নারী-শিশুনারী-শিশু

উলিপুরে রেল পুলিশ পরিচয়ে নারীর সাথে সম্পর্ক। টাকার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, সইতে না পেরে আত্মহত্যা।

উলিপুরে রেল পুলিশ পরিচয়ে নারীর সাথে সম্পর্ক। টাকার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, সইতে না পেরে আত্মহত্যা।
উলিপুরে রেল পুলিশ পরিচয়ে নারীর সাথে সম্পর্ক। টাকার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, সইতে না পেরে আত্মহত্যা।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ফেসবুকে নিজেকে রেল পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে নাজমা খাতুন (৩৮) নামে এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে দুলাল চন্দ্র (৫২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিয়ের উদ্যোগ, পরিচয় নিয়ে জটিলতা এবং স্থানীয়ভাবে সমঝোতা বৈঠকে অর্থ লেনদেনের দাবি সামনে এসেছে। এরই মধ্যে আজ (২৫ অক্টোবর) ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফেসবুকে পরিচয়, বিয়ের উদ্যোগ

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমা খাতুন তাঁর মা অলিমা বেগম ও ভাই রহিমুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করতেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে ফেসবুকের মাধ্যমে দুলাল চন্দ্রের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, দুলাল চন্দ্র নিজেকে রেল পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় দুলাল চন্দ্র নাজমার বাড়িতে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে তাঁদের বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে একজন কাজীকে ডাকা হয়। তবে দুলাল চন্দ্র জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় সামনে আসে এবং তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে জানা যায়। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান থাকার কথাও স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমঝোতা বৈঠকে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা লেনদেনের দাবি

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গতকাল (২৪ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।

নিহত নাজমা খাতুনের মামা ফজলে কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। তাঁর দাবি, ওই টাকা তাঁর হাতে দেওয়া হলে তিনি তা তাঁর বোনের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।

ফজলে কাদের ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

সমঝোতা বৈঠক নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য

সমঝোতা বৈঠককে ঘিরে ধামশ্রেণী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফি কামালের নাম আলোচনায় এসেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শহীদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সফি কামাল জানিয়েছেন, বৈঠকের আগেই তিনি সেখান থেকে চলে যান এবং ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

আজ নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আজ (২৫ অক্টোবর) বাড়িতে কেউ না থাকার সময় নাজমাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন

নাজমা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ এবং সমঝোতা বৈঠকে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, অর্থ লেনদেনের উদ্দেশ্য ও শর্ত খতিয়ে দেখা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

Public Voice

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


উলিপুরে রেল পুলিশ পরিচয়ে নারীর সাথে সম্পর্ক। টাকার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, সইতে না পেরে আত্মহত্যা।

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ফেসবুকে নিজেকে রেল পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে নাজমা খাতুন (৩৮) নামে এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে দুলাল চন্দ্র (৫২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিয়ের উদ্যোগ, পরিচয় নিয়ে জটিলতা এবং স্থানীয়ভাবে সমঝোতা বৈঠকে অর্থ লেনদেনের দাবি সামনে এসেছে। এরই মধ্যে আজ (২৫ অক্টোবর) ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফেসবুকে পরিচয়, বিয়ের উদ্যোগ

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমা খাতুন তাঁর মা অলিমা বেগম ও ভাই রহিমুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করতেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে ফেসবুকের মাধ্যমে দুলাল চন্দ্রের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, দুলাল চন্দ্র নিজেকে রেল পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় দুলাল চন্দ্র নাজমার বাড়িতে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে তাঁদের বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে একজন কাজীকে ডাকা হয়। তবে দুলাল চন্দ্র জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় সামনে আসে এবং তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে জানা যায়। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান থাকার কথাও স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমঝোতা বৈঠকে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা লেনদেনের দাবি

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গতকাল (২৪ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।

নিহত নাজমা খাতুনের মামা ফজলে কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। তাঁর দাবি, ওই টাকা তাঁর হাতে দেওয়া হলে তিনি তা তাঁর বোনের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।

ফজলে কাদের ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

সমঝোতা বৈঠক নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য

সমঝোতা বৈঠককে ঘিরে ধামশ্রেণী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফি কামালের নাম আলোচনায় এসেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শহীদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সফি কামাল জানিয়েছেন, বৈঠকের আগেই তিনি সেখান থেকে চলে যান এবং ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

আজ নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আজ (২৫ অক্টোবর) বাড়িতে কেউ না থাকার সময় নাজমাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন

নাজমা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ এবং সমঝোতা বৈঠকে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, অর্থ লেনদেনের উদ্দেশ্য ও শর্ত খতিয়ে দেখা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত