জাতীয়জাতীয়

এআই যেন কর্মসংস্থান না কমায়: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে 'বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬'-এর উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রযুক্তির মানবিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত 'বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রযুক্তি হতে হবে মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায় এবং মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে। তাই এ সম্মেলন নিছক কোনো অনুষ্ঠান নয়, বরং ভবিষ্যতের পথরেখা তৈরির মঞ্চ।

বিশ্ব এখন এক মহাপরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যার মূল চালিকাশক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী দশকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে এআই যে পরিবর্তন আনবে, তা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণ করে দেবে। আজকের বিশ্বে সেই নতুন জ্ঞানের নামই এআই।

এটি কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, বরং দেশের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে এটি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়। তবে এআই ব্যবহারে আশঙ্কা ও বিপদের কথাও তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এআই যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়, সেদিকে পদে পদে খেয়াল রাখতে হবে। অন্যথায়, পুরো মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।

দেশে বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্রপতির আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপপ্রয়োগ যেন এই বেকারত্ব সংকটকে আরও প্রকট করে না তোলে। তিনি বলেন, এআইকে কেবল ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য উদ্ভাবন, বাজারের বিস্তৃতি এবং কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য যুক্ত করবে, যা বাংলাদেশের কাজে লাগানো প্রয়োজন। এআইকে উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এজন্য এর নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক। বাংলাদেশে বেকারত্ব অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই যেন এ সমস্যাকে আরও প্রকট না করে, সেটাও মনে রাখা জরুরি।

রাষ্ট্রপতির মতে, জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে দ্রুত গ্রহণ করার ক্ষমতার ওপর। বিদ্যুৎ আবিষ্কার যেমন সভ্যতাকে বদলে দিয়েছিল, এআইও তেমনই এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে। তবে এই পরিবর্তনের অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে এআই উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দিতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন পূরণে সরকারি-বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণ প্রজন্মকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ প্রযুক্তিকে বিদ্যুতের মতো যুগান্তকারী আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তারা প্রযুক্তিবান্ধব এবং স্বপ্ন দেখতে জানেন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশাল তরুণ সমাজ। তাদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের মতো এআইশিল্পও ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করবে। প্রযুক্তিগত নীতিমালায় নৈতিকতা, মানবাধিকার এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা তৈরির বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে এ বিপ্লবের সুফল পেতে তরুণদের প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের যথাযথভাবে প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে পারলে এআইশিল্পে বিশ্বে নতুন পরিচয় তৈরি করা সম্ভব।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সামিট এআইনির্ভর নয় বরং উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার পথে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


এআই যেন কর্মসংস্থান না কমায়: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত 'বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রযুক্তি হতে হবে মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায় এবং মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে। তাই এ সম্মেলন নিছক কোনো অনুষ্ঠান নয়, বরং ভবিষ্যতের পথরেখা তৈরির মঞ্চ।

বিশ্ব এখন এক মহাপরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যার মূল চালিকাশক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী দশকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে এআই যে পরিবর্তন আনবে, তা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণ করে দেবে। আজকের বিশ্বে সেই নতুন জ্ঞানের নামই এআই।

এটি কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, বরং দেশের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে এটি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়। তবে এআই ব্যবহারে আশঙ্কা ও বিপদের কথাও তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এআই যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়, সেদিকে পদে পদে খেয়াল রাখতে হবে। অন্যথায়, পুরো মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।

দেশে বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্রপতির আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপপ্রয়োগ যেন এই বেকারত্ব সংকটকে আরও প্রকট করে না তোলে। তিনি বলেন, এআইকে কেবল ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য উদ্ভাবন, বাজারের বিস্তৃতি এবং কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য যুক্ত করবে, যা বাংলাদেশের কাজে লাগানো প্রয়োজন। এআইকে উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এজন্য এর নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক। বাংলাদেশে বেকারত্ব অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই যেন এ সমস্যাকে আরও প্রকট না করে, সেটাও মনে রাখা জরুরি।

রাষ্ট্রপতির মতে, জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে দ্রুত গ্রহণ করার ক্ষমতার ওপর। বিদ্যুৎ আবিষ্কার যেমন সভ্যতাকে বদলে দিয়েছিল, এআইও তেমনই এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে। তবে এই পরিবর্তনের অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে এআই উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দিতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন পূরণে সরকারি-বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণ প্রজন্মকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ প্রযুক্তিকে বিদ্যুতের মতো যুগান্তকারী আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তারা প্রযুক্তিবান্ধব এবং স্বপ্ন দেখতে জানেন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশাল তরুণ সমাজ। তাদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের মতো এআইশিল্পও ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করবে। প্রযুক্তিগত নীতিমালায় নৈতিকতা, মানবাধিকার এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা তৈরির বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে এ বিপ্লবের সুফল পেতে তরুণদের প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের যথাযথভাবে প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে পারলে এআইশিল্পে বিশ্বে নতুন পরিচয় তৈরি করা সম্ভব।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সামিট এআইনির্ভর নয় বরং উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার পথে মাইলফলক হয়ে থাকবে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত