নারী-শিশু
মামলা হয়েছে ৯ দিন আগে। এজাহারে ধর্ষণচেষ্টা, মারধর, শ্লীলতাহানি, হত্যাচেষ্টা, চুরি ও অবৈধ আটকের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ এখনো গ্রেপ্তার হননি কোনো আসামি। এর মধ্যে মামলা তুলে নিতে বাদী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনাটি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের। ভুক্তভোগী ২৯ বছর বয়সী ওই নারী জুলাই আন্দোলনে শহীদ আলী হোসেনের ছোট বোন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নিজ বাড়ির উঠানে প্রতিবেশী রমজান মিয়াসহ কয়েকজন বাদীর ওপর হামলা চালান। তাকে মারধরের পর জোরপূর্বক ঘরে আটকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার কাপড় ছিঁড়ে ফেলা এবং গলার সোনার গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরে তার বড় বোন ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার আট দিন পর, ১৫ সেপ্টেম্বর কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলাটি ২০ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরদিন আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পেমই তদন্ত কেন্দ্রের এসআই বাবুল আক্তারের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
তবে মামলার ৯ দিন পরও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় বাদীপক্ষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—গুরুতর অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার কেন হচ্ছে না?
বাদীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ তাকে ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তার।
মামলার সাক্ষী ও জুলাই শহীদ আলী হোসেনের ৭৬ বছর বয়সী মা বেদেনা আক্তার বলেন, “আমি অসহায় ও দুর্বল। আমার ছেলে আলী হোসেন আজ বেঁচে থাকলে আমার সামনে আমার মেয়েকে এভাবে নির্যাতন করতে পারত না। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
হুমকির অভিযোগে পৃথক কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত রমজান মিয়া, ফজল হক ও সুমন মিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের পারিবারিক সূত্রের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগে তাদের আসামি করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার দিন ধর্ষণচেষ্টার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
কেন্দুয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী মামলার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।
এখন প্রশ্ন হলো—গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও বাদী-সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্নের উত্তরই সামনে আসবে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মামলা হয়েছে ৯ দিন আগে। এজাহারে ধর্ষণচেষ্টা, মারধর, শ্লীলতাহানি, হত্যাচেষ্টা, চুরি ও অবৈধ আটকের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ এখনো গ্রেপ্তার হননি কোনো আসামি। এর মধ্যে মামলা তুলে নিতে বাদী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনাটি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের। ভুক্তভোগী ২৯ বছর বয়সী ওই নারী জুলাই আন্দোলনে শহীদ আলী হোসেনের ছোট বোন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নিজ বাড়ির উঠানে প্রতিবেশী রমজান মিয়াসহ কয়েকজন বাদীর ওপর হামলা চালান। তাকে মারধরের পর জোরপূর্বক ঘরে আটকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার কাপড় ছিঁড়ে ফেলা এবং গলার সোনার গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরে তার বড় বোন ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার আট দিন পর, ১৫ সেপ্টেম্বর কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলাটি ২০ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরদিন আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পেমই তদন্ত কেন্দ্রের এসআই বাবুল আক্তারের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
তবে মামলার ৯ দিন পরও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় বাদীপক্ষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—গুরুতর অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার কেন হচ্ছে না?
বাদীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ তাকে ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তার।
মামলার সাক্ষী ও জুলাই শহীদ আলী হোসেনের ৭৬ বছর বয়সী মা বেদেনা আক্তার বলেন, “আমি অসহায় ও দুর্বল। আমার ছেলে আলী হোসেন আজ বেঁচে থাকলে আমার সামনে আমার মেয়েকে এভাবে নির্যাতন করতে পারত না। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
হুমকির অভিযোগে পৃথক কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত রমজান মিয়া, ফজল হক ও সুমন মিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের পারিবারিক সূত্রের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগে তাদের আসামি করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার দিন ধর্ষণচেষ্টার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
কেন্দুয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী মামলার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।
এখন প্রশ্ন হলো—গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও বাদী-সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্নের উত্তরই সামনে আসবে।
