অন্যান্যঅন্যান্য

নেত্রকোনার মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমাতে রংতুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

শরতের শুভ্র কাশফুল আর নীল আকাশের হাত ধরে প্রকৃতিতে এসেছে উৎসবের আমেজ। এরই মধ্যে ঘনিয়ে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে নেত্রকোনার ৫৪৬টি পূজা মণ্ডপে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। রংতুলি হাতে মাটির প্রতিমায় শেষ আঁচড় দিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

 

ইতোমধ্যে গত ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনায় দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র এবার শুরু হয়েছে দিন গণনা। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাষষ্ঠী পূজায় দেবী বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। হিন্দু শাস্ত্রমতে, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে মর্ত্যে আগমন করছেন, যা ছত্রভঙ্গ বসুন্ধরা বা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের ইঙ্গিতের প্রতীক। তবে মর্ত্যলোক থেকে কৈলাসে গমন করবেন নৌকায়, যা শস্যবৃদ্ধি, মনস্কামনা পূরণ, তবে একই সাথে বন্যা বা অতিবৃষ্টির আশঙ্কা বলে মনে করা হয়।

 

সরেজমিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখাগেছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা উপলক্ষে উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে খড়-কাঁদা-মাটি দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে এখন চলছে রঙের কাজ। মৃৎশিল্পীরা দিন-রাত রংতুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে শৈল্পিক কারুকাজে ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।

 

মৃৎশিল্পীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি,ভক্তি ও ভালোবাসা। পরিবারের সদস্য ও সহকারী কারিগরদের নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছেন। তবে বাঁশ, খড়, মাটি ও রংসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়লেও প্রতিমার দাম সেভাবে বাড়েনি। তবু বংশপরম্পরায় এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকাকে আনন্দের অংশ বলে মনে করেন তারা।

 

মৃৎশিল্পী রতন পাল, নির্মল পাল ও সত্য পাল বলেন, পূজা শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। দিন-রাত কাজ করেও সময় মিলছে না। আগে প্রতিমা তৈরিতে কাপড় ও বিভিন্ন অলংকারের ব্যবহার বেশি হলেও এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন মাটির তৈরি সাজসজ্জার ব্যবহার বেড়েছে। তার ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে প্রতিমার গড়ন ও সাজসজ্জাতেও পরিবর্তন এসেছে।

 

আয়োজকরা জানান, মণ্ডপগুলোয় বৈচিত্র্য আনতে কারিগররা ভিন্ন ভিন্ন ‘থিম’ বা ভাবনা অনুসারে প্রতিমা সাজাচ্ছেন। পাশাপাশি চলছে ডেকোরেশন ও দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণের কাজ। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে এবার অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলা হচ্ছে। তবে একটি সর্বজনীন পূজার পেছনে ন্যূনতম ৩ থেকে ৬ লাখ টাকার বাজেট করতে হচ্ছে বলেও জানান আয়োজকরা।

 

নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, শারদীয় দুগার্পূজা উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট এবং হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টসহ জেলার দশটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) এবং সনাতন ধমার্বলম্বী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে উৎসব উদযাপনে সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। শাররদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


নেত্রকোনার মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমাতে রংতুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শরতের শুভ্র কাশফুল আর নীল আকাশের হাত ধরে প্রকৃতিতে এসেছে উৎসবের আমেজ। এরই মধ্যে ঘনিয়ে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে নেত্রকোনার ৫৪৬টি পূজা মণ্ডপে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। রংতুলি হাতে মাটির প্রতিমায় শেষ আঁচড় দিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

 

ইতোমধ্যে গত ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনায় দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র এবার শুরু হয়েছে দিন গণনা। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাষষ্ঠী পূজায় দেবী বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। হিন্দু শাস্ত্রমতে, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে মর্ত্যে আগমন করছেন, যা ছত্রভঙ্গ বসুন্ধরা বা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের ইঙ্গিতের প্রতীক। তবে মর্ত্যলোক থেকে কৈলাসে গমন করবেন নৌকায়, যা শস্যবৃদ্ধি, মনস্কামনা পূরণ, তবে একই সাথে বন্যা বা অতিবৃষ্টির আশঙ্কা বলে মনে করা হয়।

 

সরেজমিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখাগেছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা উপলক্ষে উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে খড়-কাঁদা-মাটি দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে এখন চলছে রঙের কাজ। মৃৎশিল্পীরা দিন-রাত রংতুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে শৈল্পিক কারুকাজে ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।

 

মৃৎশিল্পীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি,ভক্তি ও ভালোবাসা। পরিবারের সদস্য ও সহকারী কারিগরদের নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছেন। তবে বাঁশ, খড়, মাটি ও রংসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়লেও প্রতিমার দাম সেভাবে বাড়েনি। তবু বংশপরম্পরায় এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকাকে আনন্দের অংশ বলে মনে করেন তারা।

 

মৃৎশিল্পী রতন পাল, নির্মল পাল ও সত্য পাল বলেন, পূজা শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। দিন-রাত কাজ করেও সময় মিলছে না। আগে প্রতিমা তৈরিতে কাপড় ও বিভিন্ন অলংকারের ব্যবহার বেশি হলেও এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন মাটির তৈরি সাজসজ্জার ব্যবহার বেড়েছে। তার ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে প্রতিমার গড়ন ও সাজসজ্জাতেও পরিবর্তন এসেছে।

 

আয়োজকরা জানান, মণ্ডপগুলোয় বৈচিত্র্য আনতে কারিগররা ভিন্ন ভিন্ন ‘থিম’ বা ভাবনা অনুসারে প্রতিমা সাজাচ্ছেন। পাশাপাশি চলছে ডেকোরেশন ও দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণের কাজ। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে এবার অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলা হচ্ছে। তবে একটি সর্বজনীন পূজার পেছনে ন্যূনতম ৩ থেকে ৬ লাখ টাকার বাজেট করতে হচ্ছে বলেও জানান আয়োজকরা।

 

নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, শারদীয় দুগার্পূজা উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট এবং হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টসহ জেলার দশটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) এবং সনাতন ধমার্বলম্বী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে উৎসব উদযাপনে সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। শাররদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত