ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে বলে আমরা মনে করি।’।

সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে: রিজভী

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফকিরাপুল কাঁচাবাজারের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী জানান, বিশ্ব খাদ্যসূচকে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ বর্তমানে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তবে দেশের জনগণের ওপর কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা চাপিয়ে দিলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা আঁতাতের অভিযোগের বিষয়ে রিজভী বলেন, যারা এই ধরনের দাবি করছেন, তাদের কাছে ওই চুক্তির প্রমাণ ও নথিপত্র থাকলে তা জনসম্মুখে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, আমাদের দিক থেকে আঁতাতের বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ ইতিমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে। মিথ্যা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

ইরানে অবস্থানরত রাশিয়ার কূটনীতিক এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের কর্মী বা বিশেষজ্ঞদের ইরান ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।এর আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেশ কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সংবাদ অ্যাগ্রিগেটর দাবি করেছে ইরান থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই দাবিগুলোতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব জল্পনাকে পুরোপুরি বানোয়াট হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এমন গুঞ্জন ছড়ায়। স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি গত জুলাই মাসে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রেও এই কেন্দ্রের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিহ্ন দৃশ্যমান হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করল।

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

রাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে।তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান।সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি।সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং।ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে।বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সুত্র: কালের কণ্ঠরাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে। তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি। সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’ তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং। ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’ তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’ খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুত্র: কালের কণ্ঠ

সাফের প্রাথমিক দলে হামজা ও শমিতসহ ২৮ সদস্য

সাফের প্রাথমিক দলে হামজা ও শমিতসহ ২৮ সদস্য

আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ টমাস ডুলি। ঘোষিত ২৮ সদস্যের এই তালিকায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন একঝাঁক তরুণ ও প্রবাসী ফুটবলার। এবারের দলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা দেওয়ান চৌধুরী এবং প্রবাসী ফুটবলার শমিত সোম ও ফারহান আলী ওয়াহিদের অন্তর্ভুক্তি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কোচ মূলত তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার ভারসাম্য বজায় রেখেই দলটিকে সাজিয়েছেন, যাতে মাঠের লড়াইয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।দলের গোলরক্ষক হিসেবে ডাক পেয়েছেন মিতুল মারমা, মো. সুজন হোসাইন ও মো. মেহেদী হাসান শ্রাবণ। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ, ঈসা ফয়সাল, তারিক রায়হান কাজী ও জায়ান আহমেদ। মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগের শক্তি বাড়াতে সোহেল রানা, মো. সোহেল রানা-২, মো. হৃদয়, হামজা দেওয়ান চৌধুরী, শামিত সোম, সৈয়দ কোয়াজেম কিরমানে শাহ, জামাল ভূঁইয়া, ফারহান আলী ওয়াহিদ, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, মো. ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, ফাহামেদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে দলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রবাসী খেলোয়াড় হিসেবে তালিকায় আছেন সুকি ইতোফুসা, মো. মিনহাজুল করিম স্বাধীন, রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান ও মোহাম্মদ মাহি খান।মূল ২৮ সদস্যের তালিকার বাইরে আরও দুজন ফুটবলারকে অনুশীলন ক্যাম্পে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরা হলেন মো. ইসহাক আকান্দো ও মো. আসিফ। যদিও এই দুই খেলোয়াড় প্রাথমিক ২৮ জনের তালিকায় নেই, তবুও ক্যাম্পে তাদের পারফরম্যান্স যাচাই-বাছাই করা হবে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত স্কোয়াড গঠনের আগে এই প্রাথমিক দল থেকে কোচ কোচিং স্টাফরা খেলোয়াড়দের সামর্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। আসন্ন আসরকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও দলীয় বোঝাপড়ার ওপরই মূলত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিজ্ঞদের নেতৃত্বে তরুণ ও প্রবাসী ফুটবলারদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ দল কতটা কার্যকর হয়ে উঠতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন জরিপ
৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ অংশ নিয়েছেন।শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।সভায় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনসহ সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ অপরাধ দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি- সবকিছু সামলাতে হচ্ছে একই বাহিনীকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর ও আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির চাপ। জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা নিয়েও চাপে আছে মাঠপুলিশ। এর বাইরে রয়েছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে মাঠপুলিশের ওপর দায়বদ্ধতার চাপ আরও বেড়েছে। কোনো এলাকায় মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি এবং তদারকি কর্মকর্তাকে দায় নিতে হবে- এমন বার্তাও পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এখনও তোলপাড় চলছে পুলিশে। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ সভায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয় ডিসি ওসিদের। কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকামিছিল বের হলে ওই এলাকার ডিসি-ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাবধান করা হয়। পরবর্তীকালে গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ব্যর্থতা দায় হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছে ঢাকার ৫০ থানার ওসি ও জোনাল ডিসি-এডিসি, এসিরা। ডিএমপির একাধিক থানার ওসি এই চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।শুধু ঢাকা মহানগরই নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে সারাদেশেই মাঠ পুলিশ চাপের মুখে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে সব রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা আমাদের সময়কে বলেন, যেকোনো ধরনের চাপ নিয়ে কাজ করতে পুলিশ অভ্যস্ত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব চাপ সামলে পুলিশ কতটা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে, সেদিকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের প্রতিটি ধাপে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। বড় কোনো ঘটনা ঘটার পরই প্রায়ই গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এনেছে।আশরাফুল হুদা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশের ভেতরে দীর্ঘ ১৭ বছরে তৈরি হওয়া ‘জঞ্জাল’ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরীহ কর্মকর্তা বা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ বাহিনীর সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পড়তে পারে।জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির যে সংযোগ রয়েছে, তা মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাদের মনোবলও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে- এমনটা বলার সুযোগ নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পুলিশকেই পালন করতে হবে। তবে অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ সরাসরি পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিলে তাদের মনোবল আরও দুর্বল এবং বাহিনীর মধ্যে নতুন করে মেরুকরণ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে মাঠ পুলিশ। নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেনি। কমানো যায়নি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলির ঘটনা বেড়েছে। খুনোখুনি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি ও একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্রের। অর্থাৎ লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্র উদ্ধারে চাপে রয়েছে মাঠপুলিশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এসব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে খোদ পুলিশে। কারণ লুণ্ঠিত অস্ত্র স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে বিশেষ অভিযানও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তিন ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মাঠপুলিশের জন্য আলাদা চাপ তৈরি করছে। কারণ শুধু আসামি গ্রেপ্তার করাই নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিরাপদে থানায় নেওয়া, অভিযান পরিচালনা এবং অভিযানের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পুলিশকেই পালন করতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৩১৭টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এর আগের ৬ মাসে এ ধরনের ২৭৫টি ঘটনা ঘটে।পুলিশের ওপর চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। বদলি, পদোন্নতি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে পুুলিশের একটি বড় অংশের মধ্যেই হতাশা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত দুই বছরে ইতোমধ্যে ১৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আরও পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেক কর্মকর্তা এখনও অবসর আতঙ্কে রয়েছেন। এতে মানসিক চাপে তারা স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও চাপে রয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এই মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও তাগিদ রয়েছে তাদের ওপর। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেও মাঠ পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণে ঈশ্বরগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণে ঈশ্বরগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা

শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে—ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের পাশে উন্নয়ন সহায়তাসমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও সহজ করতে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় সাইকেল ও শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।কর্মসূচির আওতায় একজনকে সাইকেল এবং চারজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়। এই সহায়তা শুধু একটি সাইকেল কিংবা আর্থিক অনুদান নয়—এটি শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়, স্বপ্ন পূরণের সাহস এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।দূরত্ব, আর্থিক সংকট কিংবা নানা সীমাবদ্ধতা যেন শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি সাইকেল যেমন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতকে সহজ করবে, তেমনি শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি তাদের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।সহায়তার হাত যখন শিক্ষার পথে, তখন সম্ভাবনার পথও হয় আরও প্রশস্ত।আজকের এই ছোট্ট সহায়তাই হয়তো আগামী দিনের একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের বড় শক্তি হয়ে উঠবে।লক্ষ্য একটাই—শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া, বৈষম্য পেছনে ফেলা এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে  ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

 ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল। প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো  বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর।  আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন। চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে  ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়। সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী  ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের 'নজরানা' বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। M

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, স্বাগত বক্তব্য, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। আলোচনায় সত্যবাদিতা ও আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, শিক্ষকের মর্যাদা, প্রতিবেশীর অধিকার, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী জীবনাচরণ উপস্থাপনা ও সিরাতভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা উচিত। শুধু মিলাদুন্নবী পালন নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অনুসরণের বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। সবশেষে এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত মৌলভী শিক্ষক উমর ফারুক দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক সভানুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে কথা না বলে কোরআন, হাদিস ও নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, "আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব, যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং তারা বুঝতে পারে কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা বা আলোচনা করা যাবে না।"মাহফিলে সব রাজনৈতিক মতের মানুষ উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নাম ধরে সমালোচনা করলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে ইতিহাস, নীতি ও নৈতিকতার আলোকে পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সৎলোকের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।এছাড়া দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব বজায় থাকা প্রয়োজন।সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।নবঘোষিত কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।

সব বিভাগের খবর

মহানগর পরিক্রমা
মিঠামইন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত চিকিৎসা সেবা

মিঠামইন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত চিকিৎসা সেবা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনায় পা রাখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। চারপাশে সারি সারি দেবদারু, বাহারি ফুলগাছ, নান্দনিক ভবন আর বিশাল পুকুর দেখে মনে হয় কোনো মনোরম রিসোর্ট। তবে হাসপাতালের প্রধান ফটকের ভেতরে ঢুকলেই পরিস্থিতি ভিন্ন। নান্দনিক পরিবেশের আড়ালে হাসপাতালটি এখন তীব্র জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে জর্জরিত। তবে প্রধান ফটকের বামে ঝুলানো জরুরি বিভাগের সাইনবোর্ড ও রোগীদের ভিড় দেখলেই সেই ভুল ভেঙে যাবে। কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দু’পাশে সারি সারি দেবদারু ও বাহারি ফুল গাছের মাঝখান দিয়ে পাকা সরু রাস্তা ধরে সামনে এগোতেই চোখে পড়ে ফলজ ও বনজ বৃক্ষের উদ্যান। চারদিকে বহুতল ভবন, পশ্চিমে বাঁধানো ঘাটসহ বিশাল পুকুর ও মসজিদ এবং উত্তরে সারিবদ্ধ আবাসিক ভবন। প্রথম দর্শনে যে কারও মনে হতে পারে এটি কোনো বিনোদন কেন্দ্র বা মনোরম রিসোর্ট। তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত নান্দনিক পরিবেশ। কাটখাল ইউনিয়নের হোসেন আলী বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ এত সুন্দর হতে পারে, তা অন্য কোথাও দেখিনি।দীর্ঘ ৩৮ বছর পর ২০২২ সালে ডা. আব্দুল্লাহ আল শাফির উদ্যোগে হাওর অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সেবা চালু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে শল্য চিকিৎসক ও অ্যানাস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় এই কার্যক্রম নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে দায়িত্বরত আছেন মাত্র ১২ জন। এছাড়া ৩১টি নার্স ও বয় পদের বিপরীতে মাত্র ১৬ জন কর্মরত, যার মধ্যে ৩ জন প্রেষণে আছেন। মাঠপর্যায়ে ২০ জন স্বাস্থ্য সহকারীর জায়গায় কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. শাফির প্রচেষ্টায় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৩৮ বছর পর ২০২২ সালে প্রথমবার এই হাওরাঞ্চলে বিনামূল্যে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার (সিজার) চালু করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১২ জন কর্মরত আছেন। মাঠপর্যায়ে ২০ জন স্বাস্থ্য সহকারীর বিপরীতে কর্মরত ১১ জন (যার মধ্যে ২ জন সাময়িক বরখাস্ত)। অ্যানাস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মরিয়ম আক্তার এক বছরের বেশি সময় ধরে জেলা সদরে প্রেষণে কর্মরত রয়েছেন এবং নেই কোনো গাইনোকোলজিস্টও।হাসপাতালের বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জনবল সংকটের মধ্যেও প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি হন, এক হাজারের বেশি জরুরি রোগী সেবা নেন এবং বহির্বিভাগে সেবা নেন সাড়ে ৬ হাজার মানুষ। এছাড়া গড়ে ৪ থেকে ৫টি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তবে প্রয়োজনীয় কারিগরি টেকনিশিয়ানের অভাবে ডিজিটাল এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও জিন এক্সপার্ট ল্যাবরেটরির মতো আধুনিক যন্ত্রপাতির সুফল রোগীরা পুরোপুরি পাচ্ছেন না। হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অপ্রতুলতার মধ্যেও প্রতি মাসে গড়ে ৪ থেকে ৫টি সিজার, ৫০০-র বেশি ভর্তি রোগী, ১ হাজার জরুরি রোগী এবং প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ বহির্বিভাগে সেবা নিচ্ছেন। পাশাপাশি বর্তমান এই কর্মকর্তার যোগদানের পর রোগীদের সুবিধার্থে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও জিন এক্সপার্ট ল্যাবরেটরিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র বাড়ানো হয়েছে।হাসপাতালটির নতুন ভবনে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং শিশুদের জন্য রঙিন ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। স্থানীয় রোগী আমেনা বেগম জানান, কম খরচে ভালো চিকিৎসার আশায় তারা এখানে আসেন। তবে জনবলের অভাবে পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেককে শহরে ছুটতে হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে বদলে গেছে এই হাসপাতালটির বাহ্যিক চিত্র। নানা রঙের খেলনা, পুতুল, দাবাবোর্ড ও রঙিন কাগজের ফুলের ব্যবহারে সাজানো মনমুগ্ধকর এই সেবাকেন্দ্রগুলো স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল শাফি বলেন, সরকারি নির্দেশনায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা নিরলস চেষ্টা করছি। সংকট থাকা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ সেবাদানের বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থায়ী জনবল পদায়ন জরুরি। দ্রুত পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, হাওর অঞ্চলে কর্মকর্তাদের যোগদানে অনাগ্রহের বিষয়টি অনস্বীকার্য। তবে সরকার স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করায় এই সংকট স্থায়ী হবে না। শিগগিরই প্রসূতি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্ট পদায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

ইরানে অবস্থানরত রাশিয়ার কূটনীতিক এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের কর্মী বা বিশেষজ্ঞদের ইরান ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।এর আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেশ কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সংবাদ অ্যাগ্রিগেটর দাবি করেছে ইরান থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই দাবিগুলোতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব জল্পনাকে পুরোপুরি বানোয়াট হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এমন গুঞ্জন ছড়ায়। স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি গত জুলাই মাসে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রেও এই কেন্দ্রের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিহ্ন দৃশ্যমান হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করল।

রংপুরে অটোরিকশা চুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তির প্রাণহানি

রংপুরে অটোরিকশা চুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তির প্রাণহানি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তরপানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকায় রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার ৪২ বছর বয়সী রেজাউল ওরফে কানা এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সী সাদিকুল ইসলাম। গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অটোরিকশার মালিক সিদ্দিকুর রহমান সোহেল জানান, বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় তিনি বসবাস করেন। ভোরে তিনি অটোরিকশা রাখার ঘর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। এর আগে মধ্যরাতে বাথরুমে যাওয়ার সময়ও তিনি অটোরিকশাটি দেখেছিলেন। হঠাৎ তার মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে তিনি তাকে শান্ত করছিলেন, তখনই অটোরিকশা চুরির ঘটনাটি তার নজরে আসে। স্ত্রী বিষয়টি জানানোর পর সোহেল দ্রুত বারান্দায় বেরিয়ে এসে অটোরিকশাটি আটকানোর চেষ্টা করেন। সে সময় চোরেরা তাকে অটোরিকশাসহ টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি হাত ছেড়ে দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। সোহেলের দাবি, এই ধস্তাধস্তিতে মাটিতে পড়ে তার হাঁটুর চামড়া উঠে যায়।সোহেলের চিৎকারে মসজিদের মুসল্লিরা বের হয়ে চোরদের ধাওয়া দেন। মসজিদের মাইকে চুরির ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয়রা বেরিয়ে আসে। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে তিস্তা সেচ ক্যানেল এলাকায় অটোরিকশাটি রেখে ধানক্ষেত দিয়ে পালানোর সময় রেজাউল ও সাদিকুলকে স্থানীয় জনতা ঘিরে ফেলে। এরপর তাদের গণপিটুনি দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ওসি আব্দুস ছবুর আরও জানান, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুরো ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়েছিল বাংলাদেশের যোগাযোগ স্যাটেলাইট বিএস-১। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সতর্কবার্তায় জানানো হয়, একটি পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুত বিএস-১–এর দিকে এগিয়ে আসছে।ঝুঁকি এড়াতে পরবর্তী চার দিন গাজীপুরের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) প্রকৌশলীরা। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট বিএস-১–এর কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তন করে ধ্বংসাবশেষটি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে স্যাটেলাইটটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বুধবার সকালে ঢাকার বাংলামোটরে সংস্থাটির  বলেন, ওই কয়েক দিন তাঁদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের ছিল। সময় ছিল কম, আবার বিএস-১–কে সরানোর সুযোগও ছিল সীমিত। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষতি ছাড়াই স্যাটেলাইটটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।মহাকাশে কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন সংঘর্ষে স্যাটেলাইটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমনকি পুরো স্যাটেলাইট ধ্বংসও হতে পারে। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অকেজো কসমস-২২৫১ ও যুক্তরাষ্ট্রের সচল ইরিডিয়াম-৩৩ স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়েছিল।ছুটে আসছিল ইনস্যাট-১এ–এর ধ্বংসাবশেষপৃথিবীর কক্ষপথে এখন হাজার হাজার সচল ও অকেজো বস্তু ঘুরছে। পুরোনো স্যাটেলাইট, রকেটের অংশ কিংবা মহাকাশযানের বিচ্ছিন্ন টুকরোগুলোকে সাধারণভাবে স্পেস ডেব্রিস বা মহাকাশের বর্জ্য বলা হয়। সচল স্যাটেলাইটের জন্য এসব বর্জ্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন সংস্থা। কোনো বস্তু ও স্যাটেলাইটের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।৯ আগস্ট পাওয়া সতর্কবার্তা থেকে বিএসসিএল জানতে পারে, বিএস-১–এর কাছাকাছি চলে আসতে থাকা বস্তুটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ।ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, ইনস্যাট-১এ ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। উৎক্ষেপণের কয়েক মাস পরই এতে সমস্যা দেখা দেয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এত বছর পরও এর কোনো অংশ পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে গিয়ে অন্য স্যাটেলাইটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।আগেও ঝুঁকিতে পড়েছিল বিএস-১বিএস-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় ২০১৮ সালের ১২ মে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের সময় এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নাম পরিবর্তন করে বিএস-১ রাখা হয়।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব যোগাযোগ ও সম্প্রচার সক্ষমতা তৈরি করে। উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়।তবে মহাকাশে বিএস-১–এর সামনে ঝুঁকি তৈরির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও স্যাটেলাইটটিকে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল।২০২১ সালে ঝুঁকির উৎস ছিল রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ। আর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইট বিএস-১–এর খুব কাছ দিয়ে চলে যায়।চার দিন ধরে চলেছে হিসাব-নিকাশফ্রান্সের থালেস অ্যালেনিয়া স্পেস ২০১৮ সালে বিএস-১ তৈরি করে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করত প্রতিষ্ঠানটি।বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২১ সাল থেকে বিএস-১ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বিএসসিএল। গাজীপুরের জয়দেবপুরে থাকা গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এখন স্যাটেলাইটটির নিয়ন্ত্রণের প্রধান কেন্দ্র।বিএসসিএলের হিসাবে, সেখানে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলী কাজ করেন। স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রকৌশলীরা পালা করে দায়িত্ব পালন করেন।৯ আগস্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কর্মীদের সতর্ক করা হয় এবং ছুটি বাতিল করা হয় বলে জানান এমডি ইমাদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টাও পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। মহাকাশের বস্তুটির অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে স্পেস ট্র্যাকার থেকেও নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল।তখন মূল প্রশ্ন ছিল, বিএস-১–এর কক্ষপথ পরিবর্তন করা হবে কি না। পরিবর্তন করলে কোন দিকে এবং কতটা সরানো নিরাপদ হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হচ্ছিল। কারণ স্যাটেলাইটকে এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য কক্ষপথে নেওয়ার পর নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়।ইমাদুর রহমান বলেন, সব তথ্য বিশ্লেষণের পর ১৩ আগস্ট বিএস-১–কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ধ্বংসাবশেষটি নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়া পর্যন্ত স্যাটেলাইটটিকে ওই অবস্থানে রাখা হয়। ঝুঁকি কেটে গেলে আবার বিএস-১–কে আগের কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষটি শেষ পর্যন্ত বিএস-১–এর প্রায় ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল।মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান ইমাদুর রহমান। তাঁর মতে, বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।মহাকাশ পরিচালনায় দক্ষতার পরীক্ষাবাংলাদেশের স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ২০টি বিদেশে ইজারা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিএস-১–এর সেবা ব্যবহার করে।মহাকাশে কোনো স্যাটেলাইটকে সম্ভাব্য সংঘর্ষ থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজটি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এর সঙ্গে কক্ষপথের হিসাব, সংঘর্ষের সম্ভাবনা, স্যাটেলাইটের জ্বালানি এবং নতুন কক্ষপথের ঝুঁকি—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপদ কক্ষপথ পরিবর্তনের হিসাব করতে হয়। তাঁর মতে, বিএস-১–এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা অল্প সময়ের মধ্যে ঝুঁকি বিশ্লেষণ, যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমানও বিষয়টিকে প্রকৌশলীদের সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো দক্ষতার বিষয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা এতে সফল হলে তা প্রশংসনীয়।

ববি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বিষয়ক বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ববি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বিষয়ক বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।ডয়েচে ভেলে একাডেমি (DWA)  এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপ।শুক্রবার (১৯ জুন) বরিশালের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে শুরু হওয়া এই বুটক্যাম্পটি আজ ২১ জুন ২০২৬ বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।বুটক্যাম্পে পাঁচটি ক্লাবের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ক্লাবগুলো হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেরিয়ার ক্লাব, অর্গানাইজেশন অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্স এন্ড হায়ার এডুকেশন সোসাইটি এবং বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর যৌথ অর্থায়নে এই বুটক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। অনলাইনে যুক্ত থেকে কর্মসূচিটি তত্ত্বাবধান করেন ডয়েচে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক নাইমুর রহমান এবং মাঠপর্যায়ে এটি পরিচালনা করেন পাঁচজন ফেলো।কর্মসূচিতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ। এসময় তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ কোনো সংবাদ পেলেই সত্য-মিথ্যা বা অপপ্রচার যাচাই না করেই তা ভাইরাল করে দেয়। যেকোনো ঘটনা বা দুর্যোগের সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং নৈতিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসময় তিনি বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণ করা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রত্যাশা রেখে আরো বলেন; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞ্যান লাভের মাধ্যমে তোমরা তার প্রতিনিধি হবে এটাই হলো সকলের প্রত্যাশা।এছাড়াও অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশারাফুল হক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান মো: ফরহাদ উদ্দীন।এছাড়াও আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, কমিউনিকেশন এন্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট অফিসার সাইফুর রহমান, রিসার্স এন্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিষ্ট সাজ্জাদুল করিম, অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার।উল্লেখ্য, "Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0" প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

হোয়াটসঅ্যাপে এআই বিপ্লব: ব্যবসার নতুন সঙ্গী মেটা বিজনেস এজেন্ট

হোয়াটসঅ্যাপে এআই বিপ্লব: ব্যবসার নতুন সঙ্গী মেটা বিজনেস এজেন্ট

ব্যবসায়িক জটিলতা কমাতে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এখন মুহূর্তেই সামলাতে পারবেন গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে বিক্রয় ব্যবস্থাপনার কাজ।ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিধি ও সেবা সহজ করতে এবার বিশ্বব্যাপী হোয়াটসঅ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ‘মেটা বিজনেস এজেন্ট’ চালু করেছে মেটা। এতদিন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই প্ল্যাটফর্মটি এখন ব্যবসায়িক অটোমেশনের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। মেটার এই নতুন প্রযুক্তি কেবল গ্রাহকদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই নয়, বরং পণ্যের সুপারিশ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং এবং সম্ভাব্য ক্রেতা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।মেটা জানিয়েছে, কোনো জটিল বিষয়ে যদি এআই এজেন্টের পক্ষে উত্তর দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কথোপকথন মানব কর্মীর কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকবে, যা গ্রাহকসেবাকে আরও নিখুঁত করবে। ভারত ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোতে প্রায় দুই বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সফলতার পরই তা বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করা হলো। শুধু হোয়াটসঅ্যাপেই নয়, খুব শিগগিরই ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজ (ডিএম) সেবাতেও এই এআই বট ব্যবহারের সুযোগ পাবে ব্যবসায়ীরা।ভবিষ্যতে এই এজেন্টের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। বাজার গবেষণা পরিচালনা, পণ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা, ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের মতো জটিল কাজগুলোও এই এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টম এআই এজেন্ট তৈরির প্ল্যাটফর্মও প্রস্তুত করছে মেটা, যা Shopify, Zendesk এবং Shopee-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা যাবে।মেটার এই নতুন পদক্ষেপকে ব্যবসায়িক কৌশলের এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। এতদিন ক্লিক-টু-হোয়াটসঅ্যাপ বিজ্ঞাপন থেকে আয় করলেও, এখন এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার সেবায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল অটোমেশন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য টোকেন-ভিত্তিক অর্থের বিনিময়ে এই সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। সব মিলিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপ এখন কেবল চ্যাটিং অ্যাপ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকটাই এগিয়ে গেল।মেটা বিজনেস এজেন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ এআই, ডিজিটাল বিজনেস, গ্রাহকসেবা অটোমেশন, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রযুক্তি, মেটা এআই সেবা, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস আপডেট।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

সরকারি অর্থে নির্মাণ, উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় ধস, এরপর টানা ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার একটি ব্রিজের গল্প যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রই তুলে ধরে। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানিতে ধসে পড়ার পর দীর্ঘ এক যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও চরম ভোগান্তির শিকার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের মাঝখানে একপাশ দেবে গিয়ে কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা ব্রিজটির অবশিষ্টাংশ। দুই পাশের সংযোগ সড়ক বহু আগেই বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে। ফলে সেতু থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ অচল। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৪ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতারহাট সড়কের সাঁকোর পাড় এলাকায় খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুর একপাশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।এর ফলে লেনোরপাড়া, কুরারপাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতিপাড়া, বটতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বর্ষায় নৌকায় খাল পার হতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আলামীর হোসেন বলেন, “ব্রিজ ভাঙার পর চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার গেছি। ১২ বছরেও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।ডাঃ রতন বলেন, “এটাই ছিল উপজেলা শহরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। এখন আমরা যেন নিজ এলাকাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি।”শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, “বর্ষায় নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। আবার শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।”নুর নাহার বেগম বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খবর নেয় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। আমরা শুধু একটি নতুন ব্রিজ চাই।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙা ব্রিজের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও টেকেনি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ৩০ ফুট ব্রিজের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, “নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাত্র এক বছরেই ধসে পড়া ২৭ লাখ টাকার ব্রিজের নির্মাণমান ও তদারকির দায় কার? কেন ১২ বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ? আর কতদিন আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবে ২০ হাজার মানুষ?—এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত।

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

ভ্রমন তরী মস্তল সম্প্রতি কুড়িগ্রম জেলার চিলমরীতে ব্রহ্মপুত্র নদে এ এলাকার বিস্তির্ন চরাঞ্চলের মানুষের বসতি, জীবন যাত্রার মান, নতুন অভিজ্ঞতা ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে অনেক দূর থেকে এসেছে। দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, এ প্রতিপাদ্য যেন স্বচোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। সাধারনত পাহাড় দেখতে এ অঞ্চলের মানুষকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। কিন্তু  কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত  ১৭টি নদ-নদীর প্রবাহ, সংযোগ স্থান, দুধ কুমোর,ফুল কুমোর,সঙ্কোশ, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম,তিস্তা, ধরলা হলহলিয়া ও বিশেষ করে সাহেবের আলগা- বেগম গঞ্জের নুনখাওয়ায় সোজা পূর্ব থেকে ভারতের পাহাড়ের তলদেশ থেকে কিভাবে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা স্ব-চোখেই অবলোকন করা যায়। আর একটু দূর হতে হলেও আপনি যদি এ স্থানটিতে দাড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে তাকান দেখবেন কি এক অপূর্ব দৃশ্য!  চোখের সমনেই আসামের বিশাল নয়নাভিরাম সু-উচ্চ পাহাড়!!  তাৎক্ষনিক ভাবে ভুলেই যাবেন যে আপনি কোথায় আছেন। এ সব ছাড়াও চরাঞ্চলের গরু,মহিষের সারি, বির্স্তিন চর জুড়ে বাদম কলাই,ভূট্টা কতকি ফসল ও চর বসতিদের ঘরবসতি। সে দেখার সুযোগ গুলো এলাকার কিছু অর্বাচিনদের না ধারনায় বিরুপ হয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। তারপরও তারা একটু দূরে চলে গেলেও উত্তরবঙ্গের বিশাল সবনতন ধর্মাবলম্বিদের স্নান উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর অষ্টমীর মেলা উপলক্ষে মাস্তুল হাউসবোট নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ।  এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাসতল কতৃপক্ষের অষ্টমীর স্নান ও মেলা উদযাপন ভ্রমনের সুযোগ এনেছেন। তারা জানান, একদিকে ২০০ বছরের পুরনো মেলার লোকজ আমেজ, আর অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মাস্তুলের রাজকীয় আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আপনার এই ভ্রমণ হবে আজীবনের স্মৃতি!মাস্তলের এই ট্রিপে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের আহব্বান, চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী  অষ্টমীর মেলার বর্ণিল আয়োজন দেখার সুযোগ, ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ: গাইবান্ধার কামারজানি বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চরাঞ্চল ঘুরে দেখা, অভিজাত আবাসন: মাস্তুলের প্রিমিয়াম কেবিনে নদের বুকেই রাত কাটানোর রোমাঞ্চ। খাবার: ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার টাটকা আইড়, বাঘাইড় কিংবা বোয়াল মাছের জিভে জল আনা মেনু। শান্তি ও নির্জনতা: শহুরে কোলাহল ছেড়ে চরের বালুকাবেলায় সূর্যাস্ত দেখার প্রশান্তি। চিলমারীর অষ্টমীর মেলা (যা চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নান উৎসব)। তাদের এই যাত্রা শুরু হবে,  কামারজানী বন্দর হতে  ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অষ্টমীর মেলা ভ্রমণ।

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোণা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) উৎসবমুখর পরিবেশে সংবর্ধনা ওগ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহানা আফরোজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী সাত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় হাসেম বৃত্তি।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বাবুল আহম্মদ। সহকারী শিক্ষক ফারুক আহম্মেদ রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।অনুষ্ঠানে সংবর্ধনার জবাবে জাহানা আফরোজ বলেন, একসময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে বিদ্যালয়টিকে নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও জাতীয়করণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের কাছেও সুপারিশ করবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।জাহানা আফরোজ নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর সহধর্মিণী। অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া সাত শিক্ষার্থীর হাতে হাসেম বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিত শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা ও নাট্যাংশের অভিনয় উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দর্শকদের মুগ্ধ করে। আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিশ্ব কন্যা দিবস পালন এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।সকাল ১১টায় ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “প্রতিটি কন্যাই একেকটি আলোর প্রদীপ।” তিনি কন্যাশিশুর অধিকার, মর্যাদা ও সম্ভাবনা বিকাশের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।পরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল-ইসলাম চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান।এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, প্রান্তিক ও প্রকৃত উপকারভোগী পরিবারের সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।দুটি সভায় উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও বিএনপি নেতা মজনু রহমান খন্দকার। মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি চারণ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা প্রমূখ।এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান,শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী,সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ,গণ-মাধ্যমকর্মী-গণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।স্ট্যাটাসে মাজেদ বাবু দাবি করেন, সার ডিলার লাইসেন্সকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লেখেন, “ঈশ্বরগঞ্জে এক টাকার অনৈতিক সুবিধা আমি নিই না, কোনো দিন নেবও না।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরিষা ইউনিয়নে ডিওর আওতার বাইরে সার ডিলার লাইসেন্স দেওয়া হলে এবং অন্যদের পাশ কাটিয়ে কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স পেলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।লাইসেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে কারা, কোথা থেকে এবং কত শতাংশ হারে টাকা নেন, তা তিনি জানেন বলেও স্ট্যাটাসে দাবি করেন। তবে এত দিন তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি বলে উল্লেখ করেন।স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এর অফিসিয়াল উত্তর না পাব, ঈশ্বরগঞ্জে কেউ কোনো মনোনীত লোক সার ডিলার লাইসেন্স পাবেন না।”তিনি আরও লেখেন, “আমাদের লোকেরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সার ডিলার লাইসেন্স দেবেন—তা হবে না। আমরা নিজেদের টাকায় থানায় গাড়ি কিনে দেব, আর আপনারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবেন—তা হবে না।”প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ সদস্য লেখেন, “কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার।”সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।সূত্র: সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাস লিঙ্ক-https://www.facebook.com/share/p/1DuzKZdqex/

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

‘ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে'; সম্পাদক মোস্তফা মামুনদৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় গত ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড.সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারীএকান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারী কলেজ ও দিনাজপুর সরকারী কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি।বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অফ কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষাখাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।বর্অমানে অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন যা দেখে কিছু মানুষ তার এই কাজে ইর্ষা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে হেও পতিপন্ন করার জন্য নানা রকম প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।নির্বাচনে সভাপতি পদে মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহসভাপতি পদে আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিলন), কোষাধ্যক্ষ পদে এটিএম জোবায়েদ উর রহমান (জবা) এবং দপ্তর সম্পাদক পদে আব্দুল জলিল সরকার নির্বাচিত হয়েছেন। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ওয়াহেদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে মহসীন আলী, নুর আলম সিদ্দিক, সাজেদুর রহমান নওশাদ এবং মো. হেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুদ্দোহা দুলু। নির্বাচন পরিচালনায় একজন প্রিজাইডিং অফিসার, একজন পোলিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পার্বতীপুর মডেল থানা ও পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩০ মে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

শরতের মায়ায় সাজা ব্রহ্মপুত্রের পাড় ও কাশফুলের রাজ্য

শরতের নীল আকাশজুড়ে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ছায়ার নিচে শান্ত ব্রহ্মপুত্র নদী। নদীর দুই তীর এখন সেজেছে শুভ্র কাশফুলে, যেন প্রকৃতি নিজের হাতে সাদা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। ভোরের প্রথম আলো যখন এই কাশফুলের ওপর পড়ে, তখন পুরো এলাকা এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্রের এই রূপ প্রকৃতির সান্নিধ্যপ্রত্যাশীদের জন্য এক শান্তির নীড় হিসেবে পরিচিত।তবে ব্রহ্মপুত্রের তীর শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের আধার নয়, বরং এখানে মিশে আছে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার গল্প। নদীকেন্দ্রিক এই জনপদের প্রতিটি বাঁকে জড়িয়ে আছে চিরচেনা জীবনের নানা ব্যস্ততা। ভোরের আলো ফোটার অনেক আগে থেকেই মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর ছোট ছোট নৌকার যাতায়াতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে নদী। শরতের শান্ত কাশবন আর জীবনসংগ্রামী মানুষের নৌকার এই সহাবস্থান এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা করে।সূর্যের আলো বাড়ার সাথে সাথে কাশফুলের সাদা পাপড়িগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বাতাসের দোলায় যখন কাশফুলগুলো দুলতে থাকে, তখন নদীর জলের আলো-ছায়ার খেলায় এক অপার্থিব দৃশ্যের জন্ম হয়। নদীর বুকের চিকচিক করা জল আর ঢেউয়ের দোলা যেন আকাশের সাদা মেঘ ও তীরের কাশফুলের সাথে সৌন্দর্যের এক নীরব প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। প্রতিদিন অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু মানুষ এই রূপ দেখতে ছুটে আসেন।নদী পেরিয়ে অপর পাড়ে গেলেই চোখে পড়ে বিস্তৃত কাশফুলের সমারোহ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ মাঠের ওপর যেন তুলোর আস্তরণ বিছানো। কোথাও কোথাও কাশবন ঘন হয়ে উঠেছে, আবার কোথাও ফাঁক দিয়ে নদীর জল দেখা যাচ্ছে। প্রকৃতির এই সাজে কোনো কৃত্রিমতার ছোঁয়া নেই, ঋতুর নিজস্ব নিয়মেই যেন শরতের এই রূপ প্রকাশিত হয়েছে।কাশফুলের রাজ্যে সৌন্দর্যের খোঁজে আসা মানুষের পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা মানুষের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কৃষকরা তাদের ফলানো টাটকা সবজি—লাউ, চিচিঙ্গা, ডাঁটাশাক, মুলাশাক কিংবা কলমিশাক—নৌকায় করে বাজারে নিয়ে যান। নদী তাদের কাছে কেবল প্রকৃতির অংশ নয়, বরং প্রতিদিনের চলাচলের পথ ও বেঁচে থাকার অবলম্বন।কাশবনের পাশে নৌকা ভেড়ানো, শাকসবজি ওঠানো-নামানো কিংবা মাঝির বৈঠা হাতে অপেক্ষার দৃশ্য শরতের স্নিগ্ধতায় যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। একদিকে প্রকৃতির শান্ত স্নিগ্ধতা, অন্যদিকে জীবনের প্রয়োজনে মানুষের নিরন্তর ছুটে চলা। যেখানে একজন মানুষ ফুলের সৌন্দর্য দেখতে এসে সময়কে থামিয়ে দিতে চান, সেখানে অন্যের কাছে জীবিকার প্রয়োজনে সময়ের মূল্য অনেক বেশি। এই বৈপরীত্যই ব্রহ্মপুত্রের পাড়কে কেবল ছবির মতো সুন্দর নয়, বরং জীবনের মতো বাস্তব করে তোলে।বেলা বাড়ার সাথে সাথে নদীর পাড়ে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। কেউ নৌকায় নদী পার হন, আবার কেউ বা কাশবনের পাশে কিছুটা সময় কাটিয়ে দৈনন্দিন ব্যস্ততায় ফিরে যান। কিন্তু নদীর হাওয়া, জলের শব্দ আর কাশফুলের দোল তাদের মনে যে প্রশান্তি দিয়ে যায়, তার পরিমাপ নেই। মানুষের তৈরি কোনো আয়োজন ছাড়াই প্রকৃতি মানুষকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনার এক অনন্য ক্ষমতা রাখে।শরৎ আসে, আবার চলেও যায়। একসময় কাশফুলের সাদা সমারোহ কমে আসে, আকাশের রঙ আর নদীর তীরের দৃশ্যপট বদলে যায়। কিন্তু ব্রহ্মপুত্রের স্রোত কখনো থেমে থাকে না। প্রতিদিনের মতো নদী বয়ে চলে, নৌকা পারাপার হয়, কৃষকরা জীবিকার সন্ধানে ছুটে চলেন। ঋতুর পরিবর্তনের মাঝেও এই প্রবাহই নদীর চিরন্তন রূপ।বাকৃবির পাশের ব্রহ্মপুত্রের তীরে শরতের কাশফুল কেবল চোখ জুড়ানো দৃশ্য নয়, এটি মানুষের কর্মব্যস্ততা ও প্রকৃতির সৌন্দর্য মিশে থাকা একটি গল্প। সাদা কাশফুলের দোলের সঙ্গে বৈঠার ছন্দ আর নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে মানুষের জীবনের এক অমোঘ মেলবন্ধন ফুটে ওঠে এখানে। নীল আকাশের নিচে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায় যখন সেখানে জীবনের গল্প খুঁজে পাওয়া যায়।

বিস্তারিত

রংপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত দুই ব্যক্তি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাট গ্রামে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রোববার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার পুকুরখুড়ির দোলা ক্যানেল এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের দায়িত্ব নেয়। পুলিশ লাশে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভোরবেলা বাগপুর বাগেরহাট গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা নিয়ে পালানোর সময় তিনি তা টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে পাশের মসজিদের ইমাম বিষয়টি বুঝতে পেরে মাইকে ঘোষণা দিলে ফজরের নামাজে আসা স্থানীয় মুসল্লিরা ছুটে আসেন। স্থানীয়দের ধাওয়ায় অটোরিকশাটি ফেলে চোরেরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের পিছু নেওয়া হয়। পরে ফজরের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিসহ স্থানীয় লোকজন অটোরিকশাসহ দুই ব্যক্তিকে ধাওয়া করেন।সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পশ্চিমে উত্তর পানাপুকুর এলাকার পুকুরখুড়ির দোলা ক্যানেলের কাছে পৌঁছালে স্থানীয়রা ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করেন। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর ছবুর জানিয়েছেন, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং ঘটনার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সিআইডি ও পিবিআই-এর ক্রাইম সিন টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বিস্তারিত

সোনাইমুড়ীতে চায়ের দোকানে বসে থাকা ব্যক্তিকে গুলি করে জখম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের গুলিতে জামাল উদ্দিন (৬০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামের বটতলী এলাকায় সালাউদ্দিনের চায়ের দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন স্থানীয় মিজি বাড়ির প্রয়াত সাখায়েত উল্যার ছেলে। তিনি এলাকায় সাবেক প্রবাসী হিসেবে পরিচিত এবং অতীতে নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণাও চালিয়েছিলেন।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে জামাল উদ্দিন বটতলী বাজারের ওই চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় কালো পোশাকে সজ্জিত এবং হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে দোকানটির সামনে থামে। মুহূর্তের মধ্যেই তারা জামাল উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হামলায় তার বাম পা ও রানে গুলি লাগে। উপস্থিত স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে চায়ের দোকানে বসে থাকা জামাল উদ্দিন (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে কালো পোশাক ও হেলমেট পরা দুই দুর্বৃত্ত।হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিনের পায়ে ও রানে আঘাত রয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। ঘটনার পরপরই সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওসি কবির হোসেন জানান, হামলার নেপথ্যে কোনো কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তৎপর রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিস্তারিত

‘আমি এখন বিএনপি নেতা’, মন্তব্য পীরগঞ্জের ইউএনওর

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্যে হাততালি দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন পীরগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার। সম্প্রতি উপজেলার ৯ নম্বর সেনগাঁও ইউনিয়নের আমতলী শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। ওই সভায় উপস্থিত লোকজনকে সাইদুর রহমানের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এমপি বলেন, আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন, এবার সাইদুর রহমানকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।এমপির এই নির্বাচনী বক্তব্যের সময় পাশে বসে থাকা ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারকে বারবার হাততালি দিতে দেখা যায়। এই দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা লিখে দেন, এমপির সঙ্গে ইউএনও নির্বাচনী প্রচারণায়। আর এভাবে লিখবেন যে, ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ।’ ভিডিওতে তাকে বক্তব্যের বিভিন্ন পর্যায়ে করতালি দিয়ে সমর্থন জানাতেও দেখা গেছে।নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘যে দলের সরকার ক্ষমতায় থাকে, আমি সেই দলেরই নেতা। আমার আদর্শ হলো সরকারি দলের আদর্শ।’ তিনি সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন তার এই বক্তব্যের ক্লিপ প্রচার করে তাকে সারা দেশে ভাইরাল করে দিতে। তিনি দাবি করেন, তার কর্মকাণ্ডের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, এমনকি ডিসি বা কমিশনারের পক্ষেও তাকে থামানো সম্ভব নয়। সব প্রশাসনিক কাজ সংসদ সদস্যের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এরপর সাংবাদিককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তাহলে আপনার ওই অংশটুকুই খালি ক্লিপে বের করেন আর লিখে দেন, যাতে করে আমি একটু ভাইরাল হই সারা দেশে। এগুলোর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার কেন, আমার সেক্রেটারিরই নাই, আমার ডিসি স্যারের নাই, আমার কমিশনার স্যারের নাই।একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন অতিউৎসাহী আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে এমপির রাজনৈতিক সভায় প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে হাততালি দিতে পারেন। যেখানে এমপি সরাসরি একজন প্রার্থী ঘোষণা করছেন, সেখানে ইউএনওর এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ এএম
সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ এএম
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ এএম
ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

২৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

ধুনটে চেকপোস্ট বসাতে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর গ্রেপ্তার ২

২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
ধুনটে চেকপোস্ট বসাতে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর গ্রেপ্তার ২

মিঠামইন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত চিকিৎসা সেবা

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
মিঠামইন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত চিকিৎসা সেবা

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

রংপুরে অটোরিকশা চুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তির প্রাণহানি

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
রংপুরে অটোরিকশা চুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তির প্রাণহানি

শরতের মায়ায় সাজা ব্রহ্মপুত্রের পাড় ও কাশফুলের রাজ্য

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০ এএম
শরতের মায়ায় সাজা ব্রহ্মপুত্রের পাড় ও কাশফুলের রাজ্য

দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমল প্রতি ভরি ৩,৩২৪ টাকা

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৫ এএম
দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমল প্রতি ভরি ৩,৩২৪ টাকা

নেতানিয়াহুর ব্যর্থতার তদন্ত দাবিতে উত্তাল তেল আবিব

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
নেতানিয়াহুর ব্যর্থতার তদন্ত দাবিতে উত্তাল তেল আবিব

রংপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত দুই ব্যক্তি

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
রংপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত দুই ব্যক্তি

বাবুই শিশুসাহিত্য উৎসব: ‘পাখপাখালির ছড়া’ গ্রন্থের জন্য সেরা লেখক কবি এনামুল হক পলাশ

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ এএম
বাবুই শিশুসাহিত্য উৎসব: ‘পাখপাখালির ছড়া’ গ্রন্থের জন্য সেরা লেখক কবি এনামুল হক পলাশ

দুই মাসের সর্বোচ্চ দরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ এএম
দুই মাসের সর্বোচ্চ দরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম

শান্তি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে নেহা বোরার স্পষ্ট অস্বীকৃতি

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
শান্তি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে নেহা বোরার স্পষ্ট অস্বীকৃতি
PublicVoice representative application
হিরোগিরি

হিরোগিরি

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ এএম

সিনেমা হলের ভেতর চলছে তুমুল অ্যাকশন দৃশ্য। এক যুবক মনোযোগ দিয়ে সিনেমা দেখছে, কিন্তু তার পাশের সিটে বসা এক বৃদ্ধের কারণে সে বেশ অস্বস্তিতে আছে। বৃদ্ধের হাতে একটি ছোট পেপসির বোতল, আর তিনি ঠিক পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর বোতলে একটা জোরালো চুমুক দিচ্ছেন। শব্দটা যুবকের সিনেমার উপভোগে বারবার বাধা সৃষ্টি করছিল। অনেকক্ষণ সহ্য করার পর যুবকের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে বিরক্ত হয়ে বৃদ্ধের হাত থেকে বোতলটা ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে বলল, "চাচা, সিনেমার চেয়ে আপনার পেপসি খাওয়া নিয়ে আমি বেশি ডিস্টার্ব হচ্ছি। এটুকু পানীয় খেতে এত নাটক করতে হয়? এই দেখুন, কীভাবে একবারে শেষ করতে হয়!"এই বলে যুবক বোতলটি মুখে দিয়ে এক ঢোকে সবটুকু পানীয় গিলে ফেলল। তারপর বোতলটা বৃদ্ধের হাতে ফেরত দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসল।বৃদ্ধ বোতলটা হাতে নিয়ে অবাক চোখে যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন, "বাবা, আমার পেপসিটা তো তুমি খেলে না, কারণ ওটা তো পেপসিই ছিল না। আসলে আমার পানের অভ্যেস তো, তাই পানের পিকগুলো ওই বোতলে ফেলছিলাম!"