ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এই বরাদ্দের টাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। ভোটকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ ও অপ্রাসঙ্গিক কাজে এই অর্থ ব্যয় করছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
গোদাগাড়ীর নয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পেয়েছিল ৫৫ হাজার টাকা। নিয়ম অনুযায়ী সেই টাকা ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও, সেই টাকা দিয়ে পুরো স্কুলের বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং বাইরের বড় বাতি লাগানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমএন রিদওয়ান ফিরদাউস অকপটে স্বীকার করে বলেন, "ভোটের আগের দিন বিভিন্ন লোকজন থাকে, তাদের আলোর দরকার হয়। তাই পুরো স্কুলে লাইট লাগিয়েছি। টাকা বেঁচে থাকলে আমরা দেওয়াল (ওয়াল) নির্মাণ করবো।" কোনো চাহিদা বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই এভাবে টাকা খরচ করাকে তিনি 'দুর্নীতি নয়' বলে দাবি করছেন।
পবা উপজেলার শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি জানান, তারা কোনো চাহিদাপত্র দেননি, অথচ উপজেলা থেকে লোক এসে তালিকা করে নিয়ে গেছে।
একই চিত্র কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজেও। সেখানে ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে অথচ কলেজের অফিস সহকারী আব্দুল করিমের দাবি—তাদের কোনো কিছু সংস্কারের প্রয়োজনই নেই। কোনো চাহিদা ছাড়াই কেন এই টাকা দেওয়া হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
|
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম |
বরাদ্দের পরিমাণ |
কাজের ধরন/অভিযোগ |
|---|---|---|
|
তোকিপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় |
১ লাখ ২০ হাজার টাকা |
সংস্কারের বদলে পুরো স্কুল রং করা হয়েছে। |
|
নয়ন উচ্চ বিদ্যালয় |
৫৫ হাজার টাকা |
ভোটকেন্দ্রের বদলে পুরো স্কুলে বিদ্যুতায়ন। |
|
শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় |
৭০ হাজার টাকা |
প্রধান শিক্ষক বরাদ্দের ব্যাপারে অন্ধকার। |
|
মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয় |
নির্দিষ্ট নয় |
চাহিদা |
দায় এড়াচ্ছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর
পুরো জেলা জুড়ে ৩১টি প্রতিষ্ঠানে মোট ২২ লাখ ৭১ হাজার টাকা বিতরণ করা হলেও কাজের গুণগত মান বা স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো তদারকি নেই। রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন সরাসরি দায় এড়িয়ে বলেন, "আমরা শুধু বাজেটগুলো ইউএনও-দের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। বিল পরিশোধ বা কাজ কোথায় কী হচ্ছে, তা আমাদের জানা নেই। এটি ইউএনওরাই দেখবেন।"
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে ভালো ভবন থাকলেও পাশের জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন সংস্কারের নামে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় নির্মাণ সামগ্রীর দামের চেয়ে শ্রমিকের খরচ বা আনুমানিক ব্যয়ের হার অনেক বেশি দেখানো হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এই বরাদ্দ নিয়ে এমন তুঘলকি কাণ্ড রাজশাহীর সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত অবস্থা খতিয়ে দেখা হোক।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এই বরাদ্দের টাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। ভোটকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ ও অপ্রাসঙ্গিক কাজে এই অর্থ ব্যয় করছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
গোদাগাড়ীর নয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পেয়েছিল ৫৫ হাজার টাকা। নিয়ম অনুযায়ী সেই টাকা ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও, সেই টাকা দিয়ে পুরো স্কুলের বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং বাইরের বড় বাতি লাগানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমএন রিদওয়ান ফিরদাউস অকপটে স্বীকার করে বলেন, "ভোটের আগের দিন বিভিন্ন লোকজন থাকে, তাদের আলোর দরকার হয়। তাই পুরো স্কুলে লাইট লাগিয়েছি। টাকা বেঁচে থাকলে আমরা দেওয়াল (ওয়াল) নির্মাণ করবো।" কোনো চাহিদা বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই এভাবে টাকা খরচ করাকে তিনি 'দুর্নীতি নয়' বলে দাবি করছেন।
পবা উপজেলার শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি জানান, তারা কোনো চাহিদাপত্র দেননি, অথচ উপজেলা থেকে লোক এসে তালিকা করে নিয়ে গেছে।
একই চিত্র কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজেও। সেখানে ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে অথচ কলেজের অফিস সহকারী আব্দুল করিমের দাবি—তাদের কোনো কিছু সংস্কারের প্রয়োজনই নেই। কোনো চাহিদা ছাড়াই কেন এই টাকা দেওয়া হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
|
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম |
বরাদ্দের পরিমাণ |
কাজের ধরন/অভিযোগ |
|---|---|---|
|
তোকিপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় |
১ লাখ ২০ হাজার টাকা |
সংস্কারের বদলে পুরো স্কুল রং করা হয়েছে। |
|
নয়ন উচ্চ বিদ্যালয় |
৫৫ হাজার টাকা |
ভোটকেন্দ্রের বদলে পুরো স্কুলে বিদ্যুতায়ন। |
|
শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় |
৭০ হাজার টাকা |
প্রধান শিক্ষক বরাদ্দের ব্যাপারে অন্ধকার। |
|
মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয় |
নির্দিষ্ট নয় |
চাহিদা |
দায় এড়াচ্ছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর
পুরো জেলা জুড়ে ৩১টি প্রতিষ্ঠানে মোট ২২ লাখ ৭১ হাজার টাকা বিতরণ করা হলেও কাজের গুণগত মান বা স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো তদারকি নেই। রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন সরাসরি দায় এড়িয়ে বলেন, "আমরা শুধু বাজেটগুলো ইউএনও-দের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। বিল পরিশোধ বা কাজ কোথায় কী হচ্ছে, তা আমাদের জানা নেই। এটি ইউএনওরাই দেখবেন।"
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে ভালো ভবন থাকলেও পাশের জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন সংস্কারের নামে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় নির্মাণ সামগ্রীর দামের চেয়ে শ্রমিকের খরচ বা আনুমানিক ব্যয়ের হার অনেক বেশি দেখানো হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এই বরাদ্দ নিয়ে এমন তুঘলকি কাণ্ড রাজশাহীর সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত অবস্থা খতিয়ে দেখা হোক।
