মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে তিন দিনব্যাপী বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও ডয়েচে ভেলের যৌথ আয়োজকবৃন্দ। তারা জানায়, গত ২৬ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট মোট তিন দিনব্যাপী চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে এ বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও ডয়েচে ভেলে (DW Akademie)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি ‘Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0’ প্রকল্পের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রত্যাশা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা তথ্যভিত্তিক মতামত গঠন, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা পালন এবং গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচির শিরোনাম ছিল “Bootcamp for Youth Members of University Clubs on MIL, Digital Safety and Constructive Dialogue”. যা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি ক্লাবের মোট ৩০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। ক্লাবগুলো হলো— চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস), এক টাকায় শিক্ষা, আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাস, রেনডেনভাজ শিল্পীগোষ্ঠী (রঁদেভু) এবং চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ডিবেট। ডয়েচে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক মাসফিক মিজান এবং নাইমুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পাঁচজন ফেলো কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণদের সামনে তথ্য বিভ্রান্তি (misinformation), বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অনলাইন হয়রানি, গুজব এবং নারীদের বিরুদ্ধে ডক্সিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এই প্রশিক্ষণে।এতে ট্রেইনিং দিয়েছেন ডয়েচে-ভেলে একাডেমির ফ্যাসিলিটেটর মাইশা তাবাসসুম রিন্তা, নওরিন হক, অর্পণ ধর, নূর আহসান মৃদুল ও জাওয়াদ উর রাকিব খান।অংশগ্রহণকারীরা তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল মতামত প্রকাশ এবং গঠনমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি বলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশন এই বুটক্যাম্পের মাধ্যমে যে তিনটা বিশেষ বিষয়ের ওপর জোরদার করছেন, একটা হচ্ছে মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি—তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কৌশল। এরপর তারা বলছে- অনলাইন সহিংসতা থেকে সুরক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা।তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আজকের জন্য যেমন আলোকবর্তিকা, ভবিষ্যতের জন্যও তোমরা আলোকবর্তিকা। তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে—তোমরা যে সমাজ দেখতে চাও, সেই সমাজ তৈরিতে ভূমিকা রাখা।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মিডিয়া শুধু পত্রিকায় লেখালেখির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তির কারণে প্রত্যেক তরুণের হাতেই বিশ্বকে সংযুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তাই এই সুযোগকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে।অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সাংবাদিকতা বা কোনো তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কোনো সংবাদ বা বক্তব্যের কারণে ব্যক্তি, পরিবার কিংবা সমাজে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেটিও দায়িত্বশীলভাবে ভাবতে হবে।এছাড়াও আরো অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা এবং এক টাকায় শিক্ষা ক্লাবের ফাউন্ডার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিজুয়ান । আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, কমিউনিকেশন এন্ড ষ্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট অফিসার সাইফুর রহমান এবং রিসার্স এন্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিষ্ট সাজ্জাদুল করিম। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং জার্মান ফেডারাল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। নবীনবরণ প্রদান করেছেন ২০২৫-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা।সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অনুষদের মিলনায়তন কক্ষে বিভাগের এ নবীনবরণের আয়োজন সম্পন্ন হয়। শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আতাহার এবং আব্দুল্লাহ আল নাঈমের সঞ্চালনায় নবীন বরণে উপস্থিত ছিলেন চবির ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ, আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ইউনুস, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি।আরও উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক ও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী হারেস মাতব্বর, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ আহনাফ এবং সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি নেয়ামত উল্লাহ আবরার ফারাবী, আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব মাহমুদ রুমী, বাংলাদেশ অনলাইন মাদরাসার পরিচালক ও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত আকন্দসহ ২৪-২৫ এবং ২৫-২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আমাদের অনেক সম্ভাবনা ও প্রাপ্তি রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় আমরা নিজেদের দেশ, মানুষ ও পরিচয়ের মূল্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করি না। একজন বাংলাদেশি হিসেবে গর্ব করার মতো অনেক কিছুই আমাদের আছে। তাই দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের মানুষকে নিয়ে গর্ব করতে হবে এবং নিজের বাংলাদেশি পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করতে হবে। আমাদের সম্ভাবনাগুলোকে চিনতে হবে এবং নিজেদের প্রাপ্তিগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।অনুভূতি প্রকাশ করে ২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মারুফ বলেন, গতকাল থেকেই একটু অসুস্থ ছিলাম। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হলো, ‘আজ তো আমাদের প্রোগ্রাম!’ এরপর আর কিছু না ভেবেই রওনা হয়ে গেলাম। প্রোগ্রামে এসে এত সুন্দর আয়োজন, এত প্রাণবন্ত পরিবেশ আর উৎসবমুখরতা দেখে মনে হলো, অসুস্থতা যেন অর্ধেকেরও বেশি সেরে গেছে। দুপুরের আগেই বেশ ভালো লাগতে শুরু করেছিল। আর দুপুরের পর কাওয়ালী ও নাটক উপভোগ করতে করতে বাকি অসুস্থতাটুকুও কোথায় যেন হারিয়ে গেল! আমি মনে করি, এত সুন্দর প্রোগ্রাম কোন সিনিয়র ব্যাচ তাদের জুনিয়রদেরকে দেয়নি। আমরা সত্যিই আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়র হিসেবে এমন একটি ব্যাচকে পেয়ে অনেক আনন্দিত।চবির আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার বলেন, আমাদের মধ্যে এক ধরনের হীনমন্যতাবোধ কাজ করে। বিশেষ করে আমরা যখন কুরআন, ইসলাম ও আমাদের ধর্মীয় পরিচয়কে ধারণ করার কথা বলি, তখন অনেক সময় মনে করি, এগুলো প্রকাশ করলে হয়তো আমরা পিছিয়ে পড়ব, কিংবা অন্যদের কাছে নিজেদের ছোট করে ফেলব। এই হীনমন্যতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেখানকার মানুষ তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিসর্জন দেয়নি। তারা রাষ্ট্রের কাঠামোকে একভাবে ধারণ করে, আবার নিজেদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ করে।তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে আরো বলেন, তাহলে আমাদের ক্ষেত্রে কেন হীনমন্যতা থাকবে? আমরা কেন কুরআন ও ইসলামের প্রতি আমাদের বিশ্বাস এবং পরিচয় নিয়ে সংকোচবোধ করব? আমাদের উচিত নিজের পরিচয়কে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ধারণ করা। ইসলাম ও কুরআনের প্রতি বিশ্বাস কোনো হীনমন্যতার বিষয় নয়; বরং এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। সেখানে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, প্যাড, কলমসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া এই নবীনবরণ অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলে জানান আয়োজক কমিটি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিসিএসের প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার গাইডলাইনের উদ্দেশ্যে ‘ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার’ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে চাকসু এবং ক্যারিয়ার এইড কোচিংয়ের যৌথ উদ্যোগে এই ক্যারিয়ার গাইডলাইনমূলক প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চাকসুর নির্বাচিত সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদার সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবির ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বরকত উল্লাহ, রাবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য ও অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ৩৮তম বিসিএস ক্যাডার (শিক্ষা) তাহের শওকত, ৪৩তম বিসিএস (অডিট এন্ড একাউন্টস) রোরহান উদ্দীন, জিএস সাইদ বিন হাবিব, চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, চাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মেহেদী হাসান সোহান, নির্বাহী সম্পাদক আদনান শরীফ, সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাসহ অন্যান্যরা।অধ্যাপক ড. কাজী বরকত আলী বলেন, বিসিএস পরীক্ষা একটা যুদ্ধ। বিসিএস পরীক্ষাটা হয় মূলত বাদ দেওয়ার জন্য, কাউকে নেওয়ার জন্য নয়। যদি চাকরি পেতে চাও, তোমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিটা সাবজেক্ট ও টপিক সিলেকশন করে বুঝে বুঝে এখনই ভবিষ্যতের পথরেখা তৈরি করে নাও। সর্বোপরি বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, বিসিএস ক্যাডার হওয়ার বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন ক্যাডার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ হলো, আগামী দিনে রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পাওয়া। কিন্তু সেই দায়িত্বের জায়গায় বসে যদি আমরা আমানতের খেয়ানত করি, নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করি কিংবা রাষ্ট্রকে জিম্মি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করি, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের যাদের যে অধিকার, আমরা যদি সেই অধিকার তাদের বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের দায়িত্ব পালনের সার্থকতা কোথায়? সাধারণ রিকশাচালক, দিনমজুর ও শ্রমিকসহ দেশের সাধারণ মানুষ তাদের উপার্জনের অর্থ থেকে কর দেন। সেই করের টাকায় আমাদের পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পেছনে রাষ্ট্র বিনিয়োগ করে। তাই ক্যাডার হওয়ার পর তাদের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই বিনিয়োগের প্রকৃত মূল্য তখনই দেওয়া সম্ভব, যখন আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রের মানুষের সেবা করব এবং নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় একটি অদ্ভুত ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো প্রশাসনিক কাজ করতে পারবেন। এই ধারণাটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব কী? খুব সাধারণভাবে বললে, teaching, research এবং academic service। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। শিক্ষককে শিক্ষক থাকতে দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষককে প্রশাসক বানিয়ে আমরা হয়তো একজন মাঝারি মানের administrator পাচ্ছি, কিন্তু একই সঙ্গে একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষককে হারাচ্ছি। —অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইনএকজন শিক্ষককে একই সঙ্গে প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন কমিটির সভাপতি, ক্রয় কমিটির সদস্য কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে ধীরে ধীরে শিক্ষকতার মূল কাজই অনেক সময় গৌণ হয়ে পড়ে।সম্প্রতি এক সহকর্মী আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরদের দায়িত্ব নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন শিক্ষক আর আগের মতো শিক্ষক ও গবেষক থাকতে পারেন না। তাঁর ক্লাসরুম teaching ক্ষতিগ্রস্ত হয়, গবেষণার সময় কমে যায় এবং সবচেয়ে বড় কথা, ছাত্র-শিক্ষকের স্বাভাবিক সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়।আমার মনে হয়, বিষয়টি শুধু প্রভোস্ট বা হাউজ টিউটরের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।একজন শিক্ষক যখন আবাসিক হলের প্রভোস্ট হন, তখন তাঁর কাজ শুধু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁকে হলের আবাসন, খাবার, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, কর্মচারী, অবকাঠামো, বিভিন্ন অভিযোগ, নানা ধরনের দাবি-দাওয়া এবং কখনো কখনো রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হয়। এসব কাজের অধিকাংশের সঙ্গে তাঁর শিক্ষকতা বা গবেষণার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।আরেকটি জটিলতা তৈরি হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ক্ষেত্রে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষক, পরামর্শদাতা ও কখনো mentor। কিন্তু হল প্রশাসনে সেই একই শিক্ষক হয়ে যান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। কোনো শিক্ষার্থী সিট পেল না, খাবার নিয়ে অভিযোগ করল, কোনো নিয়ম ভাঙল কিংবা কোনো সুবিধা চাইল, তখন শিক্ষককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ফলে একাডেমিক সম্পর্কের জায়গায় প্রশাসনিক সম্পর্ক চলে আসে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।• একজন ভালো শিক্ষক কি অবশ্যই একজন ভালো প্রশাসক?উত্তরটি সম্ভবত না। Teaching এবং administration দুটি ভিন্ন ধরনের competency। একজন অসাধারণ গবেষক বা শিক্ষক হয়তো অত্যন্ত দক্ষ administrator নাও হতে পারেন। আবার একজন পেশাদার administrator হয়তো গবেষণা করতে পারবেন না, কিন্তু একটি বড় আবাসিক হল দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির একটি বড় কারণ এই সকল প্রশাসনিক পদের সুযোগ সুবিধা ভোগ করা । এসকল পদে যদি শিক্ষকদের নিয়োগের কোনো সুযোগ না থাকে তাহলে শিক্ষকরা আর কোনো দল বা গ্রুপের লেজুড়বৃত্তি করবেনা । অনেকেই সাহস করে হক কথাটা বলতে পারবে। —অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইন।বিশ্বের অনেক আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে academic leadership এবং professional administration-এর মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নেতৃত্বে শিক্ষক ও গবেষকরাই থাকেন। Vice-Chancellor, Pro-Vice-Chancellor, Dean, Department Chair কিংবা Head-এর মতো পদগুলো একাডেমিক নেতৃত্বের অংশ। কিন্তু human resources, transport, finance, procurement, accommodation, facilities management, student services, security ইত্যাদি দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের জন্য থাকে পেশাদার প্রশাসক। আমাদেরও ধীরে ধীরে এ ধরনের কাঠামোর দিকে যাওয়া দরকার।বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নীতি নির্ধারণ, curriculum development, research management, academic quality assurance কিংবা শিক্ষার্থীদের academic mentoring-এর মতো কাজে শিক্ষকদের নেতৃত্ব অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু একজন শিক্ষককে কেন প্রতিদিনের হল প্রশাসন, খাবারের মান, কর্মচারী ব্যবস্থাপনা, সিট বরাদ্দ কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক অভিযোগ সামলাতে হবে?এ ধরনের কাজের জন্য professional university administrator থাকা অনেক বেশি যৌক্তিক।এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থও সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে একজন শিক্ষক তাঁর মূল কাজের জন্য সময় পাবেন। একজন শিক্ষক যদি প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে সপ্তাহের একটি বড় অংশ ব্যয় করেন, তাহলে সেই সময়টি আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের teaching এবং research থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত productivity কমার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক academic productivity-ও কমে।শুধু শিক্ষককে সরিয়ে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশাসনিক কাঠামোকে পেশাদার করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী trained residential administrators, student affairs professionals, facility managers এবং অন্যান্য দক্ষ প্রশাসনিক জনবল নিয়োগ করতে হবে। তাদের দায়িত্ব, জবাবদিহি ও কর্তৃত্বও স্পষ্ট করতে হবে।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বকে অনেক সময় মর্যাদার বিষয় হিসেবেও দেখা হয়। কে প্রভোস্ট হলেন, কে প্রক্টর হলেন, কে কোনো কমিটির সভাপতি হলেন, এগুলো যেন অনেক সময় এক ধরনের পদমর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির একটি বড় কারণ এই সকল প্রশাসনিক পদের সুযোগ সুবিধা ভোগ করা । এসকল পদে যদি শিক্ষকদের নিয়োগের কোনো সুযোগ না থাকে তাহলে শিক্ষকরা আর কোনো দল বা গ্রুপের লেজুড়বৃত্তি করবেনা । অনেকেই সাহস করে হক কথাটা বলতে পারবে।শিক্ষককে শিক্ষক থাকতে দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষককে প্রশাসক বানিয়ে আমরা হয়তো একজন মাঝারি মানের administrator পাচ্ছি, কিন্তু একই সঙ্গে একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষককে হারাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সে প্রশ্নটি এখন আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা দরকার।লেখক: অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইন, আধুনিক ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘South Asian Excellent Award-2026’ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মোরশেদুল আলম।বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর হোটেল থামেল পার্কের অডিটোরিয়ামে South Asian Social Cultural Forum এবং Dynamic Destination Nepal-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।জানা যায়, সার্কভুক্ত ৮টি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রফেসর ড. মো. মোরশেদুল আলমকে এই পুরস্কার পান।এদিকে, চলতি বছর তিনি ‘শেরে-বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ এবং ‘ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্মৃতি অ্যাওয়ার্ড’, নেলসন ম্যান্ডেলা পিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে প্রফেসর ড. মো. মোরশেদুল আলম বলেন, “শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা পাওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দ ও গর্বের বিষয়। একজন শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে আমি সবসময় চেষ্টা করি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও লেখালেখির মাধ্যমে শিক্ষার্থী, সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করতে। এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।” তিনি আরও বলেন, “আমার গবেষণা, প্রকাশনা ও লেখালেখির পথচলায় সহকর্মী, শিক্ষার্থী, পরিবার এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা রয়েছে। তাই এই অর্জনকে আমি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখি না; এটি আমার বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার জন্যও আনন্দের বিষয়। ভবিষ্যতে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার চেষ্টা থাকবে।"উল্লেখ্য, ড. মোরশেদুল আলম বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি একজন খ্যাতিমান লেখক, গবেষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে দেশব্যাপী সুপরিচিত। গবেষণা ক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে ৫০টিরও বেশি গবেষণাপ্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পত্রিকায় তার প্রায় ৪০০টি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তার রচিত ৫টি গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ অপরাধ দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি- সবকিছু সামলাতে হচ্ছে একই বাহিনীকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর ও আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির চাপ। জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা নিয়েও চাপে আছে মাঠপুলিশ। এর বাইরে রয়েছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে মাঠপুলিশের ওপর দায়বদ্ধতার চাপ আরও বেড়েছে। কোনো এলাকায় মিছিল হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি এবং তদারকি কর্মকর্তাকে দায় নিতে হবে- এমন বার্তাও পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এখনও তোলপাড় চলছে পুলিশে। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ সভায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয় ডিসি ওসিদের। কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকামিছিল বের হলে ওই এলাকার ডিসি-ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাবধান করা হয়। পরবর্তীকালে গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ব্যর্থতা দায় হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছে ঢাকার ৫০ থানার ওসি ও জোনাল ডিসি-এডিসি, এসিরা। ডিএমপির একাধিক থানার ওসি এই চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।শুধু ঢাকা মহানগরই নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ন্ত্রণ বা ঠেকানো নিয়ে সারাদেশেই মাঠ পুলিশ চাপের মুখে পড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে সব রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা আমাদের সময়কে বলেন, যেকোনো ধরনের চাপ নিয়ে কাজ করতে পুলিশ অভ্যস্ত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব চাপ সামলে পুলিশ কতটা পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে, সেদিকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনের প্রতিটি ধাপে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। বড় কোনো ঘটনা ঘটার পরই প্রায়ই গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এনেছে।আশরাফুল হুদা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশের ভেতরে দীর্ঘ ১৭ বছরে তৈরি হওয়া ‘জঞ্জাল’ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরীহ কর্মকর্তা বা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ বাহিনীর সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পড়তে পারে।জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির যে সংযোগ রয়েছে, তা মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাদের মনোবলও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে- এমনটা বলার সুযোগ নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পুলিশকেই পালন করতে হবে। তবে অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ সরাসরি পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিলে তাদের মনোবল আরও দুর্বল এবং বাহিনীর মধ্যে নতুন করে মেরুকরণ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে মাঠ পুলিশ। নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেনি। কমানো যায়নি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গুলির ঘটনা বেড়েছে। খুনোখুনি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি ও একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্রের। অর্থাৎ লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। এই অস্ত্র উদ্ধারে চাপে রয়েছে মাঠপুলিশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এসব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে খোদ পুলিশে। কারণ লুণ্ঠিত অস্ত্র স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে বিশেষ অভিযানও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তিন ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মাঠপুলিশের জন্য আলাদা চাপ তৈরি করছে। কারণ শুধু আসামি গ্রেপ্তার করাই নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিরাপদে থানায় নেওয়া, অভিযান পরিচালনা এবং অভিযানের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পুলিশকেই পালন করতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৩১৭টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। এর আগের ৬ মাসে এ ধরনের ২৭৫টি ঘটনা ঘটে।পুলিশের ওপর চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। বদলি, পদোন্নতি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে পুুলিশের একটি বড় অংশের মধ্যেই হতাশা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত দুই বছরে ইতোমধ্যে ১৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আরও পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেক কর্মকর্তা এখনও অবসর আতঙ্কে রয়েছেন। এতে মানসিক চাপে তারা স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানিয়েছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও চাপে রয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এই মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও তাগিদ রয়েছে তাদের ওপর। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেও মাঠ পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে—ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের পাশে উন্নয়ন সহায়তাসমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও সহজ করতে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় সাইকেল ও শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।কর্মসূচির আওতায় একজনকে সাইকেল এবং চারজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান করা হয়। এই সহায়তা শুধু একটি সাইকেল কিংবা আর্থিক অনুদান নয়—এটি শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়, স্বপ্ন পূরণের সাহস এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।দূরত্ব, আর্থিক সংকট কিংবা নানা সীমাবদ্ধতা যেন শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি সাইকেল যেমন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতকে সহজ করবে, তেমনি শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি তাদের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।সহায়তার হাত যখন শিক্ষার পথে, তখন সম্ভাবনার পথও হয় আরও প্রশস্ত।আজকের এই ছোট্ট সহায়তাই হয়তো আগামী দিনের একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের বড় শক্তি হয়ে উঠবে।লক্ষ্য একটাই—শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া, বৈষম্য পেছনে ফেলা এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
স্টেশন আছে, অবকাঠামো আছে—নেই শুধু যাত্রীসেবা।একসময় টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকত দীর্ঘ সারি। প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতেন নানা বয়সী মানুষ। কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম ছিল রেলপথ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে।ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশন দুটি করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যায়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন রুটে রেল যোগাযোগ চালু হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ দুটি স্টেশনে আগের মতো যাত্রীসেবা আর ফিরে আসেনি। ফলে স্টেশন দুটি এখন অনেকটা নামেই রয়েছে, বাস্তবে কার্যক্রম প্রায় অচল।স্টেশন আছে, প্ল্যাটফর্ম আছে, স্টেশন ভবন ও রেললাইনের অবকাঠামোও রয়েছে। নেই শুধু ট্রেন থামার সেই পরিচিত শব্দ, যাত্রীদের কোলাহল, টিকিট বিক্রির ব্যস্ততা আর রেলকেন্দ্রিক প্রাণচাঞ্চল্য।এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। রেলসেবা না থাকায় যাত্রীদের বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে সড়কপথে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য এ বাড়তি ব্যয় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াতেও বাড়ছে সময় ও খরচ।শুধু যাত্রী নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও। এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল তুলনামূলক কম খরচে রেলপথে পরিবহনের সুযোগ থাকলেও স্টেশন বন্ধ থাকায় সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং পণ্যের বাজারমূল্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।অন্যদিকে দীর্ঘদিন ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশনগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও প্ল্যাটফর্মে জমছে ময়লা-আবর্জনা, কোথাও আবার গরু-ছাগল বাঁধার দৃশ্য দেখা যায়। পরিত্যক্ত অবস্থার সুযোগ নিয়ে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও পরিত্যক্ত স্টেশন এলাকায় নানা ধরনের মানুষের আনাগোনা ও আড্ডা বসে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‘একসময় ঈশ্বরগঞ্জ রেলস্টেশনে সবসময় মানুষের ভিড় লেগে থাকত। স্টেশন ছিল জমজমাট। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, ততই স্টেশনটির অবস্থা খারাপ হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়া এখানে লাগেনি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখভালের অভাবে মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে।’ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশন শুধু দুটি স্থাপনা নয়; এগুলো এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। তাই এগুলো বন্ধ পড়ে থাকা মানে শুধু দুটি স্টেশনে ট্রেন না থামা নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি।স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশনে পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা পুনরায় চালু করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে নিয়মিত ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্টেশন দুটির অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।রেলপথ মানুষের জন্য—আর রেলস্টেশনও মানুষের সেবার জন্য। তাই দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশনকে আবারও মানুষের কোলাহলে মুখর করে তোলা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং এই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে দ্রুত স্টেশন দুটি চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল। প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর। আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন। চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়। সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের 'নজরানা' বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। M
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, স্বাগত বক্তব্য, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। আলোচনায় সত্যবাদিতা ও আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য, শিক্ষকের মর্যাদা, প্রতিবেশীর অধিকার, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী জীবনাচরণ উপস্থাপনা ও সিরাতভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু আলোচনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, বিনয়, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা উচিত। শুধু মিলাদুন্নবী পালন নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তা অনুসরণের বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। সবশেষে এনটিআরসিএ নিয়োগকৃত মৌলভী শিক্ষক উমর ফারুক দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী জীবনাচরণ বিষয়ক সভানুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে কথা না বলে কোরআন, হাদিস ও নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, "আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব, যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং তারা বুঝতে পারে কোরআন ও হাদিসে কী বলা হয়েছে। তবে কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা বা আলোচনা করা যাবে না।"মাহফিলে সব রাজনৈতিক মতের মানুষ উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নাম ধরে সমালোচনা করলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে ইতিহাস, নীতি ও নৈতিকতার আলোকে পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সৎলোকের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।এছাড়া দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব বজায় থাকা প্রয়োজন।সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।নবঘোষিত কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ নয় দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩ টার দিকে প্রশাসন ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বরাবর স্মারকলিপি দেন সংগঠনটির নেতারা।তাদের দাবিসমূহ- আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী অপসারণ, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় সুপারিশ ভিত্তিতে হলে সিট বরাদ্দ বন্ধ করা, সিট বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট, স্থায়ী ও লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন, প্রতিটি হলের সিট বণ্টনের তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ করা, প্রতি ৬ (ছয়) মাস পরপর হলগুলোর সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে আবাসিক হলসহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, ডাইনিংগুলোতে সুষম ও মানসম্মত খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি রয়েছে।শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, "আমরা আজকে ভিসি স্যারের সাথে হল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। হলের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছি। বিশেষ করে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া একটি অপ্রীতিকর ঘটনা এবং পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে অশান্ত পরিবেশ জন্য অন্যতম কারণ হলো হল গুলোতে অনিয়ম এবং বিশেষ করে হলে অবৈধ শিক্ষার্থী অবস্থান। জিয়া হলে অনেক শিক্ষার্থী অবৈধ ভাবে অবস্থান করছে। পাশাপাশি শাহ আজিজুর রহমান হলে দুই বছর যাবৎ অ্যালটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু অবৈধভাবে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে। আমরা এ সমস্যাগুলো হল প্রশাসনকে বারবার জানিয়েছি কিন্তু হল প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় নি। তারই প্রেক্ষিতে আমরা আজ উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপাচার্য পর্যন্ত আসছি। আশা করি তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন এবং এই সমস্যা সমাধান করবেন।"তিনি আরও বলেন, ''আমাদের দাবি আদায় যদি না হয়, তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামবো। আমাদের দাবি না আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না।"এসময় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, "শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিশৃঙ্খলার জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত আমি সেগুলো নিচ্ছি।"তিনি আরও বলেন, "তোমাদের দাবিগুলোর সাথে আমার মতের কোন বিরোধ নেই। কিন্তু আমি দেখতেছি হল প্রশাসন কোন দায়িত্ব না নিয়ে সব সময় প্রশাসনের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছে। সেখানে তারা যদি প্রাথমিক সমস্যাগুলো চিহ্নত করতে পারত তাহলে সেটা ভালো হতো। আমি এ বিষয় নিয়ে তাদের সাথে বসবো।"সিট বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট অনুযায়ী যারা এগিয়ে থাকবে তাদেরকে সিট বরাদ্দ দিব, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট হওয়ার আগে যদি সিট বরাদ্দের পর্যায় আসে তাহলে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট অনুযায়ী সিট বরাদ্দ দিব।"
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬-২৭ শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের মুখোমুখি ছিলেন পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ।রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ফুটবল মাঠে টুর্নামেন্টটি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। এসময় আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. সরফরাজ নওয়াজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের সভাপতি, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।জানা যায়, উক্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ৩৬টি বিভাগ ও ৫টি হলের (ছাত্র) শিক্ষার্থীরা। পূর্বে সকল বিভাগ ও হলের খেলার সময়সূচি প্রকাশ করে আয়োজক কমিটি।উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখা জরুরি। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মদক্ষতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।উপাচার্য বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়রা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এই গৌরবময় ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার সনদ অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।সার্বিক বিষয়ে শরীর চর্চা ও শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আজ সকাল ১১টায় খেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নিয়মমাফিক খেলা পরিচালিত হবে বলে আশা করছি।
৩৫০০ টাকার ব্যবধানে ৯৭% শিক্ষার কাণ্ডারীরা অসহায়নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা ৩–৪ হাজার টাকা; এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্যে এখনো সেই ৫০০ টাকা!একই রাষ্ট্র, একই শিক্ষা-ব্যবস্থা, একই শ্রেণিকক্ষ, একই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ—অথচ শিক্ষকের চিকিৎসা-সুবিধায় এত বড় ব্যবধান কেন?নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা বয়সভেদে মাসিক ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি স্কুল ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। অথচ দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনো মাসিক ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা-তেই আটকে আছেন।অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন সরকারি শিক্ষকের চিকিৎসা ভাতার ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে বয়সভেদে ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা!এটি কি কেবল একটি ভাতার পার্থক্য? নাকি এর ভেতরে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা-ব্যবস্থায় কর্মরত শিক্ষকদের প্রতি সুবিধাগত বৈষম্যের একটি দীর্ঘস্থায়ী চিত্র?আজকের বাস্তবতায় চিকিৎসা ব্যয়, ওষুধের মূল্য, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ফি—সবকিছুর ব্যয় বেড়েছে। একজন শিক্ষক অসুস্থ হলে কেবল চিকিৎসকের ফি নয়; ওষুধ, পরীক্ষা, যাতায়াত—সব মিলিয়ে কয়েক দিনের চিকিৎসাতেই ৫০০ টাকা অতিক্রম করা অস্বাভাবিক নয়।তারপরও একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষককে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার বাস্তবতা প্রশ্ন তোলে।আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চিকিৎসা তো চাকরির ধরন বুঝে হয় না।সরকারি শিক্ষক অসুস্থ হলে চিকিৎসা ব্যয় হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক অসুস্থ হলেও একই চিকিৎসা ব্যয় হয়। সরকারি চাকরিজীবীর জন্য চিকিৎসা ব্যয় বাড়লে ভাতা সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়; এমপিওভুক্ত শিক্ষকের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য।এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং নির্ধারিত যোগ্যতার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে শিক্ষকতা পেশায় আসেন। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (NTRCA) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের নিয়োগের নিজস্ব সরকারি প্রক্রিয়া রয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। প্রশাসনিক কাঠামো আলাদা হতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে পাঠদান, মূল্যায়ন, নৈতিক শিক্ষা, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্ব—শিক্ষকের মূল দায়িত্বে মৌলিক পার্থক্য কোথায়?তাহলে চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে এত বড় ব্যবধানের যৌক্তিক ভিত্তি কী? এই প্রশ্নের উত্তর শিক্ষক সমাজের জানা প্রয়োজন। ৯৭ শতাংশ শিক্ষার কাণ্ডারী—কিন্তু সুবিধায় কেন পিছিয়ে?এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি বিশাল অংশ বহন করছেন। লাখ লাখ শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত জনপদ—দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শিক্ষার বিস্তার ও ধারাবাহিকতায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।তাই শিক্ষকদের শুধু “শিক্ষার কাণ্ডারী” বলে সম্মান জানালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রশ্ন হলো— কাণ্ডারীর হাতে যদি ন্যায্য সুযোগ-সুবিধার বৈঠা না থাকে, তাহলে নৌকাটি কত দূর এগোবে?শিক্ষকের কাছ থেকে মানসম্মত শিক্ষা, দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও আধুনিক শিক্ষাদান প্রত্যাশা করা হবে; অথচ তার মৌলিক আর্থিক ও চিকিৎসা সুবিধা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকবে—এই দ্বৈত বাস্তবতা অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে।সরকারি শিক্ষক যখন বয়সভেদে ৩,০০০ বা ৪,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন, তখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি ৫০০ টাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন, তাহলে সর্বোচ্চ ব্যবধান দাঁড়ায় ৩,৫০০ টাকা মাসে। বছরে এই ব্যবধান দাঁড়ায় ৪২,০০০ টাকা। একজন শিক্ষক ১০ বছর এই ব্যবধানের মধ্যে থাকলে শুধু চিকিৎসা ভাতার হিসাবেই পার্থক্য দাঁড়ায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।অর্থাৎ এটি সামান্য কোনো পার্থক্য নয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে এই ব্যবধান একজন শিক্ষক ও তার পরিবারের আর্থিক বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।একই দেশের শিক্ষার্থীদের পড়ান যে শিক্ষকরা, তাদের চিকিৎসা-সুবিধার মূল্যায়নে এত বড় ব্যবধান কেন?এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকায় আটকে থাকার নীতিগত যুক্তি কী?যদি সময়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা যায়, তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বাস্তবসম্মত সমন্বয় করা হবে না কেন?শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যখন বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার ও পুনর্বিবেচনার আলোচনা চলছে, তখন চিকিৎসা ভাতাকে বাদ রেখে শিক্ষকের কল্যাণের পূর্ণাঙ্গ চিত্র আঁকা সম্ভব নয়।শিক্ষক দিবসে ফুল, সভা-সেমিনারে সম্মাননা কিংবা বক্তৃতায় “জাতি গঠনের কারিগর”—এসব শব্দ নিঃসন্দেহে সম্মানজনক। কিন্তু একজন শিক্ষকের অসুস্থতার সময় যদি তার চিকিৎসা ব্যয়ের বিপরীতে মাসিক বরাদ্দ থাকে মাত্র ৫০০ টাকা, তখন সেই সম্মানের বাস্তব মূল্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।শিক্ষকের মর্যাদা কথায় নয়—নীতিতে, বাজেটে এবং বাস্তব সুবিধায় প্রতিফলিত হওয়া উচিত।এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা যুগোপযোগী করা তাই কোনো বিলাসী দাবি নয়; এটি শিক্ষক কল্যাণ ও বৈষম্য হ্রাসের আলোচনার একটি যৌক্তিক অংশ।৩,৫০০ টাকার ব্যবধান তাই শুধু টাকার ব্যবধান নয়—এটি একই শিক্ষা পরিবারের দুই ধরনের সুবিধার একটি দৃশ্যমান হিসাব।যারা দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিয়ে আর কতদিন ৫০০ টাকার বাস্তবতায় থাকতে হবে?শিক্ষকের হাতে জাতির ভবিষ্যৎ—তাহলে শিক্ষকের নিজের ভবিষ্যৎ ও চিকিৎসা নিরাপত্তা রাষ্ট্রের নীতিতে কতটা সুরক্ষিত?— মিয়া সুলেমান, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষানুরাগী
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।ডয়েচে ভেলে একাডেমি (DWA) এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপ।শুক্রবার (১৯ জুন) বরিশালের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে শুরু হওয়া এই বুটক্যাম্পটি আজ ২১ জুন ২০২৬ বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।বুটক্যাম্পে পাঁচটি ক্লাবের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ক্লাবগুলো হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেরিয়ার ক্লাব, অর্গানাইজেশন অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্স এন্ড হায়ার এডুকেশন সোসাইটি এবং বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর যৌথ অর্থায়নে এই বুটক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। অনলাইনে যুক্ত থেকে কর্মসূচিটি তত্ত্বাবধান করেন ডয়েচে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক নাইমুর রহমান এবং মাঠপর্যায়ে এটি পরিচালনা করেন পাঁচজন ফেলো।কর্মসূচিতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ। এসময় তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ কোনো সংবাদ পেলেই সত্য-মিথ্যা বা অপপ্রচার যাচাই না করেই তা ভাইরাল করে দেয়। যেকোনো ঘটনা বা দুর্যোগের সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং নৈতিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসময় তিনি বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণ করা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রত্যাশা রেখে আরো বলেন; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞ্যান লাভের মাধ্যমে তোমরা তার প্রতিনিধি হবে এটাই হলো সকলের প্রত্যাশা।এছাড়াও অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশারাফুল হক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান মো: ফরহাদ উদ্দীন।এছাড়াও আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, কমিউনিকেশন এন্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট অফিসার সাইফুর রহমান, রিসার্স এন্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিষ্ট সাজ্জাদুল করিম, অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার।উল্লেখ্য, "Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0" প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
ব্যবসায়িক জটিলতা কমাতে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এখন মুহূর্তেই সামলাতে পারবেন গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে বিক্রয় ব্যবস্থাপনার কাজ।ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিধি ও সেবা সহজ করতে এবার বিশ্বব্যাপী হোয়াটসঅ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ‘মেটা বিজনেস এজেন্ট’ চালু করেছে মেটা। এতদিন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই প্ল্যাটফর্মটি এখন ব্যবসায়িক অটোমেশনের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। মেটার এই নতুন প্রযুক্তি কেবল গ্রাহকদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই নয়, বরং পণ্যের সুপারিশ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং এবং সম্ভাব্য ক্রেতা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।মেটা জানিয়েছে, কোনো জটিল বিষয়ে যদি এআই এজেন্টের পক্ষে উত্তর দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কথোপকথন মানব কর্মীর কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকবে, যা গ্রাহকসেবাকে আরও নিখুঁত করবে। ভারত ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোতে প্রায় দুই বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সফলতার পরই তা বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করা হলো। শুধু হোয়াটসঅ্যাপেই নয়, খুব শিগগিরই ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজ (ডিএম) সেবাতেও এই এআই বট ব্যবহারের সুযোগ পাবে ব্যবসায়ীরা।ভবিষ্যতে এই এজেন্টের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। বাজার গবেষণা পরিচালনা, পণ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা, ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের মতো জটিল কাজগুলোও এই এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টম এআই এজেন্ট তৈরির প্ল্যাটফর্মও প্রস্তুত করছে মেটা, যা Shopify, Zendesk এবং Shopee-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা যাবে।মেটার এই নতুন পদক্ষেপকে ব্যবসায়িক কৌশলের এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। এতদিন ক্লিক-টু-হোয়াটসঅ্যাপ বিজ্ঞাপন থেকে আয় করলেও, এখন এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার সেবায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল অটোমেশন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য টোকেন-ভিত্তিক অর্থের বিনিময়ে এই সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। সব মিলিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপ এখন কেবল চ্যাটিং অ্যাপ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকটাই এগিয়ে গেল।মেটা বিজনেস এজেন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ এআই, ডিজিটাল বিজনেস, গ্রাহকসেবা অটোমেশন, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রযুক্তি, মেটা এআই সেবা, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস আপডেট।
সরকারি অর্থে নির্মাণ, উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় ধস, এরপর টানা ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার একটি ব্রিজের গল্প যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রই তুলে ধরে। ২০১৪ সালে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি বন্যার পানিতে ধসে পড়ার পর দীর্ঘ এক যুগেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও চরম ভোগান্তির শিকার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের মাঝখানে একপাশ দেবে গিয়ে কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা ব্রিজটির অবশিষ্টাংশ। দুই পাশের সংযোগ সড়ক বহু আগেই বন্যার পানিতে বিলীন হয়েছে। ফলে সেতু থাকলেও তা এখন সম্পূর্ণ অচল। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০১৪ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতারহাট সড়কের সাঁকোর পাড় এলাকায় খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুর একপাশ ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।এর ফলে লেনোরপাড়া, কুরারপাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতিপাড়া, বটতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বর্ষায় নৌকায় খাল পার হতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আলামীর হোসেন বলেন, “ব্রিজ ভাঙার পর চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার গেছি। ১২ বছরেও শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।ডাঃ রতন বলেন, “এটাই ছিল উপজেলা শহরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। এখন আমরা যেন নিজ এলাকাতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি।”শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জানায়, “বর্ষায় নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। আবার শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।”নুর নাহার বেগম বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ খবর নেয় না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। আমরা শুধু একটি নতুন ব্রিজ চাই।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাঙা ব্রিজের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও টেকেনি।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো ৩০ ফুট ব্রিজের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, “নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাত্র এক বছরেই ধসে পড়া ২৭ লাখ টাকার ব্রিজের নির্মাণমান ও তদারকির দায় কার? কেন ১২ বছরেও হয়নি পুনর্নির্মাণ? আর কতদিন আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবে ২০ হাজার মানুষ?—এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
ভ্রমন তরী মস্তল সম্প্রতি কুড়িগ্রম জেলার চিলমরীতে ব্রহ্মপুত্র নদে এ এলাকার বিস্তির্ন চরাঞ্চলের মানুষের বসতি, জীবন যাত্রার মান, নতুন অভিজ্ঞতা ভ্রমন পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে অনেক দূর থেকে এসেছে। দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, এ প্রতিপাদ্য যেন স্বচোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। সাধারনত পাহাড় দেখতে এ অঞ্চলের মানুষকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। কিন্তু কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ১৭টি নদ-নদীর প্রবাহ, সংযোগ স্থান, দুধ কুমোর,ফুল কুমোর,সঙ্কোশ, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম,তিস্তা, ধরলা হলহলিয়া ও বিশেষ করে সাহেবের আলগা- বেগম গঞ্জের নুনখাওয়ায় সোজা পূর্ব থেকে ভারতের পাহাড়ের তলদেশ থেকে কিভাবে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা স্ব-চোখেই অবলোকন করা যায়। আর একটু দূর হতে হলেও আপনি যদি এ স্থানটিতে দাড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে তাকান দেখবেন কি এক অপূর্ব দৃশ্য! চোখের সমনেই আসামের বিশাল নয়নাভিরাম সু-উচ্চ পাহাড়!! তাৎক্ষনিক ভাবে ভুলেই যাবেন যে আপনি কোথায় আছেন। এ সব ছাড়াও চরাঞ্চলের গরু,মহিষের সারি, বির্স্তিন চর জুড়ে বাদম কলাই,ভূট্টা কতকি ফসল ও চর বসতিদের ঘরবসতি। সে দেখার সুযোগ গুলো এলাকার কিছু অর্বাচিনদের না ধারনায় বিরুপ হয়েছেন মাস্তল কতৃপক্ষ। তারপরও তারা একটু দূরে চলে গেলেও উত্তরবঙ্গের বিশাল সবনতন ধর্মাবলম্বিদের স্নান উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চিলমারীর অষ্টমীর মেলা উপলক্ষে মাস্তুল হাউসবোট নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ। এ মেলাকে কেন্দ্র করে মাসতল কতৃপক্ষের অষ্টমীর স্নান ও মেলা উদযাপন ভ্রমনের সুযোগ এনেছেন। তারা জানান, একদিকে ২০০ বছরের পুরনো মেলার লোকজ আমেজ, আর অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মাস্তুলের রাজকীয় আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আপনার এই ভ্রমণ হবে আজীবনের স্মৃতি!মাস্তলের এই ট্রিপে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের আহব্বান, চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর মেলার বর্ণিল আয়োজন দেখার সুযোগ, ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ: গাইবান্ধার কামারজানি বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চরাঞ্চল ঘুরে দেখা, অভিজাত আবাসন: মাস্তুলের প্রিমিয়াম কেবিনে নদের বুকেই রাত কাটানোর রোমাঞ্চ। খাবার: ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার টাটকা আইড়, বাঘাইড় কিংবা বোয়াল মাছের জিভে জল আনা মেনু। শান্তি ও নির্জনতা: শহুরে কোলাহল ছেড়ে চরের বালুকাবেলায় সূর্যাস্ত দেখার প্রশান্তি। চিলমারীর অষ্টমীর মেলা (যা চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নান উৎসব)। তাদের এই যাত্রা শুরু হবে, কামারজানী বন্দর হতে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অষ্টমীর মেলা ভ্রমণ।
সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও মানবিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এমপি।সম্প্রতি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক ইংরেজি পোস্টে তিনি লিখেছেন এবং উক্ত পোস্টটির বঙ্গানুবাদ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- কোনো সরকারি কর্মকর্তা ভুল করলে প্রশ্ন করা, ব্যাখ্যা চাওয়া এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কোনো কর্মকর্তাকে অপমান করাকে তিনি জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপযুক্ত পদ্ধতি হিসেবে দেখেননি।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কোনো মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী নন; তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। একইভাবে একজন মন্ত্রীও প্রজাতন্ত্রেরই একজন সেবক এবং জনগণের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার দায়িত্বপ্রাপ্ত।লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এমপির ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তা ভুল করলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত, দায়িত্বে অবহেলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে কোনো কর্মকর্তা সৎভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত ভুল করলে তাকে অপমান না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, একজন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে অপমান করার প্রভাব শুধু ওই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর ফলে প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। এতে তারা দায়িত্ব নেওয়া, প্রশ্ন করা বা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবর্তে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন।পোস্টে তিনি নেতৃত্বের প্রকৃত শক্তি নিয়ে বলেন, কোনো অধস্তন কর্মকর্তাকে জোরালোভাবে ধমক দেওয়ার মধ্যে একজন মন্ত্রীর মহত্ত্ব প্রকাশ পায় না। বরং ন্যায়সংগত, সংযত ও দায়িত্বশীলভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্যেই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় নিহিত।তিনি আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রীর পদ সাময়িক হলেও রাষ্ট্রের প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান স্থায়ী। প্রজাতন্ত্র কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা—উভয়েই জনগণের অর্পিত দায়িত্বের আমানতদার।পোস্টের শেষাংশে তিনি কর্তৃত্বকে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে, জবাবদিহিকে অপমানের সঙ্গে এবং নেতৃত্বকে ভয় দেখানোর সঙ্গে এক করে না দেখার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের মূলকথা—ক্ষমতা প্রয়োগ হোক, তবে তার সঙ্গে থাকুক মানবিকতা, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও জবাবদিহির সঠিক ভারসাম্য।
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকারের ভালো-মন্দ কাজের গঠনমূলক সমালোচনা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ‘গ্রাম বাংলার কল্যাণে নিবেদিত সাংবাদিকতা’ প্রতিপাদ্যে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।এর আগে কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ হলরুম অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর উদ্যোগে পরিচালিত ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং এসএসসি/দাখিল পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু এবং নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাই সেলিমের সঞ্চালনায় সভায় স্থানীয় সাংবাদিক, বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।সভায় গ্রামবাংলার মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নচিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা, পেশাগত দায়িত্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনা হয়। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকার সংবাদমাধ্যমের কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন।তিনি বলেন, “আমি সংবাদমাধ্যমের ওপর কখনো হস্তক্ষেপ করি নাই।” সরকারের ভালো-মন্দ কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের কাজে স্বচ্ছতা ও সহযোগিতা আরও বাড়বে।তবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বিদ্বেষপ্রসূত, অর্ধসত্য কিংবা মনগড়া তথ্য পরিহারের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হতে পারেন; কিন্তু সংবাদ প্রকাশের সময় সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামবাংলার মানুষের কথা, সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিষয়গুলোও সাংবাদিকদের গুরুত্বের সঙ্গে গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।সভায় স্থানীয় সাংবাদিকরা কেন্দুয়া অঞ্চলের সাংবাদিকতার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মতবিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকতা আরও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে কেন্দুয়া পৌরসভার ১০ নম্বর মোড়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন আহমেদ খোকন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম।এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে'; সম্পাদক মোস্তফা মামুনদৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।
শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও শূন্যতা কাটিয়ে মাউশিতে গতিশীলতা ফেরাতে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাউশির শীর্ষ এই পদে নিয়মিত কোনো মহাপরিচালক না থাকায় গত ছয় মাস ধরে যে নেতৃত্ব সংকট চলছিল, অধ্যাপক ড.সোহেলের দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে।মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ডিজির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারীএকান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।২০০৯ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম সপ্তাহেই তাকে ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি কলেজ, জামালপুর মাদারগঞ্জ সরকারী কলেজ ও দিনাজপুর সরকারী কলেজের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোর প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকায় বদলির আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি।বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভেঙে পড়া শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠনে ড. সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।মাউশির অর্থ ও ক্রয় উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল একজন ভিশনারি লিডার। তিনি যেহেতু সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে এসেছেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন, তাই তৃণমূলের সমস্যা ও সমাধানের পথ তার নখদর্পণে।মাউশিতে গত কয়েক মাসে দ্রুততম সময়ে মহাপরিচালক পরিবর্তনের ফলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় দায়িত্বে রদবদল হওয়ায় চেইন অফ কমান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে ড. সোহেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।অধ্যাপক পাটওয়ারী বলেন, ড. সোহেল এর আগেও শিক্ষাপ্রশাসনে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষাখাত নিয়ে তার কাজগুলো খুবই প্রশংসনীয়। এখন যেহেতু বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি শিক্ষা মনোন্নয়নে আরও বৃহৎ আকারে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।ড. সোহেল ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২৫ সালে ১০ জানুয়ারি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির সর্বসম্মত আহ্বায়ক মনোনীত হন।বর্অমানে অধ্যাপক ড.খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন যা দেখে কিছু মানুষ তার এই কাজে ইর্ষা পরায়ন হয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে হেও পতিপন্ন করার জন্য নানা রকম প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।নির্বাচনে সভাপতি পদে মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহসভাপতি পদে আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিলন), কোষাধ্যক্ষ পদে এটিএম জোবায়েদ উর রহমান (জবা) এবং দপ্তর সম্পাদক পদে আব্দুল জলিল সরকার নির্বাচিত হয়েছেন। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ওয়াহেদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে মহসীন আলী, নুর আলম সিদ্দিক, সাজেদুর রহমান নওশাদ এবং মো. হেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুদ্দোহা দুলু। নির্বাচন পরিচালনায় একজন প্রিজাইডিং অফিসার, একজন পোলিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পার্বতীপুর মডেল থানা ও পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩০ মে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন সদস্যরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটির উদ্বোধন করেন বগুড়া-৫ (ধুনট-শেরপুর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে নতুন ভবনে প্রবেশ করেন সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। পরে তিনি ভবনের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন। ফলক উন্মোচন শেষে ভবন প্রাঙ্গণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মো. আব্দুল্লাহ।পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি ধুনটকে একটি আধুনিক মডেল ধুনট হিসেবে গড়ে তুলব।’ একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণেরও আশ্বাস দেন তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানী, ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তৌহিদুল আলম মামুন, সাবেক পৌর প্রশাসক আলিমুদ্দিন হারুন মন্ডলসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ২০২২ সালে চারতলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। সম্প্রতি ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আধুনিক নকশায় নির্মিত ভবনটিতে রয়েছে ৩০টি কক্ষ। এসব কক্ষে উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।একই ভবনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক সমন্বয় আরও সহজ হবে এবং সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছে উপজেলা প্রশাসন।নতুন ভবনে সংসদ সদস্যের জন্যও পৃথক অফিস কক্ষ রাখা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সংসদ সদস্যের যোগাযোগ ও সমন্বয়ের সুযোগ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।এদিকে উপজেলা পরিষদের নতুন প্রশাসনিক ভবনের অদূরে নির্মাণাধীন রয়েছে ২০০ আসনবিশিষ্ট একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম হল। এর নির্মাণকাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আয়োজনের জন্য হলটি ব্যবহার করা হবে।নতুন প্রশাসনিক ভবন ও অডিটোরিয়াম চালু হলে উপজেলা পরিষদে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসেবা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিসর আরও বাড়বে বলে মনে করছে উপজেলা প্রশাসন।
ধুনট উপজেলায় চলতি মৌসুমে বিশ হাজার তাল বীজ রোপণের কর্মসূচি শুরু করেছে ‘আমরা ধুনটবাসী কল্যাণ সংস্থা’। শনিবার সকালে শেরপুর উপজেলার রনবীরবালা ঘাট থেকে ধুনট উপজেলার মাঠপাড়া গ্রাম পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে তাল বীজ রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।তাল বীজ রোপণ উৎসবে শেরপুর ও ধুনট উপজেলার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। এদিন আগে থেকে সংগ্রহ করা কয়েক হাজার তাল বীজ রোপণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে চলতি মৌসুমে নির্ধারিত ২০ হাজার তাল বীজ রোপণ করা হবে বলে আয়োজকেরা জানান।এই কর্মসূচি সফল করতে সহযোগী সংগঠন হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া), বর্ণ বিলাস পাঠাগার ও সংগ্রহশালা, লাল ভালোবাসা এবং ধুনট সেন্ট্রাল লাইব্রেরি।তালবীজ রোপণ উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা ধুনটবাসী কল্যাণ সংস্থা’র সভাপতি আঁখিনূর জামান বকুল, সাধারণ সম্পাদক মোনাজ্জেমুল ইসলাম সুমন, বর্ণ বিলাস পাঠাগার ও সংগ্রহশালার প্রতিষ্ঠাতা সাদিকুল বাশার শিশির এবং বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও পরিবেশকর্মী এস এম আরিফুল আমিন প্লাবন। তাল বীজ রোপণ উৎসব ২০২৬-এর সমন্বয়কারী আঁখিনূর জামান বকুল বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে আমরা ধুনটবাসী কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে তাল বীজ রোপণ করে আসছি। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এটি আমাদের ছোট্ট একটি উদ্যোগ। চলতি বছর আমরা ২০ হাজার তাল বীজ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমাদের এলাকায় তালগাছ বিলুপ্তপ্রায়। তাই আমরা পুরো ধুনটে তালগাছ রোপণ করতে চাই।’ আমরা প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষায় সাংগঠনিকভাবে তাল বীজ রোপণের পাশাপাশি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৃক্ষরোপণ করে থাকি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীগণ প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ধুনট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নত জাতের আমের চারা উপহার স্বরুপ রোপণ করে দিয়ে আসে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৩০০০ পিছ আমের চারা উপহার দিয়েছি। এছাড়াও চলতি মৌসুমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বকুল, কৃষ্ণচূড়া, জারুল, চেরি ও কাঠ বাদাম গাছের প্রায় ১০০০ পিছ চারা রোপণ করেছি।বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও পরিবেশকর্মী এস এম আরিফুল আমিন প্লাবন বলেন, ‘বাওয়া বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি পরিবেশ নিয়েও কাজ করছে। কারণ বন্যপ্রাণীর সঠিক সংরক্ষণ ও নিরাপদ আবাসস্থলের জন্য সুস্থ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিকাশ-নগদে লেনদেন, নীরব প্রশাসন—হুমকিতে যুবসমাজ।বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়া বা বেটিং। উপজেলার স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ এই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে জুয়ার এই 'ভার্চুয়াল বিষ' থেকে বাদ যাচ্ছেন না শ্রমজীবী মানুষও। সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন অনেকে, ভেঙে পড়ছে পারিবারিক শান্তি। অনলাইন জুয়া দেশে নিষিদ্ধ হলেও এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা নেই বললেই চলে—এমনটাই জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।একসময় জুয়া বলতে বোঝাত তাসের আড্ডা কিংবা গোপন আসর। এখন তা রূপ নিয়েছে স্মার্টফোনের মোবাইল অ্যাপে। একশ্রেণির চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে জুয়ায় জড়াচ্ছে, বিকাশ-নগদের মাধ্যমে লেনদেন করে গড়ে তুলেছে ভয়ংকর অনলাইন বেটিং সিন্ডিকেট। কিশোর থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন এই নেশায়, বাদ পড়ছে না স্কুলশিক্ষার্থীরাও। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলায় শত শত মানুষ বেটিং বা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত, যাদের অধিকাংশই স্কুল-কলেজপড়ুয়া, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও তরুণ। মোটা অঙ্কের টাকার লোভে সর্বস্ব খুইয়ে দেউলিয়া হয়েছেন অনেকে, যার জেরে জড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন অপরাধে।জানা গেছে, সিকে৪৪৪, সিভি৬৬৬, নগদ৮৮, ক্রিকেয়া, ওয়ানএক্সবেট, বাবু৮৮, লাইনবেটসহ একাধিক দেশি-বিদেশি বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে চলছে এই জুয়ার কারবার। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে সহজে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকায় দ্রুত বাড়ছে আসক্তি, আর প্রতিদিন উপজেলায় লাখ লাখ টাকা লেনদেন হচ্ছে এই জুয়াকে ঘিরে।এই কারবারের পেছনে সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী এজেন্ট সিন্ডিকেট—মাস্টার এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে পুরো নেটওয়ার্ক। খেলোয়াড় হারলেই কমিশন পান এজেন্টরা, ফলে ঝুঁকিহীনভাবে ঘরে বসে, রাস্তার মোড়ে কিংবা দোকানে বসেই তরুণরা চালিয়ে যাচ্ছেন জুয়া। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রলোভনসংকুল বিজ্ঞাপনে একটি ক্লিকেই মিলছে এসব অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের সন্ধান। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ না দিয়ে ক্রমেই মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার মানে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকে জড়িয়ে পড়ছেন চুরি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।এক অভিভাবক এই প্রতিবেদককে বলেন, তার ছেলে পড়াশোনার পরিবর্তে সারাদিন মোবাইলে জুয়ার অ্যাপে সময় কাটায়, বারবার বোঝানোর পরও সে ফিরছে না এই আসক্তি থেকে। একজন স্থানীয় শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে—পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে, মনোযোগে দেখা দিচ্ছে ঘাটতি।উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের শ্যামবাড়ী গ্রামের এক যুবক জানান, শুরুতে এক-দুইবার জিতে সামান্য লাভ হওয়ায় অনেকে বেশি টাকা রিচার্জ করেন, পরে বড় অঙ্কের আশায় হেরে সর্বস্ব খোয়ান। এরপর রিচার্জের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে। জুয়ায় সর্বস্বান্ত হওয়া ধুনট বাজারের এক তরুণ ব্যবসায়ী বলেন, আগে ডলারে খেলতে হতো বলে অংশগ্রহণকারী কম ছিল, এখন বিকাশের মাধ্যমে সহজেই টাকা পাঠিয়ে খেলা যাওয়ায় লোভে পড়ে অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়ছেন।জুয়ায় আসক্তদের নিয়ে চরম অশান্তিতে রয়েছে উপজেলার বহু পরিবার। টাকার জন্য জুয়াড়িরা স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে ধারকর্জ করছেন, তা পরিশোধ করতে না পারায় পরিবারকে পড়তে হচ্ছে হেনস্তার মুখে। এই জুয়ার নেটওয়ার্কের বড় শক্তি সহজলভ্য প্রযুক্তি ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। একাধিক এমএফএস এজেন্ট জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক দিনে একাধিকবার বড় অঙ্কের টাকা ক্যাশ ইন-আউট করেন, যা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেই তাদের ধারণা। স্থানীয় মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টরা জানান, রাত হলেই জুয়াড়িরা বিকাশ, নগদ, রকেটের মাধ্যমে টাকার জন্য বিরক্ত করেন, অনেকে টাকা নিয়ে ফেরতও দিতে চান না।বিশ্বহরিগাছা বাজারের ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মী রবিউল ইসলাম রবি বলেন, শুরুতে না বুঝেই তিনি রাতে টাকা দিতেন, পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সেই টাকা অবৈধ জুয়া খেলার জন্যই নেওয়া হতো। টাকা দিতে না পেরে অনেকে মোবাইল ফোন বিক্রি করে চলে যান বলেও জানান তিনি। এ কারণে রাতে আর কারও সঙ্গে নগদ-বিকাশে লেনদেন করেন না বলে জানান তিনি।অনলাইনে জুয়া খেলা ও মাদক সেবনে ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে যুবসমাজ, অথচ এ বিষয়ে পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, "[এখানে তার বক্তব্য বসবে]"অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা জানতে চাইলে ধুনট থানার ওসি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, থানা পুলিশ নিয়মিত এ বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে কারো কাছে নির্দিষ্ট তথ্য থাকলে থানা কে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হল পাশাপাশি এ ধরনের অবৈধ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।সচেতন মহল মনে করছেন, অনলাইন জুয়ার এই বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ধুনট উপজেলার তরুণ প্রজন্ম আরও গভীর সংকটে পড়বে। এ জন্য প্রয়োজন প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে সতর্ক তদারকি এবং অভিভাবক-শিক্ষকদের সম্মিলিত সচেতনতামূলক উদ্যোগ।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) খনি এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত ড্রেনেজ চ্যানেলের বিভিন্ন অংশ খোলা থাকায় দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জনবসতি ও চলাচলের রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়া ড্রেনটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশে কংক্রিটের স্লাব বা নিরাপদ ঢাকনা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, খোলা ড্রেনে পড়ে ইতোমধ্যে একটি ছাগলের বাচ্চা ও একটি গাভির বাছুরের মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খনি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ড্রেনেজ চ্যানেলটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খনি এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশন করা হয়। পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। তবে জনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়া ড্রেনের কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরে খোলা থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, জনবসতি ও চলাচলের রাস্তার কাছাকাছি ড্রেনেজ চ্যানেলের কয়েকটি অংশ খোলা রয়েছে। কোথাও কোথাও চ্যানেলটি বেশ গভীর। ফলে অসাবধানতাবশত কেউ পড়ে গেলে আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আশপাশে শিশুদের চলাচল ও খেলাধুলা থাকায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা গেছে।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, খনির কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি তাদের নয়। জাতীয় সম্পদ উত্তোলনের পাশাপাশি পরিবেশসম্মত ও নিরাপদভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চান তারা। তাদের ভাষ্য, বাড়িঘর ও চলাচলের রাস্তার পাশে ড্রেনটি খোলা থাকায় সন্তান ও গৃহপালিত পশুর নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।তাদের দাবি, লোকালয়সংলগ্ন অংশে ড্রেনেজ চ্যানেলের ওপর কংক্রিটের স্লাব বা নিরাপদ ঢাকনা স্থাপন করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রমও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হলেও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগে পুরো ড্রেনেজ চ্যানেল পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের আরও দাবি, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ড্রেনেজ চ্যানেলটি পরিদর্শন করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে জনসাধারণের নিরাপত্তার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও কার্যকর থাকবে।এ বিষয়ে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) জিএমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “অচিরেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত লোকালয়সংলগ্ন ড্রেনেজ চ্যানেলের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে কংক্রিটের স্লাব বা নিরাপদ ঢাকনা স্থাপন করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।