সিলেটসিলেট

বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ: রস্টন চেজ

ঢাকা টেস্টে জয় তুলে নেওয়ার পর এবার সিলেট টেস্টেও বাংলাদেশকে হারিয়ে পূর্ণ সিরিজ জয়ের লক্ষ্য জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রস্টন চেজ।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

ঢাকা টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে বাংলাদেশকে পরাজিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট ও বল হাতে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট বজায় রাখা সফরকারী দলটি এখন সিলেট টেস্টের দিকে তাকিয়ে আছে। ম্যাচ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে উইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করা। ঘরের মাঠে সর্বশেষ চারটি টেস্ট জেতা বাংলাদেশের বিপক্ষে এই জয়কে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের বড় উপলক্ষ হিসেবে দেখছে সফরকারীরা। চেজের মতে, যে কোনো পরিস্থিতিতে টেস্ট ম্যাচ জেতা সবসময়ই আনন্দের, আর এই জয়ের মাধ্যমে তারা সিরিজের শুভসূচনা করতে পেরেছে। এমন কন্ডিশনে স্বাগতিকদের হারানোর অনুভূতি নিয়ে উইন্ডিজ অধিনায়ক বলেন, 'যেকোনো জায়গায়, যেকোনো কন্ডিশনে টেস্ট ম্যাচ জয়ের অনুভূতি দারুণ।

ম্যাচে স্পিনারদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ঢাকা টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৬টি উইকেট নিয়েছেন উইন্ডিজ স্পিনাররা, যেখানে বাংলাদেশের স্পিনাররা দুই ইনিংসে সংগ্রহ করেছেন ৮টি উইকেট। এই সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন জোমেল ওয়ারিক্যান, যিনি ম্যাচে মোট ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। অধিনায়ক চেজ তার সতীর্থ সম্পর্কে বলেন, আমাদের একটি মানসম্মত স্পিন আক্রমণ রয়েছে। জোমেল ওয়ারিক্যান অনেক বছর ধরেই আমার পরিচিত এবং সে একজন দক্ষ বোলার। সে সবসময় নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করে এবং দলের প্রয়োজনে জ্বলে ওঠে। কিন্তু আমরা এখানে জিততে এসেছি, তাই এই শুরুটা দরকার ছিল। আমরা দুটো ম্যাচই জিততে চাই, এটা কেবল দুই লেগের প্রথমটি (জয়)। আমরা একই স্কুলে গিয়েছি এবং সে একজন কারুশিল্পী। যখনই সে সুযোগ পেয়েছে, নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেছে এবং দলকে কিছু দেয়ার চেষ্টা করেছে। যে ফিফটিটা হয়েছে (নাঈমের ফিফটি), আমরা যতটা না আশা করেছি, সে তার চেয়ে বেশিক্ষণ আমাদের মাঠে রেখেছে।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট প্রসঙ্গে চেজ জানান, বাংলাদেশের লিড খুব বেশি বাড়তে না দেওয়াটাই ছিল তাদের প্রধান পরিকল্পনা।

কারণ চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশে ব্যাট করা বরাবরই কঠিন। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে তারা শুরুতেই স্বাগতিকদের চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের নাঈম হাসানের ব্যাটিং কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। তাকে দ্রুত আউট না করা গেলেও চেজের দাবি, তারা নিজেদের ধৈর্য ধরে রেখে পরিকল্পনায় অটল ছিলেন। নাঈমের ফিফটির কারণে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪২ রান পর্যন্ত পৌঁছালেও, উইন্ডিজ বোলাররা তাদের নির্দিষ্ট রানের মধ্যেই আটকে রাখতে সক্ষম হয়। তবে নাঈমের ব্যাটে সেই সংগ্রহটা ১৪২-এ চলে যায় বাংলাদেশের।

ঢাকা টেস্টের উইকেট নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে উইন্ডিজ অধিনায়ক বলেন, এই মাঠে বেশ ভালো বাউন্স ছিল, যা তিনি ঢাকায় আগে কখনো দেখেননি। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করাটা তাদের জন্য সহজ ছিল বলে মনে করেন চেজ। জয় নিশ্চিত করতে তারা ব্যাটসম্যানদের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বা ইনটেন্ট নিয়ে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সিরিজ জয়ের এই ধারায় নিজেদের পরিকল্পনা অটুট রেখে এখন সিলেট টেস্টের দিকে মনোনিবেশ করছেন তারা। তবে আমি মনে করি, সকালে ওরা ভালো খেলেছে। সম্ভবত, ঢাকায় এই প্রথম এত বাউন্সি উইকেট দেখলাম। এরপর আমি চেয়েছি, খেলোয়াড়রা যেন ইনটেন্ট নিয়ে ব্যাট করে।

Public Voice

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ: রস্টন চেজ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঢাকা টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে বাংলাদেশকে পরাজিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট ও বল হাতে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট বজায় রাখা সফরকারী দলটি এখন সিলেট টেস্টের দিকে তাকিয়ে আছে। ম্যাচ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে উইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করা। ঘরের মাঠে সর্বশেষ চারটি টেস্ট জেতা বাংলাদেশের বিপক্ষে এই জয়কে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের বড় উপলক্ষ হিসেবে দেখছে সফরকারীরা। চেজের মতে, যে কোনো পরিস্থিতিতে টেস্ট ম্যাচ জেতা সবসময়ই আনন্দের, আর এই জয়ের মাধ্যমে তারা সিরিজের শুভসূচনা করতে পেরেছে। এমন কন্ডিশনে স্বাগতিকদের হারানোর অনুভূতি নিয়ে উইন্ডিজ অধিনায়ক বলেন, 'যেকোনো জায়গায়, যেকোনো কন্ডিশনে টেস্ট ম্যাচ জয়ের অনুভূতি দারুণ।

ম্যাচে স্পিনারদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ঢাকা টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৬টি উইকেট নিয়েছেন উইন্ডিজ স্পিনাররা, যেখানে বাংলাদেশের স্পিনাররা দুই ইনিংসে সংগ্রহ করেছেন ৮টি উইকেট। এই সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন জোমেল ওয়ারিক্যান, যিনি ম্যাচে মোট ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। অধিনায়ক চেজ তার সতীর্থ সম্পর্কে বলেন, আমাদের একটি মানসম্মত স্পিন আক্রমণ রয়েছে। জোমেল ওয়ারিক্যান অনেক বছর ধরেই আমার পরিচিত এবং সে একজন দক্ষ বোলার। সে সবসময় নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করে এবং দলের প্রয়োজনে জ্বলে ওঠে। কিন্তু আমরা এখানে জিততে এসেছি, তাই এই শুরুটা দরকার ছিল। আমরা দুটো ম্যাচই জিততে চাই, এটা কেবল দুই লেগের প্রথমটি (জয়)। আমরা একই স্কুলে গিয়েছি এবং সে একজন কারুশিল্পী। যখনই সে সুযোগ পেয়েছে, নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেছে এবং দলকে কিছু দেয়ার চেষ্টা করেছে। যে ফিফটিটা হয়েছে (নাঈমের ফিফটি), আমরা যতটা না আশা করেছি, সে তার চেয়ে বেশিক্ষণ আমাদের মাঠে রেখেছে।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট প্রসঙ্গে চেজ জানান, বাংলাদেশের লিড খুব বেশি বাড়তে না দেওয়াটাই ছিল তাদের প্রধান পরিকল্পনা।

কারণ চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশে ব্যাট করা বরাবরই কঠিন। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে তারা শুরুতেই স্বাগতিকদের চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের নাঈম হাসানের ব্যাটিং কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। তাকে দ্রুত আউট না করা গেলেও চেজের দাবি, তারা নিজেদের ধৈর্য ধরে রেখে পরিকল্পনায় অটল ছিলেন। নাঈমের ফিফটির কারণে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪২ রান পর্যন্ত পৌঁছালেও, উইন্ডিজ বোলাররা তাদের নির্দিষ্ট রানের মধ্যেই আটকে রাখতে সক্ষম হয়। তবে নাঈমের ব্যাটে সেই সংগ্রহটা ১৪২-এ চলে যায় বাংলাদেশের।

ঢাকা টেস্টের উইকেট নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে উইন্ডিজ অধিনায়ক বলেন, এই মাঠে বেশ ভালো বাউন্স ছিল, যা তিনি ঢাকায় আগে কখনো দেখেননি। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করাটা তাদের জন্য সহজ ছিল বলে মনে করেন চেজ। জয় নিশ্চিত করতে তারা ব্যাটসম্যানদের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বা ইনটেন্ট নিয়ে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সিরিজ জয়ের এই ধারায় নিজেদের পরিকল্পনা অটুট রেখে এখন সিলেট টেস্টের দিকে মনোনিবেশ করছেন তারা। তবে আমি মনে করি, সকালে ওরা ভালো খেলেছে। সম্ভবত, ঢাকায় এই প্রথম এত বাউন্সি উইকেট দেখলাম। এরপর আমি চেয়েছি, খেলোয়াড়রা যেন ইনটেন্ট নিয়ে ব্যাট করে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত