ঢাকা
নরসিংদীর মনোহরদীর খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দিন তাঁর ২৮ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে বহু শিক্ষার্থীর পথের দিশারী হয়ে উঠেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ক্রীড়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সার্বিক বিকাশে অবদান রেখে তিনি গুণী শিক্ষক হিসেবে বিশেষ সম্মান অর্জন করেছেন। গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা ও পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর এই অর্জনে গোটা জেলাজুড়ে আনন্দ ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে। তার এই অর্জনে জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ উচ্ছ্বসিত ও গর্বিত। সেখানে থাকাবস্থায় তিনি নাসাতে আবেদন করেন এবং গবেষক হিসেবে যোগদান করেন।
খিদিরপুর মনতলা অঞ্চলের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান এ এম আনোয়ার হোসেন ১৯৮৭ সালে ছয় একর জমির ওপর কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নাজিম উদ্দিন শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত করা, সিসি ক্যামেরা বসিয়ে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেন। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কলেজের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করেন এবং অভিভাবক, শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেন।
শিক্ষার্থীদের জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয়। একবার এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আল ইমরান নামের এক শিক্ষার্থী খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে আসলে নাজিম উদ্দিন তাকে বিজ্ঞানে পড়ার উৎসাহ দেন ও ভর্তি করান। পরবর্তীতে ইমরান এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নাজিম উদ্দিনের দিকনির্দেশনায় অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সেখান থেকে লেখাপড়া শেষ করে স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় পিএইচডি করতে যান। এজন্য সব শিক্ষার্থীই তাকে শ্রদ্ধা করে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর এই ভূমিকা নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন মানিক ও আব্দুল হক জানান, নাজিম উদ্দিন দায়িত্বে আসার পর থেকেই পড়ালেখার মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতায় জোর দিয়েছেন। অবৈধ জমি মুক্ত করার ক্ষেত্রেও তিনি জোরালো অবদান রেখেছেন। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানায়, নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা, মনিটরিং, দেয়াল নির্মাণ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং স্কাউট ও গার্লস গাইড সক্রিয় রাখার পাশাপাশি তিনি তাদের সন্তানের স্নেহে গড়ে তুলছেন।
নিজের এই অর্জন সম্পর্কে মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। এই সম্মাননা কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো মনোহরদী ও জেলাবাসীর গর্ব। তিনি চান তাঁর শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশের সেবায় নিবেদিত হোক এবং তিনি কর্মজীবনের বাকি সময়েও এই সম্মানের মর্যাদা ধরে রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এসব অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন গুণী শিক্ষকের মর্যাদা। তাই চাকরি জীবনের বাকি সময়ে এই সম্মাননার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে চাই।
ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনে নাজিম উদ্দিনের সাফল্য বেশ দীর্ঘ। ১৯৭১ সালের ১১ জানুয়ারি মনোহরদীর চরমান্দালিয়া মজিন্দপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবার নাম ফতেহ আলী ও মায়ের নাম সাহেদা খাতুন। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। পারিবারিক জীবনে স্ত্রী রোকসানা আক্তার, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। শৈশবে ১৯৮১ সালে বীরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। এরপর ১৯৮৭ সালে কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে কটিয়াদী ডিগ্রি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
নাজিম উদ্দিন ১৯৯৮ সালে মনোহরদী বড়চাপড়া কলেজে গণিতের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০০৪ সালে মনোহরদী উপজেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক (কলেজ পর্যায়) নির্বাচিত হন। ওই বছরই তিনি গণিতের প্রভাষক হিসেবে খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজে যোগ দেন। পরে ২০২৪ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হন এবং ২০২৫ সালে পুনরায় উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। এছাড়া ময়মনসিংহে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতায় প্রথম এবং দলগত বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হওয়াসহ নানা সামাজিক ও শিক্ষামূলক কাজের জন্য তিনি একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
নরসিংদীর মনোহরদীর খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দিন তাঁর ২৮ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে বহু শিক্ষার্থীর পথের দিশারী হয়ে উঠেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ক্রীড়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সার্বিক বিকাশে অবদান রেখে তিনি গুণী শিক্ষক হিসেবে বিশেষ সম্মান অর্জন করেছেন। গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা ও পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর এই অর্জনে গোটা জেলাজুড়ে আনন্দ ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে। তার এই অর্জনে জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ উচ্ছ্বসিত ও গর্বিত। সেখানে থাকাবস্থায় তিনি নাসাতে আবেদন করেন এবং গবেষক হিসেবে যোগদান করেন।
খিদিরপুর মনতলা অঞ্চলের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান এ এম আনোয়ার হোসেন ১৯৮৭ সালে ছয় একর জমির ওপর কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নাজিম উদ্দিন শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত করা, সিসি ক্যামেরা বসিয়ে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেন। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কলেজের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করেন এবং অভিভাবক, শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেন।
শিক্ষার্থীদের জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয়। একবার এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আল ইমরান নামের এক শিক্ষার্থী খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে আসলে নাজিম উদ্দিন তাকে বিজ্ঞানে পড়ার উৎসাহ দেন ও ভর্তি করান। পরবর্তীতে ইমরান এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নাজিম উদ্দিনের দিকনির্দেশনায় অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সেখান থেকে লেখাপড়া শেষ করে স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় পিএইচডি করতে যান। এজন্য সব শিক্ষার্থীই তাকে শ্রদ্ধা করে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর এই ভূমিকা নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন মানিক ও আব্দুল হক জানান, নাজিম উদ্দিন দায়িত্বে আসার পর থেকেই পড়ালেখার মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতায় জোর দিয়েছেন। অবৈধ জমি মুক্ত করার ক্ষেত্রেও তিনি জোরালো অবদান রেখেছেন। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানায়, নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা, মনিটরিং, দেয়াল নির্মাণ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং স্কাউট ও গার্লস গাইড সক্রিয় রাখার পাশাপাশি তিনি তাদের সন্তানের স্নেহে গড়ে তুলছেন।
নিজের এই অর্জন সম্পর্কে মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। এই সম্মাননা কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো মনোহরদী ও জেলাবাসীর গর্ব। তিনি চান তাঁর শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশের সেবায় নিবেদিত হোক এবং তিনি কর্মজীবনের বাকি সময়েও এই সম্মানের মর্যাদা ধরে রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এসব অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন গুণী শিক্ষকের মর্যাদা। তাই চাকরি জীবনের বাকি সময়ে এই সম্মাননার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে চাই।
ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনে নাজিম উদ্দিনের সাফল্য বেশ দীর্ঘ। ১৯৭১ সালের ১১ জানুয়ারি মনোহরদীর চরমান্দালিয়া মজিন্দপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবার নাম ফতেহ আলী ও মায়ের নাম সাহেদা খাতুন। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। পারিবারিক জীবনে স্ত্রী রোকসানা আক্তার, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। শৈশবে ১৯৮১ সালে বীরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। এরপর ১৯৮৭ সালে কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে কটিয়াদী ডিগ্রি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
নাজিম উদ্দিন ১৯৯৮ সালে মনোহরদী বড়চাপড়া কলেজে গণিতের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০০৪ সালে মনোহরদী উপজেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক (কলেজ পর্যায়) নির্বাচিত হন। ওই বছরই তিনি গণিতের প্রভাষক হিসেবে খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজে যোগ দেন। পরে ২০২৪ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হন এবং ২০২৫ সালে পুনরায় উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। এছাড়া ময়মনসিংহে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতায় প্রথম এবং দলগত বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হওয়াসহ নানা সামাজিক ও শিক্ষামূলক কাজের জন্য তিনি একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
