ইবিতে সংবর্ধনা পেলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষরা

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ইউট্যাব (ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ) সংগঠনটি যখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন লন্ডনে থাকা অবস্থায় তিনি এর অনুমোদন দেন এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। —ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।এ সময় ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান।আরও অতিথি ছিলেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. তোজাম্মেল হোসেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাকির হুসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মমতাজ হোসেন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী।আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষকদের এখানে এবং বাইরেও বিভিন্ন দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে— এটা আমাদের জন্য গর্বের। আমাদের আচার্য যেই নিয়তে আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন সেই দায়িত্বটা যেন আমরা যথাযথভাবে পালন করতে পারি এজন্য দোয়া চাই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক ইসলামিক, সাধারণ ও বিজ্ঞান শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ইউট্যাব (ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ) সংগঠনটি যখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন লন্ডনে থাকা অবস্থায় তিনি এর অনুমোদন দেন এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ইউট্যাব-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম এবং মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, মামলা-হামলা ও গুম হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা অন্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বড় অর্জন। আমরা একজোট হয়ে এই ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে পেরেছি।

চবি আবৃত্তি মঞ্চের সভাপতি সামান্তা, সাধারণ সম্পাদক শান্ত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) আবৃত্তি মঞ্চের ২০২৬-২০২৭ সেশনের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোছাম্মৎ সাজেদা ইসফাত রহমান সামান্তা এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জুনাইদ হোসেন শান্ত।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া এলাকার ট্যালেন্ট স্কুলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।নবগঠিত কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে উম্মে সালমা হিমি, সহ-সভাপতি হিসেবে মো. সাব্বির মাহোসেন ও ঐতিহ্য দেওয়ান, সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিপ্রা তঞ্চঙ্গ্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইব্রাহিম প্রধান এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মিথিলা মল্লিক লিলি দায়িত্ব পেয়েছেন।এ ছাড়া অর্থ সম্পাদক আফরুনা হক উষা, অনুষ্ঠান সম্পাদক নাজনীন নাহার সাদী, সহ-অনুষ্ঠান সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল করিম আজাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মাহফুজুল হক তুষার, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রিদওয়ানুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দা নাফিসা তাবাসসুম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক সিরি পাত্র দায়িত্ব পেয়েছেন।কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইব্রাহিম খলিল, আফনান, মহাসাইন, পুষ্প, ছানাউর, আনোয়ার, প্রমিতা, নাইং শশী সিং মারমা, রিসপা, জায়েদ ও তাহমিদুর।সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাছুম আহমেদ। উপদেষ্টা পরিষদে আরও ২৪ জন সদস্য রয়েছেন।নতুন দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সভাপতি মোছাম্মৎ সাজেদা ইসফাত রহমান সামান্তা বলেন, এ দায়িত্ব প্রাপ্তি যেমন সম্মানের, তেমনই এক বিশাল দায়বদ্ধতা। সংগঠনের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ধারণ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুন উদ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চকে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ করে তোলাই আমার লক্ষ্য।”সাধারণ সম্পাদক জুনাইদ হোসেন শান্ত বলেন, আমার ওপর আস্থার মর্যাদা রক্ষায় আমি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। সবার সহযোগিতা নিয়ে আবৃত্তি চর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে।দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অঙ্গন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চিটাগং ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, চিটাগং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ডিবেট, লোকজ সাংস্কৃতিক সংগঠন, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ, বোধন আবৃত্তি পরিষদ ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সম্মিলিত আবৃত্তি জোট চট্টগ্রামের সভাপতি ফারুক তাহের ও সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চবি দুর্যোগ তহবিলের অর্থ বিতরণ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন তহবিল’। বন্যাকবলিত ১০টি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে এই নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।​জার্মানিভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘TOM TAILORS’-এর আর্থিক সহায়তায় এ অর্থ সংগ্রহের সমন্বয়ে ছিলেন চবির দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আসিফ হোসেন।​অর্থ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন তহবিলের সদস্য শাহাদাত হোসেন, সাব্বির হাসান সাকিন এবং বাঁশখালী স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ রায়হান চৌধুরী ও বাঁশখালী স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি হাফেজ মোঃ বোরহান উদ্দীন।​আয়োজকরা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমন্বিত এ প্রয়াস দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ইতিবাচক মানবিক দৃষ্টান্ত বলে জানান তাঁরা।

চবিতে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকের হুমকির পর হল প্রভোস্টের পদত্যাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান কর্তৃক নিজগ্রুপের কর্মীকে হলে সিট না দেওয়ার কথা-কাটাকাটির পর হল প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন চবির সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান।সোমবার (৩১ আগষ্ট) রাত ৮টায় তিনি এ পদত্যাগ করেন। তবে পদত্যাগ পত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।জানা গেছে, সোমবার দুপুরে সদ্য স্নাতকোত্তর শেষ করা চবি ছাত্রদল কর্মী রাশিদুল ইসলামের সিট বরাদ্দের জন্য সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টের সঙ্গে ফোনালাপ করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। সম্প্রতি রাশিদুল ইসলাম স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন বলে জানা গেছে। কর্মীর ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও চবি সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রভোস্টকে আসন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। এ নিয়ে এক পর্যায়ে তিনি হলের প্রভোস্টকে চাপাচাপির পর হুমকি দেন। তাদের কথোপকথনের অডিও ক্লিপ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।চবির সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান, আমি এসব বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না, আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত থাকুক। ছাত্র সংগঠনগুলো যেন সংঘর্ষে না জড়ায়। আমার পদত্যাগে কিছু আসে যায় না। শিবিরের বিক্ষোভ কর্মসূচি: ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান কর্তৃক হল প্রভোস্টকে হুমকি প্রদানের ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল নেমেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মোড়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে সোহরাওয়ার্দী হলসহ স্যার এ.এফ রহমান হল ঘুরে আবার জিরো পয়েন্ট এসে বক্তব্যের মাধ্যমে মিছিল শেষ করে।

শিবিরের নবীন বরণ পেল চবির ২৫০০ শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ২৫ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা ও নবীন বরণের আয়োজন করেছে ইসলামি ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এই নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংগঠনটি। এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রবেশলগ্নে বিভিন্ন গিফট, কুরআন, অনুপ্রেরণামূলক বই, ফুল, টি-শার্ট, স্নাক্স, ওয়ালেটসহ বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেয়।সংগঠনটির সূত্র জানিয়েছে, ২৮ লক্ষ টাকা খরচে তাদের এই নবীন বরণে ২৫০০ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছে। তবে এর বেশি শিক্ষার্থীকেও বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সংগঠনটি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও চবি শিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, চাকসু জিএস সাইদ বিন হাবিবসহ সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

 ইরান যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরতে হবে: মোজতবা খামেনি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত সরে যেতে হবে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য বলে ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের যোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে মার্কিন বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। তাঁর দাবি, খুব শিগগির আরব সাগরও মার্কিন উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে।এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। সাত মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান সাত দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রস্তাবটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে প্রণালিটি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব তাঁর বর্তমান অবস্থানের সঙ্গেও যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মার্চে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন।তবে যুদ্ধের সময় তাঁর নিজের আহত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি ও গুঞ্জন রয়েছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হলে তা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে দীর্ঘ সময় তাঁকে জনসমক্ষে না দেখা যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর শারীরিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়।মোজতবা খামেনির কঠোর বক্তব্য এবং যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—দুটি ঘটনাই একই সময়ে সামনে এসেছে। এর ফলে ইরানের অবস্থানে সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের বড় পার্থক্যগুলো এখনো রয়ে গেছে।ইরানের জন্য মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা।ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও তা দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। আগের যুদ্ধবিরতির অভিজ্ঞতাও দেখিয়েছে, সমঝোতায় পৌঁছানোর পর সেটি টিকিয়ে রাখাই হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।এখন নজর থাকবে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যোগাযোগ কতটা এগোয় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো বাস্তব সমঝোতা হয় কি না। একই সঙ্গে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছে, সেটি আলোচনার পরিবেশকে কতটা প্রভাবিত করে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার গণ্ডি ছাড়িয়ে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিপরীতে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি হলে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ নয়, কমাতে বলল ওয়াশিংটন

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের বদলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানকে শুধু পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিলে হবে না; সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বাস্তব সক্ষমতাও কমাতে হবে।আলাস্কার ফেয়ারব্যাঙ্কস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বাচনি সমাবেশের আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এসব কথা বলেন।ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। পরে আলোচনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন অবস্থান কঠোর হয় এবং ইরানের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি সামনে আসে।মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও এর আগে বলেছিলেন, ইরানে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থাকা উচিত নয়। ভ্যান্সের বক্তব্যে এখন সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।ভ্যান্সের যুক্তি, ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য না রাখে, তাহলে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত বা উৎপাদনের সক্ষমতা রাখার প্রয়োজন কী। তার মতে, ইরানের বাস্তব সক্ষমতা কমানোই হবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা নেই—এমন দাবির বিশ্বাসযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ইরান যুদ্ধ ও বিশ্ব সমাচার

প্রায় এক মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্রে-ইজ্রাইল ইরান যু'দ্ধ।  প্রত্যাক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় ২০টির ও বেশি দেশ জড়িয়ে পড়েছে এই যুদ্ধে।আসলে কে জিতলো? আর কে হারলো?আসুন জেনে নিই সমীকরণ :যুক্তরাষ্ট্র:যাকে এই যুদ্ধের মূল হোতা হিসাবে চিন্তা করা হয় সে হলো যুক্তরাস্ট্র। এখনো পর্যন্ত তাদের দাবি তারা আংশিক জয় পেয়েছে। কিন্তু  $১৬.৫ বিলিয়নের বেশি খরচ হয়েছে তাদেরকে। হারিয়েছে অসংখ্য সেনা, ফাইটার ১৫, আব্রাহাম লিংকন, জেরার্ডের মত যুদ্ধ জাহাজ। খোদ আমেরিকাতেই বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ। মিত্র দেশগুলো অহরহ দিচ্ছে যুদ্ধ বন্ধের চাপ।ই'রানঃযাকে কেন্দ্র করে এ-ই যুদ্ধ সেই ইরান অনেকটাই বিধ্ব'স্ত। সেনাবাহিনী ক্লান্ত,  নৌবাহিনী ব্যপকভাবে ক্ষ'তিগ্রস্ত, সর্বোচ্চ নেতা-সহ প্রায় সকল নেতৃত্ব নি'হত। হাজর হাজার মানুষ নিহত। বাড়িঘর, রাস্তা, ব্রিজ, কলকারখানা প্রায় সব শেষ। তেহরান পরিনত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। মিত্রদের প্রকাশ্য কোনো সহযোগিতা নেই। প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে মিসাইল উৎপাদন, শেষ হয়ে আসছে মজুতও। ই'জ্রায়েলনিজেদের আংশিক জয়ী ঘোষণা করলেও এখনো পর্যন্ত খরচের পরিমান পার হয়প গেছে $৬.৪ বিলিয়ন। অনেক ক্ষ'য়'ক্ষ'তি হয়েছে তবে তা প্রকাশ করে না। ধ্বংস হয়ে গেছে তেল আবিবের মত প্রসিদ্ধ শহর। বাজে ভাবে ভেঙে পড়েছে আয়রন ডোম ব্যাবস্থাপনা।কাতার:যদিও যুদ্ধে কাতর জড়িত নয়, কিন্তু কাতারে মার্কিন ঘাঁটি তাকায় সেদেশেও হামলা চালিয়েছে ইরান।  কাতারেে LNG (গ্যাস) স্থাপনায় হা'মলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে।এছাড়াও ক্ষ'তিগ্রস্ত হয়েছে  সৌদি আরব। হামলা হয়েছে তাদের  তেলক্ষেত্রে। ক্ষ'তিগ্রস্ত হয়েছে  আরব আমিরাত । দুবাই বিমানবন্দর ব'ন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে লেবানন । লেবাননে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯০০। দুই দেশের মাঝখানে পড়ে আক্রান্ত হয়েছে ইরাক ।  কুয়েত ক্ষ'তিগ্রস্ত হয়ে আঘাত পেয়েছে জিডিপিতে। তাদের প্রায় ১৪% জিডিপি কমার আশ'ঙ্কা করা হচ্ছে।বাহরাইন টিকে আছে, তবে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে।  ইয়েমেন অপেক্ষায় আছে। হুথি গোষ্ঠী প্রস্তুত। যেকোনো সময় তারাও যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে।  রাশিয়া এখনো বিভক্ত অবস্থায় আছে। তারাও যুদ্ধে অসংখ্য ড্রোন হারিয়েছে, কিন্তু তেল বিক্রি করে লাভ করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছপ চীন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তারায় ইরানের সস্তা তেলের গ্রাহক। তারা  সস্তায় ই'রানের তেল কিনছে, এবং তাদেরকে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে।যদিও ভারত, পাকিস্তান টিকে আছে। কিন্তু তেলের জন্য হিমশিম খাচ্ছে। উভয় দেশেই জ্বালানি সং'কট বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের মত নিরেপক্ষ শক্তিও। ওদিকে তুরস্ক উন্মুক্ত ঝুঁকিতে আছে। যেকোনো সময় যুদ্ধের গ্রাসে জড়িয়ে যেতে পারে তারাও।ইরান সীমিত অথবা বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রনালী যা ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে জ্বালানি সং'কট তৈরি করতে পারে। যেকারণে যুক্তরাজ্য জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাই তারাও ঝুঁকিতে আছে।মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসাবে যদিও ওমান টিকে আছে। তবে তারাও যুদ্ধের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।এখন প্রশ্ন হলো যুদ্ধ থামছে কিনা। একটা সাধারণ উত্তর হলো না। কারণ এই যুদ্ধ শুধু যুক্তরাষ্ট্রে - ইরান বা ইজ্রায়েলের ঘিরে নয়। এই যুদ্ধ আত্মমর্যাদার যুদ্ধ, এই যুদ্ধ অধিপাত্যবাদের যুদ্ধ।আইআরসির দাবি ইরান এখন যেভাবে একা সবার সাথে লড়ে যাচ্ছে এইভাবে তারা দুই বছর অনায়াসে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, তাতেও তাদের অস্ত্রের ভান্ডার খালি হবে না। পশ্চিমাদের মাথা ব্যথার কারণ এইখানে। ইতোমধ্যে অনেক দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান গুনতে হয়েছে। বিশ্বব্যাপি খাদ্য ও জ্বালানি সংকট দেখা দিতে শুরু হচ্ছে।ইরানী বিদ্রোহী বাহিনী আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তারা আমেরিকার সাথে কোনো প্রকার আলোচনায় বসতে চাইনা। যদিও আমেরিকা-ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যুদ্ধ চার থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে। কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এ যুদ্ধ আরো অনেক দিন চলতে থাকবে এবং ইরান এতসব ভেবে চিন্তেই মার্কিন ঘাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ইরানের মিত্র দেশ চিন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়ার মত শক্তি (যা আমেরিকার প্রতিপক্ষ হিসাবে পরিচিত) নীরব রয়েছে কিন্তু আলাদাভাবে তারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। ইরানী ড্রোন থেকে রক্ষার জন্য ট্রাম্প ইউক্রেনের সাহায্য চাইছে যা রাশিয়ার উদ্বেগের কারণ। তাছাড়া চীনা ষাট টনেরও বেশি পণ্য বহনকারী কর্গোবিমন গত কয়েকদিনে বহুবার ইরানে অবতরণ করেছে বলে খবর প্রচারিত হচ্ছে। যার অর্থ চীন যুদ্ধে ইরানকে সাহায্য করছে।গবেষণায় পাওয়া গেছে ইরান এখনো দশ থেকে পনেরো বছর আগের অস্ত্র ব্যাবহার করছে। এছাড়া আছে সাহেদ বা খোররাম যা আধুনিক প্রজন্মের অস্ত্র হিসাবে পরিচিত। তাই বলায় যায় এ যুদ্ধ খুব তাড়াতাড়ি থামছেনা।ইরান হয়তো নিঃশেষ হয়ে যাবে, না হয় অধিপত্যেবাদের শেষ দেখে ছাড়বে। তাই যদি হয় তাহলে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। পৃথিবীতে নেমে আসবে ধ্বংস আর দূর্ভীক্ষ।আমরা ধ্বংস চাই না। যুদ্ধ ও চাই না। আমরা শান্তি চাই। পৃথিবীই একমাত্র স্থান যেখানে সকল দেশের, সকল জাতের, সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। খোদার স্বর্গে পাপীদের কোনো স্থান নেই। নরকে পূণ্যবান কেউ থাকতে পারে না। কিন্তু পৃথিবীতে আমরা সবাই থাকতে পারি। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ছোট, বড় সকলে মিলেমিশে থাকতে চাই এই পৃথিবীতে। আগামীর প্রজন্মের জন্য এই সুন্দর পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে রাখতে চাই।আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। অবসান হোক পৃথিবীর সকল যুদ্ধের। পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক। পৃথিবীর মানুষ নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে প্রাণখুলে নিশ্বাস নিক।

কোন পরিনতির দিকে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ!!!

বিশ্ব খবরের বাজারে সমসাময়িক সবচেয়ে বড় আর মুখরোচক খবরের নাম, ইরান। তামাম পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর ও ধনকুবের দেশগুলো যখন ভয় ভীতি অস্ত্র আর গোলাবারুদের চোখ রাঙানীতে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তখনও নিজেদের প্রজ্ঞা, জিদ, প্রতিশোধ আর স্বদেশ প্রেমের মহিমায় ভাস্বর একটি নাম, ইরান। কিন্তু ইরানের এই আসীম সাহসিকতার মূল উৎস কি? কোন শক্তি পিছন থেকে সাহস যোগাচ্ছ তাদের। আসুন আলোচনা করি ইরানের বিভিন্ন সামরিক শক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র বিষয় নিয়ে।২০১১ সালের একটি সাধারণ জরিপে দেখা যায় ইরানের দুটি ড্রোন উৎপাদন ব্যাজ ছিল, যা গড়ে প্রতিদিন ৩০০ ড্রোন উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল। ২০১৩ সালে নাইজেরিয়াতে একবার ইরানের ড্রোনের ঝলকানি দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে থেকে তারা মাটির গভীরে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র উৎপাদন ও জড় করতে থাকে। তখন যে কয়টি ড্রোন ব্যাজ ছিল তার এক একটি উৎপাদন ব্যাজ গড়ে প্রতিদিন ৮০০ প্লাস ড্রোন উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল। ইরানে মোটের উপর এমন ২০ থেকে ২৫ টির বেশি ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র থাকতে পারে।ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো মাটির অনেক গভীরে বা পাহাড়ের নিচে থাকতে পারে বলে আশা করা হয়। সে হিসাব করলে সম্পন্ন ইরানের ভূমির নিচে রয়েছে আর একটা ইরান। যা মিসাইল ইরান বা ক্ষেপণাস্ত্র ইরান হিসাবে পরিচিত।তাদের অস্ত্রাগারে মূলত স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক ফাত্তাহ-১ ও ২, এবং শাহেদ ড্রোন রয়েছে। এছাড়া, বর্তমান উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব বলে ধারণা করা হয়।ইরান বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, যা প্রতি মাসে প্রায় অসংখ্য নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। তাদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হলো ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা ২,০০০-৩,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।তাছাড়া ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান বেশ উন্নত, যা তারা দূরপাল্লার আক্রমণের জন্য ব্যবহার করে। এছাড়া রাশিয়ার সহায়তায় ইরানের কাছে উন্নত অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান এবং সাঁজোয়া যান রয়েছে।যদিও ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে, তবুও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বা দখলের কথা স্বীকার করেনি। তবে তাদের হাতে মজুদ রয়েছে অগুনিত মিসাইল আর ড্রোন। হাজার হাজার ট্রাঙ্ক, দক্ষ সেনাবাহিনীর আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।সেই সকল অস্ত্র দিয়েই বর্তমানে ইরান একাই ১১ টি দেশের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে, তাই বলা যায় কেউ যদি ইরানকে হালকাভাবে নেয়, সে অবশ্যই অনেক বড় ভুল করবে। বিশ্ববাসী আশা করেছিল ইরান হয়তো ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সাতেই পেরে উঠবে না। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ইরান তার আশেপাশের সকল দেশের মার্কিন ঘাটিতেই আঘাত হেনেছে। এমনকি তাদের হামলার রাডারে স্পেন বা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নামও পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ ইরান গাঁট সাট বেঁধে নিজেদের এবং শত্রুদের শক্তি বিচার করে তাই যুদ্ধের ঢোলে তাল উঠিয়েছে।ইরানের মিসাইল আর ড্রোন হামলায় দিশেহারা অবস্থা ইসরায়েলের। বৃষ্টির মত প্রতিদিন ইসরায়েলের মটিতে আছড়ে পড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানকে থামানোর জন্য  নিষেধাজ্ঞা জারি করে এমন পরিস্থিতি তৈরী করে রাখা হয়েছে যে, ইরানের টিকে থাকতে হলে লড়াই করা ছাড়া বিকল্প নেই। এদিকে হরমুজ প্রনালী বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাসীর ঘুম হারাম করে দিয়েছে ইরান।ইরানের জটিল ভৌগোলিক কারণেই কেউ ইরানের সাথে কখনো স্থল যুদ্ধ করে পার পাবে না, তাছাড়া ইরানের ভেতরে যুদ্ধবিমান গিয়ে যুদ্ধ করবে এমন সাহস এখন পর্যন্ত কারো হয়নি, ইরানের ভেতরে যতো হামলা হচ্ছে তা ২ থেকে ৩ শত কিলোমিটার দূর থেকে বর্ডারের বাহির থেকে। আমেরিকার আধুনিক প্রযুক্তির যতগুলো ড্রোন ইরানের মধ্যে প্রবেশ করেছে এখন পর্যন্ত একটাও ফিরে আসেনি এমনকি আমেরিকার তৈরি F-35 পর্যন্ত ভূপাতিত হয়েছে। (সূত্র : ইন্টারনেট)ইরান এখন যেভাবে একা সবার সাথে লড়ে যাচ্ছে এইভাবে তারা দুই বছর অনায়াসে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, তাতেও তাদের অস্ত্রের ভান্ডার খালি হবে না। পশ্চিমাদের মাথা ব্যথার কারণ এইখানে। ইতোমধ্যে অনেক দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান গুনতে হয়েছে। বিশ্বব্যাপি খাদ্য ও জ্বালানি সংকট দেখা দিতে শুরু হচ্ছে।ইরানী বিদ্রোহী বাহিনী আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তারা আমেরিকার সাথে কোনো প্রকার আলোচনায় বসতে চাইনা। যদিও আমেরিকা-ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যুদ্ধ চার থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে। কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এ যুদ্ধ আরো অনেক দিন চলতে থাকবে এবং ইরান এতসব ভেবে চিন্তেই মার্কিন ঘাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ইরানের মিত্র দেশ চিন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়ার মত শক্তি (যা আমেরিকার প্রতিপক্ষ হিসাবে পরিচিত) নীরব রয়েছে কিন্তু আলাদাভাবে তারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। ইরানী ড্রোন থেকে রক্ষার জন্য ট্রাম্প ইউক্রেনের সাহায্য চাইছে যা রাশিয়ার উদ্বেগের কারণ। তাছাড়া চীনা ষাট টনেরও বেশি পণ্য বহনকারী কর্গোবিমন গত কয়েকদিনে বহুবার ইরানে অবতরণ করেছে বলে খবর প্রচারিত হচ্ছে। যার অর্থ চীন যুদ্ধে ইরানকে সাহায্য করছে।গবেষণায় পাওয়া গেছে ইরান এখনো দশ থেকে পনেরো বছর আগের অস্ত্র ব্যাবহার করছে। এছাড়া আছে সাহেদ বা খোররাম যা আধুনিক প্রজন্মের অস্ত্র হিসাবে পরিচিত। তাই বলায় যায় এ যুদ্ধ খুব তাড়াতাড়ি থামছেনা।ইরান হয়তো নিঃশেষ হয়ে যাবে, না হয় অধিপত্যেবাদের শেষ দেখে ছাড়বে। তাই যদি হয় তাহলে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। পৃথিবীতে নেমে আসবে ধ্বংস আর দূর্ভীক্ষ।আমরা ধ্বংস চাই না। যুদ্ধ ও চাই না। আমরা শান্তি চাই। পৃথিবীই একমাত্র স্থান যেখানে সকল দেশের, সকল জাতের, সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। খোদার স্বর্গে পাপীদের কোনো স্থান নেই। নরকে পূণ্যবান কেউ থাকতে পারে না। কিন্তু পৃথিবীতে আমরা সবাই থাকতে পারি। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ছোট, বড় সকলে মিলেমিশে থাকতে চাই এই পৃথিবীতে। আগামীর প্রজন্মের জন্য এই সুন্দর পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে রাখতে চাই।আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। অবসান হোক পৃথিবীর সকল যুদ্ধের। পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক। পৃথিবীর মানুষ নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে প্রাণখুলে নিশ্বাস নিক।

রাজনীতি

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে মিলিত হয়।সমাবেশে বক্তব্য দেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, সদস্যসচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আসাদুজ্জামান খন্দকার মাসুদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন পপেল ও নাহমুদুল হক রাছেল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান ও সদস্যসচিব আলম জামান মিন্টু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মতিয়ার রহমান এবং উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খাগড়াছড়ি, রামগড় ইউনিয়ন নির্বাচন ঘিরে উপজেলা বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থি নিয়ে আলোচনা চলছে

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় রাজনৈতিক মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। তরুণ-প্রবীণ একঝাঁক নেতার সমর্থকগোষ্ঠী ইতোমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা শুরু করেছেন।ফেসবুকের বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য *মোহাম্মদ নুর হোসেন নুরু*, উপজেলা বিএনপির সদস্য *আলাউদ্দিন*, উপজেলা বিএনপির সদস্য *নুরুল হুদা* এবং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য *নুরুল আমিন মেম্বার* সহ আরও অনেকে।অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত মোর্শেদ মিঠুকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়ে তার নামেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়েছে।* তার সমর্থকরা ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট, ব্যানার ও লিফলেটের মাধ্যমে মিঠুর রাজনৈতিক ত্যাগ ও জনসেবার কথা তুলে ধরছেন।শুধু অনলাইনই নয়, উপজেলার চা-দোকান থেকে বাজার পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মাঝে চলছে সরগরম আলোচনা। কে হবেন আগামী ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি এবং কে নেবেন উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই মনে করছেন এবারের নির্বাচনে স্থানীয়, শিক্ষিত ও সৎ যোগ্য প্রার্থী প্রয়োজন। আবার কেউ কেউ অতীতের ত্যাগী, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের কান্ডারী হিসেবে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদেরকে দেখতে চান।একাধিক কর্মী বলেন, "আমরা চাই সঠিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক শিষ্টাচারসম্পন্ন ও মার্জিত যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ। যিনি জনগণের পাশে থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, তাকেই আমরা বিজয়ী করতে চাই।"রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অনলাইন প্রচারণা ও তরুণদের সম্পৃক্ততার কারণে এবারের ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচন রামগড়ে বাড়তি গুরুত্ব পাবে।সূত্র: স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার

সুন্দরগঞ্জে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা, মাছ অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।‎মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।প্রথমে পৌরসভার পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।এবং  পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রহমান, শান্তিরাম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মাসুদ খন্দকার, ছাপড়হাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর মন্ডল, উপজেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব ফিরোজ কবিরসহ প্রমুখ।‎আলোচনা সভা শেষে সুন্দরগঞ্জ ডি.ডব্লিউ কলেজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করে। র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়, এবং পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন।M

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরতে হবে: মোজতবা খামেনি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত সরে যেতে হবে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য বলে ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের যোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে মার্কিন বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। তাঁর দাবি, খুব শিগগির আরব সাগরও মার্কিন উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে।এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। সাত মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান সাত দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রস্তাবটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে প্রণালিটি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব তাঁর বর্তমান অবস্থানের সঙ্গেও যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মার্চে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন।তবে যুদ্ধের সময় তাঁর নিজের আহত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি ও গুঞ্জন রয়েছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হলে তা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে দীর্ঘ সময় তাঁকে জনসমক্ষে না দেখা যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর শারীরিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়।মোজতবা খামেনির কঠোর বক্তব্য এবং যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—দুটি ঘটনাই একই সময়ে সামনে এসেছে। এর ফলে ইরানের অবস্থানে সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের বড় পার্থক্যগুলো এখনো রয়ে গেছে।ইরানের জন্য মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা।ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও তা দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। আগের যুদ্ধবিরতির অভিজ্ঞতাও দেখিয়েছে, সমঝোতায় পৌঁছানোর পর সেটি টিকিয়ে রাখাই হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।এখন নজর থাকবে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যোগাযোগ কতটা এগোয় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো বাস্তব সমঝোতা হয় কি না। একই সঙ্গে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছে, সেটি আলোচনার পরিবেশকে কতটা প্রভাবিত করে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার গণ্ডি ছাড়িয়ে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিপরীতে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি হলে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অব্যবস্থাপনায় শতবর্ষের এম.সি. স্কুল: ঐতিহ্য ফেরাতে নতুন কমিটির কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রত্যাশা

অব্যবস্থাপনায় শতবর্ষের এম.সি. স্কুল: ঐতিহ্য ফেরাতে নতুন কমিটির কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রত্যাশা

শতবর্ষের ঐতিহ্য, অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থীর স্মৃতি আর একটি জনপদের শিক্ষার দীর্ঘ ইতিহাস—সবই ধারণ করে আছে আঠারবাড়ী মহিম চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় (এম.সি. স্কুল)।তবে সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের যোগাযোগের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নবনির্বাচিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে ডা. প্রদীপ চন্দ্র দাস (পি. সি. দাস) দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা সমাধানে নতুন করে আশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের অনুপস্থিতির কারণ দ্রুত অনুসরণ করা হয় না। এতে দীর্ঘ অনুপস্থিতি একসময় বিদ্যালয় থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই শ্রেণিভিত্তিক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কয়েক দিন অনুপস্থিত থাকলেই অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা চান তাঁরা।শুধু উপস্থিতি নয়, শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। একই শ্রেণিতে কেউ দ্রুত এগিয়ে গেলেও কেউ মৌলিক বিষয়েও পিছিয়ে পড়ছে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত পাঠদান, পুনরুদ্ধারমূলক শিক্ষা ও নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে।স্থানীয়দের মতে, দরিদ্রতা, পারিবারিক সংকট, শ্রমে যুক্ত হওয়া, পড়াশোনায় অনাগ্রহ কিংবা বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক কারণে কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এসব শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়ার পর খোঁজ না করে আগেই শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।এ জন্য বিদ্যালয়ে একটি ‘শিক্ষার্থী ঝরে পড়া প্রতিরোধ ও অনুসরণ ব্যবস্থা’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীর জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্ধারণ করে তার উপস্থিতি, পড়াশোনা ও পারিবারিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখা যেতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে তার পরিস্থিতি জানার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।আঠারবাড়ী ও আশপাশের এলাকার অনেক পরিবার কৃষি ও নিম্নআয়ের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক সংকটে কোনো কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি আয়মূলক কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের তালিকা করে স্থানীয় বিত্তবান, সাবেক শিক্ষার্থী, সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগীদের সম্পৃক্ত করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।অভিভাবক-বিদ্যালয়ের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। নিয়মিত অভিভাবক সভার পাশাপাশি অনুপস্থিত ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এদিকে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও অনলাইন বিনোদনে অতিরিক্ত আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আলোচনা ও পরামর্শ কার্যক্রম চালুর দাবি রয়েছে।কিশোরীদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও বিদ্যালয়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছাড়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়লে দ্রুত তা শনাক্ত করে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা।স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রত্যাশার মূল জায়গাটি অবশ্য বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি। তাঁদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। কতজন শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে, কতজন পিছিয়ে আছে, কারা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের যোগাযোগ কতটা কার্যকর—এসব সূচকেও প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।তাই নতুন কমিটির কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। মাসিক ভিত্তিতে উপস্থিতি, ঝরে পড়া, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সম্পৃক্ততার অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থাও চান তাঁরা।এলাকাবাসীর ভাষ্য, আঠারবাড়ী মহিম চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এলাকার দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই নতুন নেতৃত্বের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা—প্রশাসনিক ও শিক্ষাব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও কার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘কেউ ঝরে পড়বে না, কোনো পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থী অবহেলিত থাকবে না’—এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই শতবর্ষের এম.সি. স্কুল তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।লেখক- সাবেক শিক্ষার্থী 

জাতীয় ফুটবলের ফাইনালে ঈশ্বরগঞ্জের রাতুলের দুর্দান্ত লড়াই, গৌরব ময়মনসিংহের

জাতীয় ফুটবলের ফাইনালে ঈশ্বরগঞ্জের রাতুলের দুর্দান্ত লড়াই, গৌরব ময়মনসিংহের

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের নিভিয়াঘাটা গ্রামের কৃতি সন্তান ও আঠারবাড়ী এম.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাতুল মড়ল জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে নিজ এলাকা ও জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর খেলায় অনুপ্রাণিত হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এই স্মরণীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ময়মনসিংহ বিভাগের রানারআপ দলটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ট্রফি ও পুরস্কার গ্রহণ করে।জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ময়মনসিংহ বিভাগের হয়ে মাঠে নামেন রাতুল। ম্যাচ চলাকালে গুরুতর চোট পেলেও তিনি খেলা চালিয়ে যান। দুর্দান্ত সাহস, ফিটনেস এবং মিডফিল্ডে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি সবার নজর কাড়েন। ফুটবল একটি দলগত খেলা হওয়ায় দলের সব খেলোয়াড়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিবেদনের ফলেই ময়মনসিংহ বিভাগ জাতীয় পর্যায়ে রানারআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।রাতুলের এই অর্জনে আঠারবাড়ীসহ পুরো ঈশ্বরগঞ্জে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর শিক্ষক, সহপাঠী, অভিভাবক ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা গর্ব প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, গ্রামের একজন তরুণের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক ছেলে-মেয়েকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করবে।স্থানীয়রা জানান, রাতুলের পেছনে আঠারবাড়ী ফুটবল একাডেমি এবং কোচ মনজিল মড়লের নিরলস পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনার বড় ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই আঠারবাড়ীর প্রতিভাবান ফুটবলাররা আজ জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন।সংশ্লিষ্টরা রাতুল মড়লকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন।সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলা এবং নতুন প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

অনলাইন জরিপ
৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন
ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ অংশ নিয়েছেন।শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।সভায় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনসহ সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ অপরাধ দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি- সবকিছু সামলাতে হচ্ছে একই বাহিনীকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর ও আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির চাপ। জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা নিয়েও চাপে আছে মাঠপুলিশ। এর বাইরে রয়েছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে মাঠপুলিশের ওপর দায়বদ্ধতার চাপ আরও বেড়েছে। কোনো এলাকায় মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি এবং তদারকি কর্মকর্তাকে দায় নিতে হবে- এমন বার্তাও পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এখনও তোলপাড় চলছে পুলিশে। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ সভায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয় ডিসি ওসিদের। কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকামিছিল বের হলে ওই এলাকার ডিসি-ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাবধান করা হয়। পরবর্তীকালে গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ব্যর্থতা দায় হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছে ঢাকার ৫০ থানার ওসি ও জোনাল ডিসি-এডিসি, এসিরা। ডিএমপির একাধিক থানার ওসি এই চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।শুধু ঢাকা মহানগরই নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে সারাদেশেই মাঠ পুলিশ চাপের মুখে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে সব রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা আমাদের সময়কে বলেন, যেকোনো ধরনের চাপ নিয়ে কাজ করতে পুলিশ অভ্যস্ত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব চাপ সামলে পুলিশ কতটা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে, সেদিকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের প্রতিটি ধাপে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। বড় কোনো ঘটনা ঘটার পরই প্রায়ই গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এনেছে।আশরাফুল হুদা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশের ভেতরে দীর্ঘ ১৭ বছরে তৈরি হওয়া ‘জঞ্জাল’ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরীহ কর্মকর্তা বা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ বাহিনীর সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পড়তে পারে।জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির যে সংযোগ রয়েছে, তা মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাদের মনোবলও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে- এমনটা বলার সুযোগ নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পুলিশকেই পালন করতে হবে। তবে অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ সরাসরি পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিলে তাদের মনোবল আরও দুর্বল এবং বাহিনীর মধ্যে নতুন করে মেরুকরণ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে মাঠ পুলিশ। নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেনি। কমানো যায়নি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলির ঘটনা বেড়েছে। খুনোখুনি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি ও একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্রের। অর্থাৎ লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্র উদ্ধারে চাপে রয়েছে মাঠপুলিশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এসব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে খোদ পুলিশে। কারণ লুণ্ঠিত অস্ত্র স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে বিশেষ অভিযানও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তিন ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মাঠপুলিশের জন্য আলাদা চাপ তৈরি করছে। কারণ শুধু আসামি গ্রেপ্তার করাই নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিরাপদে থানায় নেওয়া, অভিযান পরিচালনা এবং অভিযানের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পুলিশকেই পালন করতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৩১৭টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এর আগের ৬ মাসে এ ধরনের ২৭৫টি ঘটনা ঘটে।পুলিশের ওপর চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। বদলি, পদোন্নতি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে পুুলিশের একটি বড় অংশের মধ্যেই হতাশা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত দুই বছরে ইতোমধ্যে ১৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আরও পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেক কর্মকর্তা এখনও অবসর আতঙ্কে রয়েছেন। এতে মানসিক চাপে তারা স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও চাপে রয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এই মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও তাগিদ রয়েছে তাদের ওপর। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেও মাঠ পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণে ঈশ্বরগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণে ঈশ্বরগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা

শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে—ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের পাশে উন্নয়ন সহায়তাসমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও সহজ করতে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় সাইকেল ও শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।কর্মসূচির আওতায় একজনকে সাইকেল এবং চারজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়। এই সহায়তা শুধু একটি সাইকেল কিংবা আর্থিক অনুদান নয়—এটি শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়, স্বপ্ন পূরণের সাহস এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।দূরত্ব, আর্থিক সংকট কিংবা নানা সীমাবদ্ধতা যেন শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি সাইকেল যেমন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতকে সহজ করবে, তেমনি শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি তাদের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।সহায়তার হাত যখন শিক্ষার পথে, তখন সম্ভাবনার পথও হয় আরও প্রশস্ত।আজকের এই ছোট্ট সহায়তাই হয়তো আগামী দিনের একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের বড় শক্তি হয়ে উঠবে।লক্ষ্য একটাই—শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া, বৈষম্য পেছনে ফেলা এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে  ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

 ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল। প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো  বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর।  আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন। চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে  ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়। সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী  ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের 'নজরানা' বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। M

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, স্বাগত বক্তব্য, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। আলোচনায় সত্যবাদিতা ও আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, শিক্ষকের মর্যাদা, প্রতিবেশীর অধিকার, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী জীবনাচরণ উপস্থাপনা ও সিরাতভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা উচিত। শুধু মিলাদুন্নবী পালন নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অনুসরণের বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। সবশেষে এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত মৌলভী শিক্ষক উমর ফারুক দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক সভানুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে কথা না বলে কোরআন, হাদিস ও নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, "আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব, যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং তারা বুঝতে পারে কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা বা আলোচনা করা যাবে না।"মাহফিলে সব রাজনৈতিক মতের মানুষ উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নাম ধরে সমালোচনা করলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে ইতিহাস, নীতি ও নৈতিকতার আলোকে পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সৎলোকের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।এছাড়া দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব বজায় থাকা প্রয়োজন।সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।নবঘোষিত কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।

সব বিভাগের খবর

মহানগর পরিক্রমা
মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরতে হবে: মোজতবা খামেনি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরতে হবে: মোজতবা খামেনি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত সরে যেতে হবে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য বলে ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের যোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে মার্কিন বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। তাঁর দাবি, খুব শিগগির আরব সাগরও মার্কিন উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে।এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। সাত মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান সাত দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রস্তাবটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে প্রণালিটি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব তাঁর বর্তমান অবস্থানের সঙ্গেও যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মার্চে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন।তবে যুদ্ধের সময় তাঁর নিজের আহত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি ও গুঞ্জন রয়েছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হলে তা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে দীর্ঘ সময় তাঁকে জনসমক্ষে না দেখা যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর শারীরিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়।মোজতবা খামেনির কঠোর বক্তব্য এবং যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—দুটি ঘটনাই একই সময়ে সামনে এসেছে। এর ফলে ইরানের অবস্থানে সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের বড় পার্থক্যগুলো এখনো রয়ে গেছে।ইরানের জন্য মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা।ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও তা দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। আগের যুদ্ধবিরতির অভিজ্ঞতাও দেখিয়েছে, সমঝোতায় পৌঁছানোর পর সেটি টিকিয়ে রাখাই হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।এখন নজর থাকবে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যোগাযোগ কতটা এগোয় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো বাস্তব সমঝোতা হয় কি না। একই সঙ্গে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছে, সেটি আলোচনার পরিবেশকে কতটা প্রভাবিত করে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার গণ্ডি ছাড়িয়ে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিপরীতে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি হলে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়েছিল বাংলাদেশের যোগাযোগ স্যাটেলাইট বিএস-১। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সতর্কবার্তায় জানানো হয়, একটি পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুত বিএস-১–এর দিকে এগিয়ে আসছে।ঝুঁকি এড়াতে পরবর্তী চার দিন গাজীপুরের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) প্রকৌশলীরা। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট বিএস-১–এর কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তন করে ধ্বংসাবশেষটি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে স্যাটেলাইটটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বুধবার সকালে ঢাকার বাংলামোটরে সংস্থাটির  বলেন, ওই কয়েক দিন তাঁদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের ছিল। সময় ছিল কম, আবার বিএস-১–কে সরানোর সুযোগও ছিল সীমিত। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষতি ছাড়াই স্যাটেলাইটটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।মহাকাশে কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন সংঘর্ষে স্যাটেলাইটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমনকি পুরো স্যাটেলাইট ধ্বংসও হতে পারে। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অকেজো কসমস-২২৫১ ও যুক্তরাষ্ট্রের সচল ইরিডিয়াম-৩৩ স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়েছিল।ছুটে আসছিল ইনস্যাট-১এ–এর ধ্বংসাবশেষপৃথিবীর কক্ষপথে এখন হাজার হাজার সচল ও অকেজো বস্তু ঘুরছে। পুরোনো স্যাটেলাইট, রকেটের অংশ কিংবা মহাকাশযানের বিচ্ছিন্ন টুকরোগুলোকে সাধারণভাবে স্পেস ডেব্রিস বা মহাকাশের বর্জ্য বলা হয়। সচল স্যাটেলাইটের জন্য এসব বর্জ্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন সংস্থা। কোনো বস্তু ও স্যাটেলাইটের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।৯ আগস্ট পাওয়া সতর্কবার্তা থেকে বিএসসিএল জানতে পারে, বিএস-১–এর কাছাকাছি চলে আসতে থাকা বস্তুটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ।ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, ইনস্যাট-১এ ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। উৎক্ষেপণের কয়েক মাস পরই এতে সমস্যা দেখা দেয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এত বছর পরও এর কোনো অংশ পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে গিয়ে অন্য স্যাটেলাইটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।আগেও ঝুঁকিতে পড়েছিল বিএস-১বিএস-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় ২০১৮ সালের ১২ মে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের সময় এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নাম পরিবর্তন করে বিএস-১ রাখা হয়।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব যোগাযোগ ও সম্প্রচার সক্ষমতা তৈরি করে। উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়।তবে মহাকাশে বিএস-১–এর সামনে ঝুঁকি তৈরির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও স্যাটেলাইটটিকে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল।২০২১ সালে ঝুঁকির উৎস ছিল রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ। আর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইট বিএস-১–এর খুব কাছ দিয়ে চলে যায়।চার দিন ধরে চলেছে হিসাব-নিকাশফ্রান্সের থালেস অ্যালেনিয়া স্পেস ২০১৮ সালে বিএস-১ তৈরি করে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করত প্রতিষ্ঠানটি।বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২১ সাল থেকে বিএস-১ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বিএসসিএল। গাজীপুরের জয়দেবপুরে থাকা গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এখন স্যাটেলাইটটির নিয়ন্ত্রণের প্রধান কেন্দ্র।বিএসসিএলের হিসাবে, সেখানে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলী কাজ করেন। স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রকৌশলীরা পালা করে দায়িত্ব পালন করেন।৯ আগস্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কর্মীদের সতর্ক করা হয় এবং ছুটি বাতিল করা হয় বলে জানান এমডি ইমাদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টাও পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। মহাকাশের বস্তুটির অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে স্পেস ট্র্যাকার থেকেও নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল।তখন মূল প্রশ্ন ছিল, বিএস-১–এর কক্ষপথ পরিবর্তন করা হবে কি না। পরিবর্তন করলে কোন দিকে এবং কতটা সরানো নিরাপদ হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হচ্ছিল। কারণ স্যাটেলাইটকে এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য কক্ষপথে নেওয়ার পর নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়।ইমাদুর রহমান বলেন, সব তথ্য বিশ্লেষণের পর ১৩ আগস্ট বিএস-১–কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ধ্বংসাবশেষটি নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়া পর্যন্ত স্যাটেলাইটটিকে ওই অবস্থানে রাখা হয়। ঝুঁকি কেটে গেলে আবার বিএস-১–কে আগের কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষটি শেষ পর্যন্ত বিএস-১–এর প্রায় ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল।মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান ইমাদুর রহমান। তাঁর মতে, বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।মহাকাশ পরিচালনায় দক্ষতার পরীক্ষাবাংলাদেশের স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ২০টি বিদেশে ইজারা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিএস-১–এর সেবা ব্যবহার করে।মহাকাশে কোনো স্যাটেলাইটকে সম্ভাব্য সংঘর্ষ থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজটি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এর সঙ্গে কক্ষপথের হিসাব, সংঘর্ষের সম্ভাবনা, স্যাটেলাইটের জ্বালানি এবং নতুন কক্ষপথের ঝুঁকি—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপদ কক্ষপথ পরিবর্তনের হিসাব করতে হয়। তাঁর মতে, বিএস-১–এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা অল্প সময়ের মধ্যে ঝুঁকি বিশ্লেষণ, যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমানও বিষয়টিকে প্রকৌশলীদের সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো দক্ষতার বিষয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা এতে সফল হলে তা প্রশংসনীয়।

হিরোগিরি

হিরোগিরি

সিনেমা হলের ভেতর চলছে তুমুল অ্যাকশন দৃশ্য। এক যুবক মনোযোগ দিয়ে সিনেমা দেখছে, কিন্তু তার পাশের সিটে বসা এক বৃদ্ধের কারণে সে বেশ অস্বস্তিতে আছে। বৃদ্ধের হাতে একটি ছোট পেপসির বোতল, আর তিনি ঠিক পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর বোতলে একটা জোরালো চুমুক দিচ্ছেন। শব্দটা যুবকের সিনেমার উপভোগে বারবার বাধা সৃষ্টি করছিল। অনেকক্ষণ সহ্য করার পর যুবকের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে বিরক্ত হয়ে বৃদ্ধের হাত থেকে বোতলটা ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে বলল, "চাচা, সিনেমার চেয়ে আপনার পেপসি খাওয়া নিয়ে আমি বেশি ডিস্টার্ব হচ্ছি। এটুকু পানীয় খেতে এত নাটক করতে হয়? এই দেখুন, কীভাবে একবারে শেষ করতে হয়!"এই বলে যুবক বোতলটি মুখে দিয়ে এক ঢোকে সবটুকু পানীয় গিলে ফেলল। তারপর বোতলটা বৃদ্ধের হাতে ফেরত দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসল।বৃদ্ধ বোতলটা হাতে নিয়ে অবাক চোখে যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন, "বাবা, আমার পেপসিটা তো তুমি খেলে না, কারণ ওটা তো পেপসিই ছিল না। আসলে আমার পানের অভ্যেস তো, তাই পানের পিকগুলো ওই বোতলে ফেলছিলাম!"

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়েছিল বাংলাদেশের যোগাযোগ স্যাটেলাইট বিএস-১। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সতর্কবার্তায় জানানো হয়, একটি পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুত বিএস-১–এর দিকে এগিয়ে আসছে।ঝুঁকি এড়াতে পরবর্তী চার দিন গাজীপুরের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) প্রকৌশলীরা। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট বিএস-১–এর কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তন করে ধ্বংসাবশেষটি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে স্যাটেলাইটটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বুধবার সকালে ঢাকার বাংলামোটরে সংস্থাটির  বলেন, ওই কয়েক দিন তাঁদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের ছিল। সময় ছিল কম, আবার বিএস-১–কে সরানোর সুযোগও ছিল সীমিত। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষতি ছাড়াই স্যাটেলাইটটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।মহাকাশে কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন সংঘর্ষে স্যাটেলাইটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমনকি পুরো স্যাটেলাইট ধ্বংসও হতে পারে। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অকেজো কসমস-২২৫১ ও যুক্তরাষ্ট্রের সচল ইরিডিয়াম-৩৩ স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়েছিল।ছুটে আসছিল ইনস্যাট-১এ–এর ধ্বংসাবশেষপৃথিবীর কক্ষপথে এখন হাজার হাজার সচল ও অকেজো বস্তু ঘুরছে। পুরোনো স্যাটেলাইট, রকেটের অংশ কিংবা মহাকাশযানের বিচ্ছিন্ন টুকরোগুলোকে সাধারণভাবে স্পেস ডেব্রিস বা মহাকাশের বর্জ্য বলা হয়। সচল স্যাটেলাইটের জন্য এসব বর্জ্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন সংস্থা। কোনো বস্তু ও স্যাটেলাইটের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।৯ আগস্ট পাওয়া সতর্কবার্তা থেকে বিএসসিএল জানতে পারে, বিএস-১–এর কাছাকাছি চলে আসতে থাকা বস্তুটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ।ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, ইনস্যাট-১এ ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। উৎক্ষেপণের কয়েক মাস পরই এতে সমস্যা দেখা দেয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এত বছর পরও এর কোনো অংশ পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে গিয়ে অন্য স্যাটেলাইটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।আগেও ঝুঁকিতে পড়েছিল বিএস-১বিএস-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় ২০১৮ সালের ১২ মে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের সময় এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নাম পরিবর্তন করে বিএস-১ রাখা হয়।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব যোগাযোগ ও সম্প্রচার সক্ষমতা তৈরি করে। উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়।তবে মহাকাশে বিএস-১–এর সামনে ঝুঁকি তৈরির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও স্যাটেলাইটটিকে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল।২০২১ সালে ঝুঁকির উৎস ছিল রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ। আর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইট বিএস-১–এর খুব কাছ দিয়ে চলে যায়।চার দিন ধরে চলেছে হিসাব-নিকাশফ্রান্সের থালেস অ্যালেনিয়া স্পেস ২০১৮ সালে বিএস-১ তৈরি করে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করত প্রতিষ্ঠানটি।বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২১ সাল থেকে বিএস-১ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বিএসসিএল। গাজীপুরের জয়দেবপুরে থাকা গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এখন স্যাটেলাইটটির নিয়ন্ত্রণের প্রধান কেন্দ্র।বিএসসিএলের হিসাবে, সেখানে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলী কাজ করেন। স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রকৌশলীরা পালা করে দায়িত্ব পালন করেন।৯ আগস্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কর্মীদের সতর্ক করা হয় এবং ছুটি বাতিল করা হয় বলে জানান এমডি ইমাদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টাও পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। মহাকাশের বস্তুটির অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে স্পেস ট্র্যাকার থেকেও নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল।তখন মূল প্রশ্ন ছিল, বিএস-১–এর কক্ষপথ পরিবর্তন করা হবে কি না। পরিবর্তন করলে কোন দিকে এবং কতটা সরানো নিরাপদ হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হচ্ছিল। কারণ স্যাটেলাইটকে এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য কক্ষপথে নেওয়ার পর নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়।ইমাদুর রহমান বলেন, সব তথ্য বিশ্লেষণের পর ১৩ আগস্ট বিএস-১–কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ধ্বংসাবশেষটি নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়া পর্যন্ত স্যাটেলাইটটিকে ওই অবস্থানে রাখা হয়। ঝুঁকি কেটে গেলে আবার বিএস-১–কে আগের কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষটি শেষ পর্যন্ত বিএস-১–এর প্রায় ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল।মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান ইমাদুর রহমান। তাঁর মতে, বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।মহাকাশ পরিচালনায় দক্ষতার পরীক্ষাবাংলাদেশের স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ২০টি বিদেশে ইজারা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিএস-১–এর সেবা ব্যবহার করে।মহাকাশে কোনো স্যাটেলাইটকে সম্ভাব্য সংঘর্ষ থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজটি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এর সঙ্গে কক্ষপথের হিসাব, সংঘর্ষের সম্ভাবনা, স্যাটেলাইটের জ্বালানি এবং নতুন কক্ষপথের ঝুঁকি—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপদ কক্ষপথ পরিবর্তনের হিসাব করতে হয়। তাঁর মতে, বিএস-১–এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা অল্প সময়ের মধ্যে ঝুঁকি বিশ্লেষণ, যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমানও বিষয়টিকে প্রকৌশলীদের সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো দক্ষতার বিষয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা এতে সফল হলে তা প্রশংসনীয়।

ববি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বিষয়ক বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ববি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বিষয়ক বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।ডয়েচে ভেলে একাডেমি (DWA)  এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপ।শুক্রবার (১৯ জুন) বরিশালের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে শুরু হওয়া এই বুটক্যাম্পটি আজ ২১ জুন ২০২৬ বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।বুটক্যাম্পে পাঁচটি ক্লাবের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ক্লাবগুলো হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেরিয়ার ক্লাব, অর্গানাইজেশন অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্স এন্ড হায়ার এডুকেশন সোসাইটি এবং বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর যৌথ অর্থায়নে এই বুটক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। অনলাইনে যুক্ত থেকে কর্মসূচিটি তত্ত্বাবধান করেন ডয়েচে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক নাইমুর রহমান এবং মাঠপর্যায়ে এটি পরিচালনা করেন পাঁচজন ফেলো।কর্মসূচিতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ। এসময় তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ কোনো সংবাদ পেলেই সত্য-মিথ্যা বা অপপ্রচার যাচাই না করেই তা ভাইরাল করে দেয়। যেকোনো ঘটনা বা দুর্যোগের সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং নৈতিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসময় তিনি বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণ করা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রত্যাশা রেখে আরো বলেন; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞ্যান লাভের মাধ্যমে তোমরা তার প্রতিনিধি হবে এটাই হলো সকলের প্রত্যাশা।এছাড়াও অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশারাফুল হক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান মো: ফরহাদ উদ্দীন।এছাড়াও আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, কমিউনিকেশন এন্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট অফিসার সাইফুর রহমান, রিসার্স এন্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিষ্ট সাজ্জাদুল করিম, অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার।উল্লেখ্য, "Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0" প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

হোয়াটসঅ্যাপে এআই বিপ্লব: ব্যবসার নতুন সঙ্গী মেটা বিজনেস এজেন্ট

হোয়াটসঅ্যাপে এআই বিপ্লব: ব্যবসার নতুন সঙ্গী মেটা বিজনেস এজেন্ট

ব্যবসায়িক জটিলতা কমাতে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এখন মুহূর্তেই সামলাতে পারবেন গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে বিক্রয় ব্যবস্থাপনার কাজ।ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিধি ও সেবা সহজ করতে এবার বিশ্বব্যাপী হোয়াটসঅ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ‘মেটা বিজনেস এজেন্ট’ চালু করেছে মেটা। এতদিন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই প্ল্যাটফর্মটি এখন ব্যবসায়িক অটোমেশনের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। মেটার এই নতুন প্রযুক্তি কেবল গ্রাহকদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই নয়, বরং পণ্যের সুপারিশ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং এবং সম্ভাব্য ক্রেতা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।মেটা জানিয়েছে, কোনো জটিল বিষয়ে যদি এআই এজেন্টের পক্ষে উত্তর দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কথোপকথন মানব কর্মীর কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকবে, যা গ্রাহকসেবাকে আরও নিখুঁত করবে। ভারত ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোতে প্রায় দুই বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সফলতার পরই তা বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করা হলো। শুধু হোয়াটসঅ্যাপেই নয়, খুব শিগগিরই ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজ (ডিএম) সেবাতেও এই এআই বট ব্যবহারের সুযোগ পাবে ব্যবসায়ীরা।ভবিষ্যতে এই এজেন্টের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। বাজার গবেষণা পরিচালনা, পণ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা, ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের মতো জটিল কাজগুলোও এই এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টম এআই এজেন্ট তৈরির প্ল্যাটফর্মও প্রস্তুত করছে মেটা, যা Shopify, Zendesk এবং Shopee-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা যাবে।মেটার এই নতুন পদক্ষেপকে ব্যবসায়িক কৌশলের এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। এতদিন ক্লিক-টু-হোয়াটসঅ্যাপ বিজ্ঞাপন থেকে আয় করলেও, এখন এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার সেবায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল অটোমেশন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য টোকেন-ভিত্তিক অর্থের বিনিময়ে এই সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। সব মিলিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপ এখন কেবল চ্যাটিং অ্যাপ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকটাই এগিয়ে গেল।মেটা বিজনেস এজেন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ এআই, ডিজিটাল বিজনেস, গ্রাহকসেবা অটোমেশন, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রযুক্তি, মেটা এআই সেবা, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস আপডেট।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

সরকারি অর্থে নির্মাণ, উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় ধস, এরপর টানা ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার একটি ব্রিজের গল্প যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রই তুলে ধরে। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানিতে ধসে পড়ার পর দীর্ঘ এক যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও চরম ভোগান্তির শিকার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের মাঝখানে একপাশ দেবে গিয়ে কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা ব্রিজটির অবশিষ্টাংশ। দুই পাশের সংযোগ সড়ক বহু আগেই বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে। ফলে সেতু থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ অচল। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৪ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতারহাট সড়কের সাঁকোর পাড় এলাকায় খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুর একপাশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।এর ফলে লেনোরপাড়া, কুরারপাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতিপাড়া, বটতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বর্ষায় নৌকায় খাল পার হতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আলামীর হোসেন বলেন, “ব্রিজ ভাঙার পর চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার গেছি। ১২ বছরেও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।ডাঃ রতন বলেন, “এটাই ছিল উপজেলা শহরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। এখন আমরা যেন নিজ এলাকাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি।”শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, “বর্ষায় নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। আবার শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।”নুর নাহার বেগম বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খবর নেয় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। আমরা শুধু একটি নতুন ব্রিজ চাই।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙা ব্রিজের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও টেকেনি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ৩০ ফুট ব্রিজের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, “নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাত্র এক বছরেই ধসে পড়া ২৭ লাখ টাকার ব্রিজের নির্মাণমান ও তদারকির দায় কার? কেন ১২ বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ? আর কতদিন আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবে ২০ হাজার মানুষ?—এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত।

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

ভ্রমন তরী মস্তল সম্প্রতি কুড়িগ্রম জেলার চিলমরীতে ব্রহ্মপুত্র নদে এ এলাকার বিস্তির্ন চরাঞ্চলের মানুষের বসতি, জীবন যাত্রার মান, নতুন অভিজ্ঞতা ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে অনেক দূর থেকে এসেছে। দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, এ প্রতিপাদ্য যেন স্বচোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। সাধারনত পাহাড় দেখতে এ অঞ্চলের মানুষকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। কিন্তু  কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত  ১৭টি নদ-নদীর প্রবাহ, সংযোগ স্থান, দুধ কুমোর,ফুল কুমোর,সঙ্কোশ, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম,তিস্তা, ধরলা হলহলিয়া ও বিশেষ করে সাহেবের আলগা- বেগম গঞ্জের নুনখাওয়ায় সোজা পূর্ব থেকে ভারতের পাহাড়ের তলদেশ থেকে কিভাবে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা স্ব-চোখেই অবলোকন করা যায়। আর একটু দূর হতে হলেও আপনি যদি এ স্থানটিতে দাড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে তাকান দেখবেন কি এক অপূর্ব দৃশ্য!  চোখের সমনেই আসামের বিশাল নয়নাভিরাম সু-উচ্চ পাহাড়!!  তাৎক্ষনিক ভাবে ভুলেই যাবেন যে আপনি কোথায় আছেন। এ সব ছাড়াও চরাঞ্চলের গরু,মহিষের সারি, বির্স্তিন চর জুড়ে বাদম কলাই,ভূট্টা কতকি ফসল ও চর বসতিদের ঘরবসতি। সে দেখার সুযোগ গুলো এলাকার কিছু অর্বাচিনদের না ধারনায় বিরুপ হয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। তারপরও তারা একটু দূরে চলে গেলেও উত্তরবঙ্গের বিশাল সবনতন ধর্মাবলম্বিদের স্নান উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর অষ্টমীর মেলা উপলক্ষে মাস্তুল হাউসবোট নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ।  এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাসতল কতৃপক্ষের অষ্টমীর স্নান ও মেলা উদযাপন ভ্রমনের সুযোগ এনেছেন। তারা জানান, একদিকে ২০০ বছরের পুরনো মেলার লোকজ আমেজ, আর অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মাস্তুলের রাজকীয় আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আপনার এই ভ্রমণ হবে আজীবনের স্মৃতি!মাস্তলের এই ট্রিপে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের আহব্বান, চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী  অষ্টমীর মেলার বর্ণিল আয়োজন দেখার সুযোগ, ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ: গাইবান্ধার কামারজানি বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চরাঞ্চল ঘুরে দেখা, অভিজাত আবাসন: মাস্তুলের প্রিমিয়াম কেবিনে নদের বুকেই রাত কাটানোর রোমাঞ্চ। খাবার: ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার টাটকা আইড়, বাঘাইড় কিংবা বোয়াল মাছের জিভে জল আনা মেনু। শান্তি ও নির্জনতা: শহুরে কোলাহল ছেড়ে চরের বালুকাবেলায় সূর্যাস্ত দেখার প্রশান্তি। চিলমারীর অষ্টমীর মেলা (যা চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নান উৎসব)। তাদের এই যাত্রা শুরু হবে,  কামারজানী বন্দর হতে  ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অষ্টমীর মেলা ভ্রমণ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নিজ উদ্যোগে একটি মাহিন্দ্রা পিকআপ গাড়ি সৌজন্য উপহার দিয়েছেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।পুলিশের বিভিন্ন ডিউটি, নিয়মিত টহল, অভিযান ও জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সুবিধার্থে এমপির ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়া গাড়িটি শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। এ সময় গৌরীপুর সার্কেলের কর্মকর্তা দেবাশীষ কর্মকার, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূইয়া মনি, ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমনসহ থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এ সময় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, “ঈশ্বরগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আমার নিজ উদ্যোগে গাড়িটি দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সদস্যরা যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”গৌরীপুর সার্কেলের কর্মকর্তা দেবাশীষ কর্মকার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমপির নিজ উদ্যোগে দেওয়া এই গাড়িটি ঈশ্বরগঞ্জ থানার বিভিন্ন ডিউটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।”ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, “গাড়িটি থানার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ডিউটি, অভিযান, টহল ও জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। গাড়িটি পাওয়ায় পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও গতিশীল হবে।”সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন গাড়িটি ব্যবহারের মাধ্যমে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের নিয়মিত টহল, অভিযান এবং জরুরি সেবামূলক কার্যক্রম আরও দ্রুততার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পুলিশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কার্যক্রমে এই গাড়িটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্কুল শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টা, ছাত্রদল নেতা বললেন ‘রাগ কমাতে সিএনজি দিয়ে একটু ঘুরেছি’

স্কুল শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টা, ছাত্রদল নেতা বললেন ‘রাগ কমাতে সিএনজি দিয়ে একটু ঘুরেছি’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আকছিনা-কুল্লাবাড়ি মডার্ন স্কুলের এক শিক্ষিকাকে দিনদুপুরে জোরপূর্বক অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর (৩৫) বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী উভয়ই একই গ্রামের বাসিন্দা।জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতেই দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহকে আসামি করে কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিযোগকারী ওই নারী। তবে অভিযুক্ত ওই ছাত্রদল নেতার দাবি করেছেন, অপহরণ নয়, শিক্ষিকার ইচ্ছাতেই তাকে নিয়ে সিএনজিতে ঘুরে বেড়িয়েছে সে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওই শিক্ষিকার পথরোধ করেন ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন। ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় দেলোয়ার একটি কালো রঙের পিস্তল বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে নেন।এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি শিক্ষিকার মুখ চেপে ধরে এবং ধারালো ছুরি গলায় ধরে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়েন ওই শিক্ষিকা। এ সময় স্থানীয় লোকজন তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ মুঠোফোনে জানায়, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তার একমাসের মতো সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের জেরে শিক্ষিকা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করায় কথা কাটাকাটি হয়। তিনি বলেন, শিক্ষিকার রাগ কমাতে সিএনজি দিয়ে একটু ঘুরেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমার রাজনৈতিক সম্মান নষ্ট করতেই এসব মিথ্যাচার করা হয়েছে।অপরদিকে অপহরণ চেষ্টার শিকার ওই নারী শিক্ষিকা বলেন, আমার সম্পর্কের বিষয়ে সে যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। বাড়ি যাওয়ার পথে সে আমার পথরোধ করে দাঁড়ায় এবং কথা বলতে চায়। আমি রাজি না হওয়ায় সে আমাকে পিস্তল ঠেকিয়ে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে। তিনি আরও বলেন, আমি এবং আমার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। সে যে কোনো সময় আমার এবং পরিবারের ক্ষতি করতে পারে। আমি সরকার ও স্থানীয় সংসদের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক জানান, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং স্কুল কমিটির পক্ষ থেকেও গ্রামবাসীর সঙ্গে বসে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।মূল সংবাদ- ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্ক   

মাদক-জুয়া ঠেকাতে কেন্দুয়ায় সর্বদলীয় ঐক্য, সমাবেশে এমপি হিলালীর কড়া বার্তা

মাদক-জুয়া ঠেকাতে কেন্দুয়ায় সর্বদলীয় ঐক্য, সমাবেশে এমপি হিলালীর কড়া বার্তা

অপরাধসহ মাদক-জুয়া ঠেকাতে কেন্দুয়ায় সর্বদলীয় ঐক্য, সমাবেশে এমপি হিলালীর কড়া বার্তামাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ১২ নম্বর রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। অপরাধী যে দলেরই হোক কিংবা যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।তিনি বলেন, এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সমাজের নৈতিক ভিতকে দুর্বল করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ সমাজব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নুরুজ্জামান নুরু, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এবং নেত্রকোনা-৩ আসনের জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী অধ্যাপক খায়রুল কবির নিয়োগী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ ও রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন ভূঞা সুরুজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি এনামুল হক ফারুকী, সহ-সভাপতি ও রোয়াইলবাড়ি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সিদ্দিকুর রহমান, পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামাল বাবলু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বিপ্লব, মো. সাইকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আয়োজকরা জানান, রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নে মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে একটি কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্পৃক্ততা জোরদার এবং অপরাধ প্রতিরোধে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

‘ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে'; সম্পাদক মোস্তফা মামুনদৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় গত ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড.সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারীএকান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারী কলেজ ও দিনাজপুর সরকারী কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি।বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অফ কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষাখাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।বর্অমানে অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন যা দেখে কিছু মানুষ তার এই কাজে ইর্ষা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে হেও পতিপন্ন করার জন্য নানা রকম প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।নির্বাচনে সভাপতি পদে মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহসভাপতি পদে আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিলন), কোষাধ্যক্ষ পদে এটিএম জোবায়েদ উর রহমান (জবা) এবং দপ্তর সম্পাদক পদে আব্দুল জলিল সরকার নির্বাচিত হয়েছেন। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ওয়াহেদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে মহসীন আলী, নুর আলম সিদ্দিক, সাজেদুর রহমান নওশাদ এবং মো. হেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুদ্দোহা দুলু। নির্বাচন পরিচালনায় একজন প্রিজাইডিং অফিসার, একজন পোলিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পার্বতীপুর মডেল থানা ও পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩০ মে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

লাগামহীন চুরি, দুই মাসে অন্তত ২০ ঘটনা, আতঙ্কে ধুনটবাসী

দোকান, বসতবাড়ি, মসজিদ, খামার— কিছুই বাদ নেই চোরচক্রের নজর থেকে; পুলিশের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।বগুড়ার ধুনট উপজেলায় একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত দুই মাসে উপজেলায় অন্তত ২০টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি ঘটনায় থানায় অভিযোগ ও মামলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চোরেরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। দোকান, বসতবাড়ি, মসজিদ, গরুর খামার থেকে শুরু করে যানবাহন— কোনো কিছুই যেন নিরাপদ নয় সংঘবদ্ধ এই চোরচক্রের হাত থেকে।দিবালোকে মার্কেটে চুরি, গ্রেপ্তার ৮।সর্বশেষ গত বুধবার সকাল ৮টায় প্রকাশ্য দিবালোকে ধুনট বাজারের ইছামতি মার্কেটে ঘটে বড় ধরনের চুরির ঘটনা। মার্কেটের নাইট গার্ড সকাল ৮টার দিকে গেট খুলে নাশতা করতে যাওয়ার সুযোগে মাসুদ টেলিকম থেকে প্রায় ৯৪টি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ আন্তজেলা চোরচক্রের ৮ জনকে গ্রেপ্তার করলেও উপজেলার বাকি চুরির ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি নেই।আজ শনিবারও (১ নভেম্বর) ধুনটের হাসপাতাল রোডে মিলন স্টোরে চুরি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী একটি সেলুনের টিন কেটে উপর দিয়ে উঠে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যায় চোর।এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু, অটোভ্যানের ব্যাটারি, টিউবওয়েল, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়মিতই চুরি হচ্ছে। ছাড় পাচ্ছে না মসজিদ-মাদ্রাসার সম্পদও।একের পর এক গরু চুরি, নিরাপত্তাহীনতায় খামারিরা।গত ৩০ আগস্ট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াহাটা গ্রামে দরজায় তালা দিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন করে চারটি গরু চুরি করে একটি দল। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলামিন বলেন, তাঁর তিনটি গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। এ ঘটনায় তাঁর প্রতিবেশী মালা বক্সের একমাত্র সম্বল একটি গরুও চুরি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। একই গ্রামের বৃদ্ধ আলেয়ারের গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও এলাকাবাসী বুঝতে পারায় গরু রেখে পালিয়ে যায় চোরেরা।গত ২ আগস্ট গোপালপুর খাদুলী চারমাথা বাজার এলাকা থেকে গোলাম মোস্তফার প্রায় ২ লাখ টাকা দামের সাত মাসের গাভিন গরু চুরি হয়ে যায়।মথুরাপুর ইউনিয়নের খাদরে গ্রামের মো. রজিবুল ইসলাম মোহাব্বত দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনকে বলেন, শুধু আমাদের নয়, বাড়ির পাশের অনেক বাড়িতেই চুরি হয়েছে। আমার এক লাখ আশি হাজার টাকা মূল্যের গাভিটি চুরি করে নিয়ে গেছে। তবে বাছুরটি নিতে না পারায় রেখে যায় তারা।একই গ্রামের সিংহের পাড়া এলাকার মো. একরামুল হোসেনের তিনটি গরু চুরি হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর। তিনি বলেন, "রাত দুটার সময় গরু দেখে এসে ঘুমিয়ে পড়ি। স্ত্রী সকালে উঠে দেখেন গোয়ালে কোনো গরু নেই। আমার দুটি বকনা গরুর একটি সাত মাসের গাভিন ছিল, অন্যটির দাম প্রায় লাখ টাকা। থানায় জিডি করলেও পরবর্তীতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুলিশের প্রতি আমাদের তেমন কোনো আস্থা নেই।"চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের তোফিজ উদ্দিন সরকারের চারটি গরু একই রাতে চুরি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। তাঁর নাতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, থানায় অভিযোগ করার পরেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম বললেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি দেখিনি।এলাকার ক্ষুদ্র খামারি মো. আবুল কালাম বলেন, আমরা দুই-তিনটা করে গরু পালন করে সংসার চালাই। চোরের উপদ্রবে রাতে না ঘুমিয়ে গরু পাহারা দিতে হয়। গরু চুরি হয়ে গেলে আমাদের চলার মতো আর কিছু থাকবে না।চুরির হাত থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদও।গত ১০ আগস্ট চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের ফড়িংহাটা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের জানালার গ্লাস ভেঙে গ্রিল কেটে মাইক, মাইক্রোফোন, তারসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় মসজিদের সৌর ব্যাটারিও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু মানুষের উপস্থিতিতে পালিয়ে যায় তারা।দোকানে দোকানে হানা।গত ২০ আগস্ট নিমগাছি ইউনিয়নের ধামাচামা গ্রামের উত্তরপাড়ায় খোকা পরামানিকের ছেলে রাজিবুল হক রিজুর বাড়িতে সিঁধ কেটে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ প্রায় ২ লাখ টাকার সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। তিনি বলেন, বর্তমানে যে হারে চোরের উপদ্রব বেড়েছে, তাতে নিজের বাড়িতেও আমরা অনিরাপদ।গত ১১ আগস্ট ধুনট পাইলট স্কুল মার্কেটের একটি দোকানের তালা কাটার চেষ্টা করা হলেও মানুষের উপস্থিতি বুঝে চোরেরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এই দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।গত ৯ আগস্ট গোবিন্দপুর বাজারে রাত ১০টায় দোকান বন্ধ করে খাবার খেতে বাড়িতে যান ইউসুফ স্টোরের মালিক। এর মধ্যেই রাত ১১টার মধ্যে দোকানের টিনের বেড়া কেটে প্রায় সাত হাজার টাকা নগদ ও দেড় লাখ টাকার মালামাল চুরি করা হয়। দোকানমালিক আব্দুল হামিদ বলেন, বর্তমানে এলাকায় চোরের উপদ্রব এত বেড়েছে যে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা কঠিন হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আমাদের ব্যবসা করাই কঠিন হয়ে যাবে।" তিনি জানান, গত মাসে তাঁর পার্শ্ববর্তী শাহ আলমের দোকানেও এক লাখ টাকা নগদসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়। থানায় অভিযোগ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "থানায় অভিযোগ দিলেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয় না, চোর গ্রেপ্তার হয় না। তাই আমরা অভিযোগ দিতে ইচ্ছুক নই।গত ১৬ আগস্ট উজান সিং গ্রামের মধ্যপাড়ায় একটি দোকানের টিনের চাল কেটে ২ লাখ টাকা নগদসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাই।গত ১৯ সেপ্টেম্বর মথুরাপুর বাজার থেকে অটোভ্যান চুরি করে পালানোর সময় সিএনজির সঙ্গে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন শেরপুরের বটতলার শেখ সাদী। স্থানীয় জনতা তাঁকে আটক করে।প্রায় ১৫ দিন আগে উত্তর অফিসারপাড়া এলাকার রাসেল বাবুর অটোরিকশা থেকে ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায় চোরচক্র।গত ২১ সেপ্টেম্বর থানা থেকে মাত্র ৩০০ গজ দূরে বাঁশহাটা গ্রামের অটোচালক জয়ের অটো অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করে নেওয়া হয়। পরে ২২ সেপ্টেম্বর রজিবুল ইসলাম নামে একজনকে ছিনতাই করা অটোসহ গ্রেপ্তার করা হয়।গত ১১ আগস্ট ফড়িংহাটা গ্রামে ছাগল চুরির সময় সুদীপ সরকার নামে একজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, "ষচুরির ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছে, কিন্তু এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি। একই ঘটনা বারবার ঘটছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। আমার মনে হয়, একটি চক্রই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।"ষচৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপী গ্রামের আবু তালেব বলেন, "ষবাড়িতে বউ-বাচ্চাকে একা রাখতেও ভয় লাগছে। দ্রুত এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চোরচক্র ধারাবাহিকভাবে দোকান ও খামারিদের লক্ষ্য করেই চুরি করছে, যাতে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও খামারিরা পড়েছেন ব্যাপক দুশ্চিন্তায়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে সব বাড়িতে পুরুষ সদস্য কম, যেগুলো জনবসতি থেকে দূরে, এবং যে সব বাজারে নাইট গার্ড নেই বা দোকান ফাঁকা জায়গায়— সেসব স্থানেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেশি। সচেতন মহলের দাবি, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে পারে।উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।এ বিষয়ে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং ইতিমধ্যে কিছু গ্রেফতার করেছি। এ বিষয়ে ধুনট থানা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।

বিস্তারিত

ধুনটে শুরু হলো পিপিআর রোগ নির্মূল কর্মসূচি, বিনামূল্যে টিকা পাবে ৩২ হাজার ছাগল

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর টিকাদান কার্যক্রম। বুধবার (১ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই টিকা পাবে উপজেলার ৩ থেকে ১২ মাস বয়সী ছাগল ও ভেড়া।উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ধুনট সূত্রে জানা যায়, এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় মোট ৩২ হাজার ছাগলকে বিনামূল্যে পিপিআর টিকা প্রদান করা হবে।বুধবার ধুনট হেলিপ্যাড মাঠে এই টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. রেহানা খাতুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর আল মানসুর শোয়ায়েব, ধুনট পৌর বিএনপির সভাপতি আলিমুদ্দিন হারুন মন্ডল এবং ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাকিব। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের স্টাফ, ভ্যাকসিনেটর, সাংবাদিক এবং স্থানীয় খামারিরাও উপস্থিত ছিলেন।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা মোছাঃ রেহেনা খাতুন , পিপিআর একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা ছাগল ও ভেড়ার মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির কারণ হয়। নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ নির্মূল করা সম্ভব। খামারিদের নিকটস্থ ভেটেরিনারি হাসপাতাল বা টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট বয়সের ছাগল-ভেড়াকে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হলো।

বিস্তারিত

ধুনটে দোকানের শাটার কেটে ৯৪ মোবাইল চুরি,আন্তজেলা চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

বগুড়ার ধুনট উপজেলা সদরের ইছামতি কমপ্লেক্স মার্কেটের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে চুরির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনসহ আন্তজেলা চোরচক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর এলাকায় বগুড়া থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল ৮টার দিকে সংঘবদ্ধ চোরের একটি দল ধুনট উপজেলা সদরের ইছামতি কমপ্লেক্সে অবস্থিত ‘মাসুদ টেলিকম’ নামের একটি মোবাইল ফোনের দোকানের শাটার কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে দোকান থেকে ৯৪টি মোবাইল ফোন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।চুরির পর চক্রটির সদস্যরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় শেরপুর শহরে যায়। সেখান থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় তারা।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে ধুনট থানা পুলিশ, সিরাজগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি দল যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। পরে শ্যামলী পরিবহনে তল্লাশি চালিয়ে আটজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার সৈয়দপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আলামিন (৩০), পাঠানপাড়া গ্রামের আজিজুল রহমানের ছেলে ইসরাফিল রহমান (২৭), বাকলিয়া থানার সিএমপি বাকলিয়া গ্রামের হবু মিয়ার ছেলে আক্কাস আলী (৩৫), কোতোয়ালি থানার ইসমাইল ফয়েজ রোডের ইব্রাহিমের ছেলে রিদয় (৩৪), নরসিংদীর রায়পুরা থানার চর মদিনানগর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার চকবাজার মোল্লাবাড়ী গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত (৩৮), কুমিল্লার চান্দিনা থানার নওয়াতপুর গ্রামের খালেকের ছেলে রবিউল (৩৩) এবং মুরাদনগর থানার কামাল্লা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিন (২৫)।ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিস্তারিত

ধুনটে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় নারী আটক

বগুড়ার ধুনটে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বেদেনা খাতুন (৪০) নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।বেদেনা খাতুন উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের সুলতানহাটা গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী। এর আগে সোমবার বিকেলে স্থানীয়রা তাঁকে উপজেলার চান্দিয়াড় গ্রাম থেকে আটকের পর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে চান্দিয়াড় গ্রামের কয়েকজন হতদরিদ্র নারীর কাছে টাকা দাবি করছিলেন বেদেনা খাতুন। এ সময় তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেন।প্রতারণার কৌশল হিসেবে তিনি স্থানীয়দের বলতেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টাকা দিলে কার্ড করে দেওয়া হবে এবং কার্ডধারীরা প্রতি মাসে সরকারি আর্থিক সহায়তা পাবেন। আস্থা অর্জনের জন্য তিনি বিভিন্ন ধরনের ভুয়া সরকারি ফরমও দেখাতেন। পাশাপাশি দরিদ্র ব্যক্তিদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সাইজের ছবিও সংগ্রহ করছিলেন তিনি।এক পর্যায়ে তাঁর আচরণে এক নারীর সন্দেহ হলে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান তিনি। সংবাদ পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেদেনা খাতুনকে আটক করেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে থানা হেফাজতে নেয়।ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, "৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে ওই নারীকে থানা হেফাজতে আনা হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কারও কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় তাঁকে ৫১ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"

বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ এএম
সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ এএম
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ এএম
ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

২৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

ধুনটে চেকপোস্ট বসাতে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর গ্রেপ্তার ২

২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
ধুনটে চেকপোস্ট বসাতে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর গ্রেপ্তার ২

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরতে হবে: মোজতবা খামেনি

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ এএম
মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরতে হবে: মোজতবা খামেনি

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ এএম
পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

হিরোগিরি

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ এএম
হিরোগিরি

মাকে শেষবার দেখার আকুতি, তারপরও থামেনি নির্যাতন-মুক্তিপণ না পেয়ে পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ এএম
মাকে শেষবার দেখার আকুতি, তারপরও থামেনি নির্যাতন-মুক্তিপণ না পেয়ে পা  ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

আবরার ফাহাদের শাহাদাত বার্ষিকীতে নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের দোয়া-মাহফিল

৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ এএম
আবরার ফাহাদের শাহাদাত বার্ষিকীতে নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের দোয়া-মাহফিল

ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ নয়, কমাতে বলল ওয়াশিংটন

৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ নয়, কমাতে বলল ওয়াশিংটন

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ

৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ

বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা

৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা

সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা

৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা
PublicVoice representative application
হিরোগিরি

হিরোগিরি

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ এএম

সিনেমা হলের ভেতর চলছে তুমুল অ্যাকশন দৃশ্য। এক যুবক মনোযোগ দিয়ে সিনেমা দেখছে, কিন্তু তার পাশের সিটে বসা এক বৃদ্ধের কারণে সে বেশ অস্বস্তিতে আছে। বৃদ্ধের হাতে একটি ছোট পেপসির বোতল, আর তিনি ঠিক পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর বোতলে একটা জোরালো চুমুক দিচ্ছেন। শব্দটা যুবকের সিনেমার উপভোগে বারবার বাধা সৃষ্টি করছিল। অনেকক্ষণ সহ্য করার পর যুবকের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে বিরক্ত হয়ে বৃদ্ধের হাত থেকে বোতলটা ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে বলল, "চাচা, সিনেমার চেয়ে আপনার পেপসি খাওয়া নিয়ে আমি বেশি ডিস্টার্ব হচ্ছি। এটুকু পানীয় খেতে এত নাটক করতে হয়? এই দেখুন, কীভাবে একবারে শেষ করতে হয়!"এই বলে যুবক বোতলটি মুখে দিয়ে এক ঢোকে সবটুকু পানীয় গিলে ফেলল। তারপর বোতলটা বৃদ্ধের হাতে ফেরত দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসল।বৃদ্ধ বোতলটা হাতে নিয়ে অবাক চোখে যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন, "বাবা, আমার পেপসিটা তো তুমি খেলে না, কারণ ওটা তো পেপসিই ছিল না। আসলে আমার পানের অভ্যেস তো, তাই পানের পিকগুলো ওই বোতলে ফেলছিলাম!"