কৃষিকৃষি

ধুনটে আগাম সবজি চাষে কৃষকের স্বপ্ন, লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৩৫ হেক্টর

ধুনটে আগাম সবজি চাষে কৃষকের স্বপ্ন, লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৩৫ হেক্টর
মাঠে শীতকালীন সবজির বীজ বপন করছেন কৃষক দম্পতি।

শীতের আগমন পুরোপুরি শুরু না হলেও বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজি তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও পরিচর্যায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তাঁরা। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ হেক্টর বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ন্যায্য বাজারদর বজায় থাকলে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও জমি চাষ ও সার প্রয়োগ চলছে, কোথাও রোপণ করা হচ্ছে সবজির চারা। আগাম রোপণ করা গাছের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার এবং পোকামাকড় দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কিছু জমিতে উৎপাদিত সবজি ইতিমধ্যে বাজারজাতও করা হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মাঠজুড়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শসা, টমেটো, মুলা, লাউ, করলা, মরিচ, শিম, বরবটি, গাজর, পালংশাক, লালশাক, ধনেপাতাসহ নানা ধরনের সবজির চাষ হচ্ছে। আগাম সবজির চাহিদা ও তুলনামূলক বেশি দামের সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের মধ্যে এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে।


৩৫ হেক্টর বেড়েছে চাষের লক্ষ্যমাত্রা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ধুনট উপজেলায় ১ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৫১ হেক্টর। সে হিসাবে এবার গত বছরের তুলনায় ৩৫ হেক্টর জমিতে বেশি সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবি মৌসুম শুরুর পর এখন পর্যন্ত উপজেলায় ৩৩৮ হেক্টরের বেশি জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কৃষকেরা আগাম আবাদে ঝুঁকছেন।


বাড়তি খরচেও লাভের আশায় কৃষকেরা।

উপজেলার পাঁচথুপী গ্রামের কৃষক জহির উদ্দিন বলেন, “ষমৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কিছুটা লাভের আশা করা যায়। ১৫ শতক জমিতে টমেটো চাষ করছি। শুরুতে বৃষ্টির কারণে কিছু চারা মারা গেলেও এখন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে জমি প্রস্তুত, সার, সেচ ও পোকামাকড় দমনে বাড়তি খরচ করতে হয়। প্রত্যাশিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে।

মথুরাপুর ইউনিয়নের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, তিনি এবার একাধিক ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। গত বছর মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পেলেও শেষের দিকে তুলনামূলক কম দাম পাওয়ায় লোকসান হয়েছিল। এবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

একই উপজেলার কৃষক রিপন মিয়া এবার ১৮ শতক জমিতে করলা চাষ করেছেন। তিনি জানান, সার ও বীজ কিনতে ইতিমধ্যে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সুতা, বাঁশসহ অন্যান্য উপকরণে ব্যয় হয়েছে আরও ৯ হাজার টাকা। সবজি বাজারজাত করা পর্যন্ত মোট খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে ওই জমির করলা বিক্রি করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

পারলক্ষীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মোমিন বলেন, “বেগুন, শিম ও টমেটোসহ ৪০ শতক জমিতে আগাম সবজি চাষ করেছি। এ বছর বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। বাড়তি পরিচর্যা করতে গিয়ে খরচও বেড়েছে। তবে ভালো ফলনের আশাবাদী।

কৃষকদের মতে, গত বছর আগাম সবজি চাষ করে ভালো দাম পাওয়ায় এবারও অনেকেই নতুন করে এ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তবে অসময়ে বৃষ্টি, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা এড়ানো গেলে ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।


কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সামিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় কৃষকেরা আগাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে কৃষকেরা সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ভালো ফলন পেতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে নিরাপদ ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকেরা যাতে লাভবান হতে পারেন এবং চাষাবাদে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি করছে। পাশাপাশি সঠিক সময়ে সুষম সার, জৈব সার ও বালাইনাশক ব্যবহারের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায্য বাজারদর বজায় থাকলে আগাম শীতকালীন সবজি তাঁদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

M

Public Voice

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


ধুনটে আগাম সবজি চাষে কৃষকের স্বপ্ন, লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৩৫ হেক্টর

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শীতের আগমন পুরোপুরি শুরু না হলেও বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজি তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও পরিচর্যায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তাঁরা। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ হেক্টর বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ন্যায্য বাজারদর বজায় থাকলে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা।


উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও জমি চাষ ও সার প্রয়োগ চলছে, কোথাও রোপণ করা হচ্ছে সবজির চারা। আগাম রোপণ করা গাছের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার এবং পোকামাকড় দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কিছু জমিতে উৎপাদিত সবজি ইতিমধ্যে বাজারজাতও করা হচ্ছে।


উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মাঠজুড়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শসা, টমেটো, মুলা, লাউ, করলা, মরিচ, শিম, বরবটি, গাজর, পালংশাক, লালশাক, ধনেপাতাসহ নানা ধরনের সবজির চাষ হচ্ছে। আগাম সবজির চাহিদা ও তুলনামূলক বেশি দামের সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের মধ্যে এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে।


৩৫ হেক্টর বেড়েছে চাষের লক্ষ্যমাত্রা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ধুনট উপজেলায় ১ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৫১ হেক্টর। সে হিসাবে এবার গত বছরের তুলনায় ৩৫ হেক্টর জমিতে বেশি সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবি মৌসুম শুরুর পর এখন পর্যন্ত উপজেলায় ৩৩৮ হেক্টরের বেশি জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কৃষকেরা আগাম আবাদে ঝুঁকছেন।


বাড়তি খরচেও লাভের আশায় কৃষকেরা।

উপজেলার পাঁচথুপী গ্রামের কৃষক জহির উদ্দিন বলেন, “ষমৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কিছুটা লাভের আশা করা যায়। ১৫ শতক জমিতে টমেটো চাষ করছি। শুরুতে বৃষ্টির কারণে কিছু চারা মারা গেলেও এখন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।


কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে জমি প্রস্তুত, সার, সেচ ও পোকামাকড় দমনে বাড়তি খরচ করতে হয়। প্রত্যাশিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে।

মথুরাপুর ইউনিয়নের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, তিনি এবার একাধিক ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। গত বছর মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পেলেও শেষের দিকে তুলনামূলক কম দাম পাওয়ায় লোকসান হয়েছিল। এবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।


একই উপজেলার কৃষক রিপন মিয়া এবার ১৮ শতক জমিতে করলা চাষ করেছেন। তিনি জানান, সার ও বীজ কিনতে ইতিমধ্যে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সুতা, বাঁশসহ অন্যান্য উপকরণে ব্যয় হয়েছে আরও ৯ হাজার টাকা। সবজি বাজারজাত করা পর্যন্ত মোট খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে ওই জমির করলা বিক্রি করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।


পারলক্ষীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মোমিন বলেন, “বেগুন, শিম ও টমেটোসহ ৪০ শতক জমিতে আগাম সবজি চাষ করেছি। এ বছর বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। বাড়তি পরিচর্যা করতে গিয়ে খরচও বেড়েছে। তবে ভালো ফলনের আশাবাদী।

কৃষকদের মতে, গত বছর আগাম সবজি চাষ করে ভালো দাম পাওয়ায় এবারও অনেকেই নতুন করে এ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তবে অসময়ে বৃষ্টি, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা এড়ানো গেলে ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।


কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সামিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় কৃষকেরা আগাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে কৃষকেরা সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ভালো ফলন পেতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে নিরাপদ ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকেরা যাতে লাভবান হতে পারেন এবং চাষাবাদে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি করছে। পাশাপাশি সঠিক সময়ে সুষম সার, জৈব সার ও বালাইনাশক ব্যবহারের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


কৃষকদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায্য বাজারদর বজায় থাকলে আগাম শীতকালীন সবজি তাঁদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

M


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত