কৃষিকৃষি

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংস্থার আজীবন ফেলো হলেন ধুনটের ড. আব্দুল লতিফ

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংস্থার আজীবন ফেলো হলেন ধুনটের ড. আব্দুল লতিফ
বিশ্ববিজ্ঞান সংস্থার আজীবন ফেলো ডক্টর আব্দুল লতিফ ।

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংস্থা ‘দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেস’ (টিডব্লিউএএস)-এর আজীবন ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার কৃতী সন্তান কৃষিবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ। এ বছর বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত সাতজন বিজ্ঞানী ও গবেষকের মধ্যে রয়েছেন তিনি। তাঁর এ আন্তর্জাতিক অর্জনে গর্বিত ধুনটবাসী।

সংস্থাটির সাম্প্রতিক বার্ষিক সাধারণ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ৮৭ জন বিজ্ঞানীকে আজীবন ফেলো হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। ২০২৭ সালের জন্য নতুন ফেলো নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয় গত ৫ নভেম্বর। পরদিন ৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ফেলোদের নাম প্রকাশ করে টিডব্লিউএএস।

ড. আব্দুল লতিফ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) গাজীপুর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো। বর্তমানে ময়মনসিংহের ত্রিশালে সুপ্রিম সীড কোম্পানি লিমিটেডের রাইস রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে তিনি জাতীয় অধ্যাপক ড. ইন্নাছ আলী স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এছাড়া ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো হিসেবে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।

ড. আব্দুল লতিফের জন্ম ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী গ্রামে। তিনি ১৯৮১ সালে ধুনট এন ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। গ্রামের সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি অর্জন করায় তাঁর সাফল্য স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

বার্ষিক সভায় টিডব্লিউএএসের আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেল ও নির্বাহী পরিষদ ভূতত্ত্ব, ভূগর্ভস্থ পানি সুরক্ষা, কৃষিবিজ্ঞান, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি, পরিবেশবান্ধব পাট প্রযুক্তি, কম্পিউটার সায়েন্স ও কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বাংলাদেশের গবেষকদের অবদানের প্রশংসা করেন।

নিজের এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অনুভূতি প্রকাশ করে ড. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, “এই সম্মান আমার একার নয়, এটি আমার পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী ও জন্মভূমির মানুষের দোয়া ও ভালোবাসার ফল। ধুনটের মাটিতে বেড়ে উঠেছি, এই মাটিই আমাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের বলব, সততা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে গ্রামের সন্তানও বিশ্ব দরবারে নিজের জায়গা করে নিতে পারে।”

তাঁর এ অর্জন শুধু ধুনট নয়, দেশের কৃষিবিজ্ঞান ও গবেষণাঙ্গনের জন্যও এক গৌরবের বিষয়।

M

Public Voice

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংস্থার আজীবন ফেলো হলেন ধুনটের ড. আব্দুল লতিফ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংস্থা ‘দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেস’ (টিডব্লিউএএস)-এর আজীবন ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার কৃতী সন্তান কৃষিবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ। এ বছর বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত সাতজন বিজ্ঞানী ও গবেষকের মধ্যে রয়েছেন তিনি। তাঁর এ আন্তর্জাতিক অর্জনে গর্বিত ধুনটবাসী।


সংস্থাটির সাম্প্রতিক বার্ষিক সাধারণ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ৮৭ জন বিজ্ঞানীকে আজীবন ফেলো হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। ২০২৭ সালের জন্য নতুন ফেলো নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয় গত ৫ নভেম্বর। পরদিন ৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ফেলোদের নাম প্রকাশ করে টিডব্লিউএএস।


ড. আব্দুল লতিফ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) গাজীপুর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো। বর্তমানে ময়মনসিংহের ত্রিশালে সুপ্রিম সীড কোম্পানি লিমিটেডের রাইস রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে তিনি জাতীয় অধ্যাপক ড. ইন্নাছ আলী স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এছাড়া ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো হিসেবে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।


ড. আব্দুল লতিফের জন্ম ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী গ্রামে। তিনি ১৯৮১ সালে ধুনট এন ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। গ্রামের সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি অর্জন করায় তাঁর সাফল্য স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।


বার্ষিক সভায় টিডব্লিউএএসের আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেল ও নির্বাহী পরিষদ ভূতত্ত্ব, ভূগর্ভস্থ পানি সুরক্ষা, কৃষিবিজ্ঞান, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি, পরিবেশবান্ধব পাট প্রযুক্তি, কম্পিউটার সায়েন্স ও কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে বাংলাদেশের গবেষকদের অবদানের প্রশংসা করেন।


নিজের এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অনুভূতি প্রকাশ করে ড. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, “এই সম্মান আমার একার নয়, এটি আমার পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী ও জন্মভূমির মানুষের দোয়া ও ভালোবাসার ফল। ধুনটের মাটিতে বেড়ে উঠেছি, এই মাটিই আমাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের বলব, সততা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে গ্রামের সন্তানও বিশ্ব দরবারে নিজের জায়গা করে নিতে পারে।”


তাঁর এ অর্জন শুধু ধুনট নয়, দেশের কৃষিবিজ্ঞান ও গবেষণাঙ্গনের জন্যও এক গৌরবের বিষয়।

M


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত