সাহিত্য
ডেসপিক্যাবল ম্যাটার
—রুশাইদ আহমেদ
মধ্যরাত। সুনসান আঁধারের জঠরে তোমার অবয়ব কাঁপছে।
আর সময়ের চেয়ে স্বচ্ছ, দৃশ্যের চেয়ে কাল্পনিক,
কবিতার চেয়ে নগ্ন সবকিছু
আমার হৃদয়কে দোলাচ্ছে।
এই বদ্বীপের পায়ের কাছে ভেঙে পড়া সামুদ্রিক ঢেউয়ের গর্জন আমার কবিতাকে চেনে।
আমার কবিতাকে চেনে যান্ত্রিক নগরীর জংধরা বাস-ট্রেন, নবাগত মেট্রো।
আমার রূপকের বেড়াজালে আটকা ওই গহীন বনের এক হরিণী;
যার বিষণ্ন আবেগের জন্যে আমি কখনো কবিতা লিখিনি!
আসঙ্গলিপ্সুদের লোলুপ দৃষ্টিও আছে আমার পঙক্তির দিকে।
আর অল্পকিছু বুলি হলেই হয়তো হয়ে যাবে তাদের কর্ম সাবাড়!
মুটে-মজুর, অনাহারী, উন্মাদ আর কলঙ্কিত মানব-মানবীরা আমার কবিতা পড়ে কি-না, আমি জানি না।
এ তল্লাটের দুয়েকজন মাস্টারও নাকি আমার কবিতা পড়েন টেবিলে ক্যাপ, চশমা খুলে রেখে।
সেগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তাঁরা দাঁড় করান বিবিধ শব্দার্থের সামনে-পেছনের ব্যঞ্জনাময় অর্থ!
অথচ তাঁরা জানেন না, কত লোকেই না তাঁদের নিভৃতে ‘বানচোত’ বলে ডাকে!
অভিশাপ দিতে আমার জিভ অতটা অভ্যস্ত নয়!
ঠোঁটদ্বয়ও পরিণত হয়েছে সহস্র বৈধ চুমুর জন্যে স্রেফ!
সবুজ স্বপনের ভিখারি হওয়াই আমার আজন্মের সাধ!
বেজন্মা কুকুরদের ‘ঘেউ’ ধ্বনি গোনায় ধরে কেউ?
এসব নিয়ে তুমি একটুও ভেবো না, প্রিয়!
দুপুরের খাবারের পর দৈনন্দিন ভাতঘুম,
রাত জেগে সোশ্যাল হ্যান্ডলে অনবরত স্ক্রলিং করা
কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নের ব্যাকরণিক ত্রুটির মতো এসব আমার কাছে ডাল-ভাত!
অলসতায় আচমকা মনে আসা কবিতার লাইন টুকে রাখতে ভুলে যাওয়াই আমার কাছে সবচেয়ে ডেসপিক্যাবল ম্যাটার!

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
ডেসপিক্যাবল ম্যাটার
—রুশাইদ আহমেদ
মধ্যরাত। সুনসান আঁধারের জঠরে তোমার অবয়ব কাঁপছে।
আর সময়ের চেয়ে স্বচ্ছ, দৃশ্যের চেয়ে কাল্পনিক,
কবিতার চেয়ে নগ্ন সবকিছু
আমার হৃদয়কে দোলাচ্ছে।
এই বদ্বীপের পায়ের কাছে ভেঙে পড়া সামুদ্রিক ঢেউয়ের গর্জন আমার কবিতাকে চেনে।
আমার কবিতাকে চেনে যান্ত্রিক নগরীর জংধরা বাস-ট্রেন, নবাগত মেট্রো।
আমার রূপকের বেড়াজালে আটকা ওই গহীন বনের এক হরিণী;
যার বিষণ্ন আবেগের জন্যে আমি কখনো কবিতা লিখিনি!
আসঙ্গলিপ্সুদের লোলুপ দৃষ্টিও আছে আমার পঙক্তির দিকে।
আর অল্পকিছু বুলি হলেই হয়তো হয়ে যাবে তাদের কর্ম সাবাড়!
মুটে-মজুর, অনাহারী, উন্মাদ আর কলঙ্কিত মানব-মানবীরা আমার কবিতা পড়ে কি-না, আমি জানি না।
এ তল্লাটের দুয়েকজন মাস্টারও নাকি আমার কবিতা পড়েন টেবিলে ক্যাপ, চশমা খুলে রেখে।
সেগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তাঁরা দাঁড় করান বিবিধ শব্দার্থের সামনে-পেছনের ব্যঞ্জনাময় অর্থ!
অথচ তাঁরা জানেন না, কত লোকেই না তাঁদের নিভৃতে ‘বানচোত’ বলে ডাকে!
অভিশাপ দিতে আমার জিভ অতটা অভ্যস্ত নয়!
ঠোঁটদ্বয়ও পরিণত হয়েছে সহস্র বৈধ চুমুর জন্যে স্রেফ!
সবুজ স্বপনের ভিখারি হওয়াই আমার আজন্মের সাধ!
বেজন্মা কুকুরদের ‘ঘেউ’ ধ্বনি গোনায় ধরে কেউ?
এসব নিয়ে তুমি একটুও ভেবো না, প্রিয়!
দুপুরের খাবারের পর দৈনন্দিন ভাতঘুম,
রাত জেগে সোশ্যাল হ্যান্ডলে অনবরত স্ক্রলিং করা
কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নের ব্যাকরণিক ত্রুটির মতো এসব আমার কাছে ডাল-ভাত!
অলসতায় আচমকা মনে আসা কবিতার লাইন টুকে রাখতে ভুলে যাওয়াই আমার কাছে সবচেয়ে ডেসপিক্যাবল ম্যাটার!
