আইন-আদালত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিজের পক্ষে যুক্তিতর্ক বা আর্গুমেন্ট উপস্থাপনের জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আর্জি জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিদের জন্য নির্ধারিত কাঁচের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে এই আবেদন করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। এটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের বাইরে।
এদিন বেলা আড়াইটায় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে সালমান এফ রহমানের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় জানান যে, তার মক্কেল আদালতে কিছু কথা বলতে চান। আদালতের অনুমতি নিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, মামলার সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে ন্যায়বিচারের কথা বলছেন এবং তিনিও ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। তিনি জানান, এই মামলায় ১২ থেকে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন যুক্তিতর্ক পর্যায়ে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সালমান এফ রহমান জানান, তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ এর ৮ ও ১১ ধারা অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন। তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে তার সেই আবেদনটি বার কাউন্সিল প্রত্যাখ্যান করেছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। প্রসিকিউশন থেকে বিদেশি আইনজীবীকে পর্যবেক্ষক বা অবজার্ভার হিসেবে রাখার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা তিনি নাকচ করে দেন। তার মতে, টবি ক্যাডম্যানকে পর্যবেক্ষক রাখার আগের উদাহরণ থাকলেও তা তার ন্যায়বিচারের স্বার্থে যথেষ্ট নয়। যদি তাই হতো, তাহলে আইনটি সংশোধন করে পরিবর্তন করা হতো না।
সালমান এফ রহমানের বক্তব্যের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আদালতে বলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি পুরোপুরি বার কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং তারা অনুমতি দিলে ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তারা কাকে অনুমতি দেবেন—তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল বার কাউন্সিলের, যা আইনে উল্লেখ রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এই প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে বার কাউন্সিল আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করেছে কি না, কেবল সেই বিষয়টি আদালতকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। যেখানে আইনে স্পষ্ট করে কিছু বলা না থাকে, সেখানে ট্রাইব্যুনাল কোনো নির্দেশনা দিতে পারে।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিজের পক্ষে যুক্তিতর্ক বা আর্গুমেন্ট উপস্থাপনের জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আর্জি জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিদের জন্য নির্ধারিত কাঁচের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে এই আবেদন করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। এটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের বাইরে।
এদিন বেলা আড়াইটায় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে সালমান এফ রহমানের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় জানান যে, তার মক্কেল আদালতে কিছু কথা বলতে চান। আদালতের অনুমতি নিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, মামলার সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে ন্যায়বিচারের কথা বলছেন এবং তিনিও ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। তিনি জানান, এই মামলায় ১২ থেকে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন যুক্তিতর্ক পর্যায়ে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সালমান এফ রহমান জানান, তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ এর ৮ ও ১১ ধারা অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন। তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে তার সেই আবেদনটি বার কাউন্সিল প্রত্যাখ্যান করেছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। প্রসিকিউশন থেকে বিদেশি আইনজীবীকে পর্যবেক্ষক বা অবজার্ভার হিসেবে রাখার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা তিনি নাকচ করে দেন। তার মতে, টবি ক্যাডম্যানকে পর্যবেক্ষক রাখার আগের উদাহরণ থাকলেও তা তার ন্যায়বিচারের স্বার্থে যথেষ্ট নয়। যদি তাই হতো, তাহলে আইনটি সংশোধন করে পরিবর্তন করা হতো না।
সালমান এফ রহমানের বক্তব্যের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আদালতে বলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি পুরোপুরি বার কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং তারা অনুমতি দিলে ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তারা কাকে অনুমতি দেবেন—তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল বার কাউন্সিলের, যা আইনে উল্লেখ রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এই প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে বার কাউন্সিল আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করেছে কি না, কেবল সেই বিষয়টি আদালতকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। যেখানে আইনে স্পষ্ট করে কিছু বলা না থাকে, সেখানে ট্রাইব্যুনাল কোনো নির্দেশনা দিতে পারে।
