নির্বাচন
২০২৬-২০২৮ মেয়াদে দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী
দীর্ঘদিন পর সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বাদল-হিরু প্যানেল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। বহুল আলোচিত এ নির্বাচনে জেলার ব্যবসায়ী সমাজের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ার পর ফল ঘোষণায় বাদল-হিরু প্যানেলের সমর্থক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।
চেম্বার সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে এমএসএম আতিকুর রহমান বাদল এবং সহ-সভাপতি পদে হামিদুল হক চৌধুরী হিরুর নেতৃত্বে গঠিত বাদল-হিরু প্যানেল শুরু থেকেই শক্ত অবস্থানে ছিল। নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে ছিল সেলিম-এরশাদ পরিষদ এবং লালু-শিপন পরিষদ। এছাড়া পরিচালক পদে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনকে ঘিরে বগুড়ার ব্যবসায়ী মহলে কয়েক মাস ধরেই ব্যাপক আলোচনা চলছিল। মনোনয়নপত্র জমা, বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচারণা—সব মিলিয়ে এবারের চেম্বার নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সংবাদসূত্রে জানা যায়, সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ পরিচালক পদে মোট কয়েক ডজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর আগে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে তিনটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।
নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের তফসিল অনুযায়ী রোববার (৫ জুলাই) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটার ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি ভোটে চেম্বারের নেতৃত্ব নির্ধারণের সুযোগ পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর বাদল-হিরু প্যানেলের প্রার্থীরা একে একে এগিয়ে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত প্যানেলটি বড় ব্যবধানে জয় পায় বলে জানা যায়।
নির্বাচনে বিজয়ের পর বাদল-হিরু প্যানেলের নেতারা বগুড়া চেম্বারকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া তুলে ধরতে নতুন পর্ষদ কাজ করবে। একই সঙ্গে চেম্বারের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়িয়ে সদস্যসেবাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি জেলার ব্যবসায়ী সমাজের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন। স্থানীয় ব্যবসা, শিল্প, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এ সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এবারের নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর বগুড়ার শিল্প ও বাণিজ্য খাতে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পাইকারি ও খুচরা বাজারের প্রতিনিধি এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, বগুড়া চেম্বারের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের এ নির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই তিনটি প্যানেলের মধ্যে জোর প্রচারণা, প্রার্থী পরিচিতি সভা এবং ব্যবসায়ী ভোটারদের সমর্থন আদায়ের তৎপরতা চলছিল। শেষ পর্যন্ত ভোটযুদ্ধে বাদল-হিরু প্যানেলের জয় নতুন পর্ষদ গঠনের পথ সুগম করেছে।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
২০২৬-২০২৮ মেয়াদে দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী
দীর্ঘদিন পর সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বাদল-হিরু প্যানেল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। বহুল আলোচিত এ নির্বাচনে জেলার ব্যবসায়ী সমাজের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ার পর ফল ঘোষণায় বাদল-হিরু প্যানেলের সমর্থক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।
চেম্বার সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে এমএসএম আতিকুর রহমান বাদল এবং সহ-সভাপতি পদে হামিদুল হক চৌধুরী হিরুর নেতৃত্বে গঠিত বাদল-হিরু প্যানেল শুরু থেকেই শক্ত অবস্থানে ছিল। নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে ছিল সেলিম-এরশাদ পরিষদ এবং লালু-শিপন পরিষদ। এছাড়া পরিচালক পদে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনকে ঘিরে বগুড়ার ব্যবসায়ী মহলে কয়েক মাস ধরেই ব্যাপক আলোচনা চলছিল। মনোনয়নপত্র জমা, বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচারণা—সব মিলিয়ে এবারের চেম্বার নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সংবাদসূত্রে জানা যায়, সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ পরিচালক পদে মোট কয়েক ডজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর আগে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে তিনটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।
নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের তফসিল অনুযায়ী রোববার (৫ জুলাই) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটার ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি ভোটে চেম্বারের নেতৃত্ব নির্ধারণের সুযোগ পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর বাদল-হিরু প্যানেলের প্রার্থীরা একে একে এগিয়ে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত প্যানেলটি বড় ব্যবধানে জয় পায় বলে জানা যায়।
নির্বাচনে বিজয়ের পর বাদল-হিরু প্যানেলের নেতারা বগুড়া চেম্বারকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া তুলে ধরতে নতুন পর্ষদ কাজ করবে। একই সঙ্গে চেম্বারের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়িয়ে সদস্যসেবাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি জেলার ব্যবসায়ী সমাজের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন। স্থানীয় ব্যবসা, শিল্প, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এ সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এবারের নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর বগুড়ার শিল্প ও বাণিজ্য খাতে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পাইকারি ও খুচরা বাজারের প্রতিনিধি এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, বগুড়া চেম্বারের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের এ নির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই তিনটি প্যানেলের মধ্যে জোর প্রচারণা, প্রার্থী পরিচিতি সভা এবং ব্যবসায়ী ভোটারদের সমর্থন আদায়ের তৎপরতা চলছিল। শেষ পর্যন্ত ভোটযুদ্ধে বাদল-হিরু প্যানেলের জয় নতুন পর্ষদ গঠনের পথ সুগম করেছে।
