ভ্রমণ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর বিজয়রাম তবকপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একাধিক আবেদন সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদ এবং দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এলাকার বাসিন্দা ও নূরানী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।”
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি সেতুর অভাবে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে স্থানীয়দের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী এখনো একটি নিরাপদ সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগের দেখা মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
