রাজনীতিরাজনীতি

নেত্রকোনায় স্বল্প সময়ের প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ ভোটের গাড়ি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও 'জুলাই সনদ' এর ওপর গণভোটকে সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে প্রচারণা। তবে সরকারের এ প্রচারণা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নেত্রকোনার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের মানুষ। প্রচারণার কাজে নিয়োজিত ভোটের গাড়িটি শুধুমাত্র উপজেলা শহরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে ৫-১০ মিনিট অবস্থান করে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে। ফলে উপজেলা শহরের অধিকাংশ মানুষ যেমন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন, তেমনি গ্রামগঞ্জে কোনো প্রচারণা না পৌঁছানোয় সাধারণ ভোটাররা এখনো গণভোট কী? তা-ই বুঝে উঠতে পারেননি। গণভোট কিসের জন্য? তাও জানেন না সাধারণ ভোটাররা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে ধারণা দিতে দেশের জনবহুল জায়গাগুলোয় ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপন করে সরকারি উদ্যোগে প্রচারণা চলছে। অথচ জেলার বিভিন্ন উপজেলা শহরের নির্দিষ্ট জায়গায় অল্প সময়ের জন্য চলছে এ প্রচারণা। তবে ভোটের গাড়ি পৌঁছায়নি উপজেলার ইউনিয়ন কিংবা গ্রামগঞ্জগুলোতে।

 

প্রচারণার গাড়িটি সোমবার ভোরে বারহাট্টা উপজেলা শহরের মডেল মোড় এলাকায় মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করে এবং কিছুক্ষণ সাউন্ডবক্স বাজিয়ে দায়সারাভাবে প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে চলে যায় গাড়িটি। এরপর মোহনগঞ্জ পৌরশহরের রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন মাঠে কিছুক্ষণ সাউন্ডবক্স বাজিয়ে প্রচারণা শেষ করে। এর আগে রবিবার রাতে জেলা শহরে জনশূন্য মাঠে একইভাবে কয়েক মিনিট অবস্থান করে প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে গাড়িটি।

 

জানা গেছে, জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই একইভাবে দায়সারাভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শহরের নির্জন স্থানে বা জনশূন্য মাঠে মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছে প্রচারণার গাড়িটি।

 

এদিকে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলে পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট না থাকায় সেখানে প্রচারণার গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। দুর্গম এসব এলাকায় নৌকার মাধ্যমে প্রচারণা পৌঁছানোরও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

 

জেলা সদরের মৌগাতি গ্রামের সবুজ মিয়া, ঝন্টু সরকার, কাইলাটি গ্রামের শহীদ মিয়া, মিল্লাদ হোসেন বলেন, 'ভোটের গাড়ি! এই নাম তো জীবনে প্রথম শুনলাম। এটা আবার কেমন জিনিস?' বারহাট্টা উপজেলার সাহতা এলাকার জামাল মিয়া, কাশবন এলাকার নিরঞ্জন সরকার আক্ষেপ করে বলেন, 'ভোটের গাড়ি কখন আসলো আর কখন গেলো, কিছুই জানলাম না।' খালিয়াজুড়ি উপজেলার লেপসিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুকন মিয়া জানান, ভোটের গাড়ি সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। 

 

বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুক বলেন, 'শহরের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতন থাকলেও প্রকৃত প্রচারণা দরকার গ্রামাঞ্চলে। প্রচারণা প্রান্তিক পর্যায়ে না পৌঁছালে এর কোনো সুফল আসবে না।'

 

নেত্রকোনা পৌর শহরের বাসিন্দা আরিফুর রহমান ও বারহাট্টার শহীদুল ইসলামও একই ধরণের ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রচারণাকে ‘লোকদেখানো’ বলে মন্তব্য করেছেন।

 

মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন ও বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জিনিয়া জামান জানান, গাড়িগুলো ভোরে বা খুব অল্প সময়ের জন্য আসায় সাধারণ মানুষের নজরে আসেনি।

 

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম জানান, তার এলাকায় এখনো গাড়ি পৌঁছায়নি। তবে বর্তমানে ফেরি চলাচল করায় গাড়ি আসা সম্ভব।

 

এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান বলেন, 'গতরাত ৮টার দিকে জেলা শহরে প্রচারণা চালানো হয়েছে, তবে ওই সময় লোকসমাগম তেমন ছিল না। একটি কেন্দ্রীয় টিম সারাদেশে প্রচারণা চালাচ্ছে, তাই তাদের পক্ষে প্রতিটি গ্রামে বা হাওরাঞ্চলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।'

Public Voice

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


নেত্রকোনায় স্বল্প সময়ের প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ ভোটের গাড়ি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও 'জুলাই সনদ' এর ওপর গণভোটকে সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে প্রচারণা। তবে সরকারের এ প্রচারণা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নেত্রকোনার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের মানুষ। প্রচারণার কাজে নিয়োজিত ভোটের গাড়িটি শুধুমাত্র উপজেলা শহরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে ৫-১০ মিনিট অবস্থান করে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে। ফলে উপজেলা শহরের অধিকাংশ মানুষ যেমন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন, তেমনি গ্রামগঞ্জে কোনো প্রচারণা না পৌঁছানোয় সাধারণ ভোটাররা এখনো গণভোট কী? তা-ই বুঝে উঠতে পারেননি। গণভোট কিসের জন্য? তাও জানেন না সাধারণ ভোটাররা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে ধারণা দিতে দেশের জনবহুল জায়গাগুলোয় ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপন করে সরকারি উদ্যোগে প্রচারণা চলছে। অথচ জেলার বিভিন্ন উপজেলা শহরের নির্দিষ্ট জায়গায় অল্প সময়ের জন্য চলছে এ প্রচারণা। তবে ভোটের গাড়ি পৌঁছায়নি উপজেলার ইউনিয়ন কিংবা গ্রামগঞ্জগুলোতে।

 

প্রচারণার গাড়িটি সোমবার ভোরে বারহাট্টা উপজেলা শহরের মডেল মোড় এলাকায় মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করে এবং কিছুক্ষণ সাউন্ডবক্স বাজিয়ে দায়সারাভাবে প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে চলে যায় গাড়িটি। এরপর মোহনগঞ্জ পৌরশহরের রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন মাঠে কিছুক্ষণ সাউন্ডবক্স বাজিয়ে প্রচারণা শেষ করে। এর আগে রবিবার রাতে জেলা শহরে জনশূন্য মাঠে একইভাবে কয়েক মিনিট অবস্থান করে প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে গাড়িটি।

 

জানা গেছে, জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই একইভাবে দায়সারাভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শহরের নির্জন স্থানে বা জনশূন্য মাঠে মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছে প্রচারণার গাড়িটি।

 

এদিকে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলে পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট না থাকায় সেখানে প্রচারণার গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। দুর্গম এসব এলাকায় নৌকার মাধ্যমে প্রচারণা পৌঁছানোরও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

 

জেলা সদরের মৌগাতি গ্রামের সবুজ মিয়া, ঝন্টু সরকার, কাইলাটি গ্রামের শহীদ মিয়া, মিল্লাদ হোসেন বলেন, 'ভোটের গাড়ি! এই নাম তো জীবনে প্রথম শুনলাম। এটা আবার কেমন জিনিস?' বারহাট্টা উপজেলার সাহতা এলাকার জামাল মিয়া, কাশবন এলাকার নিরঞ্জন সরকার আক্ষেপ করে বলেন, 'ভোটের গাড়ি কখন আসলো আর কখন গেলো, কিছুই জানলাম না।' খালিয়াজুড়ি উপজেলার লেপসিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুকন মিয়া জানান, ভোটের গাড়ি সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। 

 

বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুক বলেন, 'শহরের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতন থাকলেও প্রকৃত প্রচারণা দরকার গ্রামাঞ্চলে। প্রচারণা প্রান্তিক পর্যায়ে না পৌঁছালে এর কোনো সুফল আসবে না।'

 

নেত্রকোনা পৌর শহরের বাসিন্দা আরিফুর রহমান ও বারহাট্টার শহীদুল ইসলামও একই ধরণের ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রচারণাকে ‘লোকদেখানো’ বলে মন্তব্য করেছেন।

 

মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন ও বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জিনিয়া জামান জানান, গাড়িগুলো ভোরে বা খুব অল্প সময়ের জন্য আসায় সাধারণ মানুষের নজরে আসেনি।

 

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম জানান, তার এলাকায় এখনো গাড়ি পৌঁছায়নি। তবে বর্তমানে ফেরি চলাচল করায় গাড়ি আসা সম্ভব।

 

এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান বলেন, 'গতরাত ৮টার দিকে জেলা শহরে প্রচারণা চালানো হয়েছে, তবে ওই সময় লোকসমাগম তেমন ছিল না। একটি কেন্দ্রীয় টিম সারাদেশে প্রচারণা চালাচ্ছে, তাই তাদের পক্ষে প্রতিটি গ্রামে বা হাওরাঞ্চলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।'


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত