উচ্চকক্ষ গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন প্রস্তাব বিশেষ কমিটির বৈঠকে

সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া ও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সাড়ে ছয় ঘণ্টার এই দীর্ঘ বৈঠকে উচ্চকক্ষ গঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞ এবং আইনজ্ঞরা। আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়গুলো কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে।বৈঠকে উপস্থিত একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষকের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ১০৫ নির্ধারণ করা হতে পারে। এই কাঠামোর অধীনে ৫০ জন সংসদীয় আসনের অনুপাতে এবং ৫০ জন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে নির্বাচিত হবেন। বাকি পাঁচজন সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবদাতার মতে, এই ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সমতা বিধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বাকি পাঁচজনকে মনোনয়ন দেবেন রাষ্ট্রপতি।অন্য একজন শিক্ষাবিদ উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংবিধানে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ তৈরি করা হবে এবং উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে সেই দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সরকারি ও বিরোধী দলের সমঝোতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ থেকে উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব করেন, যাতে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও একটি নির্বাচিত সংসদ সব সময় সক্রিয় থাকে।বৈঠকে সংবিধান সংশোধন কমিটির পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অংশ নেন। আমন্ত্রণ পাওয়া ৬০ জনের মধ্যে ৪৪ জন উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, সরকারি দল বিএনপির ইশতেহারে আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ভোটের অনুপাতে গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করেন।বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তাবটি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে উপদেষ্টা নিয়োগের বিধান রাখা যেতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।কমিটির সভাপতি আরও জানান, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিচারক নিয়োগ আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত ১১৬ অনুচ্ছেদ পর্যালোচনার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিচারিক পর্যালোচনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন নিয়েও বৈঠকে ঐকমত্যের আভাস মিলেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আস্থা ভোট, অর্থবিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও সংবিধান সংশোধনী ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এ বিষয়ে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, তার প্রস্তাবে অনেকে সমর্থন জানান।কমিটির কার্যক্রম নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত হওয়া বৈঠকগুলোর মধ্যে শনিবারেরটি সবচেয়ে ফলপ্রসূ ছিল। বর্তমানে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। কমিটির আর মাত্র এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

ইরানে অবস্থানরত রাশিয়ার কূটনীতিক এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের কর্মী বা বিশেষজ্ঞদের ইরান ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।এর আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেশ কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সংবাদ অ্যাগ্রিগেটর দাবি করেছে ইরান থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই দাবিগুলোতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব জল্পনাকে পুরোপুরি বানোয়াট হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এমন গুঞ্জন ছড়ায়। স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি গত জুলাই মাসে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রেও এই কেন্দ্রের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিহ্ন দৃশ্যমান হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করল।

শান্তি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে নেহা বোরার স্পষ্ট অস্বীকৃতি

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা কোনো অবস্থাতেই শান্তি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই বামপন্থী ছাত্রনেত্রী বলেন, এই ধরনের চুক্তি ভিন্নমত দমনের একটি কৌশল। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা নেহা বোরা জানান, তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ এবং এসইএম-এর নোটিশের বিরুদ্ধে করা আপিল দিল্লি হাইকোর্ট খারিজ করার পর তিনি বাধ্য হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, “আমাকে কার শান্তি রক্ষা করতে বলা হচ্ছে।ম্যাজিস্ট্রেটের শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তী শুনানি ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। মন্দির মার্গ থানায় আদালত চলাকালীন বাইরে একদল ডানপন্থী কর্মী সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষে স্লোগান দেন। নেহা বোরা প্রশ্ন রাখেন, সরকারের নীতির সমালোচনা করা কি শান্তির জন্য হুমকি? তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সংবিধান যেখানে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে, সেখানে শান্তিভঙ্গের অজুহাতে এ ধরনের চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া নাগরিক অধিকার বিসর্জন দেওয়ার শামিল। তিনি বলেছেন, “একদিকে, সংবিধান আমাদের ভিন্নমত প্রকাশের, আমাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার অধিকার দিয়েছে, অন্যদিকে, শান্তিভঙ্গের নামে মানুষকে আটক করার জন্যই কেবল এই ধরনের শান্তি চুক্তির দোহাই দেওয়া হয়।”।তিনি সম্প্রতি 'তেলাপোকা জনতা পার্টি'র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যিনি গত ১০ অক্টোবর একই ধরনের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। এসইএম-এর দেওয়া নোটিশে নেহাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তদন্ত চলাকালীন শান্তি বজায় রাখার জন্য তাকে ১০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত মুচলেকা এবং একজন জামিনদার দিতে হবে। এই প্রক্রিয়াকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে নেহা বোরা দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার লড়াই কোনো ব্যক্তিগত শান্তির জন্য নয়, বরং আদর্শিক অধিকার রক্ষার জন্য। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশে নেহাকে তার সামনে হাজির হতে এবং “তদন্ত চলাকালীন শান্তি বজায় রাখার জন্য” একজন জামিনদারসহ ১০,০০০ রুপির একটি ব্যক্তিগত মুচলেকা সম্পাদন করতে বলা হয়েছে। এর আগে, সিপিআইএমএল লিবারেশনের সংসদীয় কার্যালয়ে, যার ছাত্র শাখা হলো আইসা, নেহা বলেছিলেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার।

ইরানে আজই সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পরিচালনা করতে পারে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন। পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা এ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এবং অভিযানটি আজই কার্যকর হওয়া সম্ভব। তবে তিনি সরাসরি নিশ্চিত না করে কৌশলী উত্তর দিয়েছেন, কারণ সামরিক পদক্ষেপের কথা আগেই ফাঁস করতে তিনি আগ্রহী নন। ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগোচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি হামলা করব কিনা, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’।মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্পের দাবি, অতীতে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারেনি। তাই পরিস্থিতিটি এমন পর্যায়ে নিতে চান, যেখানে ফলাফলটি সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যেন পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই তিনি নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে।অভিযানের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, তেহরান যদি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, তাকে হয়তো বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে, অথবা ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে। তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তবে যে পথই বেছে নেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এর আগে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সংকটের কোনো স্থায়ী সুরাহা এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি।

গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরিতে সহায়তা করেছে: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে গণমাধ্যমই মূলত ফ্যাসিস্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছে এবং এখন থেকে গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। শনিবার নিজ জেলা মৌলভীবাজারে সাংগঠনিক সফরে এসে সার্কিট হাউজের মুন হলে আয়োজিত এক বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জেলা শহরে এটিই ছিল তার প্রথম সফর, যা কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। জামায়াতের আমিরের সফর ঘিরে স্থানীয় নেতা কর্মীর মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের আলোকে প্রতি দুই বছর পর পর জেলা আমীর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।এর আগে সকাল আটটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম, জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।এরপর রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অংশ হিসেবে সকাল নয়টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছালে সেখানে তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে পুলিশের একটি চৌকস দল।সার্কিট হাউসে জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমানসহ স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া, ছাত্রশিবিরের মৌলভী বাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ প্রমুখ।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও স্থানীয় রুকনদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নেন। জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য মৌলভীবাজার জেলা আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দুপুর দুইটা থেকে রুকন সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সম্মেলনে প্রায় ছয়শ রুকন ভোটার অংশ নেবেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন জামায়াত আমির। নির্বাচন পরিচালনা করবেন সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শেষে মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৬০৩টি ওয়ার্ডের প্রতিনিধির পাশাপাশি, সকল রুকন ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীগণ দায়িত্বশীল ওয়ার্ড সম্মেলনে ডেলিগেট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে ৬০০ রুকন অংশগ্রহণ করবেন।এছাড়াও জোহরের নামাজের পর জেলা সার্কিট হাউজে ১১ দলীয় জোটের মৌলভীবাজার জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দুপুরের খাবারে অংশ নেবেন ডা. শফিকুর রহমান। রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ করে বিকেল চারটায় তিনি সিলেট বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই সফরের মাধ্যমে সাংগঠনিক জনশক্তির মধ্যে উদ্দীপনা বাড়বে এবং তৃণমূল সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। জোহরের নামাজ কোর্ট মসজিদে আদায় করবেন।

 ইরান যুদ্ধ

ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছেন ট্রাম্প: বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওবামার মতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো এমন একটি যুদ্ধ শুরু করা, যার কোনো প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের দাবি দেশের ভেতর থেকে কেউ কখনো জানায়নি।ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সংঘাতের আঁচ ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে লেগেছে। যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়া তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই নৌপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলোও নির্বাচনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।ওবামার এসব মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘চরম অযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ওবামা ইরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন, যা দেশটির জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ সহজ করে দিয়েছিল। ট্রাম্প তার শাসনামল থেকেই এই চুক্তিটির কঠোর বিরোধিতা করে আসছেন।উল্লেখ্য যে, ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরান ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বর্তমানে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওবামা ও ট্রাম্পের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান ইস্যু এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাবকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

ইরানে অবস্থানরত রাশিয়ার কূটনীতিক এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের কর্মী বা বিশেষজ্ঞদের ইরান ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।এর আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেশ কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সংবাদ অ্যাগ্রিগেটর দাবি করেছে ইরান থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই দাবিগুলোতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব জল্পনাকে পুরোপুরি বানোয়াট হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এমন গুঞ্জন ছড়ায়। স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি গত জুলাই মাসে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রেও এই কেন্দ্রের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিহ্ন দৃশ্যমান হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করল।

ইরানে আজই সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পরিচালনা করতে পারে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন। পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা এ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এবং অভিযানটি আজই কার্যকর হওয়া সম্ভব। তবে তিনি সরাসরি নিশ্চিত না করে কৌশলী উত্তর দিয়েছেন, কারণ সামরিক পদক্ষেপের কথা আগেই ফাঁস করতে তিনি আগ্রহী নন। ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগোচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি হামলা করব কিনা, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’।মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্পের দাবি, অতীতে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারেনি। তাই পরিস্থিতিটি এমন পর্যায়ে নিতে চান, যেখানে ফলাফলটি সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যেন পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই তিনি নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে।অভিযানের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, তেহরান যদি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, তাকে হয়তো বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে, অথবা ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে। তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তবে যে পথই বেছে নেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এর আগে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সংকটের কোনো স্থায়ী সুরাহা এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার পরিকল্পনা ইরানের

ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ফের যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোতে হামলার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে তেহরান। কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল পুনরায় ইরানে আক্রমণ চালায়, তবে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সংযোগগুলোই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। এমন হামলার উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটানো এবং মেরামতের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা।ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের ওপর আক্রমণ হলে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা বা 'রেড লাইন' থাকবে না। ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে এক কর্মকর্তা বলেন, আগুন নিয়ে খেলা করা উচিত নয়। ইরানের কাছে সমুদ্রতলের ক্যাবলগুলোর নাগাল পাওয়ার এবং সেগুলো সহজে ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক ঘাঁটিসহ স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোও তাদের হামলার আওতায় থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রতলের ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রবাহিত ব্যান্ডউইথের পরিমাণ এক শতাংশের চেয়েও কম। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বৈশ্বিক প্রভাব সীমিত থাকলেও একাধিক ক্যাবল কাটা পড়লে ইন্টারনেটের গতি ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে, যা আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ক্লাউড সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত রাখতে এবং উপসাগরীয় দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ নিয়ে সংশয় তৈরি করতেই ইরান এ ধরনের কৌশলগত হুমকির আশ্রয় নিচ্ছে।এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি হাব গড়ে তুলতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। এ ধরনের অবকাঠামো রক্ষার জন্য বর্তমানে স্থলভিত্তিক বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির কাজও চলমান। মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রতল ও স্থলভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামোয় ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, যা এই অঞ্চলের ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

রাজনীতি

খাগড়াছড়ি,রামগড়ে ইনকিলাব মঞ্চের মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচারের দাবিতে খাগড়াছড়ি অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে 'মার্চ ফর ইনসাফ' কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ২টায় খাগড়াছড়ির রামগড় বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাজারের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রাইম ব্যাংকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন ইনকিলাব সার্চ কমিটির আহ্বায়ক জি. এল. সাব্বির ও সদস্য সচিব আদনান আহাদ সহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে এনসিপির রামগড় উপজেলা আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।মিছিল শেষে প্রাইম ব্যাংকের সামনে শহিদ আবতাবুল কাদের সড়কে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, "তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করেছি, তারই অংশ হিসেবে খাগড়াছড়িতে আমাদের মার্চ ফর ইনসাফ পদযাত্রা।"তিনি তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, দাবিগুলো হলো— ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং শাপলা, পিলখানা ও জুলাইয়ের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।M

খাগড়াছড়ি,রামগড়ের রাজনীতিতে নতুন গতিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি পথচলা

খাগড়াছড়ি,রামগড়ের রাজনীতিতে নতুন গতিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি পথচলাপ্রকাশ: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ | রামগড়দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর খাগড়াছড়ির রামগড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়া। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে একযোগে ঘোষণা করা হয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে রামগড় উপজেলা বিএনপি ও রামগড় পৌর বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) রামগড় উপজেলা শাখার ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি।নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকে রামগড় উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।প্রথম ধাপ: রামগড় উপজেলা বিএনপিবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি রামগড় উপজেলা শাখার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।নবগঠিত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন—সভাপতি: জনাব মোঃ জসিম উদ্দিন (MD Jashim Uddin)সাধারণ সম্পাদক: জনাব সাফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া (Safaet Morshed Bhuyan Mitu)সাংগঠনিক সম্পাদক: জনাব শাহ আলম বাদশাসাংগঠনিক সম্পাদক: জনাব আলিম উল্লাহ (Alim Ullah)*নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের উপর দল যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, আমরা জীবন দিয়ে হলেও তার মর্যাদা রক্ষা করব। দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রামগড় উপজেলা বিএনপিকে একটি মডেল সংগঠনে রূপান্তরিত করব।”সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু বলেন, “এই কমিটি তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গঠিত। আগামীতে দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে রামগড় উপজেলা বিএনপি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”দ্বিতীয় ধাপ: রামগড় পৌর বিএনপিউপজেলার পাশাপাশি রামগড় পৌর বিএনপিরও ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।নবগঠিত পৌর কমিটির নেতৃত্বে—সভাপতি: জনাব বাহার উদ্দিন (Bahar Uddin)সাধারণ সম্পাদক: জনাব সাফায়েত উল্ল্যাহ (Safayet Ullah)সাংগঠনিক সম্পাদক: জনাব মোহাম্মদ ইলিয়াস (Muhammad Elias)পৌর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।অন্যদিকে বিরুদ্ধি দল এনসিপি মেয়াদ শেষে নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন জেলা কমিটির সৃকৃতিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) রামগড় উপজেলা শাখার ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এতে আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জনাব হারুনুর রশিদ।নবমনোনীত আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ বলেন, “বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এনসিপি কাজ করছে। রামগড়ের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা সোচ্চার থাকব।”প্রতিক্রিয়া:তিনটি কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নবনির্বাচিত সকল নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় ভাসাচ্ছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা দমনে কঠোর হতে হবে: জামায়াত আমির

পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা নিরসনে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা কোনোভাবেই থামছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো মালিক বা শ্রমিক কারখানায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে নিজের অধিকার আদায়ে সফল হতে পারেন না। দলের পক্ষ থেকে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, সাধারণ কোনো শ্রমিক এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত নন।জামায়াত আমির আরও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একটি পক্ষ বা গোষ্ঠী পরিস্থিতি উসকে দিয়ে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশের স্বার্থে এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সরকারকে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে দেওয়া বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই সমঝোতায় পৌঁছেছেন তারা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই আর্থিক সহায়তা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, সহায়তা বন্ধ করলেও ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অব্যাহত থাকবে। ২০২০ সালে কংগ্রেস ইসরাইলের জন্য অর্থায়নের অনুমোদন দিয়ে আইন পাস করে। ইসরাইলের সমালোচক প্রার্থীরা ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পাচ্ছেন।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের ভোট প্রদানের সময় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। যদিও কোন নির্দিষ্ট তহবিল থেকে এই অর্থায়ন বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। বর্তমানে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার আওতায় প্রতিবছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে এবং এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। ফলে বর্তমান এই ঘোষণা ও বিদ্যমান চুক্তির মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ওই সময়সীমার পর ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর। তবে অর্থ ছাড় ও বিতরণের জন্য সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদকে প্রতিবছর বরাদ্দ বিল পাস করতে হয়।ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরাইলের বর্তমান পরিস্থিতিতে আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থি রাজনীতিকরা ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ইস্যুটিকে ব্যবহার করে রিপাবলিকানদের আক্রমণ করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক মাস আগেই আমরা চুক্তি করেছি যে এ বছরের শেষ নাগাদ এই অর্থ সহায়তা বন্ধ করব। কারণ তাদের এখন আর এর প্রয়োজন নেই।’ তবে তিনি যোগ করেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইসরাইলকে সহায়তা করবে। ট্রাম্প বলেন, বামপন্থিরা যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থায়নকে ‘অন্যায্যতার সংকেত’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা তিনি হতে দিতে পারেন না।ট্রাম্প বিশেষ করে মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ইসরাইলকে সহায়তার বিরোধিতাকারী এল-সায়েদকে ‘উন্মাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এমন ব্যক্তিদের আক্রমণের শিকার হওয়া থেকে বাঁচতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী জনমত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ মিশিগান থেকে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।উল্লেখ্য যে, গত ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তার রাজনৈতিক মিত্র রিপাবলিকানদের সঙ্গে এই সমঝোতা হলেও হোয়াইট হাউস কিংবা নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এটি একটি খারাপ, খুব খারাপ রাজনৈতিক বক্তব্য।’।এদিকে, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের গত জুনের জরিপ অনুযায়ী, ৪৮ শতাংশ মার্কিন ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন যে ইসরাইলকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যেখানে ২০১৭ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে মাত্র ১৬ ও ২০ শতাংশ। জনমতের এই পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের সমর্থক ও আইনপ্রণেতাদের একাংশও এখন ইসরাইলের প্রতি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর সরকার প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করেছে। ২০২৪ সালের প্রচারণার সময় ইরানকে সহজে পরাজিত করার যে প্রতিশ্রুতি ইসরাইল দিয়েছিল, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন তুলছেন তারা। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্পকে ইসরাইল বিশ্বাস করিয়েছিল, ইরানকে সহজেই যুদ্ধে পরাজিত করা সম্ভব।এর আগে অক্টোবরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আমেরিকার সহায়তা পাওয়ার পুরোনো দিন শেষ হতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যদি মনে করি যে আমেরিকার কাছ থেকে কয়েক দশক ধরে পাওয়া বিলিয়ন ডলারের সহায়তা আমরা পেতে থাকব, তবে আমাদের নতুন বাস্তবতায় অভ্যস্ত হতে হবে।’ বর্তমানে কংগ্রেসের বার্ষিক বাজেট পাসের জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই সহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জরিপ ও নির্দলীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

রাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে।তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান।সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি।সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং।ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে।বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সুত্র: কালের কণ্ঠরাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে। তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি। সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’ তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং। ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’ তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’ খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুত্র: কালের কণ্ঠ

ফুলবাড়ীতে বসুন্ধরা শুভসংঘ ও মোক্তারপুরের মধ্যে প্রীতি হা-ডুডু ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ফুলবাড়ীতে বসুন্ধরা শুভসংঘ ও মোক্তারপুরের মধ্যে প্রীতি হা-ডুডু ম্যাচ অনুষ্ঠিত

মাদককে না বলি, ক্রীড়াকে হ্যাঁ বলি—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হা-ডুডু খেলার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখা।শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) ফুলবাড়ী উপজেলার মোক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বসুন্ধরা শুভসংঘ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখা ও মোক্তারপুর দলের মধ্যে এক প্রীতি হা-ডুডু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি জনাব মোঃ সোহেল রানা।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টি এম হেলথ কেয়ারের টেকনিশিয়ান জনাব মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ রাজিব হোসেন মাস্টার ও সমাজসেবক জনাব মোঃ শাহাজান মন্ডল।খেলায় বসুন্ধরা শুভসংঘ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম (আরিফ)-এর নেতৃত্বে শুভসংঘের একটি দল অংশগ্রহণ করে। অপরদিকে রায়হান মন্ডলের নেতৃত্বে মোক্তারপুর দল খেলায় অংশ নেয়।খেলায় বসুন্ধরা শুভসংঘ দলের অধিনায়ক ছিলেন আরিফুল ইসলাম (আরিফ)। দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রা হলেন আনন্দ, আশিক, আলমগীর, মিজান, রাসেল, সৈকত ও জাহাঙ্গীর।অন্যদিকে মোক্তারপুর দলের অধিনায়ক রায়হানের নেতৃত্বে খেলায় অংশগ্রহণ করেন গোলাপ, শাহিন, স্বাধীন, মিল্লাদ, আমিন ও রাকিব।খেলাটি পরিচালনা করেন রমজান, জাহাঙ্গীর, বিপ্লব, আসিফ পুলিশ ও আনন্দ।এ সময় বসুন্ধরা শুভসংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, ফাজকুরুনী শাওন, হাসানুর ও শাহিন আলমসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।মোট ৩০ মিনিটের খেলায় উভয় দল ১৫ মিনিট করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল প্রাণবন্ত লড়াই। শেষ পর্যন্ত বসুন্ধরা শুভসংঘ ৬৬ পয়েন্ট অর্জন করে এবং মোক্তারপুর দল ৫১ পয়েন্ট অর্জন করে। ফলে ১৫ পয়েন্টের ব্যবধানে বিজয়ী হয় বসুন্ধরা শুভসংঘ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখা।আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

অনলাইন জরিপ
৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। বিধিমালা অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে দেশের যেকোনো একটি বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে।তিনি আরও জানান, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (Economic Life) হবে সর্বোচ্চ ১২ বছর। সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন হলো:১। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।২। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।৩। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।৪। খুলনা সিটি করপোরেশন।৫। রাজশাহী সিটি করপোরেশন।৬। বরিশাল সিটি করপোরেশন।৭। সিলেট সিটি করপোরেশন।৮। রংপুর সিটি করপোরেশন।৯। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।১০। গাজীপুর সিটি করপোরেশন।১১। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন।১২। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।১৩। বগুড়া সিটি করপোরেশন।বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশা নিয়ে মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান রিকশাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে না। বৈধ ও অবৈধভাবে চলাচলরত যানবাহনগুলো আপাতত চলাচল করতে পারবে। তবে বিধিমালা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন থেকেই ব্যাটারি চার্জ করতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ই-রিকশার ব্যাটারি ভাঙা বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা যাবে না।নিবন্ধন ও নবায়ন ফি সম্পর্কে তিনি জানান, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।ই-রিকশার চলাচল আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে জোনভিত্তিক চলাচল ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং প্রতিটি জোনের জন্য পৃথক রং নির্ধারণের বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ অংশ নিয়েছেন।শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।সভায় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনসহ সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ অপরাধ দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি- সবকিছু সামলাতে হচ্ছে একই বাহিনীকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর ও আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির চাপ। জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা নিয়েও চাপে আছে মাঠপুলিশ। এর বাইরে রয়েছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে মাঠপুলিশের ওপর দায়বদ্ধতার চাপ আরও বেড়েছে। কোনো এলাকায় মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি এবং তদারকি কর্মকর্তাকে দায় নিতে হবে- এমন বার্তাও পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এখনও তোলপাড় চলছে পুলিশে। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ সভায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয় ডিসি ওসিদের। কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকামিছিল বের হলে ওই এলাকার ডিসি-ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাবধান করা হয়। পরবর্তীকালে গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ব্যর্থতা দায় হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছে ঢাকার ৫০ থানার ওসি ও জোনাল ডিসি-এডিসি, এসিরা। ডিএমপির একাধিক থানার ওসি এই চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।শুধু ঢাকা মহানগরই নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে সারাদেশেই মাঠ পুলিশ চাপের মুখে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে সব রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা আমাদের সময়কে বলেন, যেকোনো ধরনের চাপ নিয়ে কাজ করতে পুলিশ অভ্যস্ত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব চাপ সামলে পুলিশ কতটা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে, সেদিকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের প্রতিটি ধাপে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। বড় কোনো ঘটনা ঘটার পরই প্রায়ই গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এনেছে।আশরাফুল হুদা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশের ভেতরে দীর্ঘ ১৭ বছরে তৈরি হওয়া ‘জঞ্জাল’ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরীহ কর্মকর্তা বা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ বাহিনীর সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পড়তে পারে।জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির যে সংযোগ রয়েছে, তা মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাদের মনোবলও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে- এমনটা বলার সুযোগ নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পুলিশকেই পালন করতে হবে। তবে অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ সরাসরি পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিলে তাদের মনোবল আরও দুর্বল এবং বাহিনীর মধ্যে নতুন করে মেরুকরণ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে মাঠ পুলিশ। নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেনি। কমানো যায়নি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলির ঘটনা বেড়েছে। খুনোখুনি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি ও একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্রের। অর্থাৎ লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্র উদ্ধারে চাপে রয়েছে মাঠপুলিশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এসব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে খোদ পুলিশে। কারণ লুণ্ঠিত অস্ত্র স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে বিশেষ অভিযানও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তিন ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মাঠপুলিশের জন্য আলাদা চাপ তৈরি করছে। কারণ শুধু আসামি গ্রেপ্তার করাই নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিরাপদে থানায় নেওয়া, অভিযান পরিচালনা এবং অভিযানের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পুলিশকেই পালন করতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৩১৭টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এর আগের ৬ মাসে এ ধরনের ২৭৫টি ঘটনা ঘটে।পুলিশের ওপর চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। বদলি, পদোন্নতি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে পুুলিশের একটি বড় অংশের মধ্যেই হতাশা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত দুই বছরে ইতোমধ্যে ১৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আরও পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেক কর্মকর্তা এখনও অবসর আতঙ্কে রয়েছেন। এতে মানসিক চাপে তারা স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও চাপে রয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এই মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও তাগিদ রয়েছে তাদের ওপর। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেও মাঠ পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে  ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

 ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল। প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো  বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর।  আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন। চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে  ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়। সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী  ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের 'নজরানা' বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। M

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, স্বাগত বক্তব্য, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। আলোচনায় সত্যবাদিতা ও আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, শিক্ষকের মর্যাদা, প্রতিবেশীর অধিকার, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী জীবনাচরণ উপস্থাপনা ও সিরাতভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা উচিত। শুধু মিলাদুন্নবী পালন নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অনুসরণের বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। সবশেষে এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত মৌলভী শিক্ষক উমর ফারুক দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক সভানুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে কথা না বলে কোরআন, হাদিস ও নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, "আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব, যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং তারা বুঝতে পারে কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা বা আলোচনা করা যাবে না।"মাহফিলে সব রাজনৈতিক মতের মানুষ উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নাম ধরে সমালোচনা করলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে ইতিহাস, নীতি ও নৈতিকতার আলোকে পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সৎলোকের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।এছাড়া দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব বজায় থাকা প্রয়োজন।সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।নবঘোষিত কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।

সব বিভাগের খবর

মহানগর পরিক্রমা
ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে দেওয়া বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই সমঝোতায় পৌঁছেছেন তারা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই আর্থিক সহায়তা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, সহায়তা বন্ধ করলেও ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অব্যাহত থাকবে। ২০২০ সালে কংগ্রেস ইসরাইলের জন্য অর্থায়নের অনুমোদন দিয়ে আইন পাস করে। ইসরাইলের সমালোচক প্রার্থীরা ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পাচ্ছেন।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের ভোট প্রদানের সময় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। যদিও কোন নির্দিষ্ট তহবিল থেকে এই অর্থায়ন বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। বর্তমানে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার আওতায় প্রতিবছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে এবং এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। ফলে বর্তমান এই ঘোষণা ও বিদ্যমান চুক্তির মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ওই সময়সীমার পর ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর। তবে অর্থ ছাড় ও বিতরণের জন্য সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদকে প্রতিবছর বরাদ্দ বিল পাস করতে হয়।ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরাইলের বর্তমান পরিস্থিতিতে আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থি রাজনীতিকরা ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ইস্যুটিকে ব্যবহার করে রিপাবলিকানদের আক্রমণ করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক মাস আগেই আমরা চুক্তি করেছি যে এ বছরের শেষ নাগাদ এই অর্থ সহায়তা বন্ধ করব। কারণ তাদের এখন আর এর প্রয়োজন নেই।’ তবে তিনি যোগ করেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইসরাইলকে সহায়তা করবে। ট্রাম্প বলেন, বামপন্থিরা যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থায়নকে ‘অন্যায্যতার সংকেত’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা তিনি হতে দিতে পারেন না।ট্রাম্প বিশেষ করে মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ইসরাইলকে সহায়তার বিরোধিতাকারী এল-সায়েদকে ‘উন্মাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এমন ব্যক্তিদের আক্রমণের শিকার হওয়া থেকে বাঁচতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী জনমত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ মিশিগান থেকে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।উল্লেখ্য যে, গত ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তার রাজনৈতিক মিত্র রিপাবলিকানদের সঙ্গে এই সমঝোতা হলেও হোয়াইট হাউস কিংবা নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এটি একটি খারাপ, খুব খারাপ রাজনৈতিক বক্তব্য।’।এদিকে, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের গত জুনের জরিপ অনুযায়ী, ৪৮ শতাংশ মার্কিন ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন যে ইসরাইলকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যেখানে ২০১৭ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে মাত্র ১৬ ও ২০ শতাংশ। জনমতের এই পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের সমর্থক ও আইনপ্রণেতাদের একাংশও এখন ইসরাইলের প্রতি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর সরকার প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করেছে। ২০২৪ সালের প্রচারণার সময় ইরানকে সহজে পরাজিত করার যে প্রতিশ্রুতি ইসরাইল দিয়েছিল, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন তুলছেন তারা। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্পকে ইসরাইল বিশ্বাস করিয়েছিল, ইরানকে সহজেই যুদ্ধে পরাজিত করা সম্ভব।এর আগে অক্টোবরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আমেরিকার সহায়তা পাওয়ার পুরোনো দিন শেষ হতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যদি মনে করি যে আমেরিকার কাছ থেকে কয়েক দশক ধরে পাওয়া বিলিয়ন ডলারের সহায়তা আমরা পেতে থাকব, তবে আমাদের নতুন বাস্তবতায় অভ্যস্ত হতে হবে।’ বর্তমানে কংগ্রেসের বার্ষিক বাজেট পাসের জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই সহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জরিপ ও নির্দলীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

মহাকাশে বিশাল আয়না বসিয়ে রাতেও রোদ বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা

মহাকাশে বিশাল আয়না বসিয়ে রাতেও রোদ বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা

রাতের অন্ধকারে সূর্যের আলো সরাসরি পৃথিবীতে প্রতিফলিত করে নির্দিষ্ট এলাকা আলোকিত করার এক বৈপ্লবিক ও বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘রিফ্লেক্ট অরবিটাল’। তাদের লক্ষ্য হলো, পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে হাজার হাজার আয়না-উপগ্রহ বসিয়ে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী চাহিদা অনুযায়ী আলো সরবরাহ করা। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগকবলিত অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান সহজতর করা এবং অন্ধকারে প্রয়োজনীয় আলোকব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। কৃষিজমিতে আলো সরবরাহ, নষ্ট হয়ে যাওয়া সড়কবাতির বিকল্প ব্যবস্থা এবং সামরিক অভিযানে সৌরশক্তি জোগানোর মতো কাজেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছে তারা। উদ্ধার অভিযানে এ প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে, তা তুলে ধরতেই ওই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। ফলে শুধু নির্ধারিত এলাকাই নয়, এর আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও আলোকিত হয়ে উঠবে।এই প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাদের সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ‘ইয়ারেন্ডিল-১’ নামে প্রথম পরীক্ষামূলক উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) ইতিমধ্যে গত জুলাই মাসে এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান করেছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৪৫ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত নিম্ন কক্ষপথে ১৮ মিটার বাই ১৮ মিটার আয়তনের বিশাল প্রতিফলক আয়না স্থাপন করা হবে।সূর্য ডুবে যাওয়ার পরেও এই আয়নাগুলোর অবস্থান ও অভিমুখ নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট স্থানে আলোর ঝলকানি ফেলা সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি আয়নার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কৃত্রিম সূর্যালোক পৌঁছে দেওয়া যাবে। এই সেবা নেওয়ার জন্য গ্রাহকদের একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আলোক চাহিদা জানাতে হবে এবং নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে আয়নাগুলোর দিক পরিবর্তন করা হবে। তাদের একজন আলোটিকে ‘চোখধাঁধানো’ বলে বর্ণনা করেন। অর্থাৎ, যারা অর্থের বিনিময়ে এ সেবা নেবেন না, তাদেরও অনিচ্ছায় কৃত্রিম আলোর প্রভাবের মধ্যে পড়তে হতে পারে।দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে ৫০ হাজার আয়না-উপগ্রহ মোতায়েনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রিফ্লেক্ট অরবিটাল। তাদের ভাষ্যমতে, শুরুতে এই আলোর তীব্রতা পূর্ণিমার চাঁদের মতো হলেও পরবর্তীকালে তা বাড়ানো সম্ভব। ক্যালিফোর্নিয়ার লোন পাইন অঞ্চলে মাউন্ট হুইটনির পাশে স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় এরই মধ্যে এর একটি প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে রাতের অন্ধকারে মরুভূমির বিশাল এলাকা আলোকিত করে দেখানো হয়।তবে মহাকাশে কৃত্রিম আলোর এমন বিস্তারে পরিবেশগত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক বড় ধরনের ঝুঁকি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৫ সালের আগস্টের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত আলো বায়ুমণ্ডলের কণা ও অ্যারোসলের সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মূল লক্ষ্যবস্তু ছাড়াও প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এলাকা পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে, যা অনিচ্ছুক মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ বায়ুমণ্ডলে আলোর বিচ্ছুরণ। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসার সময় বায়ুর অণু ও অ্যারোসল কণার সঙ্গে সংঘর্ষে ছড়িয়ে পড়বে। সেই প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।পরিবেশবাদী সংগঠন আর্থজাস্টিসের মাধ্যমে চারটি সংস্থা ইতিমধ্যে এফসিসির কাছে এই অনুমোদনের পুনর্বিবেচনা দাবি করেছে। আইনজীবী জ্যান হ্যাসেলম্যান এই পরিকল্পনাকে 'পাগলামি' আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, কোটি কোটি বছরের বিবর্তনে প্রাণিকুলের দিন-রাতের যে স্বাভাবিক ছন্দ তৈরি হয়েছে, এই কৃত্রিম আলো তা ধ্বংস করে দেবে। রাতের আকাশ চিরতরে বদলে যাওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর জীবনচক্র ও মানুষের জৈবিক ঘড়ির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটিও এই প্রযুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছে। তারা সতর্ক করেছে যে, টেলিস্কোপে সরাসরি এই প্রতিফলিত আলো পড়লে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি মহাকাশে স্পেসএক্সের ১০ লাখ ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার সঙ্গে হাজার হাজার আয়না যোগ হলে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এছাড়া মহাকাশে মহাজাগতিক বর্জ্য বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন সমালোচকরা।রিফ্লেক্ট অরবিটাল দাবি করেছে, রাতের বেলায় সৌর প্যানেলে আলো প্রতিফলিত করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। তবে জলবায়ু বিজ্ঞানী ডেভিড হো এর ঘোর বিরোধী। তিনি বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অথচ এই প্রতিষ্ঠান মহাকাশ থেকে আরও সূর্যের আলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে পরিস্থিতি জটিল করছে।সমালোচনার মুখে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলকে এই আলোক ব্যবস্থার বাইরে রাখা হবে। এ নিয়ে বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেছে তারা। মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সব ধরনের নজরদারি ও গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করবেন।

উলিপুরে প্রতিবন্ধীর চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ।

উলিপুরে প্রতিবন্ধীর চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ।

উলিপুর, তবকপুর উমানন্দ মিয়াজী পাড়া, এলাকায়, প্রতিহিংসার শিকার,নিরীহ অবহেলিত ও অক্ষম, শারীরিক প্রতিবন্ধীর চলাচলের  রাস্তার মাঝখানে বাঁশ গেরে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় যে, শারীরিক প্রতিবন্ধী(৮০) মোঃ ছলিম উদ্দিন, পিতা -জহুর উদ্দিন, সাং উমানন্দ (মিয়াজী পাড়া) এলাকায়,বৃটিশ আমল থেকেই, কোনমতে, মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ৮ শতাংশ জায়গার মধ্যে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছে। রাস্তাটি দিয়ে বেশকয়েকটি বাড়ির  লোক চলা ফেরা করে। ছোট রাস্তাটির দুই দিকে বাড়ি ঘেসা। আঁটোসাঁটো রাস্তা।রাস্তাটি দিয়ে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র -ছাত্রী , সহায় সম্বলহীন, নিরুপায়,হতদরিদ্র ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সহ শতাধিক মানুষ চলাচল করে আসছে।প্রতি বেশি  প্রভাবশালী হওয়ায় কুটকৌশলে প্রতিবন্ধীর বসতভিটার জায়গায় পাওয়াকে কেন্দ্র করে অসহায় ও হতদরিদ্র শারীরিক প্রতিবন্ধীর চলাচলের রাস্তার মাঝখানে বাঁশ গেরে বন্ধ করে দেয়। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিবন্ধীর গাড়িসহ  চলাচলে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এমনকি শারীরিক প্রতিবন্ধীর গাড়ি নিরাপত্তা হীনতায় রেখে হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করতেছে। তার দাবি, আমি কর্ম ক্ষম অচল মানুষ।এই অবস্থায় পরিবার নিয়ে কোথায় যাব। চলাচল করতে না পারলে মরন ছাড়া আর কোন উপায় নেই।বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মিমাংসার চেষ্টায় তাদের দাপটের কাছে ব্যর্থ হয়েছে।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আবুল  ( ৬০),হাসানুর,(৫০) সোহেল(৩০),ছক্বু(৪০), ফজলু(৪৬), হান্নান (৩০) সহ সংঘবদ্ধ হয়ে উৎশৃংখলতা ওউৎভট পরিস্থিতি তৈরি সহ বসতভিটা দখলের বারবার হুমকি দিয়ে আসতেছে। স্থানীয়রা তাদের দাপটে অসহায় হয়ে মুখ খুলতে নারাজ।এব্যাপারে উলিপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় চলাচলের রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। পুলিশ যাওয়ার পরে আবারো বন্ধ করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর    রাস্তা চলাচলের পথ সুগমে দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

মসজিদে নববীর ২৫০ ছাতায় প্রযুক্তির অনন্য সমন্বয়

মসজিদে নববীর ২৫০ ছাতায় প্রযুক্তির অনন্য সমন্বয়

মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীর চত্বরে স্থাপিত ২৫০টি স্বয়ংক্রিয় ছাতা কেবল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনই নয়, এটি আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিকতার এক অপূর্ব সমন্বয়। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্য অনুযায়ী, মসজিদে নববীর আঙিনার প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ছাতাগুলো মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের রোদ ও বৃষ্টির তীব্রতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশাল এই ছায়াশীতল পরিবেশে একসঙ্গে প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি মুসল্লি স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত করতে পারেন। এগুলোর নিচে একসঙ্গে ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি মুসল্লি ছায়া ও সুরক্ষা পেতে পারেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিক নকশার সমন্বয়ে তৈরি এসব ছাতা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয়। এগুলোর নিচে বড় পরিসরে আচ্ছাদিত জায়গা তৈরি হওয়ায় মুসল্লিরা বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকেন।ছাতাগুলো স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। এগুলো সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে খুলে যায় এবং সূর্যাস্তের পূর্বে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আবহাওয়ার পরিস্থিতি ও মুসল্লিদের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এই ছাতার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বৃষ্টির সময় এই আচ্ছাদন মুসল্লিদের ভেজা থেকে রক্ষা করে এবং এর সমন্বিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা আঙিনায় পানি জমা রোধ করে, যা পিচ্ছিল হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে।তীব্র গরম থেকে মুসল্লিদের আরাম দিতে এই ছাতাগুলোর দুই পাশে মোট ৪৩৬টি শক্তিশালী মিস্টিং ফ্যান বা সূক্ষ্ম জলকণা ছড়ানোর পাখা বসানো হয়েছে। প্রতিটি ফ্যানে ১৬টি করে নজল রয়েছে, যার মাধ্যমে পরিশোধিত পানি স্প্রে করে আশপাশের তাপমাত্রা কমিয়ে পরিবেশ ঠান্ডা রাখা হয়। এছাড়া রাতের বেলা আঙিনায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে এক হাজারের বেশি বাতি।পুরো প্রকল্পটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। সেখান থেকে মুসল্লির সংখ্যা এবং আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ছাতা ও শীতলীকরণ যন্ত্রগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। স্থাপত্যকলা ও প্রকৌশলবিদ্যার এই মেলবন্ধন মুসল্লিদের জন্য একটি নিরাপদ, আরামদায়ক ও শান্তিপূর্ণ ইবাদতের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরাইলি বাহিনীর পাহারায় আল-আকসায় বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ

ইসরাইলি বাহিনীর পাহারায় আল-আকসায় বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি বাহিনীর কড়া পাহারায় অনুপ্রবেশ করেছেন কয়েক ডজন বসতি স্থাপনকারী। কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে তারা মসজিদের পূর্বাংশে প্রবেশ করেন এবং ডোম অব দ্য রকের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে কথিত ‘এপিক প্রোস্ট্রেশন’ বা বিশেষ ধর্মীয় সিজদা পালন করেন। জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্যানুযায়ী, পুরো সময়জুড়ে দখলদার বাহিনী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।মসজিদের পূর্বাংশে বসতি স্থাপনকারীদের এই ধর্মীয় আচার প্রায়ই ঘটছে। এদিকে, বসতি স্থাপনকারীদের চলাচল বা অবস্থানের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট এলাকায় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার ও চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা অবস্থান করছেন কিংবা তাঁদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত পথ রয়েছে, সেসব এলাকায় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশ ও চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে।জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে বসতি স্থাপনকারীদের এই অনুপ্রবেশ চলাকালে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর বিধিনিষেধ কার্যকর রাখা হয়। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য উঠে এসেছে। সূত্র: ফানা নিউজ, ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফা ও কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা কিউএনএ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দক্ষিণাঞ্চলে ঘন কুয়াশার পূর্বাভাসে রেড অ্যালার্ট জারি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দক্ষিণাঞ্চলে ঘন কুয়াশার পূর্বাভাসে রেড অ্যালার্ট জারি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দক্ষিণাঞ্চলে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার সতর্কতায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। মঙ্গলবার সকালে এই সর্বোচ্চ সতর্কতার পাশাপাশি কিছু এলাকায় হলুদ সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সড়কের নিরাপত্তার স্বার্থে চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানিয়েছে আবুধাবি পুলিশ।আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও পুলিশের বিশেষ পরামর্শএনসিএম জানিয়েছে, ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার দেশের আকাশ প্রধানত পরিষ্কার থেকে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।তবে ভোরের দিকে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় ঘন কুয়াশা জমার ঝুঁকি রয়েছে, যা সড়কে চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আবুধাবি পুলিশ চালকদের চলাচলের সময় সড়কের ইলেকট্রনিক সাইনবোর্ডে প্রদর্শিত পরিবর্তিত গতিসীমা কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় আর্দ্রতা বেড়ে নতুন করে কুয়াশা তৈরি হতে পারে।তাপমাত্রা ও বাতাসের পরিস্থিতিআবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে তাপমাত্রা ১৯ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। আবুধাবিতে সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি ও দুবাইয়ে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হতে পারে। এছাড়া রাস আল খাইমায় তাপমাত্রা কমে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।বাতাসের গতি ও সমুদ্রের পূর্বাভাসবাতাস মূলত দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে হালকা থেকে মাঝারি বেগে বয়ে যেতে পারে, যা পরবর্তীকালে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে মাঝে মাঝে গতি বাড়াতে পারে।বাতাসের স্বাভাবিক গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার থাকলেও তা সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।এনসিএম আরও নিশ্চিত করেছে যে এই সময়ে আরব উপসাগর ও ওমান সাগরে সমুদ্রের পরিবেশ শান্ত থাকবে।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

সরকারি অর্থে নির্মাণ, উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় ধস, এরপর টানা ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার একটি ব্রিজের গল্প যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রই তুলে ধরে। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানিতে ধসে পড়ার পর দীর্ঘ এক যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও চরম ভোগান্তির শিকার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের মাঝখানে একপাশ দেবে গিয়ে কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা ব্রিজটির অবশিষ্টাংশ। দুই পাশের সংযোগ সড়ক বহু আগেই বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে। ফলে সেতু থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ অচল। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৪ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতারহাট সড়কের সাঁকোর পাড় এলাকায় খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুর একপাশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।এর ফলে লেনোরপাড়া, কুরারপাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতিপাড়া, বটতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বর্ষায় নৌকায় খাল পার হতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আলামীর হোসেন বলেন, “ব্রিজ ভাঙার পর চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার গেছি। ১২ বছরেও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।ডাঃ রতন বলেন, “এটাই ছিল উপজেলা শহরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। এখন আমরা যেন নিজ এলাকাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি।”শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, “বর্ষায় নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। আবার শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।”নুর নাহার বেগম বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খবর নেয় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। আমরা শুধু একটি নতুন ব্রিজ চাই।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙা ব্রিজের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও টেকেনি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ৩০ ফুট ব্রিজের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, “নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাত্র এক বছরেই ধসে পড়া ২৭ লাখ টাকার ব্রিজের নির্মাণমান ও তদারকির দায় কার? কেন ১২ বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ? আর কতদিন আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবে ২০ হাজার মানুষ?—এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত।

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

ভ্রমন তরী মস্তল সম্প্রতি কুড়িগ্রম জেলার চিলমরীতে ব্রহ্মপুত্র নদে এ এলাকার বিস্তির্ন চরাঞ্চলের মানুষের বসতি, জীবন যাত্রার মান, নতুন অভিজ্ঞতা ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে অনেক দূর থেকে এসেছে। দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, এ প্রতিপাদ্য যেন স্বচোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। সাধারনত পাহাড় দেখতে এ অঞ্চলের মানুষকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। কিন্তু  কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত  ১৭টি নদ-নদীর প্রবাহ, সংযোগ স্থান, দুধ কুমোর,ফুল কুমোর,সঙ্কোশ, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম,তিস্তা, ধরলা হলহলিয়া ও বিশেষ করে সাহেবের আলগা- বেগম গঞ্জের নুনখাওয়ায় সোজা পূর্ব থেকে ভারতের পাহাড়ের তলদেশ থেকে কিভাবে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা স্ব-চোখেই অবলোকন করা যায়। আর একটু দূর হতে হলেও আপনি যদি এ স্থানটিতে দাড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে তাকান দেখবেন কি এক অপূর্ব দৃশ্য!  চোখের সমনেই আসামের বিশাল নয়নাভিরাম সু-উচ্চ পাহাড়!!  তাৎক্ষনিক ভাবে ভুলেই যাবেন যে আপনি কোথায় আছেন। এ সব ছাড়াও চরাঞ্চলের গরু,মহিষের সারি, বির্স্তিন চর জুড়ে বাদম কলাই,ভূট্টা কতকি ফসল ও চর বসতিদের ঘরবসতি। সে দেখার সুযোগ গুলো এলাকার কিছু অর্বাচিনদের না ধারনায় বিরুপ হয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। তারপরও তারা একটু দূরে চলে গেলেও উত্তরবঙ্গের বিশাল সবনতন ধর্মাবলম্বিদের স্নান উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর অষ্টমীর মেলা উপলক্ষে মাস্তুল হাউসবোট নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ।  এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাসতল কতৃপক্ষের অষ্টমীর স্নান ও মেলা উদযাপন ভ্রমনের সুযোগ এনেছেন। তারা জানান, একদিকে ২০০ বছরের পুরনো মেলার লোকজ আমেজ, আর অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মাস্তুলের রাজকীয় আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আপনার এই ভ্রমণ হবে আজীবনের স্মৃতি!মাস্তলের এই ট্রিপে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের আহব্বান, চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী  অষ্টমীর মেলার বর্ণিল আয়োজন দেখার সুযোগ, ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ: গাইবান্ধার কামারজানি বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চরাঞ্চল ঘুরে দেখা, অভিজাত আবাসন: মাস্তুলের প্রিমিয়াম কেবিনে নদের বুকেই রাত কাটানোর রোমাঞ্চ। খাবার: ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার টাটকা আইড়, বাঘাইড় কিংবা বোয়াল মাছের জিভে জল আনা মেনু। শান্তি ও নির্জনতা: শহুরে কোলাহল ছেড়ে চরের বালুকাবেলায় সূর্যাস্ত দেখার প্রশান্তি। চিলমারীর অষ্টমীর মেলা (যা চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নান উৎসব)। তাদের এই যাত্রা শুরু হবে,  কামারজানী বন্দর হতে  ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অষ্টমীর মেলা ভ্রমণ।

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোণা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) উৎসবমুখর পরিবেশে সংবর্ধনা ওগ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহানা আফরোজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী সাত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় হাসেম বৃত্তি।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বাবুল আহম্মদ। সহকারী শিক্ষক ফারুক আহম্মেদ রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।অনুষ্ঠানে সংবর্ধনার জবাবে জাহানা আফরোজ বলেন, একসময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে বিদ্যালয়টিকে নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও জাতীয়করণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের কাছেও সুপারিশ করবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।জাহানা আফরোজ নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর সহধর্মিণী। অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া সাত শিক্ষার্থীর হাতে হাসেম বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিত শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা ও নাট্যাংশের অভিনয় উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দর্শকদের মুগ্ধ করে। আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিশ্ব কন্যা দিবস পালন এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।সকাল ১১টায় ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “প্রতিটি কন্যাই একেকটি আলোর প্রদীপ।” তিনি কন্যাশিশুর অধিকার, মর্যাদা ও সম্ভাবনা বিকাশের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।পরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল-ইসলাম চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান।এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, প্রান্তিক ও প্রকৃত উপকারভোগী পরিবারের সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।দুটি সভায় উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও বিএনপি নেতা মজনু রহমান খন্দকার। মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি চারণ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা প্রমূখ।এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান,শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী,সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ,গণ-মাধ্যমকর্মী-গণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।স্ট্যাটাসে মাজেদ বাবু দাবি করেন, সার ডিলার লাইসেন্সকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লেখেন, “ঈশ্বরগঞ্জে এক টাকার অনৈতিক সুবিধা আমি নিই না, কোনো দিন নেবও না।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরিষা ইউনিয়নে ডিওর আওতার বাইরে সার ডিলার লাইসেন্স দেওয়া হলে এবং অন্যদের পাশ কাটিয়ে কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স পেলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।লাইসেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে কারা, কোথা থেকে এবং কত শতাংশ হারে টাকা নেন, তা তিনি জানেন বলেও স্ট্যাটাসে দাবি করেন। তবে এত দিন তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি বলে উল্লেখ করেন।স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এর অফিসিয়াল উত্তর না পাব, ঈশ্বরগঞ্জে কেউ কোনো মনোনীত লোক সার ডিলার লাইসেন্স পাবেন না।”তিনি আরও লেখেন, “আমাদের লোকেরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সার ডিলার লাইসেন্স দেবেন—তা হবে না। আমরা নিজেদের টাকায় থানায় গাড়ি কিনে দেব, আর আপনারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবেন—তা হবে না।”প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ সদস্য লেখেন, “কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার।”সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।সূত্র: সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাস লিঙ্ক-https://www.facebook.com/share/p/1DuzKZdqex/

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

‘ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে'; সম্পাদক মোস্তফা মামুনদৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় গত ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড.সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারীএকান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারী কলেজ ও দিনাজপুর সরকারী কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি।বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অফ কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষাখাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।বর্অমানে অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন যা দেখে কিছু মানুষ তার এই কাজে ইর্ষা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে হেও পতিপন্ন করার জন্য নানা রকম প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।নির্বাচনে সভাপতি পদে মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহসভাপতি পদে আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিলন), কোষাধ্যক্ষ পদে এটিএম জোবায়েদ উর রহমান (জবা) এবং দপ্তর সম্পাদক পদে আব্দুল জলিল সরকার নির্বাচিত হয়েছেন। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ওয়াহেদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে মহসীন আলী, নুর আলম সিদ্দিক, সাজেদুর রহমান নওশাদ এবং মো. হেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুদ্দোহা দুলু। নির্বাচন পরিচালনায় একজন প্রিজাইডিং অফিসার, একজন পোলিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পার্বতীপুর মডেল থানা ও পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩০ মে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ধুনটে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ধুনট বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।গ্রেপ্তার সজিব ইসলাম ধুনট পৌর শহরের সদরপাড়া এলাকার শাহ আলী ইসলামের ছেলে।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধুনট শহরের শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একটি মশাল মিছিল বের করেন। এ সময় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন সেখ ও তাঁর লোকজন মিছিলে বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন মিছিলকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রিপন সেখ বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলা করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯৬ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে সজিব ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, এ মামলার অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিস্তারিত

আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত দুই শতাধিক, কারখানায় অগ্নিসংযোগ

সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভ পঞ্চম দিনে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার সকালে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক এবং হেমায়েতপুর এলাকায় শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। এছাড়া শিল্প পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকেরা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্মবিরতি পালন শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে অনন্ত গ্রুপ এবং হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে শ্রমিকেরা সমবেত হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের কাছে একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে আশুলিয়া ও সাভার এলাকার প্রায় ২৩০টি পোশাক কারখানায় আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ায় ২৩০ টি গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। এর পর সাভারজুড়ে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে যানচলাচলে অবরোধ সৃষ্টি করে ফেলে।সংঘর্ষের সময় শিল্প পুলিশ-১ এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদ ইটপাটকেলের আঘাতে সামান্য আহত হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন এবং এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দুপুর দেড়টার পর থেকে পুরো শিল্পাঞ্চল জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিক ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ইতিমধ্যে আশুলিয়া থানা পুলিশ বাইপাইল এলাকা থেকে দুজনকে আটক করেছে। তবে আটকরা প্রকৃত শ্রমিক নাকি বহিরাগত, তা এখনও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। আরিচা মহাসড়কে যানজট পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দাবি করেন, বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে ঢুকে নাশকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তার মতে, একটি মহল পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করতে শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করে সড়ক অবরোধে বাধ্য করছে। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে যে, বহিরাগতরা জোরপূর্বক কারখানা বন্ধ করে শান্তিপ্রিয় শ্রমিকদের মহাসড়কে আসতে বাধ্য করায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

বিস্তারিত

এইচএসসিতে ভরাডুবি, শিক্ষকদের ফুল দিয়ে ছাত্রদলের অভিনব প্রতিবাদ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটির ৩০০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ২৪৭ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এতে কলেজের পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশে। এই নজিরবিহীন ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানাতে এক অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছেন স্থানীয় উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৭ জনই ফেল করেছে।সোমবার সকালে উপজেলা ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধি দল কলেজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্যান্য শিক্ষকদের ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে এই প্রতিবাদ জানান। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ ছাত্রদলের অন্য নেতারা।ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার এমন ফলাফলের দায় কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। তিনি জানান, তাদের কাছে ফুল হচ্ছে প্রতিবাদের একটি ভাষা। ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এদিকে, এই ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বিস্তারিত

সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। বিধিমালা অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে দেশের যেকোনো একটি বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে।তিনি আরও জানান, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (Economic Life) হবে সর্বোচ্চ ১২ বছর। সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন হলো:১। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।২। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।৩। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।৪। খুলনা সিটি করপোরেশন।৫। রাজশাহী সিটি করপোরেশন।৬। বরিশাল সিটি করপোরেশন।৭। সিলেট সিটি করপোরেশন।৮। রংপুর সিটি করপোরেশন।৯। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।১০। গাজীপুর সিটি করপোরেশন।১১। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন।১২। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।১৩। বগুড়া সিটি করপোরেশন।বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশা নিয়ে মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান রিকশাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে না। বৈধ ও অবৈধভাবে চলাচলরত যানবাহনগুলো আপাতত চলাচল করতে পারবে। তবে বিধিমালা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন থেকেই ব্যাটারি চার্জ করতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ই-রিকশার ব্যাটারি ভাঙা বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা যাবে না।নিবন্ধন ও নবায়ন ফি সম্পর্কে তিনি জানান, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।ই-রিকশার চলাচল আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে জোনভিত্তিক চলাচল ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং প্রতিটি জোনের জন্য পৃথক রং নির্ধারণের বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ এএম
সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ এএম
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ এএম
ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

২৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

বিশ্বসেরা ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেলেন চবির ৭ শিক্ষক

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
বিশ্বসেরা ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেলেন চবির ৭ শিক্ষক

ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২২ পিএম
ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

মহাকাশে বিশাল আয়না বসিয়ে রাতেও রোদ বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা

৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
মহাকাশে বিশাল আয়না বসিয়ে রাতেও রোদ বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা

উলিপুরে প্রতিবন্ধীর চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ।

৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পিএম
উলিপুরে প্রতিবন্ধীর চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ।

দেশ ছেড়েছেন কোটি টাকা ঘুস চাওয়া সেই প্রসিকিউটর সাইমুম

৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
দেশ ছেড়েছেন কোটি টাকা ঘুস চাওয়া সেই প্রসিকিউটর সাইমুম

অনূঢ়া বধু (প্রথম খন্ড)

৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
অনূঢ়া বধু (প্রথম খন্ড)

সাহিত্যচর্চা ও ইতিহাস সংরক্ষণে রাকসুর নতুন আটটি গ্রন্থ প্রকাশ

৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
সাহিত্যচর্চা ও ইতিহাস সংরক্ষণে রাকসুর নতুন আটটি গ্রন্থ প্রকাশ

দেশের চার জেলায় নতুন এসপি নিয়োগ দিল সরকার

৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
দেশের চার জেলায় নতুন এসপি নিয়োগ দিল সরকার

খাগড়াছড়ি,রামগড়ে ইনকিলাব মঞ্চের মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
খাগড়াছড়ি,রামগড়ে ইনকিলাব মঞ্চের মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

মিরসরাইয়ে অস্ত্রসহ যুবদল নেতা নওশাদ আলম গ্রেপ্তার

৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
মিরসরাইয়ে অস্ত্রসহ যুবদল নেতা নওশাদ আলম গ্রেপ্তার

এসআরবির মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ, রদবদল পুলিশ প্রশাসনে

৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
এসআরবির মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ, রদবদল পুলিশ প্রশাসনে
PublicVoice representative application
হিরোগিরি

হিরোগিরি

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ এএম

সিনেমা হলের ভেতর চলছে তুমুল অ্যাকশন দৃশ্য। এক যুবক মনোযোগ দিয়ে সিনেমা দেখছে, কিন্তু তার পাশের সিটে বসা এক বৃদ্ধের কারণে সে বেশ অস্বস্তিতে আছে। বৃদ্ধের হাতে একটি ছোট পেপসির বোতল, আর তিনি ঠিক পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর বোতলে একটা জোরালো চুমুক দিচ্ছেন। শব্দটা যুবকের সিনেমার উপভোগে বারবার বাধা সৃষ্টি করছিল। অনেকক্ষণ সহ্য করার পর যুবকের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে বিরক্ত হয়ে বৃদ্ধের হাত থেকে বোতলটা ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে বলল, "চাচা, সিনেমার চেয়ে আপনার পেপসি খাওয়া নিয়ে আমি বেশি ডিস্টার্ব হচ্ছি। এটুকু পানীয় খেতে এত নাটক করতে হয়? এই দেখুন, কীভাবে একবারে শেষ করতে হয়!"এই বলে যুবক বোতলটি মুখে দিয়ে এক ঢোকে সবটুকু পানীয় গিলে ফেলল। তারপর বোতলটা বৃদ্ধের হাতে ফেরত দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসল।বৃদ্ধ বোতলটা হাতে নিয়ে অবাক চোখে যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন, "বাবা, আমার পেপসিটা তো তুমি খেলে না, কারণ ওটা তো পেপসিই ছিল না। আসলে আমার পানের অভ্যেস তো, তাই পানের পিকগুলো ওই বোতলে ফেলছিলাম!"