সোশ্যাল মিডিয়া
তবে সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের যোগাযোগের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নবনির্বাচিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে ডা. প্রদীপ চন্দ্র দাস (পি. সি. দাস) দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা সমাধানে নতুন করে আশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের অনুপস্থিতির কারণ দ্রুত অনুসরণ করা হয় না। এতে দীর্ঘ অনুপস্থিতি একসময় বিদ্যালয় থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই শ্রেণিভিত্তিক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কয়েক দিন অনুপস্থিত থাকলেই অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা চান তাঁরা।
শুধু উপস্থিতি নয়, শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। একই শ্রেণিতে কেউ দ্রুত এগিয়ে গেলেও কেউ মৌলিক বিষয়েও পিছিয়ে পড়ছে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত পাঠদান, পুনরুদ্ধারমূলক শিক্ষা ও নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, দরিদ্রতা, পারিবারিক সংকট, শ্রমে যুক্ত হওয়া, পড়াশোনায় অনাগ্রহ কিংবা বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক কারণে কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এসব শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়ার পর খোঁজ না করে আগেই শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
এ জন্য বিদ্যালয়ে একটি ‘শিক্ষার্থী ঝরে পড়া প্রতিরোধ ও অনুসরণ ব্যবস্থা’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীর জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্ধারণ করে তার উপস্থিতি, পড়াশোনা ও পারিবারিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখা যেতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে তার পরিস্থিতি জানার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
আঠারবাড়ী ও আশপাশের এলাকার অনেক পরিবার কৃষি ও নিম্নআয়ের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক সংকটে কোনো কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি আয়মূলক কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের তালিকা করে স্থানীয় বিত্তবান, সাবেক শিক্ষার্থী, সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগীদের সম্পৃক্ত করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবক-বিদ্যালয়ের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। নিয়মিত অভিভাবক সভার পাশাপাশি অনুপস্থিত ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও অনলাইন বিনোদনে অতিরিক্ত আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আলোচনা ও পরামর্শ কার্যক্রম চালুর দাবি রয়েছে।
কিশোরীদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও বিদ্যালয়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছাড়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়লে দ্রুত তা শনাক্ত করে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রত্যাশার মূল জায়গাটি অবশ্য বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি। তাঁদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। কতজন শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে, কতজন পিছিয়ে আছে, কারা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের যোগাযোগ কতটা কার্যকর—এসব সূচকেও প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তাই নতুন কমিটির কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। মাসিক ভিত্তিতে উপস্থিতি, ঝরে পড়া, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সম্পৃক্ততার অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থাও চান তাঁরা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, আঠারবাড়ী মহিম চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এলাকার দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই নতুন নেতৃত্বের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা—প্রশাসনিক ও শিক্ষাব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও কার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‘কেউ ঝরে পড়বে না, কোনো পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থী অবহেলিত থাকবে না’—এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই শতবর্ষের এম.সি. স্কুল তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
লেখক- সাবেক শিক্ষার্থী

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
তবে সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের যোগাযোগের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নবনির্বাচিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে ডা. প্রদীপ চন্দ্র দাস (পি. সি. দাস) দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা সমাধানে নতুন করে আশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের অনুপস্থিতির কারণ দ্রুত অনুসরণ করা হয় না। এতে দীর্ঘ অনুপস্থিতি একসময় বিদ্যালয় থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই শ্রেণিভিত্তিক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কয়েক দিন অনুপস্থিত থাকলেই অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা চান তাঁরা।
শুধু উপস্থিতি নয়, শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। একই শ্রেণিতে কেউ দ্রুত এগিয়ে গেলেও কেউ মৌলিক বিষয়েও পিছিয়ে পড়ছে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত পাঠদান, পুনরুদ্ধারমূলক শিক্ষা ও নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, দরিদ্রতা, পারিবারিক সংকট, শ্রমে যুক্ত হওয়া, পড়াশোনায় অনাগ্রহ কিংবা বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক কারণে কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এসব শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়ার পর খোঁজ না করে আগেই শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
এ জন্য বিদ্যালয়ে একটি ‘শিক্ষার্থী ঝরে পড়া প্রতিরোধ ও অনুসরণ ব্যবস্থা’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীর জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্ধারণ করে তার উপস্থিতি, পড়াশোনা ও পারিবারিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখা যেতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে তার পরিস্থিতি জানার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
আঠারবাড়ী ও আশপাশের এলাকার অনেক পরিবার কৃষি ও নিম্নআয়ের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক সংকটে কোনো কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি আয়মূলক কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের তালিকা করে স্থানীয় বিত্তবান, সাবেক শিক্ষার্থী, সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগীদের সম্পৃক্ত করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবক-বিদ্যালয়ের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। নিয়মিত অভিভাবক সভার পাশাপাশি অনুপস্থিত ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও অনলাইন বিনোদনে অতিরিক্ত আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আলোচনা ও পরামর্শ কার্যক্রম চালুর দাবি রয়েছে।
কিশোরীদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও বিদ্যালয়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছাড়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়লে দ্রুত তা শনাক্ত করে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রত্যাশার মূল জায়গাটি অবশ্য বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি। তাঁদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। কতজন শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে, কতজন পিছিয়ে আছে, কারা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের যোগাযোগ কতটা কার্যকর—এসব সূচকেও প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তাই নতুন কমিটির কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। মাসিক ভিত্তিতে উপস্থিতি, ঝরে পড়া, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সম্পৃক্ততার অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থাও চান তাঁরা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, আঠারবাড়ী মহিম চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এলাকার দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই নতুন নেতৃত্বের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা—প্রশাসনিক ও শিক্ষাব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও কার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‘কেউ ঝরে পড়বে না, কোনো পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থী অবহেলিত থাকবে না’—এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই শতবর্ষের এম.সি. স্কুল তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
লেখক- সাবেক শিক্ষার্থী
