শিক্ষা
ডক্টর অব ফিলোসোফি (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় অন্যান্যের মতো তার এই ডিগ্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আহমদ আলির অধীনে এই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ‘অপরাধ দমনে প্রচলিত আইন ও ইসলামি আইন’ শীর্ষক শিরোনামে গবেষণা করে এই ডিগ্রি লাভ করেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর শাহীন কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
জানা গেছে, নগরীর লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন ড. নূর মোহাম্মদ। বাবা মরহুম আবুল বশর সাওদাগর ও মাতা রওশন আরা বেগমের কনিষ্ঠ সন্তান তিনি।
পিএইচডির বিষয়বস্তু ও অনুভূতি:
নিজের করা গবেষণার বিষয়ে ড. নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, তার গবেষণাকর্মের ‘শিরোনাম হলো অপরাধ দমনে প্রচলিত আইন ও ইসলামি আইন’ অর্থাৎ সমাজের মৌলিক সমস্যা অপরাধের আইনি ও ধর্মীয় সমাধান নিয়ে তার গবেষণাকর্ম।
পিএইচডি অর্জনের অনুভূতি ব্যক্ত করে নূর মোহাম্মদ বলেন— পিএইচডি গবেষণা একটি কষ্টসাধ্য জার্নি, আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। যেখানে কষ্ট সেখানে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। সুতরাং সর্বোচ্চ ধৈর্যের সাথে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে অপরাধ বাড়ছে: ড. নূর মোহাম্মদ
অপরাধ প্রাচীন ও বৈশ্বিক একটি সমস্যা। তবে আমার গবেষণাকর্মে বাংলাদেশে সংঘটিত অপরাধের কারণ ও গতি-প্রকৃতি এবং তা দমনে বাংলাদেশের আইন ও ইসলামি আইন কীভাবে কাজ করে তার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। অপরাধের বিভিন্ন কারণ থাকলেও বর্তমানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণেই অপরাধের মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।
তিনি আরো যোগ করেন, অপরাধ দমনে প্রচলিত মৌলিক আইনসমূহ ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন প্রেক্ষাপটে প্রণীত বিধায় এসব আইন সর্বকাল উপযোগী নয়। তাছাড়া কেবল আইন প্রয়োগ করে যে অপরাধ দমন সম্ভব নয়, তা প্রমাণিত সত্য। পক্ষান্তরে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে ব্যক্তিকে অপরাধবিমুখ করার মাধ্যমে একটি অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে ইসলামি আইনে।
ফলে দেখা যায়— ইসলামি আইনে পরিচালিত যুগে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলেও পরক্ষণে নিজেকে আইনের হাতে সোপর্দ করেছেন। অপরাধ দমন করা উভয় আইনের উদ্দেশ্য হলেও পদ্ধতিগতভাবে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুটোই রয়েছে। এসব সমন্বয় করে কীভাবে একটি অপরাধমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়, তার কিছু সুপারিশ রয়েছে আমার এই গবেষণাকর্মে, বলেন ড. নূর মোহাম্মদ।
হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল:
গবেষণাকালীন সময়ে রয়েছে তার নানা স্মৃতি। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অপরাধের কারণ উদ্ঘাটন কিংবা অপরাধীদের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমাকে যে বিষয়টি বিস্মিত করেছে তা হলো— সমাজে কিছু লোকের দ্বারা এমন কিছু অপরাধ ঘটে যা বাহ্যত অপরাধ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপরাধী মনে হয় না, কিন্তু তা দৃশ্যমান অপরাধের চেয়েও ভয়ংকর। এসব ‘হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল’ অধিকাংশ সময়েই ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায়।
হোয়াইট কলার অপরাধী (White Collar Criminal) বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায়, যে সম্মানজনক পেশা, অফিস বা ব্যাবসায়িক অবস্থান ব্যবহার করে অর্থনৈতিক বা বুদ্ধিভিত্তিক অপরাধ করে। এই অপরাধগুলো সাধারণত হয়— সহিংসতা ছাড়াই। কাগজপত্র, হিসাব, প্রযুক্তি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে। আমি এ ব্যাপারে আশাবাদী যে, এ গবেষণাকর্মে প্রস্তাবিত সুপারিশমালা আমলে নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হলে তা আদর্শ ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করবে, বলেন গবেষক ড. নূর মোহাম্মদ।
৫৬৫তম সিন্ডিকেটে অনুমোদন:
পিএইচডি অর্জনের তথ্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি পাবলিকভয়েস২৪.কমকে বলেন, পিএইচডির আবেদনগুলো অ্যাকডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রতি ৫৬৫তম সিন্ডিকেটে এসেছে। এরপর সেটা সিন্ডিকেটের সভায় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইতঃপূর্বে গবেষক নূর মোহাম্মদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগ থেকে বিএ অনার্স (প্রথম শ্রেণিতে প্রথম), এমএ (প্রথম শ্রেণিতে প্রথম) এবং এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
ডক্টর অব ফিলোসোফি (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় অন্যান্যের মতো তার এই ডিগ্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আহমদ আলির অধীনে এই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ‘অপরাধ দমনে প্রচলিত আইন ও ইসলামি আইন’ শীর্ষক শিরোনামে গবেষণা করে এই ডিগ্রি লাভ করেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর শাহীন কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
জানা গেছে, নগরীর লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন ড. নূর মোহাম্মদ। বাবা মরহুম আবুল বশর সাওদাগর ও মাতা রওশন আরা বেগমের কনিষ্ঠ সন্তান তিনি।
পিএইচডির বিষয়বস্তু ও অনুভূতি:
নিজের করা গবেষণার বিষয়ে ড. নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, তার গবেষণাকর্মের ‘শিরোনাম হলো অপরাধ দমনে প্রচলিত আইন ও ইসলামি আইন’ অর্থাৎ সমাজের মৌলিক সমস্যা অপরাধের আইনি ও ধর্মীয় সমাধান নিয়ে তার গবেষণাকর্ম।
পিএইচডি অর্জনের অনুভূতি ব্যক্ত করে নূর মোহাম্মদ বলেন— পিএইচডি গবেষণা একটি কষ্টসাধ্য জার্নি, আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। যেখানে কষ্ট সেখানে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। সুতরাং সর্বোচ্চ ধৈর্যের সাথে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে অপরাধ বাড়ছে: ড. নূর মোহাম্মদ
অপরাধ প্রাচীন ও বৈশ্বিক একটি সমস্যা। তবে আমার গবেষণাকর্মে বাংলাদেশে সংঘটিত অপরাধের কারণ ও গতি-প্রকৃতি এবং তা দমনে বাংলাদেশের আইন ও ইসলামি আইন কীভাবে কাজ করে তার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। অপরাধের বিভিন্ন কারণ থাকলেও বর্তমানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণেই অপরাধের মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।
তিনি আরো যোগ করেন, অপরাধ দমনে প্রচলিত মৌলিক আইনসমূহ ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন প্রেক্ষাপটে প্রণীত বিধায় এসব আইন সর্বকাল উপযোগী নয়। তাছাড়া কেবল আইন প্রয়োগ করে যে অপরাধ দমন সম্ভব নয়, তা প্রমাণিত সত্য। পক্ষান্তরে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে ব্যক্তিকে অপরাধবিমুখ করার মাধ্যমে একটি অপরাধমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে ইসলামি আইনে।
ফলে দেখা যায়— ইসলামি আইনে পরিচালিত যুগে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলেও পরক্ষণে নিজেকে আইনের হাতে সোপর্দ করেছেন। অপরাধ দমন করা উভয় আইনের উদ্দেশ্য হলেও পদ্ধতিগতভাবে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুটোই রয়েছে। এসব সমন্বয় করে কীভাবে একটি অপরাধমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়, তার কিছু সুপারিশ রয়েছে আমার এই গবেষণাকর্মে, বলেন ড. নূর মোহাম্মদ।
হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল:
গবেষণাকালীন সময়ে রয়েছে তার নানা স্মৃতি। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অপরাধের কারণ উদ্ঘাটন কিংবা অপরাধীদের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমাকে যে বিষয়টি বিস্মিত করেছে তা হলো— সমাজে কিছু লোকের দ্বারা এমন কিছু অপরাধ ঘটে যা বাহ্যত অপরাধ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপরাধী মনে হয় না, কিন্তু তা দৃশ্যমান অপরাধের চেয়েও ভয়ংকর। এসব ‘হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল’ অধিকাংশ সময়েই ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায়।
হোয়াইট কলার অপরাধী (White Collar Criminal) বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায়, যে সম্মানজনক পেশা, অফিস বা ব্যাবসায়িক অবস্থান ব্যবহার করে অর্থনৈতিক বা বুদ্ধিভিত্তিক অপরাধ করে। এই অপরাধগুলো সাধারণত হয়— সহিংসতা ছাড়াই। কাগজপত্র, হিসাব, প্রযুক্তি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে। আমি এ ব্যাপারে আশাবাদী যে, এ গবেষণাকর্মে প্রস্তাবিত সুপারিশমালা আমলে নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হলে তা আদর্শ ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করবে, বলেন গবেষক ড. নূর মোহাম্মদ।
৫৬৫তম সিন্ডিকেটে অনুমোদন:
পিএইচডি অর্জনের তথ্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি পাবলিকভয়েস২৪.কমকে বলেন, পিএইচডির আবেদনগুলো অ্যাকডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রতি ৫৬৫তম সিন্ডিকেটে এসেছে। এরপর সেটা সিন্ডিকেটের সভায় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইতঃপূর্বে গবেষক নূর মোহাম্মদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগ থেকে বিএ অনার্স (প্রথম শ্রেণিতে প্রথম), এমএ (প্রথম শ্রেণিতে প্রথম) এবং এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
