আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

ডেমোক্র্যাটদের নতুন ওবামা হওয়ার দৌড়ে জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর দুই বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে এখন থেকেই আলোচনায় উঠে এসেছেন জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ ও পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনলাইন পূর্বাভাসভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতো পরিচিত মুখদেরও পেছনে ফেলেছেন। বয়সের দিক থেকেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনীতির অনেক শীর্ষ নেতার তুলনায় তরুণ। বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনে অসফের সাফল্যের পর মার্কিন রাজনীতিতে তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন এসব পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে।

পলিমার্কেটের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জন অসফের সম্ভাবনা বেড়ে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কেবল গত ২৪ ঘণ্টায় তার এই সম্ভাবনা ৯ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরাসরি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও একদিনের ব্যবধানে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই তালিকায় তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের চেয়ে চার শতাংশ পয়েন্ট এবং জেডি ভ্যান্সের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। একসময় এই দৌড়ে এগিয়ে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের অবস্থান বর্তমানে কিছুটা দুর্বল হয়েছে, যার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। পলিমার্কেটে একপর্যায়ে তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশে উঠলেও পরে তা কমে ১৫ শতাংশে নেমে আসে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়ার সিনেট আসন ধরে রাখা অসফের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্সকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন ৩৯ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেতা। তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ২৪ লাখের বেশি। জর্জিয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে, যেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন, সেখানে অসফের এই পুনর্নির্বাচন তার রাজনৈতিক ভিত্তি ও জনপ্রিয়তা আরও শক্তিশালী করেছে। তার নির্বাচনী প্রচারের জন্য সংগৃহীত ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদানও জাতীয় পর্যায়ে তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পরিচয় দেয়।

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে ছিলেন অসফ। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ হাসিল এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মেরুদণ্ড দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন। জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্পের শাসনামলকে পুরোপুরি ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন জনগণ তার অনৈতিকতা, দুর্নীতি ও অযোগ্যতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। এসময় তিনি কেবল একজন প্রেসিডেন্টের অনিষ্ট ঠেকানো নয়, বরং দেশের ক্ষত সারিয়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমর্থকরা তাকে বারাক ওবামার উত্তরসূরি বা ‘আগামীর ওবামা’ হিসেবে দেখছেন।

ওবামার মতো তার বাগ্মিতা, শক্তিশালী রাজনৈতিক বক্তব্য এবং প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি আদর্শের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার দক্ষতাই এই তুলনার মূল কারণ। বর্তমানে সিনেটের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য হওয়া এবং ট্রাম্পের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম প্রভাবশালী তরুণ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনী রান-অফে জয়ের মধ্য দিয়ে সিনেটে প্রবেশের পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পলিমার্কেটের এই পরিসংখ্যান কোনো চূড়ান্ত ফলাফল নয়, বরং এটি তার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক গুরুত্বেরই প্রতিফলন। অসফের আসনটি রিপাবলিকানদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। বিপুল এই অর্থ ও জনসমর্থন তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


ডেমোক্র্যাটদের নতুন ওবামা হওয়ার দৌড়ে জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর দুই বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে এখন থেকেই আলোচনায় উঠে এসেছেন জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ ও পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনলাইন পূর্বাভাসভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতো পরিচিত মুখদেরও পেছনে ফেলেছেন। বয়সের দিক থেকেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনীতির অনেক শীর্ষ নেতার তুলনায় তরুণ। বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনে অসফের সাফল্যের পর মার্কিন রাজনীতিতে তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন এসব পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে।

পলিমার্কেটের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জন অসফের সম্ভাবনা বেড়ে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কেবল গত ২৪ ঘণ্টায় তার এই সম্ভাবনা ৯ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরাসরি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও একদিনের ব্যবধানে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই তালিকায় তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের চেয়ে চার শতাংশ পয়েন্ট এবং জেডি ভ্যান্সের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। একসময় এই দৌড়ে এগিয়ে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের অবস্থান বর্তমানে কিছুটা দুর্বল হয়েছে, যার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। পলিমার্কেটে একপর্যায়ে তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশে উঠলেও পরে তা কমে ১৫ শতাংশে নেমে আসে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়ার সিনেট আসন ধরে রাখা অসফের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্সকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন ৩৯ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেতা। তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ২৪ লাখের বেশি। জর্জিয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে, যেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন, সেখানে অসফের এই পুনর্নির্বাচন তার রাজনৈতিক ভিত্তি ও জনপ্রিয়তা আরও শক্তিশালী করেছে। তার নির্বাচনী প্রচারের জন্য সংগৃহীত ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদানও জাতীয় পর্যায়ে তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পরিচয় দেয়।

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে ছিলেন অসফ। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ হাসিল এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মেরুদণ্ড দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন। জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্পের শাসনামলকে পুরোপুরি ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন জনগণ তার অনৈতিকতা, দুর্নীতি ও অযোগ্যতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। এসময় তিনি কেবল একজন প্রেসিডেন্টের অনিষ্ট ঠেকানো নয়, বরং দেশের ক্ষত সারিয়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমর্থকরা তাকে বারাক ওবামার উত্তরসূরি বা ‘আগামীর ওবামা’ হিসেবে দেখছেন।

ওবামার মতো তার বাগ্মিতা, শক্তিশালী রাজনৈতিক বক্তব্য এবং প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি আদর্শের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার দক্ষতাই এই তুলনার মূল কারণ। বর্তমানে সিনেটের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য হওয়া এবং ট্রাম্পের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম প্রভাবশালী তরুণ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনী রান-অফে জয়ের মধ্য দিয়ে সিনেটে প্রবেশের পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পলিমার্কেটের এই পরিসংখ্যান কোনো চূড়ান্ত ফলাফল নয়, বরং এটি তার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক গুরুত্বেরই প্রতিফলন। অসফের আসনটি রিপাবলিকানদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। বিপুল এই অর্থ ও জনসমর্থন তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত