বিশ্ব খবরের বাজারে সমসাময়িক সবচেয়ে বড় আর মুখরোচক খবরের নাম, ইরান। তামাম পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর ও ধনকুবের দেশগুলো যখন ভয় ভীতি অস্ত্র আর গোলাবারুদের চোখ রাঙানীতে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তখনও নিজেদের প্রজ্ঞা, জিদ, প্রতিশোধ আর স্বদেশ প্রেমের মহিমায় ভাস্বর একটি নাম, ইরান। কিন্তু ইরানের এই আসীম সাহসিকতার মূল উৎস কি? কোন শক্তি পিছন থেকে সাহস যোগাচ্ছ তাদের। আসুন আলোচনা করি ইরানের বিভিন্ন সামরিক শক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র বিষয় নিয়ে।
২০১১ সালের একটি সাধারণ জরিপে দেখা যায় ইরানের দুটি ড্রোন উৎপাদন ব্যাজ ছিল, যা গড়ে প্রতিদিন ৩০০ ড্রোন উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল। ২০১৩ সালে নাইজেরিয়াতে একবার ইরানের ড্রোনের ঝলকানি দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে থেকে তারা মাটির গভীরে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র উৎপাদন ও জড় করতে থাকে। তখন যে কয়টি ড্রোন ব্যাজ ছিল তার এক একটি উৎপাদন ব্যাজ গড়ে প্রতিদিন ৮০০ প্লাস ড্রোন উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল। ইরানে মোটের উপর এমন ২০ থেকে ২৫ টির বেশি ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র থাকতে পারে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো মাটির অনেক গভীরে বা পাহাড়ের নিচে থাকতে পারে বলে আশা করা হয়। সে হিসাব করলে সম্পন্ন ইরানের ভূমির নিচে রয়েছে আর একটা ইরান। যা মিসাইল ইরান বা ক্ষেপণাস্ত্র ইরান হিসাবে পরিচিত।
তাদের অস্ত্রাগারে মূলত স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক ফাত্তাহ-১ ও ২, এবং শাহেদ ড্রোন রয়েছে। এছাড়া, বর্তমান উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব বলে ধারণা করা হয়।
ইরান বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, যা প্রতি মাসে প্রায় অসংখ্য নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। তাদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হলো ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা ২,০০০-৩,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
তাছাড়া ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান বেশ উন্নত, যা তারা দূরপাল্লার আক্রমণের জন্য ব্যবহার করে। এছাড়া রাশিয়ার সহায়তায় ইরানের কাছে উন্নত অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান এবং সাঁজোয়া যান রয়েছে।
যদিও ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে, তবুও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বা দখলের কথা স্বীকার করেনি। তবে তাদের হাতে মজুদ রয়েছে অগুনিত মিসাইল আর ড্রোন। হাজার হাজার ট্রাঙ্ক, দক্ষ সেনাবাহিনীর আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
সেই সকল অস্ত্র দিয়েই বর্তমানে ইরান একাই ১১ টি দেশের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে, তাই বলা যায় কেউ যদি ইরানকে হালকাভাবে নেয়, সে অবশ্যই অনেক বড় ভুল করবে। বিশ্ববাসী আশা করেছিল ইরান হয়তো ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সাতেই পেরে উঠবে না। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ইরান তার আশেপাশের সকল দেশের মার্কিন ঘাটিতেই আঘাত হেনেছে। এমনকি তাদের হামলার রাডারে স্পেন বা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নামও পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ ইরান গাঁট সাট বেঁধে নিজেদের এবং শত্রুদের শক্তি বিচার করে তাই যুদ্ধের ঢোলে তাল উঠিয়েছে।
ইরানের মিসাইল আর ড্রোন হামলায় দিশেহারা অবস্থা ইসরায়েলের। বৃষ্টির মত প্রতিদিন ইসরায়েলের মটিতে আছড়ে পড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানকে থামানোর জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে এমন পরিস্থিতি তৈরী করে রাখা হয়েছে যে, ইরানের টিকে থাকতে হলে লড়াই করা ছাড়া বিকল্প নেই। এদিকে হরমুজ প্রনালী বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাসীর ঘুম হারাম করে দিয়েছে ইরান।
ইরানের জটিল ভৌগোলিক কারণেই কেউ ইরানের সাথে কখনো স্থল যুদ্ধ করে পার পাবে না, তাছাড়া ইরানের ভেতরে যুদ্ধবিমান গিয়ে যুদ্ধ করবে এমন সাহস এখন পর্যন্ত কারো হয়নি, ইরানের ভেতরে যতো হামলা হচ্ছে তা ২ থেকে ৩ শত কিলোমিটার দূর থেকে বর্ডারের বাহির থেকে। আমেরিকার আধুনিক প্রযুক্তির যতগুলো ড্রোন ইরানের মধ্যে প্রবেশ করেছে এখন পর্যন্ত একটাও ফিরে আসেনি এমনকি আমেরিকার তৈরি F-35 পর্যন্ত ভূপাতিত হয়েছে। (সূত্র : ইন্টারনেট)
ইরান এখন যেভাবে একা সবার সাথে লড়ে যাচ্ছে এইভাবে তারা দুই বছর অনায়াসে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, তাতেও তাদের অস্ত্রের ভান্ডার খালি হবে না। পশ্চিমাদের মাথা ব্যথার কারণ এইখানে। ইতোমধ্যে অনেক দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান গুনতে হয়েছে। বিশ্বব্যাপি খাদ্য ও জ্বালানি সংকট দেখা দিতে শুরু হচ্ছে।
ইরানী বিদ্রোহী বাহিনী আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তারা আমেরিকার সাথে কোনো প্রকার আলোচনায় বসতে চাইনা। যদিও আমেরিকা-ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যুদ্ধ চার থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে। কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এ যুদ্ধ আরো অনেক দিন চলতে থাকবে এবং ইরান এতসব ভেবে চিন্তেই মার্কিন ঘাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এখনো পর্যন্ত ইরানের মিত্র দেশ চিন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়ার মত শক্তি (যা আমেরিকার প্রতিপক্ষ হিসাবে পরিচিত) নীরব রয়েছে কিন্তু আলাদাভাবে তারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। ইরানী ড্রোন থেকে রক্ষার জন্য ট্রাম্প ইউক্রেনের সাহায্য চাইছে যা রাশিয়ার উদ্বেগের কারণ। তাছাড়া চীনা ষাট টনেরও বেশি পণ্য বহনকারী কর্গোবিমন গত কয়েকদিনে বহুবার ইরানে অবতরণ করেছে বলে খবর প্রচারিত হচ্ছে। যার অর্থ চীন যুদ্ধে ইরানকে সাহায্য করছে।
গবেষণায় পাওয়া গেছে ইরান এখনো দশ থেকে পনেরো বছর আগের অস্ত্র ব্যাবহার করছে। এছাড়া আছে সাহেদ বা খোররাম যা আধুনিক প্রজন্মের অস্ত্র হিসাবে পরিচিত। তাই বলায় যায় এ যুদ্ধ খুব তাড়াতাড়ি থামছেনা।
ইরান হয়তো নিঃশেষ হয়ে যাবে, না হয় অধিপত্যেবাদের শেষ দেখে ছাড়বে। তাই যদি হয় তাহলে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। পৃথিবীতে নেমে আসবে ধ্বংস আর দূর্ভীক্ষ।
আমরা ধ্বংস চাই না। যুদ্ধ ও চাই না। আমরা শান্তি চাই। পৃথিবীই একমাত্র স্থান যেখানে সকল দেশের, সকল জাতের, সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। খোদার স্বর্গে পাপীদের কোনো স্থান নেই। নরকে পূণ্যবান কেউ থাকতে পারে না। কিন্তু পৃথিবীতে আমরা সবাই থাকতে পারি। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ছোট, বড় সকলে মিলেমিশে থাকতে চাই এই পৃথিবীতে। আগামীর প্রজন্মের জন্য এই সুন্দর পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে রাখতে চাই।
আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। অবসান হোক পৃথিবীর সকল যুদ্ধের। পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক। পৃথিবীর মানুষ নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে প্রাণখুলে নিশ্বাস নিক।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।