রাজনীতিরাজনীতি

সোনাদিয়া বন্দর বাতিল বড় কৌশলগত ক্ষতি: হামিদুর রহমান আযাদ

সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সুযোগ হারিয়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

সোনাদিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ১৮ মিটার গভীরতার আন্তর্জাতিক মানের বন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসা দেশের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, দেশের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মাতারবাড়ী বন্দর দিয়ে সেটির বিকল্প খোঁজা অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো।

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’ আয়োজিত ‘মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর: ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যালোচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ২০০৯ সালে কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ১৮ মিটার প্রাকৃতিক গভীরতা থাকায় বড় মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারত, যা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের একটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত করার সক্ষমতা রাখত।

তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালে চীন এ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দিলেও আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরাশক্তির চাপে তৎকালীন সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে। সোনাদিয়া প্রকল্প বাতিলের অজুহাত হিসেবে পরিবেশের ক্ষতি, ইকোট্যুরিজম, কচ্ছপ ও পাখির আবাসস্থল এবং পলি জমার মতো বিষয়গুলোকে সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু এর আড়ালে আসলে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিই মূল ভূমিকা পালন করেছে।

মাতারবাড়ী বন্দরের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুরুতে এটি গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে পরিকল্পিত ছিল না। ১২০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানির জেটি ও অবকাঠামো হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। সোনাদিয়া প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার পরই কেবল একে গভীর সমুদ্রবন্দরে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সোনাদিয়ার ১৮ মিটার গভীরতার বিপরীতে মাতারবাড়ী বন্দরের ড্রাফট মাত্র ১৩ দশমিক ৪ মিটার হওয়ায় এর কার্যকারিতা পলি অপসারণ ও নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় রাজনীতি ও বিদেশি শক্তির স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে দেশ এখন ভূ-অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা হারিয়েছে। বন্দর না হওয়ার চেয়ে মাতারবাড়ী হওয়া অবশ্যই ভালো, কিন্তু তা সোনাদিয়ার সেই হারানো সম্ভাবনার বিকল্প নয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসির। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক মেজর জেনারেল আমসা আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রুবি আমাতুল্লাহ, ড. সিব্বির মাহমুদ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

Public Voice

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


সোনাদিয়া বন্দর বাতিল বড় কৌশলগত ক্ষতি: হামিদুর রহমান আযাদ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সোনাদিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ১৮ মিটার গভীরতার আন্তর্জাতিক মানের বন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসা দেশের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, দেশের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মাতারবাড়ী বন্দর দিয়ে সেটির বিকল্প খোঁজা অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো।

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’ আয়োজিত ‘মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর: ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যালোচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ২০০৯ সালে কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ১৮ মিটার প্রাকৃতিক গভীরতা থাকায় বড় মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারত, যা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের একটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত করার সক্ষমতা রাখত।

তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালে চীন এ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দিলেও আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরাশক্তির চাপে তৎকালীন সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে। সোনাদিয়া প্রকল্প বাতিলের অজুহাত হিসেবে পরিবেশের ক্ষতি, ইকোট্যুরিজম, কচ্ছপ ও পাখির আবাসস্থল এবং পলি জমার মতো বিষয়গুলোকে সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু এর আড়ালে আসলে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিই মূল ভূমিকা পালন করেছে।

মাতারবাড়ী বন্দরের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুরুতে এটি গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে পরিকল্পিত ছিল না। ১২০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানির জেটি ও অবকাঠামো হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। সোনাদিয়া প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার পরই কেবল একে গভীর সমুদ্রবন্দরে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সোনাদিয়ার ১৮ মিটার গভীরতার বিপরীতে মাতারবাড়ী বন্দরের ড্রাফট মাত্র ১৩ দশমিক ৪ মিটার হওয়ায় এর কার্যকারিতা পলি অপসারণ ও নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় রাজনীতি ও বিদেশি শক্তির স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে দেশ এখন ভূ-অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা হারিয়েছে। বন্দর না হওয়ার চেয়ে মাতারবাড়ী হওয়া অবশ্যই ভালো, কিন্তু তা সোনাদিয়ার সেই হারানো সম্ভাবনার বিকল্প নয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসির। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক মেজর জেনারেল আমসা আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রুবি আমাতুল্লাহ, ড. সিব্বির মাহমুদ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত