বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৫ আগস্টের পর একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়, প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে অপমান, সংঘর্ষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজসহ উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য এবং কখনো কখনো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ—এসব ঘটনাও সামনে এসেছে।এই ধারাবাহিক বিতর্কের অন্যতম আলোচিত নাম আ ন ম আয়াস। কে তিনি?প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আ ন ম আয়াস বর্তমানে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (SDF)- নামে একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, তিনি ২০২৭–২০২৮ মেয়াদের জন্য দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক/সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—একজন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠকের কর্মকাণ্ড কেন বারবার বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে?১. ধানমন্ডি-৩২: ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে জনতার হাতে আইন?১৫ আগস্ট ২০২৬ ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি অবস্থান নেন বলে প্রথম আলো ও ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।সেখানে মোবাইলে ভিডিও ধারণের অভিযোগে একজন রিকশাচালকের ফোন পরীক্ষা করা এবং পরে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতে ওই রিকশাচালক মারধরের শিকার হওয়ার কথা সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে। আরও কয়েকজনকে মারধর এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখানেই—কেউ অপরাধ করেছে বলে সন্দেহ হলেই কি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী তাকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা মারধর করতে পারেন?অপরাধের অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। বিচার করার দায়িত্ব আদালতের। রাজনৈতিক পরিচয় কখনোই কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার দেয় না।২.“নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে এই আয়াস। প্রথম আলো জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের নিয়ে কথিত কটূক্তির অভিযোগ তুলে আয়াস শান্তা ফারজানাকে চড় মেরেছিলেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। পরে ৪ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উভয় পক্ষের শারীরিক আঘাতের দৃশ্য দেখা গেলেও ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি বলে প্রথম আলো উল্লেখ করেছে।অর্থাৎ এখানে একতরফা গল্প নয়—দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই শারীরিক সংঘর্ষের অভিযোগ ও ভিডিও রয়েছে।রাজনৈতিক মতবিরোধের সমাধান যদি চড়, ঘুষি, লাঠি বা পাইপে হয়, তাহলে সেটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অবশ্যই গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।৩. সাকিব-মাশরাফিসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন১৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের সভাপতি আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজাসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকে আবেদন করে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।আবেদনে আয়-ব্যয়, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, সরকারি অনুদান ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা জরুরি—দুদকে অভিযোগ করা মানেই দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়া নয়।অভিযোগ তদন্ত হবে, প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে; আর প্রমাণ না থাকলে অভিযোগের ভিত্তি থাকবে না।৪. সাকিব আল হাসানের বাড়ির সামনে সর্বশেষ বিতর্ক২০ সেপ্টেম্বর রাতে মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়ির সামনে আ ন ম আয়াসের অসামাজিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিডিওতে সাকিবের বাড়ির গেটের সামনে আয়াসকে মূত্রত্যাগ করতে দেখা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। জাগো নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি যদি ভিডিওতে দেখানোভাবেই ঘটে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক মতবিরোধ প্রকাশের এটি কোনো গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না।একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বাংলাদেশ ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি সাকিব আল হাসানের সঙ্গে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলেও তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে এমন আচরণ করা কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ হতে পারে না।তাহলে বিতর্কটা কোথায়?সমস্যা শুধু আ ন ম আয়াসকে ঘিরে নয়।সমস্যা হলো—রাজনীতিতে কি যুক্তির জায়গা দখল করবে গালি?আলোচনার জায়গা দখল করবে মারামারি?আইনের জায়গা দখল করবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়?আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাড়ির সামনে গিয়ে অপমান করাই কি প্রতিবাদের নতুন ভাষা হবে?একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিচয় কারও জন্য অতিরিক্ত ক্ষমতার লাইসেন্স হতে পারে না।কেউ ‘জুলাই যোদ্ধা’ হলে তাঁর সম্মান থাকতে পারে, তাঁর ত্যাগের স্বীকৃতি থাকতে পারে—কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে থাকার অধিকার থাকতে পারে না।একইভাবে কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক অপরাধ বা অন্য কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, মামলা হোক, বিচার হোক।কিন্তু জনতার আদালত নয়।মব নয়।গালিগালাজ নয়।মারধর নয়।অপমান-অপদস্থ করাও নয়।বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি সত্যিই নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে সেই সংস্কৃতির ভিত্তি হতে হবে—যুক্তি, শালীনতা, জবাবদিহি, প্রমাণ এবং আইনের শাসন।আ ন ম আয়াসের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর কোনটি সত্য, কোনটি অতিরঞ্জিত এবং কোনটি প্রমাণিত নয়—তা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া।কিন্তু একটি নীতিগত প্রশ্ন সবার জন্যই প্রযোজ্য—রাজনীতির নামে কেউ যদি অন্যকে অপমান করেন, মারধর করেন, মবের হাতে তুলে দেন কিংবা প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত পরিসরকে অপমানের মঞ্চ বানান—সেটি যে পক্ষই করুক, তার জবাবদিহি থাকা উচিত।কারণ "জুলাইয়ের চেতনা যদি হয় বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো", তাহলে সেই চেতনার নামে নতুন অন্যায় প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ কারও থাকা উচিত নয়।বাংলাদেশের রাজনীতি হোক প্রতিহিংসার নয়—আইন, যুক্তি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের।অভিযোগের বিচার হোক আদালতে,প্রতিপক্ষের জবাব হোক যুক্তিতে,আর রাজনীতির ভাষা হোক শালীনতায়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে চলচ্চিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ (সিইউএফএস) ও সিনেলুপের যৌথ উদ্যোগে। আয়োজকবৃন্দ জানিয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য প্রদর্শনীর টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।জানা গেছে, মোহাম্মদ নূরুজ্জামান রচিত ও পরিচালিত ৯৩ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘মাস্তুল’ নির্মিত হয়েছে একটি তেলের ট্যাঙ্কার জাহাজের আবদ্ধ ও ভাসমান জীবনের প্রেক্ষাপটে।চলচ্চিত্রটির গল্প আবর্তিত হয়েছে জাহাজের বুড়ো বাবুর্চি মকবুল এবং এক আশ্রয়হীন পথশিশু নূরাকে ঘিরে। ভাসমান জাহাজের একাকীত্ব, জীবনসংগ্রাম, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও জটিল মানবিক সম্পর্কের নানা দিক উঠে এসেছে এতে।আরও জানা যায়, ‘মাস্তুল’-এর প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু ও আরিফ হাসান। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন দীপক সুমন ও আমিনুর রহমান মুকুল। চলচ্চিত্রের আবহকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলতে এতে জাহাজের আসল নাবিক ও কর্মীরাও অভিনয় করেছেন। এর আগে ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ নির্মাণ করে প্রশংসা কুড়ানো এই পরিচালকের চলচ্চিত্রটি নতুন সংযোজন।প্রসঙ্গত ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার অর্জন করে ‘মাস্তুল’। এ অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে চলচ্চিত্রটি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটলট্রেন সংস্কারে চাকসুর উদ্যোগে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাপরিচালকের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সভার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক মো. ইসহাক ভুঁইয়া। তিনি বলেন, গতকাল সোমবার চাকসুর উদ্যোগে পূর্ব নির্ধারিত সময়ানুযায়ী রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নবনিযুক্ত মহাপরিচালকের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটলট্রেনের লাইন সংস্কার, স্টেশন রেনোভেশনসহ সমস্যা সমাধানে জরুরি ১৫টি পদক্ষেপ নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভা সূত্রে জানা যায়, চবি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া শাটল ট্রেনের বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এসময় উপস্থিত রেলওয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ স্ব স্ব বিভাগের সমস্যাগুলো সমাধানে গ্রহণীয় উদ্যোগসমূহ ব্যাখ্যা করেন। পরে সর্বশেষ রেলওয়ের মহাপরিচালক (পূর্ব) সবগুলো সমস্যা সমাধানে স্বল্প মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি ১৫টি উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানান।এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম, সিইই মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সিএমই মোহাম্মদ জাকির হাসান, সিএসটিই তারেক মো. সামছ তুষার, সিসিএম সুজিত কুমার বিশ্বাস, ডিআরএম মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা, সিওপিএস-ই মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, ডিইই মো. তাকি আল জাওয়াদ, এজিএম শেখ ফরিদ, ডিটিও ফারহান মাহমুদ, এসি আরএনবি সালামত উল্লাহ, সিআরএনবি মো. মোরশেদ আলম, ডিএমই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ উপস্থিত ছিলেন। চবির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হোসাইন, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা, সহ-যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবাইদুল সালমান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতব্বর উপস্থিত ছিলেন।চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, শাটলের সমস্যাসমূহ সমাধানে ইতিপূর্বে প্রায় ৫ বার রেলওয়ের সাথে আমাদের সভা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে শাটলে পাওয়ার কার সংযোজন, নতুন রেক সংযোজন, নিয়মিত নিরাপত্তা অভিযান, লাইট ফ্যান সচল করাসহ অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হয়েছে। কিন্তু বগি স্বল্পতার কারণে শাটলে শিক্ষার্থীরা অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আজকে সভায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, পিক আওয়ারে নতুন একটি ট্রিপ চালু করা এবং বগির বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্যাম্পাস স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংস্কার করা। আশা করছি, আজকে সিদ্ধান্ত হওয়া পদক্ষেপগুলো যথাযথ সময়ে গ্রহণ করতে পারলে শিক্ষার্থীরা পরিবহনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।স্বল্প মেয়াদি ১০ উদ্যোগ:১. ২য় ট্রেনটির কোচ পরিবর্তন করে নতুন কোচ সংযোজন।২. প্রতি সপ্তাহে ট্রেন ক্লিনিংয়ের ব্যবস্থা করা।৩. দুপুর ২:০০ টা থেকে ৩:৩৫ টার মধ্যে নতুন ট্রিপ সংযোজন।৪. ক্যাম্পাস স্টেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা মেরামত করা।৫. শাটলের সব লাইট, ফ্যান সংস্কার করা।৬. রাতের বেলায় ট্রেনের দরজা, জানালা অফ রাখা।৭. শাটল অ্যাপকে রেলওয়ের রেগুলার সার্ভিসে অন্তর্ভুক্তিকরণ।৮. শিডিউল বিপর্যয় রোধে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান।৯. রেললাইনের দুই পাশের ঝোপ ঝাড় পরিস্কার করা।১০. পাথর নিক্ষেপ বন্ধে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে তড়িৎ অভিযান।দীর্ঘমেয়াদি ৫ উদ্যোগ:১১. নতুন ইঞ্জিন সংযোজন।১২. ক্যাম্পাস স্টেশান রেনোভেশান। অলরেডি টেন্ডারে গিয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।১৩. ক্যাম্পাস স্টেশানে রেললাইনের দৈর্ঘ বৃদ্ধি করা। ন্যুনতম চৌদ্দটি বগি সংযোজন যোগ্য করে লাইন সংস্কার। লাইন সংস্কার শেষে বগি বৃদ্ধি করা হবে।১৪. ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত রেললাইন সম্পূর্ণ সংস্কার করা হবে।১৫. অক্সিজেন স্টপেজ চালু করার লক্ষ্যে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
গৎবাঁধা শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রফেশনাল ডিগ্রি অর্জনও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী।ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর সহযোগিতায় এবং বেরোবি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের আয়োজনে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের গ্যালারী রুমে ‘প্রফেশনাল সিএমএ কোয়ালিফিকেশন: অ্যান এক্সাইটিং সাকসেস রুট’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।উপাচার্য বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শিক্ষার্থীদের কেবল গতানুগতিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং প্রফেশনাল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে হবে।এ সময়, সিএমএ-এর মতো পেশাগত যোগ্যতা শিক্ষার্থীদের কর্পোরেট জগতে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। একইসঙ্গে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ ধরনের পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যা দেন ড. শওকাত আলী।সেমিনারে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিএমএবি-এর সহ-সভাপতি এস. এম. জহির উদ্দিন হায়দার এফসিএমএ এবং কনকর্ড গ্রুপ অব কোম্পানির হেড অব স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস ফারুক আহমেদ এসিএমএ। এছাড়া রিসোর্স পারসন হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএমএবি-এর একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. মোঃ মামুনুর রশিদ এফসিএমএ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম সিদ্দিক। বক্তারা সিএমএ শিক্ষার গুরুত্ব, ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা এবং পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সেমিনারটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।সেমিনার শেষে শিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে বেরোবি এবং আইসিএমএবি-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী। বেরোবি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ নুর আলম সিদ্দিক এবংআইসিএমএবি-এর সহ-সভাপতি এস. এম. জহির উদ্দিন হায়দার এফসিএমএ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা প্রসারে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের আইসিএমএবি কোর্স ওয়েভারসহ বিভিন্ন পেশাগত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আইসিএমএবি-এর সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত দিকগুলো আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউট্যাব (ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ) সংগঠনটি যখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন লন্ডনে থাকা অবস্থায় তিনি এর অনুমোদন দেন এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভূমিকা রাখেন।
—ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।এ সময় ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান।আরও অতিথি ছিলেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. তোজাম্মেল হোসেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাকির হুসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মমতাজ হোসেন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী।আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষকদের এখানে এবং বাইরেও বিভিন্ন দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে— এটা আমাদের জন্য গর্বের। আমাদের আচার্য যেই নিয়তে আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন সেই দায়িত্বটা যেন আমরা যথাযথভাবে পালন করতে পারি এজন্য দোয়া চাই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক ইসলামিক, সাধারণ ও বিজ্ঞান শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ইউট্যাব (ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ) সংগঠনটি যখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন লন্ডনে থাকা অবস্থায় তিনি এর অনুমোদন দেন এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ইউট্যাব-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম এবং মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, মামলা-হামলা ও গুম হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা অন্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বড় অর্জন। আমরা একজোট হয়ে এই ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে পেরেছি।