আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

তেহরানে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিশাল ব্যানার পুড়িয়ে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের পর ইরানের তেহরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি সংবলিত ব্যানার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানের রাজধানী তেহরানে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে।

তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে আয়োজিত সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন। মূলত ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে এই সমাবেশটির আয়োজন করা হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানও দেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীরা এদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকাও পোড়ান। এদিকে নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত জনতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পোড়ানোর পাশাপাশি 'আমেরিকার মৃত্যু হোক' ও 'ইসরায়েলের মৃত্যু হোক' স্লোগান দিয়ে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোড়ানো ওই ব্যানারটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছবিও ছিল। ঘটনার দুই দিন আগে, ৩ নভেম্বর এনকেলাব স্কয়ারে এই চার নেতার ছবিসহ বিশাল পোস্টারটি টাঙানো হয়েছিল বলে তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি নিশ্চিত করেছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির আলোকচিত্রী ফাতেমেহ বাহরামির তোলা ছবিতে পোস্টারটির উপস্থিতি দেখা যায়। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আনাদোলু এজেন্সি ও ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ।

নির্বাচনী ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই ঘটনাকে ইরানের নেতারা মার্কিন যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের স্পষ্ট বার্তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যুদ্ধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো মার্কিন ভোটারদের ক্ষুব্ধ করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'আমেরিকানরা যুদ্ধকে না বলেছে, আমরাও এই বার্তাকে সমর্থন করি।' একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন সরকার জনগণের এই অবস্থান উপেক্ষা করলে তার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, ক্ষমতার অদলবদল হলেও তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলগুলোর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ইরানের প্রতি দেশটির বৈরী মনোভাবের অবসান হবে—এমন আশা করা ভুল।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানি শিক্ষার্থীরা মার্কিন দূতাবাসে প্রবেশ করে ৫২ জন কূটনীতিক ও নাগরিককে জিম্মি করেছিলেন। টানা ৪৪৪ দিন স্থায়ী সেই সংকটের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে, যা প্রায় পাঁচ দশক পরও অমিমাংসিত রয়ে গেছে। বর্তমানে নির্বাচনী এই উত্তেজনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যদিও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে। টানা ৪৪৪ দিন পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


তেহরানে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিশাল ব্যানার পুড়িয়ে বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানের রাজধানী তেহরানে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে।

তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে আয়োজিত সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন। মূলত ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে এই সমাবেশটির আয়োজন করা হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানও দেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীরা এদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকাও পোড়ান। এদিকে নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত জনতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পোড়ানোর পাশাপাশি 'আমেরিকার মৃত্যু হোক' ও 'ইসরায়েলের মৃত্যু হোক' স্লোগান দিয়ে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোড়ানো ওই ব্যানারটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছবিও ছিল। ঘটনার দুই দিন আগে, ৩ নভেম্বর এনকেলাব স্কয়ারে এই চার নেতার ছবিসহ বিশাল পোস্টারটি টাঙানো হয়েছিল বলে তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি নিশ্চিত করেছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির আলোকচিত্রী ফাতেমেহ বাহরামির তোলা ছবিতে পোস্টারটির উপস্থিতি দেখা যায়। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আনাদোলু এজেন্সি ও ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ।

নির্বাচনী ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই ঘটনাকে ইরানের নেতারা মার্কিন যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের স্পষ্ট বার্তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যুদ্ধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো মার্কিন ভোটারদের ক্ষুব্ধ করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'আমেরিকানরা যুদ্ধকে না বলেছে, আমরাও এই বার্তাকে সমর্থন করি।' একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন সরকার জনগণের এই অবস্থান উপেক্ষা করলে তার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, ক্ষমতার অদলবদল হলেও তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলগুলোর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ইরানের প্রতি দেশটির বৈরী মনোভাবের অবসান হবে—এমন আশা করা ভুল।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানি শিক্ষার্থীরা মার্কিন দূতাবাসে প্রবেশ করে ৫২ জন কূটনীতিক ও নাগরিককে জিম্মি করেছিলেন। টানা ৪৪৪ দিন স্থায়ী সেই সংকটের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে, যা প্রায় পাঁচ দশক পরও অমিমাংসিত রয়ে গেছে। বর্তমানে নির্বাচনী এই উত্তেজনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যদিও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে। টানা ৪৪৪ দিন পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত