ক্যাম্পাস
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের রজতজয়ন্তী যেন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদ্যাপন ছিল না, ছিল পুরোনো দিনের সেই ফিরে পাওয়ার এক আবেগঘন উপলক্ষ্য। দীর্ঘদিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে এসে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১০ এপ্রিল) ‘রজতজয়ন্তী উৎসব-২০২৬’ ঘিরে ক্যাম্পাসের জীববিজ্ঞান প্রাঙ্গনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দিনব্যাপী আয়োজনে আনন্দ র্যালি, কেক কাটা, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আঙিনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ২০০২-০৩ সেশনের শিক্ষার্থী মুনতাসির জাহান সুমি। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে কর্মরত আছেন। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জীববিজ্ঞান অনুষদের সামনে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রজতজয়ন্তীর এই আয়োজন তাদের জন্য যেন অতীতে ফিরে যাওয়ার বিরল সুযোগ তৈরি করেছে। ‘আজ আমরা কয়েকজন ব্যাচমেট একসঙ্গে ক্যাম্পাসে এসেছি। এক নম্বর গেট দিয়ে ঢোকার মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল, আমরা যেন আবার ২০০৩ সালে ফিরে গেছি—যেন এখনই ক্লাসে যাচ্ছি, সবকিছু আগের মতোই,’ বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, জিরো পয়েন্ট ও কাঁটা পাহাড় অতিক্রম করার সময় বুকের ভেতর এক ধরনের আবেগ ও অনুরণন কাজ করছিল। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে চারপাশ যেন চেনা অথচ নতুন মনে হয়েছে। তিনি আরো যোগ করেন, আমাদের সময় এত ভালো অবকাঠামো ছিল না। একটি ছোট একতলা ভবনে সীমিত কক্ষে ক্লাস হতো, পর্যাপ্ত বসার জায়গা কিংবা আধুনিক ল্যাব সুবিধা ছিল না। কিন্তু এখন নতুন জীববিজ্ঞান অনুষদে এসে আধুনিক ল্যাবগুলো দেখে সত্যিই অভিভূত হয়েছি। তবে পরিবর্তন যতই আসুক, আমাদের ভেতরের সেই পুরোনো ভালোলাগা, সেই আবেগ—সবকিছু আজও আগের মতোই রয়ে গেছে, বলেন মুনতাসির জাহান সুমি।
পার্বত্য নগরী রাঙামাটির বাসিন্দা শর্মি পালিত। এই বিভাগের ২০০৫-২০০৬ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। বর্তমানে কর্মরত আছেন আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রামের সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর পর প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসার অনুভূতিটা যেন কোমায় থাকা কোনো রোগীর হঠাৎ চেতনা ফিরে পাওয়ার মতো— একদম নতুন জীবনের স্পর্শ। এই বিভাগেই আমরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে সোনালি, প্রাণবন্ত সময়টা কাটিয়েছি। আজ এতদিন পর আবার সেই ভবনে হাঁটতে গিয়ে মনে হচ্ছে, যেন প্রথম দিনের মতোই সবকিছু জীবন্ত হয়ে উঠেছে, বলেন তিনি।
রজতজয়ন্তীর এই আয়োজনে এসে সহপাঠীদের সঙ্গে পুনর্মিলন আমার ভেতরে ভীষণভাবে অনুরণন তৈরি করেছে। তার ভাষায়, আজ সবাইকে একসঙ্গে দেখে উপলব্ধি করছি, আমাদের প্রতিটি ব্যাচ কতটা মেধাবী ও বহুমাত্রিক ছিল। আমাদের সহপাঠীরা এখন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছে— কেউ গবেষণায়, কেউ শিক্ষকতায়, কেউবা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। এই সম্মিলিত সাফল্যই আমাদের প্রকৃত শক্তি।
‘ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুরা মিলে জসিম ভাইয়ের দোকানের পেছনে দাঁড়িয়ে চা খেতাম’
সরকারি ঔষধ প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগসের মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগে চাকুরি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর আহমদ সিদ্দিকী। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় তার সাথে কথা হয় অনুষ্ঠানস্থলে। তিনি বলেন, আমি ২০২১ সালের করোনাকালে ক্যাম্পাসে থেকে কোভিড ল্যাবে কাজ করেছি। ‘আজকের প্রোগ্রামে এসে মনে হচ্ছে, আমি যেন আবার সেই দিনগুলোতেই ফিরে গিয়েছি। অনেক পরিচিত মুখ দেখছি—শিক্ষক, স্টাফ, কর্মচারী, এমনকি ক্যাম্পাসের দোকানিরাও অনেকটা আগের মতোই আছেন। তাদের দেখেই পুরনো স্মৃতিগুলো জীবন্ত হয়ে উঠছে,’ বলেন তিনি।
ক্যাম্পাস জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো বিশেষভাবে মনে পড়ছে উল্লেখ করে তানভীর আহমদ বলেন, ‘ক্লাসের ফাঁকে আমরা বন্ধুরা মিলে জসিম ভাইয়ের দোকানের পেছনে দাঁড়িয়ে চা খেতাম। সেখানে আমাদের আনন্দ, হতাশা, স্বপ্ন— সবকিছু ভাগাভাগি করতাম। সেই মুহূর্তগুলো আজ খুব বেশি করে মনে পড়ছে।’
অন্যদিকে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ১২-১৩ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর আহসান চৌধুরি। তার বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি বলেন, দেশে প্রাণরসায়নের ক্ষেত্র এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। ‘আমাদের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশে যাচ্ছে। তবে আমরা চাই, দেশেও এই বিষয়ে আরও বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র তৈরি হোক। এর পাশাপাশি দেশীয় পর্যায়ে গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হোক।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বিভাগ সম্পর্কে আগাম ধারণা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তানভীর আহসান আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন ভর্তি হওয়ার আগেই জানতে পারে— কোন বিভাগে কী পড়ানো হয়, ভবিষ্যতে তাদের কী ধরনের ক্যারিয়ার সুযোগ রয়েছে— সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এতে তারা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’
বিভাগটির বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাঞ্চন চাকমা বলেন, বর্তমান ও প্রাক্তনদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেই এই আয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিভাগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে, আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
‘গৌরবের ২৫ বছর পূর্তি’
উল্লেখ্য যে, ‘স্মৃতির পাতায় প্রাণের স্পন্দন, পঁচিশের গৌরব বায়োকেমিস্টদের মিলনবন্ধন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিভাগের সঙ্গে চিটাগাং ইউনিভার্সিটি বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় উৎসবটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আল-ফোরকান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষক ও অ্যালামনাইরা। তারা স্মৃতিচারণের পাশাপাশি বিভাগের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিভিন্ন ব্যাচের অংশগ্রহণে মিলনমেলায় রূপ নেয় পুরো আয়োজন। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ও মুনতাসির জাহান। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের রজতজয়ন্তী যেন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদ্যাপন ছিল না, ছিল পুরোনো দিনের সেই ফিরে পাওয়ার এক আবেগঘন উপলক্ষ্য। দীর্ঘদিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে এসে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১০ এপ্রিল) ‘রজতজয়ন্তী উৎসব-২০২৬’ ঘিরে ক্যাম্পাসের জীববিজ্ঞান প্রাঙ্গনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দিনব্যাপী আয়োজনে আনন্দ র্যালি, কেক কাটা, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আঙিনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ২০০২-০৩ সেশনের শিক্ষার্থী মুনতাসির জাহান সুমি। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে কর্মরত আছেন। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জীববিজ্ঞান অনুষদের সামনে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রজতজয়ন্তীর এই আয়োজন তাদের জন্য যেন অতীতে ফিরে যাওয়ার বিরল সুযোগ তৈরি করেছে। ‘আজ আমরা কয়েকজন ব্যাচমেট একসঙ্গে ক্যাম্পাসে এসেছি। এক নম্বর গেট দিয়ে ঢোকার মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল, আমরা যেন আবার ২০০৩ সালে ফিরে গেছি—যেন এখনই ক্লাসে যাচ্ছি, সবকিছু আগের মতোই,’ বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, জিরো পয়েন্ট ও কাঁটা পাহাড় অতিক্রম করার সময় বুকের ভেতর এক ধরনের আবেগ ও অনুরণন কাজ করছিল। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে চারপাশ যেন চেনা অথচ নতুন মনে হয়েছে। তিনি আরো যোগ করেন, আমাদের সময় এত ভালো অবকাঠামো ছিল না। একটি ছোট একতলা ভবনে সীমিত কক্ষে ক্লাস হতো, পর্যাপ্ত বসার জায়গা কিংবা আধুনিক ল্যাব সুবিধা ছিল না। কিন্তু এখন নতুন জীববিজ্ঞান অনুষদে এসে আধুনিক ল্যাবগুলো দেখে সত্যিই অভিভূত হয়েছি। তবে পরিবর্তন যতই আসুক, আমাদের ভেতরের সেই পুরোনো ভালোলাগা, সেই আবেগ—সবকিছু আজও আগের মতোই রয়ে গেছে, বলেন মুনতাসির জাহান সুমি।
পার্বত্য নগরী রাঙামাটির বাসিন্দা শর্মি পালিত। এই বিভাগের ২০০৫-২০০৬ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। বর্তমানে কর্মরত আছেন আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রামের সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর পর প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসার অনুভূতিটা যেন কোমায় থাকা কোনো রোগীর হঠাৎ চেতনা ফিরে পাওয়ার মতো— একদম নতুন জীবনের স্পর্শ। এই বিভাগেই আমরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে সোনালি, প্রাণবন্ত সময়টা কাটিয়েছি। আজ এতদিন পর আবার সেই ভবনে হাঁটতে গিয়ে মনে হচ্ছে, যেন প্রথম দিনের মতোই সবকিছু জীবন্ত হয়ে উঠেছে, বলেন তিনি।
রজতজয়ন্তীর এই আয়োজনে এসে সহপাঠীদের সঙ্গে পুনর্মিলন আমার ভেতরে ভীষণভাবে অনুরণন তৈরি করেছে। তার ভাষায়, আজ সবাইকে একসঙ্গে দেখে উপলব্ধি করছি, আমাদের প্রতিটি ব্যাচ কতটা মেধাবী ও বহুমাত্রিক ছিল। আমাদের সহপাঠীরা এখন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছে— কেউ গবেষণায়, কেউ শিক্ষকতায়, কেউবা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। এই সম্মিলিত সাফল্যই আমাদের প্রকৃত শক্তি।
‘ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুরা মিলে জসিম ভাইয়ের দোকানের পেছনে দাঁড়িয়ে চা খেতাম’
সরকারি ঔষধ প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগসের মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগে চাকুরি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর আহমদ সিদ্দিকী। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় তার সাথে কথা হয় অনুষ্ঠানস্থলে। তিনি বলেন, আমি ২০২১ সালের করোনাকালে ক্যাম্পাসে থেকে কোভিড ল্যাবে কাজ করেছি। ‘আজকের প্রোগ্রামে এসে মনে হচ্ছে, আমি যেন আবার সেই দিনগুলোতেই ফিরে গিয়েছি। অনেক পরিচিত মুখ দেখছি—শিক্ষক, স্টাফ, কর্মচারী, এমনকি ক্যাম্পাসের দোকানিরাও অনেকটা আগের মতোই আছেন। তাদের দেখেই পুরনো স্মৃতিগুলো জীবন্ত হয়ে উঠছে,’ বলেন তিনি।
ক্যাম্পাস জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো বিশেষভাবে মনে পড়ছে উল্লেখ করে তানভীর আহমদ বলেন, ‘ক্লাসের ফাঁকে আমরা বন্ধুরা মিলে জসিম ভাইয়ের দোকানের পেছনে দাঁড়িয়ে চা খেতাম। সেখানে আমাদের আনন্দ, হতাশা, স্বপ্ন— সবকিছু ভাগাভাগি করতাম। সেই মুহূর্তগুলো আজ খুব বেশি করে মনে পড়ছে।’
অন্যদিকে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ১২-১৩ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর আহসান চৌধুরি। তার বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি বলেন, দেশে প্রাণরসায়নের ক্ষেত্র এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। ‘আমাদের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশে যাচ্ছে। তবে আমরা চাই, দেশেও এই বিষয়ে আরও বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র তৈরি হোক। এর পাশাপাশি দেশীয় পর্যায়ে গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হোক।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বিভাগ সম্পর্কে আগাম ধারণা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তানভীর আহসান আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন ভর্তি হওয়ার আগেই জানতে পারে— কোন বিভাগে কী পড়ানো হয়, ভবিষ্যতে তাদের কী ধরনের ক্যারিয়ার সুযোগ রয়েছে— সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এতে তারা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’
বিভাগটির বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাঞ্চন চাকমা বলেন, বর্তমান ও প্রাক্তনদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেই এই আয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিভাগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে, আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
‘গৌরবের ২৫ বছর পূর্তি’
উল্লেখ্য যে, ‘স্মৃতির পাতায় প্রাণের স্পন্দন, পঁচিশের গৌরব বায়োকেমিস্টদের মিলনবন্ধন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিভাগের সঙ্গে চিটাগাং ইউনিভার্সিটি বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় উৎসবটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আল-ফোরকান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষক ও অ্যালামনাইরা। তারা স্মৃতিচারণের পাশাপাশি বিভাগের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিভিন্ন ব্যাচের অংশগ্রহণে মিলনমেলায় রূপ নেয় পুরো আয়োজন। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ও মুনতাসির জাহান। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
