ভোট চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেননি ভারতের রাষ্ট্রপতি? রাহুল গান্ধীর দাবিতে আলোড়ন

রাষ্ট্রপতি ভবনে বিরোধী জোটের বৈঠক ও রাহুল গান্ধীর দাবিভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কথিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি তাদের উত্থাপিত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ শুনে সরাসরি তা অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং তিনি এ বিষয়ে তাদের কাছে লিখিত ও অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলেছেন। রাষ্ট্রপতির এমন অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করে রাহুল বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম তিনি বলবেন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষ। কিন্তু তিনি কোনো কিছু অস্বীকার করেননি, বরং প্রমাণ চেয়েছেন। আমরা সারা দেশ থেকে সংগৃহীত প্রমাণাদি তাঁর কাছে পৌঁছে দেব।’​স্মারকলিপির ৪ দফা দাবি ও বিরোধীদের পরবর্তী পদক্ষেপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বিরোধীদের পক্ষ থেকে চার দফা সম্বলিত একটি স্মারকলিপি তুলে ধরা হয়। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—১. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর/SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সংশ্লিষ্ট আইনি দায়মুক্তির বিধান বাতিল করা।২. এসআইআর-এর নামে বাদ পড়া কোটি কোটি ভোটারের নাম অবিলম্বে তালিকায় পুনর্বহাল করা ও সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা।৩. দেশের সকল নির্বাচনে ইভিএমের পরিবর্তে কাগজভিত্তিক ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।৪. গত দুই বছরে যেসব নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছে, প্রমাণ সাপেক্ষে সেসব ফলাফল বাতিল করা।​রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বিরোধীরা দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। রাহুল গান্ধী জানান, আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করতে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।​রাষ্ট্রপতি ভবনের অবস্থান ও বিজেপির প্রতিক্রিয়ারাহুল গান্ধীর এমন বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ ও রাষ্ট্রপতি ভবনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন বা ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে নিয়মতান্ত্রিক আইনি পথ রয়েছে, কিন্তু তা না করে সংবিধানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি ভবন সংশ্লিষ্ট সূত্রে রাহুলের বক্তব্যকে ‘ভুল ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক টানাটানির বাইরে রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।​রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনমূলত নির্বাচন কমিশনের ভেতর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ভারতের জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ আন্দোলন এবং ইন্ডিয়া জোটের টানা কর্মসূচিতে দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় ও ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের পাশাপাশি আইনি ও সাংবিধানিক লড়াই চালিয়ে যাবে তারা।

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়েছিল বাংলাদেশের যোগাযোগ স্যাটেলাইট বিএস-১। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সতর্কবার্তায় জানানো হয়, একটি পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুত বিএস-১–এর দিকে এগিয়ে আসছে।ঝুঁকি এড়াতে পরবর্তী চার দিন গাজীপুরের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) প্রকৌশলীরা। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট বিএস-১–এর কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তন করে ধ্বংসাবশেষটি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে স্যাটেলাইটটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বুধবার সকালে ঢাকার বাংলামোটরে সংস্থাটির  বলেন, ওই কয়েক দিন তাঁদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের ছিল। সময় ছিল কম, আবার বিএস-১–কে সরানোর সুযোগও ছিল সীমিত। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষতি ছাড়াই স্যাটেলাইটটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।মহাকাশে কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন সংঘর্ষে স্যাটেলাইটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমনকি পুরো স্যাটেলাইট ধ্বংসও হতে পারে। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অকেজো কসমস-২২৫১ ও যুক্তরাষ্ট্রের সচল ইরিডিয়াম-৩৩ স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়েছিল।ছুটে আসছিল ইনস্যাট-১এ–এর ধ্বংসাবশেষপৃথিবীর কক্ষপথে এখন হাজার হাজার সচল ও অকেজো বস্তু ঘুরছে। পুরোনো স্যাটেলাইট, রকেটের অংশ কিংবা মহাকাশযানের বিচ্ছিন্ন টুকরোগুলোকে সাধারণভাবে স্পেস ডেব্রিস বা মহাকাশের বর্জ্য বলা হয়। সচল স্যাটেলাইটের জন্য এসব বর্জ্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন সংস্থা। কোনো বস্তু ও স্যাটেলাইটের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।৯ আগস্ট পাওয়া সতর্কবার্তা থেকে বিএসসিএল জানতে পারে, বিএস-১–এর কাছাকাছি চলে আসতে থাকা বস্তুটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ।ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, ইনস্যাট-১এ ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। উৎক্ষেপণের কয়েক মাস পরই এতে সমস্যা দেখা দেয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এত বছর পরও এর কোনো অংশ পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে গিয়ে অন্য স্যাটেলাইটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।আগেও ঝুঁকিতে পড়েছিল বিএস-১বিএস-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় ২০১৮ সালের ১২ মে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের সময় এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নাম পরিবর্তন করে বিএস-১ রাখা হয়।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব যোগাযোগ ও সম্প্রচার সক্ষমতা তৈরি করে। উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়।তবে মহাকাশে বিএস-১–এর সামনে ঝুঁকি তৈরির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও স্যাটেলাইটটিকে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল।২০২১ সালে ঝুঁকির উৎস ছিল রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ। আর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইট বিএস-১–এর খুব কাছ দিয়ে চলে যায়।চার দিন ধরে চলেছে হিসাব-নিকাশফ্রান্সের থালেস অ্যালেনিয়া স্পেস ২০১৮ সালে বিএস-১ তৈরি করে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করত প্রতিষ্ঠানটি।বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২১ সাল থেকে বিএস-১ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বিএসসিএল। গাজীপুরের জয়দেবপুরে থাকা গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এখন স্যাটেলাইটটির নিয়ন্ত্রণের প্রধান কেন্দ্র।বিএসসিএলের হিসাবে, সেখানে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলী কাজ করেন। স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রকৌশলীরা পালা করে দায়িত্ব পালন করেন।৯ আগস্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কর্মীদের সতর্ক করা হয় এবং ছুটি বাতিল করা হয় বলে জানান এমডি ইমাদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টাও পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। মহাকাশের বস্তুটির অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে স্পেস ট্র্যাকার থেকেও নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল।তখন মূল প্রশ্ন ছিল, বিএস-১–এর কক্ষপথ পরিবর্তন করা হবে কি না। পরিবর্তন করলে কোন দিকে এবং কতটা সরানো নিরাপদ হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হচ্ছিল। কারণ স্যাটেলাইটকে এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য কক্ষপথে নেওয়ার পর নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়।ইমাদুর রহমান বলেন, সব তথ্য বিশ্লেষণের পর ১৩ আগস্ট বিএস-১–কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ধ্বংসাবশেষটি নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়া পর্যন্ত স্যাটেলাইটটিকে ওই অবস্থানে রাখা হয়। ঝুঁকি কেটে গেলে আবার বিএস-১–কে আগের কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষটি শেষ পর্যন্ত বিএস-১–এর প্রায় ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল।মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান ইমাদুর রহমান। তাঁর মতে, বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।মহাকাশ পরিচালনায় দক্ষতার পরীক্ষাবাংলাদেশের স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ২০টি বিদেশে ইজারা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিএস-১–এর সেবা ব্যবহার করে।মহাকাশে কোনো স্যাটেলাইটকে সম্ভাব্য সংঘর্ষ থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজটি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এর সঙ্গে কক্ষপথের হিসাব, সংঘর্ষের সম্ভাবনা, স্যাটেলাইটের জ্বালানি এবং নতুন কক্ষপথের ঝুঁকি—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপদ কক্ষপথ পরিবর্তনের হিসাব করতে হয়। তাঁর মতে, বিএস-১–এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা অল্প সময়ের মধ্যে ঝুঁকি বিশ্লেষণ, যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমানও বিষয়টিকে প্রকৌশলীদের সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো দক্ষতার বিষয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা এতে সফল হলে তা প্রশংসনীয়।

কে এই আয়াস? তাকে ঘিরে এত বিতর্ক কেন?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৫ আগস্টের পর একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়, প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে অপমান, সংঘর্ষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজসহ উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য এবং কখনো কখনো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ—এসব ঘটনাও সামনে এসেছে।এই ধারাবাহিক বিতর্কের অন্যতম আলোচিত নাম আ ন ম আয়াস। কে তিনি?প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আ ন ম আয়াস বর্তমানে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (SDF)- নামে একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬‌, তিনি ২০২৭–২০২৮ মেয়াদের জন্য দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক/সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—একজন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠকের কর্মকাণ্ড কেন বারবার বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে?১. ধানমন্ডি-৩২: ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে জনতার হাতে আইন?১৫ আগস্ট ২০২৬ ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি অবস্থান নেন বলে প্রথম আলো ও ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।সেখানে মোবাইলে ভিডিও ধারণের অভিযোগে একজন রিকশাচালকের ফোন পরীক্ষা করা এবং পরে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতে ওই রিকশাচালক মারধরের শিকার হওয়ার কথা সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে। আরও কয়েকজনকে মারধর এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখানেই—কেউ অপরাধ করেছে বলে সন্দেহ হলেই কি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী তাকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা মারধর করতে পারেন?অপরাধের অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। বিচার করার দায়িত্ব আদালতের। রাজনৈতিক পরিচয় কখনোই কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার দেয় না।২.“নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে এই আয়াস। প্রথম আলো জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের নিয়ে কথিত কটূক্তির অভিযোগ তুলে আয়াস শান্তা ফারজানাকে চড় মেরেছিলেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। পরে ৪ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উভয় পক্ষের শারীরিক আঘাতের দৃশ্য দেখা গেলেও ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি বলে প্রথম আলো উল্লেখ করেছে।অর্থাৎ এখানে একতরফা গল্প নয়—দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই শারীরিক সংঘর্ষের অভিযোগ ও ভিডিও রয়েছে।রাজনৈতিক মতবিরোধের সমাধান যদি চড়, ঘুষি, লাঠি বা পাইপে হয়, তাহলে সেটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অবশ্যই গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।৩. সাকিব-মাশরাফিসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন১৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের সভাপতি আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজাসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকে আবেদন করে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।আবেদনে আয়-ব্যয়, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, সরকারি অনুদান ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা জরুরি—দুদকে অভিযোগ করা মানেই দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়া নয়।অভিযোগ তদন্ত হবে, প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে; আর প্রমাণ না থাকলে অভিযোগের ভিত্তি থাকবে না।৪. সাকিব আল হাসানের বাড়ির সামনে সর্বশেষ বিতর্ক২০ সেপ্টেম্বর রাতে মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়ির সামনে আ ন ম আয়াসের অসামাজিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিডিওতে সাকিবের বাড়ির গেটের সামনে আয়াসকে মূত্রত্যাগ করতে দেখা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। জাগো নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি যদি ভিডিওতে দেখানোভাবেই ঘটে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক মতবিরোধ প্রকাশের এটি কোনো গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না।একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বাংলাদেশ ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি সাকিব আল হাসানের সঙ্গে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলেও তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে এমন আচরণ করা কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ হতে পারে না।তাহলে বিতর্কটা কোথায়?সমস্যা শুধু আ ন ম আয়াসকে ঘিরে নয়।সমস্যা হলো—রাজনীতিতে কি যুক্তির জায়গা দখল করবে গালি?আলোচনার জায়গা দখল করবে মারামারি?আইনের জায়গা দখল করবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়?আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাড়ির সামনে গিয়ে অপমান করাই কি প্রতিবাদের নতুন ভাষা হবে?একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিচয় কারও জন্য অতিরিক্ত ক্ষমতার লাইসেন্স হতে পারে না।কেউ ‘জুলাই যোদ্ধা’ হলে তাঁর সম্মান থাকতে পারে, তাঁর ত্যাগের স্বীকৃতি থাকতে পারে—কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে থাকার অধিকার থাকতে পারে না।একইভাবে কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক অপরাধ বা অন্য কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, মামলা হোক, বিচার হোক।কিন্তু জনতার আদালত নয়।মব নয়।গালিগালাজ নয়।মারধর নয়।অপমান-অপদস্থ করাও নয়।বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি সত্যিই নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে সেই সংস্কৃতির ভিত্তি হতে হবে—যুক্তি, শালীনতা, জবাবদিহি, প্রমাণ এবং আইনের শাসন।আ ন ম আয়াসের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর কোনটি সত্য, কোনটি অতিরঞ্জিত এবং কোনটি প্রমাণিত নয়—তা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া।কিন্তু একটি নীতিগত প্রশ্ন সবার জন্যই প্রযোজ্য—রাজনীতির নামে কেউ যদি অন্যকে অপমান করেন, মারধর করেন, মবের হাতে তুলে দেন কিংবা প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত পরিসরকে অপমানের মঞ্চ বানান—সেটি যে পক্ষই করুক, তার জবাবদিহি থাকা উচিত।কারণ "জুলাইয়ের চেতনা যদি হয় বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো", তাহলে সেই চেতনার নামে নতুন অন্যায় প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ কারও থাকা উচিত নয়।বাংলাদেশের রাজনীতি হোক প্রতিহিংসার নয়—আইন, যুক্তি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের।অভিযোগের বিচার হোক আদালতে,প্রতিপক্ষের জবাব হোক যুক্তিতে,আর রাজনীতির ভাষা হোক শালীনতায়।

চবিতে প্রদর্শিত হবে আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে চলচ্চিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ (সিইউএফএস) ও সিনেলুপের যৌথ উদ্যোগে। আয়োজকবৃন্দ জানিয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য প্রদর্শনীর টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।জানা গেছে, মোহাম্মদ নূরুজ্জামান রচিত ও পরিচালিত ৯৩ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘মাস্তুল’ নির্মিত হয়েছে একটি তেলের ট্যাঙ্কার জাহাজের আবদ্ধ ও ভাসমান জীবনের প্রেক্ষাপটে।চলচ্চিত্রটির গল্প আবর্তিত হয়েছে জাহাজের বুড়ো বাবুর্চি মকবুল এবং এক আশ্রয়হীন পথশিশু নূরাকে ঘিরে। ভাসমান জাহাজের একাকীত্ব, জীবনসংগ্রাম, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও জটিল মানবিক সম্পর্কের নানা দিক উঠে এসেছে এতে।আরও জানা যায়, ‘মাস্তুল’-এর প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু ও আরিফ হাসান। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন দীপক সুমন ও আমিনুর রহমান মুকুল। চলচ্চিত্রের আবহকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলতে এতে জাহাজের আসল নাবিক ও কর্মীরাও অভিনয় করেছেন। এর আগে ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ নির্মাণ করে প্রশংসা কুড়ানো এই পরিচালকের চলচ্চিত্রটি নতুন সংযোজন।প্রসঙ্গত ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার অর্জন করে ‘মাস্তুল’। এ অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে চলচ্চিত্রটি।

চাকসুর দাবির প্রেক্ষিতে চবির শাটলট্রেন সংস্কারে ১৫ উদ্যোগ নিল বাংলাদেশ রেলওয়ে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটলট্রেন সংস্কারে চাকসুর উদ্যোগে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাপরিচালকের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সভার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক মো. ইসহাক ভুঁইয়া।  তিনি বলেন, গতকাল সোমবার চাকসুর উদ্যোগে পূর্ব নির্ধারিত সময়ানুযায়ী রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নবনিযুক্ত মহাপরিচালকের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটলট্রেনের লাইন সংস্কার, স্টেশন রেনোভেশনসহ সমস্যা সমাধানে জরুরি ১৫টি পদক্ষেপ নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভা সূত্রে জানা যায়, চবি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া শাটল ট্রেনের বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এসময় উপস্থিত রেলওয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ স্ব স্ব বিভাগের সমস্যাগুলো সমাধানে গ্রহণীয় উদ্যোগসমূহ ব্যাখ্যা করেন। পরে সর্বশেষ রেলওয়ের মহাপরিচালক (পূর্ব) সবগুলো সমস্যা সমাধানে স্বল্প মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি ১৫টি উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানান।এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম, সিইই মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সিএমই মোহাম্মদ জাকির হাসান, সিএসটিই তারেক মো. সামছ তুষার, সিসিএম সুজিত কুমার বিশ্বাস, ডিআরএম মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা, সিওপিএস-ই মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, ডিইই মো. তাকি আল জাওয়াদ, এজিএম শেখ ফরিদ, ডিটিও ফারহান মাহমুদ, এসি আরএনবি সালামত উল্লাহ, সিআরএনবি মো. মোরশেদ আলম, ডিএমই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ উপস্থিত ছিলেন। চবির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হোসাইন, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা, সহ-যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবাইদুল সালমান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতব্বর উপস্থিত ছিলেন।চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, শাটলের সমস্যাসমূহ সমাধানে ইতিপূর্বে প্রায় ৫ বার রেলওয়ের সাথে আমাদের সভা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে শাটলে পাওয়ার কার সংযোজন, নতুন রেক সংযোজন, নিয়মিত নিরাপত্তা অভিযান, লাইট ফ্যান সচল করাসহ অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হয়েছে। কিন্তু বগি স্বল্পতার কারণে শাটলে শিক্ষার্থীরা অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আজকে সভায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, পিক আওয়ারে নতুন একটি ট্রিপ চালু করা এবং বগির বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্যাম্পাস স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংস্কার করা। আশা করছি, আজকে সিদ্ধান্ত হওয়া পদক্ষেপগুলো যথাযথ সময়ে গ্রহণ করতে পারলে শিক্ষার্থীরা পরিবহনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।স্বল্প মেয়াদি ১০ উদ্যোগ:১. ২য় ট্রেনটির কোচ পরিবর্তন করে নতুন কোচ সংযোজন।২. প্রতি সপ্তাহে ট্রেন ক্লিনিংয়ের ব্যবস্থা করা।৩. দুপুর ২:০০ টা থেকে ৩:৩৫ টার মধ্যে নতুন ট্রিপ সংযোজন।৪. ক্যাম্পাস স্টেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা মেরামত করা।৫. শাটলের সব লাইট, ফ্যান সংস্কার করা।৬. রাতের বেলায় ট্রেনের দরজা, জানালা অফ রাখা।৭. শাটল অ্যাপকে রেলওয়ের রেগুলার সার্ভিসে অন্তর্ভুক্তিকরণ।৮. শিডিউল বিপর্যয় রোধে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান।৯. রেললাইনের দুই পাশের ঝোপ ঝাড় পরিস্কার করা।১০. পাথর নিক্ষেপ বন্ধে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে তড়িৎ অভিযান।দীর্ঘমেয়াদি ৫ উদ্যোগ:১১. নতুন ইঞ্জিন সংযোজন।১২. ক্যাম্পাস স্টেশান রেনোভেশান। অলরেডি টেন্ডারে গিয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।১৩. ক্যাম্পাস স্টেশানে রেললাইনের দৈর্ঘ বৃদ্ধি করা। ন্যুনতম চৌদ্দটি বগি সংযোজন যোগ্য করে লাইন সংস্কার। লাইন সংস্কার শেষে বগি বৃদ্ধি করা হবে।১৪. ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত রেললাইন সম্পূর্ণ সংস্কার করা হবে।১৫. অক্সিজেন স্টপেজ চালু করার লক্ষ্যে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

 ইরান যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরতে হবে: মোজতবা খামেনি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত সরে যেতে হবে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য বলে ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের যোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে মার্কিন বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। তাঁর দাবি, খুব শিগগির আরব সাগরও মার্কিন উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে।এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। সাত মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান সাত দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রস্তাবটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে প্রণালিটি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব তাঁর বর্তমান অবস্থানের সঙ্গেও যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মার্চে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন।তবে যুদ্ধের সময় তাঁর নিজের আহত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি ও গুঞ্জন রয়েছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হলে তা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে দীর্ঘ সময় তাঁকে জনসমক্ষে না দেখা যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর শারীরিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়।মোজতবা খামেনির কঠোর বক্তব্য এবং যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—দুটি ঘটনাই একই সময়ে সামনে এসেছে। এর ফলে ইরানের অবস্থানে সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের বড় পার্থক্যগুলো এখনো রয়ে গেছে।ইরানের জন্য মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা।ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও তা দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। আগের যুদ্ধবিরতির অভিজ্ঞতাও দেখিয়েছে, সমঝোতায় পৌঁছানোর পর সেটি টিকিয়ে রাখাই হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।এখন নজর থাকবে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যোগাযোগ কতটা এগোয় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো বাস্তব সমঝোতা হয় কি না। একই সঙ্গে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছে, সেটি আলোচনার পরিবেশকে কতটা প্রভাবিত করে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার গণ্ডি ছাড়িয়ে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিপরীতে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি হলে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ নয়, কমাতে বলল ওয়াশিংটন

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের বদলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানকে শুধু পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিলে হবে না; সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বাস্তব সক্ষমতাও কমাতে হবে।আলাস্কার ফেয়ারব্যাঙ্কস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বাচনি সমাবেশের আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এসব কথা বলেন।ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। পরে আলোচনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন অবস্থান কঠোর হয় এবং ইরানের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি সামনে আসে।মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও এর আগে বলেছিলেন, ইরানে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থাকা উচিত নয়। ভ্যান্সের বক্তব্যে এখন সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।ভ্যান্সের যুক্তি, ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য না রাখে, তাহলে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত বা উৎপাদনের সক্ষমতা রাখার প্রয়োজন কী। তার মতে, ইরানের বাস্তব সক্ষমতা কমানোই হবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা নেই—এমন দাবির বিশ্বাসযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ইরান যুদ্ধ ও বিশ্ব সমাচার

প্রায় এক মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্রে-ইজ্রাইল ইরান যু'দ্ধ।  প্রত্যাক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় ২০টির ও বেশি দেশ জড়িয়ে পড়েছে এই যুদ্ধে।আসলে কে জিতলো? আর কে হারলো?আসুন জেনে নিই সমীকরণ :যুক্তরাষ্ট্র:যাকে এই যুদ্ধের মূল হোতা হিসাবে চিন্তা করা হয় সে হলো যুক্তরাস্ট্র। এখনো পর্যন্ত তাদের দাবি তারা আংশিক জয় পেয়েছে। কিন্তু  $১৬.৫ বিলিয়নের বেশি খরচ হয়েছে তাদেরকে। হারিয়েছে অসংখ্য সেনা, ফাইটার ১৫, আব্রাহাম লিংকন, জেরার্ডের মত যুদ্ধ জাহাজ। খোদ আমেরিকাতেই বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ। মিত্র দেশগুলো অহরহ দিচ্ছে যুদ্ধ বন্ধের চাপ।ই'রানঃযাকে কেন্দ্র করে এ-ই যুদ্ধ সেই ইরান অনেকটাই বিধ্ব'স্ত। সেনাবাহিনী ক্লান্ত,  নৌবাহিনী ব্যপকভাবে ক্ষ'তিগ্রস্ত, সর্বোচ্চ নেতা-সহ প্রায় সকল নেতৃত্ব নি'হত। হাজর হাজার মানুষ নিহত। বাড়িঘর, রাস্তা, ব্রিজ, কলকারখানা প্রায় সব শেষ। তেহরান পরিনত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। মিত্রদের প্রকাশ্য কোনো সহযোগিতা নেই। প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে মিসাইল উৎপাদন, শেষ হয়ে আসছে মজুতও। ই'জ্রায়েলনিজেদের আংশিক জয়ী ঘোষণা করলেও এখনো পর্যন্ত খরচের পরিমান পার হয়প গেছে $৬.৪ বিলিয়ন। অনেক ক্ষ'য়'ক্ষ'তি হয়েছে তবে তা প্রকাশ করে না। ধ্বংস হয়ে গেছে তেল আবিবের মত প্রসিদ্ধ শহর। বাজে ভাবে ভেঙে পড়েছে আয়রন ডোম ব্যাবস্থাপনা।কাতার:যদিও যুদ্ধে কাতর জড়িত নয়, কিন্তু কাতারে মার্কিন ঘাঁটি তাকায় সেদেশেও হামলা চালিয়েছে ইরান।  কাতারেে LNG (গ্যাস) স্থাপনায় হা'মলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে।এছাড়াও ক্ষ'তিগ্রস্ত হয়েছে  সৌদি আরব। হামলা হয়েছে তাদের  তেলক্ষেত্রে। ক্ষ'তিগ্রস্ত হয়েছে  আরব আমিরাত । দুবাই বিমানবন্দর ব'ন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে লেবানন । লেবাননে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯০০। দুই দেশের মাঝখানে পড়ে আক্রান্ত হয়েছে ইরাক ।  কুয়েত ক্ষ'তিগ্রস্ত হয়ে আঘাত পেয়েছে জিডিপিতে। তাদের প্রায় ১৪% জিডিপি কমার আশ'ঙ্কা করা হচ্ছে।বাহরাইন টিকে আছে, তবে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে।  ইয়েমেন অপেক্ষায় আছে। হুথি গোষ্ঠী প্রস্তুত। যেকোনো সময় তারাও যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে।  রাশিয়া এখনো বিভক্ত অবস্থায় আছে। তারাও যুদ্ধে অসংখ্য ড্রোন হারিয়েছে, কিন্তু তেল বিক্রি করে লাভ করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছপ চীন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তারায় ইরানের সস্তা তেলের গ্রাহক। তারা  সস্তায় ই'রানের তেল কিনছে, এবং তাদেরকে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে।যদিও ভারত, পাকিস্তান টিকে আছে। কিন্তু তেলের জন্য হিমশিম খাচ্ছে। উভয় দেশেই জ্বালানি সং'কট বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের মত নিরেপক্ষ শক্তিও। ওদিকে তুরস্ক উন্মুক্ত ঝুঁকিতে আছে। যেকোনো সময় যুদ্ধের গ্রাসে জড়িয়ে যেতে পারে তারাও।ইরান সীমিত অথবা বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রনালী যা ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে জ্বালানি সং'কট তৈরি করতে পারে। যেকারণে যুক্তরাজ্য জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাই তারাও ঝুঁকিতে আছে।মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসাবে যদিও ওমান টিকে আছে। তবে তারাও যুদ্ধের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।এখন প্রশ্ন হলো যুদ্ধ থামছে কিনা। একটা সাধারণ উত্তর হলো না। কারণ এই যুদ্ধ শুধু যুক্তরাষ্ট্রে - ইরান বা ইজ্রায়েলের ঘিরে নয়। এই যুদ্ধ আত্মমর্যাদার যুদ্ধ, এই যুদ্ধ অধিপাত্যবাদের যুদ্ধ।আইআরসির দাবি ইরান এখন যেভাবে একা সবার সাথে লড়ে যাচ্ছে এইভাবে তারা দুই বছর অনায়াসে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, তাতেও তাদের অস্ত্রের ভান্ডার খালি হবে না। পশ্চিমাদের মাথা ব্যথার কারণ এইখানে। ইতোমধ্যে অনেক দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান গুনতে হয়েছে। বিশ্বব্যাপি খাদ্য ও জ্বালানি সংকট দেখা দিতে শুরু হচ্ছে।ইরানী বিদ্রোহী বাহিনী আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তারা আমেরিকার সাথে কোনো প্রকার আলোচনায় বসতে চাইনা। যদিও আমেরিকা-ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যুদ্ধ চার থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে। কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এ যুদ্ধ আরো অনেক দিন চলতে থাকবে এবং ইরান এতসব ভেবে চিন্তেই মার্কিন ঘাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ইরানের মিত্র দেশ চিন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়ার মত শক্তি (যা আমেরিকার প্রতিপক্ষ হিসাবে পরিচিত) নীরব রয়েছে কিন্তু আলাদাভাবে তারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। ইরানী ড্রোন থেকে রক্ষার জন্য ট্রাম্প ইউক্রেনের সাহায্য চাইছে যা রাশিয়ার উদ্বেগের কারণ। তাছাড়া চীনা ষাট টনেরও বেশি পণ্য বহনকারী কর্গোবিমন গত কয়েকদিনে বহুবার ইরানে অবতরণ করেছে বলে খবর প্রচারিত হচ্ছে। যার অর্থ চীন যুদ্ধে ইরানকে সাহায্য করছে।গবেষণায় পাওয়া গেছে ইরান এখনো দশ থেকে পনেরো বছর আগের অস্ত্র ব্যাবহার করছে। এছাড়া আছে সাহেদ বা খোররাম যা আধুনিক প্রজন্মের অস্ত্র হিসাবে পরিচিত। তাই বলায় যায় এ যুদ্ধ খুব তাড়াতাড়ি থামছেনা।ইরান হয়তো নিঃশেষ হয়ে যাবে, না হয় অধিপত্যেবাদের শেষ দেখে ছাড়বে। তাই যদি হয় তাহলে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। পৃথিবীতে নেমে আসবে ধ্বংস আর দূর্ভীক্ষ।আমরা ধ্বংস চাই না। যুদ্ধ ও চাই না। আমরা শান্তি চাই। পৃথিবীই একমাত্র স্থান যেখানে সকল দেশের, সকল জাতের, সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। খোদার স্বর্গে পাপীদের কোনো স্থান নেই। নরকে পূণ্যবান কেউ থাকতে পারে না। কিন্তু পৃথিবীতে আমরা সবাই থাকতে পারি। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ছোট, বড় সকলে মিলেমিশে থাকতে চাই এই পৃথিবীতে। আগামীর প্রজন্মের জন্য এই সুন্দর পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে রাখতে চাই।আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। অবসান হোক পৃথিবীর সকল যুদ্ধের। পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক। পৃথিবীর মানুষ নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে প্রাণখুলে নিশ্বাস নিক।

কোন পরিনতির দিকে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ!!!

বিশ্ব খবরের বাজারে সমসাময়িক সবচেয়ে বড় আর মুখরোচক খবরের নাম, ইরান। তামাম পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর ও ধনকুবের দেশগুলো যখন ভয় ভীতি অস্ত্র আর গোলাবারুদের চোখ রাঙানীতে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তখনও নিজেদের প্রজ্ঞা, জিদ, প্রতিশোধ আর স্বদেশ প্রেমের মহিমায় ভাস্বর একটি নাম, ইরান। কিন্তু ইরানের এই আসীম সাহসিকতার মূল উৎস কি? কোন শক্তি পিছন থেকে সাহস যোগাচ্ছ তাদের। আসুন আলোচনা করি ইরানের বিভিন্ন সামরিক শক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র বিষয় নিয়ে।২০১১ সালের একটি সাধারণ জরিপে দেখা যায় ইরানের দুটি ড্রোন উৎপাদন ব্যাজ ছিল, যা গড়ে প্রতিদিন ৩০০ ড্রোন উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল। ২০১৩ সালে নাইজেরিয়াতে একবার ইরানের ড্রোনের ঝলকানি দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে থেকে তারা মাটির গভীরে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র উৎপাদন ও জড় করতে থাকে। তখন যে কয়টি ড্রোন ব্যাজ ছিল তার এক একটি উৎপাদন ব্যাজ গড়ে প্রতিদিন ৮০০ প্লাস ড্রোন উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল। ইরানে মোটের উপর এমন ২০ থেকে ২৫ টির বেশি ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র থাকতে পারে।ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো মাটির অনেক গভীরে বা পাহাড়ের নিচে থাকতে পারে বলে আশা করা হয়। সে হিসাব করলে সম্পন্ন ইরানের ভূমির নিচে রয়েছে আর একটা ইরান। যা মিসাইল ইরান বা ক্ষেপণাস্ত্র ইরান হিসাবে পরিচিত।তাদের অস্ত্রাগারে মূলত স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক ফাত্তাহ-১ ও ২, এবং শাহেদ ড্রোন রয়েছে। এছাড়া, বর্তমান উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব বলে ধারণা করা হয়।ইরান বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, যা প্রতি মাসে প্রায় অসংখ্য নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। তাদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হলো ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা ২,০০০-৩,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।তাছাড়া ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান বেশ উন্নত, যা তারা দূরপাল্লার আক্রমণের জন্য ব্যবহার করে। এছাড়া রাশিয়ার সহায়তায় ইরানের কাছে উন্নত অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান এবং সাঁজোয়া যান রয়েছে।যদিও ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে, তবুও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বা দখলের কথা স্বীকার করেনি। তবে তাদের হাতে মজুদ রয়েছে অগুনিত মিসাইল আর ড্রোন। হাজার হাজার ট্রাঙ্ক, দক্ষ সেনাবাহিনীর আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।সেই সকল অস্ত্র দিয়েই বর্তমানে ইরান একাই ১১ টি দেশের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে, তাই বলা যায় কেউ যদি ইরানকে হালকাভাবে নেয়, সে অবশ্যই অনেক বড় ভুল করবে। বিশ্ববাসী আশা করেছিল ইরান হয়তো ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সাতেই পেরে উঠবে না। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ইরান তার আশেপাশের সকল দেশের মার্কিন ঘাটিতেই আঘাত হেনেছে। এমনকি তাদের হামলার রাডারে স্পেন বা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নামও পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ ইরান গাঁট সাট বেঁধে নিজেদের এবং শত্রুদের শক্তি বিচার করে তাই যুদ্ধের ঢোলে তাল উঠিয়েছে।ইরানের মিসাইল আর ড্রোন হামলায় দিশেহারা অবস্থা ইসরায়েলের। বৃষ্টির মত প্রতিদিন ইসরায়েলের মটিতে আছড়ে পড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানকে থামানোর জন্য  নিষেধাজ্ঞা জারি করে এমন পরিস্থিতি তৈরী করে রাখা হয়েছে যে, ইরানের টিকে থাকতে হলে লড়াই করা ছাড়া বিকল্প নেই। এদিকে হরমুজ প্রনালী বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাসীর ঘুম হারাম করে দিয়েছে ইরান।ইরানের জটিল ভৌগোলিক কারণেই কেউ ইরানের সাথে কখনো স্থল যুদ্ধ করে পার পাবে না, তাছাড়া ইরানের ভেতরে যুদ্ধবিমান গিয়ে যুদ্ধ করবে এমন সাহস এখন পর্যন্ত কারো হয়নি, ইরানের ভেতরে যতো হামলা হচ্ছে তা ২ থেকে ৩ শত কিলোমিটার দূর থেকে বর্ডারের বাহির থেকে। আমেরিকার আধুনিক প্রযুক্তির যতগুলো ড্রোন ইরানের মধ্যে প্রবেশ করেছে এখন পর্যন্ত একটাও ফিরে আসেনি এমনকি আমেরিকার তৈরি F-35 পর্যন্ত ভূপাতিত হয়েছে। (সূত্র : ইন্টারনেট)ইরান এখন যেভাবে একা সবার সাথে লড়ে যাচ্ছে এইভাবে তারা দুই বছর অনায়াসে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, তাতেও তাদের অস্ত্রের ভান্ডার খালি হবে না। পশ্চিমাদের মাথা ব্যথার কারণ এইখানে। ইতোমধ্যে অনেক দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান গুনতে হয়েছে। বিশ্বব্যাপি খাদ্য ও জ্বালানি সংকট দেখা দিতে শুরু হচ্ছে।ইরানী বিদ্রোহী বাহিনী আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তারা আমেরিকার সাথে কোনো প্রকার আলোচনায় বসতে চাইনা। যদিও আমেরিকা-ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যুদ্ধ চার থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে। কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এ যুদ্ধ আরো অনেক দিন চলতে থাকবে এবং ইরান এতসব ভেবে চিন্তেই মার্কিন ঘাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ইরানের মিত্র দেশ চিন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়ার মত শক্তি (যা আমেরিকার প্রতিপক্ষ হিসাবে পরিচিত) নীরব রয়েছে কিন্তু আলাদাভাবে তারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। ইরানী ড্রোন থেকে রক্ষার জন্য ট্রাম্প ইউক্রেনের সাহায্য চাইছে যা রাশিয়ার উদ্বেগের কারণ। তাছাড়া চীনা ষাট টনেরও বেশি পণ্য বহনকারী কর্গোবিমন গত কয়েকদিনে বহুবার ইরানে অবতরণ করেছে বলে খবর প্রচারিত হচ্ছে। যার অর্থ চীন যুদ্ধে ইরানকে সাহায্য করছে।গবেষণায় পাওয়া গেছে ইরান এখনো দশ থেকে পনেরো বছর আগের অস্ত্র ব্যাবহার করছে। এছাড়া আছে সাহেদ বা খোররাম যা আধুনিক প্রজন্মের অস্ত্র হিসাবে পরিচিত। তাই বলায় যায় এ যুদ্ধ খুব তাড়াতাড়ি থামছেনা।ইরান হয়তো নিঃশেষ হয়ে যাবে, না হয় অধিপত্যেবাদের শেষ দেখে ছাড়বে। তাই যদি হয় তাহলে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। পৃথিবীতে নেমে আসবে ধ্বংস আর দূর্ভীক্ষ।আমরা ধ্বংস চাই না। যুদ্ধ ও চাই না। আমরা শান্তি চাই। পৃথিবীই একমাত্র স্থান যেখানে সকল দেশের, সকল জাতের, সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। খোদার স্বর্গে পাপীদের কোনো স্থান নেই। নরকে পূণ্যবান কেউ থাকতে পারে না। কিন্তু পৃথিবীতে আমরা সবাই থাকতে পারি। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ছোট, বড় সকলে মিলেমিশে থাকতে চাই এই পৃথিবীতে। আগামীর প্রজন্মের জন্য এই সুন্দর পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে রাখতে চাই।আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। অবসান হোক পৃথিবীর সকল যুদ্ধের। পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক। পৃথিবীর মানুষ নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে প্রাণখুলে নিশ্বাস নিক।

রাজনীতি

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

দিল্লির কোথাও একটি করমর্দন অপেক্ষা করছে। এখনো সেই করমর্দনের সঙ্গে কোনো নির্ধারিত তারিখ, সম্মত সফরসূচি কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিশ্চিত হয়নি। এই লেখা প্রকাশের সময় ভারত ও বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করছে। আলোচনায় নভেম্বর মাসের কয়েকটি সম্ভাব্য তারিখও রয়েছে। তবে দুই পক্ষই জানিয়েছে, এ সফরের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হতে হবে। আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে, কিন্তু সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও বাংলাদেশের দুই নেতার মধ্যে একটি করমর্দন নিছক আলোকচিত্রের চেয়েও অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করবে। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাবে, ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, বাণিজ্য ও অত্যন্ত দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্তের বন্ধনে আবদ্ধ দুই প্রতিবেশী গভীর অবিশ্বাসের একটি অধ্যায় পেরিয়ে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক পুনর্গঠন শুরু করতে পারে কি না। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। নয়াদিল্লি, বেইজিং, ওয়াশিংটনসহ অন্যান্য রাজধানীতে তার এই ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এগুলো থেকে বোঝা যায়, দুই পক্ষই উপলব্ধি করছে যে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর থেকে অর্থবহ ফল পেতে হলে আগে প্রস্তুতি নিতে হবে।রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনবাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আবির্ভাব একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। সেটি সম্পর্কের মোড় ঘোরানো মুহূর্তে পরিণত হবে কি না, তা আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে বেশি নির্ভর করবে দুই সরকার কী নিয়ে আলোচনা করতে, দর-কষাকষি করতে এবং বাস্তবে কী অর্জন করতে প্রস্তুত, তার ওপর। রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা একটি দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে বসবাস করেছেন। যে দেশের রাজনীতি তার জীবনকে গড়ে তুলেছে, সেই দেশ থেকে তিনি ছিলেন দূরে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের সময়টি ছিল অসাধারণ। ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে, তার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন তারেক রহমান। দীর্ঘ নির্বাসনের সময় তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের কিংস্টনে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমাকে নিয়ে বসবাস করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিদিনের কোলাহল থেকে দূরে তার জীবনযাপনের ধরন ছিল তুলনামূলক শান্ত। রিচমন্ড পার্কের সবুজ বিস্তৃত পথ ধরে হাঁটা এবং ইতিহাসের বই পড়া ছিল তার পছন্দের কাজগুলোর মধ্যে। এই ভারসাম্য তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে ধারণ করতে পারে কি না, সেটিই হবে প্রকৃত পরীক্ষা। তিনি এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অমীমাংসিত মতপার্থক্য দূর করার প্রচেষ্টার কেন্দ্রে একজন জ্যেষ্ঠ পেশাদার কূটনীতিককে স্থাপন করা হচ্ছে।দলটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তার পিতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরে দলটির নেতৃত্ব দেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন। একই সঙ্গে বংশানুক্রমিক রাজনীতি, তার নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিরোধী দলে থাকার সময় তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের কারণে তিনি সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। বৃটেনে সাধারণ জীবনের স্বাধীনতা, বিশেষ করে সার্বক্ষণিক সরকারি দায়িত্বের চাপ ছাড়াই হাঁটাচলার সুযোগের কথা তিনি বলেছেন। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। বিদেশে কাটানো বছরগুলো তাকে জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে চলা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরত্ব তৈরি করার সুযোগও দিয়েছিল। হামিদুল্লাহ জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।নির্বাচনী জয় ও ক্ষমতা গ্রহণ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিশ্চিত বিজয় অর্জন করে। ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় পালাবদল সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে তার কাঁধে দায়িত্বও পুরোপুরি এসে পড়েছে। এখন আর শুধু ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি দলের মূল চালিকাশক্তি নন তিনি; তার হাতে এখন রাষ্ট্র পরিচালনার পুরো দায়িত্ব। এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাসনে অর্জিত দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের শাসন পরিচালনার কাজে কীভাবে প্রতিফলিত হবে।দিল্লির বার্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াদিল্লির বার্তা ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো এসেছে ব্যক্তিগত শোকের একটি মুহূর্তে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত শোকবার্তা পৌঁছে দেন। নির্বাচনের পরও ভারতের যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রকাশ্য বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’ ঢাকাও নিজেদের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে।দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার পথ তৈরি করেছে, তবে তাতে এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়া হয়নি যে প্রতিবেশীদের মধ্যকার কঠিন সমস্যাগুলো মিটে গেছে। একই সঙ্গে নেতাদের ব্যক্তিগত সখ্যের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক বৈধতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার সংকেত দিয়েছে ভারত। তারেক রহমানের বিজয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। চীনও নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের আগে দেয়া সাক্ষাৎকারগুলোতে তারেক রহমান একদিকে বিনিয়োগ আকর্ষণ, অন্যদিকে কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এড়িয়ে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। নির্বাচনের আগে টাইম সাময়িকীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জাতীয় সংহতির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, তাহলে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না।’।কূটনৈতিক সমীকরণ ও নীতিগত অবস্থানবাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি তার নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। ভৌগোলিক নৈকট্য রাজনৈতিক সমন্বয় নিশ্চিত করে- ভারতের এমন ধারণা করা উচিত নয়। একইভাবে, সবচেয়ে বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের বাস্তবতাও ঢাকার উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ভারতের প্রতি তারেক রহমানের অবস্থান বিচার করা উচিত তার সরকার কী করেছে, শুধু কী বলেছে তার ভিত্তিতে নয়। কোনো দেশই অন্য দেশের কাছে তাদের প্রতিটি দাবি মেনে নেয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে, যেটিকে ব্যাপকভাবে নয়াদিল্লির সঙ্গে আগের তুলনায় কম ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়।রাষ্ট্রদূত ও নতুন সুযোগ বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেয়াও আরেকটি ইঙ্গিত যে নয়াদিল্লি সম্পর্কটিকে নতুন করে রাজনৈতিক গুরুত্ব দিতে চায়। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ত্রিবেদী এমন একটি পদে নিয়োগ পেয়েছেন, যেখানে সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। দুই দেশের সরকার যখন আগের সময়ের টানাপোড়েন পেছনে ফেলে এগোতে চাইছে, তখন তার এই নিয়োগ রাজনৈতিক যোগাযোগের বিশেষ নমনীয়তা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে বাস্তব গুরুত্ব দেয়ার ইঙ্গিত বহন করে।হাইকমিশনার ত্রিবেদীর প্রকাশ্য বক্তব্য সংযত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নভেম্বর সফর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে এবং তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বলেছেন, আলোচনা চলছে। তবে সফরের জন্য উভয় পক্ষের অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন এবং তা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে। বাংলাদেশের প্রয়োজন বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান।অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকারজনসমর্থন, তবে ব্লাঙ্ক চেক নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার, জননিরাপত্তার উন্নতি এবং রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করতে চান। তার নির্বাচনী প্রচারে নিম্ন আয়ের পরিবার, কৃষক, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতিও ছিল। প্রতিশোধের রাজনীতি দেশের কোনো উপকার করবে না বলেও তিনি যুক্তি দিয়েছেন। তখন প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে, অর্থনীতি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা তুঙ্গে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কথাটি তাদের নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের বার্তা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দৃশ্যমান উদ্যোগ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তিনি দেশের উন্নয়নে সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০ অক্টোবর রংপুরের রাধাগোবیند ধর্মসভা মন্দিরে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান- সবার সমান অধিকার আছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলনে মানুষের মধ্যে যে ঐক্য দেখা গিয়েছিল, সেটিও স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই কাজ শুরু করার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, নিয়োগের অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে ঢাকায় তলব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের কোনো দেশ সফরের সময় সংশ্লিষ্ট দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত প্রস্তুতি ও সার্বিক সমন্বয়ের মূল দায়িত্বে থাকেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর ২৬ থেকে ২৯শে অক্টোবরের টোকিও সফরে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। সফরের প্রাক্কালেই জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়েছে এবং তাকে সফরসংক্রান্ত সব ধরনের প্রস্তুতি ও সমন্বয় কাজ থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯শে অক্টোবর জাপান সফর করবেন। শুধু দেশে নয়, বৈশ্বিক কূটনীতির ইতিহাসেও এমন ঘটনা বিরল।কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, জাপানের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে আপত্তি থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে যুক্ত একটি অনুচ্ছেদ নিয়ে টোকিও অসন্তোষ প্রকাশ করে। ওই অনুচ্ছেদে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং ফ্যাসিবাদী ও সামরিকতাবাদী পুনরুত্থানের বিরোধিতা সংক্রান্ত বক্তব্য ছিল, যা জাপান নিজেদের জন্য স্পর্শকাতর বলে মনে করে। দাউদ আলীকে মূলত চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে গণ্য করে জাপান এবং ওই বিবৃতি তৈরিতে তার ভূমিকা ছিল বলে তারা সন্দেহ করে।একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। টোকিও এসব আলোচনার সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষার তাগিদ দিয়েছে, যা রাষ্ট্রদূতকে সফরের বাইরে রাখার অন্যতম কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ই অক্টোবরের এক চিঠিতে দাউদ আলীকে অবিলম্বে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে সফরের প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের দায়িত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামকে টোকিও পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও দক্ষ জনশক্তি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন। যার মধ্যে- ৩ থেকে ৪ টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক মুখেই রাষ্ট্রদূতকে এভাবে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকদের অনেকেই অস্বাভাবিক বলছেন। তাদের প্রশ্ন, দাউদ আলীর ভূমিকা নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা সফরের আগে আগে কেন দেখা হলো। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৯ সালে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর থাকাকালেও দাউদ আলীকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সে সময় তারেক রহমানকে লন্ডনে সহায়তা করার অভিযোগ নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা পড়েছিল। পরবর্তীতে তাকে পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমির ভাইস প্রিন্সিপাল করে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও কোনো প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রাক্কালে তাকে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো। সূত্র বলছে, এ নিয়ে তৈরি হওয়া অস্বস্তির প্রভাবেই প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।বিসিএস ১৫তম ব্যাচের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. দাউদ আলীর কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। আগামী ৭ই ডিসেম্বর তার অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ২০২৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর তিনি জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে যোগ দেন। এর আগে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং চীনের কুনমিংয়ে কনসাল জেনারেল হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও টোকিও, প্রিটোরিয়া ও লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

বিএনপিকে সেই একই ভূতে পেয়েছে: মামুনুল হক

শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে যে ভূত কাজ করেছিল, বর্তমানে বিএনপিকেও সেই একই ভূতে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর টাউন হলে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন।মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো দল পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলেই তারা নতুন আরেকটি স্বৈরাচারে পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রীর হাতে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বিএনপি তাতে বাধা দিচ্ছে। যারা কায়েমি স্বার্থবাদী, তারা তরুণ প্রজন্মের জেগে ওঠা নেতৃত্বকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না বলেও তিনি দাবি করেন।লক্ষ্মীপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা লোকমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, শাইখুল হাদিস আব্দুল মতিন বিন হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি এবং অন্যান্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা। রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।সূত্র: ঠিকানা নিউজ

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইসরাইল, সতর্কবার্তা নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে ইসরাইলকে এখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির মতো বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরির জন্য উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এই বক্তব্য ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা বললে নেতানিয়াহু তাতে সম্মতি জানান। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা দাবি করছেন, সরকারের নীতির কারণেই ইসরাইল নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন চালু রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও করতে হবে। সেগুলো এড়িয়ে চলতে সক্ষম এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে।নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাব নিয়ে দেশটির জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। চ্যানেল টুয়েলভের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই ধারণার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ব্লকচেইন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, বরং এই ধরনের আলোচনার প্রচেষ্টা ইসরাইলি অর্থনীতির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। এছাড়া অনেক ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে লেনদেনের গতিবিধি শনাক্তযোগ্য হওয়ায় তা পুরোপুরি ঝুঁকিহীন নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বৃটেনসহ ১২টি পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এখন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সরকার অনুমোদিত ব্যাপক বসতি নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু বসতি এলাকা নয়, বরং ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দলের নেতারা একে সরকারের ব্যর্থ কূটনৈতিক নীতির ফল হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৃটেনের নেতৃত্বে নেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টি নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সহায়তা অনির্দিষ্টকাল ধরে পাওয়া যাবে না। আমেরিকান রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই বিশাল অংকের সহায়তা পাওয়া যে কঠিন হবে, তা মেনে নেয়ার জন্য তিনি ইসরাইলিদের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার সমালোচকদের দাবি, নেতানিয়াহুর নিজস্ব বিতর্কিত নীতিই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেছে এবং জনসমর্থন কমিয়ে দিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকারের পর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বেয়াখাদ’ দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নেতানিয়াহু নিজের মুখেই স্বীকার করছেন যে, তার ক্ষমতায় থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অর্থনীতির বিপর্যয় ডেকে আনা। ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ নেতা ইয়াইর গোলানও সুর মিলিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য তার বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকারই প্রমাণ, যা ইসরাইলের জন্য অশনিসংকেত।

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

রাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে।তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান।সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি।সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং।ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে।বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সুত্র: কালের কণ্ঠরাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে। তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি। সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’ তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং। ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’ তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’ খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুত্র: কালের কণ্ঠ

জাতীয় ফুটবলের ফাইনালে ঈশ্বরগঞ্জের রাতুলের দুর্দান্ত লড়াই, গৌরব ময়মনসিংহের

জাতীয় ফুটবলের ফাইনালে ঈশ্বরগঞ্জের রাতুলের দুর্দান্ত লড়াই, গৌরব ময়মনসিংহের

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের নিভিয়াঘাটা গ্রামের কৃতি সন্তান ও আঠারবাড়ী এম.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাতুল মড়ল জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে নিজ এলাকা ও জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর খেলায় অনুপ্রাণিত হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এই স্মরণীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ময়মনসিংহ বিভাগের রানারআপ দলটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ট্রফি ও পুরস্কার গ্রহণ করে।জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ময়মনসিংহ বিভাগের হয়ে মাঠে নামেন রাতুল। ম্যাচ চলাকালে গুরুতর চোট পেলেও তিনি খেলা চালিয়ে যান। দুর্দান্ত সাহস, ফিটনেস এবং মিডফিল্ডে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি সবার নজর কাড়েন। ফুটবল একটি দলগত খেলা হওয়ায় দলের সব খেলোয়াড়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিবেদনের ফলেই ময়মনসিংহ বিভাগ জাতীয় পর্যায়ে রানারআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।রাতুলের এই অর্জনে আঠারবাড়ীসহ পুরো ঈশ্বরগঞ্জে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর শিক্ষক, সহপাঠী, অভিভাবক ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা গর্ব প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, গ্রামের একজন তরুণের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক ছেলে-মেয়েকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করবে।স্থানীয়রা জানান, রাতুলের পেছনে আঠারবাড়ী ফুটবল একাডেমি এবং কোচ মনজিল মড়লের নিরলস পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনার বড় ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই আঠারবাড়ীর প্রতিভাবান ফুটবলাররা আজ জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন।সংশ্লিষ্টরা রাতুল মড়লকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন।সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলা এবং নতুন প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

অনলাইন জরিপ
৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ অংশ নিয়েছেন।শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।সভায় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনসহ সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ অপরাধ দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি- সবকিছু সামলাতে হচ্ছে একই বাহিনীকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর ও আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির চাপ। জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা নিয়েও চাপে আছে মাঠপুলিশ। এর বাইরে রয়েছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে মাঠপুলিশের ওপর দায়বদ্ধতার চাপ আরও বেড়েছে। কোনো এলাকায় মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি এবং তদারকি কর্মকর্তাকে দায় নিতে হবে- এমন বার্তাও পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এখনও তোলপাড় চলছে পুলিশে। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ সভায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয় ডিসি ওসিদের। কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকামিছিল বের হলে ওই এলাকার ডিসি-ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাবধান করা হয়। পরবর্তীকালে গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ব্যর্থতা দায় হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছে ঢাকার ৫০ থানার ওসি ও জোনাল ডিসি-এডিসি, এসিরা। ডিএমপির একাধিক থানার ওসি এই চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।শুধু ঢাকা মহানগরই নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে সারাদেশেই মাঠ পুলিশ চাপের মুখে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে সব রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা আমাদের সময়কে বলেন, যেকোনো ধরনের চাপ নিয়ে কাজ করতে পুলিশ অভ্যস্ত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব চাপ সামলে পুলিশ কতটা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে, সেদিকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের প্রতিটি ধাপে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। বড় কোনো ঘটনা ঘটার পরই প্রায়ই গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এনেছে।আশরাফুল হুদা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশের ভেতরে দীর্ঘ ১৭ বছরে তৈরি হওয়া ‘জঞ্জাল’ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরীহ কর্মকর্তা বা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ বাহিনীর সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পড়তে পারে।জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির যে সংযোগ রয়েছে, তা মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাদের মনোবলও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে- এমনটা বলার সুযোগ নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পুলিশকেই পালন করতে হবে। তবে অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ সরাসরি পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিলে তাদের মনোবল আরও দুর্বল এবং বাহিনীর মধ্যে নতুন করে মেরুকরণ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে মাঠ পুলিশ। নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেনি। কমানো যায়নি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলির ঘটনা বেড়েছে। খুনোখুনি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি ও একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্রের। অর্থাৎ লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্র উদ্ধারে চাপে রয়েছে মাঠপুলিশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এসব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে খোদ পুলিশে। কারণ লুণ্ঠিত অস্ত্র স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে বিশেষ অভিযানও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তিন ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মাঠপুলিশের জন্য আলাদা চাপ তৈরি করছে। কারণ শুধু আসামি গ্রেপ্তার করাই নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিরাপদে থানায় নেওয়া, অভিযান পরিচালনা এবং অভিযানের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পুলিশকেই পালন করতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৩১৭টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এর আগের ৬ মাসে এ ধরনের ২৭৫টি ঘটনা ঘটে।পুলিশের ওপর চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। বদলি, পদোন্নতি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে পুুলিশের একটি বড় অংশের মধ্যেই হতাশা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত দুই বছরে ইতোমধ্যে ১৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আরও পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেক কর্মকর্তা এখনও অবসর আতঙ্কে রয়েছেন। এতে মানসিক চাপে তারা স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও চাপে রয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এই মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও তাগিদ রয়েছে তাদের ওপর। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেও মাঠ পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণে ঈশ্বরগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণে ঈশ্বরগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা

শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে—ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের পাশে উন্নয়ন সহায়তাসমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও সহজ করতে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় সাইকেল ও শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।কর্মসূচির আওতায় একজনকে সাইকেল এবং চারজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়। এই সহায়তা শুধু একটি সাইকেল কিংবা আর্থিক অনুদান নয়—এটি শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়, স্বপ্ন পূরণের সাহস এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।দূরত্ব, আর্থিক সংকট কিংবা নানা সীমাবদ্ধতা যেন শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি সাইকেল যেমন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতকে সহজ করবে, তেমনি শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি তাদের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।সহায়তার হাত যখন শিক্ষার পথে, তখন সম্ভাবনার পথও হয় আরও প্রশস্ত।আজকের এই ছোট্ট সহায়তাই হয়তো আগামী দিনের একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের বড় শক্তি হয়ে উঠবে।লক্ষ্য একটাই—শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া, বৈষম্য পেছনে ফেলা এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে  ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

 ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল। প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো  বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর।  আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন। চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে  ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়। সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী  ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের 'নজরানা' বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। M

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, স্বাগত বক্তব্য, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। আলোচনায় সত্যবাদিতা ও আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, শিক্ষকের মর্যাদা, প্রতিবেশীর অধিকার, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী জীবনাচরণ উপস্থাপনা ও সিরাতভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা উচিত। শুধু মিলাদুন্নবী পালন নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অনুসরণের বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। সবশেষে এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত মৌলভী শিক্ষক উমর ফারুক দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক সভানুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে কথা না বলে কোরআন, হাদিস ও নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, "আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব, যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং তারা বুঝতে পারে কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা বা আলোচনা করা যাবে না।"মাহফিলে সব রাজনৈতিক মতের মানুষ উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নাম ধরে সমালোচনা করলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে ইতিহাস, নীতি ও নৈতিকতার আলোকে পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সৎলোকের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।এছাড়া দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব বজায় থাকা প্রয়োজন।সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।নবঘোষিত কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।

সব বিভাগের খবর

মহানগর পরিক্রমা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্য বাংলাদেশ টেস্ট দল ঘোষণা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্য বাংলাদেশ টেস্ট দল ঘোষণা

ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই টেস্ট সিরিজের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।দীর্ঘ সময় ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করা উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন কুমার দাসকে রাখা হয়েছে ১৫ সদস্যের এই দলে। ইনজুরির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে পারেননি উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস।যদিও তার ডান হিপ জয়েন্টের চোট পুরোপুরি সেরে ওঠেনি, তবুও টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে নিয়ে বাজি ধরেছে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, লিটনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও তারা আশাবাদী যে টেস্ট শুরুর আগেই তিনি খেলার মতো অবস্থায় ফিরে আসবেন। লিটনকে দলে রাখার পেছনে মূল কারণ হিসেবে তার দুর্দান্ত ফর্ম ও ধারাবাহিকতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে টেস্ট ফরম্যাটে ৩০ ম্যাচে ২০৫৮ রান করেছেন এই ব্যাটার। সবশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এক সেঞ্চুরি ও এক ফিফটিসহ ১৫৫ রান তোলার পাশাপাশি ৯টি ডিসমিসাল ঘটিয়ে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডের মালিক হয়েছেন তিনি। যদি শেষ মুহূর্তে তাকে পাওয়া না যায়, তবে জাকের আলী অনিকের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। দল ঘোষণার পর লিটন দাসের শারিরীক অবস্থার কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, 'লিটনকে নিয়ে একটু কনসার্ন আছে। মিডল অর্ডার এবং উইকেটের পেছনে দলের অন্যতম ভরসা তিনি। সাদা জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ফিফটি ও এক সেঞ্চুরিতে ১৫৫ রান করেন লিটন। ওই ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে দেশের জার্সিতে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডও গড়েন তিনি। এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ব্যাটারকে পেতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় বিসিবি।দলের পরিবর্তন ও পরিকল্পনার নেপথ্য কারণদলে জায়গা হারিয়েছেন সৌম্য সরকার, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টের মূল একাদশে সুযোগ পাননি। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের মতে, সৌম্যকে বসিয়ে না রেখে তাকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার সুযোগ করে দেওয়াটাই যৌক্তিক মনে হয়েছে। দলে তৃতীয় কোনো ওপেনার না রাখায় নিয়মিত ওপেনিং জুটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, পেস ইউনিটে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্রাম নেওয়া তাসকিন আহমেদ স্কোয়াডে ফিরেছেন। তাসকিনের সঙ্গে হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম মিলে চারজন পেসারকে রাখা হয়েছে। খালেদ আহমেদকে এই সিরিজে রাখা হয়নি যাতে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে আরও শাণিত করতে পারেন। নির্বাচকদের মতে, স্কোয়াডে চার পেসার বর্তমানে যথেষ্ট। ভবিষ্যতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বা অন্যান্য সিরিজের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী দলে আরও পরিবর্তন আনা হবে। তাহলে আমাদের খুব বেশি পরিবর্তন করতে হবে না। সে ক্ষেত্রে একাদশে সৌম্যর খেলার সম্ভাবনা বেশ কম ছিল।নাহিদ রানার অনুপস্থিতি ও সিরিজের সময়সূচিশারীরিক ফিটনেস জনিত সমস্যায় এই সিরিজেও নেই পেসার নাহিদ রানা। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলার সময় সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েন তিনি, যা থেকে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাঝে নতুন করে নিতম্বে ব্যথা অনুভব করায় দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের চেষ্টা করেছে বিসিবি। আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট, যা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। ৫ নভেম্বর থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ।দর্শকদের জন্য বিশেষ সুযোগপ্রথম টেস্টটি দেখার জন্য দর্শকদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। মিরপুরে অনুষ্ঠিতব্য সিরিজের এই ম্যাচটি দর্শকরা বিনামূল্যে সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। স্টেডিয়ামের উত্তর এবং দক্ষিণ গ্যালারিতে টিকিট ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড, শহিদ জুয়েল ও শহিদ মুশতাক স্ট্যান্ডসহ অন্যান্য ভিআইপি ও হসপিটালিটি এরিয়ার জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য নয় বলে জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াডনাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক)মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক)তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলামমুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমলিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়জাকের আলী অনিক, তাইজুল ইসলামতাসকিন আহমেদ, নাঈম হাসানহাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেনশরিফুল ইসলাম

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর শৈলডুবি এলাকার সুপ্রিম গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার খায়রুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা কোনো হতাহতের তথ্য জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইসরাইল, সতর্কবার্তা নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইসরাইল, সতর্কবার্তা নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে ইসরাইলকে এখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির মতো বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরির জন্য উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এই বক্তব্য ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা বললে নেতানিয়াহু তাতে সম্মতি জানান। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা দাবি করছেন, সরকারের নীতির কারণেই ইসরাইল নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন চালু রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও করতে হবে। সেগুলো এড়িয়ে চলতে সক্ষম এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে।নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাব নিয়ে দেশটির জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। চ্যানেল টুয়েলভের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই ধারণার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ব্লকচেইন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, বরং এই ধরনের আলোচনার প্রচেষ্টা ইসরাইলি অর্থনীতির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। এছাড়া অনেক ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে লেনদেনের গতিবিধি শনাক্তযোগ্য হওয়ায় তা পুরোপুরি ঝুঁকিহীন নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বৃটেনসহ ১২টি পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এখন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সরকার অনুমোদিত ব্যাপক বসতি নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু বসতি এলাকা নয়, বরং ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দলের নেতারা একে সরকারের ব্যর্থ কূটনৈতিক নীতির ফল হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৃটেনের নেতৃত্বে নেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টি নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সহায়তা অনির্দিষ্টকাল ধরে পাওয়া যাবে না। আমেরিকান রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই বিশাল অংকের সহায়তা পাওয়া যে কঠিন হবে, তা মেনে নেয়ার জন্য তিনি ইসরাইলিদের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার সমালোচকদের দাবি, নেতানিয়াহুর নিজস্ব বিতর্কিত নীতিই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেছে এবং জনসমর্থন কমিয়ে দিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকারের পর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বেয়াখাদ’ দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নেতানিয়াহু নিজের মুখেই স্বীকার করছেন যে, তার ক্ষমতায় থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অর্থনীতির বিপর্যয় ডেকে আনা। ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ নেতা ইয়াইর গোলানও সুর মিলিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য তার বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকারই প্রমাণ, যা ইসরাইলের জন্য অশনিসংকেত।

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়েছিল বাংলাদেশের যোগাযোগ স্যাটেলাইট বিএস-১। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সতর্কবার্তায় জানানো হয়, একটি পুরোনো ভারতীয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুত বিএস-১–এর দিকে এগিয়ে আসছে।ঝুঁকি এড়াতে পরবর্তী চার দিন গাজীপুরের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) প্রকৌশলীরা। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট বিএস-১–এর কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তন করে ধ্বংসাবশেষটি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে স্যাটেলাইটটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বুধবার সকালে ঢাকার বাংলামোটরে সংস্থাটির  বলেন, ওই কয়েক দিন তাঁদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের ছিল। সময় ছিল কম, আবার বিএস-১–কে সরানোর সুযোগও ছিল সীমিত। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষতি ছাড়াই স্যাটেলাইটটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।মহাকাশে কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন সংঘর্ষে স্যাটেলাইটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমনকি পুরো স্যাটেলাইট ধ্বংসও হতে পারে। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অকেজো কসমস-২২৫১ ও যুক্তরাষ্ট্রের সচল ইরিডিয়াম-৩৩ স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়েছিল।ছুটে আসছিল ইনস্যাট-১এ–এর ধ্বংসাবশেষপৃথিবীর কক্ষপথে এখন হাজার হাজার সচল ও অকেজো বস্তু ঘুরছে। পুরোনো স্যাটেলাইট, রকেটের অংশ কিংবা মহাকাশযানের বিচ্ছিন্ন টুকরোগুলোকে সাধারণভাবে স্পেস ডেব্রিস বা মহাকাশের বর্জ্য বলা হয়। সচল স্যাটেলাইটের জন্য এসব বর্জ্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন সংস্থা। কোনো বস্তু ও স্যাটেলাইটের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।৯ আগস্ট পাওয়া সতর্কবার্তা থেকে বিএসসিএল জানতে পারে, বিএস-১–এর কাছাকাছি চলে আসতে থাকা বস্তুটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ।ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, ইনস্যাট-১এ ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। উৎক্ষেপণের কয়েক মাস পরই এতে সমস্যা দেখা দেয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এত বছর পরও এর কোনো অংশ পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে গিয়ে অন্য স্যাটেলাইটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।আগেও ঝুঁকিতে পড়েছিল বিএস-১বিএস-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় ২০১৮ সালের ১২ মে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের সময় এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নাম পরিবর্তন করে বিএস-১ রাখা হয়।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব যোগাযোগ ও সম্প্রচার সক্ষমতা তৈরি করে। উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়।তবে মহাকাশে বিএস-১–এর সামনে ঝুঁকি তৈরির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও স্যাটেলাইটটিকে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল।২০২১ সালে ঝুঁকির উৎস ছিল রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ। আর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইট বিএস-১–এর খুব কাছ দিয়ে চলে যায়।চার দিন ধরে চলেছে হিসাব-নিকাশফ্রান্সের থালেস অ্যালেনিয়া স্পেস ২০১৮ সালে বিএস-১ তৈরি করে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করত প্রতিষ্ঠানটি।বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২১ সাল থেকে বিএস-১ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বিএসসিএল। গাজীপুরের জয়দেবপুরে থাকা গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এখন স্যাটেলাইটটির নিয়ন্ত্রণের প্রধান কেন্দ্র।বিএসসিএলের হিসাবে, সেখানে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলী কাজ করেন। স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রকৌশলীরা পালা করে দায়িত্ব পালন করেন।৯ আগস্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কর্মীদের সতর্ক করা হয় এবং ছুটি বাতিল করা হয় বলে জানান এমডি ইমাদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টাও পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। মহাকাশের বস্তুটির অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে স্পেস ট্র্যাকার থেকেও নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল।তখন মূল প্রশ্ন ছিল, বিএস-১–এর কক্ষপথ পরিবর্তন করা হবে কি না। পরিবর্তন করলে কোন দিকে এবং কতটা সরানো নিরাপদ হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হচ্ছিল। কারণ স্যাটেলাইটকে এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য কক্ষপথে নেওয়ার পর নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়।ইমাদুর রহমান বলেন, সব তথ্য বিশ্লেষণের পর ১৩ আগস্ট বিএস-১–কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ধ্বংসাবশেষটি নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়া পর্যন্ত স্যাটেলাইটটিকে ওই অবস্থানে রাখা হয়। ঝুঁকি কেটে গেলে আবার বিএস-১–কে আগের কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষটি শেষ পর্যন্ত বিএস-১–এর প্রায় ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল।মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান ইমাদুর রহমান। তাঁর মতে, বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।মহাকাশ পরিচালনায় দক্ষতার পরীক্ষাবাংলাদেশের স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ২০টি বিদেশে ইজারা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিএস-১–এর সেবা ব্যবহার করে।মহাকাশে কোনো স্যাটেলাইটকে সম্ভাব্য সংঘর্ষ থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজটি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এর সঙ্গে কক্ষপথের হিসাব, সংঘর্ষের সম্ভাবনা, স্যাটেলাইটের জ্বালানি এবং নতুন কক্ষপথের ঝুঁকি—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপদ কক্ষপথ পরিবর্তনের হিসাব করতে হয়। তাঁর মতে, বিএস-১–এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা অল্প সময়ের মধ্যে ঝুঁকি বিশ্লেষণ, যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমানও বিষয়টিকে প্রকৌশলীদের সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো বস্তু স্যাটেলাইটের খুব কাছে চলে এলে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো দক্ষতার বিষয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা এতে সফল হলে তা প্রশংসনীয়।

ববি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বিষয়ক বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ববি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বিষয়ক বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।ডয়েচে ভেলে একাডেমি (DWA)  এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপ।শুক্রবার (১৯ জুন) বরিশালের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে শুরু হওয়া এই বুটক্যাম্পটি আজ ২১ জুন ২০২৬ বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।বুটক্যাম্পে পাঁচটি ক্লাবের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ক্লাবগুলো হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেরিয়ার ক্লাব, অর্গানাইজেশন অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্স এন্ড হায়ার এডুকেশন সোসাইটি এবং বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর যৌথ অর্থায়নে এই বুটক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। অনলাইনে যুক্ত থেকে কর্মসূচিটি তত্ত্বাবধান করেন ডয়েচে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক নাইমুর রহমান এবং মাঠপর্যায়ে এটি পরিচালনা করেন পাঁচজন ফেলো।কর্মসূচিতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ। এসময় তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ কোনো সংবাদ পেলেই সত্য-মিথ্যা বা অপপ্রচার যাচাই না করেই তা ভাইরাল করে দেয়। যেকোনো ঘটনা বা দুর্যোগের সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং নৈতিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসময় তিনি বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণ করা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রত্যাশা রেখে আরো বলেন; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞ্যান লাভের মাধ্যমে তোমরা তার প্রতিনিধি হবে এটাই হলো সকলের প্রত্যাশা।এছাড়াও অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশারাফুল হক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান মো: ফরহাদ উদ্দীন।এছাড়াও আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, কমিউনিকেশন এন্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট অফিসার সাইফুর রহমান, রিসার্স এন্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিষ্ট সাজ্জাদুল করিম, অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার।উল্লেখ্য, "Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0" প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

হোয়াটসঅ্যাপে এআই বিপ্লব: ব্যবসার নতুন সঙ্গী মেটা বিজনেস এজেন্ট

হোয়াটসঅ্যাপে এআই বিপ্লব: ব্যবসার নতুন সঙ্গী মেটা বিজনেস এজেন্ট

ব্যবসায়িক জটিলতা কমাতে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এখন মুহূর্তেই সামলাতে পারবেন গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে বিক্রয় ব্যবস্থাপনার কাজ।ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিধি ও সেবা সহজ করতে এবার বিশ্বব্যাপী হোয়াটসঅ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ‘মেটা বিজনেস এজেন্ট’ চালু করেছে মেটা। এতদিন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই প্ল্যাটফর্মটি এখন ব্যবসায়িক অটোমেশনের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। মেটার এই নতুন প্রযুক্তি কেবল গ্রাহকদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই নয়, বরং পণ্যের সুপারিশ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং এবং সম্ভাব্য ক্রেতা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।মেটা জানিয়েছে, কোনো জটিল বিষয়ে যদি এআই এজেন্টের পক্ষে উত্তর দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কথোপকথন মানব কর্মীর কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকবে, যা গ্রাহকসেবাকে আরও নিখুঁত করবে। ভারত ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোতে প্রায় দুই বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সফলতার পরই তা বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করা হলো। শুধু হোয়াটসঅ্যাপেই নয়, খুব শিগগিরই ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজ (ডিএম) সেবাতেও এই এআই বট ব্যবহারের সুযোগ পাবে ব্যবসায়ীরা।ভবিষ্যতে এই এজেন্টের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। বাজার গবেষণা পরিচালনা, পণ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা, ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের মতো জটিল কাজগুলোও এই এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টম এআই এজেন্ট তৈরির প্ল্যাটফর্মও প্রস্তুত করছে মেটা, যা Shopify, Zendesk এবং Shopee-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা যাবে।মেটার এই নতুন পদক্ষেপকে ব্যবসায়িক কৌশলের এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। এতদিন ক্লিক-টু-হোয়াটসঅ্যাপ বিজ্ঞাপন থেকে আয় করলেও, এখন এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার সেবায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল অটোমেশন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য টোকেন-ভিত্তিক অর্থের বিনিময়ে এই সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। সব মিলিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপ এখন কেবল চ্যাটিং অ্যাপ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকটাই এগিয়ে গেল।মেটা বিজনেস এজেন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ এআই, ডিজিটাল বিজনেস, গ্রাহকসেবা অটোমেশন, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রযুক্তি, মেটা এআই সেবা, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস আপডেট।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

সরকারি অর্থে নির্মাণ, উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় ধস, এরপর টানা ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার একটি ব্রিজের গল্প যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রই তুলে ধরে। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানিতে ধসে পড়ার পর দীর্ঘ এক যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও চরম ভোগান্তির শিকার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের মাঝখানে একপাশ দেবে গিয়ে কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা ব্রিজটির অবশিষ্টাংশ। দুই পাশের সংযোগ সড়ক বহু আগেই বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে। ফলে সেতু থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ অচল। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৪ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতারহাট সড়কের সাঁকোর পাড় এলাকায় খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুর একপাশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।এর ফলে লেনোরপাড়া, কুরারপাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতিপাড়া, বটতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বর্ষায় নৌকায় খাল পার হতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আলামীর হোসেন বলেন, “ব্রিজ ভাঙার পর চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার গেছি। ১২ বছরেও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।ডাঃ রতন বলেন, “এটাই ছিল উপজেলা শহরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। এখন আমরা যেন নিজ এলাকাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি।”শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, “বর্ষায় নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। আবার শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।”নুর নাহার বেগম বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খবর নেয় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। আমরা শুধু একটি নতুন ব্রিজ চাই।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙা ব্রিজের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও টেকেনি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ৩০ ফুট ব্রিজের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, “নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাত্র এক বছরেই ধসে পড়া ২৭ লাখ টাকার ব্রিজের নির্মাণমান ও তদারকির দায় কার? কেন ১২ বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ? আর কতদিন আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবে ২০ হাজার মানুষ?—এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত।

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

ভ্রমন তরী মস্তল সম্প্রতি কুড়িগ্রম জেলার চিলমরীতে ব্রহ্মপুত্র নদে এ এলাকার বিস্তির্ন চরাঞ্চলের মানুষের বসতি, জীবন যাত্রার মান, নতুন অভিজ্ঞতা ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে অনেক দূর থেকে এসেছে। দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, এ প্রতিপাদ্য যেন স্বচোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। সাধারনত পাহাড় দেখতে এ অঞ্চলের মানুষকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। কিন্তু  কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত  ১৭টি নদ-নদীর প্রবাহ, সংযোগ স্থান, দুধ কুমোর,ফুল কুমোর,সঙ্কোশ, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম,তিস্তা, ধরলা হলহলিয়া ও বিশেষ করে সাহেবের আলগা- বেগম গঞ্জের নুনখাওয়ায় সোজা পূর্ব থেকে ভারতের পাহাড়ের তলদেশ থেকে কিভাবে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা স্ব-চোখেই অবলোকন করা যায়। আর একটু দূর হতে হলেও আপনি যদি এ স্থানটিতে দাড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে তাকান দেখবেন কি এক অপূর্ব দৃশ্য!  চোখের সমনেই আসামের বিশাল নয়নাভিরাম সু-উচ্চ পাহাড়!!  তাৎক্ষনিক ভাবে ভুলেই যাবেন যে আপনি কোথায় আছেন। এ সব ছাড়াও চরাঞ্চলের গরু,মহিষের সারি, বির্স্তিন চর জুড়ে বাদম কলাই,ভূট্টা কতকি ফসল ও চর বসতিদের ঘরবসতি। সে দেখার সুযোগ গুলো এলাকার কিছু অর্বাচিনদের না ধারনায় বিরুপ হয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। তারপরও তারা একটু দূরে চলে গেলেও উত্তরবঙ্গের বিশাল সবনতন ধর্মাবলম্বিদের স্নান উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর অষ্টমীর মেলা উপলক্ষে মাস্তুল হাউসবোট নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ।  এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাসতল কতৃপক্ষের অষ্টমীর স্নান ও মেলা উদযাপন ভ্রমনের সুযোগ এনেছেন। তারা জানান, একদিকে ২০০ বছরের পুরনো মেলার লোকজ আমেজ, আর অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মাস্তুলের রাজকীয় আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আপনার এই ভ্রমণ হবে আজীবনের স্মৃতি!মাস্তলের এই ট্রিপে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের আহব্বান, চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী  অষ্টমীর মেলার বর্ণিল আয়োজন দেখার সুযোগ, ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ: গাইবান্ধার কামারজানি বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চরাঞ্চল ঘুরে দেখা, অভিজাত আবাসন: মাস্তুলের প্রিমিয়াম কেবিনে নদের বুকেই রাত কাটানোর রোমাঞ্চ। খাবার: ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার টাটকা আইড়, বাঘাইড় কিংবা বোয়াল মাছের জিভে জল আনা মেনু। শান্তি ও নির্জনতা: শহুরে কোলাহল ছেড়ে চরের বালুকাবেলায় সূর্যাস্ত দেখার প্রশান্তি। চিলমারীর অষ্টমীর মেলা (যা চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নান উৎসব)। তাদের এই যাত্রা শুরু হবে,  কামারজানী বন্দর হতে  ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অষ্টমীর মেলা ভ্রমণ।

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোণা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) উৎসবমুখর পরিবেশে সংবর্ধনা ওগ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহানা আফরোজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী সাত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় হাসেম বৃত্তি।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বাবুল আহম্মদ। সহকারী শিক্ষক ফারুক আহম্মেদ রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।অনুষ্ঠানে সংবর্ধনার জবাবে জাহানা আফরোজ বলেন, একসময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে বিদ্যালয়টিকে নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও জাতীয়করণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের কাছেও সুপারিশ করবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।জাহানা আফরোজ নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর সহধর্মিণী। অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া সাত শিক্ষার্থীর হাতে হাসেম বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিত শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা ও নাট্যাংশের অভিনয় উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দর্শকদের মুগ্ধ করে। আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিশ্ব কন্যা দিবস পালন এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।সকাল ১১টায় ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “প্রতিটি কন্যাই একেকটি আলোর প্রদীপ।” তিনি কন্যাশিশুর অধিকার, মর্যাদা ও সম্ভাবনা বিকাশের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।পরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল-ইসলাম চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান।এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, প্রান্তিক ও প্রকৃত উপকারভোগী পরিবারের সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।দুটি সভায় উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও বিএনপি নেতা মজনু রহমান খন্দকার। মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি চারণ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা প্রমূখ।এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান,শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী,সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ,গণ-মাধ্যমকর্মী-গণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।স্ট্যাটাসে মাজেদ বাবু দাবি করেন, সার ডিলার লাইসেন্সকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লেখেন, “ঈশ্বরগঞ্জে এক টাকার অনৈতিক সুবিধা আমি নিই না, কোনো দিন নেবও না।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরিষা ইউনিয়নে ডিওর আওতার বাইরে সার ডিলার লাইসেন্স দেওয়া হলে এবং অন্যদের পাশ কাটিয়ে কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স পেলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।লাইসেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে কারা, কোথা থেকে এবং কত শতাংশ হারে টাকা নেন, তা তিনি জানেন বলেও স্ট্যাটাসে দাবি করেন। তবে এত দিন তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি বলে উল্লেখ করেন।স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এর অফিসিয়াল উত্তর না পাব, ঈশ্বরগঞ্জে কেউ কোনো মনোনীত লোক সার ডিলার লাইসেন্স পাবেন না।”তিনি আরও লেখেন, “আমাদের লোকেরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সার ডিলার লাইসেন্স দেবেন—তা হবে না। আমরা নিজেদের টাকায় থানায় গাড়ি কিনে দেব, আর আপনারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবেন—তা হবে না।”প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ সদস্য লেখেন, “কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার।”সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।সূত্র: সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাস লিঙ্ক-https://www.facebook.com/share/p/1DuzKZdqex/

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

‘ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে'; সম্পাদক মোস্তফা মামুনদৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় গত ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড.সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারীএকান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারী কলেজ ও দিনাজপুর সরকারী কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি।বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অফ কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষাখাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।বর্অমানে অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন যা দেখে কিছু মানুষ তার এই কাজে ইর্ষা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে হেও পতিপন্ন করার জন্য নানা রকম প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।নির্বাচনে সভাপতি পদে মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহসভাপতি পদে আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিলন), কোষাধ্যক্ষ পদে এটিএম জোবায়েদ উর রহমান (জবা) এবং দপ্তর সম্পাদক পদে আব্দুল জলিল সরকার নির্বাচিত হয়েছেন। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ওয়াহেদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে মহসীন আলী, নুর আলম সিদ্দিক, সাজেদুর রহমান নওশাদ এবং মো. হেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুদ্দোহা দুলু। নির্বাচন পরিচালনায় একজন প্রিজাইডিং অফিসার, একজন পোলিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পার্বতীপুর মডেল থানা ও পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩০ মে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর শৈলডুবি এলাকার সুপ্রিম গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার খায়রুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা কোনো হতাহতের তথ্য জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

বিস্তারিত

যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ওই সময়ে মণ্ডলগাতী এলাকা থেকে তিনটি মোটরসাইকেলযোগে কয়েকজন তরুণ বেনাপোলের দিকে যাচ্ছিলেন। নতুনহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শনাক্তকৃতরা হলেন যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী গ্রামের শামিম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন এবং শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জয়। অপর এক নিহতের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়াও একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আব্দুল কাদেরের ছেলে ওমর ফারুক ও রুহুল আমিনের ছেলে রাকিব হাসান রিফাত। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশি তৎপরতা চালানো হয়েছে এবং আরিফুল ইসলাম জয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। পুলিশি একাধিক দল দুর্ঘটনার কারণ ও অন্যান্যদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই প্রাণহানি নিশ্চিত হয়। আহতদের শারীরিক অবস্থা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে।দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিচয় সম্পূর্ণ শনাক্তকরণ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য কাজ চলছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশি প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সময় এবং সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেল দুটির গতির বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বিস্তারিত

টাঙ্গন নদীতে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ঠাকুরগাঁওয়ে টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী মুগ্ধ বিশ্বাসের মরদেহ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও দিনাজপুরের ডুবুরি দলের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।নিহত মুগ্ধ বিশ্বাস ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের জমিদারপাড়া এলাকার মানিক বিশ্বাসের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন শিশু টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে দুজন নদী থেকে উঠে এলেও মুগ্ধ বিশ্বাস নিখোঁজ হয়। পরে তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে দিনাজপুর থেকে আসা ডুবুরি দলের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর নদী থেকে মুগ্ধ বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। পাশাপাশি এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।M

বিস্তারিত

ধুনটে দুর্গাপূজা উপলক্ষে গ্রাম পুলিশদের মাঝে অনুদান প্রদান

ধুনট-বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গ্রাম পুলিশদের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের গ্রাম পুলিশদের হাতে এ অনুদানের অর্থ তুলে দেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মাসুদ, ইউপি সদস্য আজাহার আলী, সাইদুর রহমান, আমিরুল ইসলাম, মাসুদ রানা, ইয়াকুব আলী ও আশরাফুল ইসলাম। এছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য আমিনা খাতুন, হাসিনা বেগম ও নাসরিন বেগম ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা রাকিবুল ইসলাম ও লিপি খাতুনসহ আরো অনেকে।পূজা উপলক্ষে আর্থিক অনুদান পেয়ে গ্রাম পুলিশরা আনন্দ প্রকাশ করেন, এবং পরিষদ বর্গকে ধন্যবাদ জানান। তারা আরো বলেন, মথুরাপুর ইউনিয়নে মথুরাপুর ও জোলাগাঁতি এলাকায় দুটি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপিত হচ্ছে। পূজা উদযাপন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। রাতে পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দুটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হবে। এ সময় পূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।

বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ এএম
সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ এএম
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ এএম
ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

২৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

ধুনটে চেকপোস্ট বসাতে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর গ্রেপ্তার ২

২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
ধুনটে চেকপোস্ট বসাতে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর গ্রেপ্তার ২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্য বাংলাদেশ টেস্ট দল ঘোষণা

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্য বাংলাদেশ টেস্ট দল ঘোষণা

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইসরাইল, সতর্কবার্তা নেতানিয়াহুর

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইসরাইল, সতর্কবার্তা নেতানিয়াহুর

আল-আকসার ইমামকে আটক ও ইকরিমা সাবরির নিষেধাজ্ঞা বাড়াল ইসরাইল

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
আল-আকসার ইমামকে আটক ও ইকরিমা সাবরির নিষেধাজ্ঞা বাড়াল ইসরাইল

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস দুর্ঘটনা: নিহত বেড়ে ৩

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ এএম
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস দুর্ঘটনা: নিহত বেড়ে ৩

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার পরিকল্পনা ইরানের

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ এএম
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার পরিকল্পনা ইরানের

অসম প্রণয় (গৌড়িকা)

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
অসম প্রণয় (গৌড়িকা)

যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

অপরাধের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
অপরাধের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী
PublicVoice representative application
হিরোগিরি

হিরোগিরি

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ এএম

সিনেমা হলের ভেতর চলছে তুমুল অ্যাকশন দৃশ্য। এক যুবক মনোযোগ দিয়ে সিনেমা দেখছে, কিন্তু তার পাশের সিটে বসা এক বৃদ্ধের কারণে সে বেশ অস্বস্তিতে আছে। বৃদ্ধের হাতে একটি ছোট পেপসির বোতল, আর তিনি ঠিক পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর বোতলে একটা জোরালো চুমুক দিচ্ছেন। শব্দটা যুবকের সিনেমার উপভোগে বারবার বাধা সৃষ্টি করছিল। অনেকক্ষণ সহ্য করার পর যুবকের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে বিরক্ত হয়ে বৃদ্ধের হাত থেকে বোতলটা ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে বলল, "চাচা, সিনেমার চেয়ে আপনার পেপসি খাওয়া নিয়ে আমি বেশি ডিস্টার্ব হচ্ছি। এটুকু পানীয় খেতে এত নাটক করতে হয়? এই দেখুন, কীভাবে একবারে শেষ করতে হয়!"এই বলে যুবক বোতলটি মুখে দিয়ে এক ঢোকে সবটুকু পানীয় গিলে ফেলল। তারপর বোতলটা বৃদ্ধের হাতে ফেরত দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসল।বৃদ্ধ বোতলটা হাতে নিয়ে অবাক চোখে যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন, "বাবা, আমার পেপসিটা তো তুমি খেলে না, কারণ ওটা তো পেপসিই ছিল না। আসলে আমার পানের অভ্যেস তো, তাই পানের পিকগুলো ওই বোতলে ফেলছিলাম!"