পরিবেশ ও জলবায়ুপরিবেশ ও জলবায়ু

বিজয়নগর-ফুলতলা সড়কে বালুবাহী ট্রাকের রাজত্ব: বিপন্ন জনস্বাস্থ্য, দিনের বদলে রাতে চলাচলের জোরালো দাবি

রিপন আলী
রিপন আলী নিজস্ব প্রতিবেদক
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-
বিজয়নগর-ফুলতলা সড়কে বালুবাহী ট্রাকের রাজত্ব: বিপন্ন জনস্বাস্থ্য, দিনের বদলে রাতে চলাচলের জোরালো দাবি
খোলা ট্রাকে বালি পরিবহন: সাধারণ মানুষের চোখে এখন কেবলই ধুলোবালি!" বিজয়নগর-ফুলতলা সড়কে এভাবেই কোনো ঢাকনা ছাড়া বালি বোঝাই করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ড্রাম ট্রাক। বাতাসে ওড়া বালি পথচারীদের চোখের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এলাকাবাসীর দাবি—দিনের বেলা এসব ট্রাক চলাচল বন্ধ করে শুধুমাত্র রাতে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হোক।

বিজয়নগর: বিজয়নগর থেকে ফুলতলা সংযোগ সড়কটি বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দিনের আলোতে শত শত বালুবাহী ট্রাক কোনো প্রকার নিরাপত্তা ছাড়াই এই সড়কে চলাচল করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বাতাসে ওড়া বালুর কারণে পথচারীদের চোখ ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় এলাকাবাসী দিনের বেলা এসব ট্রাক চলাচল বন্ধ করে শুধুমাত্র রাতের বেলা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

​ধুলোয় ধূসরিত জনপদ, ঝুঁকিতে পথচারী

​সরেজমিনে বিজয়নগর থেকে ফুলতলা পর্যন্ত সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বালি বোঝাই ট্রাকগুলো ত্রিপল বা ঢাকনা ছাড়াই দ্রুতগতিতে ছুটছে। ট্রাকের ওপর থেকে শুকনো বালি বাতাসের তোড়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে মোটরসাইকেল চালক, সাইকেল আরোহী এবং স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছেন। বালি চোখে ঢুকে যাওয়ায় অনেক চালক তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

​ফুলতলার স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, "দিনের বেলা এই রাস্তায় চলাফেরা করাই দায়। চোখে বালি ঢুকে চোখের অবস্থা নাজেহাল। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা চাই এই বালুর গাড়িগুলো দিনের বদলে রাতে চলুক।"

​দিনের পরিবর্তে রাতই কেন সমাধান?

​বিশেষজ্ঞ এবং সচেতন মহলের মতে, দিনের বেলা যখন রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী লোকজনের চলাচল বেশি থাকে, তখন এসব ট্রাক পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। তাদের মতে, রাতের বেলা ট্রাক চলাচলের সুবিধাগুলো নিম্নরূপ:

  • ​দুর্ঘটনা প্রতিরোধ: রাতে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত থাকে, ফলে বালি উড়লেও সাধারণ পথচারীদের চোখে পড়ার ভয় থাকে না।
  • ​যানজট নিরসন: দিনের বেলা সরু রাস্তায় বিশালাকার ট্রাকগুলো ঢুকে পড়ার কারণে বিজয়নগর-ফুলতলা মোড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রাতে চলাচল করলে এই সমস্যা থাকবে না।
  • ​স্বাস্থ্য সুরক্ষা: দিনের রোদে বালি খুব দ্রুত বাতাসে ওড়ে। রাতে আদ্রতা বেশি থাকায় বালি কম ওড়ে এবং মানুষের ফুসফুসে প্রবেশের ঝুঁকি কমে যায়।

​আইন ও স্থানীয়দের ক্ষোভ

​নিয়ম অনুযায়ী, জনাকীর্ণ সড়কে বালি বা মাটি পরিবহনের সময় অবশ্যই ওপরের অংশ ঢেকে রাখার কথা থাকলেও বিজয়নগর-ফুলতলা রুটে ট্রাক চালকরা তা মানছেন না। প্রশাসনের তদারকির অভাবে তারা দিনদুপুরেই সড়কের ওপর বালি ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে দিনের বেলা বালু পরিবহন নিষিদ্ধ করে রাত ১০টার পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হোক।

​প্রশাসনের বক্তব্য

​এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনিয়মকারী ট্রাকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে।

​বিপজ্জনক এই পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে বিজয়নগর ও ফুলতলার সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন

Public Voice

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


বিজয়নগর-ফুলতলা সড়কে বালুবাহী ট্রাকের রাজত্ব: বিপন্ন জনস্বাস্থ্য, দিনের বদলে রাতে চলাচলের জোরালো দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বিজয়নগর: বিজয়নগর থেকে ফুলতলা সংযোগ সড়কটি বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দিনের আলোতে শত শত বালুবাহী ট্রাক কোনো প্রকার নিরাপত্তা ছাড়াই এই সড়কে চলাচল করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বাতাসে ওড়া বালুর কারণে পথচারীদের চোখ ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় এলাকাবাসী দিনের বেলা এসব ট্রাক চলাচল বন্ধ করে শুধুমাত্র রাতের বেলা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

​ধুলোয় ধূসরিত জনপদ, ঝুঁকিতে পথচারী

​সরেজমিনে বিজয়নগর থেকে ফুলতলা পর্যন্ত সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বালি বোঝাই ট্রাকগুলো ত্রিপল বা ঢাকনা ছাড়াই দ্রুতগতিতে ছুটছে। ট্রাকের ওপর থেকে শুকনো বালি বাতাসের তোড়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে মোটরসাইকেল চালক, সাইকেল আরোহী এবং স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছেন। বালি চোখে ঢুকে যাওয়ায় অনেক চালক তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

​ফুলতলার স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, "দিনের বেলা এই রাস্তায় চলাফেরা করাই দায়। চোখে বালি ঢুকে চোখের অবস্থা নাজেহাল। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা চাই এই বালুর গাড়িগুলো দিনের বদলে রাতে চলুক।"

​দিনের পরিবর্তে রাতই কেন সমাধান?

​বিশেষজ্ঞ এবং সচেতন মহলের মতে, দিনের বেলা যখন রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী লোকজনের চলাচল বেশি থাকে, তখন এসব ট্রাক পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। তাদের মতে, রাতের বেলা ট্রাক চলাচলের সুবিধাগুলো নিম্নরূপ:

  • ​দুর্ঘটনা প্রতিরোধ: রাতে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত থাকে, ফলে বালি উড়লেও সাধারণ পথচারীদের চোখে পড়ার ভয় থাকে না।
  • ​যানজট নিরসন: দিনের বেলা সরু রাস্তায় বিশালাকার ট্রাকগুলো ঢুকে পড়ার কারণে বিজয়নগর-ফুলতলা মোড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রাতে চলাচল করলে এই সমস্যা থাকবে না।
  • ​স্বাস্থ্য সুরক্ষা: দিনের রোদে বালি খুব দ্রুত বাতাসে ওড়ে। রাতে আদ্রতা বেশি থাকায় বালি কম ওড়ে এবং মানুষের ফুসফুসে প্রবেশের ঝুঁকি কমে যায়।

​আইন ও স্থানীয়দের ক্ষোভ

​নিয়ম অনুযায়ী, জনাকীর্ণ সড়কে বালি বা মাটি পরিবহনের সময় অবশ্যই ওপরের অংশ ঢেকে রাখার কথা থাকলেও বিজয়নগর-ফুলতলা রুটে ট্রাক চালকরা তা মানছেন না। প্রশাসনের তদারকির অভাবে তারা দিনদুপুরেই সড়কের ওপর বালি ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে দিনের বেলা বালু পরিবহন নিষিদ্ধ করে রাত ১০টার পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হোক।

​প্রশাসনের বক্তব্য

​এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনিয়মকারী ট্রাকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে।

​বিপজ্জনক এই পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে বিজয়নগর ও ফুলতলার সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত