উচ্চকক্ষ গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন প্রস্তাব বিশেষ কমিটির বৈঠকে

সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া ও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সাড়ে ছয় ঘণ্টার এই দীর্ঘ বৈঠকে উচ্চকক্ষ গঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞ এবং আইনজ্ঞরা। আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়গুলো কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে।বৈঠকে উপস্থিত একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষকের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ১০৫ নির্ধারণ করা হতে পারে। এই কাঠামোর অধীনে ৫০ জন সংসদীয় আসনের অনুপাতে এবং ৫০ জন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে নির্বাচিত হবেন। বাকি পাঁচজন সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবদাতার মতে, এই ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সমতা বিধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বাকি পাঁচজনকে মনোনয়ন দেবেন রাষ্ট্রপতি।অন্য একজন শিক্ষাবিদ উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংবিধানে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ তৈরি করা হবে এবং উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে সেই দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সরকারি ও বিরোধী দলের সমঝোতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ থেকে উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব করেন, যাতে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও একটি নির্বাচিত সংসদ সব সময় সক্রিয় থাকে।বৈঠকে সংবিধান সংশোধন কমিটির পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অংশ নেন। আমন্ত্রণ পাওয়া ৬০ জনের মধ্যে ৪৪ জন উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, সরকারি দল বিএনপির ইশতেহারে আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ভোটের অনুপাতে গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করেন।বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তাবটি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে উপদেষ্টা নিয়োগের বিধান রাখা যেতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।কমিটির সভাপতি আরও জানান, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিচারক নিয়োগ আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত ১১৬ অনুচ্ছেদ পর্যালোচনার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিচারিক পর্যালোচনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন নিয়েও বৈঠকে ঐকমত্যের আভাস মিলেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আস্থা ভোট, অর্থবিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও সংবিধান সংশোধনী ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এ বিষয়ে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, তার প্রস্তাবে অনেকে সমর্থন জানান।কমিটির কার্যক্রম নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত হওয়া বৈঠকগুলোর মধ্যে শনিবারেরটি সবচেয়ে ফলপ্রসূ ছিল। বর্তমানে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। কমিটির আর মাত্র এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

ইরানে অবস্থানরত রাশিয়ার কূটনীতিক এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের কর্মী বা বিশেষজ্ঞদের ইরান ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।এর আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেশ কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সংবাদ অ্যাগ্রিগেটর দাবি করেছে ইরান থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই দাবিগুলোতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব জল্পনাকে পুরোপুরি বানোয়াট হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এমন গুঞ্জন ছড়ায়। স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি গত জুলাই মাসে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রেও এই কেন্দ্রের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিহ্ন দৃশ্যমান হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করল।

শান্তি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে নেহা বোরার স্পষ্ট অস্বীকৃতি

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা কোনো অবস্থাতেই শান্তি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই বামপন্থী ছাত্রনেত্রী বলেন, এই ধরনের চুক্তি ভিন্নমত দমনের একটি কৌশল। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা নেহা বোরা জানান, তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ এবং এসইএম-এর নোটিশের বিরুদ্ধে করা আপিল দিল্লি হাইকোর্ট খারিজ করার পর তিনি বাধ্য হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, “আমাকে কার শান্তি রক্ষা করতে বলা হচ্ছে।ম্যাজিস্ট্রেটের শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তী শুনানি ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। মন্দির মার্গ থানায় আদালত চলাকালীন বাইরে একদল ডানপন্থী কর্মী সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষে স্লোগান দেন। নেহা বোরা প্রশ্ন রাখেন, সরকারের নীতির সমালোচনা করা কি শান্তির জন্য হুমকি? তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সংবিধান যেখানে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে, সেখানে শান্তিভঙ্গের অজুহাতে এ ধরনের চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া নাগরিক অধিকার বিসর্জন দেওয়ার শামিল। তিনি বলেছেন, “একদিকে, সংবিধান আমাদের ভিন্নমত প্রকাশের, আমাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার অধিকার দিয়েছে, অন্যদিকে, শান্তিভঙ্গের নামে মানুষকে আটক করার জন্যই কেবল এই ধরনের শান্তি চুক্তির দোহাই দেওয়া হয়।”।তিনি সম্প্রতি 'তেলাপোকা জনতা পার্টি'র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যিনি গত ১০ অক্টোবর একই ধরনের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। এসইএম-এর দেওয়া নোটিশে নেহাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তদন্ত চলাকালীন শান্তি বজায় রাখার জন্য তাকে ১০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত মুচলেকা এবং একজন জামিনদার দিতে হবে। এই প্রক্রিয়াকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে নেহা বোরা দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার লড়াই কোনো ব্যক্তিগত শান্তির জন্য নয়, বরং আদর্শিক অধিকার রক্ষার জন্য। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশে নেহাকে তার সামনে হাজির হতে এবং “তদন্ত চলাকালীন শান্তি বজায় রাখার জন্য” একজন জামিনদারসহ ১০,০০০ রুপির একটি ব্যক্তিগত মুচলেকা সম্পাদন করতে বলা হয়েছে। এর আগে, সিপিআইএমএল লিবারেশনের সংসদীয় কার্যালয়ে, যার ছাত্র শাখা হলো আইসা, নেহা বলেছিলেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার।

ইরানে আজই সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পরিচালনা করতে পারে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন। পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা এ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এবং অভিযানটি আজই কার্যকর হওয়া সম্ভব। তবে তিনি সরাসরি নিশ্চিত না করে কৌশলী উত্তর দিয়েছেন, কারণ সামরিক পদক্ষেপের কথা আগেই ফাঁস করতে তিনি আগ্রহী নন। ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগোচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি হামলা করব কিনা, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’।মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্পের দাবি, অতীতে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারেনি। তাই পরিস্থিতিটি এমন পর্যায়ে নিতে চান, যেখানে ফলাফলটি সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যেন পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই তিনি নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে।অভিযানের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, তেহরান যদি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, তাকে হয়তো বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে, অথবা ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে। তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তবে যে পথই বেছে নেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এর আগে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সংকটের কোনো স্থায়ী সুরাহা এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি।

গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরিতে সহায়তা করেছে: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে গণমাধ্যমই মূলত ফ্যাসিস্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছে এবং এখন থেকে গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। শনিবার নিজ জেলা মৌলভীবাজারে সাংগঠনিক সফরে এসে সার্কিট হাউজের মুন হলে আয়োজিত এক বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জেলা শহরে এটিই ছিল তার প্রথম সফর, যা কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। জামায়াতের আমিরের সফর ঘিরে স্থানীয় নেতা কর্মীর মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের আলোকে প্রতি দুই বছর পর পর জেলা আমীর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।এর আগে সকাল আটটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম, জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।এরপর রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অংশ হিসেবে সকাল নয়টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছালে সেখানে তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে পুলিশের একটি চৌকস দল।সার্কিট হাউসে জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমানসহ স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া, ছাত্রশিবিরের মৌলভী বাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ প্রমুখ।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও স্থানীয় রুকনদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নেন। জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য মৌলভীবাজার জেলা আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দুপুর দুইটা থেকে রুকন সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সম্মেলনে প্রায় ছয়শ রুকন ভোটার অংশ নেবেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন জামায়াত আমির। নির্বাচন পরিচালনা করবেন সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শেষে মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৬০৩টি ওয়ার্ডের প্রতিনিধির পাশাপাশি, সকল রুকন ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীগণ দায়িত্বশীল ওয়ার্ড সম্মেলনে ডেলিগেট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে ৬০০ রুকন অংশগ্রহণ করবেন।এছাড়াও জোহরের নামাজের পর জেলা সার্কিট হাউজে ১১ দলীয় জোটের মৌলভীবাজার জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দুপুরের খাবারে অংশ নেবেন ডা. শফিকুর রহমান। রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ করে বিকেল চারটায় তিনি সিলেট বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই সফরের মাধ্যমে সাংগঠনিক জনশক্তির মধ্যে উদ্দীপনা বাড়বে এবং তৃণমূল সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। জোহরের নামাজ কোর্ট মসজিদে আদায় করবেন।

 ইরান যুদ্ধ

ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছেন ট্রাম্প: বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওবামার মতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো এমন একটি যুদ্ধ শুরু করা, যার কোনো প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের দাবি দেশের ভেতর থেকে কেউ কখনো জানায়নি।ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সংঘাতের আঁচ ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে লেগেছে। যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়া তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই নৌপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলোও নির্বাচনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।ওবামার এসব মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘চরম অযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ওবামা ইরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন, যা দেশটির জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ সহজ করে দিয়েছিল। ট্রাম্প তার শাসনামল থেকেই এই চুক্তিটির কঠোর বিরোধিতা করে আসছেন।উল্লেখ্য যে, ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরান ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বর্তমানে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওবামা ও ট্রাম্পের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান ইস্যু এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাবকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

ইরান থেকে রুশ বিশেষজ্ঞ সরানোর খবর নাকচ করল মস্কো

ইরানে অবস্থানরত রাশিয়ার কূটনীতিক এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের কর্মী বা বিশেষজ্ঞদের ইরান ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।এর আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেশ কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সংবাদ অ্যাগ্রিগেটর দাবি করেছে ইরান থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই দাবিগুলোতে আরও বলা হয়েছিল, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব জল্পনাকে পুরোপুরি বানোয়াট হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এমন গুঞ্জন ছড়ায়। স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি গত জুলাই মাসে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রেও এই কেন্দ্রের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিহ্ন দৃশ্যমান হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করল।

ইরানে আজই সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পরিচালনা করতে পারে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন। পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা এ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এবং অভিযানটি আজই কার্যকর হওয়া সম্ভব। তবে তিনি সরাসরি নিশ্চিত না করে কৌশলী উত্তর দিয়েছেন, কারণ সামরিক পদক্ষেপের কথা আগেই ফাঁস করতে তিনি আগ্রহী নন। ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগোচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি হামলা করব কিনা, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’।মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্পের দাবি, অতীতে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারেনি। তাই পরিস্থিতিটি এমন পর্যায়ে নিতে চান, যেখানে ফলাফলটি সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যেন পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই তিনি নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে।অভিযানের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, তেহরান যদি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, তাকে হয়তো বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে, অথবা ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে। তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তবে যে পথই বেছে নেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এর আগে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সংকটের কোনো স্থায়ী সুরাহা এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার পরিকল্পনা ইরানের

ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ফের যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোতে হামলার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে তেহরান। কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল পুনরায় ইরানে আক্রমণ চালায়, তবে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সংযোগগুলোই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। এমন হামলার উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটানো এবং মেরামতের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা।ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের ওপর আক্রমণ হলে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা বা 'রেড লাইন' থাকবে না। ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে এক কর্মকর্তা বলেন, আগুন নিয়ে খেলা করা উচিত নয়। ইরানের কাছে সমুদ্রতলের ক্যাবলগুলোর নাগাল পাওয়ার এবং সেগুলো সহজে ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক ঘাঁটিসহ স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোও তাদের হামলার আওতায় থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রতলের ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রবাহিত ব্যান্ডউইথের পরিমাণ এক শতাংশের চেয়েও কম। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বৈশ্বিক প্রভাব সীমিত থাকলেও একাধিক ক্যাবল কাটা পড়লে ইন্টারনেটের গতি ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে, যা আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ক্লাউড সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত রাখতে এবং উপসাগরীয় দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ নিয়ে সংশয় তৈরি করতেই ইরান এ ধরনের কৌশলগত হুমকির আশ্রয় নিচ্ছে।এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি হাব গড়ে তুলতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। এ ধরনের অবকাঠামো রক্ষার জন্য বর্তমানে স্থলভিত্তিক বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির কাজও চলমান। মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রতল ও স্থলভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামোয় ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, যা এই অঞ্চলের ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

রাজনীতি

ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদের বিদায় বার্তা, কারণ জানালেন শেখ হাসিনার ফেরা

ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি লেখেন, ‘আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি। বিদায় বাংলাদেশ!’ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি একটি ছবি যুক্ত করেছেন, যেখানে তাকে বিমানের ভেতরে দেখা যাচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তবে তারা কোথায় যাচ্ছেন বা গন্তব্য কোথায়, সে বিষয়ে পোস্টে কোনো স্পষ্ট তথ্য উল্লেখ করেননি আসিফ মাহমুদ।

খাগড়াছড়ি,রামগড়ে ইনকিলাব মঞ্চের মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচারের দাবিতে খাগড়াছড়ি অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে 'মার্চ ফর ইনসাফ' কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ২টায় খাগড়াছড়ির রামগড় বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাজারের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রাইম ব্যাংকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন ইনকিলাব সার্চ কমিটির আহ্বায়ক জি. এল. সাব্বির ও সদস্য সচিব আদনান আহাদ সহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে এনসিপির রামগড় উপজেলা আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।মিছিল শেষে প্রাইম ব্যাংকের সামনে শহিদ আবতাবুল কাদের সড়কে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, "তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করেছি, তারই অংশ হিসেবে খাগড়াছড়িতে আমাদের মার্চ ফর ইনসাফ পদযাত্রা।"তিনি তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, দাবিগুলো হলো— ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং শাপলা, পিলখানা ও জুলাইয়ের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।M

খাগড়াছড়ির রামগড়ের রাজনীতিতে নতুন গতি, উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি কমিটির ঘোষনা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর খাগড়াছড়ির রামগড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়া। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে একযোগে ঘোষণা করা হয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে রামগড় উপজেলা বিএনপি ও রামগড় পৌর বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকে রামগড় উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।প্রথম ধাপ: রামগড় উপজেলা বিএনপিবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রামগড় উপজেলা শাখার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।নবগঠিত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন—সভাপতি: জনাব মোঃ জসিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক: জনাব সাফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া সাংগঠনিক সম্পাদক: জনাব শাহ আলম বাদশা ও জনাব আলিম উল্লাহ নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের উপর দল যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, আমরা জীবন দিয়ে হলেও তার মর্যাদা রক্ষা করব। দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রামগড় উপজেলা বিএনপিকে একটি মডেল সংগঠনে রূপান্তরিত করব।”সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু বলেন, “এই কমিটি তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গঠিত। আগামীতে দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে রামগড় উপজেলা বিএনপি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”দ্বিতীয় ধাপ: রামগড় পৌর বিএনপিউপজেলার পাশাপাশি রামগড় পৌর বিএনপিরও ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।নবগঠিত পৌর কমিটির নেতৃত্বে—সভাপতি: জনাব বাহার উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক: জনাব সাফায়েত উল্ল্যাহ সাংগঠনিক সম্পাদক: জনাব মোহাম্মদ ইলিয়াস অন্যদিকে জেলা কমিটির স্বীকৃতিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) রামগড় উপজেলা শাখার ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এতে আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জনাব হারুনুর রশিদ।নবমনোনীত আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ বলেন, “বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এনসিপি কাজ করছে। রামগড়ের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা সোচ্চার থাকব।”তিনটি কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নবনির্বাচিত সকল নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় ভাসাচ্ছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একাধিক মুসলিম প্রার্থীর ঐতিহাসিক জয়

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির রাজনীতিতে একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এবারের নির্বাচনে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ফিলিস্তিনি ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম প্রার্থীদের জয় মার্কিন রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ বিজয়ী হয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাঁর এই জয় নিশ্চিত করার পর জানা যায়, তিনি মার্কিন ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক পেশায় একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি পূর্বে মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক এবং ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিও ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। তবে প্রচারণা চলাকালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবিরের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে তিনি ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। সব বাধা পেরিয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেন। তবে প্রচারের সময় তাকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও অভিযোগ সামনে আসে। নির্বাচনী প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলেকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট আদম হামাওয়ি। এর মাধ্যমে তিনি নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পা রাখছেন। মিসরীয় বংশোদ্ভূত হামাওয়ি একজন প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক সার্জন এবং সাবেক মার্কিন সেনা চিকিৎসক। তিনি ইরাক যুদ্ধে আহত সেনাসদস্যদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। পাশাপাশি বসনিয়া, সুদান, লেবানন ও সিরিয়ায় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গাজাতেও চিকিৎসাসেবা দিতে যান। তাঁর প্রচারণায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করা এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ঋণ বাতিলের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছিল।ইলিনয় সিনেটের ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান ডারবি হিলসকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নাবিলা সৈয়দ জয়ী হয়েছেন। তিনি ৫৭ শতাংশ ভোট পান, অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিলস পান ৪৩ শতাংশ ভোট। উল্লেখ্য, এই আসনটি আগে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম নাবিলা সৈয়দ ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয়ের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে প্রথম নজর কাড়েন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে পড়াশোনা করা এই প্রতিনিধি ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও শিক্ষা সংস্কারে কাজ করছেন।নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটে ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে বিজয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আবের কাওয়াস। তাঁর এই জয়ের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস রচিত হলো। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আবের কাওয়াস মূলত আবাসন ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার, অভিবাসী সুরক্ষা এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কুইন্সের বাসিন্দা কাওয়াস একজন কমিউনিটি সংগঠক।জর্জিয়ার অঙ্গরাজ্য আইনসভায় মুসলিম ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক রুয়া রোমানের প্রতিনিধিত্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২২ সালে তিনি জর্জিয়ার প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম ফিলিস্তিনি হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। রুয়া রোমান—জর্জিয়ায় মুসলিম ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের অগ্রযাত্রা।মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ৫ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর ২০১৮ সালে মার্কিন ইতিহাসে প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন হিসেবে কংগ্রেসে স্থান করে নিয়েছিলেন।মিশিগানের ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট রাশিদা তালিব। ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান রাশিদা তালিব ২০১৮ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী সদস্যদের অন্যতম ছিলেন।ইন্ডিয়ানার ৭ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আন্দ্রে কারসন। ২০০৮ সালে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম কংগ্রেসে আসেন এবং কংগ্রেসের দ্বিতীয় মুসলিম সদস্যের স্বীকৃতি পান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে কাজ করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ও পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রমে বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।মুসলিম প্রার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্য সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেকর্ড গড়েছেন। নিউ মেক্সিকোর গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান গ্রেগ হালকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট ডেব হাল্যান্ড জয়ী হয়েছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। তিনি লেগুনা পুয়েবলো উপজাতির সদস্য।জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান রিক জ্যাকসনকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ফ্লোরিডার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস জয় লাভ করে দেশটির ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।ইলিনয়ের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন বিজয়ী হয়ে উক্ত অঙ্গরাজ্য থেকে দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর হওয়ার কীর্তি অর্জন করেন। তিনি ডিক ডারবিনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। এছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাস সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর জন ই. সুনুনুকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। পাপাস ২০১৮ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে প্রথম এলজিবিটিকিউ কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ট্যামি ডাকওয়ার্থের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পর তার জীবন বাঁচাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। এবার সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের আইন প্রণয়নে আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।মার্কিন অধিভুক্ত অঞ্চল ভার্জিন আইল্যান্ডসের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়ে স্টেসি প্লাসকেট কোনো অধিভুক্ত অঞ্চলের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। অন্যদিকে মিনেসোটার গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়ে অ্যামি ক্লোবুচার রাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এছাড়া আলাস্কায় রিপাবলিকান ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে আছেন, তবে চূড়ান্ত ফল র‍্যাঙ্কড-চয়েস গণনার পর নির্ধারণ করা হবে। প্রাথমিক ফলে রিপাবলিকান প্রার্থী আইজাজ শেখের বিরুদ্ধে তার বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে।যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী এই ফলাফল দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা শ্রেণি-পেশা ও বর্ণের মানুষের কার্যকর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিক নির্দেশ করছে।

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের

রাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে।তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান।সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি।সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং।ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে।বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সুত্র: কালের কণ্ঠরাজধানীতে যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। ওই তালিকায় ৫৪৫ জনের নাম রয়েছে। তালিকাভুক্ত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গত এক সপ্তাহে (গত সোমবার পর্যন্ত) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা শাহিনুর আলম মারফতকে (৬০) গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তিনি খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন চোকদারকে (৩৯)। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ডিএমপির করা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় লিটনের নাম রয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। নির্দেশিত হয়েছি। সেই তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত ডিএমপি থেকে মোট ৪৭ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে, তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আবার অভিযানে যাদের কাছে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আর যাদের নামে কোনো মামলা নেই, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ডিটেনশনের চিন্তা করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।’ তবে কেউ কেউ বিশেষ ক্ষমতা আইনকে কালো আইন বলছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ না করে বেআইনি কাজ, বেআইনি আটক, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার মতো অভিযোগ আমরা শুনতাম। বাংলাদেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মতো কোনো অভিযোগ আমরা আর শুনতে প্রস্তুত নই। সুতরাং যে আইনই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।’ ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে যে ৫৪৫ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের। এদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এদের রয়েছে কিশোর গ্যাং। ডিএমপির ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা পেয়েছি। তালিকাভুক্তদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কে? ভুক্তভোগী নাকি পুলিশ? তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাবান। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভুক্তভোগীরা ঝামেলায় পড়তে পারেন। ফলে ভুক্তভোগী পাওয়া মুশকিল। আবার মামলার এজাহারে চাঁদাবাজদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ না থাকলে আইনের ফাঁকফোকরে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।’ তবে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে যে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা করেছে, সেই তালিকায় থাকাদের অপরাধের বিপরীতে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কি কি অপরাধ, তা যাচাই করার ব্যাপার আছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মনে করুন আমি আজ একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তাহলে আর আইন মানতে চাইবেন? সবকিছু ভেবে আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে আমরা কাজ এগিয়ে নেব।’ খিলক্ষেত থানার ওসি সোরহাব আল হোসাইন বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আমাদের কাছে দিয়ে দেয়। তারা কোনো মামলাও করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।’ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় নাম থাকা প্রসঙ্গে শাহিনুর আলম মারফত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউ চক্রান্ত করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। আমি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।’ ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটকের পর কোন প্রক্রিয়ায় আগানো হবে, সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামিদের আপাতত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে কিভাবে এগোতে চায় সরকার, সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। দ্রুতই সে মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন শাখার অন্তত আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । তাদের প্রত্যেকে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। তারা চিহ্নিত রাঘববোয়াল। এটার একটি বড় পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। মানুষও তাদের থেকে সতর্ক হবে।’ এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে আমরা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। রাজধানীসহ সারা দেশেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ তবে দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুত্র: কালের কণ্ঠ

সিলেট টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে বাংলাদেশ: লক্ষ্য সিরিজ বাঁচানো

সিলেট টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে বাংলাদেশ: লক্ষ্য সিরিজ বাঁচানো

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ যে কারো নজর কাড়ে, আর মাঠে নামলে প্রথম কাজটিই হয় ছবি তোলা। তবে বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের ধরন দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, তাদের ভাবনায় এখন কেবল সিরিয়াসনেস। মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে আট উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের পর সিরিজ বাঁচাতে মরিয়া স্বাগতিকরা। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ক্যারিবীয় শিবির অবশ্য বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বাধীন দলটি সিলেটেও জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ২-০ করার স্বপ্ন দেখছে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এলে চারপাশ দেখার পর সবাই প্রথম যে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তা হলো ছবি তোলা। ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। ক্রিকেট সুখের খোঁজে সিলেটে এসেছে দল।আগামী ৫ নভেম্বর এই স্টেডিয়ামেই শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ভালো শুরু পেয়েও উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার পুরোনো রোগ ছাড়তে হবে।ঢাকা টেস্টে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগেই ব্যর্থতার ছাপ ছিল স্পষ্ট। প্রথম ইনিংসে ২৭২ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। কেবল নাঈম হাসানের হাফ সেঞ্চুরি ছাড়া আর কেউ বলার মতো পারফর্ম করতে পারেননি। সিলেট টেস্টে জয় পেতে হলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে। অন্তত ৪০০ রানের কাছাকাছি পুঁজি গড়তে পারলে তবেই বোলাররা লড়াই করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ফিল্ডিংয়ে বাড়তি মনোযোগ ও ক্যাচ মিসের মতো ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে তাদের। সিলেটে তাই বাংলাদেশের চাওয়া একটাইÑঢাকার দুঃখ ভুলে ক্রিকেটের সুখ খুঁজে পাওয়া। বাংলাদেশের সামনে অবশ্য সমীকরণ পরিষ্কার। নাঈম হাসান লোয়ার অর্ডারে হাফ সেঞ্চুরি না করলে পরিস্থিতি আরো বিব্রতকর হতে পারত। সিলেটে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সবার আগে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে বাংলাদেশকে। শুধু উইকেটে টিকে থাকলেই হবে না, রানও তুলতে হবে। মুশফিকুর রহিমের ফেরা বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি। সিলেটে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।দলের জন্য স্বস্তির খবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে মুশফিকুর রহিম ফিরেছেন, যা ব্যাটিংয়ে শক্তি যোগাবে। তবে দুর্ভাগ্যবশত কনকাশনের কারণে মুমিনুল হক ছিটকে গেছেন, যা মিডল অর্ডারে বেশ বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। সিলেটের উইকেট নিয়ে দলে আসা অমিত হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে উইকেট ঘাসের মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, 'মুমিনুল ভাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে নেই। আমি যদি খেলার সুযোগ পাই, তবে নিজের স্বাভাবিক খেলার প্রক্রিয়াটা বজায় রাখার চেষ্টা করব।' তবে মুমিনুল হকের ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া বড় ধাক্কা। আমার যদি খেলার সুযোগ আসে, তাহলে চেষ্টা করব প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেভাবে বা যে প্রক্রিয়ায় খেলে আসছি, সেভাবেই খেলার।’।মিরপুরে স্পিননির্ভর উইকেট বানিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের জালেই জড়িয়ে পড়েছিল। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সিলেট টেস্টে উইকেট বুঝে বোলিং কৌশল সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলের। কেবল স্পিনার নয়, পেসারদেরও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হবে। মঙ্গলবার দুই দলের অনুশীলনের চিত্রে ছিল বিশাল পার্থক্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ স্যামিকে দেখা গেছে শিষ্যদের সঙ্গে হাসিঠাট্টায় মেতে থাকতে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। বিপরীতে বাংলাদেশ শিবিরে ছিল ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে নতুন শুরুর তাড়না। কখনো শিষ্যদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা, কখনো খুনসুটি। দুই হাত প্রসারিত করে তার দাঁড়ানোর ভঙ্গিটাও যেন আরেকটি জয়ের আগাম ঘোষণা। প্রত্যেকের চোখে-মুখে ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ। প্রতিপক্ষকে স্পিনে ঘায়েল করার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত উল্টো বাংলাদেশের জন্যই বিপদ ডেকে আনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা বরং বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে বেশি কার্যকর ছিলেন।ঢাকা টেস্টের ক্ষত এখনো টাটকা, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে পরাজয়ই শেষ কথা নয়। সিলেটে নতুন লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত। অতীতের অজুহাত পেছনে ফেলে মাঠের পারফরম্যান্সে জবাব দিতে হবে সাকিব-লিটনদের। সিরিজ হার এড়াতে এবং মান বাঁচাতে হলে ব্যাটে-বলে নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দেওয়াই এখন একমাত্র পথ। নইলে দেশের মাটিতে আরেকটি টেস্ট সিরিজ হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা সঙ্গী হবে। অভজ্ঞতার ঘাটতি যেন পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলেÑসেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

অনলাইন জরিপ
৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। বিধিমালা অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে দেশের যেকোনো একটি বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে।তিনি আরও জানান, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (Economic Life) হবে সর্বোচ্চ ১২ বছর। সোমবার থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন হলো:১। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।২। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।৩। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।৪। খুলনা সিটি করপোরেশন।৫। রাজশাহী সিটি করপোরেশন।৬। বরিশাল সিটি করপোরেশন।৭। সিলেট সিটি করপোরেশন।৮। রংপুর সিটি করপোরেশন।৯। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।১০। গাজীপুর সিটি করপোরেশন।১১। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন।১২। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।১৩। বগুড়া সিটি করপোরেশন।বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশা নিয়ে মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান রিকশাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে না। বৈধ ও অবৈধভাবে চলাচলরত যানবাহনগুলো আপাতত চলাচল করতে পারবে। তবে বিধিমালা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন থেকেই ব্যাটারি চার্জ করতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ই-রিকশার ব্যাটারি ভাঙা বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা যাবে না।নিবন্ধন ও নবায়ন ফি সম্পর্কে তিনি জানান, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।ই-রিকশার চলাচল আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে জোনভিত্তিক চলাচল ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং প্রতিটি জোনের জন্য পৃথক রং নির্ধারণের বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ-ডেঙ্গু ও উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় কেন্দুয়ার ইউএনও

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ অংশ নিয়েছেন।শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।সভায় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনসহ সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

বহুমুখী চাপের মুখে পুলিশ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ অপরাধ দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি- সবকিছু সামলাতে হচ্ছে একই বাহিনীকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর ও আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির চাপ। জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা নিয়েও চাপে আছে মাঠপুলিশ। এর বাইরে রয়েছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে মাঠপুলিশের ওপর দায়বদ্ধতার চাপ আরও বেড়েছে। কোনো এলাকায় মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি এবং তদারকি কর্মকর্তাকে দায় নিতে হবে- এমন বার্তাও পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এখনও তোলপাড় চলছে পুলিশে। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ সভায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয় ডিসি ওসিদের। কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকামিছিল বের হলে ওই এলাকার ডিসি-ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাবধান করা হয়। পরবর্তীকালে গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ব্যর্থতা দায় হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছে ঢাকার ৫০ থানার ওসি ও জোনাল ডিসি-এডিসি, এসিরা। ডিএমপির একাধিক থানার ওসি এই চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।শুধু ঢাকা মহানগরই নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে সারাদেশেই মাঠ পুলিশ চাপের মুখে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে সব রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা আমাদের সময়কে বলেন, যেকোনো ধরনের চাপ নিয়ে কাজ করতে পুলিশ অভ্যস্ত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব চাপ সামলে পুলিশ কতটা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে, সেদিকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের প্রতিটি ধাপে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। বড় কোনো ঘটনা ঘটার পরই প্রায়ই গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এনেছে।আশরাফুল হুদা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশের ভেতরে দীর্ঘ ১৭ বছরে তৈরি হওয়া ‘জঞ্জাল’ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরীহ কর্মকর্তা বা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ বাহিনীর সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পড়তে পারে।জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির যে সংযোগ রয়েছে, তা মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাদের মনোবলও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে- এমনটা বলার সুযোগ নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পুলিশকেই পালন করতে হবে। তবে অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ সরাসরি পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিলে তাদের মনোবল আরও দুর্বল এবং বাহিনীর মধ্যে নতুন করে মেরুকরণ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে মাঠ পুলিশ। নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেনি। কমানো যায়নি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলির ঘটনা বেড়েছে। খুনোখুনি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি ও একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্রের। অর্থাৎ লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্র উদ্ধারে চাপে রয়েছে মাঠপুলিশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এসব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে খোদ পুলিশে। কারণ লুণ্ঠিত অস্ত্র স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে বিশেষ অভিযানও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তিন ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মাঠপুলিশের জন্য আলাদা চাপ তৈরি করছে। কারণ শুধু আসামি গ্রেপ্তার করাই নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিরাপদে থানায় নেওয়া, অভিযান পরিচালনা এবং অভিযানের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পুলিশকেই পালন করতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৩১৭টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এর আগের ৬ মাসে এ ধরনের ২৭৫টি ঘটনা ঘটে।পুলিশের ওপর চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। বদলি, পদোন্নতি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে পুুলিশের একটি বড় অংশের মধ্যেই হতাশা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত দুই বছরে ইতোমধ্যে ১৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আরও পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেক কর্মকর্তা এখনও অবসর আতঙ্কে রয়েছেন। এতে মানসিক চাপে তারা স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও চাপে রয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এই মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও তাগিদ রয়েছে তাদের ওপর। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেও মাঠ পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে  ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় ফরিদপুর মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

 ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল। প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো  বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর।  আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন। চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে  ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়। সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী  ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের 'নজরানা' বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। M

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরাতি দাখিল মাদ্রাসায় ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, স্বাগত বক্তব্য, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। আলোচনায় সত্যবাদিতা ও আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, শিক্ষকের মর্যাদা, প্রতিবেশীর অধিকার, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী জীবনাচরণ উপস্থাপনা ও সিরাতভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা উচিত। শুধু মিলাদুন্নবী পালন নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অনুসরণের বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। সবশেষে এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত মৌলভী শিক্ষক উমর ফারুক দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক সভানুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

ওয়াজ-মাহফিলে কোন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার না করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরুন: গোলাম রসুল-এমপি

মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে কথা না বলে কোরআন, হাদিস ও নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, "আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব, যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং তারা বুঝতে পারে কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা বা আলোচনা করা যাবে না।"মাহফিলে সব রাজনৈতিক মতের মানুষ উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নাম ধরে সমালোচনা করলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে ইতিহাস, নীতি ও নৈতিকতার আলোকে পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সৎলোকের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।এছাড়া দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব বজায় থাকা প্রয়োজন।সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।নবঘোষিত কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।

সব বিভাগের খবর

মহানগর পরিক্রমা
ইশ্বরগঞ্জের সোহাগীতে ফয়সালাকৃত জমির সীমানার খুঁটি উপড়ে ফেলায় উত্তেজনা

ইশ্বরগঞ্জের সোহাগীতে ফয়সালাকৃত জমির সীমানার খুঁটি উপড়ে ফেলায় উত্তেজনা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আমিনের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে নির্ধারণ করা সীমানার বাঁশের খুঁটি জোরপূর্বক উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে হুমকি-ধমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের চট্টি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, চট্টি মৌজায় প্রদীপ কুমার সরকারের ক্রয়কৃত বসতবাড়ি, পুকুর ও বাগানবাড়ির কিছু অংশের সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের সম্মতিতে জমি পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ প্রবীর কুমার সরকার (প্রবল), তাঁর ছেলে চয়ন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের নিযুক্ত আমিনের মাধ্যমে জমি পরিমাপ শেষে নির্দিষ্ট স্থানে বাঁশের খুঁটি পুঁতে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ গ্রামের অনেকে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি পরিবারের।পরিবারটির অভিযোগ, পরিমাপ শেষে প্রদীপ কুমার সরকারের দুই ভাই ব্যক্তিগত কাজে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর কিছুক্ষণ পর প্রতিপক্ষ প্রবীর কুমার সরকার ও তাঁর স্ত্রী মঞ্জু রাণী সরকার সীমানায় স্থাপন করা বাঁশের খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলেন। এ সময় প্রদীপ কুমার সরকারের ছোট ভাই লিটন কুমার সরকার বাধা দিলেও তাঁরা তা উপেক্ষা করে খুঁটিগুলো তুলে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।লিটন কুমার সরকারের দাবি, খুঁটি উত্তোলনে বাধা দেওয়ার পর তাঁকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রবীর চন্দ্র সরকারের ছেলে পলাশ চন্দ্র সরকার পুলিশে কর্মরত এবং তাঁর নির্দেশনায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমির অংশের পরিবর্তে অন্যত্র ভালো আবাদি জমি দেওয়ার বিষয়ে একসময় প্রবীর কুমার সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। তাঁদের আরও দাবি, জমি নিয়ে এর আগে একটি মামলা করা হলেও পরবর্তীতে আদালত তা খারিজ করে দেন। এ বিষয়ে মামলার নথি ও আদালতের আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন।পরিবারটির দাবি, জমি পরিমাপ এবং পরবর্তী সময়ে সীমানার খুঁটি উপড়ে ফেলার ঘটনার স্থিরচিত্র ও অন্যান্য প্রমাণ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ও হুমকির কারণে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে এবং তাঁরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।অন্যদিকে, খুঁটি উপড়ে ফেলার বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রবীর চন্দ্র সরকার জানান, জমিটি তাঁদের নিজস্ব সম্পত্তি হওয়ায় তিনি খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলেছেন। জমির মালিকানা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি এজমালি সম্পত্তি ছিল এবং তাঁর বড় ভাই তা ভাতিজি ও ভাতিজির স্বামী প্রদীপ কুমারের কাছে বিক্রি করে দেন। জমিটি বাড়ির অংশ হওয়ায় তা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আপস-আলোচনা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।প্রবীর চন্দ্র সরকার আরও দাবি করেন, সেদিন জমির কোনো পরিমাপ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে কথা বলবেন জানিয়ে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।এদিকে, জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বিরোধের প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, পরিমাপের নথি এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।জনস্বার্থের প্রশ্ন: জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তার সমাধান হওয়া উচিত আইনানুগ প্রক্রিয়ায়। কোনো পক্ষেরই নিজের মতো করে সীমানার চিহ্ন অপসারণ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকা উচিত নয়। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

এন্ড্রু কিশোরের জন্মবার্ষিকীতে স্মৃতিতর্পণ করে হানিফ সংকেতের শ্রদ্ধা

এন্ড্রু কিশোরের জন্মবার্ষিকীতে স্মৃতিতর্পণ করে হানিফ সংকেতের শ্রদ্ধা

বাংলা সংগীতের প্রখ্যাত সুরের জাদুকর ও প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা এই গুণী শিল্পী চার বছর আগে পরলোকগমন করেন। জীবিত থাকলে আজ তিনি ৭১তম জন্মবার্ষিকী স্পর্শ করতেন। ভক্ত হৃদয়ে সুরের মায়াজাল বুনে যাওয়া এই গায়ক চলে গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া হাজারও কালজয়ী গান আজও গানপ্রেমীদের মনে সমান অম্লান।শিল্পীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত প্রিয় বন্ধুকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে তিনি লেখেন, “শিল্পী এন্ড্রু কিশোর—একজন আদর্শ মানুষ। খ্যাতির চাইতে যার কণ্ঠের দ্যুতিই ছিল বেশি। তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও অম্লান, কালজয়ী।”জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র সঙ্গে এন্ড্রু কিশোরের এক নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সংগীতাঙ্গনের এই ঐশ্বর্যকে স্মরণ করে হানিফ সংকেত উল্লেখ করেন, তিনি ছিলেন ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পী। শুধুমাত্র এই অনুষ্ঠানটির জন্যই প্রায় অর্ধশতাধিক গান গেয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর, যার বড় অংশই ছিল দেশাত্মবোধক। তাঁর সেই প্রাণস্পর্শী কণ্ঠের গান এখনও মানুষকে আলোড়িত করে। এমনকি মৃত্যুর পূর্বে টিভিতে তাঁর শেষ পরিবেশনাটিও ছিল ‘ইত্যাদি’র মঞ্চেই।প্রয়াত এই সংগীতশিল্পীর অবদানের কথা তুলে ধরে হানিফ সংকেত আরও লেখেন, তিনি আমাদের মাঝে না থাকলেও বেঁচে আছেন প্রতিটি সুর, গান ও শ্রোতাদের অন্তরের গভীরে। গানের মাধ্যমেই এন্ড্রু কিশোর চিরকাল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকে থাকবেন। পরপারে তিনি যেন শান্তিতে থাকেন, সেই প্রার্থনা জানান সংকেত।উল্লেখ্য, 'ইত্যাদি'র মঞ্চে পরিবেশিত এন্ড্রু কিশোরের 'পদ্ম পাতার পানি নয়' গানটি তুমুল জনপ্রিয়তার পাশাপাশি কালজয়ী স্থান অর্জন করে। এছাড়া 'এক গাঁয়ের এক কিষাণ বধূ' কিংবা 'পায়নি এবারও ছুটি'র মতো তাঁর অসংখ্য গান আজও সর্বস্তরের মানুষের স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে।

পার্বত্য জনপদে যোগাযোগ ও উন্নয়নে বদল আনছে সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবি

পার্বত্য জনপদে যোগাযোগ ও উন্নয়নে বদল আনছে সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবি

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকাকে মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অন্তর্ভুক্ত ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি)। প্রাকৃতিক দুর্বিপাক, পাহাড়ি ধস ও প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটিয়েছে এই প্রকৌশল ইউনিট। সামগ্রিকভাবে ২৬ ইসিবি শুধু একটি প্রকৌশল ব্যাটালিয়ন হিসেবেই নয় বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়া জনপদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও চিকিৎসায় আলো ছড়াতে এবং সর্বোপরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনা।সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে রাজস্থলী প্রকল্প ক্যাম্প স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় রাজস্থলী-দুমদুমিয়া-ফারুয়া-বিলাইছড়ি সাইচল-বড়থলি-থেগামুখ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ। মোট ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৭৬ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে বগাখালী থেকে করল্লাছড়ি পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। খুব শিগগিরই তৃতীয় ধাপে করল্লাছড়ি হতে থেগামুখ পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এবং উদয়াবাদ হতে থলিপাড়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে।সুরক্ষিত সীমান্ত অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াত সহজ হয়েছে। এর ফলে অপরাধী চক্রের আধিপত্য কমে এসেছে এবং দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে। সীমান্ত সড়কের সাথে প্রয়োজনীয় সেতু, কালভার্ট, আধুনিক ড্রেন ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচল যেমন নিরাপদ হয়েছে, তেমনি তাদের জীবনযাত্রার মানও বহুগুণ বেড়েছে।যোগাযোগের এই সুবিধা পার্বত্য এলাকার আর্থসামাজিক চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। থুমপাড়ার স্থানীয় কার্বারী জানান, আগে যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় রাজস্থলী, চন্দ্রঘোনা কিংবা চট্টগ্রামে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। সড়ক নির্মাণের ফলে এখন তাদের উৎপাদিত কলা, আদা, হলুদসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য খুব সহজেই ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে সরবরাহ করা যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জীবনমানের উন্নয়ন সড়ক নির্মাণের ফলে বদলে গেছে স্থানীয় জুমচাষী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবন।সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের বাইরেও জনকল্যাণমূলক নানান পদক্ষে নিয়েছে ২৬ ইসিবি। এ পর্যন্ত তারা ৩টি যাত্রী ছাউনি, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৯টি নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে পুরো অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির ৭০ হাজার ৬৮০টি ফলজ ও বনজ চারা রোপণ করা হয়েছে। সম্প্রতি রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সাইচল প্রকল্প ক্যাম্প সংলগ্ন গাছবাগান পাড়া বৌদ্ধ বিহার সংস্কারের জন্য আট বান টিন অনুদান দেওয়া হয়। ২৬ ইসিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল আল মাসুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সাহায্য হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে সাইচল ক্যাম্পের কমান্ডার ও ব্যাটালিয়নের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সাইচল প্রকল্প ক্যাম্প সংলগ্ন গাছবাগান পাড়ার বৌদ্ধ বিহারটি সংস্কার কাজের জন্য ২৬ ইসিবির পক্ষ থেকে আট বান টিন অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়াও সাইচল ক্যাম্পের কমান্ডারসহ ২৬ ইসিবির সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে ব্যাটালিয়নটি। থুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোশাক ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি সেখানকার দুজন শিক্ষকের বেতনের দায়িত্ব নিয়েছে ২৬ ইসিবি। সেখানে এবং জুরাছড়ি উপজেলার বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ তৈরি, সোলার প্যানেল, ফ্যান, জার্সি ও ক্রীড়াসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এছাড়া থুমপাড়ার ক্যানসার আক্রান্ত অধিবাসী অমরধন চাকমাকে ঢাকার সিএমএইচ-এ চিকিৎসা প্রদান ও চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে এনেছে ২৬ ইসিবি। সব মিলিয়ে ২৬ ইসিবি পার্বত্য জনপদে নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে আস্থার এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে। দুর্গম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দুজন শিক্ষকের বেতন-ভাতার যাবতীয় দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছে ২৬ ইসিবি। কোমলমতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য থুমপাড়ায় একটি সুপরিসর খেলার মাঠও তৈরি করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার, সুপেয় পানি এবং সোলার সিস্টেম ফ্যানের ব্যবস্থা করে দিয়ে যে সহযোগিতা করেছেন এজন্য আমরা সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’। থুমপাড়ার বাসিন্দা অমরধন চাকমা দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। বিষয়টি ২৬ ইসিবির অধিনায়ককে জানানোর পর তিনি তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেন এবং তার চিকিৎসা ঢাকার সিএমএইচ এ করানোর ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের অর্জন ও রাশিয়ার মাশুল: কৌশলগত হিসাব

ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের অর্জন ও রাশিয়ার মাশুল: কৌশলগত হিসাব

ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একই সঙ্গে অর্জন ও মাশুলের এক জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর সময় মস্কোর প্রত্যাশা ছিল দ্রুত সামরিক সাফল্য লাভ করা, কিয়েভের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব বিস্তার করা এবং ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বাইরে রাখা। তবে ২০২৬ সালের নভেম্বরের সূচনায় পৌঁছে দেখা যাচ্ছে, এই দীর্ঘায়িত সংঘাত সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ময়দানে এক অত্যন্ত বিপরীতমুখী বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। পুতিন হয়তো কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন, তবে তার বিনিময়ে রাশিয়াকে দিতে হচ্ছে বিশাল মাশুল। ২০২৬ সালের নভেম্বরের শুরুতে যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতিও মস্কোর জন্য একমুখী সাফল্যের ছবি দিচ্ছে না। তবে সামরিক নিয়ন্ত্রণকে স্থায়ী রাজনৈতিক বা আইনগত মালিকানা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। অর্থাৎ ভৌগোলিক সুবিধা অর্জিত হলেও সেই সুবিধা নিরাপদ রাখা ক্রমেই ব্যয়বহুল হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রুশ সামরিক বাহিনীকে ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধকৌশলের ক্ষেত্রে নতুন অভিজ্ঞতাও দিয়েছে।ভূখণ্ডগত দখল ও কৌশলগত স্থলপথ সংযোগযুদ্ধের সবচেয়ে দৃশ্যমান অর্জন হলো ইউক্রেনের নির্দিষ্ট কিছু ভূখণ্ডের ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। সেন্টারে ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে দখলে নেওয়া ক্রিমিয়া ও দনবাসের পুরনো ভূখণ্ডও অন্তর্ভূক্ত। পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর নতুন করে দখল করা ভূখণ্ডের পরিমাণ ইউক্রেনের মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ। দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজিয়া ও খেরসন অঞ্চলের এই নিয়ন্ত্রণ রাশিয়াকে আজভ সাগরের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিয়েছে। এসব ভূখণ্ডকে রাশিয়া নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৃহত্তর অংশ এই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি।২০১৪ সাল থেকেই ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ২০২২ সালের সামরিক অভিযানের ফলে মস্কো দনবাস ও দক্ষিণ ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে ক্রিমিয়ায় সরাসরি স্থলপথের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। ক্রিমিয়া হচ্ছে রুশ কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের প্রধান ঘাঁটি এবং দক্ষিণ ফ্রন্টে রসদ সরবরাহের মূল কেন্দ্র। স্থলপথ সংযোগটি মস্কোর জন্য এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ করেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের আগেই দখলে থাকা ক্রিমিয়া ও দনবাসের অংশও রয়েছে।সামরিক শিল্প উৎপাদন ও নিষেধাজ্ঞা সামাল দেওয়াএই যুদ্ধ রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্পকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। অস্ত্র কারখানাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে এবং ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও গোলাবারুদ উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) ২০২৬ সালের মার্চের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে রাশিয়ার সামরিক খাতে সরকারি বরাদ্দ ১৬ ট্রিলিয়ন রুবলে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৭.৫ শতাংশ। তবে এই সামরিক কেন্দ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি সামগ্রিক বেসামরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নির্দেশক নয়; বরং এটি সাধারণ ভোক্তা বাজার ও শ্রম খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি পুরো ভেঙে পড়েনি। মূল ইউরোপীয় জ্বালানি বাজার হারালেও এশিয়ার বিকল্প বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস রপ্তানি অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের সঙ্গে বর্ধিত বাণিজ্য এবং বিকল্প ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়া ইউরোপের বাজার থেকে ছিটকে পড়ার ধাক্কা সামলে নিয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে মস্কোর টিকে থাকার সক্ষমতাকে তুলে ধরে।অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষমতা সংহতকরণপুতিন ইউক্রেন যুদ্ধকে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জাতীয়তাবাদী বয়ান হিসেবে সফলভাবে উপস্থাপন করেছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম, স্বাধীন মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিরোধী মত দমনের কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ক্ষেত্র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিকে পুতিন তার নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পেরেছেন, যদিও এটি জনগণের সর্বজনীন সমর্থনের প্রকৃত নির্দেশক নয়।বিপুল সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও সেনা সংকটএতসব অর্জনের বিপরীতে রাশিয়াকে যে মাশুল দিতে হচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সামরিক ক্ষয়ক্ষতিতে। সিএসআইএসের ১ জুলাই ২০২৬ সালের গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে নিহত, আহত ও নিখোঁজ মিলিয়ে রুশ বাহিনীর মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ থেকে ৫ লাখের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সম্মুখযুদ্ধে রাশিয়ার দৈনিক ও মাসিক সেনা ক্ষয়ক্ষতির হার নতুন সদস্য নিয়োগের হারকে ছাড়িয়ে গেছে, যা রুশ সামরিক বাহিনীর জন্য একটি গুরুতর সংকটের পূর্বাভাস। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ হতে পারে বলে গবেষণাটিতে অনুমান করা হয়েছে।ন্যাটোর পূর্বমুখী বিস্তার ও সীমান্ত জটিলতাপুতিনের যুদ্ধ শুরুর মূল উদ্দেশ্যগুলোর একটি ছিল রাশিয়ার সীমান্তে ন্যাটোর বিস্তার রোধ করা। তবে এই যুদ্ধ ন্যাটোর জোটকে দুর্বল করার পরিবর্তে উল্টো আরও শক্তিশালী করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বহু বছরের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি ত্যাগ করে ২০২৩ সালের এপ্রিলে ফিনল্যান্ড এবং ২০২৪ সালের মার্চে সুইডেন ন্যাটোর পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ গ্রহণ করে। কার্নেগি এনডাওমেন্টের ২০২৬ সালের মার্চের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তির ফলে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর প্রত্যক্ষ সীমান্ত দ্বিগুণ প্রসারিত হয়েছে, যা মস্কোর উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত কৌশলকে অতিরিক্ত সামরিক ঝুঁকিতে ফেলেছে।ইউরোপের জ্বালানি বাজার হারানো ও চীনের ওপর নির্ভরতাযুদ্ধের পূর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছিল রাশিয়ার গ্যাস ও তেলের প্রধান লাভজনক বাজার। যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলো রুশ শক্তির ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে বিকল্প তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকে পড়ে। জার্মান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা ইউরোপ-রাশিয়া অর্থনৈতিক কাঠামো এই যুদ্ধের কারণে স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, যা রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব আয়ে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে বিকল্প বাজারের ওপর নির্ভরতা এবং প্রযুক্তি আমদানির সীমাবদ্ধতা দীর্ঘমেয়াদে নতুন দুর্বলতা তৈরি করছে।ইউরোপীয় বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে চীনের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়লেও শক্তি ও মর্যাদার ভারসাম্যে রাশিয়া এখন জুনিয়র পার্টনারে পরিণত হয়েছে। জার্মান পরিষদের বিশ্লেষণে মন্তব্য করা হয়েছে, রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বাধ্যবাধকতার কারণে বেইজিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মধ্য এশিয়া ও ককেশাস অঞ্চলে মস্কোর চিরাচরিত প্রভাবকেও সংকুচিত করে আনছে।আন্তর্জাতিক প্রভাব হ্রাস ও সাম্প্রতিক সামরিক যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্ররাশিয়ার কৌশলগত সম্পদ ইউক্রেনে আটকে থাকায় অন্যান্য অঞ্চলে মস্কোর ভূরাজনৈতিক প্রভাব কমছে। ২০২৪ সালে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থানকে দুর্বল করেছে। একইভাবে দক্ষিণ ককেশাসে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার দ্বন্দ্বে রাশিয়া ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় সাবেক সোভিয়েত অঞ্চলগুলোতে তাদের আধিপত্যে ফাটল ধরেছে।এদিকে ২০২৬ সালের নভেম্বরের শুরুতে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় রাশিয়ার জন্য নিট ভূখণ্ডগত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) ১ নভেম্বর ২০২৬ সালের মূল্যায়নে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে রুশ বাহিনী প্রায় ১৩৯.৮৫ বর্গকিলোমিটার নতুন এলাকা দখলে নিলেও পাল্টা ইউক্রেনীয় অভিযানে ১৬৭.১৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারিয়েছে। অর্থাৎ মাসটিতে রাশিয়ার নিট ভূখণ্ডগত ক্ষতি হয়েছে ২৭.২৯ বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে সিএসআইএসের তথ্যমতে, কৌশলগত ফ্রন্টগুলোতে রুশ সেনাদের দৈনিক অগ্রগতির গড় এখন মাত্র ৫০ থেকে ৯০ মিটার। এই ধীর গতি ও সামরিক ক্ষয় প্রমাণ করে যে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া এখন এক জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি।

মসজিদে নববীর ২৫০ ছাতায় প্রযুক্তির অনন্য সমন্বয়

মসজিদে নববীর ২৫০ ছাতায় প্রযুক্তির অনন্য সমন্বয়

মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীর চত্বরে স্থাপিত ২৫০টি স্বয়ংক্রিয় ছাতা কেবল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনই নয়, এটি আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিকতার এক অপূর্ব সমন্বয়। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্য অনুযায়ী, মসজিদে নববীর আঙিনার প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ছাতাগুলো মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের রোদ ও বৃষ্টির তীব্রতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশাল এই ছায়াশীতল পরিবেশে একসঙ্গে প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি মুসল্লি স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত করতে পারেন। এগুলোর নিচে একসঙ্গে ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি মুসল্লি ছায়া ও সুরক্ষা পেতে পারেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিক নকশার সমন্বয়ে তৈরি এসব ছাতা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয়। এগুলোর নিচে বড় পরিসরে আচ্ছাদিত জায়গা তৈরি হওয়ায় মুসল্লিরা বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকেন।ছাতাগুলো স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। এগুলো সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে খুলে যায় এবং সূর্যাস্তের পূর্বে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আবহাওয়ার পরিস্থিতি ও মুসল্লিদের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এই ছাতার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বৃষ্টির সময় এই আচ্ছাদন মুসল্লিদের ভেজা থেকে রক্ষা করে এবং এর সমন্বিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা আঙিনায় পানি জমা রোধ করে, যা পিচ্ছিল হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে।তীব্র গরম থেকে মুসল্লিদের আরাম দিতে এই ছাতাগুলোর দুই পাশে মোট ৪৩৬টি শক্তিশালী মিস্টিং ফ্যান বা সূক্ষ্ম জলকণা ছড়ানোর পাখা বসানো হয়েছে। প্রতিটি ফ্যানে ১৬টি করে নজল রয়েছে, যার মাধ্যমে পরিশোধিত পানি স্প্রে করে আশপাশের তাপমাত্রা কমিয়ে পরিবেশ ঠান্ডা রাখা হয়। এছাড়া রাতের বেলা আঙিনায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে এক হাজারের বেশি বাতি।পুরো প্রকল্পটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। সেখান থেকে মুসল্লির সংখ্যা এবং আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ছাতা ও শীতলীকরণ যন্ত্রগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। স্থাপত্যকলা ও প্রকৌশলবিদ্যার এই মেলবন্ধন মুসল্লিদের জন্য একটি নিরাপদ, আরামদায়ক ও শান্তিপূর্ণ ইবাদতের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরাইলি বাহিনীর পাহারায় আল-আকসায় বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ

ইসরাইলি বাহিনীর পাহারায় আল-আকসায় বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি বাহিনীর কড়া পাহারায় অনুপ্রবেশ করেছেন কয়েক ডজন বসতি স্থাপনকারী। কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে তারা মসজিদের পূর্বাংশে প্রবেশ করেন এবং ডোম অব দ্য রকের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে কথিত ‘এপিক প্রোস্ট্রেশন’ বা বিশেষ ধর্মীয় সিজদা পালন করেন। জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্যানুযায়ী, পুরো সময়জুড়ে দখলদার বাহিনী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।মসজিদের পূর্বাংশে বসতি স্থাপনকারীদের এই ধর্মীয় আচার প্রায়ই ঘটছে। এদিকে, বসতি স্থাপনকারীদের চলাচল বা অবস্থানের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট এলাকায় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার ও চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা অবস্থান করছেন কিংবা তাঁদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত পথ রয়েছে, সেসব এলাকায় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশ ও চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে।জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে বসতি স্থাপনকারীদের এই অনুপ্রবেশ চলাকালে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর বিধিনিষেধ কার্যকর রাখা হয়। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য উঠে এসেছে। সূত্র: ফানা নিউজ, ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফা ও কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা কিউএনএ।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

এক বছরে ভাঙ্গল সেতু,১২ বছর দূর্ভোগ।

সরকারি অর্থে নির্মাণ, উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় ধস, এরপর টানা ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার একটি ব্রিজের গল্প যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রই তুলে ধরে। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানিতে ধসে পড়ার পর দীর্ঘ এক যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও চরম ভোগান্তির শিকার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের মাঝখানে একপাশ দেবে গিয়ে কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা ব্রিজটির অবশিষ্টাংশ। দুই পাশের সংযোগ সড়ক বহু আগেই বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে। ফলে সেতু থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ অচল। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৪ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতারহাট সড়কের সাঁকোর পাড় এলাকায় খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুর একপাশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।এর ফলে লেনোরপাড়া, কুরারপাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতিপাড়া, বটতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বর্ষায় নৌকায় খাল পার হতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আলামীর হোসেন বলেন, “ব্রিজ ভাঙার পর চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার গেছি। ১২ বছরেও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।ডাঃ রতন বলেন, “এটাই ছিল উপজেলা শহরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। এখন আমরা যেন নিজ এলাকাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি।”শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, “বর্ষায় নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। আবার শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।”নুর নাহার বেগম বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খবর নেয় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। আমরা শুধু একটি নতুন ব্রিজ চাই।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙা ব্রিজের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও টেকেনি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ৩০ ফুট ব্রিজের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, “নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাত্র এক বছরেই ধসে পড়া ২৭ লাখ টাকার ব্রিজের নির্মাণমান ও তদারকির দায় কার? কেন ১২ বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ? আর কতদিন আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবে ২০ হাজার মানুষ?—এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত।

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

উলিপুর উপজেলার তবকপুরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হাজারো মানুষ। ক্ষোভে মানববন্ধন!

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

চিলমারীর ঐতিহ্যের টানে, নদের গানে, চলুন হারাই মাস্তুলের সাথে!

ভ্রমন তরী মস্তল সম্প্রতি কুড়িগ্রম জেলার চিলমরীতে ব্রহ্মপুত্র নদে এ এলাকার বিস্তির্ন চরাঞ্চলের মানুষের বসতি, জীবন যাত্রার মান, নতুন অভিজ্ঞতা ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে অনেক দূর থেকে এসেছে। দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, এ প্রতিপাদ্য যেন স্বচোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। সাধারনত পাহাড় দেখতে এ অঞ্চলের মানুষকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। কিন্তু  কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত  ১৭টি নদ-নদীর প্রবাহ, সংযোগ স্থান, দুধ কুমোর,ফুল কুমোর,সঙ্কোশ, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম,তিস্তা, ধরলা হলহলিয়া ও বিশেষ করে সাহেবের আলগা- বেগম গঞ্জের নুনখাওয়ায় সোজা পূর্ব থেকে ভারতের পাহাড়ের তলদেশ থেকে কিভাবে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা স্ব-চোখেই অবলোকন করা যায়। আর একটু দূর হতে হলেও আপনি যদি এ স্থানটিতে দাড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে তাকান দেখবেন কি এক অপূর্ব দৃশ্য!  চোখের সমনেই আসামের বিশাল নয়নাভিরাম সু-উচ্চ পাহাড়!!  তাৎক্ষনিক ভাবে ভুলেই যাবেন যে আপনি কোথায় আছেন। এ সব ছাড়াও চরাঞ্চলের গরু,মহিষের সারি, বির্স্তিন চর জুড়ে বাদম কলাই,ভূট্টা কতকি ফসল ও চর বসতিদের ঘরবসতি। সে দেখার সুযোগ গুলো এলাকার কিছু অর্বাচিনদের না ধারনায় বিরুপ হয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। তারপরও তারা একটু দূরে চলে গেলেও উত্তরবঙ্গের বিশাল সবনতন ধর্মাবলম্বিদের স্নান উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর অষ্টমীর মেলা উপলক্ষে মাস্তুল হাউসবোট নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ।  এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাসতল কতৃপক্ষের অষ্টমীর স্নান ও মেলা উদযাপন ভ্রমনের সুযোগ এনেছেন। তারা জানান, একদিকে ২০০ বছরের পুরনো মেলার লোকজ আমেজ, আর অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মাস্তুলের রাজকীয় আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আপনার এই ভ্রমণ হবে আজীবনের স্মৃতি!মাস্তলের এই ট্রিপে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের আহব্বান, চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী  অষ্টমীর মেলার বর্ণিল আয়োজন দেখার সুযোগ, ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ: গাইবান্ধার কামারজানি বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চরাঞ্চল ঘুরে দেখা, অভিজাত আবাসন: মাস্তুলের প্রিমিয়াম কেবিনে নদের বুকেই রাত কাটানোর রোমাঞ্চ। খাবার: ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার টাটকা আইড়, বাঘাইড় কিংবা বোয়াল মাছের জিভে জল আনা মেনু। শান্তি ও নির্জনতা: শহুরে কোলাহল ছেড়ে চরের বালুকাবেলায় সূর্যাস্ত দেখার প্রশান্তি। চিলমারীর অষ্টমীর মেলা (যা চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নান উৎসব)। তাদের এই যাত্রা শুরু হবে,  কামারজানী বন্দর হতে  ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অষ্টমীর মেলা ভ্রমণ।

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

কেন্দুয়ায় জাতীয়করণের আশ্বাস দিলেন সভাপতি ও এমপি পত্নী জাহানা আফরোজ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোণা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) উৎসবমুখর পরিবেশে সংবর্ধনা ওগ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহানা আফরোজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী সাত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় হাসেম বৃত্তি।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বাবুল আহম্মদ। সহকারী শিক্ষক ফারুক আহম্মেদ রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।অনুষ্ঠানে সংবর্ধনার জবাবে জাহানা আফরোজ বলেন, একসময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে বিদ্যালয়টিকে নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও জাতীয়করণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের কাছেও সুপারিশ করবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।জাহানা আফরোজ নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর সহধর্মিণী। অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া সাত শিক্ষার্থীর হাতে হাসেম বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিত শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা ও নাট্যাংশের অভিনয় উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দর্শকদের মুগ্ধ করে। আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

প্রতিটি কন্যাই একেকজন আলোর প্রদীপ- কেন্দুয়ায় এমপি হিলালী

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিশ্ব কন্যা দিবস পালন এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।সকাল ১১টায় ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “প্রতিটি কন্যাই একেকটি আলোর প্রদীপ।” তিনি কন্যাশিশুর অধিকার, মর্যাদা ও সম্ভাবনা বিকাশের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।পরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল-ইসলাম চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান।এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, প্রান্তিক ও প্রকৃত উপকারভোগী পরিবারের সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।দুটি সভায় উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও বিএনপি নেতা মজনু রহমান খন্দকার। মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি চারণ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা প্রমূখ।এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান,শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী,সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ,গণ-মাধ্যমকর্মী-গণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ এমপি মাজেদ বাবুর

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।স্ট্যাটাসে মাজেদ বাবু দাবি করেন, সার ডিলার লাইসেন্সকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লেখেন, “ঈশ্বরগঞ্জে এক টাকার অনৈতিক সুবিধা আমি নিই না, কোনো দিন নেবও না।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরিষা ইউনিয়নে ডিওর আওতার বাইরে সার ডিলার লাইসেন্স দেওয়া হলে এবং অন্যদের পাশ কাটিয়ে কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স পেলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।লাইসেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে কারা, কোথা থেকে এবং কত শতাংশ হারে টাকা নেন, তা তিনি জানেন বলেও স্ট্যাটাসে দাবি করেন। তবে এত দিন তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি বলে উল্লেখ করেন।স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এর অফিসিয়াল উত্তর না পাব, ঈশ্বরগঞ্জে কেউ কোনো মনোনীত লোক সার ডিলার লাইসেন্স পাবেন না।”তিনি আরও লেখেন, “আমাদের লোকেরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সার ডিলার লাইসেন্স দেবেন—তা হবে না। আমরা নিজেদের টাকায় থানায় গাড়ি কিনে দেব, আর আপনারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবেন—তা হবে না।”প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ সদস্য লেখেন, “কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার।”সার ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।সূত্র: সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাস লিঙ্ক-https://www.facebook.com/share/p/1DuzKZdqex/

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে' সম্পাদক মোস্তফা মামুন

‘ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে'; সম্পাদক মোস্তফা মামুনদৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শিক্ষক থেকে মাউশি’র ডিজি হলেন ড. কেএমএএম সোহেল, তার মূলশক্তি সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় গত ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড.সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারীএকান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারী কলেজ ও দিনাজপুর সরকারী কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি।বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অফ কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষাখাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।বর্অমানে অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন যা দেখে কিছু মানুষ তার এই কাজে ইর্ষা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে হেও পতিপন্ন করার জন্য নানা রকম প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

১৭ বছর পর ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।নির্বাচনে সভাপতি পদে মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহসভাপতি পদে আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিলন), কোষাধ্যক্ষ পদে এটিএম জোবায়েদ উর রহমান (জবা) এবং দপ্তর সম্পাদক পদে আব্দুল জলিল সরকার নির্বাচিত হয়েছেন। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ওয়াহেদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে মহসীন আলী, নুর আলম সিদ্দিক, সাজেদুর রহমান নওশাদ এবং মো. হেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুদ্দোহা দুলু। নির্বাচন পরিচালনায় একজন প্রিজাইডিং অফিসার, একজন পোলিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পার্বতীপুর মডেল থানা ও পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩০ মে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

একাত্তরের ৪ নভেম্বর: গণহত্যা দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি কেউ, অযত্নে ধুনটের গণকবর

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার ধুনটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ২৮ নিরীহ বাঙালি। তাঁদের স্মৃতি ধরে রেখেছে পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামের দুটি গণকবর। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের ভাগ্যে জোটেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। পরিচয়হীন ২১ শহীদের পরিচয় উদ্ধারে নেই উদ্যোগ, সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে গণকবর দুটি পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। এমনকি হত্যাযজ্ঞের দিনটিতেও শহীদদের স্মরণে নেওয়া হয়নি কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ধুনট থানা ভবন থেকে প্রায় ২০০ গজ পূর্বে পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামে পাশাপাশি অবস্থিত গণকবর দুটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কিংবা গণকবরের খোঁজখবর নিতে সেখানে কাউকে দেখা যায়নি।এক রাতেই নিভে যায় ২৮ প্রাণ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় রাজাকারদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে নিরীহ বাঙালিদের আটক করে ধুনট শহরে নিয়ে আসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। পরে তাঁদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। একপর্যায়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় ২৮ জনকে।হত্যাযজ্ঞ শেষে শহীদদের মরদেহ ধুনট থানা ভবনের প্রায় ২০০ গজ পূর্বে পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামে পাশাপাশি দুটি গণকবরে দাফন করা হয়।গণকবরের স্মৃতিফলকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, শহীদদের মধ্যে পরিচয় জানা গেছে সাতজনের। তাঁরা হলেন কান্তনগর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান, ভরনশাহী গ্রামের জহির উদ্দীন, মাঝবাড়ী গ্রামের ফরহাদ হোসেন, জিল্লুর রহমান ও পর্বত আলী, শিয়ালী গ্রামের নুরুল ইসলাম এবং চান্দারপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ। বাকি ২১ জনের নাম-পরিচয় আজও অজানা।পরিচয় শনাক্ত ও সংরক্ষণে নেই উদ্যোগ।স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পার হলেও পরিচয়হীন ২১ শহীদের পরিচয় শনাক্তে সরকারি কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একইভাবে গণকবর দুটি সংরক্ষণ, সংস্কার কিংবা সেখানে যথাযথ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেরও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।শহীদ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে তাঁরা শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কিংবা সরকারি সহায়তা পাননি। দেশের স্বাধীনতার জন্য স্বজনদের আত্মত্যাগের পরও তাঁদের পরিবারগুলো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। তাঁরা গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা, শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং স্বজনহারা পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।গণহত্যা দিবসেও প্রশাসনের কর্মসূচি নেই।বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ধুনট উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ফেরদৌস আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাক সেনাদের গুলিতে নিহতদের পরিবারগুলোকে সহায়তা এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাবি জানানো হলেও কোনো সুফল মেলেনি। অথচ আজকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ গণহত্যা দিবসেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। এমনকি কেউ গণকবরটি দেখতেও আসেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’তিনি আরও বলেন, অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহাসিক গণকবর দুটি দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।প্রশাসন বলছে, জানালে পাশে থাকবে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ আমার সঙ্গে দেখা করেছেন, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁরা আমাকে কিছু জানাননি। বিগত বছরগুলোতে এ দিবস উপলক্ষে কোনো আয়োজন হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও আমি অবগত নই। তাঁরা আয়োজন করতে চাইলে আমরা অবশ্যই সঙ্গে থাকব।’স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ধুনটের ২৮ শহীদের স্মৃতিবিজড়িত গণকবরের এমন অবহেলা স্থানীয় ইতিহাস সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরছে। শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গণকবর সংরক্ষণ, পরিচয়হীন শহীদদের পরিচয় অনুসন্ধান এবং তাঁদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি এখন সময়ের।

বিস্তারিত

ধুনটে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ধুনট বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।গ্রেপ্তার সজিব ইসলাম ধুনট পৌর শহরের সদরপাড়া এলাকার শাহ আলী ইসলামের ছেলে।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধুনট শহরের শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একটি মশাল মিছিল বের করেন। এ সময় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন সেখ ও তাঁর লোকজন মিছিলে বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন মিছিলকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রিপন সেখ বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলা করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯৬ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে সজিব ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, এ মামলার অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিস্তারিত

আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত দুই শতাধিক, কারখানায় অগ্নিসংযোগ

সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভ পঞ্চম দিনে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার সকালে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক এবং হেমায়েতপুর এলাকায় শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। এছাড়া শিল্প পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকেরা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্মবিরতি পালন শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে অনন্ত গ্রুপ এবং হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে শ্রমিকেরা সমবেত হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের কাছে একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে আশুলিয়া ও সাভার এলাকার প্রায় ২৩০টি পোশাক কারখানায় আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ায় ২৩০ টি গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। এর পর সাভারজুড়ে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে যানচলাচলে অবরোধ সৃষ্টি করে ফেলে।সংঘর্ষের সময় শিল্প পুলিশ-১ এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদ ইটপাটকেলের আঘাতে সামান্য আহত হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন এবং এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দুপুর দেড়টার পর থেকে পুরো শিল্পাঞ্চল জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিক ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ইতিমধ্যে আশুলিয়া থানা পুলিশ বাইপাইল এলাকা থেকে দুজনকে আটক করেছে। তবে আটকরা প্রকৃত শ্রমিক নাকি বহিরাগত, তা এখনও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। আরিচা মহাসড়কে যানজট পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দাবি করেন, বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে ঢুকে নাশকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তার মতে, একটি মহল পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করতে শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করে সড়ক অবরোধে বাধ্য করছে। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে যে, বহিরাগতরা জোরপূর্বক কারখানা বন্ধ করে শান্তিপ্রিয় শ্রমিকদের মহাসড়কে আসতে বাধ্য করায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

বিস্তারিত

এইচএসসিতে ভরাডুবি, শিক্ষকদের ফুল দিয়ে ছাত্রদলের অভিনব প্রতিবাদ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটির ৩০০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ২৪৭ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এতে কলেজের পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশে। এই নজিরবিহীন ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানাতে এক অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছেন স্থানীয় উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৭ জনই ফেল করেছে।সোমবার সকালে উপজেলা ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধি দল কলেজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্যান্য শিক্ষকদের ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে এই প্রতিবাদ জানান। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ ছাত্রদলের অন্য নেতারা।ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার এমন ফলাফলের দায় কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। তিনি জানান, তাদের কাছে ফুল হচ্ছে প্রতিবাদের একটি ভাষা। ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এদিকে, এই ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়— ‘প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরেছে তাদের’

সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ এএম
সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ এএম
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, পিএইচডি অর্জন শেষে বললেন নূর মোহাম্মদ

হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
হাতিরঝিলে বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: এক অনন্য মহাযজ্ঞ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ এএম
ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ চান তরুণ লেখকরা

মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
মহেশখালীর শাপলাপুর জলেয়ারমার ঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

২৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ববির ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে জাহিদ ও হোসেন।

যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
যে ভোটে মিশে আছে জুলাইয়ের কান্না আর আগামীর স্বপ্ন

বিশ্বসেরা ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেলেন চবির ৭ শিক্ষক

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
বিশ্বসেরা ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেলেন চবির ৭ শিক্ষক

ইশ্বরগঞ্জের সোহাগীতে ফয়সালাকৃত জমির সীমানার খুঁটি উপড়ে ফেলায় উত্তেজনা

৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১০ পিএম
ইশ্বরগঞ্জের সোহাগীতে ফয়সালাকৃত জমির সীমানার খুঁটি উপড়ে ফেলায় উত্তেজনা

এন্ড্রু কিশোরের জন্মবার্ষিকীতে স্মৃতিতর্পণ করে হানিফ সংকেতের শ্রদ্ধা

৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
এন্ড্রু কিশোরের জন্মবার্ষিকীতে স্মৃতিতর্পণ করে হানিফ সংকেতের শ্রদ্ধা

পার্বত্য জনপদে যোগাযোগ ও উন্নয়নে বদল আনছে সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবি

৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
পার্বত্য জনপদে যোগাযোগ ও উন্নয়নে বদল আনছে সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবি

চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাতের মধ্যে কাঁচ রেখেই সেলাইয়ের অভিযোগ।

৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাতের মধ্যে কাঁচ রেখেই সেলাইয়ের অভিযোগ।

পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়তে ক্লিনিং সপ্তাহের কর্মপরিকল্পনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের

৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়তে ক্লিনিং সপ্তাহের কর্মপরিকল্পনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের

একাত্তরের ৪ নভেম্বর: গণহত্যা দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি কেউ, অযত্নে ধুনটের গণকবর

৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
একাত্তরের ৪ নভেম্বর: গণহত্যা দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি কেউ, অযত্নে ধুনটের গণকবর

কোহলির রেকর্ড ও আর্শদীপের বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয়

৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
কোহলির রেকর্ড ও আর্শদীপের বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয়

মোংলা বন্দরে চার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
মোংলা বন্দরে চার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের অর্জন ও রাশিয়ার মাশুল: কৌশলগত হিসাব

৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের অর্জন ও রাশিয়ার মাশুল: কৌশলগত হিসাব

চিকিৎসাসেবায় জবির পাশে ইবনে সিনা, মিলবে বিশেষ ছাড়

৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
চিকিৎসাসেবায় জবির পাশে ইবনে সিনা, মিলবে বিশেষ ছাড়
PublicVoice representative application
হিরোগিরি

হিরোগিরি

৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ এএম

সিনেমা হলের ভেতর চলছে তুমুল অ্যাকশন দৃশ্য। এক যুবক মনোযোগ দিয়ে সিনেমা দেখছে, কিন্তু তার পাশের সিটে বসা এক বৃদ্ধের কারণে সে বেশ অস্বস্তিতে আছে। বৃদ্ধের হাতে একটি ছোট পেপসির বোতল, আর তিনি ঠিক পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর বোতলে একটা জোরালো চুমুক দিচ্ছেন। শব্দটা যুবকের সিনেমার উপভোগে বারবার বাধা সৃষ্টি করছিল। অনেকক্ষণ সহ্য করার পর যুবকের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে বিরক্ত হয়ে বৃদ্ধের হাত থেকে বোতলটা ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে বলল, "চাচা, সিনেমার চেয়ে আপনার পেপসি খাওয়া নিয়ে আমি বেশি ডিস্টার্ব হচ্ছি। এটুকু পানীয় খেতে এত নাটক করতে হয়? এই দেখুন, কীভাবে একবারে শেষ করতে হয়!"এই বলে যুবক বোতলটি মুখে দিয়ে এক ঢোকে সবটুকু পানীয় গিলে ফেলল। তারপর বোতলটা বৃদ্ধের হাতে ফেরত দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসল।বৃদ্ধ বোতলটা হাতে নিয়ে অবাক চোখে যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন, "বাবা, আমার পেপসিটা তো তুমি খেলে না, কারণ ওটা তো পেপসিই ছিল না। আসলে আমার পানের অভ্যেস তো, তাই পানের পিকগুলো ওই বোতলে ফেলছিলাম!"