আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

গুজরাটে গরু জবাইয়ের মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ভারতের গুজরাটে গরু জবাই ও মাংস বিক্রির দায়ে তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে ধর্মীয় গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে গরুর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

ভারতের গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোলের একটি দায়রা আদালতে তিন মুসলিম ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর দেওয়া এই রায়ে বিচারক গরু জবাই ও মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগটি আমলে নেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ওয়াসিম কুরেশি, মহম্মদ রফিক কুরেশি এবং আসফাক বেহলিম। রায়ে বলা হয়, গরু রক্ষা ধর্ম ও করুণার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট। ওই দিন গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামে লালাভাই সেনমার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে ২৭৭ কেজি গরুর মাংস জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ৫৫ হাজার রুপি। একই সঙ্গে গরু জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং মাংস পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি যানবাহনও পুলিশ জব্দ করে। সেখানে ওয়াসিম, মহম্মদ রফিক ও আসফাকের কাছ থেকে ২৭৭ কেজি গরুর মাংস উদ্ধার করা হয় বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গরু জবাইয়ের ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মামলাটি ২০২৪ সালের ২২ আগস্টের।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, জব্দকৃত মাংস গুলাম মইন কুরেশির কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বিচার শেষে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক বি আর রাজপুত গুজরাটের প্রাণী সংরক্ষণ সংশোধন আইন এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় তাদের এই সাজা প্রদান করেন।

সাজার পাশাপাশি জরিমানার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। তবে জরিমানার অংক নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য এসেছে। কিছু প্রতিবেদনে প্রত্যেককে তিন লাখ রুপি এবং অন্য কিছু প্রতিবেদনে দুই লাখ রুপি জরিমানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক গরু রক্ষার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

এ সময় তিনি বেদ ও মনুস্মৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে গরুকে ‘বিশ্বের মাতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিচারক মন্তব্য করেন, গরুর পবিত্র অবস্থান ও ধর্মীয় গুরুত্ব জানা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা গরু জবাইয়ের মতো কাজ করেছেন। তারা যথাযথ শাস্তি না পেলে ভবিষ্যতে গরুর অস্তিত্ব হুমকিতে পড়বে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য যে, গুজরাটে গরু সুরক্ষা আইন অত্যন্ত কঠোর। ২০১৭ সালে রাজ্যটিতে এই আইন সংশোধন করা হয়, যেখানে গরু জবাইয়ের মতো অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থের উদ্ধৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক এই কঠোর রায় প্রদান করেছেন। প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হলে তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। সূত্র: মাকতুব মিডিয়া, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য অবজার্ভার পোস্ট।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


গুজরাটে গরু জবাইয়ের মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোলের একটি দায়রা আদালতে তিন মুসলিম ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর দেওয়া এই রায়ে বিচারক গরু জবাই ও মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগটি আমলে নেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ওয়াসিম কুরেশি, মহম্মদ রফিক কুরেশি এবং আসফাক বেহলিম। রায়ে বলা হয়, গরু রক্ষা ধর্ম ও করুণার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট। ওই দিন গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামে লালাভাই সেনমার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে ২৭৭ কেজি গরুর মাংস জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ৫৫ হাজার রুপি। একই সঙ্গে গরু জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং মাংস পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি যানবাহনও পুলিশ জব্দ করে। সেখানে ওয়াসিম, মহম্মদ রফিক ও আসফাকের কাছ থেকে ২৭৭ কেজি গরুর মাংস উদ্ধার করা হয় বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গরু জবাইয়ের ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মামলাটি ২০২৪ সালের ২২ আগস্টের।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, জব্দকৃত মাংস গুলাম মইন কুরেশির কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বিচার শেষে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক বি আর রাজপুত গুজরাটের প্রাণী সংরক্ষণ সংশোধন আইন এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় তাদের এই সাজা প্রদান করেন।

সাজার পাশাপাশি জরিমানার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। তবে জরিমানার অংক নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য এসেছে। কিছু প্রতিবেদনে প্রত্যেককে তিন লাখ রুপি এবং অন্য কিছু প্রতিবেদনে দুই লাখ রুপি জরিমানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক গরু রক্ষার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

এ সময় তিনি বেদ ও মনুস্মৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে গরুকে ‘বিশ্বের মাতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিচারক মন্তব্য করেন, গরুর পবিত্র অবস্থান ও ধর্মীয় গুরুত্ব জানা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা গরু জবাইয়ের মতো কাজ করেছেন। তারা যথাযথ শাস্তি না পেলে ভবিষ্যতে গরুর অস্তিত্ব হুমকিতে পড়বে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য যে, গুজরাটে গরু সুরক্ষা আইন অত্যন্ত কঠোর। ২০১৭ সালে রাজ্যটিতে এই আইন সংশোধন করা হয়, যেখানে গরু জবাইয়ের মতো অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থের উদ্ধৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক এই কঠোর রায় প্রদান করেছেন। প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হলে তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। সূত্র: মাকতুব মিডিয়া, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য অবজার্ভার পোস্ট।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত