ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সরকারকে বাস্তবায়নে টালবাহানা করলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গাইবান্ধা ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত এক সমাবেশে অধিকার পরিষদের নেতারা বক্তব্যে এসব কথা জানান। পরে শাহবাগ পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তারা মিছিল করেন।
বক্তব্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, বর্তমান সরকার দুই হাজার শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত। কিন্তু আমরা দেখছি, সরকারে গিয়ে তারা জুলাই সনদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে চায়।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ৬৪ শতাংশ মানুষের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি আপনারা দেখার ক্ষমতা আপনাদের নেই।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একজন নির্বাচিত নেতা ১৭ বছর পর বাংলাদেশে এসে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
একইভাবে শেখ হাসিনা কোর্টে যারা রাজাকার ট্যাগ হিসেবে সাব্যস্ত করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার কথা ছিল, তারাও আজ মুক্তি পেয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন।
‘সুতরাং জুলাই সনদ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে কোনো প্রকার টালবাহানা ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না,’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই জুলাই আন্দোলন কারীদের দায় মুক্ত দিতে চায়। সরকার আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী আইনে নিষিদ্ধ করে তাদের আইন প্রণয়ন করেছে। আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া, এই বিষয়গুলোকে নিয়ে খেলাধুলা শুরু করেছে।
আপনারা তো ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ২৫টি রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার থেকে শুরু করে যে ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করেছেন, নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী সেই দলিলকে আপনারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারেন না।
নাজমুল বলেন অতিবিলম্বে সংসদে জুলাই সনদ আইন বাস্তবায়ন করতে সরকারকে আহ্বান জানান। সরকার শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে না চাইলে ছাত্র অধিকার পরিষদ শুধু বিক্ষোভ সমাবেশ নয়, কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে সাপ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই সময়ে আমরা লংমার্চ টু ঢাকা দিয়েছি, যমুনা ব্লকেডেও অনেকবার হয়েছি। এবার কিন্তু যদি সরকার আমাদের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে কিন্তু আমরা সংসদ ভবন ঘেরাও করতে দ্বিধাবোধ করবো না। ফলে গণভোটের যে রায় এসেছে, সেই রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শহীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে আমরা মনে করি ।
তিনি বলেন, ক্রিকেট বোর্ডকে তারা পারিবারিক ক্রিকেট বোর্ডে রূপান্তরিত করেছে। শেখ হাসিনা যেমন ক্রিকেট বোর্ডকে ধ্বংস করেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার নিজস্ব দলীয় লোক দিয়েছে প্রত্যেকটা জেলা কমিটিতে, তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপিও তার নেতাদেরকে সেই বিসিবিতে দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা বিসিবিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের এই নগ্ন হস্তক্ষেপের নিন্দা জানাই।
তিনি বলেন, একইসঙ্গে অতিবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা যে সচিবালয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই প্রস্তাবনা মেনে নিতে হবে। মানবাধিকার কমিশনের যে অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রস্তাব পাস হয়েছে, সেটি সংসদে আবার পুনরাত্থাপন করতে হবে। সংবিধান সংস্কার অবশ্যই করতে হবে।
দলের সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান কী, তা তারা স্পষ্ট করছেন না। গণভোট নিয়ে আপনাদের কী অবস্থান, সেটা নিয়ে আপনারা টালবাহানা করছেন।
সমাবেশে দলের আরও একাধিক নেতা বক্তব্য রেখেছেন।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
সরকারকে বাস্তবায়নে টালবাহানা করলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গাইবান্ধা ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত এক সমাবেশে অধিকার পরিষদের নেতারা বক্তব্যে এসব কথা জানান। পরে শাহবাগ পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তারা মিছিল করেন।
বক্তব্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, বর্তমান সরকার দুই হাজার শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত। কিন্তু আমরা দেখছি, সরকারে গিয়ে তারা জুলাই সনদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে চায়।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ৬৪ শতাংশ মানুষের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি আপনারা দেখার ক্ষমতা আপনাদের নেই।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একজন নির্বাচিত নেতা ১৭ বছর পর বাংলাদেশে এসে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
একইভাবে শেখ হাসিনা কোর্টে যারা রাজাকার ট্যাগ হিসেবে সাব্যস্ত করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার কথা ছিল, তারাও আজ মুক্তি পেয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন।
‘সুতরাং জুলাই সনদ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে কোনো প্রকার টালবাহানা ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না,’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই জুলাই আন্দোলন কারীদের দায় মুক্ত দিতে চায়। সরকার আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী আইনে নিষিদ্ধ করে তাদের আইন প্রণয়ন করেছে। আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া, এই বিষয়গুলোকে নিয়ে খেলাধুলা শুরু করেছে।
আপনারা তো ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ২৫টি রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার থেকে শুরু করে যে ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করেছেন, নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী সেই দলিলকে আপনারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারেন না।
নাজমুল বলেন অতিবিলম্বে সংসদে জুলাই সনদ আইন বাস্তবায়ন করতে সরকারকে আহ্বান জানান। সরকার শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে না চাইলে ছাত্র অধিকার পরিষদ শুধু বিক্ষোভ সমাবেশ নয়, কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে সাপ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই সময়ে আমরা লংমার্চ টু ঢাকা দিয়েছি, যমুনা ব্লকেডেও অনেকবার হয়েছি। এবার কিন্তু যদি সরকার আমাদের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে কিন্তু আমরা সংসদ ভবন ঘেরাও করতে দ্বিধাবোধ করবো না। ফলে গণভোটের যে রায় এসেছে, সেই রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শহীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে আমরা মনে করি ।
তিনি বলেন, ক্রিকেট বোর্ডকে তারা পারিবারিক ক্রিকেট বোর্ডে রূপান্তরিত করেছে। শেখ হাসিনা যেমন ক্রিকেট বোর্ডকে ধ্বংস করেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার নিজস্ব দলীয় লোক দিয়েছে প্রত্যেকটা জেলা কমিটিতে, তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপিও তার নেতাদেরকে সেই বিসিবিতে দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা বিসিবিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের এই নগ্ন হস্তক্ষেপের নিন্দা জানাই।
তিনি বলেন, একইসঙ্গে অতিবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা যে সচিবালয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই প্রস্তাবনা মেনে নিতে হবে। মানবাধিকার কমিশনের যে অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রস্তাব পাস হয়েছে, সেটি সংসদে আবার পুনরাত্থাপন করতে হবে। সংবিধান সংস্কার অবশ্যই করতে হবে।
দলের সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান কী, তা তারা স্পষ্ট করছেন না। গণভোট নিয়ে আপনাদের কী অবস্থান, সেটা নিয়ে আপনারা টালবাহানা করছেন।
সমাবেশে দলের আরও একাধিক নেতা বক্তব্য রেখেছেন।
