আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দর

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার জোরালো সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দর ১.১ শতাংশ কমে ৪,০২২.১৯ ডলারে নেমেছে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর জোরালো সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,০২২.১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৩৫ ডলারে নেমে এসেছে। মূল্যবান এই ধাতুটির দরে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওই তথ্য থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতির বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে নেমেছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভ এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিই (PCE) প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই সূচকটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি নির্ধারণে এই সূচকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান জানিয়েছেন, পিসিইর তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ বলে ধরে নিচ্ছেন লেনদেনকারীরা।

সুদের হার বৃদ্ধি পেলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা ও আকর্ষণ কমে যায়, যার ফলে এর দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে এবং জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার বা তার বেশি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্রতর হতে পারে, যা স্বর্ণের দামকে চলতি বছরের নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেলে দিতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতির আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় থাকায় এবং আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ রাখতে ঋণ গ্রহণের খরচে পরিবর্তন আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে আলোচনার উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এই পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের দিকেও বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন, যদিও ফ্রান্সের বন্ডবাজারের অস্থিরতা বর্তমানে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ২.৪ শতাংশ কমে ৫২.৬৭ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২.৩ শতাংশ কমে ১,৫০২.৬১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১,০০২.৫৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দর

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর জোরালো সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,০২২.১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৩৫ ডলারে নেমে এসেছে। মূল্যবান এই ধাতুটির দরে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওই তথ্য থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতির বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে নেমেছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভ এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিই (PCE) প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই সূচকটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি নির্ধারণে এই সূচকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান জানিয়েছেন, পিসিইর তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ বলে ধরে নিচ্ছেন লেনদেনকারীরা।

সুদের হার বৃদ্ধি পেলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা ও আকর্ষণ কমে যায়, যার ফলে এর দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে এবং জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার বা তার বেশি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্রতর হতে পারে, যা স্বর্ণের দামকে চলতি বছরের নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেলে দিতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতির আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় থাকায় এবং আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ রাখতে ঋণ গ্রহণের খরচে পরিবর্তন আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে আলোচনার উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এই পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের দিকেও বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন, যদিও ফ্রান্সের বন্ডবাজারের অস্থিরতা বর্তমানে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ২.৪ শতাংশ কমে ৫২.৬৭ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২.৩ শতাংশ কমে ১,৫০২.৬১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১,০০২.৫৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত