জাতীয়জাতীয়

বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার মৃত্যু: রহস্যের সন্ধানে এক তরুণীর খোঁজে পুলিশ

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন তার বন্ধু দীপ; ঘটনার রাতে এক তরুণীর খোঁজ করছে পুলিশ।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

বিমানবাহিনীর বরখাস্ত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে এখন নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে এক তরুণীর পরিচয়। গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের 'নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার'-এ তাহসিফের সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে তরুণীর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে খুঁজে বের করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ তাকে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। এদিকে তাহসিফ সাউরির মৃত্যুরহস্য ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান তাহসিফ ও তার বান্ধবী। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপের ডাকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরিবারকে কী ধরনের সহযোগিতা করা যায়, তা জানতে চেয়েছেন তারা।

শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের করা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে করা মামলায় তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে নৌপুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করলে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে পিবিআই দীপকে কয়েকদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল, পরবর্তীতে তাকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই রাতেই ডিএমপির উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম হেলাল। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন নৌপুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তারা পুলিশের ধাওয়া খেয়েছিলেন এবং সেখান থেকে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশের ধারণা, ওই এলাকায় মাদকসেবনের অভিযোগে টহল পুলিশ তাদের ধাওয়া করে থাকতে পারে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর আল আমিন বলেন, এ ঘটনা তারা ছেড়ে দেবেন না।

তবে এই দাবির পেছনে অসংগতি রয়েছে বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। নৌপুলিশ ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার রাতে তাহসিফের চলাফেরা, তার সঙ্গে থাকা তরুণী ও বন্ধু দীপের ভূমিকা—সবকিছুই গুরুত্ব সহকারে যাচাই করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আলামত এবং মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার রাতে তাহসিফ ও ওই তরুণী একটি মোটরসাইকেলে করে রেস্টুরেন্টে যান। তরুণীর বয়স আনুমানিক ২৪ থেকে ২৫ বছর এবং তার পরনে ছিল গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় তার হাতে একটি সাদা পলিথিন ছিল। এই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে তাহসিফের মৃত্যুর আগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে তদন্তকারীরা আশা করছেন। তবে সেখানে ওই তরুণী গিয়েছিলেন কি না, সেটা এখনো জানা যায়নি। এ সময় হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন।

তাহসিফের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপ তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরেই তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি লাশ ভাসার খবর পায় পুলিশ।

এই ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের কল্যাণ সংস্থা 'রাওয়া'। সংগঠনের নেতারা তাহসিফের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক প্রকাশ ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নওরোজ খুরশিদ আলম বলেন, তাহসিফের পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য ও পুলিশের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে রাওয়া। প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা। শনিবার দুপুরে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে তাহসিফের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংগঠনটির নেতারা। তবে তার বক্তব্যে কিছু অসংগতি ও এলোমেলো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তারা কাদের ধাওয়ার মুখে পড়েছিলেন কিংবা তাহসিফের নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পরিস্থিতিটি ঠিক কী ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ঘটনাস্থলে তাদের মোটরসাইকেল কীভাবে এলো এবং সেখানে মাদক সংক্রান্ত কোনো বিষয় ছিল কি না, তা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। রিমান্ডে থাকা দীপের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের খাতিরে পুলিশ এখন পর্যন্ত তাহসিফের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রিমান্ড শেষে বিস্তারিত জানানোর কথা জানিয়েছে নৌপুলিশ। তাহসিফের মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত, তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের বৈজ্ঞানিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

Public Voice

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার মৃত্যু: রহস্যের সন্ধানে এক তরুণীর খোঁজে পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বিমানবাহিনীর বরখাস্ত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে এখন নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে এক তরুণীর পরিচয়। গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের 'নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার'-এ তাহসিফের সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে তরুণীর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে খুঁজে বের করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ তাকে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। এদিকে তাহসিফ সাউরির মৃত্যুরহস্য ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান তাহসিফ ও তার বান্ধবী। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপের ডাকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরিবারকে কী ধরনের সহযোগিতা করা যায়, তা জানতে চেয়েছেন তারা।

শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের করা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে করা মামলায় তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে নৌপুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করলে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে পিবিআই দীপকে কয়েকদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল, পরবর্তীতে তাকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই রাতেই ডিএমপির উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম হেলাল। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন নৌপুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তারা পুলিশের ধাওয়া খেয়েছিলেন এবং সেখান থেকে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশের ধারণা, ওই এলাকায় মাদকসেবনের অভিযোগে টহল পুলিশ তাদের ধাওয়া করে থাকতে পারে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর আল আমিন বলেন, এ ঘটনা তারা ছেড়ে দেবেন না।

তবে এই দাবির পেছনে অসংগতি রয়েছে বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। নৌপুলিশ ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার রাতে তাহসিফের চলাফেরা, তার সঙ্গে থাকা তরুণী ও বন্ধু দীপের ভূমিকা—সবকিছুই গুরুত্ব সহকারে যাচাই করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আলামত এবং মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার রাতে তাহসিফ ও ওই তরুণী একটি মোটরসাইকেলে করে রেস্টুরেন্টে যান। তরুণীর বয়স আনুমানিক ২৪ থেকে ২৫ বছর এবং তার পরনে ছিল গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় তার হাতে একটি সাদা পলিথিন ছিল। এই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে তাহসিফের মৃত্যুর আগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে তদন্তকারীরা আশা করছেন। তবে সেখানে ওই তরুণী গিয়েছিলেন কি না, সেটা এখনো জানা যায়নি। এ সময় হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন।

তাহসিফের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপ তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরেই তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি লাশ ভাসার খবর পায় পুলিশ।

এই ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের কল্যাণ সংস্থা 'রাওয়া'। সংগঠনের নেতারা তাহসিফের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক প্রকাশ ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নওরোজ খুরশিদ আলম বলেন, তাহসিফের পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য ও পুলিশের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে রাওয়া। প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা। শনিবার দুপুরে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে তাহসিফের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংগঠনটির নেতারা। তবে তার বক্তব্যে কিছু অসংগতি ও এলোমেলো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তারা কাদের ধাওয়ার মুখে পড়েছিলেন কিংবা তাহসিফের নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পরিস্থিতিটি ঠিক কী ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ঘটনাস্থলে তাদের মোটরসাইকেল কীভাবে এলো এবং সেখানে মাদক সংক্রান্ত কোনো বিষয় ছিল কি না, তা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। রিমান্ডে থাকা দীপের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের খাতিরে পুলিশ এখন পর্যন্ত তাহসিফের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রিমান্ড শেষে বিস্তারিত জানানোর কথা জানিয়েছে নৌপুলিশ। তাহসিফের মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত, তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের বৈজ্ঞানিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত