আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

হরমুজ উপকূলে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

হরমুজ প্রণালির কাছে জলদস্যুবিরোধী ইউনিটের পরিধি ও সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। এতে মোট সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৯৫ জনে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সমুদ্রসীমায় নিজেদের নৌবাহিনীর ‘চেওংহে’ জলদস্যুবিরোধী ইউনিটের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পরিকল্পনার আওতায় ওই অঞ্চলে জনবল ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি বাড়ানো হবে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, জলদস্যুবিরোধী চেওংহে ইউনিটে নতুন করে ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। ফলে এই ইউনিটের মোট জনবল বেড়ে ৩৯৫ জনে পৌঁছাবে। ২০০৯ সাল থেকে এই ইউনিটটি সোমালিয়া উপকূলে এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমনের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে। প্রতি বছর পার্লামেন্টের অনুমোদনেই এই বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেওংহে নামের জলদস্যুবিরোধী ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। এতে ইউনিটটির মোট সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৯৫ জনে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, চেওংহে ইউনিটের কার্যপরিধি ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বে অবস্থিত। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি জাতীয় পরিষদে পাঠানো হবে। গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সদস্য মোতায়েনের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে আসছিল সিউল।

প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, কোনোভাবেই ওই অঞ্চলে যুদ্ধের জন্য সেনা পাঠানো হবে না। দক্ষিণ কোরিয়া অন্য কোনো দেশের সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে না—এটি নিশ্চিত করেই সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া সমুদ্রের মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণের জন্য অত্যাধুনিক চালকবিহীন সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক অপসারণে দক্ষ বিশেষজ্ঞ দলও ওই এলাকায় মোতায়েন করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন অঞ্চলে নিজেদের নিরাপত্তা ও জলদস্যু দমনের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে চায় সিউল।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


হরমুজ উপকূলে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সমুদ্রসীমায় নিজেদের নৌবাহিনীর ‘চেওংহে’ জলদস্যুবিরোধী ইউনিটের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পরিকল্পনার আওতায় ওই অঞ্চলে জনবল ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি বাড়ানো হবে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, জলদস্যুবিরোধী চেওংহে ইউনিটে নতুন করে ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। ফলে এই ইউনিটের মোট জনবল বেড়ে ৩৯৫ জনে পৌঁছাবে। ২০০৯ সাল থেকে এই ইউনিটটি সোমালিয়া উপকূলে এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমনের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে। প্রতি বছর পার্লামেন্টের অনুমোদনেই এই বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেওংহে নামের জলদস্যুবিরোধী ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। এতে ইউনিটটির মোট সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৯৫ জনে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, চেওংহে ইউনিটের কার্যপরিধি ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বে অবস্থিত। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি জাতীয় পরিষদে পাঠানো হবে। গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সদস্য মোতায়েনের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে আসছিল সিউল।

প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, কোনোভাবেই ওই অঞ্চলে যুদ্ধের জন্য সেনা পাঠানো হবে না। দক্ষিণ কোরিয়া অন্য কোনো দেশের সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে না—এটি নিশ্চিত করেই সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া সমুদ্রের মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণের জন্য অত্যাধুনিক চালকবিহীন সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক অপসারণে দক্ষ বিশেষজ্ঞ দলও ওই এলাকায় মোতায়েন করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন অঞ্চলে নিজেদের নিরাপত্তা ও জলদস্যু দমনের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে চায় সিউল।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত