পাঠকের কথাপাঠকের কথা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

ত্রয়োদশ নির্বাচন ভাবনা-০১

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?
মতামত প্রদানকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি তরুণ ভোটার রয়েছে। অর্থাৎ দেশের ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ ভোটার আছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ভোট ও গণভোট নিয়ে এই বিশালসংখ্যক তরুণেরা কী ভাবছেন, কী মত দিচ্ছেন। সেগুলো জানতে ও পাঠকদের জানাতে কয়েকজন তরুণদের সঙ্গে কথা বলেছেন আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল নাঈম। জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা-০১।

০১. একদিনের ভোট, বহুদিনের দায়

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো সাধারণ ভোটের আয়োজন নয় বরং এটি শহিদের রক্তে লেখা ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়ের পরীক্ষা। এই নির্বাচন ক্ষমতার পালাবদলের হিসাব নয়, বরং জবাবদিহিতা, ন্যায় ও গণতন্ত্র টিকে থাকার অন্যতম প্রশ্ন। জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জনগণের কণ্ঠ চেপে ধরলে সাময়িক কণ্ঠরোধ করে রাখা যায়, কিন্তু ন্যায়বিচার অস্বীকার করলে বিস্ফোরণ অনিবার্য। এবার ভোটাররা মিথ্যা আশ্বাস, ফাঁপা স্লোগান কিংবা ভয়ভীতির রাজনীতি চায় না, বরং তারা চায় সাহসী নেতৃত্ব, নির্মোহ সততা এবং বিশ্বাসযোগ্য রাষ্ট্রচিন্তা। 

এই নির্বাচন জিততে হবে আস্থা দিয়ে, ভয় দিয়ে নয়। কেননা, বন্দুক নীরবতা তৈরি করতে পারে, কিন্তু বিশ্বাসই স্থিতিশীলতা বয়ে আনে। এই নির্বাচন ব্যর্থ হলে দায় কেবল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং ব্যর্থতার কাঠগড়ায় দাঁড়াবে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা। আর সফল হলে, তা হবে রক্তাক্ত রাজপথে শহিদদের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম দৃশ্যমান ধাপ। জনগণের বিজয়, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্ম রুখে দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ।

লেখক: মো. মোকাদ্দেছ হোসাইন 

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।


০২. ভয় নয়, নির্বাচনে চাই মানুষের নিরাপত্তা

রক্তক্ষয়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে লক্ষ্য করছি—বিচার, সংস্কার কিংবা পরিবর্তনের নামে দেশে বারবার অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে; রাস্তায় বিক্ষোভ, রহস্যময় অগ্নিকাণ্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের স্লোগান ছিল ‘পরিবর্তন চাই’, কিন্তু আমি চাই এমন পরিবর্তন, যা স্থিতিশীলতার সঙ্গে সমন্বয় রেখে এগোবে—কারণ স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো পরিবর্তনই টেকসই হয় না। বিশেষ করে নির্বাচনে এজেন্টদের নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি, আমার মা নিজেও একজন এজেন্ট হবেন বলে বিষয়টি আমাকে ব্যক্তিগতভাবেও উদ্‌বিগ্ন করে তুলছে।

লেখক: আশফাক সিদ্দিক,

আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।


০৩. চাই ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের প্রথম ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে কাজ করছে শিক্ষার্থীদের নানান প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রত্যাশা হলো, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তারা চায় সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া প্রতিনিধিরা গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করুক। 

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার ক্ষমতায় এসে পতিত খুনি হাসিনা সরকারের মতো স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকা। শিক্ষার্থীরা দেখতে চায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনকে সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্তকরণ। মোদ্দাকথা, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়েই একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠুক। এটাই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

লেখক: ইমরান নাজির 

ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগ


০৪. ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সহিংসতা কখনই সমাধান নয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমাদের সামনে এক নতুন দায়বদ্ধতার দরজা খুলে দিয়েছে। এটি শুধু সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়, রাষ্ট্র হিসেবে আমরা কেমন হতে চাই তার প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি দেখি, তরুণদের ভাবনাই আগামী দিনের মানচিত্র। ভোট মানে কেবল অধিকার নয়, দায়িত্ব। যেখানে নীরবতাও একটি সিদ্ধান্ত। ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সহিংসতা কখনো সমাধান নয়। আমরা চাই এমন নির্বাচন, যেখানে ভয় নয়, ভরসা কাজ করবে।

সহিংসতা কখনো সমাধান নয়; এটি কেবল সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ায়। মতভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক রূপ, কিন্তু তা সহিংস হলে গণতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গুজব ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক ভূমিকা সবচেয়ে জরুরি। আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। তরুণদের দায়িত্ব হলো আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার মধ্যেই টেকসই পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। 

লেখক: আব্দুল্লাহ আল নাঈম 

আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।


০৫. লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে সহিংসতা বাড়বে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন রাষ্ট্রের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কিন্তু বিগত কিছু দিনে অস্ত্রের ঝনঝনানি আমাদের শঙ্কিত করেছে। শহিদ ওসমান হাদি থেকে শুরু করে সারা দেশে ১৫ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের খুনের ঘটনা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে অভিযান পরিচালনা করা না হলে নির্বাচনের সময় সহিংসতা আরো বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে এটি সুনিশ্চিত যে আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি হবে। দুর্নীতি ও বেকারত্বমুক্ত একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণে সুষ্ঠু নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পেশিশক্তি প্রয়োগ করে বা বন্দুকের নলের জোরে জিতে আসা ব্যক্তি কখনো আমাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে না।

রিদোয়ান আহমেদ সিয়াম

পরিসংখ্যান বিভাগ।

বিষয় : শিক্ষার্থী নির্বাচন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Public Voice

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী?

প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি তরুণ ভোটার রয়েছে। অর্থাৎ দেশের ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ ভোটার আছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ভোট ও গণভোট নিয়ে এই বিশালসংখ্যক তরুণেরা কী ভাবছেন, কী মত দিচ্ছেন। সেগুলো জানতে ও পাঠকদের জানাতে কয়েকজন তরুণদের সঙ্গে কথা বলেছেন আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল নাঈম। জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা-০১।

০১. একদিনের ভোট, বহুদিনের দায়

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো সাধারণ ভোটের আয়োজন নয় বরং এটি শহিদের রক্তে লেখা ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়ের পরীক্ষা। এই নির্বাচন ক্ষমতার পালাবদলের হিসাব নয়, বরং জবাবদিহিতা, ন্যায় ও গণতন্ত্র টিকে থাকার অন্যতম প্রশ্ন। জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জনগণের কণ্ঠ চেপে ধরলে সাময়িক কণ্ঠরোধ করে রাখা যায়, কিন্তু ন্যায়বিচার অস্বীকার করলে বিস্ফোরণ অনিবার্য। এবার ভোটাররা মিথ্যা আশ্বাস, ফাঁপা স্লোগান কিংবা ভয়ভীতির রাজনীতি চায় না, বরং তারা চায় সাহসী নেতৃত্ব, নির্মোহ সততা এবং বিশ্বাসযোগ্য রাষ্ট্রচিন্তা। 

এই নির্বাচন জিততে হবে আস্থা দিয়ে, ভয় দিয়ে নয়। কেননা, বন্দুক নীরবতা তৈরি করতে পারে, কিন্তু বিশ্বাসই স্থিতিশীলতা বয়ে আনে। এই নির্বাচন ব্যর্থ হলে দায় কেবল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং ব্যর্থতার কাঠগড়ায় দাঁড়াবে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা। আর সফল হলে, তা হবে রক্তাক্ত রাজপথে শহিদদের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম দৃশ্যমান ধাপ। জনগণের বিজয়, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্ম রুখে দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ।

লেখক: মো. মোকাদ্দেছ হোসাইন 

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।


০২. ভয় নয়, নির্বাচনে চাই মানুষের নিরাপত্তা

রক্তক্ষয়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে লক্ষ্য করছি—বিচার, সংস্কার কিংবা পরিবর্তনের নামে দেশে বারবার অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে; রাস্তায় বিক্ষোভ, রহস্যময় অগ্নিকাণ্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের স্লোগান ছিল ‘পরিবর্তন চাই’, কিন্তু আমি চাই এমন পরিবর্তন, যা স্থিতিশীলতার সঙ্গে সমন্বয় রেখে এগোবে—কারণ স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো পরিবর্তনই টেকসই হয় না। বিশেষ করে নির্বাচনে এজেন্টদের নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি, আমার মা নিজেও একজন এজেন্ট হবেন বলে বিষয়টি আমাকে ব্যক্তিগতভাবেও উদ্‌বিগ্ন করে তুলছে।

লেখক: আশফাক সিদ্দিক,

আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।


০৩. চাই ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের প্রথম ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে কাজ করছে শিক্ষার্থীদের নানান প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রত্যাশা হলো, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তারা চায় সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া প্রতিনিধিরা গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করুক। 

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার ক্ষমতায় এসে পতিত খুনি হাসিনা সরকারের মতো স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকা। শিক্ষার্থীরা দেখতে চায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনকে সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্তকরণ। মোদ্দাকথা, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়েই একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠুক। এটাই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

লেখক: ইমরান নাজির 

ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগ


০৪. ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সহিংসতা কখনই সমাধান নয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমাদের সামনে এক নতুন দায়বদ্ধতার দরজা খুলে দিয়েছে। এটি শুধু সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়, রাষ্ট্র হিসেবে আমরা কেমন হতে চাই তার প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি দেখি, তরুণদের ভাবনাই আগামী দিনের মানচিত্র। ভোট মানে কেবল অধিকার নয়, দায়িত্ব। যেখানে নীরবতাও একটি সিদ্ধান্ত। ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সহিংসতা কখনো সমাধান নয়। আমরা চাই এমন নির্বাচন, যেখানে ভয় নয়, ভরসা কাজ করবে।

সহিংসতা কখনো সমাধান নয়; এটি কেবল সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ায়। মতভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক রূপ, কিন্তু তা সহিংস হলে গণতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গুজব ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক ভূমিকা সবচেয়ে জরুরি। আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। তরুণদের দায়িত্ব হলো আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার মধ্যেই টেকসই পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। 

লেখক: আব্দুল্লাহ আল নাঈম 

আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।


০৫. লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে সহিংসতা বাড়বে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন রাষ্ট্রের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কিন্তু বিগত কিছু দিনে অস্ত্রের ঝনঝনানি আমাদের শঙ্কিত করেছে। শহিদ ওসমান হাদি থেকে শুরু করে সারা দেশে ১৫ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের খুনের ঘটনা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে অভিযান পরিচালনা করা না হলে নির্বাচনের সময় সহিংসতা আরো বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে এটি সুনিশ্চিত যে আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি হবে। দুর্নীতি ও বেকারত্বমুক্ত একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণে সুষ্ঠু নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পেশিশক্তি প্রয়োগ করে বা বন্দুকের নলের জোরে জিতে আসা ব্যক্তি কখনো আমাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে না।

রিদোয়ান আহমেদ সিয়াম

পরিসংখ্যান বিভাগ।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত