অন্যান্য
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরের আলো তখনও ঠিকঠাক ফোটেনি, চারপাশের কুয়াশা আর হালকা হিমেল হাওয়ার মাঝেই মুখরিত হয়ে উঠেছে
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শোভাগঞ্জ বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন মাছের বাজার। প্রত্যুষের শান্ত পরিবেশকে চাঙ্গা করে তুলেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত ক্রেতা ও বিক্রেতার হাঁকডাক। রূপালি ইলিশের জৌলুসকেও হার মানিয়েছে এখানকার খাল-বিল আর নদীর টাটকা ও জীবন্ত দেশি মাছ।
মরুয়াদহ বিলের মাছের জাদু:
এখানকার মূল আকর্ষণ মূলত উত্তর মরুয়াদহ বিল এবং সংলগ্ন তিস্তা নদীর সুস্বাদু মাছ। ক্রেতাদের মতে, এই অঞ্চলের জলাশয়ের প্রাকৃতিক খাবারের কারণে এখানকার মাছের স্বাদ অন্য যেকোনো বাজারের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বাজারে দেশি শিং, মাগুর, কই, পাবদা, বোয়াল, আইড়, চিতল, টেংরা ও পুঁটিসহ নানা প্রজাতির খাঁটি দেশি মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন জেলেরা।
ক্রেতা-বিক্রেতার মুখর সংলাপ:
বাজারের অন্যতম পরিচিত মাছ বিক্রেতা জয়ন্ত জানান, "ভোর হওয়ার সাথে সাথেই আমাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। উত্তর মরুয়াদহ বিলের মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ক্রেতারা জানেন এই মাছ পুরোপুরি খাঁটি ও কেমিক্যালমুক্ত, তাই বাজারে আনামাত্রই চোখের পলকে সব মাছ বিক্রি হয়ে যায়।"
মাছ কিনতে আসা স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বাজারে মাছের গুণগত মান নিয়ে কথা হয় প্রবীণ ও সম্মানিত ক্রেতা এ,টি,এম আবুল হোসেন সরকার এবং বাবলু মাস্টারের সাথে। তারা অত্যন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, "এখনকার বাজারে চাষের মাছের ভিড়ে খাঁটি দেশি মাছ পাওয়াই দুষ্কর। কিন্তু শোভাগঞ্জ ব্রিজের এই বাজারে এলে উত্তর মরুয়াদহ বিলের যে মাছ পাওয়া যায়, তার স্বাদ এক কথায় অসাধারণ। আমরা নিয়মিত এখান থেকেই মাছ কিনি।" ধর্মপুর থেকে আসা মাসুদ মন্ডল নামে আরেক ক্রেতা বড় একটি বোয়াল মাছ উঁচিয়ে ধরে হাসিমুখে বলেন, "ভোরে আসার কষ্ট সার্থক! নদীর এই তাজা মাছের যে স্বাদ, তা অন্য কোথাও মেলার নয়।" বাজারে আসা আরও বেশ কয়েকজন নিয়মিত ক্রেতা যেমন চান মিয়া স্বত্বাধিকারী আশা মনি হোটেল, এবং এস,এম আবু তাহের প্রোপাইটার মা শাহিদা ঔষধালয় সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ ক্রেতারাও একবাক্যে স্বীকার করলেন এই মাছের সুখ্যাতির কথা। তাদের মতে, দাম কিছুটা চড়া হলেও স্বাদের দিক থেকে এই নদীর ও বিলের মাছ অতুলনীয়।
অর্থনীতির নতুন স্পন্দন:
প্রতিদিনই ভোর থেকে সকাল ৮টা-৯টা পর্যন্ত চলে এই জমজমাট বিকিকিনি। শোভাগঞ্জ ব্রিজের ওপর গড়ে ওঠা এই অস্থায়ী ভোরের বাজারটি এখন শুধু মাছ বিক্রির স্থানই নয়, বরং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার একটি অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিল ও নদীর তাজা মাছের স্বাদ নিতে আপনিও কোনো এক ভোরে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন শোভাগঞ্জ বাজারের এই ঐতিহ্যবাহী ব্রিজে।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরের আলো তখনও ঠিকঠাক ফোটেনি, চারপাশের কুয়াশা আর হালকা হিমেল হাওয়ার মাঝেই মুখরিত হয়ে উঠেছে
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শোভাগঞ্জ বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন মাছের বাজার। প্রত্যুষের শান্ত পরিবেশকে চাঙ্গা করে তুলেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত ক্রেতা ও বিক্রেতার হাঁকডাক। রূপালি ইলিশের জৌলুসকেও হার মানিয়েছে এখানকার খাল-বিল আর নদীর টাটকা ও জীবন্ত দেশি মাছ।
মরুয়াদহ বিলের মাছের জাদু:
এখানকার মূল আকর্ষণ মূলত উত্তর মরুয়াদহ বিল এবং সংলগ্ন তিস্তা নদীর সুস্বাদু মাছ। ক্রেতাদের মতে, এই অঞ্চলের জলাশয়ের প্রাকৃতিক খাবারের কারণে এখানকার মাছের স্বাদ অন্য যেকোনো বাজারের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বাজারে দেশি শিং, মাগুর, কই, পাবদা, বোয়াল, আইড়, চিতল, টেংরা ও পুঁটিসহ নানা প্রজাতির খাঁটি দেশি মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন জেলেরা।
ক্রেতা-বিক্রেতার মুখর সংলাপ:
বাজারের অন্যতম পরিচিত মাছ বিক্রেতা জয়ন্ত জানান, "ভোর হওয়ার সাথে সাথেই আমাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। উত্তর মরুয়াদহ বিলের মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ক্রেতারা জানেন এই মাছ পুরোপুরি খাঁটি ও কেমিক্যালমুক্ত, তাই বাজারে আনামাত্রই চোখের পলকে সব মাছ বিক্রি হয়ে যায়।"
মাছ কিনতে আসা স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বাজারে মাছের গুণগত মান নিয়ে কথা হয় প্রবীণ ও সম্মানিত ক্রেতা এ,টি,এম আবুল হোসেন সরকার এবং বাবলু মাস্টারের সাথে। তারা অত্যন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, "এখনকার বাজারে চাষের মাছের ভিড়ে খাঁটি দেশি মাছ পাওয়াই দুষ্কর। কিন্তু শোভাগঞ্জ ব্রিজের এই বাজারে এলে উত্তর মরুয়াদহ বিলের যে মাছ পাওয়া যায়, তার স্বাদ এক কথায় অসাধারণ। আমরা নিয়মিত এখান থেকেই মাছ কিনি।" ধর্মপুর থেকে আসা মাসুদ মন্ডল নামে আরেক ক্রেতা বড় একটি বোয়াল মাছ উঁচিয়ে ধরে হাসিমুখে বলেন, "ভোরে আসার কষ্ট সার্থক! নদীর এই তাজা মাছের যে স্বাদ, তা অন্য কোথাও মেলার নয়।" বাজারে আসা আরও বেশ কয়েকজন নিয়মিত ক্রেতা যেমন চান মিয়া স্বত্বাধিকারী আশা মনি হোটেল, এবং এস,এম আবু তাহের প্রোপাইটার মা শাহিদা ঔষধালয় সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ ক্রেতারাও একবাক্যে স্বীকার করলেন এই মাছের সুখ্যাতির কথা। তাদের মতে, দাম কিছুটা চড়া হলেও স্বাদের দিক থেকে এই নদীর ও বিলের মাছ অতুলনীয়।
অর্থনীতির নতুন স্পন্দন:
প্রতিদিনই ভোর থেকে সকাল ৮টা-৯টা পর্যন্ত চলে এই জমজমাট বিকিকিনি। শোভাগঞ্জ ব্রিজের ওপর গড়ে ওঠা এই অস্থায়ী ভোরের বাজারটি এখন শুধু মাছ বিক্রির স্থানই নয়, বরং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার একটি অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিল ও নদীর তাজা মাছের স্বাদ নিতে আপনিও কোনো এক ভোরে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন শোভাগঞ্জ বাজারের এই ঐতিহ্যবাহী ব্রিজে।
