ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

গণভোটে ‘হ্যাঁ’: রাষ্ট্রকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব

মোঃ হুমায়ন কবির
মোঃ হুমায়ন কবির প্রতিনিধি
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-
গণভোটে ‘হ্যাঁ’: রাষ্ট্রকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব
ফাইল ছবি

গণভোট কোনো দলীয় প্রতিযোগিতা নয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা রক্ষার লড়াইও নয়। এটি একটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মুহূর্ত—বাংলাদেশ কেমন রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে এগোবে, সেই প্রশ্নে জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে—দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, একটি জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে দাঁড়ানো।

বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন ক্ষমতা এককভাবে কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং সংবিধান দুর্বল হয়েছে, তখনই স্বৈরাচার ও জবাবদিহিহীনতার জন্ম হয়েছে। এই গণভোট সেই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ—যেখানে জনগণই হবে রাষ্ট্রক্ষমতার চূড়ান্ত মালিক।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে—

তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করবে, যাতে নির্বাচন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া হয় নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য। কোনো সরকার আর ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না; সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে।

সংসদে কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একই সঙ্গে, যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—ফলে ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়ী অপব্যবহারের পথ রুদ্ধ হবে।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যা আইন প্রণয়নে অতিরিক্ত পর্যালোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা পাবে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারিত হবে—যার মধ্যে ইন্টারনেট সেবার মতো আধুনিক নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না; আইনের শাসন হবে আরও শক্তিশালী।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে সুস্পষ্ট ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে কোনো পদই সর্বময় ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে না ওঠে। একই সঙ্গে, রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার প্রস্তাবও এতে অন্তর্ভুক্ত।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে—আজকের রাজনীতির বাইরে গিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার সিদ্ধান্ত।

এটি কোনো দলের জয় নয়, এটি হবে জনগণের সিদ্ধান্ত।

কারণ রাষ্ট্র কারো একার নয়—রাষ্ট্র জনগণের।

Public Voice

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


গণভোটে ‘হ্যাঁ’: রাষ্ট্রকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

গণভোট কোনো দলীয় প্রতিযোগিতা নয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা রক্ষার লড়াইও নয়। এটি একটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মুহূর্ত—বাংলাদেশ কেমন রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে এগোবে, সেই প্রশ্নে জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে—দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, একটি জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে দাঁড়ানো।

বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন ক্ষমতা এককভাবে কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং সংবিধান দুর্বল হয়েছে, তখনই স্বৈরাচার ও জবাবদিহিহীনতার জন্ম হয়েছে। এই গণভোট সেই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ—যেখানে জনগণই হবে রাষ্ট্রক্ষমতার চূড়ান্ত মালিক।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে—

তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করবে, যাতে নির্বাচন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া হয় নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য। কোনো সরকার আর ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না; সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে।

সংসদে কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একই সঙ্গে, যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—ফলে ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়ী অপব্যবহারের পথ রুদ্ধ হবে।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যা আইন প্রণয়নে অতিরিক্ত পর্যালোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা পাবে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারিত হবে—যার মধ্যে ইন্টারনেট সেবার মতো আধুনিক নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না; আইনের শাসন হবে আরও শক্তিশালী।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে সুস্পষ্ট ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে কোনো পদই সর্বময় ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে না ওঠে। একই সঙ্গে, রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার প্রস্তাবও এতে অন্তর্ভুক্ত।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে—আজকের রাজনীতির বাইরে গিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার সিদ্ধান্ত।

এটি কোনো দলের জয় নয়, এটি হবে জনগণের সিদ্ধান্ত।

কারণ রাষ্ট্র কারো একার নয়—রাষ্ট্র জনগণের।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত