ইরান যুদ্ধইরান যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরতে হবে: মোজতবা খামেনি

সাত মাসের যুদ্ধের মধ্যে প্রথম প্রকাশ্য বার্তায় মার্কিন উপস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। এদিকে যুদ্ধ থামাতে কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে; হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-
মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরতে হবে: মোজতবা খামেনি
ছবি -সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত সরে যেতে হবে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য বলে ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের যোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে মার্কিন বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। তাঁর দাবি, খুব শিগগির আরব সাগরও মার্কিন উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। সাত মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান সাত দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে প্রণালিটি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব তাঁর বর্তমান অবস্থানের সঙ্গেও যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মার্চে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন।

তবে যুদ্ধের সময় তাঁর নিজের আহত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি ও গুঞ্জন রয়েছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হলে তা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে দীর্ঘ সময় তাঁকে জনসমক্ষে না দেখা যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর শারীরিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়।

মোজতবা খামেনির কঠোর বক্তব্য এবং যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—দুটি ঘটনাই একই সময়ে সামনে এসেছে। এর ফলে ইরানের অবস্থানে সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের বড় পার্থক্যগুলো এখনো রয়ে গেছে।

ইরানের জন্য মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা।

ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও তা দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। আগের যুদ্ধবিরতির অভিজ্ঞতাও দেখিয়েছে, সমঝোতায় পৌঁছানোর পর সেটি টিকিয়ে রাখাই হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।

এখন নজর থাকবে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যোগাযোগ কতটা এগোয় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো বাস্তব সমঝোতা হয় কি না। একই সঙ্গে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছে, সেটি আলোচনার পরিবেশকে কতটা প্রভাবিত করে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার গণ্ডি ছাড়িয়ে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিপরীতে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি হলে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Public Voice

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরতে হবে: মোজতবা খামেনি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত সরে যেতে হবে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য বলে ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের যোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে মার্কিন বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। তাঁর দাবি, খুব শিগগির আরব সাগরও মার্কিন উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। সাত মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান সাত দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে প্রণালিটি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব তাঁর বর্তমান অবস্থানের সঙ্গেও যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মার্চে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন।

তবে যুদ্ধের সময় তাঁর নিজের আহত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি ও গুঞ্জন রয়েছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হলে তা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে দীর্ঘ সময় তাঁকে জনসমক্ষে না দেখা যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর শারীরিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়।

মোজতবা খামেনির কঠোর বক্তব্য এবং যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—দুটি ঘটনাই একই সময়ে সামনে এসেছে। এর ফলে ইরানের অবস্থানে সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের বড় পার্থক্যগুলো এখনো রয়ে গেছে।

ইরানের জন্য মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা।

ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও তা দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। আগের যুদ্ধবিরতির অভিজ্ঞতাও দেখিয়েছে, সমঝোতায় পৌঁছানোর পর সেটি টিকিয়ে রাখাই হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।

এখন নজর থাকবে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যোগাযোগ কতটা এগোয় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো বাস্তব সমঝোতা হয় কি না। একই সঙ্গে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছে, সেটি আলোচনার পরিবেশকে কতটা প্রভাবিত করে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার গণ্ডি ছাড়িয়ে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিপরীতে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি হলে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত