রাজনীতি
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল র্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অতীতের মতো বর্তমানেও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মতোই এসব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তারেক রহমান অভিযোগ করেন যে, একটি মহল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দাবিয়ে রাখতে চায় এবং পুনরায় 'আমি-ডামি' নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের মতো আবারো দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তিনি বলেন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে, জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষার দিন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের বাক-স্বাধীনতার দিন। নিজে স্লোগান ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আবারো আমি বলতে চাই, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। এর আগে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে যোগ দেন তিনি। তিনি বলেন, ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে।
মানিক মিয়া এভিনিউতে র্যালির সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, দেশের ভেতরে হোক বা বাইরে, যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিহাস কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং তা আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। যারা স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন, তারা ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত। ভবিষ্যতে কেউ যাতে জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, এটিই হোক এবারের ৭ই নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। বিকালে র্যালিটি নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। তার নেতৃত্বে র্যালিটি কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির বাস ভবনের পাশ দিয়ে রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড সড়ক হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালি শুরুর আগে বেলা ১২টা থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী নয়াপল্টনে সমবেত হতে থাকেন। অস্থায়ী মঞ্চে এ সময় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নেতাকর্মীদের কাছে সমর্থন চাইলে তারা করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে তাকে পূর্ণ সমর্থন জানান। পুরো রাস্তা জুড়ে র্যালিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। কাকরাইল মোড় থেকে শুরু করে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের সমাগমে জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এই সময়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা করতালি ও স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়। র্যালির সামনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, যারা ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরেও পরাজিত হয়েছিল। এদিকে সরকার দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন পরিষদ নিরাপদ রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শনিবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় তিনি জানান, গ্রামীণ জনপদ নিরাপদ থাকলেই বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে। দেশের মানুষেরা সেই স্বৈরাচার সেই ষড়যন্ত্রকারী তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন।
গ্রাম পুলিশের কার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, অবসরকালীন ভাতা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে তা ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া মাসিক মোবাইল ফোন খরচ বাবদ ১৫০ টাকা এবং থানায় যাতায়াত ভাতা বাড়ানো হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিটি ইউনিয়নে দু’জন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা রাখা হবে। তিনি বলেন, এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল বিল দেবে সরকার। বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বৃক্ষরোপণ এবং নিজেদের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আর তৃণমূল মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোথায় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, কোথায় অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে- এসব বিষয়ে গ্রাম পুলিশ আগেভাগে তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, গ্রাম পুলিশের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
অপর এক অনুষ্ঠানে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্টেডিয়ামে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও স্কাউটদের ডিসপ্লে প্রদর্শনীতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ৭ই নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের 'ম্যাগনাকার্টা' হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মেজবাহ-উল আজীমসহ তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় সেখানে কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের একটাই পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের চেতনা ধারণ করেই জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি, যাতে কোনো অপশক্তি দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল র্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অতীতের মতো বর্তমানেও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মতোই এসব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তারেক রহমান অভিযোগ করেন যে, একটি মহল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দাবিয়ে রাখতে চায় এবং পুনরায় 'আমি-ডামি' নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের মতো আবারো দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তিনি বলেন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে, জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষার দিন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের বাক-স্বাধীনতার দিন। নিজে স্লোগান ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আবারো আমি বলতে চাই, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। এর আগে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে যোগ দেন তিনি। তিনি বলেন, ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে।
মানিক মিয়া এভিনিউতে র্যালির সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, দেশের ভেতরে হোক বা বাইরে, যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিহাস কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং তা আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। যারা স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন, তারা ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত। ভবিষ্যতে কেউ যাতে জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, এটিই হোক এবারের ৭ই নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। বিকালে র্যালিটি নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। তার নেতৃত্বে র্যালিটি কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির বাস ভবনের পাশ দিয়ে রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড সড়ক হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালি শুরুর আগে বেলা ১২টা থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী নয়াপল্টনে সমবেত হতে থাকেন। অস্থায়ী মঞ্চে এ সময় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নেতাকর্মীদের কাছে সমর্থন চাইলে তারা করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে তাকে পূর্ণ সমর্থন জানান। পুরো রাস্তা জুড়ে র্যালিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। কাকরাইল মোড় থেকে শুরু করে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের সমাগমে জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এই সময়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা করতালি ও স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়। র্যালির সামনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, যারা ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরেও পরাজিত হয়েছিল। এদিকে সরকার দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন পরিষদ নিরাপদ রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শনিবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় তিনি জানান, গ্রামীণ জনপদ নিরাপদ থাকলেই বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে। দেশের মানুষেরা সেই স্বৈরাচার সেই ষড়যন্ত্রকারী তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন।
গ্রাম পুলিশের কার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, অবসরকালীন ভাতা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে তা ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া মাসিক মোবাইল ফোন খরচ বাবদ ১৫০ টাকা এবং থানায় যাতায়াত ভাতা বাড়ানো হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিটি ইউনিয়নে দু’জন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা রাখা হবে। তিনি বলেন, এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল বিল দেবে সরকার। বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বৃক্ষরোপণ এবং নিজেদের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আর তৃণমূল মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোথায় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, কোথায় অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে- এসব বিষয়ে গ্রাম পুলিশ আগেভাগে তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, গ্রাম পুলিশের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
অপর এক অনুষ্ঠানে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্টেডিয়ামে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও স্কাউটদের ডিসপ্লে প্রদর্শনীতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ৭ই নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের 'ম্যাগনাকার্টা' হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মেজবাহ-উল আজীমসহ তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় সেখানে কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের একটাই পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের চেতনা ধারণ করেই জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি, যাতে কোনো অপশক্তি দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে।
