চট্টগ্রাম
কক্সবাজারের উখিয়ায় ব্যস্ততম আরাকান সড়কের দুই পাশ অবৈধ পার্কিং ও ঝুপড়ি দোকানের দখলে চলে গেছে। বিশেষ করে কুতুপালং এলাকায় সড়কের ওপর গড়ে ওঠা এই বাজারের কারণে যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। ফলে মাত্র এক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সাধারণ মানুষ, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে এই বিশৃঙ্খলা চললেও কার্যত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত শত শত যানবাহনের চালক, ভিআইপিদের বহনকারী যানবাহন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ বাজার ও পার্কিং থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কুতুপালং এলাকার আমিন নামের এক পথচারী বলেন, বাজারে একটু যাওয়া মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকা। সড়কের ওপর অবৈধভাবে জাম্বুরা বিক্রি করা সৈয়দুর রহমান বলেন, বাজারে জায়গা দিতে না পেরে আমাকে এখানে বসানো হয়েছে। কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে তাদের দেরি হয়ে যায়। টাকার বিনিময়ে এখানে বাজার বসিয়েছি।
কুতুপালং বাজারের ইজারা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, বাজার ইজারার মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হেলাল উদ্দিন মেম্বারের পরিবার সরকারের নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি দামে ইজারা নিয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বোরহান উদ্দিন ২ কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় এই বাজারের ইজারা নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই সড়ক দখল করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। কারা এই টাকা নেয়, তা আমরা জানি না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুতুপালং সড়কের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক পার্ক করে রাখা হয়েছে। সড়কের পশ্চিম পাশে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী ঝুপড়ি দোকান। শুধু কুতুপালং নয়, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী বাজারের চিত্রও প্রায় একই। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং প্রতিটি গাড়ি পার্কিং বাবদ ৫০ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে। এসব অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, সড়কের পশ্চিম পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ঝুপড়ি দোকান।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও তারা কার্যত কোনো ভূমিকা রাখছেন না। কুতুপালং এলাকার বাসিন্দা আমিন বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এক পাশে গাড়ি পার্কিং আর অন্য পাশে অবৈধ দোকান বসায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, যানজটের কারণে তাদের স্কুলে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় হাতে নিয়ে বের হতে হয়, অথচ দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ থাকা আর না-থাকা সমান।
অবৈধ পার্কিং ও দোকান বসানোর নেপথ্যে থাকা চক্রগুলো টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করছে। সকালে রাস্তায় গাড়ি একেবারেই এগোতে চায় না।
পার্কিংয়ে দায়িত্বরত এক লাইনম্যান জানান, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়ার বিনিময়েই পার্কিংয়ের অনুমতি পাওয়া যায়। একই কথা জানিয়েছেন অবৈধ দোকানের বিক্রেতারাও। তারা বলছেন, দৈনিক ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা চাঁদা দিয়ে তারা সড়কের ওপর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল বলেন, যানজট নিরসনে দ্রুত অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা জরুরি, অন্যথায় ব্যবসার পরিবেশ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমি ২৫০ টাকা হাসিল (টোল) দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। প্রতিদিন প্রতি দোকান থেকে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে এক ভাই সংগ্রহ করেন।
শাহপরী হাইওয়ে পুলিশের এসআই ফজলুল হক জানিয়েছেন, বাজার সমিতি ও ইজারাদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। কোটবাজারের যানজট নিরসনে নিয়মিত অভিযান চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে শিগগিরই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও সরকারি গাড়িতে চলাচলের সময় তাঁরা এ দুর্ভোগ উপলব্ধি করছেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।
ইজারার শর্তানুযায়ী বাজারের মূল্যতালিকা প্রকাশ ও টাঙানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা এখনো করা হয়নি। ইউএনও পান্না আক্তার জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি মূল্যতালিকা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য কক্সবাজারে পাঠিয়েছেন। অনুমোদন পেলেই দ্রুত তা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। প্রশাসনের এই তৎপরতা কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়েই এখন এলাকাবাসীর মূল প্রশ্ন।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় ব্যস্ততম আরাকান সড়কের দুই পাশ অবৈধ পার্কিং ও ঝুপড়ি দোকানের দখলে চলে গেছে। বিশেষ করে কুতুপালং এলাকায় সড়কের ওপর গড়ে ওঠা এই বাজারের কারণে যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। ফলে মাত্র এক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সাধারণ মানুষ, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে এই বিশৃঙ্খলা চললেও কার্যত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত শত শত যানবাহনের চালক, ভিআইপিদের বহনকারী যানবাহন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ বাজার ও পার্কিং থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কুতুপালং এলাকার আমিন নামের এক পথচারী বলেন, বাজারে একটু যাওয়া মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকা। সড়কের ওপর অবৈধভাবে জাম্বুরা বিক্রি করা সৈয়দুর রহমান বলেন, বাজারে জায়গা দিতে না পেরে আমাকে এখানে বসানো হয়েছে। কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে তাদের দেরি হয়ে যায়। টাকার বিনিময়ে এখানে বাজার বসিয়েছি।
কুতুপালং বাজারের ইজারা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, বাজার ইজারার মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হেলাল উদ্দিন মেম্বারের পরিবার সরকারের নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি দামে ইজারা নিয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বোরহান উদ্দিন ২ কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় এই বাজারের ইজারা নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই সড়ক দখল করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। কারা এই টাকা নেয়, তা আমরা জানি না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুতুপালং সড়কের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক পার্ক করে রাখা হয়েছে। সড়কের পশ্চিম পাশে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী ঝুপড়ি দোকান। শুধু কুতুপালং নয়, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী বাজারের চিত্রও প্রায় একই। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং প্রতিটি গাড়ি পার্কিং বাবদ ৫০ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে। এসব অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, সড়কের পশ্চিম পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ঝুপড়ি দোকান।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও তারা কার্যত কোনো ভূমিকা রাখছেন না। কুতুপালং এলাকার বাসিন্দা আমিন বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এক পাশে গাড়ি পার্কিং আর অন্য পাশে অবৈধ দোকান বসায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, যানজটের কারণে তাদের স্কুলে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় হাতে নিয়ে বের হতে হয়, অথচ দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ থাকা আর না-থাকা সমান।
অবৈধ পার্কিং ও দোকান বসানোর নেপথ্যে থাকা চক্রগুলো টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করছে। সকালে রাস্তায় গাড়ি একেবারেই এগোতে চায় না।
পার্কিংয়ে দায়িত্বরত এক লাইনম্যান জানান, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়ার বিনিময়েই পার্কিংয়ের অনুমতি পাওয়া যায়। একই কথা জানিয়েছেন অবৈধ দোকানের বিক্রেতারাও। তারা বলছেন, দৈনিক ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা চাঁদা দিয়ে তারা সড়কের ওপর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল বলেন, যানজট নিরসনে দ্রুত অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা জরুরি, অন্যথায় ব্যবসার পরিবেশ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমি ২৫০ টাকা হাসিল (টোল) দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। প্রতিদিন প্রতি দোকান থেকে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে এক ভাই সংগ্রহ করেন।
শাহপরী হাইওয়ে পুলিশের এসআই ফজলুল হক জানিয়েছেন, বাজার সমিতি ও ইজারাদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। কোটবাজারের যানজট নিরসনে নিয়মিত অভিযান চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে শিগগিরই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও সরকারি গাড়িতে চলাচলের সময় তাঁরা এ দুর্ভোগ উপলব্ধি করছেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।
ইজারার শর্তানুযায়ী বাজারের মূল্যতালিকা প্রকাশ ও টাঙানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা এখনো করা হয়নি। ইউএনও পান্না আক্তার জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি মূল্যতালিকা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য কক্সবাজারে পাঠিয়েছেন। অনুমোদন পেলেই দ্রুত তা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। প্রশাসনের এই তৎপরতা কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়েই এখন এলাকাবাসীর মূল প্রশ্ন।
