শিক্ষাশিক্ষা

এইচএসসি পরীক্ষায় ধুনটের গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থীও পাস করেনি

এইচএসসি পরীক্ষায় ধুনটের গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থীও পাস করেনি
ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজ।

ধুনটে টানা দুই বছর এইচএসসিতবগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে টানা দুই বছর ধরে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চলতি বছর কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। গত বছরও পাঁচ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছিল। পরপর দুই বছর শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে। অথচ কাগজে-কলমে কলেজটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় পরীক্ষার্থী কম এবং ফলাফলে ধারাবাহিক ব্যর্থতা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একসময় কলেজটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ছিল এবং পরীক্ষায় অনেকেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। বর্তমানে কলেজে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে না। তাঁদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সারা বছর তেমন দৃশ্যমান না হলেও প্রতিবছর পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় এর ফলাফল নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কিংবা গোপনে শিক্ষার্থী ভর্তি দেখিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকজন অভিযোগকারী ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় বিষয়টির সমাধান হয়।

এদিকে ধারাবাহিক ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি। একইভাবে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সকাল থেকেই অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করছেন না। আগামীকাল কলেজের অধ্যক্ষকে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

Public Voice

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


এইচএসসি পরীক্ষায় ধুনটের গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থীও পাস করেনি

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ধুনটে টানা দুই বছর এইচএসসিতবগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে টানা দুই বছর ধরে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চলতি বছর কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। গত বছরও পাঁচ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছিল। পরপর দুই বছর শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।


কলেজ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে। অথচ কাগজে-কলমে কলেজটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় পরীক্ষার্থী কম এবং ফলাফলে ধারাবাহিক ব্যর্থতা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একসময় কলেজটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ছিল এবং পরীক্ষায় অনেকেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। বর্তমানে কলেজে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে না। তাঁদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সারা বছর তেমন দৃশ্যমান না হলেও প্রতিবছর পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় এর ফলাফল নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।


এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কিংবা গোপনে শিক্ষার্থী ভর্তি দেখিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকজন অভিযোগকারী ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় বিষয়টির সমাধান হয়।


এদিকে ধারাবাহিক ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি। একইভাবে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সকাল থেকেই অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করছেন না। আগামীকাল কলেজের অধ্যক্ষকে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত