রাজনীতি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। দলটি তাদের ২১৭ সদস্যের পূর্বের কমিটি কমিয়ে ১৯৬ সদস্যে নামিয়ে এনেছে। এই পুনর্গঠনের ফলে কমিটির আগের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন নিজ পদে বহাল থাকলেও, দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ যেমন—মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদগুলো পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এসব পদের পরিবর্তে এখন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নতুন কিছু সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
নতুন এই কমিটিতে বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার পদাবনতি ঘটেছে। এনসিপির প্রথম সারির নেত্রী সামান্তা শারমিন, যিনি আগে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে নতুন কমিটিতে শুধুমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে। এছাড়া তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পরিষদ’ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, আগে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা আরিফুল ইসলাম আদীবকেও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে আরিফুল ইসলাম আদীবের ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিষদের পদটি অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। এছাড়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব থেকে নাহিদা সারোয়ার নিভাকেও যুগ্ম সদস্য সচিব পদে অবনমন করা হয়েছে। কিন্তু এই পদ বিলুপ্ত করায় তাদের একোমোডেশনের স্বার্থে অন্যদের পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। সামান্তা শারমিন আরও লেখেন, সর্বজ্ঞানী ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বিভিন্নভাবে বান্দাকে পাপমুক্ত করেন অথবা পরীক্ষা করেন। পোস্টের শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও হেদায়েত প্রার্থনা করে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘আল্লাহ আমাদের মাফ করেন, হেদায়েত দান করেন।
দলের পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও, ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে যে নেতাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পারফরমেন্স এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ই এর মূল কারণ। গুরুত্বপূর্ণ পদ বিলুপ্ত হওয়ার ফলে প্রভাবশালী নেতাদের জায়গা করে দিতেই এই সমন্বয় আনা হয়েছে। এ নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সামান্তা শারমিনের সক্রিয়তা কমে যাওয়ার নেপথ্যে পারিবারিক কারণ রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, তার স্বামী গুরুতর অসুস্থ এবং তিনি তার চিকিৎসা নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি সে সময় আবেগঘন পোস্টে লেখেন যে, একজন কর্মঠ ও উদ্যমী মানুষকে গত তিন মাস ধরে এভাবে নিস্প্রভ হয়ে যেতে দেখা তার জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। পরিবারকে সময় দেওয়ার কারণে সামান্তা এখন দলের সাংগঠনিক কাজে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। আমি আমার পারিবারিক জীবন সম্পূর্ণ আলোচ্যসূচির বাইরে রাখার পক্ষে, সেজন্যই আগের পোস্টে বলিনি। স্বামীর অসুস্থতার কারণে মানসিক কষ্টের কথাও তুলে ধরেন সামান্তা।
এদিকে আরিফুল ইসলাম আদীব এনসিপির রাজনীতিতে কিছুটা ব্যাকফুটে আছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। গত নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি ঢাকা উত্তরে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবেও আলোচিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি এনসিপি সেই আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেখানে আসিফ মাহমুদকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম আদীবের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি এক সহকর্মীর অসুস্থ বাবাকে দেখতে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। উত্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আসিফ মাহমুদ।
পুরো প্রক্রিয়াটিতে পদোন্নতি ও পদাবনতির পাশাপাশি আগের কমিটির অনেক নেতার স্থান নতুন কমিটিতে হয়নি। দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় এই পরিবর্তন আসন্ন দিনগুলোতে এনসিপির রাজনৈতিক কৌশলে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। দলটি তাদের ২১৭ সদস্যের পূর্বের কমিটি কমিয়ে ১৯৬ সদস্যে নামিয়ে এনেছে। এই পুনর্গঠনের ফলে কমিটির আগের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন নিজ পদে বহাল থাকলেও, দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ যেমন—মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদগুলো পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এসব পদের পরিবর্তে এখন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নতুন কিছু সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
নতুন এই কমিটিতে বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার পদাবনতি ঘটেছে। এনসিপির প্রথম সারির নেত্রী সামান্তা শারমিন, যিনি আগে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে নতুন কমিটিতে শুধুমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে। এছাড়া তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পরিষদ’ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, আগে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা আরিফুল ইসলাম আদীবকেও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে আরিফুল ইসলাম আদীবের ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিষদের পদটি অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। এছাড়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব থেকে নাহিদা সারোয়ার নিভাকেও যুগ্ম সদস্য সচিব পদে অবনমন করা হয়েছে। কিন্তু এই পদ বিলুপ্ত করায় তাদের একোমোডেশনের স্বার্থে অন্যদের পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। সামান্তা শারমিন আরও লেখেন, সর্বজ্ঞানী ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বিভিন্নভাবে বান্দাকে পাপমুক্ত করেন অথবা পরীক্ষা করেন। পোস্টের শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও হেদায়েত প্রার্থনা করে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘আল্লাহ আমাদের মাফ করেন, হেদায়েত দান করেন।
দলের পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও, ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে যে নেতাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পারফরমেন্স এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ই এর মূল কারণ। গুরুত্বপূর্ণ পদ বিলুপ্ত হওয়ার ফলে প্রভাবশালী নেতাদের জায়গা করে দিতেই এই সমন্বয় আনা হয়েছে। এ নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সামান্তা শারমিনের সক্রিয়তা কমে যাওয়ার নেপথ্যে পারিবারিক কারণ রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, তার স্বামী গুরুতর অসুস্থ এবং তিনি তার চিকিৎসা নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি সে সময় আবেগঘন পোস্টে লেখেন যে, একজন কর্মঠ ও উদ্যমী মানুষকে গত তিন মাস ধরে এভাবে নিস্প্রভ হয়ে যেতে দেখা তার জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। পরিবারকে সময় দেওয়ার কারণে সামান্তা এখন দলের সাংগঠনিক কাজে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। আমি আমার পারিবারিক জীবন সম্পূর্ণ আলোচ্যসূচির বাইরে রাখার পক্ষে, সেজন্যই আগের পোস্টে বলিনি। স্বামীর অসুস্থতার কারণে মানসিক কষ্টের কথাও তুলে ধরেন সামান্তা।
এদিকে আরিফুল ইসলাম আদীব এনসিপির রাজনীতিতে কিছুটা ব্যাকফুটে আছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। গত নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি ঢাকা উত্তরে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবেও আলোচিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি এনসিপি সেই আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেখানে আসিফ মাহমুদকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম আদীবের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি এক সহকর্মীর অসুস্থ বাবাকে দেখতে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। উত্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আসিফ মাহমুদ।
পুরো প্রক্রিয়াটিতে পদোন্নতি ও পদাবনতির পাশাপাশি আগের কমিটির অনেক নেতার স্থান নতুন কমিটিতে হয়নি। দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় এই পরিবর্তন আসন্ন দিনগুলোতে এনসিপির রাজনৈতিক কৌশলে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
