আন্তর্জাতিক
রাষ্ট্রপতি ভবনে বিরোধী জোটের বৈঠক ও রাহুল গান্ধীর দাবি
ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কথিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি তাদের উত্থাপিত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ শুনে সরাসরি তা অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং তিনি এ বিষয়ে তাদের কাছে লিখিত ও অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলেছেন। রাষ্ট্রপতির এমন অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করে রাহুল বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম তিনি বলবেন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষ। কিন্তু তিনি কোনো কিছু অস্বীকার করেননি, বরং প্রমাণ চেয়েছেন। আমরা সারা দেশ থেকে সংগৃহীত প্রমাণাদি তাঁর কাছে পৌঁছে দেব।’
স্মারকলিপির ৪ দফা দাবি ও বিরোধীদের পরবর্তী পদক্ষেপ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বিরোধীদের পক্ষ থেকে চার দফা সম্বলিত একটি স্মারকলিপি তুলে ধরা হয়। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
১. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর/SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সংশ্লিষ্ট আইনি দায়মুক্তির বিধান বাতিল করা।
২. এসআইআর-এর নামে বাদ পড়া কোটি কোটি ভোটারের নাম অবিলম্বে তালিকায় পুনর্বহাল করা ও সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা।
৩. দেশের সকল নির্বাচনে ইভিএমের পরিবর্তে কাগজভিত্তিক ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
৪. গত দুই বছরে যেসব নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছে, প্রমাণ সাপেক্ষে সেসব ফলাফল বাতিল করা।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বিরোধীরা দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। রাহুল গান্ধী জানান, আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করতে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।
রাষ্ট্রপতি ভবনের অবস্থান ও বিজেপির প্রতিক্রিয়া
রাহুল গান্ধীর এমন বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ ও রাষ্ট্রপতি ভবনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন বা ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে নিয়মতান্ত্রিক আইনি পথ রয়েছে, কিন্তু তা না করে সংবিধানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি ভবন সংশ্লিষ্ট সূত্রে রাহুলের বক্তব্যকে ‘ভুল ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক টানাটানির বাইরে রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ আন্দোলন
মূলত নির্বাচন কমিশনের ভেতর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ভারতের জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ আন্দোলন এবং ইন্ডিয়া জোটের টানা কর্মসূচিতে দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় ও ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের পাশাপাশি আইনি ও সাংবিধানিক লড়াই চালিয়ে যাবে তারা।

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
রাষ্ট্রপতি ভবনে বিরোধী জোটের বৈঠক ও রাহুল গান্ধীর দাবি
ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কথিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি তাদের উত্থাপিত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ শুনে সরাসরি তা অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং তিনি এ বিষয়ে তাদের কাছে লিখিত ও অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলেছেন। রাষ্ট্রপতির এমন অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করে রাহুল বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম তিনি বলবেন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষ। কিন্তু তিনি কোনো কিছু অস্বীকার করেননি, বরং প্রমাণ চেয়েছেন। আমরা সারা দেশ থেকে সংগৃহীত প্রমাণাদি তাঁর কাছে পৌঁছে দেব।’
স্মারকলিপির ৪ দফা দাবি ও বিরোধীদের পরবর্তী পদক্ষেপ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বিরোধীদের পক্ষ থেকে চার দফা সম্বলিত একটি স্মারকলিপি তুলে ধরা হয়। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
১. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর/SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সংশ্লিষ্ট আইনি দায়মুক্তির বিধান বাতিল করা।
২. এসআইআর-এর নামে বাদ পড়া কোটি কোটি ভোটারের নাম অবিলম্বে তালিকায় পুনর্বহাল করা ও সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা।
৩. দেশের সকল নির্বাচনে ইভিএমের পরিবর্তে কাগজভিত্তিক ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
৪. গত দুই বছরে যেসব নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছে, প্রমাণ সাপেক্ষে সেসব ফলাফল বাতিল করা।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বিরোধীরা দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। রাহুল গান্ধী জানান, আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করতে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।
রাষ্ট্রপতি ভবনের অবস্থান ও বিজেপির প্রতিক্রিয়া
রাহুল গান্ধীর এমন বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ ও রাষ্ট্রপতি ভবনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন বা ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে নিয়মতান্ত্রিক আইনি পথ রয়েছে, কিন্তু তা না করে সংবিধানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি ভবন সংশ্লিষ্ট সূত্রে রাহুলের বক্তব্যকে ‘ভুল ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক টানাটানির বাইরে রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ আন্দোলন
মূলত নির্বাচন কমিশনের ভেতর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ভারতের জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ আন্দোলন এবং ইন্ডিয়া জোটের টানা কর্মসূচিতে দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় ও ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের পাশাপাশি আইনি ও সাংবিধানিক লড়াই চালিয়ে যাবে তারা।
