খেলাধূলাখেলাধূলা

বিশ্বকাপ ও এমবাপ্পে: ফুটবলের নতুন রাজার গল্প

বিশ্বকাপ ও এমবাপ্পে: ফুটবলের নতুন রাজার গল্প
বিশ্বকাপ ও এমবাপ্পে: ফুটবলের নতুন রাজার গল্প

ফুটবল বিশ্বকাপ জ্বরে তুরতুর করে কাপছে আজকের বিশ্ব। এই কাঁপুনিতে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের প্রাধান্য সকলেরই জানা। তাদের আছে পেলে মেরাডোনার মত বিশ্ব তারকা। তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের অবদান অস্বীকার করা যায় না। লুকা মডরিচ, রোনালদো, হল্যান্ড, সালাহদের মত বিশ্ব তারকা নিজেদের নৈপুণ্য দিয়ে রাঙিয়ে তুলেছে ফুটবলকে।

তবে তাদের মধ্যে অন্য একজন নীরব নায়ক হয়ে আছে, এমবাপ্পে। মেসি, মেরাডোনা, পেলের চেয়ে তার সৌন্দর্য্য কোনো অংশে কম নয়।

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটা টুর্নামেন্ট না। এটা ৪ বছর পর পর আসা একটা উৎসব। আর এই উৎসবের মঞ্চে যখন কেউ নিজের নাম সোনার অক্ষরে লিখে ফেলে, তখন সে হয়ে যায় কিংবদন্তি। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে সেই কিংবদন্তির নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে এমবাপ্পে পুরো দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিলো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রাউন্ড অফ ১৬ এ ২ গোল করে। সেবার মেসির আর্জেন্টিনাকে একাই বিদায় করে দিয়েছিলো। 

তারপর ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফ্রান্সের ৪-২ জয়ের ম্যাচে করে ১ গোল। পেলের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে সে। ফলাফলে জয় করে নেয় বিশ্বকাপ সাথে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

সেদিনই বোঝা গেল, ফুটবলের ভবিষ্যৎ তার হাতেই নতুন ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল এমবাপ্পের "মাস্টারক্লাস"। মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনালে হারলেও এমবাপ্পে জিতে নিলেন মানুষের মন। সাথে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট। হয়ে যান ১৯৬৬ এর পর ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা প্রথম খেলোয়াড়। সঙ্গে গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতি ম্যাচেই গোল/অ্যাসিস্ট।

ফাইনালে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্সকে তিনি ৯৭ সেকেন্ডে ২-২ করেছিলেন। এক্সট্রা টাইমে আবার গোল। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতে হার, কিন্তু তিনি প্রমাণ করলেন "একজন মানুষও একটা দলকে টেনে ফাইনাল পর্যন্ত নিতে পারে"।

কাতারের পর ফিফা ঘোষণা করে: "Mbappe is the present and future of football"।

এমবাপ্পে কেন আলাদা?

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পেকে আলাদা করে ৩টা কারণে:

1. গতি + ফিনিশিং: তিনি ১০ মিটার ১০.৯ সেকেন্ডে দৌড়ান। ডিফেন্ডাররা বল পাওয়ার আগেই তিনি গোল করে ফেলেন।

2. চাপ নেওয়ার ক্ষমতা: ১৯ বছর ও ২৩ বছর বয়সে টানা ২টা বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার মত যোগ্যতা আছে তার, ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতে চাপ নিয়ে খেলতে পারে সে।

৩. বিশ্বকাপে এমবাপ্পের রেকর্ড

বিশ্বকাপ ২০ গোল, ফাইনাল ৪ গোল - যা জার্ড মুলারের রেকর্ড ভেঙেছে।

সবচেয়ে কম বয়সে (১৯ বছরে) বিশ্বকাপ জয়ী

২০২২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট বিজয়ী।

চলতি২০২৬ বিশ্বকাপে (যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো) এমবাপ্পের বয়স ২৭। ফুটবলারের প্রাইম টাইম। ফ্রান্স এবারও ফেভারিট। গ্রিজম্যান, ডেম্বেলে, চুয়ামেনিদের সাথে এমবাপ্পে ও আগের মতো ফর্মে ইতেমধ্যে করে ফেলেছে আট গোল। তার জন্য ৩য় বিশ্বকাপ জেতা অসম্ভব কিছু না।

ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, "মেসি-রোনালদো যুগের পর বিশ্বকাপের নতুন পোস্টারবয় এমবাপ্পে"।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেলে, ম্যারাডোনা, মেসির পাশে এখন উচ্চারিত হয় এমবাপ্পের নাম। ২০১৮ তে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০২২ এ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে দেখিয়েছেন।

যে শুধু গোল করেন না, গোলের গল্প লেখেন, বিশ্বকাপের গল্প। আর সেই গল্পের নায়কের নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে। এখন তার বয়স মাত্র ২৭। সামনে অন্তত আরও দুটো বিশ্বকাপ খেলতে পারবে সে। তাই বলা যায়, নতুন রেকর্ড, নতুন জাদু নিয়ে হাজির হবে সে। আর ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে তার দিকেই।

সকলের মুখে একটাই কথা, "The King is not coming. The King is already here."

Public Voice

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিশ্বকাপ ও এমবাপ্পে: ফুটবলের নতুন রাজার গল্প

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

ফুটবল বিশ্বকাপ জ্বরে তুরতুর করে কাপছে আজকের বিশ্ব। এই কাঁপুনিতে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের প্রাধান্য সকলেরই জানা। তাদের আছে পেলে মেরাডোনার মত বিশ্ব তারকা। তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের অবদান অস্বীকার করা যায় না। লুকা মডরিচ, রোনালদো, হল্যান্ড, সালাহদের মত বিশ্ব তারকা নিজেদের নৈপুণ্য দিয়ে রাঙিয়ে তুলেছে ফুটবলকে।


তবে তাদের মধ্যে অন্য একজন নীরব নায়ক হয়ে আছে, এমবাপ্পে। মেসি, মেরাডোনা, পেলের চেয়ে তার সৌন্দর্য্য কোনো অংশে কম নয়।


ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটা টুর্নামেন্ট না। এটা ৪ বছর পর পর আসা একটা উৎসব। আর এই উৎসবের মঞ্চে যখন কেউ নিজের নাম সোনার অক্ষরে লিখে ফেলে, তখন সে হয়ে যায় কিংবদন্তি। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে সেই কিংবদন্তির নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে।


২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে এমবাপ্পে পুরো দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিলো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রাউন্ড অফ ১৬ এ ২ গোল করে। সেবার মেসির আর্জেন্টিনাকে একাই বিদায় করে দিয়েছিলো। 


তারপর ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফ্রান্সের ৪-২ জয়ের ম্যাচে করে ১ গোল। পেলের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে সে। ফলাফলে জয় করে নেয় বিশ্বকাপ সাথে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার।


সেদিনই বোঝা গেল, ফুটবলের ভবিষ্যৎ তার হাতেই নতুন ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছে।


২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল এমবাপ্পের "মাস্টারক্লাস"। মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনালে হারলেও এমবাপ্পে জিতে নিলেন মানুষের মন। সাথে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট। হয়ে যান ১৯৬৬ এর পর ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা প্রথম খেলোয়াড়। সঙ্গে গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতি ম্যাচেই গোল/অ্যাসিস্ট।


ফাইনালে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্সকে তিনি ৯৭ সেকেন্ডে ২-২ করেছিলেন। এক্সট্রা টাইমে আবার গোল। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতে হার, কিন্তু তিনি প্রমাণ করলেন "একজন মানুষও একটা দলকে টেনে ফাইনাল পর্যন্ত নিতে পারে"।


কাতারের পর ফিফা ঘোষণা করে: "Mbappe is the present and future of football"।


এমবাপ্পে কেন আলাদা?


বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পেকে আলাদা করে ৩টা কারণে:


1. গতি + ফিনিশিং: তিনি ১০ মিটার ১০.৯ সেকেন্ডে দৌড়ান। ডিফেন্ডাররা বল পাওয়ার আগেই তিনি গোল করে ফেলেন।

2. চাপ নেওয়ার ক্ষমতা: ১৯ বছর ও ২৩ বছর বয়সে টানা ২টা বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার মত যোগ্যতা আছে তার, ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতে চাপ নিয়ে খেলতে পারে সে।


৩. বিশ্বকাপে এমবাপ্পের রেকর্ড


বিশ্বকাপ ২০ গোল, ফাইনাল ৪ গোল - যা জার্ড মুলারের রেকর্ড ভেঙেছে।

সবচেয়ে কম বয়সে (১৯ বছরে) বিশ্বকাপ জয়ী

২০২২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট বিজয়ী।


চলতি২০২৬ বিশ্বকাপে (যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো) এমবাপ্পের বয়স ২৭। ফুটবলারের প্রাইম টাইম। ফ্রান্স এবারও ফেভারিট। গ্রিজম্যান, ডেম্বেলে, চুয়ামেনিদের সাথে এমবাপ্পে ও আগের মতো ফর্মে ইতেমধ্যে করে ফেলেছে আট গোল। তার জন্য ৩য় বিশ্বকাপ জেতা অসম্ভব কিছু না।


ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, "মেসি-রোনালদো যুগের পর বিশ্বকাপের নতুন পোস্টারবয় এমবাপ্পে"।


বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেলে, ম্যারাডোনা, মেসির পাশে এখন উচ্চারিত হয় এমবাপ্পের নাম। ২০১৮ তে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০২২ এ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে দেখিয়েছেন।


যে শুধু গোল করেন না, গোলের গল্প লেখেন, বিশ্বকাপের গল্প। আর সেই গল্পের নায়কের নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে। এখন তার বয়স মাত্র ২৭। সামনে অন্তত আরও দুটো বিশ্বকাপ খেলতে পারবে সে। তাই বলা যায়, নতুন রেকর্ড, নতুন জাদু নিয়ে হাজির হবে সে। আর ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে তার দিকেই।


সকলের মুখে একটাই কথা, "The King is not coming. The King is already here."


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত