শিক্ষাশিক্ষা

লালমনিরহাটে দুই বছরে পাসের হার কমল ৩২.৮৫, ছয় প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস

লালমনিরহাটে দুই বছরে পাসের হার কমল ৩২.৮৫, ছয় প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পেয়ে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে লালমনিরহাট জেলায় স্মরণকালের চরম বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। 

চলতি বছর জেলাটিতে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬.৭১ শতাংশে। বিগত ২০২৪ সালে জেলাটিতে পাসের হার ছিল ৭৯.৫৬ শতাংশ (১০,৬২৪ জনের মধ্যে ৮,৪৫২ জন পাস) এবং ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৫৭.৫ শতাংশে। টানা দুই বছরের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের তুলনায় এ বছর পাসের হার ৩২.৮৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ১০.৭৯ শতাংশ কমেছে, যা জেলাটির সাম্প্রতিক বছরের ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধস।

তপু সিংহ আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ছাত্র তিনি বললেন, রেজাল্ট যা আশা করেছিলাম তার থেকে কম GPA পেয়েছি। কয়েক বছরের তুলনায় এবার গ্রেট দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে।

নাসিমুল করিম একজন অভিভাবক, তিনি বলছিলেন আমার মতে লোক দেখানো গ্রেডিং সিস্টেম না করে যে যেটা পারবে তাকে সেটাই দেওয়া ভালো।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর লালমনিরহাট জেলা থেকে মোট ৭,৪৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩,৪৮২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩,৯৭৩ জন শিক্ষার্থী। জেলায় জিপিএ-৫ (GPA-5) অর্জন করেছে ১০২ জন। অতীতের ন্যায় এবারও পাসের হার ও মেধা তালিকা উভয় ক্ষেত্রেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ৩,৩৩৫ জন ছাত্র পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১,৩৬৩ জন, যেখানে পাসের হার ৪০.৮৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬ জন। অপরদিকে, ৪,১২০ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২,১১৯ জন, যেখানে মেয়েদের পাসের হার ৫১.৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ জন।

তবে ফলাফলের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো জেলার ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া ১৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো হাতীবান্ধা মডেল কলেজ (১১ জন), কালীগঞ্জের সোনারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), আদিতমারীর গন্ধমরুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), হাতীবান্ধার আমিনুর রহমান কলেজ (১ জন), কালীগঞ্জের দুহুলী এসসি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন) এবং একই উপজেলার দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন)।

বলছিলেন অর্ণব কোয়েল পেশায় একজন শিক্ষক, প্রত্যেক সরকারকে দেখি বিগত বছরগুলোর তুলনায় পাশের হার শুধু বাড়াই থাকে। আমি এজন্যই সরকারকে ধন্যবাদ জানাবো। এই গতানুগতিক প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে পরীক্ষার খাতাকে মূল্যায়ন করছেন। 

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ফলাফলের তথ্য মতে, ফেল করা শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই ইংরেজি ও তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। সারাদেশের মতো লালমনিরহাটেও ১ বা ২ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তবে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ মাসের মধ্যে বিশেষ পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Public Voice

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


লালমনিরহাটে দুই বছরে পাসের হার কমল ৩২.৮৫, ছয় প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে লালমনিরহাট জেলায় স্মরণকালের চরম বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। 

চলতি বছর জেলাটিতে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬.৭১ শতাংশে। বিগত ২০২৪ সালে জেলাটিতে পাসের হার ছিল ৭৯.৫৬ শতাংশ (১০,৬২৪ জনের মধ্যে ৮,৪৫২ জন পাস) এবং ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৫৭.৫ শতাংশে। টানা দুই বছরের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের তুলনায় এ বছর পাসের হার ৩২.৮৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ১০.৭৯ শতাংশ কমেছে, যা জেলাটির সাম্প্রতিক বছরের ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধস।

তপু সিংহ আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ছাত্র তিনি বললেন, রেজাল্ট যা আশা করেছিলাম তার থেকে কম GPA পেয়েছি। কয়েক বছরের তুলনায় এবার গ্রেট দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে।

নাসিমুল করিম একজন অভিভাবক, তিনি বলছিলেন আমার মতে লোক দেখানো গ্রেডিং সিস্টেম না করে যে যেটা পারবে তাকে সেটাই দেওয়া ভালো।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর লালমনিরহাট জেলা থেকে মোট ৭,৪৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩,৪৮২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩,৯৭৩ জন শিক্ষার্থী। জেলায় জিপিএ-৫ (GPA-5) অর্জন করেছে ১০২ জন। অতীতের ন্যায় এবারও পাসের হার ও মেধা তালিকা উভয় ক্ষেত্রেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ৩,৩৩৫ জন ছাত্র পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১,৩৬৩ জন, যেখানে পাসের হার ৪০.৮৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬ জন। অপরদিকে, ৪,১২০ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২,১১৯ জন, যেখানে মেয়েদের পাসের হার ৫১.৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ জন।

তবে ফলাফলের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো জেলার ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া ১৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো হাতীবান্ধা মডেল কলেজ (১১ জন), কালীগঞ্জের সোনারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), আদিতমারীর গন্ধমরুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), হাতীবান্ধার আমিনুর রহমান কলেজ (১ জন), কালীগঞ্জের দুহুলী এসসি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন) এবং একই উপজেলার দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন)।

বলছিলেন অর্ণব কোয়েল পেশায় একজন শিক্ষক, প্রত্যেক সরকারকে দেখি বিগত বছরগুলোর তুলনায় পাশের হার শুধু বাড়াই থাকে। আমি এজন্যই সরকারকে ধন্যবাদ জানাবো। এই গতানুগতিক প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে পরীক্ষার খাতাকে মূল্যায়ন করছেন। 

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ফলাফলের তথ্য মতে, ফেল করা শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই ইংরেজি ও তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। সারাদেশের মতো লালমনিরহাটেও ১ বা ২ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তবে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ মাসের মধ্যে বিশেষ পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত