অপরাধ
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় অসুস্থ মরা গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। নমুনা পরীক্ষার পরই মাংসটি আসলে কোন পশুর এবং এর প্রকৃত অবস্থা কী ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সনাটি ইউনিয়নের আকালপাড়া গ্রামের প্রবাস চন্দ্র সূত্রধরের লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত একটি গরু জবাই করে দালালের মাধ্যমে কেন্দুয়ার এক মাংস ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়। পরে গরুটির মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রায় ৫০ কেজি মাংস মাটিতে পুঁতে রাখা হয় বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ী।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সাংবাদিক ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর মাটির নিচ থেকে মাংস তুলে দেখানো হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ২ সেপ্টেম্বর মাংস পুঁতে রাখা হয়েছিল। সেই হিসাবে প্রায় ১০ দিন পর মাংস উত্তোলন করা হয়। দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকার পরও মাংস তুলনামূলক অক্ষত থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। মাংসের রংও স্বাভাবিকের তুলনায় সাদাটে দেখা যায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তা পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, শফিকুল ইসলাম, থানা পুলিশের এ এস আই বাহার উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “১০ দিন পর সাধারণত মাংস আরও পচে যাওয়ার কথা। মাংসটি আগে ফ্রিজিং করা হয়েছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও বলেন, কেন্দুয়ার কোনো মাংস ব্যবসায়ীর লাইসেন্স নেই। প্রতিদিন জবাইয়ের আগে সব পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত জনবলও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নেই। অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সানজিদা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বাজারে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
তবে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা মাংসটি গৌরীপুরের ওই গরুরই মাংস কি না, সেটিও এখন তদন্তের বিষয়। তাই ল্যাব পরীক্ষার ফল এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় অসুস্থ মরা গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। নমুনা পরীক্ষার পরই মাংসটি আসলে কোন পশুর এবং এর প্রকৃত অবস্থা কী ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সনাটি ইউনিয়নের আকালপাড়া গ্রামের প্রবাস চন্দ্র সূত্রধরের লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত একটি গরু জবাই করে দালালের মাধ্যমে কেন্দুয়ার এক মাংস ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়। পরে গরুটির মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রায় ৫০ কেজি মাংস মাটিতে পুঁতে রাখা হয় বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ী।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সাংবাদিক ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর মাটির নিচ থেকে মাংস তুলে দেখানো হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ২ সেপ্টেম্বর মাংস পুঁতে রাখা হয়েছিল। সেই হিসাবে প্রায় ১০ দিন পর মাংস উত্তোলন করা হয়। দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকার পরও মাংস তুলনামূলক অক্ষত থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। মাংসের রংও স্বাভাবিকের তুলনায় সাদাটে দেখা যায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তা পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, শফিকুল ইসলাম, থানা পুলিশের এ এস আই বাহার উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “১০ দিন পর সাধারণত মাংস আরও পচে যাওয়ার কথা। মাংসটি আগে ফ্রিজিং করা হয়েছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও বলেন, কেন্দুয়ার কোনো মাংস ব্যবসায়ীর লাইসেন্স নেই। প্রতিদিন জবাইয়ের আগে সব পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত জনবলও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নেই। অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সানজিদা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বাজারে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
তবে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা মাংসটি গৌরীপুরের ওই গরুরই মাংস কি না, সেটিও এখন তদন্তের বিষয়। তাই ল্যাব পরীক্ষার ফল এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
