বাছাইকৃত
১৪ বছর ধরে আলাদা, একই স্কুলে চাকরি—অবশেষে অফিসকক্ষেই প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের হাতাহাতি
পারিবারিক জীবনের দীর্ঘ ১৪ বছরের দূরত্ব আর আদালতের মামলা— কোনো কিছুই বাধা হতে পারেনি একই কর্মস্থলে চাকরি করার ক্ষেত্রে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।
দীর্ঘদিনের সেই পুঞ্জীভূত পারিবারিক বিরোধ এবার রূপ নিল প্রকাশ্য রণক্ষেত্রে। তাও আবার পবিত্র বিদ্যাপীঠের অফিসকক্ষেই সহকর্মীদের সামনে একে অপরকে আঘাত ও ধস্তাধস্তিতে জড়ালেন তারা।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। মারামারিতে জড়ানো এই দুই শিক্ষক হলেন— বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম।
পেশাগত জীবনে তারা সহকর্মী হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তারা স্বামী-স্ত্রী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর তাদের মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৪ সালে আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যে বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে দাম্পত্য কলহের জেরে গত প্রায় ১৪ বছর ধরে এই স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকছেন। তাদের মধ্যকার বিরোধের জেরে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই ২০১১ সালের দিকে তারা দুজনেই এই আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি আজ ছড়ালেও ঘটনাটি মূলত ১০ থেকে ১২ দিন আগের। পারিবারিক বিরোধের জেরে বিদ্যালয়ের ভেতরেই এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধের রেশ বিদ্যালয়েও চলে আসে। ঘটনার দিনও একই কারণে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।’ তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মারামারির ওই ভিডিওটি নিজের সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়েই ধারণ করিয়েছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক নিজেই।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মধ্যে প্রায় ১৫ বছর ধরে দূরত্ব থাকলেও এখনো বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। আদালতে মামলা চলছে।’ বিদ্যালয়ে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি বলে অনুতাপ প্রকাশ করলেও তিনি জানান, এর আগেও বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে দু-তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক ও ৯০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। কোমলমতি শিশুদের বিদ্যাপীঠে শিক্ষকদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি ১০-১২ দিন আগের হলেও আজ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা জানতে পেরেছি তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মতো জায়গায় শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনায় প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বুধবারই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হবে।’
মূল সংবাদ- কালের কণ্ঠ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
১৪ বছর ধরে আলাদা, একই স্কুলে চাকরি—অবশেষে অফিসকক্ষেই প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের হাতাহাতি
পারিবারিক জীবনের দীর্ঘ ১৪ বছরের দূরত্ব আর আদালতের মামলা— কোনো কিছুই বাধা হতে পারেনি একই কর্মস্থলে চাকরি করার ক্ষেত্রে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।
দীর্ঘদিনের সেই পুঞ্জীভূত পারিবারিক বিরোধ এবার রূপ নিল প্রকাশ্য রণক্ষেত্রে। তাও আবার পবিত্র বিদ্যাপীঠের অফিসকক্ষেই সহকর্মীদের সামনে একে অপরকে আঘাত ও ধস্তাধস্তিতে জড়ালেন তারা।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। মারামারিতে জড়ানো এই দুই শিক্ষক হলেন— বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম।
পেশাগত জীবনে তারা সহকর্মী হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তারা স্বামী-স্ত্রী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর তাদের মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৪ সালে আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যে বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে দাম্পত্য কলহের জেরে গত প্রায় ১৪ বছর ধরে এই স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকছেন। তাদের মধ্যকার বিরোধের জেরে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই ২০১১ সালের দিকে তারা দুজনেই এই আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি আজ ছড়ালেও ঘটনাটি মূলত ১০ থেকে ১২ দিন আগের। পারিবারিক বিরোধের জেরে বিদ্যালয়ের ভেতরেই এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধের রেশ বিদ্যালয়েও চলে আসে। ঘটনার দিনও একই কারণে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।’ তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মারামারির ওই ভিডিওটি নিজের সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়েই ধারণ করিয়েছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক নিজেই।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মধ্যে প্রায় ১৫ বছর ধরে দূরত্ব থাকলেও এখনো বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। আদালতে মামলা চলছে।’ বিদ্যালয়ে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি বলে অনুতাপ প্রকাশ করলেও তিনি জানান, এর আগেও বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে দু-তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক ও ৯০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। কোমলমতি শিশুদের বিদ্যাপীঠে শিক্ষকদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি ১০-১২ দিন আগের হলেও আজ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা জানতে পেরেছি তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মতো জায়গায় শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনায় প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বুধবারই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হবে।’
মূল সংবাদ- কালের কণ্ঠ
