ধর্মধর্ম

মিলাদুন্নবীকে ভাষাগতভাবে ‘ঈদ’ বলা হয়, শরিয়ত নির্ধারিত ঈদ নয়

শেয়ার করুন
অ+ অ-
মিলাদুন্নবীকে ভাষাগতভাবে ‘ঈদ’ বলা হয়, শরিয়ত নির্ধারিত ঈদ নয়
@মেহেদী হাসান

মহান আল্লাহ তা‘আলা মানবজাতির হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল হলেন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)। তাঁর শুভাগমন সমগ্র মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অসামান্য রহমত ও নিয়ামত। তাই তাঁর জন্ম ও জীবনকে কেন্দ্র করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, তাঁর সীরাত আলোচনা এবং তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুসলমানদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে মিলাদুন্নবী (সা.)-কে ‘ঈদ’ বলা হলে এর দ্বারা কী বোঝানো হয়—এ বিষয়টি কুরআন, হাদিস এবং বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্যের আলোকে সংক্ষেপে আলোচনা করা প্রয়োজন।

‘ঈদ’ শব্দের অর্থ ও কুরআনের দৃষ্টান্ত:

‘ঈদ’ শব্দটি আরবি ‘আউদ’ ধাতু থেকে এসেছে। যার অর্থ : ফিরে আসা,প্রত্যাবর্তন করা, পুনরাবৃত্তি ও কোনো বিশেষ উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশের অর্থ জড়িত।অর্থাৎ যে আনন্দটা বারংবার পুনরাবৃত্তি হয় তাকেই আভিধানিক অর্থে ঈদ বলা হয়। পবিত্র কুরআনে হযরত ঈসা (আ.)-এর একটি দোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আকাশ থেকে একটি খাদ্যপূর্ণ দস্তরখান নাযিল করুন, যা আমাদের—আমাদের প্রথম ও পরবর্তীদের জন্য—একটি ঈদ হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আর আমাদের রিযিক দান করুন; আপনিই সর্বোত্তম রিযিকদাতা। 

সূত্র: কুরআন মাজিদ, সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ১১৪। উক্ত আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ নিয়ামত লাভের কারণে আনন্দ ও শুকরিয়ার একটি উপলক্ষ হতে পারে।

অন্যত্র মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ‘বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতের কারণে—এতেই তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে, তার চেয়ে এটিই উত্তম।

সূত্র: কুরআন মাজিদ, সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৮। উক্ত আয়াতের তাফসিরে ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর রহমত দ্বারা মুহাম্মদ (সা.)-কে বোঝানো হয়েছে।

মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী (সা.) সম্পর্কে আরও ইরশাদ করেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।

সূত্র: কুরআন মাজিদ, সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ১০৭। সুতরাং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শুভাগমন যে মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান রহমত ও নিয়ামত—এ বিষয়টি কুরআনের আলোকে সুস্পষ্ট।

মাওলিদ প্রসঙ্গে প্রসিদ্ধ আলেম ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) তাঁর ‘আল-হাবী লিল ফাতাওয়া’ গ্রন্থের ‘হুসনুল মাকসাদ ফি আমালিল মাওলিদ’ অধ্যায়ে বলেন, মাওলিদের প্রচলিত আয়োজন পূর্ববর্তী তিন যুগের কোনো নেককার সালাফ থেকে বর্ণিত নয়। তবে এর মধ্যে ভালো ও মন্দ—উভয় ধরনের বিষয় থাকতে পারে। যে ব্যক্তি মাওলিদের ক্ষেত্রে ভালো বিষয়গুলো গ্রহণ করবে এবং মন্দ বিষয়গুলো পরিহার করবে, তাঁর মাওলিদ আয়োজনকে তিনি ‘বিদআতে হাসানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.)-এর ইস্তিদলাল:

ইমাম সুয়ূতী (রহ.) মাওলিদের পক্ষে ইস্তিদলাল করতে গিয়ে ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.)-এর একটি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।

সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখছে। তিনি তাদের কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, এটি সেই দিন যেদিন আল্লাহ ফিরআউনকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন এবং মূসা (আ.)-কে রক্ষা করেছিলেন। তাই তারা আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে এ দিনে রোজা রাখত।

ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.) এ ঘটনা থেকে একটি মূলনীতি গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট দিনে বিশেষ নিয়ামত লাভ করলে অথবা কোনো বিপদ থেকে রক্ষা পেলে সেই নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যায় এবং প্রতিবছর অনুরূপ দিনে তা পুনরায় করা যেতে পারে। শুকরিয়া বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে আদায় করা যায়—যেমন রোজা, সদকা ও কুরআন তিলাওয়াত।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় নিয়ামতগুলোর একটি।

সূত্র: ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.), আল-হাবী লিল ফাতাওয়া’—‘হুসনুল মাকসাদ ফি আমালিল মাওলিদ’.

ইবনু আব্বাদ আল-মালিকী (রহ.)-এর বক্তব্য:

মাওলিদ প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাদ আল-মালিকী (রহ.)-এর নামে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর কাছে মাওলিদ মুসলমানদের অন্যতম ঈদ এবং তাদের আনন্দের অন্যতম উপলক্ষ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

সূত্র: ইবনু আব্বাদ আল-মালিকী (রহ.), রাসায়িলু ইবনি আব্বাদ। এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, কিছু আলেম ‘ঈদ’ শব্দটি মাওলিদের ক্ষেত্রে ব্যাপক বা ভাষাগত অর্থে ব্যবহার করেছেন।

ইমাম কাস্তালানী (রহ.)-এর বক্তব্য:

ইমাম শিহাবুদ্দীন কাস্তালানী (রহ.) নবী (সা.)-এর জন্মরজনীর মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সা.)-এর জন্মরজনী শবে কদরের চেয়েও উত্তম।

সূত্র: ইমাম শিহাবুদ্দীন কাস্তালানী (রহ.), ‘আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ’।

তাঁর একই গ্রন্থে নবী (সা.)-এর জন্মমাসের রাতগুলোকে আনন্দ ও উৎসবের উপলক্ষ হিসেবে গ্রহণ করার প্রতি উৎসাহমূলক বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

মিলাদুন্নবী (সা.)-কে ‘ঈদ’ বলা কী অর্থে?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। মিলাদুন্নবী (সা.)-এর মাহফিলকে ‘ঈদ’ বলা হলে এর দ্বারা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো শরিয়ত নির্ধারিত ও স্বতন্ত্র ঈদ বোঝানো হয় না। বরং এখানে ঈদ’ শব্দটি ভাষাগত অর্থে ব্যবহার করা হয়।

মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কী করা যেতে পারে?

মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কুরআন তিলাওয়াত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ, তাঁর সীরাত ও জীবনাদর্শ আলোচনা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকার, গরিব-দুঃখীদের খাবার খাওয়ানো, দান-সদকা এবং আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায়—এসব স্বতন্ত্র নেক আমল হিসেবে বিবেচিত হবে ইনশাআল্লাহ ।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা একজন মুমিনের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর সীরাত আলোচনা করা, তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা, তাঁর চরিত্র ও আদর্শ সম্পর্কে জানা এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণকর।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় হাবীব, হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)-এর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা অর্জন করার, তাঁর সীরাত ও সুন্নাহ অনুসরণ করার এবং সব ধরনের হারাম ও শরিয়তবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।


লেখক: 

মো: মেহেদী হাসান

শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বিষয় : শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Public Voice

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মিলাদুন্নবীকে ভাষাগতভাবে ‘ঈদ’ বলা হয়, শরিয়ত নির্ধারিত ঈদ নয়

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মহান আল্লাহ তা‘আলা মানবজাতির হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল হলেন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)। তাঁর শুভাগমন সমগ্র মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অসামান্য রহমত ও নিয়ামত। তাই তাঁর জন্ম ও জীবনকে কেন্দ্র করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, তাঁর সীরাত আলোচনা এবং তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুসলমানদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে মিলাদুন্নবী (সা.)-কে ‘ঈদ’ বলা হলে এর দ্বারা কী বোঝানো হয়—এ বিষয়টি কুরআন, হাদিস এবং বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্যের আলোকে সংক্ষেপে আলোচনা করা প্রয়োজন।

‘ঈদ’ শব্দের অর্থ ও কুরআনের দৃষ্টান্ত:

‘ঈদ’ শব্দটি আরবি ‘আউদ’ ধাতু থেকে এসেছে। যার অর্থ : ফিরে আসা,প্রত্যাবর্তন করা, পুনরাবৃত্তি ও কোনো বিশেষ উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশের অর্থ জড়িত।অর্থাৎ যে আনন্দটা বারংবার পুনরাবৃত্তি হয় তাকেই আভিধানিক অর্থে ঈদ বলা হয়। পবিত্র কুরআনে হযরত ঈসা (আ.)-এর একটি দোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আকাশ থেকে একটি খাদ্যপূর্ণ দস্তরখান নাযিল করুন, যা আমাদের—আমাদের প্রথম ও পরবর্তীদের জন্য—একটি ঈদ হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আর আমাদের রিযিক দান করুন; আপনিই সর্বোত্তম রিযিকদাতা। 

সূত্র: কুরআন মাজিদ, সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ১১৪। উক্ত আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ নিয়ামত লাভের কারণে আনন্দ ও শুকরিয়ার একটি উপলক্ষ হতে পারে।

অন্যত্র মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ‘বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতের কারণে—এতেই তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে, তার চেয়ে এটিই উত্তম।

সূত্র: কুরআন মাজিদ, সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৮। উক্ত আয়াতের তাফসিরে ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর রহমত দ্বারা মুহাম্মদ (সা.)-কে বোঝানো হয়েছে।

মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী (সা.) সম্পর্কে আরও ইরশাদ করেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।

সূত্র: কুরআন মাজিদ, সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ১০৭। সুতরাং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শুভাগমন যে মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান রহমত ও নিয়ামত—এ বিষয়টি কুরআনের আলোকে সুস্পষ্ট।

মাওলিদ প্রসঙ্গে প্রসিদ্ধ আলেম ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) তাঁর ‘আল-হাবী লিল ফাতাওয়া’ গ্রন্থের ‘হুসনুল মাকসাদ ফি আমালিল মাওলিদ’ অধ্যায়ে বলেন, মাওলিদের প্রচলিত আয়োজন পূর্ববর্তী তিন যুগের কোনো নেককার সালাফ থেকে বর্ণিত নয়। তবে এর মধ্যে ভালো ও মন্দ—উভয় ধরনের বিষয় থাকতে পারে। যে ব্যক্তি মাওলিদের ক্ষেত্রে ভালো বিষয়গুলো গ্রহণ করবে এবং মন্দ বিষয়গুলো পরিহার করবে, তাঁর মাওলিদ আয়োজনকে তিনি ‘বিদআতে হাসানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.)-এর ইস্তিদলাল:

ইমাম সুয়ূতী (রহ.) মাওলিদের পক্ষে ইস্তিদলাল করতে গিয়ে ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.)-এর একটি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।

সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখছে। তিনি তাদের কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, এটি সেই দিন যেদিন আল্লাহ ফিরআউনকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন এবং মূসা (আ.)-কে রক্ষা করেছিলেন। তাই তারা আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে এ দিনে রোজা রাখত।

ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.) এ ঘটনা থেকে একটি মূলনীতি গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট দিনে বিশেষ নিয়ামত লাভ করলে অথবা কোনো বিপদ থেকে রক্ষা পেলে সেই নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যায় এবং প্রতিবছর অনুরূপ দিনে তা পুনরায় করা যেতে পারে। শুকরিয়া বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে আদায় করা যায়—যেমন রোজা, সদকা ও কুরআন তিলাওয়াত।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় নিয়ামতগুলোর একটি।

সূত্র: ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.), আল-হাবী লিল ফাতাওয়া’—‘হুসনুল মাকসাদ ফি আমালিল মাওলিদ’.

ইবনু আব্বাদ আল-মালিকী (রহ.)-এর বক্তব্য:

মাওলিদ প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাদ আল-মালিকী (রহ.)-এর নামে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর কাছে মাওলিদ মুসলমানদের অন্যতম ঈদ এবং তাদের আনন্দের অন্যতম উপলক্ষ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

সূত্র: ইবনু আব্বাদ আল-মালিকী (রহ.), রাসায়িলু ইবনি আব্বাদ। এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, কিছু আলেম ‘ঈদ’ শব্দটি মাওলিদের ক্ষেত্রে ব্যাপক বা ভাষাগত অর্থে ব্যবহার করেছেন।

ইমাম কাস্তালানী (রহ.)-এর বক্তব্য:

ইমাম শিহাবুদ্দীন কাস্তালানী (রহ.) নবী (সা.)-এর জন্মরজনীর মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সা.)-এর জন্মরজনী শবে কদরের চেয়েও উত্তম।

সূত্র: ইমাম শিহাবুদ্দীন কাস্তালানী (রহ.), ‘আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ’।

তাঁর একই গ্রন্থে নবী (সা.)-এর জন্মমাসের রাতগুলোকে আনন্দ ও উৎসবের উপলক্ষ হিসেবে গ্রহণ করার প্রতি উৎসাহমূলক বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

মিলাদুন্নবী (সা.)-কে ‘ঈদ’ বলা কী অর্থে?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। মিলাদুন্নবী (সা.)-এর মাহফিলকে ‘ঈদ’ বলা হলে এর দ্বারা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো শরিয়ত নির্ধারিত ও স্বতন্ত্র ঈদ বোঝানো হয় না। বরং এখানে ঈদ’ শব্দটি ভাষাগত অর্থে ব্যবহার করা হয়।

মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কী করা যেতে পারে?

মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কুরআন তিলাওয়াত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ, তাঁর সীরাত ও জীবনাদর্শ আলোচনা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকার, গরিব-দুঃখীদের খাবার খাওয়ানো, দান-সদকা এবং আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায়—এসব স্বতন্ত্র নেক আমল হিসেবে বিবেচিত হবে ইনশাআল্লাহ ।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা একজন মুমিনের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর সীরাত আলোচনা করা, তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা, তাঁর চরিত্র ও আদর্শ সম্পর্কে জানা এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণকর।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় হাবীব, হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)-এর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা অর্জন করার, তাঁর সীরাত ও সুন্নাহ অনুসরণ করার এবং সব ধরনের হারাম ও শরিয়তবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।


লেখক: 

মো: মেহেদী হাসান

শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত