চবি আবৃত্তি মঞ্চের সভাপতি সামান্তা, সাধারণ সম্পাদক শান্ত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) আবৃত্তি মঞ্চের ২০২৬-২০২৭ সেশনের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোছাম্মৎ সাজেদা ইসফাত রহমান সামান্তা এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জুনাইদ হোসেন শান্ত।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া এলাকার ট্যালেন্ট স্কুলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।নবগঠিত কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে উম্মে সালমা হিমি, সহ-সভাপতি হিসেবে মো. সাব্বির মাহোসেন ও ঐতিহ্য দেওয়ান, সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিপ্রা তঞ্চঙ্গ্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইব্রাহিম প্রধান এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মিথিলা মল্লিক লিলি দায়িত্ব পেয়েছেন।এ ছাড়া অর্থ সম্পাদক আফরুনা হক উষা, অনুষ্ঠান সম্পাদক নাজনীন নাহার সাদী, সহ-অনুষ্ঠান সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল করিম আজাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মাহফুজুল হক তুষার, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রিদওয়ানুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দা নাফিসা তাবাসসুম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক সিরি পাত্র দায়িত্ব পেয়েছেন।কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইব্রাহিম খলিল, আফনান, মহাসাইন, পুষ্প, ছানাউর, আনোয়ার, প্রমিতা, নাইং শশী সিং মারমা, রিসপা, জায়েদ ও তাহমিদুর।সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাছুম আহমেদ। উপদেষ্টা পরিষদে আরও ২৪ জন সদস্য রয়েছেন।নতুন দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সভাপতি মোছাম্মৎ সাজেদা ইসফাত রহমান সামান্তা বলেন, এ দায়িত্ব প্রাপ্তি যেমন সম্মানের, তেমনই এক বিশাল দায়বদ্ধতা। সংগঠনের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ধারণ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুন উদ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চকে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ করে তোলাই আমার লক্ষ্য।”সাধারণ সম্পাদক জুনাইদ হোসেন শান্ত বলেন, আমার ওপর আস্থার মর্যাদা রক্ষায় আমি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। সবার সহযোগিতা নিয়ে আবৃত্তি চর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে।দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অঙ্গন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চিটাগং ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, চিটাগং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ডিবেট, লোকজ সাংস্কৃতিক সংগঠন, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ, বোধন আবৃত্তি পরিষদ ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সম্মিলিত আবৃত্তি জোট চট্টগ্রামের সভাপতি ফারুক তাহের ও সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চবি দুর্যোগ তহবিলের অর্থ বিতরণ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন তহবিল’। বন্যাকবলিত ১০টি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে এই নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।​জার্মানিভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘TOM TAILORS’-এর আর্থিক সহায়তায় এ অর্থ সংগ্রহের সমন্বয়ে ছিলেন চবির দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আসিফ হোসেন।​অর্থ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন তহবিলের সদস্য শাহাদাত হোসেন, সাব্বির হাসান সাকিন এবং বাঁশখালী স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ রায়হান চৌধুরী ও বাঁশখালী স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি হাফেজ মোঃ বোরহান উদ্দীন।​আয়োজকরা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমন্বিত এ প্রয়াস দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ইতিবাচক মানবিক দৃষ্টান্ত বলে জানান তাঁরা।

চবিতে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকের হুমকির পর হল প্রভোস্টের পদত্যাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান কর্তৃক নিজগ্রুপের কর্মীকে হলে সিট না দেওয়ার কথা-কাটাকাটির পর হল প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন চবির সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান।সোমবার (৩১ আগষ্ট) রাত ৮টায় তিনি এ পদত্যাগ করেন। তবে পদত্যাগ পত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।জানা গেছে, সোমবার দুপুরে সদ্য স্নাতকোত্তর শেষ করা চবি ছাত্রদল কর্মী রাশিদুল ইসলামের সিট বরাদ্দের জন্য সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টের সঙ্গে ফোনালাপ করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। সম্প্রতি রাশিদুল ইসলাম স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন বলে জানা গেছে। কর্মীর ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও চবি সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রভোস্টকে আসন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। এ নিয়ে এক পর্যায়ে তিনি হলের প্রভোস্টকে চাপাচাপির পর হুমকি দেন। তাদের কথোপকথনের অডিও ক্লিপ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।চবির সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান, আমি এসব বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না, আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত থাকুক। ছাত্র সংগঠনগুলো যেন সংঘর্ষে না জড়ায়। আমার পদত্যাগে কিছু আসে যায় না। শিবিরের বিক্ষোভ কর্মসূচি: ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান কর্তৃক হল প্রভোস্টকে হুমকি প্রদানের ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল নেমেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মোড়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে সোহরাওয়ার্দী হলসহ স্যার এ.এফ রহমান হল ঘুরে আবার জিরো পয়েন্ট এসে বক্তব্যের মাধ্যমে মিছিল শেষ করে।

শিবিরের নবীন বরণ পেল চবির ২৫০০ শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ২৫ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা ও নবীন বরণের আয়োজন করেছে ইসলামি ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এই নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংগঠনটি। এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রবেশলগ্নে বিভিন্ন গিফট, কুরআন, অনুপ্রেরণামূলক বই, ফুল, টি-শার্ট, স্নাক্স, ওয়ালেটসহ বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেয়।সংগঠনটির সূত্র জানিয়েছে, ২৮ লক্ষ টাকা খরচে তাদের এই নবীন বরণে ২৫০০ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছে। তবে এর বেশি শিক্ষার্থীকেও বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সংগঠনটি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও চবি শিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, চাকসু জিএস সাইদ বিন হাবিবসহ সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গঠনমূলক সংলাপে চবির তরুণদের নিয়ে তিন দিনের বুটক্যাম্প

মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে তিন দিনব্যাপী বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও ডয়েচে ভেলের যৌথ আয়োজকবৃন্দ। তারা জানায়, গত ২৬ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট মোট তিন দিনব্যাপী চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে এ বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও ডয়েচে ভেলে (DW Akademie)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি ‘Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0’ প্রকল্পের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রত্যাশা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা তথ্যভিত্তিক মতামত গঠন, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা পালন এবং গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচির শিরোনাম ছিল “Bootcamp for Youth Members of University Clubs on MIL, Digital Safety and Constructive Dialogue”. যা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি ক্লাবের মোট ৩০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। ক্লাবগুলো হলো— চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস), এক টাকায় শিক্ষা, আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাস, রেনডেনভাজ শিল্পীগোষ্ঠী (রঁদেভু) এবং চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ডিবেট। ডয়েচে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক মাসফিক মিজান এবং নাইমুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পাঁচজন ফেলো কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণদের সামনে তথ্য বিভ্রান্তি (misinformation), বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অনলাইন হয়রানি, গুজব এবং নারীদের বিরুদ্ধে ডক্সিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এই প্রশিক্ষণে।এতে ট্রেইনিং দিয়েছেন ডয়েচে-ভেলে একাডেমির ফ্যাসিলিটেটর মাইশা তাবাসসুম রিন্তা, নওরিন হক, অর্পণ ধর, নূর আহসান মৃদুল ও জাওয়াদ উর রাকিব খান।অংশগ্রহণকারীরা তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল মতামত প্রকাশ এবং গঠনমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি বলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশন এই বুটক্যাম্পের মাধ্যমে যে তিনটা বিশেষ বিষয়ের ওপর জোরদার করছেন, একটা হচ্ছে মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি—তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কৌশল। এরপর তারা বলছে- অনলাইন সহিংসতা থেকে সুরক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা।তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আজকের জন্য যেমন আলোকবর্তিকা, ভবিষ্যতের জন্যও তোমরা আলোকবর্তিকা। তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে—তোমরা যে সমাজ দেখতে চাও, সেই সমাজ তৈরিতে ভূমিকা রাখা।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মিডিয়া শুধু পত্রিকায় লেখালেখির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তির কারণে প্রত্যেক তরুণের হাতেই বিশ্বকে সংযুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তাই এই সুযোগকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে।অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সাংবাদিকতা বা কোনো তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কোনো সংবাদ বা বক্তব্যের কারণে ব্যক্তি, পরিবার কিংবা সমাজে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেটিও দায়িত্বশীলভাবে ভাবতে হবে।এছাড়াও আরো অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা এবং এক টাকায় শিক্ষা ক্লাবের ফাউন্ডার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিজুয়ান । আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, কমিউনিকেশন এন্ড ষ্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট অফিসার সাইফুর রহমান এবং রিসার্স এন্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিষ্ট সাজ্জাদুল করিম। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং জার্মান ফেডারাল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

 বিচিত্র

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের ন্যায় আঠারোবাড়ির বিপণিবিতানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের ন্যায় আঠারোবাড়ির বিপণিবিতানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের নামিদামি শপিংমলগুলোর ন্যায় জমতে শুরু করেছে কেনাকাটা মফস্বল এলাকাতেও। তেমনই একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা ময়মনসিংহ বিভাগ ও জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রায়ের বাজার আঠারোবাড়ি।এই বাজারের ঐতিহ্যবাহী রায়বাজার প্লাজা, রাইয়ান ফ্যাশন হাউজ যেমন অন্যতম, তেমনি রয়েছে আরও কিছু দোকানপাট। এসব শপিংমল ও দোকানেও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। এবারও অর্ধনগর এলাকার বাসিন্দারা ভিড় এড়িয়ে চলার জন্য একটু আগেভাগেই পছন্দের পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার বেশি ভিড় যেমন লক্ষণীয়, তেমনি আগত মানুষজনও চিন্তাহীনভাবে কেনাকাটা করছেন—বললেন সরাতী গ্রাম থেকে আসা এক ক্রেতা।সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নারী ও তরুণীদের মধ্যে পছন্দের শীর্ষে রয়েছে নানা রকম শাড়ি, কুর্তি, টপস, লেহেঙ্গা, গাউন ও ভারী কাজের ড্রেস। আরামদায়ক সুতি, কাতান ও মসলিন পোশাকের চাহিদাও রয়েছে বেশ। পুরুষদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, জিন্স, ট্রাউজার, পাঞ্জাবি ও কুর্তা।ক্রেতারা জানান, ভিড় এড়াতে এলাকার শপগুলোতেই কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন তারা। তবে পোশাকের দাম নিয়ে ক্রেতারা কিছুটা অসন্তুষ্ট। তারা জানান, এবারের পোশাকের দাম কিছুটা বেশি। এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় দাম খুব একটা বাড়েনি। শুধু আমদানি করা পোশাকের দর কিছুটা বেশি। তবে এবার বেচাকেনা ভালো। আগামী সপ্তাহ থেকে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তাদের প্রত্যাশা।দুই মেয়েকে নিয়ে রহিমা ঘুরছিলেন। তার হাতে কয়েকটি ফ্যাশন হাউসের ব্যাগ ছিল, যার মধ্যে রাইয়ান ফ্যাশন হাউসের ব্যাগও ছিল।এই গৃহিণী বলেন, “শেষ সময়ে পছন্দমতো পোশাক পাওয়া যায় না। সঙ্গে ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি তো আছেই। এ জন্য আগেভাগেই কেনাকাটা করছি। শহরের যানজটের কারণে সময় বাঁচাতেই মূলত এলাকার মধ্যেই শপিং সেরে ফেলছি। কাপড়, জুতা, মেকআপ আইটেম, জুয়েলারি—সবকিছুই এক এলাকায় পাওয়া যাওয়ায় অনেক স্বস্তি।”নাজিম কসমেটিক্স কর্নারে পণ্য কিনতে আসা এক তরুণী বলেন, “রোজা রেখে দূরে কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না। যানজটের কারণে দূরে শপিং করার কথা চিন্তায়ও আসে না। আর এলাকায় সব ধরনের দোকান থাকায় প্রয়োজনও পড়ে না।”শুধু এলাকার লোকজনই নয়, অন্য এলাকা থেকেও অনেকেই এখানে এসে কেনাকাটা করেন। বিষ্ণুপুর, সোহাগী, চৌরাস্তা, ইশ্বরগঞ্জসহ আরো বহু জায়গার অনেকে আসেন।কেন্দুয়া থেকে পরিবার নিয়ে আসা এক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে পরিবার নিয়ে অন্যত্র যেতে হতো। এখনো যাই সময়-সুযোগ বুঝে, কিন্তু রোজার মধ্যে এত সময় কোথায়। কাছে হওয়ায় এখানেই পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা সেরে নিই।”তবে সব দোকানেই যে ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে, তা নয়। ক্রেতাদের এমন ভিড়ের মধ্যেও কিছু দোকান প্রায় ক্রেতাশূন্য দেখা গেছে।এক কাপড়ের দোকানের কর্মচারী এই প্রতিবেদক মিয়া সুলেমানকে জানান, “এবার বেচাকেনা খুবই খারাপ। মানুষের হাতে টাকা নেই। টাকা আছে শুধু উচ্চবিত্তদের কাছে। আর তারা তো এখানে কেনাকাটা করেন না, তারা বড় বড় শপিংমলে যান। আর নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা খোঁজেন কম দামের জিনিস, যা পাওয়া যায় ফুটপাতে। এ কারণে বড় শপিংমল ও ফুটপাতেই ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। আমাদের মতো মাঝারি দোকানে বেচাকেনা একেবারেই নেই। গত বছর এই সময় লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়েছিল, কিন্তু এবার তার অর্ধেকও নেই।”অপরদিকে, রাইয়ান ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার এনামুল হক ভুইয়া রুবেল জানান, “বেচাকেনা বেশ ভালোই হচ্ছে। আশা করছি, এবার অন্যান্য বারের তুলনায় ব্যবসা মন্দ হবে না।”

লাকড়ির আগুনে ফুটে ওঠা জীবন

গ্রামে ভোর আসে নীরবে, কিন্তু সেই নীরবতা বেশি সময় টেকে না। আলো ফোটার আগেই উঠোনে প্রথম শব্দ শোনা যায়—লাকড়ি ভাঙার খটখট, খড়ের মুচমুচে আওয়াজ। বিষ্ণুপুরস্থ মিয়া বাড়ির মতো সকল গ্রামে ভোরের রান্না মানেই আগুন জ্বালানো দিয়ে দিনের সূচনা।মাটির চুলার চারপাশ ঝাঁট দেওয়া হয়। আগের রাতের ছাই সরিয়ে নতুন লাকড়ি সাজানো হয় যত্ন করে। এক ফুঁ, আরেক ফুঁ—আগুন ধরতেই ধোঁয়া উঠোন ছেয়ে ফেলে। ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাঠের গন্ধ, ভেজা মাটির গন্ধ। এই গন্ধেই গ্রাম জেগে ওঠে।কেউ হাঁড়িতে চাল ধুয়ে পানি বসান। ঢাকনা কাঁপতে থাকে টুপটাপ শব্দে। কোথাও ডালের হাঁড়ি চুলায় ওঠে, কোথাও শাক ভাজা হয় অল্প তেলে। কোনো ঘরে আগের রাতের ভাত পানিতে ভিজিয়ে পান্তা তৈরি হয়—পাশে কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ আর লবণ। এই ভোরের খাবার বিলাসী নয়, কিন্তু পরিশ্রমী জীবনের জন্য যথেষ্ট।ভোরের রান্নার দায়িত্ব মূলত নারীদের কাঁধে। আঁচল গুছিয়ে, চোখে ঘুম নিয়ে তারা আগুনের পাশে বসেন। আগুনের তাপে কপাল ভিজে যায় ঘামে। মাঝেমধ্যে হাত পুড়ে যায়, তবু কাজ থামে না। এই রান্নার হাতেই তৈরি হয় দিনের শক্তি।চুলার আশপাশে শিশুরা জড়ো হয়। কেউ আধঘুমে আগুনের শিখা দেখে, কেউ ছাই দিয়ে মাটিতে আঁকিবুঁকি কাটে। বৃদ্ধেরা দূরে বসে উনুনের তাপ পোহান। ভোরের এই রান্নাঘরই গ্রামের প্রথম মিলনকেন্দ্র—এখানেই গল্প শুরু হয়, খবর আদান-প্রদান হয়, দিনের কাজের পরিকল্পনা ঠিক হয়।এই আগুনেই কৃষকের মাঠে যাওয়ার সাহস তৈরি হয়, জেলের নদীতে নামার শক্তি আসে, আর কারিগরের হাতে আসে সহনশীলতা। ঠিক এই ভোরের রান্নার আগুনের ধারাবাহিকতায় টিকে আছে হাজার হাজার গ্রামের জীবন। ঘরের চুলা আর পেশার চুলা—দুটোই একই বাস্তবতার প্রতীক।গ্রামে ভোরের রান্না তাই শুধু খাবার প্রস্তুত নয়। এটি শৃঙ্খলার পাঠ, পরিশ্রমের প্রস্তুতি, আর টিকে থাকার অনুশীলন। লাকড়ির আগুনে ফুটে ওঠে গ্রামীণ জীবনের আসল চেহারা—নীরব, কঠিন, কিন্তু অবিরাম চলমান।

হিমালয় পেরিয়ে বরিশালের চরে: এক অভিজাত অতিথির গল্প

শীতের আগমনে আমাদের দেশের জলাভূমি, হাওড়-বাঁওড় ও চরাঞ্চলে যে পরিযায়ী পাখিদের আগমন ঘটে, তাদের মধ্যে বড় সাদাকপালি রাজহাঁস একটি অত্যন্ত অভিজাত ও আকর্ষণীয় অতিথি পাখি। এই পাখির ইংরেজি নাম Greater White-fronted Goose. আর বৈজ্ঞানিক নাম Anser albifrons. এই রাজহাঁসের চঞ্চু ও মাথার মাঝখানে সাদা থাকার কারণে এর নামকরণ হয়েছে বড় সাদাকপালি রাজহাঁস। আকৃতিতে অনেক বড় হওয়ায় দূর থেকে এদের চমৎকার দেখায়। এরা হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হিমশীতল মেরু অঞ্চলের প্রজনন এলাকা থেকে দক্ষিণ এশিয়ার তুলনামূলক উষ্ণ অঞ্চল আমাদের বাংলাদেশে এরা আসে একটু উষ্ণতার খোঁজে। আবার শীতের শেষে তারা চলে নিজ আবাসে। তবে আমাদের দেশে নিয়মিত এদের দেখা মেলে না। সম্প্রতি পটুয়াখালী,বরিশাল,বরগুনা জেলার চরগুলোতে ও নদীর বুকের ভাসমান চরে বড় সাদাকপালি রাজহাঁসের দেখা পান  শৌখিন।এ রাজহাঁসের শরীর ধূসর বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি হয়। পেটের অংশে হালকা গাঢ় ধূসর রঙের ছোপ ছোপ কালোর মিশেল রয়েছে। লেজের দিকটা সাদা। কপালে সাদা দাগ রয়েছে। দৈর্ঘ্যে ৬৪-৮১ সেমি। পা হলদেটে। পালক প্রধানত গাঢ় ধূসর। পাখার ওপরের সাদা সরু রেখা চোখে পড়ে। ঠোঁট গোলাপি। স্ত্রী পুরুষ দেখতে প্রায় একই রকম। এরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। খোলা জলাভূমি, ধানখেত ও চরাঞ্চলে খাদ্যের সন্ধান করে। ঘাস, জলজ উদ্ভিদ ও কচি গাছের অংশ এদের প্রধান খাবার। এপ্রিল জুন এদের প্রজননকাল। এ সময় ঘাস জাতীয় জমিতে বাসা বাঁধে। ৩-৮টি ডিম দেয়। ২২-২৭ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। বাচ্ছারা এক বছর মা-বাবার সঙ্গেই থাকে। আবার বড় হয়ে অনেক রাজহাঁস সারা জীবন মা-বাবার সঙ্গেই থেকে যায়। একসঙ্গেই পরিযায়ী হয়। শীতকালে আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে কিছু উপযুক্ত পরিবেশ ও নিরাপদ জলাভূমি এলাকায় এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জলাভূমি ধ্বংস, অবৈধ শিকার এদের জন্য বড় হুমকি। প্রকৃতির এই দূরদেশি অতিথিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা আমাদের সবার  দায়িত্ব। জলাভূমি সংরক্ষণ ও পরিযায়ী পাখি রক্ষার মাধ্যমে আমরা শুধু জীববৈচিত্র্যই নয়, বরং আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্যও করতে পারি।

সময় পেরোলেই বদলে যায় তৃপ্তির স্বাদ

জীবনের শখ-আহ্লাদ নিয়ে সামাজিক বাস্তবতার এক মানবিক বিশ্লেষণজীবনে শখ বা আহ্লাদ পূরণের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে—এমনটাই মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষক ও মনস্তাত্ত্বিকরা। সময়মতো ইচ্ছা পূরণ না হলে তা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত তৃপ্তি পাওয়া যায় না। বয়স, দায়িত্ব এবং বাস্তবতার ভার মানুষের অনুভূতিকে ধীরে ধীরে বদলে দেয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোর ও তারুণ্যে পাওয়া আনন্দের সঙ্গে মধ্যবয়সের আনন্দের ধরনে মৌলিক পার্থক্য থাকে। ১৭ বছর বয়সে যে খাবার অমৃতসম মনে হয়, ৩০-এর কোঠায় এসে সেটিই নাও লাগতে পারে তেমন আকর্ষণীয়। ১৮ বছর বয়সে রিকশায় ঘোরা যে রোমান্স এনে দেয়, ৩৫ পেরিয়ে একই অভিজ্ঞতা সেই আবেশ ধরে রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়ানোর যে উচ্ছ্বাস, চল্লিশের পরে তা আর আগের মতো থাকে না—দায়িত্ব, ক্লান্তি ও সময়ের অভাবে।অনেকেই ভবিষ্যতের অপেক্ষায় বর্তমানের আনন্দকে পিছিয়ে দেন। কিন্তু সময় গড়ালে সেই ‘একদিন’-এর সুযোগ আর আসে না।অপেক্ষার ফাঁদে হারিয়ে যায় শখ- একদিন নিজের ছাদে বাগান করার স্বপ্নে আজকের বারান্দার টব ফাঁকা থাকে। একদিন বড় চাকরি করে বাবা-মাকে দামী উপহার দেওয়ার আশায় আজকের ছোট আনন্দগুলো উপেক্ষিত হয়। অথচ সময়ের নির্মম সত্য—সেই ‘একদিন’ আসার আগেই অনেক কিছু হারিয়ে যেতে পারে।মনোবিজ্ঞান বলছে কীমনোবিজ্ঞানীদের ভাষায়, ছোট ছোট শখ পূরণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এগুলো মানুষের হৃদয়কে সতেজ ও জীবন্ত রাখে। ইচ্ছা অপূর্ণ থাকার নীরব কষ্ট ধীরে ধীরে মানুষের ভেতর বিষণ্নতা তৈরি করে।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— অনেক টাকা জমলে নয়, আজ সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের খাবার খেয়ে নিন। পছন্দের মানুষকে আজই রিকশা ডেটের প্রস্তাব দিন। পকেটে কিছু টাকা থাকলেই বন্ধুদের ডাকুন—চল আজই সাজেক। ভবিষ্যতের স্বপ্নে না থেকে আজই বারান্দার টবে লাগান গোলাপের চারা। টিউশানির টাকায় হলেও বাবা-মায়ের জন্য ছোট উপহার কিনুন—শখ পূরণটাই আসল।“যে মানুষটি ‘একদিন সব হবে’ ভেবে আজ নিজেকে বঞ্চিত করে, তার জীবন কেটে যায় অপেক্ষা আর আফসোসে।” জীবনের ছোট ছোট আনন্দই জীবনের বড় শক্তি। সময় থাকতে থাকতেই সেগুলো উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

রাজনীতি

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে মিলিত হয়।সমাবেশে বক্তব্য দেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, সদস্যসচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আসাদুজ্জামান খন্দকার মাসুদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন পপেল ও নাহমুদুল হক রাছেল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান ও সদস্যসচিব আলম জামান মিন্টু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মতিয়ার রহমান এবং উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খাগড়াছড়ি, রামগড় ইউনিয়ন নির্বাচন ঘিরে উপজেলা বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থি নিয়ে আলোচনা চলছে

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় রাজনৈতিক মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। তরুণ-প্রবীণ একঝাঁক নেতার সমর্থকগোষ্ঠী ইতোমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা শুরু করেছেন।ফেসবুকের বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য *মোহাম্মদ নুর হোসেন নুরু*, উপজেলা বিএনপির সদস্য *আলাউদ্দিন*, উপজেলা বিএনপির সদস্য *নুরুল হুদা* এবং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য *নুরুল আমিন মেম্বার* সহ আরও অনেকে।অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত মোর্শেদ মিঠুকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়ে তার নামেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়েছে।* তার সমর্থকরা ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট, ব্যানার ও লিফলেটের মাধ্যমে মিঠুর রাজনৈতিক ত্যাগ ও জনসেবার কথা তুলে ধরছেন।শুধু অনলাইনই নয়, উপজেলার চা-দোকান থেকে বাজার পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মাঝে চলছে সরগরম আলোচনা। কে হবেন আগামী ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি এবং কে নেবেন উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই মনে করছেন এবারের নির্বাচনে স্থানীয়, শিক্ষিত ও সৎ যোগ্য প্রার্থী প্রয়োজন। আবার কেউ কেউ অতীতের ত্যাগী, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের কান্ডারী হিসেবে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদেরকে দেখতে চান।একাধিক কর্মী বলেন, "আমরা চাই সঠিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক শিষ্টাচারসম্পন্ন ও মার্জিত যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ। যিনি জনগণের পাশে থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, তাকেই আমরা বিজয়ী করতে চাই।"রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অনলাইন প্রচারণা ও তরুণদের সম্পৃক্ততার কারণে এবারের ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচন রামগড়ে বাড়তি গুরুত্ব পাবে।সূত্র: স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার

সুন্দরগঞ্জে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা, মাছ অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।‎মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।প্রথমে পৌরসভার পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।এবং  পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রহমান, শান্তিরাম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মাসুদ খন্দকার, ছাপড়হাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর মন্ডল, উপজেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব ফিরোজ কবিরসহ প্রমুখ।‎আলোচনা সভা শেষে সুন্দরগঞ্জ ডি.ডব্লিউ কলেজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করে। র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়, এবং পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন।M

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি কমিশনের দাবি

দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, পূর্বপুরুষের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।রবিবার ৯ই আগষ্ট মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ​“আদিবাসী জীবন ও ঐগিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানানো হয়।বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।এদিকে ​সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানের ফিতা কেটে র‍্যালির উদ্বোধন করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা অডিটোরিয়ামে ফিরে আসে। পরে বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনক দেববর্মার সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। ​সভায় বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। ভূমি দখল, উচ্ছেদের চেষ্টা ও হয়রানি বন্ধ করে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।​তারা সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের পাশাপাশি পূর্বপুরুষের ভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার সংরক্ষণের দাবি জানান। মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা চালু, শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলেন তারা।​এ ছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার আদিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং ভাষা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। চা-বাগানে বসবাসরত স্বীকৃতির বাইরে থাকা জাতিগোষ্ঠীগুলোর যথাযথ স্বীকৃতি ও চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও উঠে আসে। এ সময় ​বক্তারা জাতিসংঘের ২০০৭ সালের আদিবাসীবিষয়ক ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এবং আইএলও কনভেনশন-১৬৯ অনুসমর্থন ও কনভেনশন-১০৭ বাস্তবায়নের দাবি জানান।​সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য নেরলা তেনসং, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সাবেক সভাপতি যুবরাজ দেববর্মা, নিরালা পুঞ্জির মান্ত্রী এলভিস পতাম, কথা সাহিত্যিক ও লেখক আকমল হোসেন নিপু, আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনক দেববর্মা, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মান্ত্রী ফিলা পতমী, বাংলাদেশ আদিবাসী লেখক পরিষদের সভাপতি সনাতন হামোম, শ্রী চুক গারো যুব সংগঠনের সভাপতি পার্থ হাজং, আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটির সাধারন সম্পাদক জনক দেববর্মা ও পাত্রখোলা চা-বাগানের সভাপতি স্বপন কুর্মী প্রমুখ।​আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝে এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অব্যবস্থাপনায় শতবর্ষের এম.সি. স্কুল: ঐতিহ্য ফেরাতে নতুন কমিটির কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রত্যাশা

অব্যবস্থাপনায় শতবর্ষের এম.সি. স্কুল: ঐতিহ্য ফেরাতে নতুন কমিটির কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রত্যাশা

শতবর্ষের ঐতিহ্য, অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থীর স্মৃতি আর একটি জনপদের শিক্ষার দীর্ঘ ইতিহাস—সবই ধারণ করে আছে আঠারবাড়ী মহিম চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় (এম.সি. স্কুল)।তবে সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের যোগাযোগের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নবনির্বাচিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে ডা. প্রদীপ চন্দ্র দাস (পি. সি. দাস) দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা সমাধানে নতুন করে আশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের অনুপস্থিতির কারণ দ্রুত অনুসরণ করা হয় না। এতে দীর্ঘ অনুপস্থিতি একসময় বিদ্যালয় থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই শ্রেণিভিত্তিক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কয়েক দিন অনুপস্থিত থাকলেই অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা চান তাঁরা।শুধু উপস্থিতি নয়, শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। একই শ্রেণিতে কেউ দ্রুত এগিয়ে গেলেও কেউ মৌলিক বিষয়েও পিছিয়ে পড়ছে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত পাঠদান, পুনরুদ্ধারমূলক শিক্ষা ও নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে।স্থানীয়দের মতে, দরিদ্রতা, পারিবারিক সংকট, শ্রমে যুক্ত হওয়া, পড়াশোনায় অনাগ্রহ কিংবা বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক কারণে কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এসব শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়ার পর খোঁজ না করে আগেই শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।এ জন্য বিদ্যালয়ে একটি ‘শিক্ষার্থী ঝরে পড়া প্রতিরোধ ও অনুসরণ ব্যবস্থা’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীর জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্ধারণ করে তার উপস্থিতি, পড়াশোনা ও পারিবারিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখা যেতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে তার পরিস্থিতি জানার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।আঠারবাড়ী ও আশপাশের এলাকার অনেক পরিবার কৃষি ও নিম্নআয়ের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক সংকটে কোনো কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি আয়মূলক কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের তালিকা করে স্থানীয় বিত্তবান, সাবেক শিক্ষার্থী, সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগীদের সম্পৃক্ত করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।অভিভাবক-বিদ্যালয়ের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। নিয়মিত অভিভাবক সভার পাশাপাশি অনুপস্থিত ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এদিকে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও অনলাইন বিনোদনে অতিরিক্ত আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আলোচনা ও পরামর্শ কার্যক্রম চালুর দাবি রয়েছে।কিশোরীদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও বিদ্যালয়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছাড়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়লে দ্রুত তা শনাক্ত করে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা।স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রত্যাশার মূল জায়গাটি অবশ্য বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি। তাঁদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। কতজন শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে, কতজন পিছিয়ে আছে, কারা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের যোগাযোগ কতটা কার্যকর—এসব সূচকেও প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।তাই নতুন কমিটির কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। মাসিক ভিত্তিতে উপস্থিতি, ঝরে পড়া, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সম্পৃক্ততার অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থাও চান তাঁরা।এলাকাবাসীর ভাষ্য, আঠারবাড়ী মহিম চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এলাকার দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই নতুন নেতৃত্বের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা—প্রশাসনিক ও শিক্ষাব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও কার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘কেউ ঝরে পড়বে না, কোনো পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থী অবহেলিত থাকবে না’—এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই শতবর্ষের এম.সি. স্কুল তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।লেখক- সাবেক শিক্ষার্থী 

জাতীয় ফুটবলের ফাইনালে ঈশ্বরগঞ্জের রাতুলের দুর্দান্ত লড়াই, গৌরব ময়মনসিংহের

জাতীয় ফুটবলের ফাইনালে ঈশ্বরগঞ্জের রাতুলের দুর্দান্ত লড়াই, গৌরব ময়মনসিংহের

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের নিভিয়াঘাটা গ্রামের কৃতি সন্তান ও আঠারবাড়ী এম.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাতুল মড়ল জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে নিজ এলাকা ও জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর খেলায় অনুপ্রাণিত হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এই স্মরণীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ময়মনসিংহ বিভাগের রানারআপ দলটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ট্রফি ও পুরস্কার গ্রহণ করে।জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ময়মনসিংহ বিভাগের হয়ে মাঠে নামেন রাতুল। ম্যাচ চলাকালে গুরুতর চোট পেলেও তিনি খেলা চালিয়ে যান। দুর্দান্ত সাহস, ফিটনেস এবং মিডফিল্ডে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি সবার নজর কাড়েন। ফুটবল একটি দলগত খেলা হওয়ায় দলের সব খেলোয়াড়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিবেদনের ফলেই ময়মনসিংহ বিভাগ জাতীয় পর্যায়ে রানারআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।রাতুলের এই অর্জনে আঠারবাড়ীসহ পুরো ঈশ্বরগঞ্জে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর শিক্ষক, সহপাঠী, অভিভাবক ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা গর্ব প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, গ্রামের একজন তরুণের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক ছেলে-মেয়েকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করবে।স্থানীয়রা জানান, রাতুলের পেছনে আঠারবাড়ী ফুটবল একাডেমি এবং কোচ মনজিল মড়লের নিরলস পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনার বড় ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই আঠারবাড়ীর প্রতিভাবান ফুটবলাররা আজ জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন।সংশ্লিষ্টরা রাতুল মড়লকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন।সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলা এবং নতুন প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

অনলাইন জরিপ
৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন
বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ অপরাধ দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি- সবকিছু সামলাতে হচ্ছে একই বাহিনীকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর ও আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির চাপ। জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা নিয়েও চাপে আছে মাঠপুলিশ। এর বাইরে রয়েছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে মাঠপুলিশের ওপর দায়বদ্ধতার চাপ আরও বেড়েছে। কোনো এলাকায় মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি এবং তদারকি কর্মকর্তাকে দায় নিতে হবে- এমন বার্তাও পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এখনও তোলপাড় চলছে পুলিশে। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ সভায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয় ডিসি ওসিদের। কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকামিছিল বের হলে ওই এলাকার ডিসি-ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাবধান করা হয়। পরবর্তীকালে গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ব্যর্থতা দায় হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছে ঢাকার ৫০ থানার ওসি ও জোনাল ডিসি-এডিসি, এসিরা। ডিএমপির একাধিক থানার ওসি এই চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।শুধু ঢাকা মহানগরই নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে সারাদেশেই মাঠ পুলিশ চাপের মুখে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে সব রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা আমাদের সময়কে বলেন, যেকোনো ধরনের চাপ নিয়ে কাজ করতে পুলিশ অভ্যস্ত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব চাপ সামলে পুলিশ কতটা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে, সেদিকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের প্রতিটি ধাপে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। বড় কোনো ঘটনা ঘটার পরই প্রায়ই গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এনেছে।আশরাফুল হুদা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশের ভেতরে দীর্ঘ ১৭ বছরে তৈরি হওয়া ‘জঞ্জাল’ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরীহ কর্মকর্তা বা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ বাহিনীর সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পড়তে পারে।জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির যে সংযোগ রয়েছে, তা মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাদের মনোবলও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে- এমনটা বলার সুযোগ নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পুলিশকেই পালন করতে হবে। তবে অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ সরাসরি পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিলে তাদের মনোবল আরও দুর্বল এবং বাহিনীর মধ্যে নতুন করে মেরুকরণ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে মাঠ পুলিশ। নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেনি। কমানো যায়নি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলির ঘটনা বেড়েছে। খুনোখুনি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি ও একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্রের। অর্থাৎ লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্র উদ্ধারে চাপে রয়েছে মাঠপুলিশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এসব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে খোদ পুলিশে। কারণ লুণ্ঠিত অস্ত্র স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে বিশেষ অভিযানও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তিন ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মাঠপুলিশের জন্য আলাদা চাপ তৈরি করছে। কারণ শুধু আসামি গ্রেপ্তার করাই নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিরাপদে থানায় নেওয়া, অভিযান পরিচালনা এবং অভিযানের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পুলিশকেই পালন করতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৩১৭টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এর আগের ৬ মাসে এ ধরনের ২৭৫টি ঘটনা ঘটে।পুলিশের ওপর চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। বদলি, পদোন্নতি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে পুুলিশের একটি বড় অংশের মধ্যেই হতাশা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত দুই বছরে ইতোমধ্যে ১৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আরও পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেক কর্মকর্তা এখনও অবসর আতঙ্কে রয়েছেন। এতে মানসিক চাপে তারা স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও চাপে রয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এই মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও তাগিদ রয়েছে তাদের ওপর। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেও মাঠ পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণে ঈশ্বরগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণে ঈশ্বরগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা

শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে—ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের পাশে উন্নয়ন সহায়তাসমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও সহজ করতে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় সাইকেল ও শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।কর্মসূচির আওতায় একজনকে সাইকেল এবং চারজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়। এই সহায়তা শুধু একটি সাইকেল কিংবা আর্থিক অনুদান নয়—এটি শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়, স্বপ্ন পূরণের সাহস এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।দূরত্ব, আর্থিক সংকট কিংবা নানা সীমাবদ্ধতা যেন শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি সাইকেল যেমন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতকে সহজ করবে, তেমনি শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি তাদের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।সহায়তার হাত যখন শিক্ষার পথে, তখন সম্ভাবনার পথও হয় আরও প্রশস্ত।আজকের এই ছোট্ট সহায়তাই হয়তো আগামী দিনের একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের বড় শক্তি হয়ে উঠবে।লক্ষ্য একটাই—শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া, বৈষম্য পেছনে ফেলা এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

রেলসেবা বন্ধ, বাড়ছে ভাড়া-সময়—ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগীতে জনদুর্ভোগ

রেলসেবা বন্ধ, বাড়ছে ভাড়া-সময়—ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগীতে জনদুর্ভোগ

স্টেশন আছে, অবকাঠামো আছে—নেই শুধু যাত্রীসেবা।একসময় টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকত দীর্ঘ সারি। প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতেন নানা বয়সী মানুষ। কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম ছিল রেলপথ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে।ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশন দুটি করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যায়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন রুটে রেল যোগাযোগ চালু হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ দুটি স্টেশনে আগের মতো যাত্রীসেবা আর ফিরে আসেনি। ফলে স্টেশন দুটি এখন অনেকটা নামেই রয়েছে, বাস্তবে কার্যক্রম প্রায় অচল।স্টেশন আছে, প্ল্যাটফর্ম আছে, স্টেশন ভবন ও রেললাইনের অবকাঠামোও রয়েছে। নেই শুধু ট্রেন থামার সেই পরিচিত শব্দ, যাত্রীদের কোলাহল, টিকিট বিক্রির ব্যস্ততা আর রেলকেন্দ্রিক প্রাণচাঞ্চল্য।এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। রেলসেবা না থাকায় যাত্রীদের বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে সড়কপথে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য এ বাড়তি ব্যয় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াতেও বাড়ছে সময় ও খরচ।শুধু যাত্রী নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও। এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল তুলনামূলক কম খরচে রেলপথে পরিবহনের সুযোগ থাকলেও স্টেশন বন্ধ থাকায় সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং পণ্যের বাজারমূল্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।অন্যদিকে দীর্ঘদিন ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশনগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও প্ল্যাটফর্মে জমছে ময়লা-আবর্জনা, কোথাও আবার গরু-ছাগল বাঁধার দৃশ্য দেখা যায়। পরিত্যক্ত অবস্থার সুযোগ নিয়ে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও পরিত্যক্ত স্টেশন এলাকায় নানা ধরনের মানুষের আনাগোনা ও আড্ডা বসে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‘একসময় ঈশ্বরগঞ্জ রেলস্টেশনে সবসময় মানুষের ভিড় লেগে থাকত। স্টেশন ছিল জমজমাট। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, ততই স্টেশনটির অবস্থা খারাপ হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়া এখানে লাগেনি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখভালের অভাবে মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে।’ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশন শুধু দুটি স্থাপনা নয়; এগুলো এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। তাই এগুলো বন্ধ পড়ে থাকা মানে শুধু দুটি স্টেশনে ট্রেন না থামা নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি।স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশনে পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা পুনরায় চালু করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে নিয়মিত ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্টেশন দুটির অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।রেলপথ মানুষের জন্য—আর রেলস্টেশনও মানুষের সেবার জন্য। তাই দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশনকে আবারও মানুষের কোলাহলে মুখর করে তোলা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং এই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে দ্রুত স্টেশন দুটি চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে  ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

 ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল। প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো  বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর।  আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন। চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে  ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়। সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী  ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের 'নজরানা' বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। M

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, স্বাগত বক্তব্য, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। আলোচনায় সত্যবাদিতা ও আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, শিক্ষকের মর্যাদা, প্রতিবেশীর অধিকার, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী জীবনাচরণ উপস্থাপনা ও সিরাতভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা উচিত। শুধু মিলাদুন্নবী পালন নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অনুসরণের বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। সবশেষে এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত মৌলভী শিক্ষক উমর ফারুক দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক সভানুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে কথা না বলে কোরআন, হাদিস ও নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, "আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব, যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং তারা বুঝতে পারে কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা বা আলোচনা করা যাবে না।"মাহফিলে সব রাজনৈতিক মতের মানুষ উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নাম ধরে সমালোচনা করলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে ইতিহাস, নীতি ও নৈতিকতার আলোকে পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সৎলোকের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।এছাড়া দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব বজায় থাকা প্রয়োজন।সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।নবঘোষিত কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।

সব বিভাগের খবর

মহানগর পরিক্রমা
ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত

ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত

ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস সড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরীর পূর্ব গন্দ্রপা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে অটোরিকশার চালকও রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মুক্তাগাছাগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে বাসের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা সাতজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে অটোরিকশার চালকও রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইপাস সড়কে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের পরই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর সড়কটিতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি

হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি

ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে গোপন তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং’ কমিটি গঠিত হওয়ার প্রায় দুই মাসেও তদন্ত কার্যক্রমের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং, অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যদের বিতর্কিত অতীত এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গেচ তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। উক্ত শিক্ষকরা গোপনে একটি সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। এই তালিকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত ও বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন শিক্ষকের নামও সামনে আসে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, গত ৬ আগস্ট বিষয়টি অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকদের তালিকায় রয়েছেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি ও বরখাস্ত হওয়া পলাতক লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মণ্ডল, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী পলাতক সহকারী অধ্যাপক আয়েশা আকতার আঁখি। আরও আছেন প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন, জেড উদ্দিন (ছদ্মনাম), দেবু পিকে (ছদ্মনাম) এবং এসকে বি (ছদ্মনাম)।তবে, তথ্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে গঠিত এই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক দেখা দেয়। পাঁচ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনকে। অথচ কমিটি গঠনের সময়েই তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, নম্বর টেম্পারিং, মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এক শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে জীবনের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল তখন। পরে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সশরীরে উপস্থিত না হওয়ায় ফরেনসিক তদন্ত ছাড়াই জীবনকে সেই অভিযোগ থেকে বিতর্কিতভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।বিতর্ক সৃষ্টি হয় কমিটির অন্য এক সদস্যকে নিয়েও। রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদকে সদস্য হিসেবে রাখা হলেও তিনি নিজেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘নীল দল’-এর বেরোবি শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনাকে ফেরানোর অপতৎপরতায় লিপ্তদের চিহ্নিত করার কমিটিতে খোদ নীল দলের সাবেক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। তবে আগস্টে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান দাবি করেন, ওই শিক্ষক বর্তমানে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামে’ যোগ দিয়েছেন এবং বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন সদস্য সচিব বেরোবির লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার রেহেনা আক্তার মনি, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান।বিষয়টিকে বেরোবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ইমরান খান সৌরভ “প্রশাসনিক ব্যর্থতা” হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী আমলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখানে অধিকাংশ শিক্ষকই ওই ঘরানার। তাঁরা ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নতুন খোলস পরেছেন। তাদের অনেককেই এখন বর্তমান প্রশাসন এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মতো নানা জায়গায় বসিয়ে রেখেছে। এটি প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এ কারণেই তদন্তের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না বলে আমরা মনে করি।”বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শামসুর রহমান সুমন বলেন, “হাসিনাকে ফেরাতে নামে-বেনামে যারা কাজ করছে তারা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে নানা জায়গায়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তারা হাত গুটিয়ে বসে আছে।”তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে তিনি তদন্তকারীদের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তথ্য সংগ্রহের প্রজ্ঞাপন দিয়ে নেপথ্যের তথ্য বের করে আনারও পরামর্শ দেন। এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল সংগঠন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সুমন।বেরোবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, “হাসিনাকে ফেরাতে বেরোবির সাত শিক্ষকই নয়, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। আমরা জানি, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই আমরা। পাশাপাশি জুলাইবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।"ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবন জানান, তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তবে জড়িতদের কয়েকজন সাংকেতিক নাম ব্যবহার করায় সঠিক তথ্য উদঘাটনে কিছুটা বেগ পাচ্ছেন তাঁরা। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।তিনি বলেন, “আমরা তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে কমিটির একাধিক সভা হয়েছে। যেসব শিক্ষকের নাম প্রকাশ্যে এসেছে, তাদের বিষয়ে অনেকটাই জানা যাচ্ছে। তবে দুজন শিক্ষক সাংকেতিক নাম ব্যবহার করায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগছে। এ বিষয়ে যে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি আমরা। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে পর্যালোচনার পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে শীঘ্রই।”

জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা

জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা

যোগদানের একদিন পরই পূর্বধলা সরকারি কলেজের নতুন অধ্যক্ষের পদায়ন আদেশ বাতিলনেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে সদ্য পদায়ন পাওয়া অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীর বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত আদেশ দায়িত্ব গ্রহণের একদিন পরই বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশাসনিক কারণে তাঁর পদায়ন আদেশ বাতিল করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনের ক্রমিক নম্বর-০৪-এ উল্লেখিত অধ্যাপক (রসায়ন) মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত আদেশের সংযুক্তি অংশটি প্রশাসনিক কারণে বাতিল করা হলো। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান।এর আগে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। ওই আদেশের ভিত্তিতে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজে যোগদান করেন। এ সময় তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন এবং দায়িত্ব গ্রহণ করেন।তবে দায়িত্ব গ্রহণের একদিন পার না হতেই বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তাঁর পদায়ন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আকস্মিকভাবে পদায়ন বাতিলের ঘটনায় কলেজসংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে কলেজউল্লেখ্য, ২০১৮ সালে পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের পর থেকে দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। দীর্ঘদিন পর একজন পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীর পদায়নের মধ্য দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষনির্ভরতার অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের একদিন পরই তাঁর পদায়ন আদেশ বাতিল হওয়ায় কলেজটির প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।শিক্ষাবিদদের মতে, স্থায়ী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণশিক্ষাবিদদের মতে, একটি সরকারি কলেজে প্রশাসনিক নেতৃত্বের স্থায়িত্ব শিক্ষার পরিবেশ, একাডেমিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পর হঠাৎ পদায়ন বাতিল হলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।তাদের মতে, জাতীয়করণকৃত কলেজগুলো শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; সংশ্লিষ্ট এলাকার উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক অগ্রগতি পুরো এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে। ফলে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ, বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।পদায়ন বাতিলে ক্ষোভ ও প্রশ্নঅধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীর যোগদানের একদিন পরই পদায়ন বাতিলের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, একজন অধ্যক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার পর মাত্র একদিনের ব্যবধানে কেন তাঁর পদায়ন বাতিল করতে হলো এবং এর প্রশাসনিক কারণ কী—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে পদায়ন বাতিলের কারণ হিসেবে শুধু ‘প্রশাসনিক কারণ’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রজ্ঞাপনে দেওয়া হয়নি।শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিশিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একটি এলাকার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে সরকারি কলেজের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা না থাকলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়তে পারে।তাদের মতে, অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য যাকে পদায়ন করা হবে, তাঁর বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো অনিয়ম বা প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ভূমিকা প্রত্যাশাএ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি যারা কোনো অনিয়মে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ভূমিকাও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।পূর্বধলা সরকারি কলেজের মতো দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষনির্ভর একটি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, শিক্ষার মান এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

ববি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বিষয়ক বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ববি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বিষয়ক বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।ডয়েচে ভেলে একাডেমি (DWA)  এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপ।শুক্রবার (১৯ জুন) বরিশালের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে শুরু হওয়া এই বুটক্যাম্পটি আজ ২১ জুন ২০২৬ বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।বুটক্যাম্পে পাঁচটি ক্লাবের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ক্লাবগুলো হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেরিয়ার ক্লাব, অর্গানাইজেশন অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্স এন্ড হায়ার এডুকেশন সোসাইটি এবং বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর যৌথ অর্থায়নে এই বুটক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। অনলাইনে যুক্ত থেকে কর্মসূচিটি তত্ত্বাবধান করেন ডয়েচে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক নাইমুর রহমান এবং মাঠপর্যায়ে এটি পরিচালনা করেন পাঁচজন ফেলো।কর্মসূচিতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ। এসময় তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ কোনো সংবাদ পেলেই সত্য-মিথ্যা বা অপপ্রচার যাচাই না করেই তা ভাইরাল করে দেয়। যেকোনো ঘটনা বা দুর্যোগের সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং নৈতিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসময় তিনি বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণ করা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রত্যাশা রেখে আরো বলেন; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞ্যান লাভের মাধ্যমে তোমরা তার প্রতিনিধি হবে এটাই হলো সকলের প্রত্যাশা।এছাড়াও অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশারাফুল হক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান মো: ফরহাদ উদ্দীন।এছাড়াও আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, কমিউনিকেশন এন্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট অফিসার সাইফুর রহমান, রিসার্স এন্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিষ্ট সাজ্জাদুল করিম, অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার।উল্লেখ্য, "Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0" প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

হোয়াটসঅ্যাপে এআই বিপ্লব: ব্যবসার নতুন সঙ্গী মেটা বিজনেস এজেন্ট

হোয়াটসঅ্যাপে এআই বিপ্লব: ব্যবসার নতুন সঙ্গী মেটা বিজনেস এজেন্ট

ব্যবসায়িক জটিলতা কমাতে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এখন মুহূর্তেই সামলাতে পারবেন গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে বিক্রয় ব্যবস্থাপনার কাজ।ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিধি ও সেবা সহজ করতে এবার বিশ্বব্যাপী হোয়াটসঅ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ‘মেটা বিজনেস এজেন্ট’ চালু করেছে মেটা। এতদিন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই প্ল্যাটফর্মটি এখন ব্যবসায়িক অটোমেশনের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। মেটার এই নতুন প্রযুক্তি কেবল গ্রাহকদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই নয়, বরং পণ্যের সুপারিশ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং এবং সম্ভাব্য ক্রেতা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।মেটা জানিয়েছে, কোনো জটিল বিষয়ে যদি এআই এজেন্টের পক্ষে উত্তর দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কথোপকথন মানব কর্মীর কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকবে, যা গ্রাহকসেবাকে আরও নিখুঁত করবে। ভারত ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোতে প্রায় দুই বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সফলতার পরই তা বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করা হলো। শুধু হোয়াটসঅ্যাপেই নয়, খুব শিগগিরই ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজ (ডিএম) সেবাতেও এই এআই বট ব্যবহারের সুযোগ পাবে ব্যবসায়ীরা।ভবিষ্যতে এই এজেন্টের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। বাজার গবেষণা পরিচালনা, পণ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা, ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের মতো জটিল কাজগুলোও এই এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টম এআই এজেন্ট তৈরির প্ল্যাটফর্মও প্রস্তুত করছে মেটা, যা Shopify, Zendesk এবং Shopee-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা যাবে।মেটার এই নতুন পদক্ষেপকে ব্যবসায়িক কৌশলের এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। এতদিন ক্লিক-টু-হোয়াটসঅ্যাপ বিজ্ঞাপন থেকে আয় করলেও, এখন এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার সেবায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল অটোমেশন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য টোকেন-ভিত্তিক অর্থের বিনিময়ে এই সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। সব মিলিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপ এখন কেবল চ্যাটিং অ্যাপ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকটাই এগিয়ে গেল।মেটা বিজনেস এজেন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ এআই, ডিজিটাল বিজনেস, গ্রাহকসেবা অটোমেশন, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রযুক্তি, মেটা এআই সেবা, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস আপডেট।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

সরকারি অর্থে নির্মাণ, উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় ধস, এরপর টানা ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার একটি ব্রিজের গল্প যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রই তুলে ধরে। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানিতে ধসে পড়ার পর দীর্ঘ এক যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও চরম ভোগান্তির শিকার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের মাঝখানে একপাশ দেবে গিয়ে কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা ব্রিজটির অবশিষ্টাংশ। দুই পাশের সংযোগ সড়ক বহু আগেই বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে। ফলে সেতু থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ অচল। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৪ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতারহাট সড়কের সাঁকোর পাড় এলাকায় খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুর একপাশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।এর ফলে লেনোরপাড়া, কুরারপাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতিপাড়া, বটতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বর্ষায় নৌকায় খাল পার হতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আলামীর হোসেন বলেন, “ব্রিজ ভাঙার পর চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার গেছি। ১২ বছরেও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।ডাঃ রতন বলেন, “এটাই ছিল উপজেলা শহরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। এখন আমরা যেন নিজ এলাকাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি।”শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, “বর্ষায় নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। আবার শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।”নুর নাহার বেগম বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খবর নেয় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। আমরা শুধু একটি নতুন ব্রিজ চাই।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙা ব্রিজের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও টেকেনি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ৩০ ফুট ব্রিজের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, “নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাত্র এক বছরেই ধসে পড়া ২৭ লাখ টাকার ব্রিজের নির্মাণমান ও তদারকির দায় কার? কেন ১২ বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ? আর কতদিন আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবে ২০ হাজার মানুষ?—এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত।

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

ভ্রমন তরী মস্তল সম্প্রতি কুড়িগ্রম জেলার চিলমরীতে ব্রহ্মপুত্র নদে এ এলাকার বিস্তির্ন চরাঞ্চলের মানুষের বসতি, জীবন যাত্রার মান, নতুন অভিজ্ঞতা ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে অনেক দূর থেকে এসেছে। দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, এ প্রতিপাদ্য যেন স্বচোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। সাধারনত পাহাড় দেখতে এ অঞ্চলের মানুষকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। কিন্তু  কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত  ১৭টি নদ-নদীর প্রবাহ, সংযোগ স্থান, দুধ কুমোর,ফুল কুমোর,সঙ্কোশ, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম,তিস্তা, ধরলা হলহলিয়া ও বিশেষ করে সাহেবের আলগা- বেগম গঞ্জের নুনখাওয়ায় সোজা পূর্ব থেকে ভারতের পাহাড়ের তলদেশ থেকে কিভাবে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা স্ব-চোখেই অবলোকন করা যায়। আর একটু দূর হতে হলেও আপনি যদি এ স্থানটিতে দাড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে তাকান দেখবেন কি এক অপূর্ব দৃশ্য!  চোখের সমনেই আসামের বিশাল নয়নাভিরাম সু-উচ্চ পাহাড়!!  তাৎক্ষনিক ভাবে ভুলেই যাবেন যে আপনি কোথায় আছেন। এ সব ছাড়াও চরাঞ্চলের গরু,মহিষের সারি, বির্স্তিন চর জুড়ে বাদম কলাই,ভূট্টা কতকি ফসল ও চর বসতিদের ঘরবসতি। সে দেখার সুযোগ গুলো এলাকার কিছু অর্বাচিনদের না ধারনায় বিরুপ হয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। তারপরও তারা একটু দূরে চলে গেলেও উত্তরবঙ্গের বিশাল সবনতন ধর্মাবলম্বিদের স্নান উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর অষ্টমীর মেলা উপলক্ষে মাস্তুল হাউসবোট নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ।  এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাসতল কতৃপক্ষের অষ্টমীর স্নান ও মেলা উদযাপন ভ্রমনের সুযোগ এনেছেন। তারা জানান, একদিকে ২০০ বছরের পুরনো মেলার লোকজ আমেজ, আর অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মাস্তুলের রাজকীয় আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আপনার এই ভ্রমণ হবে আজীবনের স্মৃতি!মাস্তলের এই ট্রিপে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের আহব্বান, চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী  অষ্টমীর মেলার বর্ণিল আয়োজন দেখার সুযোগ, ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ: গাইবান্ধার কামারজানি বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চরাঞ্চল ঘুরে দেখা, অভিজাত আবাসন: মাস্তুলের প্রিমিয়াম কেবিনে নদের বুকেই রাত কাটানোর রোমাঞ্চ। খাবার: ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার টাটকা আইড়, বাঘাইড় কিংবা বোয়াল মাছের জিভে জল আনা মেনু। শান্তি ও নির্জনতা: শহুরে কোলাহল ছেড়ে চরের বালুকাবেলায় সূর্যাস্ত দেখার প্রশান্তি। চিলমারীর অষ্টমীর মেলা (যা চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নান উৎসব)। তাদের এই যাত্রা শুরু হবে,  কামারজানী বন্দর হতে  ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অষ্টমীর মেলা ভ্রমণ।

স্কুল শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টা, ছাত্রদল নেতা বললেন ‘রাগ কমাতে সিএনজি দিয়ে একটু ঘুরেছি’

স্কুল শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টা, ছাত্রদল নেতা বললেন ‘রাগ কমাতে সিএনজি দিয়ে একটু ঘুরেছি’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আকছিনা-কুল্লাবাড়ি মডার্ন স্কুলের এক শিক্ষিকাকে দিনদুপুরে জোরপূর্বক অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর (৩৫) বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী উভয়ই একই গ্রামের বাসিন্দা।জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতেই দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহকে আসামি করে কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিযোগকারী ওই নারী। তবে অভিযুক্ত ওই ছাত্রদল নেতার দাবি করেছেন, অপহরণ নয়, শিক্ষিকার ইচ্ছাতেই তাকে নিয়ে সিএনজিতে ঘুরে বেড়িয়েছে সে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওই শিক্ষিকার পথরোধ করেন ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন। ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় দেলোয়ার একটি কালো রঙের পিস্তল বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে নেন।এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি শিক্ষিকার মুখ চেপে ধরে এবং ধারালো ছুরি গলায় ধরে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়েন ওই শিক্ষিকা। এ সময় স্থানীয় লোকজন তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ মুঠোফোনে জানায়, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তার একমাসের মতো সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের জেরে শিক্ষিকা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করায় কথা কাটাকাটি হয়। তিনি বলেন, শিক্ষিকার রাগ কমাতে সিএনজি দিয়ে একটু ঘুরেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমার রাজনৈতিক সম্মান নষ্ট করতেই এসব মিথ্যাচার করা হয়েছে।অপরদিকে অপহরণ চেষ্টার শিকার ওই নারী শিক্ষিকা বলেন, আমার সম্পর্কের বিষয়ে সে যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। বাড়ি যাওয়ার পথে সে আমার পথরোধ করে দাঁড়ায় এবং কথা বলতে চায়। আমি রাজি না হওয়ায় সে আমাকে পিস্তল ঠেকিয়ে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে। তিনি আরও বলেন, আমি এবং আমার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। সে যে কোনো সময় আমার এবং পরিবারের ক্ষতি করতে পারে। আমি সরকার ও স্থানীয় সংসদের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক জানান, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং স্কুল কমিটির পক্ষ থেকেও গ্রামবাসীর সঙ্গে বসে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।মূল সংবাদ- ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্ক   

মাদক-জুয়া ঠেকাতে কেন্দুয়ায় সর্বদলীয় ঐক্য, সমাবেশে এমপি হিলালীর কড়া বার্তা

মাদক-জুয়া ঠেকাতে কেন্দুয়ায় সর্বদলীয় ঐক্য, সমাবেশে এমপি হিলালীর কড়া বার্তা

অপরাধসহ মাদক-জুয়া ঠেকাতে কেন্দুয়ায় সর্বদলীয় ঐক্য, সমাবেশে এমপি হিলালীর কড়া বার্তামাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ১২ নম্বর রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। অপরাধী যে দলেরই হোক কিংবা যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।তিনি বলেন, এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সমাজের নৈতিক ভিতকে দুর্বল করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ সমাজব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নুরুজ্জামান নুরু, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এবং নেত্রকোনা-৩ আসনের জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী অধ্যাপক খায়রুল কবির নিয়োগী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ ও রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন ভূঞা সুরুজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি এনামুল হক ফারুকী, সহ-সভাপতি ও রোয়াইলবাড়ি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সিদ্দিকুর রহমান, পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামাল বাবলু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বিপ্লব, মো. সাইকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আয়োজকরা জানান, রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নে মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে একটি কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্পৃক্ততা জোরদার এবং অপরাধ প্রতিরোধে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

“জবাবদিহি হোক, অপমান নয়”— এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু

“জবাবদিহি হোক, অপমান নয়”— এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু

সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও মানবিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এমপি।সম্প্রতি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক ইংরেজি পোস্টে তিনি লিখেছেন এবং উক্ত পোস্টটির বঙ্গানুবাদ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- কোনো সরকারি কর্মকর্তা ভুল করলে প্রশ্ন করা, ব্যাখ্যা চাওয়া এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কোনো কর্মকর্তাকে অপমান করাকে তিনি জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপযুক্ত পদ্ধতি হিসেবে দেখেননি।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কোনো মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী নন; তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। একইভাবে একজন মন্ত্রীও প্রজাতন্ত্রেরই একজন সেবক এবং জনগণের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার দায়িত্বপ্রাপ্ত।লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এমপির ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তা ভুল করলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত, দায়িত্বে অবহেলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে কোনো কর্মকর্তা সৎভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত ভুল করলে তাকে অপমান না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, একজন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে অপমান করার প্রভাব শুধু ওই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর ফলে প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। এতে তারা দায়িত্ব নেওয়া, প্রশ্ন করা বা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবর্তে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন।পোস্টে তিনি নেতৃত্বের প্রকৃত শক্তি নিয়ে বলেন, কোনো অধস্তন কর্মকর্তাকে জোরালোভাবে ধমক দেওয়ার মধ্যে একজন মন্ত্রীর মহত্ত্ব প্রকাশ পায় না। বরং ন্যায়সংগত, সংযত ও দায়িত্বশীলভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্যেই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় নিহিত।তিনি আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রীর পদ সাময়িক হলেও রাষ্ট্রের প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান স্থায়ী। প্রজাতন্ত্র কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা—উভয়েই জনগণের অর্পিত দায়িত্বের আমানতদার।পোস্টের শেষাংশে তিনি কর্তৃত্বকে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে, জবাবদিহিকে অপমানের সঙ্গে এবং নেতৃত্বকে ভয় দেখানোর সঙ্গে এক করে না দেখার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের মূলকথা—ক্ষমতা প্রয়োগ হোক, তবে তার সঙ্গে থাকুক মানবিকতা, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও জবাবদিহির সঠিক ভারসাম্য।

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

‘ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে'; সম্পাদক মোস্তফা মামুনদৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় গত ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড.সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারীএকান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারী কলেজ ও দিনাজপুর সরকারী কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি।বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অফ কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষাখাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।বর্অমানে অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন যা দেখে কিছু মানুষ তার এই কাজে ইর্ষা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে হেও পতিপন্ন করার জন্য নানা রকম প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।নির্বাচনে সভাপতি পদে মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহসভাপতি পদে আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিলন), কোষাধ্যক্ষ পদে এটিএম জোবায়েদ উর রহমান (জবা) এবং দপ্তর সম্পাদক পদে আব্দুল জলিল সরকার নির্বাচিত হয়েছেন। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ওয়াহেদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে মহসীন আলী, নুর আলম সিদ্দিক, সাজেদুর রহমান নওশাদ এবং মো. হেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুদ্দোহা দুলু। নির্বাচন পরিচালনায় একজন প্রিজাইডিং অফিসার, একজন পোলিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পার্বতীপুর মডেল থানা ও পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩০ মে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

লাগামহীন চুরি, দুই মাসে অন্তত ২০ ঘটনা, আতঙ্কে ধুনটবাসী

দোকান, বসতবাড়ি, মসজিদ, খামার— কিছুই বাদ নেই চোরচক্রের নজর থেকে; পুলিশের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।বগুড়ার ধুনট উপজেলায় একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত দুই মাসে উপজেলায় অন্তত ২০টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি ঘটনায় থানায় অভিযোগ ও মামলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চোরেরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। দোকান, বসতবাড়ি, মসজিদ, গরুর খামার থেকে শুরু করে যানবাহন— কোনো কিছুই যেন নিরাপদ নয় সংঘবদ্ধ এই চোরচক্রের হাত থেকে।দিবালোকে মার্কেটে চুরি, গ্রেপ্তার ৮।সর্বশেষ গত বুধবার সকাল ৮টায় প্রকাশ্য দিবালোকে ধুনট বাজারের ইছামতি মার্কেটে ঘটে বড় ধরনের চুরির ঘটনা। মার্কেটের নাইট গার্ড সকাল ৮টার দিকে গেট খুলে নাশতা করতে যাওয়ার সুযোগে মাসুদ টেলিকম থেকে প্রায় ৯৪টি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ আন্তজেলা চোরচক্রের ৮ জনকে গ্রেপ্তার করলেও উপজেলার বাকি চুরির ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি নেই।আজ শনিবারও (১ নভেম্বর) ধুনটের হাসপাতাল রোডে মিলন স্টোরে চুরি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী একটি সেলুনের টিন কেটে উপর দিয়ে উঠে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যায় চোর।এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু, অটোভ্যানের ব্যাটারি, টিউবওয়েল, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়মিতই চুরি হচ্ছে। ছাড় পাচ্ছে না মসজিদ-মাদ্রাসার সম্পদও।একের পর এক গরু চুরি, নিরাপত্তাহীনতায় খামারিরা।গত ৩০ আগস্ট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াহাটা গ্রামে দরজায় তালা দিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন করে চারটি গরু চুরি করে একটি দল। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলামিন বলেন, তাঁর তিনটি গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। এ ঘটনায় তাঁর প্রতিবেশী মালা বক্সের একমাত্র সম্বল একটি গরুও চুরি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। একই গ্রামের বৃদ্ধ আলেয়ারের গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও এলাকাবাসী বুঝতে পারায় গরু রেখে পালিয়ে যায় চোরেরা।গত ২ আগস্ট গোপালপুর খাদুলী চারমাথা বাজার এলাকা থেকে গোলাম মোস্তফার প্রায় ২ লাখ টাকা দামের সাত মাসের গাভিন গরু চুরি হয়ে যায়।মথুরাপুর ইউনিয়নের খাদরে গ্রামের মো. রজিবুল ইসলাম মোহাব্বত দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনকে বলেন, শুধু আমাদের নয়, বাড়ির পাশের অনেক বাড়িতেই চুরি হয়েছে। আমার এক লাখ আশি হাজার টাকা মূল্যের গাভিটি চুরি করে নিয়ে গেছে। তবে বাছুরটি নিতে না পারায় রেখে যায় তারা।একই গ্রামের সিংহের পাড়া এলাকার মো. একরামুল হোসেনের তিনটি গরু চুরি হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর। তিনি বলেন, "রাত দুটার সময় গরু দেখে এসে ঘুমিয়ে পড়ি। স্ত্রী সকালে উঠে দেখেন গোয়ালে কোনো গরু নেই। আমার দুটি বকনা গরুর একটি সাত মাসের গাভিন ছিল, অন্যটির দাম প্রায় লাখ টাকা। থানায় জিডি করলেও পরবর্তীতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুলিশের প্রতি আমাদের তেমন কোনো আস্থা নেই।"চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের তোফিজ উদ্দিন সরকারের চারটি গরু একই রাতে চুরি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। তাঁর নাতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, থানায় অভিযোগ করার পরেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম বললেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি দেখিনি।এলাকার ক্ষুদ্র খামারি মো. আবুল কালাম বলেন, আমরা দুই-তিনটা করে গরু পালন করে সংসার চালাই। চোরের উপদ্রবে রাতে না ঘুমিয়ে গরু পাহারা দিতে হয়। গরু চুরি হয়ে গেলে আমাদের চলার মতো আর কিছু থাকবে না।চুরির হাত থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদও।গত ১০ আগস্ট চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের ফড়িংহাটা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের জানালার গ্লাস ভেঙে গ্রিল কেটে মাইক, মাইক্রোফোন, তারসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় মসজিদের সৌর ব্যাটারিও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু মানুষের উপস্থিতিতে পালিয়ে যায় তারা।দোকানে দোকানে হানা।গত ২০ আগস্ট নিমগাছি ইউনিয়নের ধামাচামা গ্রামের উত্তরপাড়ায় খোকা পরামানিকের ছেলে রাজিবুল হক রিজুর বাড়িতে সিঁধ কেটে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ প্রায় ২ লাখ টাকার সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। তিনি বলেন, বর্তমানে যে হারে চোরের উপদ্রব বেড়েছে, তাতে নিজের বাড়িতেও আমরা অনিরাপদ।গত ১১ আগস্ট ধুনট পাইলট স্কুল মার্কেটের একটি দোকানের তালা কাটার চেষ্টা করা হলেও মানুষের উপস্থিতি বুঝে চোরেরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এই দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।গত ৯ আগস্ট গোবিন্দপুর বাজারে রাত ১০টায় দোকান বন্ধ করে খাবার খেতে বাড়িতে যান ইউসুফ স্টোরের মালিক। এর মধ্যেই রাত ১১টার মধ্যে দোকানের টিনের বেড়া কেটে প্রায় সাত হাজার টাকা নগদ ও দেড় লাখ টাকার মালামাল চুরি করা হয়। দোকানমালিক আব্দুল হামিদ বলেন, বর্তমানে এলাকায় চোরের উপদ্রব এত বেড়েছে যে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা কঠিন হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আমাদের ব্যবসা করাই কঠিন হয়ে যাবে।" তিনি জানান, গত মাসে তাঁর পার্শ্ববর্তী শাহ আলমের দোকানেও এক লাখ টাকা নগদসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়। থানায় অভিযোগ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "থানায় অভিযোগ দিলেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয় না, চোর গ্রেপ্তার হয় না। তাই আমরা অভিযোগ দিতে ইচ্ছুক নই।গত ১৬ আগস্ট উজান সিং গ্রামের মধ্যপাড়ায় একটি দোকানের টিনের চাল কেটে ২ লাখ টাকা নগদসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাই।গত ১৯ সেপ্টেম্বর মথুরাপুর বাজার থেকে অটোভ্যান চুরি করে পালানোর সময় সিএনজির সঙ্গে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন শেরপুরের বটতলার শেখ সাদী। স্থানীয় জনতা তাঁকে আটক করে।প্রায় ১৫ দিন আগে উত্তর অফিসারপাড়া এলাকার রাসেল বাবুর অটোরিকশা থেকে ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায় চোরচক্র।গত ২১ সেপ্টেম্বর থানা থেকে মাত্র ৩০০ গজ দূরে বাঁশহাটা গ্রামের অটোচালক জয়ের অটো অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করে নেওয়া হয়। পরে ২২ সেপ্টেম্বর রজিবুল ইসলাম নামে একজনকে ছিনতাই করা অটোসহ গ্রেপ্তার করা হয়।গত ১১ আগস্ট ফড়িংহাটা গ্রামে ছাগল চুরির সময় সুদীপ সরকার নামে একজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, "ষচুরির ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছে, কিন্তু এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি। একই ঘটনা বারবার ঘটছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। আমার মনে হয়, একটি চক্রই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।"ষচৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপী গ্রামের আবু তালেব বলেন, "ষবাড়িতে বউ-বাচ্চাকে একা রাখতেও ভয় লাগছে। দ্রুত এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চোরচক্র ধারাবাহিকভাবে দোকান ও খামারিদের লক্ষ্য করেই চুরি করছে, যাতে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও খামারিরা পড়েছেন ব্যাপক দুশ্চিন্তায়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে সব বাড়িতে পুরুষ সদস্য কম, যেগুলো জনবসতি থেকে দূরে, এবং যে সব বাজারে নাইট গার্ড নেই বা দোকান ফাঁকা জায়গায়— সেসব স্থানেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেশি। সচেতন মহলের দাবি, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে পারে।উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।এ বিষয়ে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং ইতিমধ্যে কিছু গ্রেফতার করেছি। এ বিষয়ে ধুনট থানা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।

বিস্তারিত

ধুনটে শুরু হলো পিপিআর রোগ নির্মূল কর্মসূচি, বিনামূল্যে টিকা পাবে ৩২ হাজার ছাগল

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর টিকাদান কার্যক্রম। বুধবার (১ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই টিকা পাবে উপজেলার ৩ থেকে ১২ মাস বয়সী ছাগল ও ভেড়া।উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ধুনট সূত্রে জানা যায়, এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় মোট ৩২ হাজার ছাগলকে বিনামূল্যে পিপিআর টিকা প্রদান করা হবে।বুধবার ধুনট হেলিপ্যাড মাঠে এই টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. রেহানা খাতুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর আল মানসুর শোয়ায়েব, ধুনট পৌর বিএনপির সভাপতি আলিমুদ্দিন হারুন মন্ডল এবং ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাকিব। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের স্টাফ, ভ্যাকসিনেটর, সাংবাদিক এবং স্থানীয় খামারিরাও উপস্থিত ছিলেন।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা মোছাঃ রেহেনা খাতুন , পিপিআর একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা ছাগল ও ভেড়ার মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির কারণ হয়। নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ নির্মূল করা সম্ভব। খামারিদের নিকটস্থ ভেটেরিনারি হাসপাতাল বা টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট বয়সের ছাগল-ভেড়াকে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হলো।

বিস্তারিত

ধুনটে দোকানের শাটার কেটে ৯৪ মোবাইল চুরি,আন্তজেলা চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

বগুড়ার ধুনট উপজেলা সদরের ইছামতি কমপ্লেক্স মার্কেটের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে চুরির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনসহ আন্তজেলা চোরচক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর এলাকায় বগুড়া থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল ৮টার দিকে সংঘবদ্ধ চোরের একটি দল ধুনট উপজেলা সদরের ইছামতি কমপ্লেক্সে অবস্থিত ‘মাসুদ টেলিকম’ নামের একটি মোবাইল ফোনের দোকানের শাটার কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে দোকান থেকে ৯৪টি মোবাইল ফোন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।চুরির পর চক্রটির সদস্যরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় শেরপুর শহরে যায়। সেখান থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় তারা।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে ধুনট থানা পুলিশ, সিরাজগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি দল যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। পরে শ্যামলী পরিবহনে তল্লাশি চালিয়ে আটজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার সৈয়দপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আলামিন (৩০), পাঠানপাড়া গ্রামের আজিজুল রহমানের ছেলে ইসরাফিল রহমান (২৭), বাকলিয়া থানার সিএমপি বাকলিয়া গ্রামের হবু মিয়ার ছেলে আক্কাস আলী (৩৫), কোতোয়ালি থানার ইসমাইল ফয়েজ রোডের ইব্রাহিমের ছেলে রিদয় (৩৪), নরসিংদীর রায়পুরা থানার চর মদিনানগর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার চকবাজার মোল্লাবাড়ী গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত (৩৮), কুমিল্লার চান্দিনা থানার নওয়াতপুর গ্রামের খালেকের ছেলে রবিউল (৩৩) এবং মুরাদনগর থানার কামাল্লা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিন (২৫)।ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিস্তারিত

ধুনটে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় নারী আটক

বগুড়ার ধুনটে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বেদেনা খাতুন (৪০) নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।বেদেনা খাতুন উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের সুলতানহাটা গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী। এর আগে সোমবার বিকেলে স্থানীয়রা তাঁকে উপজেলার চান্দিয়াড় গ্রাম থেকে আটকের পর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে চান্দিয়াড় গ্রামের কয়েকজন হতদরিদ্র নারীর কাছে টাকা দাবি করছিলেন বেদেনা খাতুন। এ সময় তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেন।প্রতারণার কৌশল হিসেবে তিনি স্থানীয়দের বলতেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টাকা দিলে কার্ড করে দেওয়া হবে এবং কার্ডধারীরা প্রতি মাসে সরকারি আর্থিক সহায়তা পাবেন। আস্থা অর্জনের জন্য তিনি বিভিন্ন ধরনের ভুয়া সরকারি ফরমও দেখাতেন। পাশাপাশি দরিদ্র ব্যক্তিদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সাইজের ছবিও সংগ্রহ করছিলেন তিনি।এক পর্যায়ে তাঁর আচরণে এক নারীর সন্দেহ হলে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান তিনি। সংবাদ পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেদেনা খাতুনকে আটক করেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে থানা হেফাজতে নেয়।ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, "৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে ওই নারীকে থানা হেফাজতে আনা হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কারও কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় তাঁকে ৫১ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"

বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ এএম
সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ এএম
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ এএম
ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

২৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

ধুনটে চেকপোস্ট বসাতে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর গ্রেপ্তার ২

২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
ধুনটে চেকপোস্ট বসাতে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর গ্রেপ্তার ২

ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত

২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত

হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি

২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি

জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা

২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ এএম
জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা

নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা

২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা

লাগামহীন চুরি, দুই মাসে অন্তত ২০ ঘটনা, আতঙ্কে ধুনটবাসী

১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
লাগামহীন চুরি, দুই মাসে অন্তত ২০ ঘটনা, আতঙ্কে ধুনটবাসী

ধুনটে শুরু হলো পিপিআর রোগ নির্মূল কর্মসূচি, বিনামূল্যে টিকা পাবে ৩২ হাজার ছাগল

১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
ধুনটে শুরু হলো পিপিআর রোগ নির্মূল কর্মসূচি, বিনামূল্যে টিকা পাবে ৩২ হাজার ছাগল

অব্যবস্থাপনায় শতবর্ষের এম.সি. স্কুল: ঐতিহ্য ফেরাতে নতুন কমিটির কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রত্যাশা

১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
অব্যবস্থাপনায় শতবর্ষের এম.সি. স্কুল: ঐতিহ্য ফেরাতে নতুন কমিটির কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রত্যাশা

চাঁদা না দেওয়ায় ময়মনসিংহে মাদ্রাসার প্রভাষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ এএম
চাঁদা না দেওয়ায় ময়মনসিংহে মাদ্রাসার প্রভাষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

তৃতীয় বারের মতো ইবি প্রক্টরের দায়িত্বে ড. শাহীনুজ্জামান

১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
তৃতীয় বারের মতো ইবি প্রক্টরের দায়িত্বে ড. শাহীনুজ্জামান

আঠারবাড়ী এম.সি. উচ্চবিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ডা. পি.সি. দাস

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
আঠারবাড়ী এম.সি. উচ্চবিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ডা. পি.সি. দাস