জাতীয়জাতীয়

ের জবাব -: তাহসিফ সৌরির মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায়

রাজধানীর তুরাগ নদীতে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ পাওয়ার ঘটনায় রহস্য দেখা দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর উদ্ধার হওয়া এই কর্মকর্তার মৃত্যু নিয়ে পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নানা সংশয় তৈরি হয়েছে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে নৌ পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। মৃত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার সময় তার পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা, আর হাতের কবজিতে ছিল ঘড়ি। পকেটে থাকা আইফোন দেখে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তাহসিফ সৌরি। যার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তুরাগ নদী থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। তার বাবার ভাষ্যমতে, যেখানে মরদেহ পাওয়া গেছে, সেই এলাকায় তাহসিফ কখনো যাননি। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তিনি কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন এবং কেনই বা তাকে সেখানে ডেকে নেওয়া হলো। ঘটনার আগের রাত দেড়টা পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন বা কোন বিষয় নিয়ে তিনি শঙ্কিত ছিলেন—এসব নিয়ে এখন নানা জল্পনা চলছে। ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। কে তাকে ডেকে নিল এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। তিনি লেখেন, গত পরশু রাতে সে বাইরে যায় এরপর এই ঘটনা।

অব্যাহতি নেওয়া এই সাবেক সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক যোগসূত্রের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আলোচিত একটি বিষয় হলো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার আকাশপথের ভিডিও প্রচারের সঙ্গে তাহসিফের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না। যদিও মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই একটি পডকাস্টে তিনি এ ধরনের অভিযোগকে ‘প্রমাণহীন’ হিসেবে নাকচ করে দিয়েছিলেন। বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এসব বিতর্কের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, জানতে চাওয়া হলে তিনি পডকাস্টে জানিয়েছিলেন, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তবে বিস্তারিত বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। মৃত্যুর বেশ কদিন আগে প্রকাশিত একটি পডকাস্টে তাহসিফ নিজেই অভিযোগটিকে ‘প্রমাণহীন অভিযোগ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। বাকি সব ক্লিন, এইটা কিসের লক্ষণ আমি এখনি বলতে চাইনা। তবে এইটা ব্যক্তিগত কোনো কোন্দল বা এক্সিডেন্ট ক্লিয়ারলি প্রমাণিত না হলে।

তাহসিফের বন্ধু এবং নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইনতিসার ইনজামাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই মৃত্যুর পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ৫ই আগস্টের ঘটনার পর থেকে তাহসিফ বিভিন্নভাবে মানহানির শিকার হয়েছেন, যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি মামলা হয়নি। ইনতিসার তার পোস্টে মরদেহের হাতে থাকা কাদার দাগ এবং শারীরিক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে একে নিছক দুর্ঘটনা না হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেননি। এদিকে, নিজেকে তাহসিফের বন্ধু দাবি করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইনতিসার ইনজামামও নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি আরো লেখেন, ৫ই আগস্টের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর, তার মানহানি করা হয় নানান বিষয়ে কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি কেস করতে পারেনাই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে ভিডিও ধারণ বা রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুরো বিষয়টি রহস্যে ঘেরা থাকলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্ত শেষ হলে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখোঁজের পর একদিনের ব্যবধানে একজন প্রাক্তন কর্মকর্তার এমন করুণ পরিণতিতে জনমনে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

Public Voice

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


ের জবাব -: তাহসিফ সৌরির মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায়

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে নৌ পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। মৃত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার সময় তার পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা, আর হাতের কবজিতে ছিল ঘড়ি। পকেটে থাকা আইফোন দেখে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তাহসিফ সৌরি। যার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তুরাগ নদী থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। তার বাবার ভাষ্যমতে, যেখানে মরদেহ পাওয়া গেছে, সেই এলাকায় তাহসিফ কখনো যাননি। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তিনি কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন এবং কেনই বা তাকে সেখানে ডেকে নেওয়া হলো। ঘটনার আগের রাত দেড়টা পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন বা কোন বিষয় নিয়ে তিনি শঙ্কিত ছিলেন—এসব নিয়ে এখন নানা জল্পনা চলছে। ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। কে তাকে ডেকে নিল এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। তিনি লেখেন, গত পরশু রাতে সে বাইরে যায় এরপর এই ঘটনা।

অব্যাহতি নেওয়া এই সাবেক সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক যোগসূত্রের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আলোচিত একটি বিষয় হলো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার আকাশপথের ভিডিও প্রচারের সঙ্গে তাহসিফের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না। যদিও মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই একটি পডকাস্টে তিনি এ ধরনের অভিযোগকে ‘প্রমাণহীন’ হিসেবে নাকচ করে দিয়েছিলেন। বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এসব বিতর্কের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, জানতে চাওয়া হলে তিনি পডকাস্টে জানিয়েছিলেন, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তবে বিস্তারিত বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। মৃত্যুর বেশ কদিন আগে প্রকাশিত একটি পডকাস্টে তাহসিফ নিজেই অভিযোগটিকে ‘প্রমাণহীন অভিযোগ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। বাকি সব ক্লিন, এইটা কিসের লক্ষণ আমি এখনি বলতে চাইনা। তবে এইটা ব্যক্তিগত কোনো কোন্দল বা এক্সিডেন্ট ক্লিয়ারলি প্রমাণিত না হলে।

তাহসিফের বন্ধু এবং নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইনতিসার ইনজামাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই মৃত্যুর পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ৫ই আগস্টের ঘটনার পর থেকে তাহসিফ বিভিন্নভাবে মানহানির শিকার হয়েছেন, যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি মামলা হয়নি। ইনতিসার তার পোস্টে মরদেহের হাতে থাকা কাদার দাগ এবং শারীরিক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে একে নিছক দুর্ঘটনা না হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেননি। এদিকে, নিজেকে তাহসিফের বন্ধু দাবি করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইনতিসার ইনজামামও নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি আরো লেখেন, ৫ই আগস্টের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর, তার মানহানি করা হয় নানান বিষয়ে কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি কেস করতে পারেনাই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে ভিডিও ধারণ বা রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুরো বিষয়টি রহস্যে ঘেরা থাকলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্ত শেষ হলে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখোঁজের পর একদিনের ব্যবধানে একজন প্রাক্তন কর্মকর্তার এমন করুণ পরিণতিতে জনমনে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত