ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো যুবসমাজ। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়ন যাত্রায় তরুণ প্রজন্মের অবদান অনস্বীকার্য। শনিবার এক বাণীতে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান তিনি। জাতীয় যুব দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় যুবসমাজ ক্রমবর্ধমানভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন যে, জাতি গঠনে তরুণদের অমিত সম্ভাবনা উপলব্ধি করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাদের সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে তৃণমূল পর্যায়ে যুব কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর গঠন করা হয়। তার নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি লাভ করে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
তৎকালীন সরকার ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আরও স্মরণ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তাদের কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কে।
বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮০ লাখের বেশি তরুণ দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং ২৫ লাখের মতো আত্মকর্মী স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের অনেকে মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
তরুণদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৫৪৬ জনকে জাতীয় যুব পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। জাতীয় যুব পুরস্কারকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নার-নারী ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো নতুন সম্ভাবনাময় খাতে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো যাতে অর্থের অভাবে ব্যর্থ না হয়, সে লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে যুবসমাজকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো যুবসমাজ। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়ন যাত্রায় তরুণ প্রজন্মের অবদান অনস্বীকার্য। শনিবার এক বাণীতে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান তিনি। জাতীয় যুব দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় যুবসমাজ ক্রমবর্ধমানভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন যে, জাতি গঠনে তরুণদের অমিত সম্ভাবনা উপলব্ধি করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাদের সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে তৃণমূল পর্যায়ে যুব কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর গঠন করা হয়। তার নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি লাভ করে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
তৎকালীন সরকার ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আরও স্মরণ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তাদের কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কে।
বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮০ লাখের বেশি তরুণ দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং ২৫ লাখের মতো আত্মকর্মী স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের অনেকে মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
তরুণদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৫৪৬ জনকে জাতীয় যুব পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। জাতীয় যুব পুরস্কারকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নার-নারী ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো নতুন সম্ভাবনাময় খাতে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো যাতে অর্থের অভাবে ব্যর্থ না হয়, সে লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে যুবসমাজকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
