অগ্নিকান্ড
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের স্বপ্নের আশ্রয়—গ্রামীণ ব্যাংক কার্যালয়ে নৃশংস অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) জুম্মার নামাজের পরপরই দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ব্যাংক অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মুহূর্তের মধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়ে একটি প্রতিষ্ঠান—যেটি এতদিন অসহায় মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছিল।
ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক গৌরীপুর শাখার ফিল্ড অফিসার রহিমা খাতুন কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে বলেন, “ব্যাংক শাখার পাশেই আমার বাসা। হঠাৎ জানালা ভাঙা অবস্থায় আগুন জ্বলতে দেখে বুক কেঁপে ওঠে। দৌড়ে গিয়ে দেখি ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তখন আর কিছু ভাবিনি—আশপাশের মানুষ ডেকে বালি ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি।”
তার সেই চেষ্টা না থাকলে হয়তো পুরো ভবনটাই পুড়ে যেত। ডৌহাখলা শাখার ব্যবস্থাপক শাহ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম। ফোন পেয়ে ছুটে আসি। জানালা ভাঙা ছিল—এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।”
তার কণ্ঠে ছিল অসহায়ত্ব আর গভীর শোক।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান জানান, “খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে। গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তারা থানায় অবস্থান করছেন, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।”
এই অগ্নিসংযোগ শুধু একটি অফিস পোড়ানো নয়—এটি দরিদ্র মানুষের আস্থা, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার ওপর সরাসরি আঘাত। যাদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়, ঋণের কাগজ আর ভবিষ্যতের আশা এই দেয়ালের ভেতর বন্দি ছিল, তারা আজ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। প্রশ্ন থেকে যায়—মানুষের কল্যাণে নিবেদিত একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন নৃশংস আঘাত কার স্বার্থে?

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের স্বপ্নের আশ্রয়—গ্রামীণ ব্যাংক কার্যালয়ে নৃশংস অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) জুম্মার নামাজের পরপরই দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ব্যাংক অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মুহূর্তের মধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়ে একটি প্রতিষ্ঠান—যেটি এতদিন অসহায় মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছিল।
ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক গৌরীপুর শাখার ফিল্ড অফিসার রহিমা খাতুন কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে বলেন, “ব্যাংক শাখার পাশেই আমার বাসা। হঠাৎ জানালা ভাঙা অবস্থায় আগুন জ্বলতে দেখে বুক কেঁপে ওঠে। দৌড়ে গিয়ে দেখি ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তখন আর কিছু ভাবিনি—আশপাশের মানুষ ডেকে বালি ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি।”
তার সেই চেষ্টা না থাকলে হয়তো পুরো ভবনটাই পুড়ে যেত। ডৌহাখলা শাখার ব্যবস্থাপক শাহ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম। ফোন পেয়ে ছুটে আসি। জানালা ভাঙা ছিল—এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।”
তার কণ্ঠে ছিল অসহায়ত্ব আর গভীর শোক।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান জানান, “খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে। গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তারা থানায় অবস্থান করছেন, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।”
এই অগ্নিসংযোগ শুধু একটি অফিস পোড়ানো নয়—এটি দরিদ্র মানুষের আস্থা, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার ওপর সরাসরি আঘাত। যাদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়, ঋণের কাগজ আর ভবিষ্যতের আশা এই দেয়ালের ভেতর বন্দি ছিল, তারা আজ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। প্রশ্ন থেকে যায়—মানুষের কল্যাণে নিবেদিত একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন নৃশংস আঘাত কার স্বার্থে?
