আর্কাইভআর্কাইভ

মতলব উত্তরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ইলিশ শিকার

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনায় চলছে মা ইলিশ ধরার মহোৎসব। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে টোকেনের বিনিময়ে চলছে প্রকাশ্যে ইলিশ নিধন ও কেনাবেচা।

AutoHix
AutoHix
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকা এখন জেলেদের দখলে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ ব্যবস্থায় ম্যানেজ করে ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের মতে, সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও, এর আড়ালেই অনেকে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই প্রশাসন অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং জেলেরা নির্বিঘ্নে নদীতে জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করেন। সারারাত মাছ ধরে ভোরে তা নদীর তীরে এনে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। বিকেল ৫টার পর নদীতে প্রশাসনের উপস্থিতি কমে গেলে সংঘবদ্ধ জেলেরা ইলিশ শিকারে নেমে পড়েন। এ সময় প্রশাসনের কোনো ঝামেলা থাকে না।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, ষাটনল এলাকার বাবুবাজারে প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মা ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের কেনাবেচা চলে। একই চিত্র দেখা যায় আমিরাবাদ বাজারেও। সেখানে দুপুর ১২টা থেকে প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রি হয় এবং শত শত পাইকার মাছ কিনে নিয়ে যান। প্রতিদিন সেখানে কয়েক লাখ টাকার মাছের লেনদেন হয়। এছাড়া এখলাসপুর, মোহনপুর, দশআনী, মুক্তির পল্লী ও জনতার বাজারের মতো এলাকাগুলোতেও অবাধে চলছে ইলিশ বিক্রির কার্যক্রম।

মাছ ধরার এই অবৈধ বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে টোকেন বাণিজ্য। জসিম উদ্দিন, খোরশেদ ব্যাপারী, আয়নাল মিয়া ও নুরুল হকসহ একাধিক জেলে দাবি করেন, মৎস্য অফিস ও মোহনপুর নৌপুলিশকে ম্যানেজ করে প্রতি নৌকার জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়ে টোকেন নিতে হয়। টোকেন না থাকলে জেলেদের জেল-জরিমানা গুনতে হয়। আমিরাবাদ মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, অভাবের তাড়নায় মানুষ মাছ ধরছে এবং সব কিছু ম্যানেজ করেই তারা বাজার পরিচালনা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন জনবল সংকটের কথা জানিয়ে বলেন, রাতে অভিযান পরিচালনা করা তাদের জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য। একই সুরে কথা বলেছেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র দে। তিনি জানান, জনবল কম থাকলেও তারা নদীতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তারা যেকোনো সময় সাংবাদিকদের অভিযানে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে প্রস্তুত আছেন। ইচ্ছা করলে আপনারা আমাদের সঙ্গে অভিযানে অংশ নিতে পারেন।’।

Public Voice

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


মতলব উত্তরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ইলিশ শিকার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকা এখন জেলেদের দখলে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ ব্যবস্থায় ম্যানেজ করে ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের মতে, সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও, এর আড়ালেই অনেকে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই প্রশাসন অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং জেলেরা নির্বিঘ্নে নদীতে জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করেন। সারারাত মাছ ধরে ভোরে তা নদীর তীরে এনে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। বিকেল ৫টার পর নদীতে প্রশাসনের উপস্থিতি কমে গেলে সংঘবদ্ধ জেলেরা ইলিশ শিকারে নেমে পড়েন। এ সময় প্রশাসনের কোনো ঝামেলা থাকে না।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, ষাটনল এলাকার বাবুবাজারে প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মা ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের কেনাবেচা চলে। একই চিত্র দেখা যায় আমিরাবাদ বাজারেও। সেখানে দুপুর ১২টা থেকে প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রি হয় এবং শত শত পাইকার মাছ কিনে নিয়ে যান। প্রতিদিন সেখানে কয়েক লাখ টাকার মাছের লেনদেন হয়। এছাড়া এখলাসপুর, মোহনপুর, দশআনী, মুক্তির পল্লী ও জনতার বাজারের মতো এলাকাগুলোতেও অবাধে চলছে ইলিশ বিক্রির কার্যক্রম।

মাছ ধরার এই অবৈধ বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে টোকেন বাণিজ্য। জসিম উদ্দিন, খোরশেদ ব্যাপারী, আয়নাল মিয়া ও নুরুল হকসহ একাধিক জেলে দাবি করেন, মৎস্য অফিস ও মোহনপুর নৌপুলিশকে ম্যানেজ করে প্রতি নৌকার জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়ে টোকেন নিতে হয়। টোকেন না থাকলে জেলেদের জেল-জরিমানা গুনতে হয়। আমিরাবাদ মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, অভাবের তাড়নায় মানুষ মাছ ধরছে এবং সব কিছু ম্যানেজ করেই তারা বাজার পরিচালনা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন জনবল সংকটের কথা জানিয়ে বলেন, রাতে অভিযান পরিচালনা করা তাদের জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য। একই সুরে কথা বলেছেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র দে। তিনি জানান, জনবল কম থাকলেও তারা নদীতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তারা যেকোনো সময় সাংবাদিকদের অভিযানে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে প্রস্তুত আছেন। ইচ্ছা করলে আপনারা আমাদের সঙ্গে অভিযানে অংশ নিতে পারেন।’।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত