রাজনীতি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ সংসদীয় আসন (কসবা ও আখাউড়া উপজেলা) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি দলের চেয়ারপারসনের (প্রয়াত খালেদা জিয়া) উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কিছু আলোচনা-সমালোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি তাঁকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রারম্ভিক জীবন ও কর্মজীবন
মুশফিকুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার ছতুরা শরীফ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে উচ্চপদে উন্নীত হন এবং সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। প্রশাসনিক জীবনে সফলতার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন।
রাজনৈতিক যাত্রা
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন এবং নিজ এলাকায় বিদ্যুৎ, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রাখেন।
তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সম্মানিত সদস্য (ভাইস চেয়ারম্যান মর্যাদায়) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
কিছু সময় কানাডায় অবস্থান করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি দেশে ফিরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন।
বর্তমান নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি প্রথমে মুশফিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়। পরে এক পর্যায়ে জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দেখা যায়। অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁকেই চূড়ান্তভাবে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা হয়েছে এবং কিছু আপিল-অভিযোগের পরও তা টিকে আছে।
তাঁর সমর্থকরা দাবি করেন, তিনি সৎ, নির্ভীক ও দুর্নীতিমুক্ত একজন নেতা। স্থানীয় জনগণ তাঁকে অভিভাবক হিসেবে দেখে। সম্প্রতি কসবা-আখাউড়ায় দোয়া মাহফিল, জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন, ৩১ দফা দাবির লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিয়েছেন।
জনপ্রিয়তা ও চ্যালেঞ্জ
মুশফিকুর রহমানের পক্ষে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি যোগ্য প্রতিনিধি। অন্যদিকে, বয়সজনিত কারণে কিছু সমালোচনা থাকলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও অতীতের উন্নয়ন কাজ তাঁকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে।
আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মুশফিকুর রহমানের লড়াই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আসনটিতে বিএনপির ঐতিহ্য ধরে রাখবেন।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ সংসদীয় আসন (কসবা ও আখাউড়া উপজেলা) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি দলের চেয়ারপারসনের (প্রয়াত খালেদা জিয়া) উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কিছু আলোচনা-সমালোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি তাঁকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রারম্ভিক জীবন ও কর্মজীবন
মুশফিকুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার ছতুরা শরীফ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে উচ্চপদে উন্নীত হন এবং সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। প্রশাসনিক জীবনে সফলতার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন।
রাজনৈতিক যাত্রা
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন এবং নিজ এলাকায় বিদ্যুৎ, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রাখেন।
তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সম্মানিত সদস্য (ভাইস চেয়ারম্যান মর্যাদায়) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
কিছু সময় কানাডায় অবস্থান করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি দেশে ফিরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন।
বর্তমান নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি প্রথমে মুশফিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়। পরে এক পর্যায়ে জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দেখা যায়। অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁকেই চূড়ান্তভাবে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা হয়েছে এবং কিছু আপিল-অভিযোগের পরও তা টিকে আছে।
তাঁর সমর্থকরা দাবি করেন, তিনি সৎ, নির্ভীক ও দুর্নীতিমুক্ত একজন নেতা। স্থানীয় জনগণ তাঁকে অভিভাবক হিসেবে দেখে। সম্প্রতি কসবা-আখাউড়ায় দোয়া মাহফিল, জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন, ৩১ দফা দাবির লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিয়েছেন।
জনপ্রিয়তা ও চ্যালেঞ্জ
মুশফিকুর রহমানের পক্ষে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি যোগ্য প্রতিনিধি। অন্যদিকে, বয়সজনিত কারণে কিছু সমালোচনা থাকলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও অতীতের উন্নয়ন কাজ তাঁকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে।
আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মুশফিকুর রহমানের লড়াই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আসনটিতে বিএনপির ঐতিহ্য ধরে রাখবেন।
