নির্বাচননির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তরুণদের প্রত্যাশা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নির্বাচনকে নিয়ে উচ্ছ্বাস,আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিহাস দেখিয়েছে যে অতীতের কিছু শাসনকাল বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী যুগে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়নি। সেই অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা এবারের নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভোটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা, যারা দেশের কল্যাণে কাজ করতে সক্ষম। পার্টি বা পরিচিতি নয়, প্রার্থীর দক্ষতা ও নীতি তাদের ভোটের সিদ্ধান্ত কে প্রভাবিত করছে।

সামাজিক মাধ্যম তরুণদের জন্য রাজনৈতিক সচেতনতার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। তারা প্রোপাগান্ডা এবং ফেক নিউজের প্রতি সতর্ক থাকলেও, নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। ভোটকে তারা পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন, যা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায় ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩-২৪ সেশনের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী চাঁদনী বলেন,“আমরা চাই আমাদের ভোটের মূল্য থাকবে। প্রার্থী বাছাই হবে তাদের যোগ্যতা এবং দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা দেখে। কোনো ধরনের প্রভাব বা কারচুপি আমাদের ভোটকে ক্ষুণ্ণ করতে পারবে না। বিগত বছরের মতো কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের ঠাঁই এই বাংলায় আর হবে না। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে তার প্রমাণ দিয়েছি। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা প্রস্তুত।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী নিশাত তাবাসসুম ছুটি বলেন, ৫ আগস্টের পরে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইন্টেরিয়াম সরকার পদে পদে ব্যর্থতার প্রমাণ রেখেছে। সেক্ষেত্রে একটি গোছানো দেশ গঠনের জন্য নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভব করছি যে দলীয় সরকার আসলে দায়বদ্ধতার, জবাবদিহিতার জায়গা গুলো স্পষ্ট হবে। নির্বাচনে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করছে এক্ষেত্রে সবার কাছে প্রত্যাশা যে নির্বাচনে যেই আসুক আমরা যে সততা ইনসাফ ও দুর্নীতিমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমরা এমন একটি ভোট চাই যেটি হবে সব ধরনের কারচুপি মুক্ত, দলীয় প্রভাব মুক্ত একটা সুস্থ নিরপেক্ষ ভোট। যাতে আমরা নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারি 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। তাদের প্রত্যাশা পূরণ হলে, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয়, দেশের জন্য উন্নয়নমুখী ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করছে।

Public Voice

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তরুণদের প্রত্যাশা

প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নির্বাচনকে নিয়ে উচ্ছ্বাস,আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিহাস দেখিয়েছে যে অতীতের কিছু শাসনকাল বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী যুগে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়নি। সেই অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা এবারের নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করছে।


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভোটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা, যারা দেশের কল্যাণে কাজ করতে সক্ষম। পার্টি বা পরিচিতি নয়, প্রার্থীর দক্ষতা ও নীতি তাদের ভোটের সিদ্ধান্ত কে প্রভাবিত করছে।


সামাজিক মাধ্যম তরুণদের জন্য রাজনৈতিক সচেতনতার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। তারা প্রোপাগান্ডা এবং ফেক নিউজের প্রতি সতর্ক থাকলেও, নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। ভোটকে তারা পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন, যা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায় ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩-২৪ সেশনের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী চাঁদনী বলেন,“আমরা চাই আমাদের ভোটের মূল্য থাকবে। প্রার্থী বাছাই হবে তাদের যোগ্যতা এবং দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা দেখে। কোনো ধরনের প্রভাব বা কারচুপি আমাদের ভোটকে ক্ষুণ্ণ করতে পারবে না। বিগত বছরের মতো কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের ঠাঁই এই বাংলায় আর হবে না। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে তার প্রমাণ দিয়েছি। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা প্রস্তুত।


গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী নিশাত তাবাসসুম ছুটি বলেন, ৫ আগস্টের পরে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইন্টেরিয়াম সরকার পদে পদে ব্যর্থতার প্রমাণ রেখেছে। সেক্ষেত্রে একটি গোছানো দেশ গঠনের জন্য নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভব করছি যে দলীয় সরকার আসলে দায়বদ্ধতার, জবাবদিহিতার জায়গা গুলো স্পষ্ট হবে। নির্বাচনে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করছে এক্ষেত্রে সবার কাছে প্রত্যাশা যে নির্বাচনে যেই আসুক আমরা যে সততা ইনসাফ ও দুর্নীতিমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমরা এমন একটি ভোট চাই যেটি হবে সব ধরনের কারচুপি মুক্ত, দলীয় প্রভাব মুক্ত একটা সুস্থ নিরপেক্ষ ভোট। যাতে আমরা নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারি 


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। তাদের প্রত্যাশা পূরণ হলে, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয়, দেশের জন্য উন্নয়নমুখী ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত