আইন-আদালত
বিএনপির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৩ জনের বিরুদ্ধে ৫৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলার তথ্য
ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে পরবর্তীতে তা ব্যবহার করে চেক ডিজঅনার মামলা করার অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সুদের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর পৌর বিএনপির গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ৫৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহনাজ বেগমের বিরুদ্ধে পল্টন, ঢাকা ঘটনাস্থল দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা, কয়েল চৌধুরীর বিরুদ্ধে শাহবাগ, ঢাকা ঘটনাস্থল দেখিয়ে ২১ লাখ টাকা এবং আনছারুল আজাদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ, ঢাকা ঘটনাস্থল দেখিয়ে ২০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে।
কমিটির অনুসন্ধানে আরও প্রায় ১৩ লাখ টাকা সুদের ভিত্তিতে দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ আদালত বা কোনো সরকারি তদন্তে এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায় বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পৌর বিএনপির কাছে করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উভয় পক্ষকে লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়। পরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, মামলার কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, আনছারুল আজাদের কাছে তার মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে আনছারুলের কাছে ২ লাখ এবং তার মাধ্যমে অন্য কয়েকজনকে আরও ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন আনছারুল আজাদ।
তার দাবি, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেনের কাছ থেকে স্বল্প সুদে ২ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন তিনি। এর বিপরীতে একটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক ও টাকা গ্রহণের স্বীকারোক্তিপত্র দেন।
আনছারুলের দাবি, পরবর্তীতে ব্যাংকের মাধ্যমে কয়েক দফায় সুদসহ মোট ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পরিশোধের পর স্বীকারোক্তিপত্র ফেরত দেওয়া হলেও ফাঁকা চেক ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে ওই চেক ব্যবহার করে ঢাকার কেরানীগঞ্জে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কয়েকটি মামলার কাগজপত্রে ঠিকানা ও ঘটনাস্থল নিয়ে অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লিগ্যাল নোটিশে এক ঠিকানা থাকলেও মামলার আরজিতে অন্য ঠিকানা ও ঘটনাস্থল উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৭ সালে কেনা ১০০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে পরবর্তী সময়ের লেনদেন দেখানোর অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। স্ট্যাম্পে লেনদেনের স্থান ও প্রত্যক্ষ সাক্ষীর তথ্য না থাকার বিষয়টিও তদন্ত কমিটি প্রশ্ন হিসেবে তুলেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেন ও মৌসুমি নাহার সেবার সঙ্গে খাজানুর হায়দার লিমনের অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত আরেকটি মামলার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মামলায় খাজানুর হায়দার লিমন প্রায় ২৫ লাখ টাকা পাওনার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় করা চেক ডিজঅনার মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে তারা কোনো পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে চূড়ান্ত মতামত দেয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদনে আশরাফ আলী মেম্বার, মোশারফ হোসেন উকিল ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম রয়েছে এবং তাঁদের স্বাক্ষরও রয়েছে।
অভিযোগগুলো গুরুতর হলেও আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়। ফলে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিএনপির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৩ জনের বিরুদ্ধে ৫৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলার তথ্য
ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে পরবর্তীতে তা ব্যবহার করে চেক ডিজঅনার মামলা করার অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সুদের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর পৌর বিএনপির গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ৫৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহনাজ বেগমের বিরুদ্ধে পল্টন, ঢাকা ঘটনাস্থল দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা, কয়েল চৌধুরীর বিরুদ্ধে শাহবাগ, ঢাকা ঘটনাস্থল দেখিয়ে ২১ লাখ টাকা এবং আনছারুল আজাদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ, ঢাকা ঘটনাস্থল দেখিয়ে ২০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে।
কমিটির অনুসন্ধানে আরও প্রায় ১৩ লাখ টাকা সুদের ভিত্তিতে দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ আদালত বা কোনো সরকারি তদন্তে এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায় বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পৌর বিএনপির কাছে করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উভয় পক্ষকে লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়। পরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, মামলার কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, আনছারুল আজাদের কাছে তার মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে আনছারুলের কাছে ২ লাখ এবং তার মাধ্যমে অন্য কয়েকজনকে আরও ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন আনছারুল আজাদ।
তার দাবি, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেনের কাছ থেকে স্বল্প সুদে ২ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন তিনি। এর বিপরীতে একটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক ও টাকা গ্রহণের স্বীকারোক্তিপত্র দেন।
আনছারুলের দাবি, পরবর্তীতে ব্যাংকের মাধ্যমে কয়েক দফায় সুদসহ মোট ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পরিশোধের পর স্বীকারোক্তিপত্র ফেরত দেওয়া হলেও ফাঁকা চেক ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে ওই চেক ব্যবহার করে ঢাকার কেরানীগঞ্জে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কয়েকটি মামলার কাগজপত্রে ঠিকানা ও ঘটনাস্থল নিয়ে অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লিগ্যাল নোটিশে এক ঠিকানা থাকলেও মামলার আরজিতে অন্য ঠিকানা ও ঘটনাস্থল উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৭ সালে কেনা ১০০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে পরবর্তী সময়ের লেনদেন দেখানোর অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। স্ট্যাম্পে লেনদেনের স্থান ও প্রত্যক্ষ সাক্ষীর তথ্য না থাকার বিষয়টিও তদন্ত কমিটি প্রশ্ন হিসেবে তুলেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেন ও মৌসুমি নাহার সেবার সঙ্গে খাজানুর হায়দার লিমনের অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত আরেকটি মামলার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মামলায় খাজানুর হায়দার লিমন প্রায় ২৫ লাখ টাকা পাওনার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় করা চেক ডিজঅনার মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে তারা কোনো পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে চূড়ান্ত মতামত দেয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদনে আশরাফ আলী মেম্বার, মোশারফ হোসেন উকিল ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম রয়েছে এবং তাঁদের স্বাক্ষরও রয়েছে।
অভিযোগগুলো গুরুতর হলেও আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়। ফলে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
