ঢাকা
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল, ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তাদের সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
দুপুরের দিকে কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে মহাসড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী ও চালক চরম দুর্ভোগে পড়েন। এতে সড়কের দুই পাশেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
শ্রমিকদের ভাষ্য, ন্যায্য বেতন ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় তারা প্রথমে কর্মবিরতি এবং পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—২৫ জানুয়ারির মধ্যে বাৎসরিক ছুটির বকেয়া পরিশোধ, টিফিন বিল ৫০ টাকা ও নাইট বিল ১৫০ টাকা নির্ধারণ, হাজিরা বোনাস ১ হাজার টাকা করা, প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, জরুরি প্রয়োজনে ছুটি এবং শ্রমিকদের সঙ্গে অসদাচরণ বন্ধ করা।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বেশ কিছু শিল্পকারখানায় আন্দোলন চলছে। এর অংশ হিসেবেই এই অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দুপুরের পর আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, সকালের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর হঠাৎ শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং কিছু উত্তেজিত শ্রমিক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ টিয়ার শেল, ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে মহাসড়ক পুরোপুরি খালি করে। শনিবার দুপুরে অবরোধের কারণে মহাসড়কের প্রায় সাত কিলোমিটার অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও শ্রমিকেরা সড়ক না ছাড়ায় বিকেল ৫টার দিকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া বাধে।
এদিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় যমুনা ডেনিমস লিমিটেড কারখানার সামনেও আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের দাবি না মেনে কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকে এনে দমন-পীড়ন চালিয়েছে। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে শিল্প পুলিশের ১০ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এতে শিল্প পুলিশের ১০ সদস্য এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর নিরাপত্তার জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল, ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তাদের সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
দুপুরের দিকে কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে মহাসড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী ও চালক চরম দুর্ভোগে পড়েন। এতে সড়কের দুই পাশেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
শ্রমিকদের ভাষ্য, ন্যায্য বেতন ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় তারা প্রথমে কর্মবিরতি এবং পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—২৫ জানুয়ারির মধ্যে বাৎসরিক ছুটির বকেয়া পরিশোধ, টিফিন বিল ৫০ টাকা ও নাইট বিল ১৫০ টাকা নির্ধারণ, হাজিরা বোনাস ১ হাজার টাকা করা, প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, জরুরি প্রয়োজনে ছুটি এবং শ্রমিকদের সঙ্গে অসদাচরণ বন্ধ করা।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বেশ কিছু শিল্পকারখানায় আন্দোলন চলছে। এর অংশ হিসেবেই এই অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দুপুরের পর আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, সকালের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর হঠাৎ শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং কিছু উত্তেজিত শ্রমিক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ টিয়ার শেল, ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে মহাসড়ক পুরোপুরি খালি করে। শনিবার দুপুরে অবরোধের কারণে মহাসড়কের প্রায় সাত কিলোমিটার অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও শ্রমিকেরা সড়ক না ছাড়ায় বিকেল ৫টার দিকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া বাধে।
এদিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় যমুনা ডেনিমস লিমিটেড কারখানার সামনেও আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের দাবি না মেনে কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকে এনে দমন-পীড়ন চালিয়েছে। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে শিল্প পুলিশের ১০ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এতে শিল্প পুলিশের ১০ সদস্য এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর নিরাপত্তার জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে।
